সানাই
রাত খুন হয়ে যাচ্ছে আর
গাছের তলায় বসে সানাই
বাজাচ্ছে মাতাল প্রেমিক,
প্রেমিকা বাসবদত্তার বাসর
পুড়ছে লোভের আগুনে...
সানাই
রাত খুন হয়ে যাচ্ছে আর
গাছের তলায় বসে সানাই
বাজাচ্ছে মাতাল প্রেমিক,
প্রেমিকা বাসবদত্তার বাসর
পুড়ছে লোভের আগুনে...
সংশয়ের সিলেবাস
নিজেকে গড়ানোর প্রক্রিয়া কী
সমাজের কীভাবে উন্নতি হবে
কল্যাণ কল্যাণ বলে যাকে ডাকি
সে কি প্রকৃত কল্যাণ?
এসবই সংশয়ের সিলেবাস
রোজ সূচিপত্র দেখে দেখে
ধ্বংসাবশেষ হাতড়াই
সময়ের মরালাশ বজ্রের আলোয় চকচকে
বিভূতি উড়িয়ে দেখি শুধু হাড়
বেঁচে থাকা যদি নদীর মতো হয়
বিশ্বাস যদি পাহাড়ের মতো
তাহলে ধ্বংসাবশেষই সংশয়
আলো জ্বেলে কিছুই দেখা যায় না
অথচ অন্ধকারে স্পষ্ট হয় কল্যাণের মুখ।
অঙ্কন শিল্পী- মৌসুমী চন্দ্র
___________________________________________________
সম্পাদকীয়
নদীর মত বয়ে যাওয়া ভাষাশৈলী কে বুঝতে হলে প্রয়োজন সমুদ্র সুলভ মন। কারণ একটাই নদীর শেষ ঠিকানা সমুদ্র। আজ এগারোতম সংখ্যা প্রকাশিত হল। এতদিন লিখছেন, পড়ছেন আমাদের ব্লগ ম্যাগাজিন। পাশে আছি আমরা পরস্পরের কাছে। ভালোবেসে পড়ুন পত্রিকা। লেখা গুলি হৃদয়ে অন্তর্নিহিত করে তাৎপর্য বুঝতে শিখুন। জানান প্রতিটি লেখার মন্তব্য। তাই আমাদের ওয়েবসাইট ম্যাগাজিনে লেখা পাঠান, অন্যের লেখাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। পড়তে থাকুন আমাদের পত্রিকা।
ধন্যবাদান্তে
World sahitya adda সম্পাদকীয়
সম্পূর্ণ সূচিপত্র:
বাংলা কবিতা ও ছড়া---
তৈমুর খান, মহীতোষ গায়েন, আশীষ কুন্ডু, নীতা কবি মুখার্জী, রানা জামান, সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক, অভিজীৎ ঘোষ, সুমিত্রা পাল, মিলি দাস, মিঠুন রায়, সুমিত্রা পাল, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মিত্র, আবদুস সালাম, কমল মন্ডল, সৈয়দ শীষমহাম্মদ, নবকুমার, অরবিন্দ সরকার, অভিজিৎ দত্ত, সেখ নজরুল, তহিদুল ইসলাম।
বাংলা গল্প---
সিদ্ধার্থ সিংহ, অমিত পাল, উম্মেসা খাতুন।
প্রবন্ধ----
সত্যেন্দ্রনাথ পাইন
বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---
মৌসুমী চন্দ্র।
ইংরেজি কবিতা--
Sunanda Mandal
Pavel Rahman
Photography---
Moushumi chandra,
Sohini Shabnam
Good Who Is
We won’t hate anyone
If we are good,
If we hate anyone that
It means that we are not good.
Black and white are best friends,
One doesn’t hate other;
Oh, black, oh my friend,
Please don’t hate white who is.
নদী কথায় ভেসে যায় ........
(১৭)
যে পথটা বেঁকে গেছে,সে পথটাই সবথেকে সোজা ছিল।হাত পা ছড়িয়ে যে গাছটা দাঁড়িয়ে আছে,তার কখনো মাতৃত্বের অভাব হবেনা।এক দুইয়ের হিসাবে কত বাঁকা পথ কাছে এসে আবার সোজা হয়ে উঠেছে।এভাবেই বেঁকে যাওয়া নদী সাগরে মেশে।আর মাতৃত্বের দাবি নিয়ে কাছে এসে গল্প শোনায়।যে গল্পে একেকটা নদী একটা মা হয়ে ওঠে।শাসনে শাসনে ভরিয়ে দেয় মুহূর্ত।আর আমি তাকিয়ে থাকি বহমান স্রোতের দিকে।
সেই স্রোত তাই আমায় ভালোবাসার গল্প শোনায় ।
নদী কথায় ভেসে যায় ...........
(১৮)
কিছু কথা অবশিষ্ট থেকে যায় বরাবর।কোনো কথার ই শেষ হয়না।প্রতিটা কথা থেকে নতুন কথার জন্ম হয়। তাই প্রতিটা মুহূর্তই নতুনের সংলাপ।অবশিষ্ট মুহূর্তে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় বাকি থাকা কিছু কথা।যে কথা একেকটা গোলাপের জন্ম দেয়।যে গোলাপ থেকে সৃষ্টি হয় ভালো থাকার লড়াই,ভালো থাকার গল্প,আর ভালো থাকার এক একটা মুহূর্ত।এভাবেই নদী কথার গল্প শুনি প্রতিদিন।
লবাবপুত্তুর
নবগ্রামের দ্বিজপদ মিস্ত্রি একজন মৃৎশিল্পী। নিঃসন্তান , পরিবারের জমিজমা বিঘা পনেরো হবে। শেষকালে দেখাশোনা কে করবে তাই ভেবে অস্থির স্বামী স্ত্রী মিলে। দ্বিজপদরা তিনভাই। অন্যভাইদের জমিজমা সব শেষ হয়ে গেছে কুড়েমিতে।এখন তারা কাঠের কাজ করে লোকের বাড়ি বাড়ি।
দ্বিজপদ একভাইয়ের দুই ছেলের একজনকে পোষ্য নিলেন। অন্যছেলেটিও নিলে ওরা ধন্য হতো। কিন্তু দ্বিজপদ ঐ বড় ছেলে ধনঞ্জয়কেই বাড়িতে আনলেন। ধনঞ্জয় বেয়ারা ছেলে। কথা শোনে না, স্কুলেও যায়না শুধু খায়। আসলে ওরা ভালো খাবার চোখেও দেখেনি,তাই জ্যেঠু বাবার পেয়ে এতদিনের ঘাটতি পূরণে খেয়েই যাচ্ছে।
ধনঞ্জয় বড়ো হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে । দ্বিজপদ মনস্থির করলেন যে শেষকালটা ছেলে বৌমার আদর যত্নে পার হ'য়ে যাবো।তাই তিনি প্রচার শুরু করলেন যে ছেলে ধনঞ্জয়ের বিয়ে দেবো।
দূরবর্তী এক গ্রামের নিমাই দাস সম্পর্ক নিয়ে হাজির। সঙ্গে আরও জনা পাঁচেক লোক। উনাদের যথারীতি সম্মান করা হলো। জলখাবার খাওয়ার পর মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে কথাবার্তা শুরু হলো।
নিমাই দাস বললেন আপনার তো যথেষ্ট সুনাম আছে এই অঞ্চলে, নামকরা মিস্ত্রি মশাই আপনি।তা ছেলেকে ডাকুন।ছেলে দেখে কথাবার্তা শুরু করবো সবার সাথেই।
ধনঞ্জয়ের ডাক পড়লো- সে এসে দাঁড়ালো সবার সম্মুখে। দাঁড়িয়েই আছে , দাঁড়িয়েই আছে।
আদব কায়দা দেখার জন্য নিমাই দাসেরা সবাই চুপচাপ আছে।
দ্বিজপদবাবু তাড়াতাড়ি নিজের দু পায়ের ধূলো নিয়ে ধনঞ্জয়ের মাথায় দিলেন। ধনঞ্জয়ের প্রনাম হয়ে গেলো।
ধনঞ্জয় বললো কথা বলবেন না বলবেন না? শুরু করতে কতক্ষন লাগে।খেতে তো বেশি সময় লাগেনি? সবাই গণ্ডেপিণ্ডে খেলেন তাড়াতাড়ি। যেনো বাপের কালেও এইসব মিষ্টি মাছ মাংস খাননি?
নিমাই দাস বললেন- ঠিক বলেছো বাবা! যেমন তুমি বাপের জন্মেও খাওনি তেমনি আমরাও খায়নি।যে যেমন সে তেমন ভাবে! আর যাই হোক এখানে বিয়ে দেবো না।দ্বিজপদবাবু মারা গেলেই আমার মেয়ে না খেয়ে মরবে। তুমি সব নষ্ট করবে সম্পত্তি।কারন বংশের ধারা বইবে! তোমার বাপ সব শেষ ক'রে আজ ভিখারী। তুমিও তাই করবে। অতএব এখানে বিয়ে দেবো না। তাছাড়া রাখালের হাতে জেনেশুনে বিয়ে দেবো না।
ধনঞ্জয় বললো - তাহলে এলেন কেন?
নিমাই দাস বললেন- তোমাকে দেখতে , আর তুমি আমার মেয়ের উপযুক্ত কিনা তাই যাচাই করতে।
ধনঞ্জয় - কতো লোক আসবে দেখুন! আমার মতো লবাবপুত্তুর এ অঞ্চলে কটা আছে।এত বড়ো বাড়ি পুকুর, জমিজমা কার আছে?
আপনারা আসুন। ফালতু দিনটা অতিবাহিত হলো। সকালে যে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম? তাই এই অঘটন। বুঝতে পেরেছি এই বাবা নিঃসন্তান,এদের মুখ দেখেছি সকালে তাই সম্বন্ধ হলো না!
না হোক ! কতোজন আসবার জন্য হাঁ ক'রে মুখিয়ে আছে! দেখবেন কাল থেকে মেয়ের বাপের লাইন লেগে যাবে।
নমস্কার জানিয়ে দ্বিজপদ মিস্ত্রিকে উনারা চলে যাবার উপক্রম করতেই ধনঞ্জয় বলে উঠলো এই আপনাদের ভদ্রতা। রীতিনীতি শিখেন নি? অচেনা আমাকে নমস্কার করতে হয় জানেন না? গোমূর্খ সব ।যান এখনই বিদায় হন।
দ্বিজপদ মিস্ত্রি উনাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন। বললেন অসুবিধা হবেনা আপনাদের। আমার সম্পত্তি সব আপনার মেয়ের নামে উইল ক'রে দেবো।
নিমাই দাসেরা সকলেই আবার বসলেন। চিন্তা করলেন উনি যা বললেন সেটা আমার মেয়ের মঙ্গল হবে।
আবার আলোচনা শুরু হলো। দাবি দাওয়া নিয়ে।
ধনঞ্জয় বললো আমার সাইকেল চাই, ঘড়ি চাই, সোনার আংটি চাই।
জনৈক ভদ্রলোক নিমাইদাসের বললেন - বাবা ধনঞ্জয় সাইকেলে চাপতে জানো? ঘড়ি দেখতে জানো?
ধনঞ্জয় বললো- পারা পারির কি আছে? এটা সকলেই নেয়।হাতটা কেন আছে - ঘড়ি আংটি পড়ার জন্য। সাইকেল চাপতে না জানলেও মাল বয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
দ্বিজপদর অনুরোধে দেনা পাওনার সমাধান হয়ে বিয়ের দিন ঠিক করতে পঞ্জিকা আনা হলো।
তিনমাস পরে অগ্রহায়ণ মাসে দিন স্থির হলো।
ধনঞ্জয় বললো- আপনারা বিয়ে দিতে এসেছেন না পঞ্জিকা দেখতে এসেছেন। শুভস্য শীঘ্রম্ এই কথাটি মেনে এই মাসেই তড়িঘড়ি বিয়ে দিন।যা দিতে পারবেন না সময়ে দেবেন।তবে না দিলে মেয়ে ফেরৎ দেওয়া হবে।চাল যদি কিনতেই হয় তাহলে সময়ে কেনা উচিৎ।
নিমাই দাস- তুমি আমার মেয়েকে দেখবে না একবার?
ধনঞ্জয় - মেয়ের কি দেখার আছে।যা দেখা যায় সেগুলো সব মেয়েদের থাকে।চুল রঙ চেহারা বাইরের ভূষণ।আর ভেতরের ভূষন তো পোষাকে আবৃত। ভেতরে মন হৃদয় থাকে।ঐটা সবার সমান নয়। বিয়ে করলে তবে বুঝতে পারবো হৃদয়টি কেমন! তবে ঘোমটা এমন ভাবে দেবো টেনে যেনো মুখ কেউ দেখতে না পায়? সিঁদুরে ভরে দেবো সিঁথি যেনো সবাই বোঝে বিবাহিতা। আমি বাড়ির বাইরে যেতে দেবো না।বো - চোখের সামনে থো! অতএব আপনার মেয়ে যে সম্পত্তি পেয়ে পালাবে না এর গ্যারান্টি কি আছে? মেয়েদের মন বোঝা শক্ত। শতকিয়া ধারাপাত যতোই পড়ুক পরকিয়া করতে কতক্ষন।
কতশত নামকরা বড়ো বাড়িতে এসব চলছে! আমি তো কোন্ ছাড়্? লবাবপুত্তুর আমি! ওকে বেগম হয়েই থাকতে হবে।
নিমাই দাস- তার বটে! লবাবের অনেক বেগম করার লোভ থাকে। আমার মেয়ে তোমাকে নাকে লৎ পড়িয়ে ঘোরাবে। তুমি যে গরু! সোজা যদি না হও তাহলে পাঁচনে সোজা করবে আর দরকারে তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে! আমি মেয়ে দিচ্ছি শুধুমাত্র দ্বিজপদ মিস্ত্রির মুখ চেয়ে। তোমাকে দেখে দিচ্ছি না। শুভ দিনে সম্প্রদান হয়ে গেলো।
অপারেশন
'বুবাই ঘুম থেকে উঠে পড়ো'- রুমকীদেবী নিজের পাঁচ বছরের ছেলেকে বলে উঠলেন৷
'আমরা আজ ডাক্তার কাকুর কাছে যাব তো মা?'- ঘুম থেকে উঠে বুবাই বলে উঠল৷
'হ্যাঁ বাবা, এখুনি৷'
আসলে বুবাই-এর হার্টে একটা ফুটো আছে৷ তাই বুবাই-এর আজ অপারেশন৷
'আজকের পর থেকে আমি কি খেলতে পারব তো মা?'
বুবাই-এর বাবা রেডি হয়েই ঘরে এলেন এবং ছেলের মুখে এই কথা শুনে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না৷ শুধু বললেন 'নিশ্চয় বাবা, আমি আর তুমি দুজনে একসাথে খেলব৷'
বাবলুদা
বাবলুদা মারা গেছেন। পাড়ায় শোকের ছায়া। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন অথচ অকৃতদার। কোনও মহিলার দিকে তিনি ভুল করেও ফিরে তাকাতেন না। যা আয় করতেন প্রায় পুরোটাই ঢেলে দিতেন তাঁর ক্লাবকে।
তাই ক্লাবের সদস্যরা মিলে ঠিক করলেন, এমন একজন সুপুরুষের যে অঙ্গটি কোনও কাজেই লাগল না, সেটা তাঁরা সংরক্ষণ করবেন।
সেই ভাবে বাবলুদার যৌনদণ্ডটি প্রিজার্ভ করা হল। সবার দেখার জন্য প্রথম সাত দিন ক্লাব ঘরে রাখা হল কাচে ঢাকা পাত্রে।
তার পর ঠিক হল, এই দর্শনীয় বস্তুটি প্রত্যেক সদস্য তাঁর বাড়িতে তিন দিন করে রাখতে পারবেন।
যখন বাচ্চুদার পালা এল, তখন তিনিও নিয়ে গেলেন তাঁর বাড়িতে। সে দিনই সন্ধেবেলায় বাপের বাড়িতে এক মাস কাটিয়ে ফিরে এলেন বাচ্চুদার বউ।
তিনি কিছুই জানতেন না। জানতেন না বাবলুদার মৃত্যুর সংবাদও। কিন্তু ওই যৌনদণ্ডটি দেখামাত্রই তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললেন, বাবলুদাও চলে গেল!
একটা ছোট কবিতা লিখি
একটা ছোট কবিতা লিখি --
কিন্তু সেটা কেমন,
বিষয়টা তো নয় হে সহজ,
কাজটা যেমন তেমন!
ছোটো লেখা আয়তনে --
অর্থে হবে বড়,
এমন লেখা লেখাটা কি
সত্যি সহজতর?
আচ্ছা যদি এটাই লিখি ---
ধরে সঠিক পথ --
সবাই হবো মুক্ত-মনা,
সাহসী আর সৎ,
জ্ঞান চর্চা, তার সঙ্গে
বিচক্ষণতা আর --
সিদ্ধান্তে অটল থাকা,
সতর্ক বারবার!
এই ক-টা গুণ থাকলে তোমার --
সফলতায় সেরা,
থাকবেনা আর সামনে তোমার --
কোনো বাধার ঘেরা!