Tuesday, October 29, 2024

শ্রমের গন্ধ - নাসির ওয়াদেন || Sramer gondho - Nasir Oaaden || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 শ্রমের গন্ধ

 নাসির ওয়াদেন


সময়কে ছুঁতে গিয়ে খুঁজে পাই মাঠ পোড়া

উজান বাতাসের গন্ধ

নাড়া-পোড়া ধানগাছে শিয়ালের পায়ের ছাপ

ধানের সময় এসেছে,উঠবে গেরস্থের উঠোনে


মাঠ থেকে ধান আসে গাড়ি গাড়ি,

জিন-শ্রমিকের মাথায় বিড়ির আগুন

খামারে রাতের গন্ধ, শিশির নামে

বরফ আগুনে হাত-পা সেঁকে নেয়

মধু বাগদির ব্যাটা,


মালিকের মাথায় এক বিঘেয় কত ধান ফলে


সাঁঝতারা মাথার উপর দিয়ে হেঁটে যায়

ভোরের মোরগ ডাকার আগেই

বিছানার ওম রেখে

মাঠে যায় জিন-শ্রমিকের দল

দুটো ধানের জন্যই তো মাগ-ছেলে ছেড়ে আসা


ঘুম নেই, রাত ভর সোনালি ধানের শীষে সূর্যকে খোঁজা

লেখা - নিশীথ ষড়ংগী || Lekha - Nisith Sorongi || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 লেখা

নিশীথ ষড়ংগী 



অচেনা গ্রামের মতো মৃদু চোখ : আর 

পাহাড়ি সন্ধ্যার মতো আশ্চর্য নির্জন এক ঝিল


তোমার ই-মেল জুড়ে সামান্য যে লেখা ।


অক্ষরের পায়ে পায়ে, নীচু অন্ধকারে 

জোনাকির আলো 

শব্দের অতলে কতো‌ তারা ফুটে থাকে...


এতোদূর শহর যে, বৃষ্টিও এখানে আসে না 

কার্নিভালে কার্নিভালে ভেসে যায় থমথমে মেঘ


অক্ষরের সামনে নত, খুলে রাখা একটি জীবন 

পাতা খসে খসে পড়ে আদিম বৃক্ষ-শাখা থেকে...

অবুঝ পায়রা - নাসরিন মণ্ডল || Obujh paira - nasrin Mondal || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 অবুঝ পায়রা

     নাসরিন মণ্ডল


গভীর রাতে অদৃষ্টের স্বরযন্ত্র,

রুগ্ন সমাজের কাটগড়ায় অনুভূতির স্তূপ,

নিষ্পাপ চোখ অশ্রুর জোয়ারে সিক্ত,

ধুমকেতুর ছদ্মবেশে জমা মেঘের আড়ালে গর্জন জীবন্ত।


রহস্যের খোঁজে মগ্ন তরণী,

নিয়মে ঘেরা নির্মাণ মজবুত বাঁধ ,

অক্লান্ত পরিশ্রমীর দুষ্প্রাপ্যতার গান,

কঠোর অভঙ্গুর নিঃশ্বাসে বিষাক্ত সমুদ্দরের জমা ক্ষোভ।


বিশ্বাসের মঞ্চে ভাটার কাল,

অবহেলার সৌখিনতা ভেঙে চৌচির ,

বাসনার লীলাউদ্দানে টুকরো হওয়া কাঁচ,

স্বজনের স্বরযন্ত্রের শ্মশানে ধ্বংসের শিখায় ক্ষত বিক্ষত বাসনার দল।


বাঁধা নিষেধের নিরন্তর খেলা,

বসন্তবিলীন ম্লান দুষ্প্রাপ্য সুবাস,

লালসায় প্রাচুর্যে সৃষ্টির নির্মম উপহাস,

অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে জোনাকির ছাপ ,

স্বস্তির দেশে মৃত্যুর গর্ভে প্রাণ পাখি নিয়ে চির বিদায়।


স্বাধীনতা - আবদুস সালাম || Swadhinota - Abdus Salam || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 স্বাধীনতা

আবদুস সালাম



মৃত্যুরা নগ্ন হলে

ওরা আমাদের সবক শেখায় বেহায়া পল্লীতে


মানবিক রক্ত মাটিতে লাগলে

বাতাস বয়ে নিয়ে যায় তার গন্ধ


বিবেক মরে যায়---


দৃশ্যান্তরের ধারাবাহিকতা মেনে নেয় সব অভুক্ত মানুষ

ফি -বছর তিরঙ্গা পতাকা ওড়ে


অদ্ভুত মানুষেরা একটা প্যাকেটের আশায় বৃদ্ধি করে মিছিলের কলেবর

মঞ্চে মঞ্চে ছোটে ভাষণের ফুলঝুরী 

মানবীয় আবেগ মেখে মৃত মানুষেরাও গান ধরে


  সভ্য শহর সজ্জ্যা পাতে মরমীয়া-পরকীয়া

চুম্বনে চুম্বনে হেসে ওঠে ঝর্না

রাতের অন্ধকারে বদলে যায় ইতিহাস


বিশ্রামাগারে কোটি কোটি টাকা হাতবদল হলে তন্বী মেয়েরা স্বাধীনতার পোশাক খোলে


বস্তির দরজায় দরজায় চলে হুংকারের প্রদর্শনী

  বদল হয় রাজনৈতিক মঞ্চ

মানবিকতার মাঠে কেঁদে মরে স্বাধীনতারা


এমনি করেই বছরের পর বছর স্বাধীনতা আসে পাড়ায় মহল্লায় 

ধূসর জীবন - অরুণ কুমার সরকার || Dhusar jibon - Arun kumar Sarkar || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

      ধূসর জীবন 

                      অরুণ কুমার সরকার 


এখন আর 'ভালো আছি' কথাটা বলতে পারি না;

আবার 'খারাপ আছি' তাও ঠিক বলা যায় না 

বরং একটা সমতা রেখে এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটা শব্দ বেছে নিয়ে

সবটার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি এখন;

এতে সাপও মরে, আবার লাঠিও ভাঙে না।


আমার এখন ধূসর জীবন-

'মোটামুটি আছি' কিংবা 'এই চলে যাচ্ছে' শব্দেও

ধূসরতা ক্রমশ যেন আরও ফিকে হয়ে আসে;

আগামীর স্বপ্নগুলো ছাই রঙ মেখে মেখে 

মৃত্যুর প্রহর গোনে যেন।


হৃদয় কুলুঙ্গিতে সাজিয়ে রাখা কিছু সুখ-স্মৃতি

ক্রমশ ঝাপসা হতে হতে 

বাহ্যিক চাকচিক্যের ঘুণ ধরা সমাজের কলুষ স্রোতে

কখন যে তিস্তা তোর্ষায় গিয়ে মেশে 

তা কেউ জানে না।


তবুও বেঁচে আছি,

কিংবা বলা ভালো, টিকে আছি আজও যেন এক ধূসর 

পান্ডুলিপি হয়ে....

পরিকল্পিত তথ্য - কেতকী বসু || Porikolpita tothho - ketaki Basu || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 পরিকল্পিত তথ্য 

        কেতকী বসু


প্রহরীর স্বতন্ত্র বার্তায় মনও পাখি হয়ে যায়

চোখ বন্ধ রেখে রুমাল চুরি খেলা দেখি

বসে থাকি নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায়


যে অদৃশ্য চোরা পথের সামিল হয়ে

জাল বুনে মজার ছড়া কাটছ,

একদিন অজান্তেই ধরা পড়ে যাবে

সেই ঘূরণ চন্ডি খেলায়।


ভাতের দানা ছড়িয়ে ভাগ দেওয়া অলীক স্বপ্নে

সময় ও কথা বলে,

তাই যথার্থ প্রশ্নের উত্তর দায়িত্ববানের হাতে,

চোর আর চুরির পার্থক্য বুঝতে কয়েদ খানা যথেষ্ট নয়,

সাদা কাঁচ বলে দেয়,বিবেক আর সম্ভ্রমের গুরুত্ব

মার্জিত রূপরেখার বাইরের দৃষ্টি ধারালো

তাই গুণ আর গুণফলের সাথে ভাজ্য বা ভাজকের গুরুত্ব কম নয়।

ঘুমলতা - রহিত ঘোষাল || Ghumlota - Rohit ghosal || kobita || Poetry || কবিতা || বাংলা কবিতা || poem || Bengali poetry || Bengali poem

 ঘুমলতা

রহিত ঘোষাল 



তোমারই কল্পনা আক্রান্ত পথ

আমাকে কখনো বিশ্রাম দিতে পারেনি


কত দেবতা জাফরি দিয়ে 

আমাদের দেখেছে গভীর সন্দেহ নিয়ে


বীরভূম একা রাত্রি জাগার প্রস্তুতি নিয়ে

ঝাঁপ দিয়েছে অদ্ভুত ঘুমে 

ধুঁকে ধুঁকে স্বপ্ন এসেছে তার কাছে

আমাদেরই চিত্রকল্প এসেছে চুঁইয়ে চুঁইয়ে

যে স্পর্শের প্রত্যাশা ছিল 

তার কথাই বলাবলি করে সখীরা

অনুতাপ শয্যা হিম হয়ে আছে 

স্মৃতির পুঁজ হিলতোলা পায়  

কোথায় ফেলেছ আজ মনে নেই তোমার

কপালের পিদিমে খরস্রোত- ঘুমলতা