Tuesday, October 29, 2024

ধারা একশোচুয়াল্লিশ - চয়ন দত্ত || Dhara Ekshochualish - Chayan Dutta || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 ধারা একশোচুয়াল্লিশ

       চয়ন দত্ত



রাস্তা দিয়ে একটা কুকুর হেঁটে গেল

অবলা বলে তুমি তাকে

দুটো বিস্কুট দিলে , 

রাস্তা দিয়ে একটা বৃদ্ধ ,

হাঁটতে পারে না ,

তাকে তুমি দোকান থেকে লাঠি কিনে দিলে 


এভাবেই গেল কাক , বালক ও অন্ধ ভিখারী


ফাঁকতাল বুঝে আমিও হাত নাড়লাম ,

দেখি ওমা ! 

অটোস্ট্যান্ড পেরিয়ে তোমার সে কি দৌড়

সেই যে গেলে,

একটিবার ফিরেও চাইলে না 


শহরজোড়া ভিড় ,


তবু আমার ক্ষেত্রেই যতো কারফিউ

যতো ব্ল্যাক-আউট


শুধু আমার ক্ষেত্রেই -

কখনোই কিছু দেখতে পাও না তুমি !

রক্তাক্ত হৃদয় - ইলা সূত্রধর || Roktakto Hridoy - Ila Sutradhar || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 রক্তাক্ত হৃদয় 

     ইলা সূত্রধর


নিতান্তই অনাদরে পড়ে থাকা 

একটি প্রস্তরখণ্ডের টুকরোকে 

কেটে কেটে গড়ে তুলেছো -

নিখুঁত সৌন্দর্যের মূর্তি।


কাল কোন সংগ্রহশালায়,কিংবা 

কারো ঘরে শোভাবর্ধিত করবে- 

তোমার ভাস্কর্যটি; অথবা 

নিষ্প্রাণ অস্তিত্বেও প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে।

নিষ্ঠা আর বিশ্বাসে পূজা পাবে -

জেগে উঠবে হৃদয়,

নামহীন গোত্রহীন শিলাখন্ড হয়ে উঠবে দেবী !


শিল্পের সৃষ্টিকর্তাকে 

প্রশংসায় ভরিয়ে দেবে সমাজ,

প্রচারে ছয়লাপ হয়ে উঠবে মিডিয়া।

তুমি আনন্দ ও গর্বের রসনায় তৃপ্ত হবে !


আঘাতে আঘাতে -

শুধু পাথরই জানবে 

কতটা রক্তাক্ত হয়েছে হৃদয় !

আনন্দ ধারা - বিজন বেপারী || Anondo Dhara - Bijon Bepari || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 আনন্দ ধারা

বিজন বেপারী


শরতের মেঘ শুভ্র ধবল

যায় সে অজানা দেশে

পঙ্খিরাজের রথে চেপে যায়

রাজার মতোন বেশে।


কাশ বনে হায় দোল দিয়ে যায়

দক্ষিণা সমিরণ,

মধুময় ক্ষন গোধূলি বেলায়

থাকেনা ঘরেতে মন।


বলাকার ডানা নিরবধি চলে

ওই দিগন্ত' দিকে

সামনে দাঁড়িয়ে সাঁঝের কুয়াশা

ধোঁয়ার মতোন ফিকে।


মাধুরী মিশিয়ে রাঙিয়ে নৌকা

পাল তুলে যায় মাঝি

কৃষকের মুখে রাশি রাশি হাসি

বিলাতেও আজ রাজি।


ঋতুরাণী আজ শিউলি তলায়

গলাগলি খায় সুখে

মুচকি হাসিতে খোকা খুকি আয়

আনন্দ ধারা মুখে।

ভেঙে ফেল সব - মনোরঞ্জন ঘোষাল || Venge Fel sob - Monoranjan Ghoshal || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 ভেঙে ফেল সব

মনোরঞ্জন ঘোষাল



ছিঁড়ে ফেল ওদের চক্রবূহ‍্য

ভেঙে ফেল ওদের গড়

উপড়ে পড়ুক বিষ বৃক্ষ

উঠুক এমন ঝড়।

এগিয়ে আসা রক্ত চক্ষু

থেমে যাক হুঙ্কারে

নাশ কর অমানুষিকতা

আগল তুলে দ্বারে।

ওরা অসুর মানুষের সাজে

গোপন শক্তি ভরে

তুই তবে কেন দুর্গা হবি না

ওদের মারার তরে।

আকাশ বাতাস গর্জে উঠুক

হবি নাকো তোরা ক্লান্ত

ওদের সমূলে বিনাশ করে

তবেই হবি শান্ত।

এক শানকি মুড়ি - চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী || Eek Sanki muri - Chiranjit Bhandari || আঞ্চলিক কবিতা || Ancholic kobita || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 এক শানকি মুড়ি

      চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী 



ছুঁয়া মাছের পারা কেমন লুকায় গেলেক ডাঙগুলিটার খেলা

এই তো কদিন আগেরলে সজনা তলায় বসতেক পুতুলের মেলা।

মায়ের ছেঁড়া শাড়ি ছিঁড়ে পুতুলকে সাজাতম কনার সাজ্যে

পুতুল বিয়া হবেক বলে তালপাতার বাঁশিট উঠথেক দমে বাজ্যে।

কিতকিতটা খেলতম বেদম শীত রোদে উঠান মাঝে

উঠান জুড়্যে দোঁপাটি গাঁদা উঠথেক দমে লাচ্যে।

এক শানকি মুড়ি ধুস্যে ডাঙ গুলিটা খেলতম 

চিড়িক বাদ্যে 

টাপুর টুপুর বৃষ্টি মাথায় খেলতম গাঁদি কুইদ্যে। 

ছাতপাতটাও ছাড়িনাই ঠিক বসতম বিকাল হল্যে 

হারায় দিতম চুটকি মারে বাঘবন্দিটা হাতের গড়ায় পাল্যে।

বর্ষা কালে হুদক্যে উঠে গাবায় দিতম কুলি

কাগজের নৌকা জলের ঠেলায় চলত দুলি দুলি।

কুলির জলে পড়ল্যে চোখে দু একটা ডাড়কনা পুঁটি 

ঝাপায় পড়ে ততক্ষণাৎ দু ফাঁক করতম কাদামাটি।

হাঁড়ি কুনকুন লুকাচুরি বুড়ি ছুঁই খেলা হরেক রকম 

উঠান জুড়্যে পায়রা গুলান করত্য বকম বকম।

মায়ের চোখে কাপড় বাঁধ্যে বলম ছুঁ ত দেখি আস্যে 

মায়ের কাণ্ড দেখে বাবা লুটায় পড়ত্য হাস্যে।

এমন সুন্দুর ছবি গুলান দেখত্যে পাথিস যদি তোরা 

মন জুড়াত পাণ জুড়াত হৃদয় হতো হরাভরা।

এক হাঁড়িতে বহুজনা থাকত্য সুখ দুঃখের মাঝে

চায়ের কাপে সুনালি সকাল পান খিলিটা সাজ্যে।

শরৎ কথা - সোমনাথ সামন্ত || Sarot kotha - Somnath Samanta || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

      শরৎ কথা

         সোমনাথ সামন্ত


শিউলি ফুলের নোলক দিয়ে

দুগ্গা মাতা সাজে,

শরৎ এসে জানান দিলে

আলোর বেণু বাজে। 


কাশ ফুলেরা মাঠের ধারে

করছে নানান খেলা, 

নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়

সাদা মেঘের ভেলা। 


শাপলা শালুক খুশি মনে

দীঘির মাঝে ভাসে,

শেফালিরা সবাই মিলে

তাদের কাছে আসে। 


সেজে ওঠে ক্ষেতের জমি

কনক ভরা ধানে, 

চাষা ভায়া মেতে ওঠে

মিষ্টি বাউল গানে।


হিমের পরশ লাগল যে ঐ

কামিনীদের দলে,

জুঁই মালতী দল বেঁধেছে

গল্প বলার ছলে।




স্বপ্নরূপেন - স্বাতীলেখা রায় || Swapnirupeno - Swatilekha ray || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 স্বপ্নরূপেন 

স্বাতীলেখা রায় 



এক ফুসফুস ধুলো মেখে 

কাদা খোলা ম্যানহোল পেরিয়ে 

ভাদ্রের দমফাটা রোদ ঢুকেছে চোরের মত 

আমার শরতে

তবু দেবী পক্ষের আগে

  একটা গোটা আমি

শিউলি খোঁজা ভোরে ঘুম ভেঙে 

আকাশ দেখি

যা দেবী সর্বভুতেষু স্বপ্নরূপেন সংস্থিতা 

আবারও কোনো ভরা ভাদ্রে 

ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া যাবে 

আকাশ সাক্ষী রেখে 

স্বপ্ন বুনে যাবো 

বসন্ত আসবে বীরদর্পে 

আমাদের শরতে