Sunday, November 14, 2021

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 দৃষ্টিপথ 



দৃষ্টি আচ্ছন্ন অগ্নিপথের লাল গোলাপ 

দাঁড়িয়ে যেন বিস্মৃত 

এক বুক পার্বত্য অভিমান 

যেখানে শব্দ গাঁথার ছল ব্যর্থ 

যেখানে বাতাসের অভিসার মিছে 

ঝরণার পাশাপাশি মেলায়

হলুদ সবুজ নীল প্রজাপতি 

মেঘের সঙ্গম হয়েছিল পর্বত শিখায়

তবু দৃষ্টিপথ নমনীয় হয়নি

অভিমানী বিকেল প্রসারী উপত্যকায়। 

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 আমরা ভারতবর্ষের মেয়ে




আমরা হিন্দু ভারত,মুসলিম ভারত,

খৃষ্টান ভারত,বৌদ্ধ ভারত,

জৈন ভারত,সর্ব ধর্ম ভারতের মেয়ে...

ভারতবর্ষ আমাদের মা,আমাদের বাবা।


আমরা অসাম্প্রদায়িক ভারতবর্ষে

জন্মেছি,বেড়ে উঠেছি তার জল

হাওয়ায়,খেলেছি তার মমত্বের

মাঠে,আমরা দাঙ্গা থামাতে জন্মেছি।


আমরা অসহায়,বঞ্চিত মানুষের মুক্তির

জন‍্য সংগ্রাম করি,আন্দোলন করি,

লড়াই করি রাস্তায় নেমে,কারণ আমরা

মানুষের সুখ চাই,জীবিকা চাই,শান্তি চাই।


আমরা হিন্দু নই,মুসলিম নই,খৃষ্টান নই,বৌদ্ধ

নই,জৈন নই;আমরা সেই সব সাধারণ মেয়ে,

আমরা ভারতবর্ষের মেয়ে,প্রয়োজনে জ্বলে

উঠতে পারি,দাঙ্গার আগুন নেভাতেও পারি।


আমরা রান্না করি,গান গাই,লিখি,কবিতা লিখি,

গল্প লিখি,প্রশাসন চালাই,যুদ্ধে যাই,লড়াই করি,

বিমান চালাই,বাস চালাই,ট‍্যাক্সি চালাই,আমরা

প্রতিবাদ করতে জানি,প্রতিরোধ করতে জানি।


হ্যাঁ,আপনাকে বলছি,আপনাদের বলছি,আমরা

রুখে দেব ধর্ষণ,রুখে দেব জাতপাত,রুখে দেব

যাবতীয় অত‍্যাচার,যাবতীয় ভণ্ডামি,মুখোশ টেনে

ছিঁড়ে ভারতবর্ষের পতাকা ওড়াবো সারা বিশ্বে।

কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 বৃত্ত

 



 ইঁটের সারির নিচে মৃদু জলাশয়

 আমি আর মৎসগন্ধা থাকি

 প্রহরে প্রহরে সঙ্গম

 বিকেলে চায়ের কাপ হাতে

 সান্ধ্য ঢেউয়ে ভিজে যাই আমি

 খেলা তবু বৃত্তের পরিধি

 দৈনন্দিন সূর্যের হাসিতে গতানুগতিক দিন

 গড়াতে গড়াতে নীলাচলে

 উড়ে যায় প্রভুর ক্যালেন্ডার

 মৃত না জীবিত আমি? হে গল্পের ঈশ্বর!

 গলায় পান আঁকা মাদুলি

 বিবাহ বার্ষিকী তেইশে ডিসেম্বর!

১৬ তম সংখ্যার সম্পাদকীয়

 


                                           অঙ্কন শিল্পী- মৌসুমী চন্দ্র



সম্পাদকীয়:


নদী তো চির গতিশীল, বহমান। কিন্তু জীবনের সুখ-দুঃখ আবহমান ধরে বয়ে আসছে। এই সময়ে সাহিত্য চর্চা করা প্রকৃত মুক্তি লাভের স্বাদ পাওয়া একমাত্র উপায়। এই সাহিত্য চর্চায় পারে ক্ষুধার্ত পেটকে শান্ত রাখতে। মৃত্যুতে অমরত্ব লাভ। তাই ভাবতে থাকুন। লিখতে থাকুন। সৃজনশীল করে তুলুন বিশ্ব সাহিত্য কে। ভালো লাগা কবিতা পাঠ, গল্প পাঠ অনেক দিশা খুঁজে দিতে পারে আপনাদের। আমাদের ওয়েবসাইট ম্যাগাজিন এই World Sahitya Adda পত্রিকাটি সুন্দর সাহিত্য চর্চার এক অসামান্য প্রয়াস। খুঁজে পাবেন সমগ্র বিশ্বকে শুধু একটি লিংক এ হাত দিয়ে। তাই পড়ুন। লিখুন ‌‌। সাথে থাকুন আমাদের পত্রিকার সাথে।




                                          ধন্যবাদান্তে
                                  world sahitya adda পত্রিকা

_________________________________________________


Advertisement (বিজ্ঞাপন):


১)


______________________________________________________________________________________________________


২)




বইটি সরাসরি পেতে-- 6291121319

______________________________________________________________________________________________________




৩)


##উত্তরপাড়া,সিঙ্গুর এবং কোলকাতার বেহালায় এছাড়াও যে কোনো প্রান্ত থেকেই যেকোনো ক্লাসই অনলাইনে করতে পারবেন। 

এছাড়া কেউ যদি সরাসরি অফলাইন এ ভর্তি হতে চান যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-- 9330924937
______________________________________________________________________________________________________

বি. দ্র. -- বিজ্ঞাপন এর সমস্ত দায়িত্ব বিজ্ঞাপন দাতার

Saturday, November 13, 2021

১৬ তম সংখ্যার সূচিপত্র (৪০ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র:






বাংলা কবিতা ও ছড়া---



তৈমুর খান, মহীতোষ গায়েন, আশীষ কুন্ডু, নীতা কবি মুখার্জী, সেখ নজরুল, নবকুমার, আবদুস সালাম, রানা জামান, সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক, কমল মন্ডল, সোনালী মীর, অভিজীৎ ঘোষ, প্রতীক হালদার, সুমিত্রা পাল, হর্ষময় মণ্ডল, মৌসুমী চন্দ্র, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী, ডঃ রমলা মুখার্জী, সৈয়দ শীষমহাম্মদ, অভিজিৎ দত্ত, মিলি দাস, মিঠুন রায়, সুমিত্রা পাল, তহিদুল ইসলাম, গোবিন্দ মোদক, বিধান সাহা, শ্যামল চক্রবর্ত্তী, সৌমেন কর্মকার, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, ঋদেনদিক মিত্রো ।


বাংলা গল্প---

সিদ্ধার্থ সিংহ, অমিত পাল



নিবন্ধ----

সত্যেন্দ্রনাথ পাইন



বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---

অরবিন্দ সরকার, তীর্থঙ্কর সুমিত।
 


ইংরেজি কবিতা--

Pavel Rahman



Photography---

Moushumi chandra, 
Sohini Shabnam

Monday, November 1, 2021

Photography by Riyanka Roy



 

Photography by Sohini Shabnam



 

Photography by Moushumi chandra


 

লেখক সুজিত চট্টোপাধ্যায় -এর একটি রম্য রচনা

 সাবস্টিটিউট 




সংস্কার সংস্কার। নিয়ম রে বাবা। বিরক্ত হলেও কিচ্ছু করার নেই। চুপচাপ মুখ বুঁজে পালন করো। হন্নে হয়ে খুঁজে বেড়াও। গোবর চাই গোবর। এক দলা টাটকা গোবর। 


অলক্ষ্মী বিদায়ের মোক্ষম উপকরণ। কুলো, কলাপেটো, পিদিম, সিঁদুর সব জোগার কমপ্লিট। একা গোবর বাকি। কোথায় পাবো। দশকর্মা ভান্ডারে চাঁদের মাটিও ইজি এবালেবল, বাট, নো গোবর, আই মিন, কাউ ডাং। 


কালী পুজোর রাতে অলক্ষ্মী বিদায়ের আয়োজন। প্রত্যেক বছরই হয়, মানে হয়ে আসছে। কোন অসুবিধে হয়নি। এবার গোবরে আটকেছে। 

পাচ্ছিনা বললে তো চলবে না চাঁদু , যেখান থেকে পারো জোগাড় করো। এত বছরের নিয়ম , ঝপ করে ঝেড়ে ফেলে দিলেই হলো। মামদোবাজি। পূর্বপুরুষদের কাছে কি জবাব দেবো শুনি। 


খাটাল নেই , গরু নেই ব্যাস। পূর্বপুরুষ যা বোঝবার বুঝুক। 

বাজে কথা বলে লাভ নেই , গরু নেই , তাহলে এতো এতো দুধ কোথা থেকে আসছে শুনি।

আরে ধুৎ,, ওসব প্যাকেটের দুধ। সাদা সাদা গোলা জল। আর্টিফিশিয়াল মিল্ক , নো দুধ। 

আবার বাজে বকে। চা হচ্ছে , পায়েস হচ্ছে , গেলাসে করে ঢকঢক করে খাওয়া হচ্ছে , নো দুধ? 

দুধ হোক না হোক , ওতে গোবর হয়না ব্যাস। 

ভারি মুশকিল, কি কথার ছিড়ি। দুধে গোবর হবে কেন ? 

দুধে গোবর নয়, যে দুধ দ্যায়, সেই গোবর দ্যায়। এই দুধ যে দ্যায়, সে গোবর দ্যায় না। বোঝাতে পারলুম? 

না, বুঝলুম না। বুঝতে চাই না। আমার গোবর চাই। 

হবে না। খাটাল লাও, গরু লাও তারপর গোবর লাও।

ও মা , কি হবে গো,,, হায় কপাল আমার। অলক্ষ্মী বিদায়ের কি হবে গো। এতো দিনের পুজো, একটু গোবরের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে নাকি? ধম্মে সইবে? সবসময় মনের মাঝে খিচখিচ করবে , অলক্ষ্মী অলক্ষ্মী,,,,, ওগো কিছু একটা উপায় করবে তো নাকি,,,,,,,,, 

উপায় আছে,,,, 

আছে ? কি গো? 

অনেক দিন এমন বিনয় মাখা আদুরে অথচ আকুলতা ভরা কন্ঠস্বর শোনা যায়নি। কি ভালো লাগে, কি সুন্দর। আবার নতুন করে প্রেম নিবেদন করতে ইচ্ছে করে। মন বলে , ওগো প্রিয়ে, আরও একবার মধুকন্ঠ ঝরাও। জীবন প্রেমসাগরে ডুব দিক। ওগো নির্জনতা , আবার একবার অন্তত এসো, ভুলিয়ে দাও অতীতের কর্কশ হৃদয়বিদারক জ্বালাময়ী বাণী কে। 


আছে উপায় আছে। 

লংকা আর পাতিলেবু। দরজার মাথায় টাঙিয়ে রাখলে , অলক্ষ্মী ঘরে ঢুকতেই পারবে না, সুতরাং তাড়াবার প্রশ্নই নেই। 

ইয়ার্কি হচ্ছে না ? এসব মজা করার ব্যাপার নয়। সংস্কার, নিয়ম। কোনও বাজে ফালতু কথা শুনতে চাই না। আমার গোবর চাই ব্যাস। 

মাটি দিয়ে কাজ চালাও। 

মাটি? মাটি আর গোবর এক হলো ? 

হ্যাঁ হলো। বিজ্ঞান সম্মত হলো। 

কি করে?? 

শোনো , আগে মাটি , তাতে জন্মালো ঘাস। সেই ঘাস গরু খেলো। ব্যাস হয়ে গেল,,,। 

কি হয়ে গেল ? 

গোবর । ঘাস খেয়ে পটি, গোরুর পটি গোবর। ভেরি সিম্পল। 

যুক্তি আছে বটে। ঠিকই তো। খড়, ঘাস এইসব না খেলে গোবর,,,,,, আর এইসব তো মাটিতেই জন্মায়।ঠিকই আছে। 


এই প্রথম সঠিক যুক্তি দাতার উদার সার্টিফিকেট পাওয়া গেল। এতদিন নির্ঘাত বিশ্বাস ছিল, বিবাহিত পুরুষ মানেই মাথায় কাউডাং। এখন মনে হচ্ছে , দীপালোক সার্থক। মগজে লেড লাইট ঝিলিক মারছে। আহ,,,,, কি আরাম। 


মাটি ? পাওয়া যায় ? সেও তো একই অবস্থা। 

ঠিকই বলেছ। তবুও ওই প্রমোটারদের কৃপায় ওটা এখনো পাওয়া যায়। 

এরমধ্যে প্রমোটার এলো কোথা থেকে , ওরা কি মাটি তৈরি করে ? 

না না,, মাটি কি তৈরি করা যায় নাকি? পুরনো বাড়ি ভাঙছে , নতুন বাড়ি তুলছে। আগে মাটি তোলা পরে বাড়ি তোলা। তারপর টাকা তোলা। টাকা মাটি , মাটি টাকা। বলি, বুঝলে কিছু ? 

বুঝে আর দরকার নেই। মাটি দিয়েই কাজ চালিয়ে নিই কি বলো ? 

অবশ্যই । পূর্বপুরুষদের অত অবুঝ ভেবনা। তারা জানে, যখন যেমন , তখন তেমন । তাদের সময়ে খাটাল ছিল, গরু ছিল, খাঁটি দুধ ছিল, টাটকা গোবর ছিল। এখন সেসব ইতিহাস। এখন দুপেয়ে অঢেল গরু। শুধু শিং বাগিয়ে গুঁতোতে ওস্তাদ।চিড়িয়াখানা তে গরু রাখার চল নেই। ইস্কুলেও এখন আর গরুর রচনা লিখতে শেখায় না। গরু এখন রাজনৈতিক ইস্যু। গণধোলাই। সুতরাং চালাও পানসি। গোবেচারার মতো গোবরের বদলে মাটিই মানিয়ে নেওয়া কিংবা মেনে নেওয়াই ভালো। জয় গোমাতা। 

অগত্যা,,,,,, উপায় তো নেই। সত্যিই তো , যখন যেমন তখন তেমন। মাটিতেই মানিয়ে নেওয়া ভালো। 


 তবে , কোনও গ্যারান্টি নেই জানো। আর কিছু দিন পরে হয়তো এও মিলবে না। সাবস্টিটিউট ভেবে রাখো। সারমেয় ডাং ইজি এবালেবল। হা হা হা হা,,,,, 

ছি ছি ছি ছি,,,,,,,,,

লেখক তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি রম্য রচনা

 নদী কথায় ভেসে যায়......

      

     (১৫)



আজকে আরো একটা সন্ধ্যা যে সন্ধ্যায় ভালোবাসার পাহাড় জমে প্রতিনিয়ত।আর ভালোলাগার বাহুল্যতায় সৃষ্টি হয় এক একটা দর্পণ।যে দর্পণে মুখ দেখতে দেখতে হারিয়ে যাই কথাদের ভিড়ে।কথার পাহাড় পাশে জমতে জমতে সৃষ্টি হয় ভালোবাসার মুখ।যে মুখে লুকিয়ে থাকে কত সৃষ্টির রসদ।তার একপাশ দিয়ে বয়ে যায় ভালোবাসার নদী।যে নদী সৃষ্টি করে আগামী কে।আর তার দিকে তাকিয়ে থাকি আমরা ...

ভবিষ্যতের কথা বলতে।






নদী কথায় ভেসে যায় .....

             (১৬)



কিছু কথা বেশি না হলেও যেটুকু দরকার ঠিক সেটুকুই অভিযোগ পূর্ন।হয়ত বা কথার পাহাড় থেকে কিছু কথা সাজিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা বসে আছি।একে অপরের দিকে নানা প্রশ্ন -- বিস্তারিত আলোচনা এখানেই সৃষ্টি হয় নদী কথা।আর গল্পের গল্প সাজিয়ে নেয় উপন্যাস।এভাবেই ফিরে আসে কত চাওয়া পাওয়ার অভিমান।এই অভিমান জমতে জমতে শুরু হয় অভিনয়।


সব অভিমান ই একদিন ভেসে যায় নদিকথায়।


লেখক সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি গদ্য

পরিবেশ বান্ধব বাজি


এই পরিবেশবান্ধব বাজি বলতে কী বোঝায়-- এটাই তো আমার বোধগম্য নয়। কেন কিসের জন্যে এই পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ানো চলবে!? কী ধরনের কীভাবে পরিবেশবান্ধব বাজি বলে বাজারে স্বীকৃত হবে? যদি কোনও বাজি কারখানার মালিক পরিবেশবান্ধব স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে বাজি বাজারে ছাড়েতাহলেই কি পরিবেশবান্ধব বলে পাশ হয়ে যাবে!? কে প্রমাণ করবে-- পরিবেশবান্ধব বাজি বলতে কী বোঝা যায়! আসলে এর দ্বারা পিছন দরজা দিয়ে অন্য নিষিদ্ধ বাজিকেই অনুপ্রাণিত করা হলো না্ তো! আপনার কী মনে হয়। কেন আতস বাজি পোড়ানো স্বীকৃতি পাবে? কোনো জায়গায় প্রশাসনিক প্রধান কিছু বেশি টাকা নিয়ে ( না না ঘুষ বলবো না;চাঁদা নিয়ে)প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা বাজিকেই স্বীকৃতি দিতে আদালতের আইনকে টাটা বাই বাই করছে , নাকি বাজি পোড়ানো র ব্যাপারে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বেশি করে!?!? ভাবতেই অবাক লাগছে। 

   পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ করবে সব ধরণের বাজিতেই। সেখানে "পরিবেশবান্ধব" বাজি আবার কী!? মাথায় আসছে না। অতএব মানুষের মনের পরিবর্তন প্রয়োজন। যতক্ষণ না কোনও পরিবারের কেউ এই বাজি থেকে বা বাজির ধোঁয়া থেকে অসুস্থ না হচ্ছে ততক্ষণ বোধহয় সেই পরিবারের কেউই বুঝতে চাইছেন না এর পার্শ্ব বিষক্রিয়া। কেন? 

   মাননীয় হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পেছন দরজা দিয়ে বাজি পোড়ানো স্বীকৃতি পেল না তো! কার কী মনে হয়! কোনো সময় আধঘন্টা বা কখনো দু ঘন্টা সময় নির্ধারণ তো ছুতো মাত্র। না। চলবে না। বাজি বিক্রি নয়, বাজি তৈরির কারখানার হদিস পেলেই তৎক্ষণাৎ তার সমস্ত কিছু বাজেয়াপ্ত করা হোক। বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষিত হোক। আমি পরিবেশবিদ নই। কিন্তু নিজস্ব জ্ঞানের ভান্ডারে যতটুকু সঞ্চিত বিদ্যা আছে তার থেকে বলছি-- পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সকলেই ভাবুন--সকলেই ভাবুন-- আওয়াজ করে আনন্দ না মনের অন্তর্ভুক্ত আনন্দই আসল আনন্দ! বাজি পোড়ানো বা ফাটানো সর্বৈব নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক।

লেখক শ্যামল চক্রবর্ত্তী -এর একটি গদ্য

 গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো গল্প হলেও সত্যি 




সুমন ‌: সবুজ , বাবা লোকনাথের মূর্তিটা তোর নিজের হাতে বানানো । বাহঃ বেশ সুন্দর তো ।

সবুজ: হ্যাঁ আমার নিজের হাতে বানানো।

সুমন, এত জাগ্রত ভাবতে পারবি না । তুই রনে বনে জঙ্গলে যেখানে থাকবি , কোন বিপদে পড়লে তুই বাবা লোকনাথ কে ডাকলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । আমার কথা মিলিয়ে নিবি। এর একটা ইতিহাস আছে বলছি তাহলে শোন--


বনি : ভাই ,অনেক চেষ্টা করে কোথা থেকে তো লোকনাথ বাবা কোন ফটো পাইনি। তুই মাটি দিয়ে একটা লোকনাথ বাবার মূর্তি বানিয়ে দিবি ? আচ্ছা, আমি চেষ্টা করে দেখছি। তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি সালটা ঠিক মনে নেই ।অনেক ছোট হঠাৎ করে একটা মাটির ঢেলা জোগাড় হয়ে গেল । বাবা লোকনাথের মূর্তিটা অবিকল বানিয়ে এবং সাদা অঙ্গরাজ করে ফেললাম। ওই মাটির মূর্তি টি দিয়ে সেই বছর ( সালটা ঠিক মনে নেই ) ঊনিশশে জ্যৈষ্ঠ লোকনাথ বাবার তিরোধান উদযাপন হয়েছিল। দিদি নিষ্ঠা সহকারে বাবা লোকনাথের পুজো করেছিল। পোলাও, পায়েস, নানারকম ভাজা সঙ্গে থাকে অমৃতি জিলাপি, কাচা বাদাম, আমসত্ত্ব ,সবেদা যা যা ওনার খুব প্রিয় সাধ্যমত উপাচার করা হয়েছিল।


পুজোর পর বাবা লোকনাথের মূর্তিটা ভাসান দেবে বলে, বারান্দার একপাশে রেখে দিয়েছিলাম।


পুজোর দুদিন পর হঠাৎ করে রাত্রিবেলা স্বপ্নে দেখছি, বাবা লোকনাথ কে ভাসান দিতে নিয়ে গিয়েছি এঁড়েদা (আড়িয়াদহ ) ঘাটের গঙ্গার জলে।

হাতে করে যখন গঙ্গার জলে ভাসান দিচ্ছি হাত থেকে তখনো ছাড়িনি, সামান্য ডুবিয়েছি দেখছি। যেতে চাইছে না কাঁদছে , যেন একটি ছোট শিশু।

হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেল। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো।

পরের দিন সকালবেলা মাকে ঘটনাটা বর্ননা করলাম। মা বললো এক্ষুনি মূর্তিটাকে আসনের স্থাপন করতে হবে।

লেখিকা মৌসুমী চন্দ্র -এর একটি গদ্য

 প্রথম খোলা জানালা তোমার ছোঁয়ায়



মনের খোলাজানালা দিয়ে প্রথম হাসতে শেখা, কাতুকুতু বুড়ো, ভয় পেও না এই সব কবিতার হাত ধরে। ছোটবেলায় খুব দুষ্টুমি করলে যখন খুব মার বকা খেতাম, গুমরে কেঁদে, কখনও বার করতাম সন্দেশ,আবোলতাবোল। বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই পড়ে শিখেছিলাম জীবনের হিসাব। কাঁদুনে,ডানপিটে, বুঝিয়ে বলা,আহ্লাদী, সৎপাত্র আমার জীবনে এনেছিল খুশির সমুদ্র। আবোলতাবোলের

কার্টুনচিত্র প্রথম পেনসিল, তুলি ধরতে শিখিয়েছিল।যে কবিতা, গলা দিয়ে ছবি আঁকতে শিখিয়েছিল,সেই বাবুরাম সাপুড়ে। জীবনে প্রথম বইপ্রীতি,অঙ্কনপ্রীতি,কবিতা আবৃত্তির প্রতি ভালোবাসা জন্মানো,লেখালিখি যাঁর হাত ধরে আজ তার জন্মদিন। 


একজন চিত্রশিল্পী, রম্যরচনায় সিদ্ধহস্ত,কলমের খোঁচায় গিজগিজ করা হাসির খোরাক, সেই হাসির যাদুকর, শ্রদ্ধেয় সুকুমার রায়ের আজ জন্মদিন।আমার মনের খোলা জানালায়, আজকের সামাজিক প্টভূমিতে দাঁড়িয়ে, গুরু তোমার সুর শুনতে পাচ্ছি," মশাই এখন কেন কাবু? বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব কোরো পিছে...."


শ্রদ্ধা জানাই আমার প্রিয় শিল্পীগুরু সুকুমার রায়কে তাঁর জন্মদিনে। আমার মনের জানালাটি যেভাবে খুলে দিয়েছিলে গুরু, প্রার্থনা করি তোমার জন্মদিনে তোমার সৃষ্ট শিল্ল যেন তেমনি করেই সবপ্রজন্মের মানুষের মনের জানালা খুলে দেয়।