Sunday, October 24, 2021

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 এই বঙ্গ দ্বেষ



এই বঙ্গে অনেক বুদ্ধিজীবীদের দেখতে পাই।

এই বঙ্গে অনেক মহাকবিদের দেখতে পাই।

এই বঙ্গে অনেক সম্প্রীতির বার্তা বাহককে দেখতে পাই।

এই বঙ্গে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কথা বলার মত-- অনেক মুখরোচক নেতাদের দেখতে পাই।

যা দেখেছি সব ভুয়ো বাতাস, সব নিঃস্বতায় পোড়া এক রত্তি ছাই।


এই বঙ্গে অন্যায়ের প্রাতিবাদ না করে শুধু সম্মান হারানোর ভয়ে-----

লেজ গুঁটিয়ে পালানোর মত অনেক মহাপুরুষদের দেখতে পাই।

আমি খুব ছোটখাটো মানুষ অথচ আমি মস্ত বড় ছোটলোক হয়েও------

উনাদের দেখে বড় কষ্ট পাই ,ওনাদের দেখে বড় লজ্জা পাই।


এই বঙ্গে ঝুলিয়ে সম্প্রীতির মালা

শালারা মা-বোনের ইজ্জত বেচে দেয়---

তারাই আবার দেশপ্রেমের উন্মুক্ত চেতনার ভাষণে মঞ্চ আওড়ায়।

এই বঙ্গে ঐ কান্ডারীর দল কেড়ে নেয় ইমোশন; ফাঁটকাবাজের শক্তিমান হয়ে পকেটে ভরে প্রমোশন,

সম্প্রীতির নামে নিজের স্বার্থে এখানে-----

ভেসে যায় আমার মা-বোনের সম্ভ্রম।


এই বঙ্গে ভাইয়ে-ভাইয়ে, বাবা-কাকায় হয়ে যায় কত হানাহানি

এই বঙ্গেই আমি দেখি; সব জেনেশুনেও জনস্বার্থে নেতারা করেনা কানাকানি,

শুধু বলে; "সম্প্রীতি, সম্প্রীতি, সম্প্রীতি"।

আমি যদি বলি ওহে নেতা, কেন হচ্ছে তবে সমাজের এত অবনতি?


স্বাধীনতার এত বছর পরেও এই বঙ্গের হয়েছে কি সংস্কার?

চারিদিকে হিংসার দুর্বার, এই বঙ্গ ঐ বঙ্গ ভেঙে হচ্ছে ছারখার

কি প্রয়োজন হয়েছিল ওদের আজ হিন্দুদের ঘরবাড়ি; মন্দির পোড়াবার?


তোমরা নাকি মুসলমান;

তোমাদেরওতো ধর্মের আছে অনেক মান সম্মান

তবে কেন অন্য ধর্মের ক্ষতি করে নিজের ধর্মকে করো অপমান?

আমি বিগ্রহ চিত্তে মালা ছিড়ে ফেলি সব নেতাদের সব রাজনৈতিক দলের----

সব হিংস্রতার; সব নোংরা মানসিকতার।


আর যে সকল কবি সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা------

বুদ্ধির ঢেঁকি মাথায় নিয়ে চুপটি করে তামাশা দেখে--

তোমাদের আক্কেল হওয়া চাই, 

তোমাদেরও আছে মা বোন, আছে ভাই।


তবে আজ তোমাদের কলম কোথায়?


হে কবি, হে বুদ্ধির ঢেঁকিওয়ালা বুদ্ধিজীবী ...

তোমাদের মানবিকতাও বিক্রি হয়েছে নাকি ঐ নেতাদের গোপন পকেটে?

নাকি তোমার ধর্মটাও বিক্রি হয়ে গেছে স্বার্থের হাটে?

তুমি জানো কি ?আমাদের জাতিটাও আজ ভেসে যেতে বসেছে সস্তার ঘাটে।


শুনে রাখ, শুনে রাখ, শুনে রাখ সকল বুদ্ধিজীবীগণ.......

সকল জাতির জাতীয়তাবাদ, সকল ধর্মের ধর্ম প্রবাদ

সকল দেশের দেশাত্বতা, সকল মনের মহানুভবতা

সকল মনের কামনা-বাসনায়; স্পর্শতা থাকুক স্বাধীনতায়।


আমাদের দুই বঙ্গের আপন সিন্ধু সেই তো মোদের বঙ্গবন্ধু

তারেই বলি মোরা জাতির জনক,

সেতো আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি মোদের অহংকারের মাইলফলক।

সে যে শিখিয়ে গেছেন একই ভাষায় দুই বঙ্গের আলিঙ্গন

শিখিয়েছেন ভালবাসতে; শিখিয়েছেন কাছে আসা আসি

সেই তো মোদের রবীন্দ্রনাথের কন্ঠকে জাতীয় সংগীতে স্থাপন করেছেন--

"আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি"।


জাগো; জাগো; জাগো;.. .. ... জাগো মহাবীর

এই বঙ্গমাতার নিঃস্ব খাতায়-------

রাখিবো আবার অটুট ছবি আমার বঙ্গের সংস্কৃতির।

কবি তৈমুর খান -এর দুটি কবিতা

 নিশিযাপন



 পরিচয় আড়াল করে রাখি

 তবু টের পাই

 ধার্মিকেরা সংবিধান লেখে;

 ধার্মিক কাদের বলে?

 কোনোদিন জানা হল নাকো—

 সভ্যতা কেটে যায় রক্তপাত দেখে



 রাত ঘুমিয়ে পড়লে একা

 হৃৎপিণ্ড বেরিয়ে আসে—


_________________________________________________


ডুগডুগি


  

 কে বাজায় আমাকে রোজ? কে বাজায়?

 মেরুদন্ড সোজা করার আগেই

 আবার মেরুদন্ড বেঁকে যায়—

 বেজে বেজে এখন নিজেকে

 নিজেরই কৌতুক মনে হয়!

১৪ তম সংখ্যার সম্পাদকীয়


 

                                          অঙ্কন শিল্পী- মৌসুমী চন্দ্র



___________________________________________________


সম্পাদকীয়:



কবির কলম গর্জে উঠুক। কবিকে এটাতে শোভা দেয়। চারদিকে যা অন্যয় হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে অশিক্ষিতদের মাতামাতি এবং বাড়াবাড়ি কে একমাত্র কবির কলম ই পারে স্তব্ধ করতে। কারণ অসির চেয়ে মসি বেশি শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের বর্তমান বুদ্ধিজীবীর দল--- বর্তমান লেখক-কবি গোষ্ঠী যেন নিজেরাই স্তব্ধ হয়ে গেছেন। অন্যায়ের সাথে আপস করাটা যেন তাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুলে গেছেন সকলে ঈশ্বর আমাদের এই লেখনী ক্ষমতাটি দিয়েছেন  সমাজের সমস্ত দিককে তুলে ধরতে। কিন্তু এখন কবি গোষ্ঠী, লেখক গোষ্ঠী এতে ব্যর্থ।


সকলের উদ্দেশ্যে আমার আবেদন আপনার আবার কলম ধরুন। লিখে ফেলুন সমাজ বাস্তবতার নির্মম পরিহাস কে। জুড়ে থাকুন আমাদের পত্রিকা World sahitya adda-র সাথে। আমাদের পত্রিকা আপনার পাশে আছে। পড়ুন। লিখুন এবং ভালো থাকুন।


                              ধন্যবাদান্তে
              World sahitya adda সম্পাদকীয় বিভাগ

______________________________________________________________________________________________________


**Advertisement (বিজ্ঞাপন):

১) 










**ইন্দিরা গাঙ্গুলির সমস্ত বই পেতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে- 9903863158

______________________________________________________________________________________________________


২) 



______________________________________________________________________________________________________

৩)






Saturday, October 23, 2021

১৪ তম সংখ্যার সূচিপত্র (৪০ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র




বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, সুব্রত মিত্র, মহীতোষ গায়েন, আবদুস সালাম, আশীষ কুন্ডু, রাজা দেবরায়, নীতা কবি মুখার্জী, অভিজিৎ দত্ত, সেখ নজরুল, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, জাহির আব্বাস মল্লিক, চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী, মিঠুন রায়, মিতা দাসপুরকায়স্থ, রোকেয়া ইসলাম, উদয়ন চক্রবর্তী, বিধান সাহা, রানা জামান, মৌসুমী চন্দ্র, জয়তী দেওঘরিয়া, ঋদেনদিক মিত্রো, তুলসীদাস বিদ, মায়া বিদ, সুমিত্রা পাল, পম্পা ভট্টাচার্য, পৌষালী সেনগুপ্ত, উত্তম ধীবর, নবকুমার।



বাংলা গল্প---


অমিত পাল, রঞ্জিত মল্লিক, শ্রাবণী মুখার্জী।



প্রবন্ধ---


ইমরান শাহ্।



বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---


সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, সুজিত চট্টোপাধ্যায়, 
তীর্থঙ্কর সুমিত।




Photography----


Moushumi chandra,
Sohini Shabnam.

Monday, October 18, 2021

Photography by Sohini Shabnam



 

Photography by Tanmoy pal

 


Photography by Moushumi chandra


 

Poet Soumendra Dutta Bhowmick's. One poem

 IN A HIGH ALTITUDE




 

Golden purity and simplicity-the twine ornaments

Invaluable are dying in the stage!

Our days, Our Lives are moving and roaring

In a limited space of a cage.

Who is the rescuer? Who is the Curer?

Thy ashamed face still not found,

Come, Come, Come hoist your holy flag

And the languished thirsty we all will take

                        From ye lively sacred water.

 

Our prayer, Our intention to survive on

As a prime creature truly on this earth,

Thou-the angel fulfilling our cherished dreams

For achieving the success of our birth.

লেখক তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি গদ্য

 নদী কথায় ভেসে যায় ...



               (১১)


যখন একা দাঁড়াই রাস্তায়।মনে হয় কত রাস্তা মিশে গেছে এপাশ থেকে ওপাশ।ওপাশ থেকে এপাশ।ভালো লাগা কি না লাগার সূত্র ধরে ক্রমশ এগিয়ে যাই।আরো রাস্তার খোঁজে ।শেষ কোথায় কেউ জানিনা।তবুও শেষের নেশায় শুরুকে খুঁজি প্রতিদিন।আর হারিয়ে যাই কোনো নদীর বুকে। যার স্রোত প্রতিনিয়ত আমায় ভেজায়। যার পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলি।



               (১২)


যে কথাগুলো অনেকদিন আগে বলার ছিল।সে কথাগুলো বলা হয়েছে।গভীর থেকে গভীর ভাবে।শুধু বলার প্রয়োজনীয়তা থেকে অপ্রয়াজনীয়তায় ব্যাবহার হয়েছে বেশি। অক্ষর চিহ্ন আরো কত কি?ভেসে গেছে কথামালা ।তবুও বদল হয়নি মুহুর্ত।শুধু বদলেছে সময়।বহুদিনের ব্যার্থতার ইতিহাস আজকে অব্যার্থ চাহিদার সাথে হুবহু মিল।যে পথ বেঁকে যেতে যেতে বাঁক নিয়েছে নদী বুকে,সে পথ ই আজ নদী কথা বলে।

লেখিকা মৌসুমী চন্দ্র -এর একটি গদ্য

 খোলা জানালা




"এসেছে শরত হিমের পরশ লেগেছে হাওয়ার পরে"

শরত আসার সাথে সাথেই কি এক অনাবিল আনন্দে নেচে ওঠে মন। আনন্দধারা বহিছে ভুবনে, মা দূর্গার

আগমনে। বর্ষার কালো মেঘ যেদিন অভ্যর্থনা জানায় সুনীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলাকে, নবীন ধান, কাশেরগুচ্ছ, শিউলি, পদ্ম, সকালের শিশির বরণ করে নেয় তাকে। মন গেয়ে ওঠে ঘরে ফেরার গান। আকাশে বাতাসে আহা কি আনন্দ! পুজো পুজো গন্ধ, ছুটির আমেজে মন ভরা থাকে। ইচ্ছে করে মনকে খোলা জানালা দিয়ে উড়িয়ে দিতে ওই নীল দীগন্তে,যেখানে নেই কোনো ভেদাভেদ, শুধুই মিলন আর মিলনে মায়ের আগমনের প্রকৃত অর্থ চরিতার্থ হয়। মা যে জগতের জননী, সকল সন্তানের

মিলন ঘটিয়ে মনের বন্ধন দৃঢ় করে মা যে এক অনন্ত প্রেমের ছোঁয়া দিতে চান। 


কিন্তু মাগো ঝলমলে আলোকের আড়ালে, চকমকে দুনিয়াটা আজ বড় বিচ্ছিন্ন, নেই মিলনের গন্ধ,নেই আন্তরিকতা, নেই একাত্মতা। আছে শুধু লোকদেখানো বহিরাঙ্গ সাজানোর বহর। এখানে দুখী মা একলা কাঁদে বৃদ্ধাশ্রমে, দুখী মেয়ে ঘর পায় না, বর পায় না কালো বলে, মেয়েদের পথেঘাটে নিরাপত্তা বিহীনভাবে ঘুরতে হয়। 


মা গো এরা তো তোমারই অংশ মা গো, আজ তোমার বিদায়ের ক্ষ্ণণে তোমার আশিসে যেন এই বিচ্ছিন্নতা কেটে যায়, সকল মানুষ এক হয়ে যায় মিলনের মন্ত্রে, তাই তো বলি মাগো


বিদায়কালে বলি মাগো

মিলনমন্ত্র উঠুক বেজে।

যত কালো যাক মুছে যাক

জগত আনন্দে উঠুক সেজে।


মা গো আমরা তোমার আশিসে আমাদের মনের জানালা যেন প্রকৃত মুক্তির সন্ধান পায়,আনন্দে ভরা 

থাকে আমাদের জীবন। প্রণাম মা গো। 


সকলকে জানাই শুভ বিজয়া, আগামী সুন্দর হোক মায়ের আশিসে।



লেখক সামসুজ জামান -এর একটি গদ্য

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা                  



ফেরিওয়ালার প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে বসে মনে হচ্ছে যে রক্তমাংসে গড়া আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই প্রতিনিয়ত এক একজন ফেরিওয়ালা ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। কোন ফেরিওয়ালা ঘুরছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্যের দরজায় পৌঁছে দিয়ে দু পয়সা রোজগার এর বিনিময়ে তার নিজের সংসার প্রতি পালনের উদ্দেশ্যে। কেউ আবার নেহাতই নিত্যনৈমিত্তিক স্থাবর প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে উঠে বুদ্ধিদীপ্তি দিয়ে অন্যের মানসিক ক্ষুধা নিভৃতের তাগিদে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়। প্রথম জাতের ফেরিওয়ালার ক্ষুধা নিবৃত্তির আনন্দ আসল কিন্তু দ্বিতীয় ধারার ফেরিওয়ালাদের উদ্দেশ্য স্বর্গীয় আনন্দলাভ।

সৌভাগ্যক্রমে দ্বিতীয় স্তরের এই ফেরিওয়ালার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি অনেক কম বয়স থেকেই। তখন নিজেরই পঠন-পাঠন চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গেই সমাজসেবামূলক কাজ হিসেবে শুরু করি। এখন আমার জীবনসঙ্গিনী, তখন সে আমার গ্রামেরই এক সাদামাটা মেয়ে সামসামা, সে ই শুরু করেছিল আমারও আগে থেকে। তখন থেকে দুজনে একসাথে শুরু করেছিলাম গ্রামে বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে সাক্ষরতা আর সচেতনতার ফেরি করার কাজ। সে এক নির্মল আনন্দলাভ। ক্ষেতে-খামারে কাজ করা পরিশ্রান্ত একদল নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে ঘন্টাদুয়েকের একেবারে অন্যরকমের এক জীবন। আজ গর্ব হয় সামান্য আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে মাত্র দশ মাসের শিক্ষাবর্ষে সেই সব নারী পুরুষের কত জনের হস্তাক্ষর একেবারে মুক্তোর মত জ্বল জ্বল করত – কিভাবে যে কে জানে! বোধহয় আমাদের সেই ফেরিওয়ালার কাজে কর্তৃপক্ষ খুব সন্তুষ্ট হতেন , তাই মাঝে মাঝেই সেই সব পড়ুয়াদের আনন্দদানের প্রতি লক্ষ্য রেখে সাক্ষরতা প্রকল্প থেকে সাদা পর্দায় নানারকম চলচিত্র দেখানো হত, যেটা সেই সময়ানুপাতে কিছুমাত্র কম আনন্দপ্রাপ্তির বিষয় ছিল না। একই সঙ্গে গ্রামের বঞ্চিত সমস্ত মানুষজনই উপভোগ করতেন ব্যপারটা।   

সৌভাগ্যক্রমে দ্বিতীয় স্তরের ফেরিওয়ালা হিসেবেই নিজের পেশাগত কর্মজীবন শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের মনের মনিকোঠায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলাম। আন্দামানে পাড়ি দিয়ে কিছুদিন সরকারি মহাবিদ্যালয়ে আংশিক সময়ের অধ্যাপনা করে এবং পরবর্তীতে সরকারি শিক্ষা বিভাগে নিজেকে যুক্ত করে সেই মানসিক তৃপ্তি দানকারী ফেরিওয়ালা হিসেবেই নিজেকে নিবেদন করতে পেরে ধন্য হয়েছি। বাস্তবের খাওয়া পড়ার প্রয়োজন, স্ত্রী ও-কন্যা সন্তানদের প্রতিপালন করার জন্য অর্থ গ্রহণ করিনি একথা নিশ্চয়ই বলার চেষ্টা করব না। তবে শিক্ষকতা ফেরি করে ছাত্রছাত্রীদের মনের মনিকোঠায় পৌঁছানোর যে কি তৃপ্তি তা এককথায় অনির্বচনীয়!

আন্দামানে বাংলা মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্যগ্রন্থ মাতৃভাষায় ছিলনা এবং এ অভাব দীর্ঘদিনের। নিজের পেশাগত কাজে যুক্ত থাকার সুবাদেই কেন্দ্রিয় শিক্ষা বিভাগের জাতীয় শিক্ষা অনুসন্ধান ও প্রশিক্ষণ পরিষদ ( N. C. E. R. T.) – এর অধীনে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের বাংলা অনুবাদ ও উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত থেকে যখন এই কাজ কে সফল ও সার্থক করি এবং তারই স্বীকৃতিতে আন্দামান নিকোবরের সর্বোচ্চ প্রশাসক মাননীয় উপ-রাজ্যপালের প্রশস্তিপত্রের সম্মানে ভূষিত হই , তখন আবার মনে হয় স্বপ্ন ফেরি করা সার্থক হয়েছে।    

ভাবতেও অবাক লাগে নিজের কর্মজীবনের সূচনাপর্বে যাদের মুখে শুনতাম শিক্ষকতা পেশা খুব একঘেয়ে নিজে যখন সেই অনন্য পেশাটিকে গ্রহণ করলাম মন থেকে, তখন যে পরিতৃপ্তি লাভ করেছি, তা কিছুতেই ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব নয়। বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত জন যখন আন্দামান গিয়ে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আমার মর্যাদার কিছু চিত্র দেখেছেন এবং আপ্লুত হয়েছেন, তখন নিজেকে ধন্য মনে হয়েছে। আর মনে হয়েছে অন্য কিছু ফেরি করে অর্থ উপার্জন হয়তো অনেক বেশি মাত্রায় করা সম্ভব হতো কিন্তু এমন সমীহ আদায় করা কিছুতেই সম্ভব হতো না। ভাগ্যিস শিক্ষা ফেরি করার মন নিয়ে পথে নেমে ছিলাম! ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবন ধন্য হয়ে গেছে।

আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম সাহেব বলেছিলেন যে, যে স্বপ্ন মানুষ কে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে দেয় সেটা সার্থক স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন সেটাই যা আমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। বিন্দুমাত্র হলেও নিশ্চিন্তে ঘুমানোর স্বপ্ন না দেখিয়ে চেষ্টা করেছি তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে। তাদের একজনেরও যদি মনের ভাব-ভাবনা থেকে রাতের ঘুম চলে যায় এবং তারা তাদের স্বপ্নকে সাকার করতে সফল হয়, তাহলে আমারও মনের কিছুটা আশা পূর্ণ হয়। তখন মনের আনন্দে আমিও নচিকেতার মত গান গেয়ে বেড়াতে পারি – “ আমি এক ফেরিওয়ালা ভাই ...., স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াই”!

                                      

প্রাবন্ধিক ইমরান শাহ্-এর একটি প্রবন্ধ

 পূজা কড়চা




শারদীয়া দুর্গাপূজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়। কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দুর্গাকে পূজা করা হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই এই সময়টি তাঁদের পূজা যথাযথ সময় নয়। অকালের পূজা বলে তাই এই পূজার নাম হয় ‘অকালবোধন’। এই দুই পুরাণ অনুসারে, রামকে সাহায্য করার জন্য ব্রহ্মা দুর্গার বোধন ও পূজা করেছিলেন। কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর রাপমায়ণে লিখেছেন, রাম স্বয়ং দুর্গার বোধন ও পূজা করেছিলেন। তবে রামায়ণের প্রকৃত রচয়িতা বাল্মিকী মুনি রামায়ণে রামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজার কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। উপরন্তু রামায়ণের অন্যান্য অনুবাদেও এর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে এই প্রচলিত তথ্য অনুসারে স্মৃতিশাস্ত্রসমূহে শরৎকালে দুর্গাপূজার বিধান দেওয়া হয়েছে। হংস নারায়ণ ভট্টাচার্যের মতে, ‘অকালবোধন শরতে বৈদিক যজ্ঞের আধুনিক রূপায়ণ ছাড়া আর কিছুই না।’সনাতম ধর্মের যেকোনো পূজার ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সংস্কৃত মন্ত্রগুলো। দুর্গাপূজার মন্ত্রগুলো সাধারণত শ্রী শ্রী চণ্ডি থেকে পাঠ করা হয়। ঢাক-ঢোল, খোল করতাল, সুগন্ধি আগরবাতি আর এগুলোর সাথে সংস্কৃতমন্ত্র পবিত্র এক পরিবেশের জন্ম দেয়।


বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দেবী দুর্গা পরম ভক্তিময়। তাঁর এক রূপ অসুরবিনাশী, আরেক রূপ মমতাময়ী মাতার। তিনি অশুভর প্রতীক অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধ করে দেবকুলকে রক্ষা করেছিলেন। আমাদের বিশ্বাস, এর মধ্য দিয়ে অন্যায়-অশুভর বিপরীতে ন্যায় ও শুভশক্তির জয় হয়েছিল। তিনি কেবল সৌন্দর্য-মমতা-সৃজনের আধারই নন, অসহায় ও নিপীড়িতের আশ্রয় দানকারী বলেও গণ্য হন।


মাতৃ আরাধনা তখনই স্বার্থক হয়ে উঠবে, যখন ঘরে ঘরে দূর্গার মত মেয়েদের প্রকাশ ঘটবে। সেটা কি হয়েছে? বছর বছর ঢাক-ঢোল বাজিয়ে দূর্গতিনাশিনীর আরাধনা করেও কেন আমাদের দূর্গতি দূর হচ্ছে না। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন,

‘পূঁজা পার্বন তুই যতই করিস,

ফুল, তুলসী, গঙ্গা জলে

অনুশীলনী কৌশল ছাড়া,

ফল পাবে না কোন কালে।’

তাই, দূর্গা পূজা কেবল মাত্র পুস্পবিল্বপত্রের এবং ঢাক-ঢোলের পূজা নয়। এ পূজা মানবতার এক বিরাট মিলন উৎসব। মাতৃ আরাধনায় রত যারা তাদের উদ্দেশ্যে করে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন-

‘মা সবারই মা,

কাউকে ছেড়ে দিয়ে নয়,

কাউকে বাদ দিয়ে নয়,

কাউকে পরিত্যাগ করে নয়।’

এই হলো মায়ের স্বভাব প্রকৃতি। তিনি যেন জীবজগতের একত্ববিধানের এক স্বরূপ। সব সন্তান যেমন মায়ের নাড়িছেঁড়া ধন, তেমনি সেই সন্তানরা যদি আবার মায়ে তৃপ্তি ও স্বস্তি বিধান করতে আগ্রহান্বিত হয়, তাকে ভালোবেসে, তার সেবা করে, তখন সেই সন্তানরাও আবার পারস্পরিক সম্প্রীতি নিয়ে মিলেমিশে থাকতে পারে। তাদের মধ্যে বিক্ষোভ বা বিচ্ছেদ মাথা চাড়া দিতে পারে না। এমন ভাবে থাকলেই পূজার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়। সবাইকে নিয়ে উদ্বর্দ্ধনার পথে এগিয়ে চলা। প্রতিমাকে পুতুল মনে করে পূজা করলে পূজার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় না। দেবতাকে মাটি বা পাথরের পুতুল ভাবতে ভাবতে আমাদের অন্তরটাও ওই রকম মাটি বা পাথর হয়ে ওঠে।


ভগবতী দূর্গা। ভগ মানে ঐশ্বর্য্য। তাই, ভগবতী মানে ঐশ্বর্য্যশালিনী। ঐশ্বর্য্য, বীর্য্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এই ছয়টি ঐশ্বর্য্যরে নাম ‘ভগ’। এই ছয়টিই মা-দূর্গার মধ্যে পূর্ণ মহিমায় বিরাজিত। আবার তিনি ‘মহামায়া’। মায়া কথাটি এসেছে মা-ধাতু থেকে, অর্থ পরিমাপ করা। মহামায়া মানে মহাপরিমাপনকর্ত্রী। পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ বললেন, ‘এই যে মায়া দেখছ, মায়ার যা সব খেলা, এ মায়া কিন্তু আমারই (গীতা ৭/১৪)। অর্থাৎ মায়াও তাঁরই সৃষ্টি। ঈশ্বর স্বীয় মহাশক্তি দ্বারা জগৎ পরিমাপিত করেন। মায়া আবার প্রকৃতি নামেও আখ্যায়িত হয়। দেবীপূজার প্রক্কালে বিল্লবৃক্ষে বোধন হয়। বোধন মানে জাগরণ, চেতন করে তোলা।’


বিবেক জাগ্রত না হলে বিশ্ব মানবতার সন্তান হয়ে ওঠার যোগ্যতা লাভ করা যায় না। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, ‘বোধন মানে বোধসূত্র, যাকে আশ্রয় করে অন্তরে বাহিরের যা কিছুকে বুঝে সুঝে চলতে পারা যায়। ’পূজা মানেই তো সংবর্ধনা অর্থাৎ যার পূজা করি তাঁর মহনীয় গুণাবলীকে সুনিষ্ট অনুশীলনের দ্বারা নিজেকে চরিত্রগত করে তোলা এবং ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে তোলা।


বলি হলো উৎসর্গ। আমাদের নিজেদের হিংস্রতা ও লালসাকে পোষণ করতে যেয়ে এরকম নিষ্ঠুরভাবে পশুহত্যা আমরা ক্রমাগত করে চলছি। তাতে পূজার উদ্দেশ্য কতখানি সিদ্ধ হচ্ছে? মন কতটা ভাগবৎমুখী হয়ে উঠছে? পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকের ওপর দরদী হয়ে ওঠার এই ক্রিয়া কতটা সহায়তা করছে? ইন্দ্রিয়গুলো আমাদের কতটা তীক্ষ্ণ ও তরতরে হয়ে উঠছে? কোনোটিই হচ্ছে না। কারণ, আমরা বলি শব্দের প্রকৃত অর্থ জানি না। তাই বলিদানও হয় না। বলি শব্দ এসেছে বল্ ধাতু থেকে, মানে বর্দ্ধন। মায়ের পূজা যে বলি হয় তার মানে বেড়ে ওঠা বা বলীয়ান করে তোলা। মায়ের পূজা করে মানুষ সংবধিক হয়ে ওঠে।

বিসর্জন শব্দটি বি-সৃজ ধাতু থেকে উৎপন্ন, বিশেষ প্রকারে সৃষ্টি করা। যে মাতৃপূজা করলাম, সেই মায়ের সর্ব মঙ্গলকারিণী স্নেহসুন্দরভাবে ও চরিত্রকে নিজের অন্তরে বিশেষভাবে সৃষ্ট, অর্থাৎ দৃঢ়নিবন্ধ করে তোলা চাই। মায়ের সেবায় আমাদের বৃত্তিগুলোকে নিয়োজিত করি, তখনই হয় বিসর্জনের স্বার্থকতা।


মা দুর্গা সাধারণের কাছে দেবী দুর্গা, মহাময়া, মহাকালী, মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী, শ্রী চন্ডী প্রভৃতি নামে পরিচিত। সর্বশক্তি স্বরূপিনী আদ্যাশক্তি হলেন এই মা দুর্গা। তাঁর দুর্গা নামটির মধ্যেই অসুর শক্তি নাশের পরিচয়। তিনি দুর্গ নামের এক দৈত্যকে বধ করে দুর্গা নামে খ্যাত হন। যুগে যুগে দেবতাদের কল্যাণের জন্য দেবী দুর্গা অত্যাচারী ভোগলোলুপ অসুরদের নিধন করেছিলেন। মা দুর্গা শত্রু বিনাশে যেমন ভয়ঙ্করী আবার ভক্ত বা সন্তানের কাছে তিনি তেমনি স্নেহময়ী জননী, কল্যাণ প্রদায়িনী। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- ‘ডান হাতে তোর খড়গ জ্বলে বাঁ হাত করে শঙ্কা হরণ। দুই নয়নে স্নেহের হাসি ললাট নেত্র আগুণবরণ।'


বাংলাদেশ প্রেম ধর্মের দেশ। মাকে সৌন্দর্যময়ী, প্রেমময়ী, করুণাময়ীরূপে প্রত্যক্ষ করতে। তাই তো মার্কন্ডুয়ে পুরাণের কাহিনীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেবী দুর্গার অসুর-নাশিনীরূপে প্রতিমা গড়ে পূজার আয়োজন করা হলেও বাঙালি ভক্ত জানেন, আসলে ওই পূজা আর কিছু নয়, এক বছর বর উমা স্বামীগৃহ কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে মা-বাবার বাড়িতে এসেছেন। তারপর আবার ফিরে যাবেন কৈলাসে স্বামী শিবের কাছে। এখানে একটি বিষয় অবশ্যই লক্ষণীয়। ভক্ত ভগবানকে তাঁর আপনজন হিসেবে পেতে চান। তাই তো দেখা যায়, ভক্তিমার্গের সাধক কেউ ভগবানকে প্রভুরূপে, সন্তানরূপে, সখারূপে, প্রেমিকরূপে ভজনা করে থাকেন।


দুর্গাপূজা কবে, কখন, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল- তা নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন। আর্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবতাদের। অনার্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবীদের, তারা পূজিত হতেন আদ্যাশক্তির প্রতীক রূপে। মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের গঠন, দায়িত্ববোধ ও উর্বরতা শক্তির সমন্বয়ের কথা বিবেচনা করে অনার্য সমাজে গড়ে উঠে মাতৃপ্রধান দেবী সংস্কৃতির ধারণা। ভারতে অবশ্য মাতৃরূপে দেবী সংস্কৃতির ধারণা অতি প্রাচীন। প্রায় ২২ হাজার বছর পূর্বে ভারতের প্যালিওলিথিক জনগোষ্ঠী থেকেই দেবী পূজা প্রচলিত। হরপ্পা ও মহেন্জোদারো সভ্যতা তথা সিন্ধু সভ্যতায় এসে তা আরও গ্রহণযোগ্য, আধুনিক ও বিস্তৃত হয়। মাতৃপ্রধান পরিবারের মা-ই প্রধান, তার নেতৃত্বে সংসার পরিচালিত হয়। এই মত অনুসারে দেবী হলেন শক্তির রূপ, তিনি পরব্রহ্ম। শাক্ত মতে, কালী বিশ্ব সৃষ্টির আদি কারণ। অন্যান্য দেব-দেবী মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর বিভিন্ন রূপে প্রকাশ মাত্র। মহাভারত অনুসারে, দুর্গা বিবেচিত হন কালী শক্তির আরেক রূপে।


ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আছে, দুর্গাপূজার প্রথম প্রবর্তক কৃষ্ণ, দ্বিতীয় বার দুর্গাপূজা করেন স্বয়ং ব্রহ্মা আর তৃতীয়বার দুর্গাপূজার আয়োজন করেন মহাদেব। আবার দেবী ভাগবত পুরাণ অনুসারে জানতে পারি, ব্রহ্মার মানস পুত্র মনু ক্ষীরোধ সাগরের তীরে দুর্গার আরাধনা করে বর লাভে সফল হন। মূল বাল্মীকির রামায়ণে, দুর্গাপূজার কোনো অস্থিত্ব নাই। কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়নে দুর্গাপূজার অস্থিত্ব আছে।


বাংলাভাষী হিন্দু সমাজে দুর্গাপূজা বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সেখানে তিনি কালিকা পুরাণের ঘটনা অনুসরণে ব্রহ্মার পরামর্শে রামের দুর্গাপূজা করার কথা উল্লেখ করেছেন। শক্তিশালী রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজয় নিশ্চিত করতে শরৎকালে শ্রী রাম চন্দ্র কালিদহ সাগর থেকে ১০১টি নীল পদ্ম সংগ্রহ করে দুর্গাপূজা করে তার কৃপা লাভ করেন। তবে দুর্গাপূজার সবচেয়ে বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় মার্কন্ডুয়ে পুরাণে। এই পুরাণের মধ্যে তেরটি অধ্যায় দেবীমহাত্ম্যম নামে পরিচিত। বাংলায় শ্রীশ্রী চণ্ডি নামে সাতশত শ্লোক বিশিষ্ট দেবী মহাত্ম্যম পাঠ আছে- যা দুর্গাপূজার প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পূজার আসরে স্থায়ী হয়ে গেছে।


সনাতন ধর্মের আর্য ঋষিরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতীক হিসাবে দেবী দূর্গার আশীর্বাদ লাভের জন্য আরাধনা করতেন। মার্কন্ডুয়ে পুরাণ (Markandeya Purana) মতে, চেদী রাজবংশের রাজা সুরাথা খ্রিষ্টের জন্মের ৩০০ বছর আগে কলিঙ্গে (বর্তমানে ওড়িষ্যা) Duseehera নামে দুর্গাপূজা প্রচলন করেছিল। নেপালে Duseehera বা Dashain নামেই পূজা হয়। যদিও প্রাচীন ওরিষ্যার সাথে নেপালের পূজার যোগসূত্র আছে কিনা সে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার ইতিহাস আছে কিন্ত ভক্তদের কাছে সেই ইতিহাস বিশ্বাসের।


পরিব্রাজক, বৌদ্ধ পন্ডিত হিউয়েন সাংকে নিয়ে দুর্গাপূজার একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। চীনা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাখায় বিভ্রান্ত হয়ে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে ৬৩০ সালে ভারত সফরে আসেন। ভারত বর্ষের নানা বিহারে বিদ্যা অর্জন করেন। ৬৩৫-৬৪৩ পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর তিনি হর্ষবর্ধনের রাজসভায় ছিলেন। তবে তার কাহিনী দূর্গা, কালী, কালীর আরেক রূপ চণ্ডি নাকি বনদেবীকে নিয়ে- তা বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে তার রচনায় উল্লেখ করেছেন, হর্ষবর্ধনের সময়ে দস্যূ তস্করের উপদ্রব খুব বেশি ছিল এবং তিনি নিজেও একাধিক বার দস্যূর হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন।


মধ্য যুগে বাংলা সাহিত্যে দুর্গাপূজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে আছে দুই ধরনের স্থাপত্যরীতি মন্দির। ১১শ বা ১২শ শতক থেকে এখানে কালীপূজার সাথে দুর্গাপূজাও হত। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে।


যতটুকু জানা যায়, কারও মতে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দুর্গাপূজা করেন। আবার কারও মতে, ষোড়শ শতকে রাজশাহী তাহেরপুর এলাকার রাজা কংশ নারায়ণ প্রথম দুর্গাপূজা করেন। ১৫১০ সালে কুচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ কুচবিহারে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। অনেকে মনে করেন, ১৬০৬ সালে নদীয়ার ভবনানন্দ মজুমদার দুর্গাপূজার প্রবর্তক। ১৬১০ সালে কলকাতার সুবর্ণ রায় চৌধুরী সপরিবারে দুর্গাপূজা চালু করেন। ১৭১১ সালে অহম রাজ্যের রাজধানী রংপুরের শারদীয় পূজার নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের দূত রামেশ্বর নয়ালঙ্কার। নবাব সিরাজ-উদ-দ্দৌল্লার আক্রমণে কলকাতার একমাত্র চার্চ ধ্বংস হবার পর সেখানে কোনো উৎসব আয়োজনের অবস্থা ছিল না। পলাশীর যুদ্ধে বিজয় লাভের জন্য ১৭৫৭ সালে কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়িতে রাজা নব কৃঞ্চদেব লর্ড ক্লাইভের সম্মানে দুর্গাপূজার মাধ্যমে বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছিলেন।


আধুনিক দুর্গাপূজার প্রাথমিক ধাপ ১৮ শতকে নানা বাদ্যযন্ত্র প্রয়োগে ব্যক্তিগত, বিশেষ করে জমিদার, বড় ব্যবসাযী, রাজদরবারের রাজ কর্মচারী পর্যায়ে প্রচলন ছিল। বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১৮ শতকের মঠবাড়িয়ার নবরত্ন মন্দিরে দুর্গাপূজা হতো। পাটনাতে ১৮০৯ সালের দুর্গাপূজার ওয়াটার কালার ছবির ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। ওরিষ্যার রামেশ্বরপুরে একই স্থানে ৪০০ শত বছর ধরে সম্রাট আকবরের আমল থেকে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। বর্তমানে দুর্গাপূজা দুইভাবে হয়ে থাকে- ব্যক্তিভাবে, পারিবারিক স্তরে ও সমষ্টিগতভাবে; পাড়াস্তরে বারোয়ারি বা সর্বজনীন পূজা নামে পরিচিত।


সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী অবদি পাঁচদিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আবার সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ নামে আখ্যাত হয়। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া নামে পরিচিত। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন অর্থাৎ পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বাৎসরিক লক্ষ্মীপূজার দিন হিসাবে গণ্য হয়। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি।


দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত ১ বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। এদিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। দেবীর মত সাজিয়ে হাতে দেওয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক এবং পায়ে আলতা। সঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে পূজাঙ্গণ মুখরিত থাকে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, ‘শুদ্ধাত্মা কুমারীতে দেবী বেশি প্রকাশ পায়। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন, শ্রদ্ধাশীল।’


১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ জন কুমারী পূজার মাধ্যমে এর পুনঃপ্রচলন করেন। হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, চিরবিধবাসহ নানা অবিচারে নারীরা ছিল নিপীড়িত। চিরকুমার বিবেকানন্দ নারীকে দেবীর আসনে সম্মানিত করার জন্যেই হয়তো পুনঃপ্রচলন করেন। ১৯০১ সালের পর প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে। আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সাধনই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য।


দুর্গাপূজার আরও একটি অংশ সন্ধিপূজা। অষ্টমী দিনের শেষে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় দেবী দুর্গাকে চামুণ্ডা রূপে পূজা করা হয়ে থাকে। তান্ত্রিক মতে এই পূজা সম্পন্ন হয়। এই পূজায় দেবীকে ষোলটি উপাচার নিবেদন করা হয়। দেবীর উদ্দেশে হয় পশুবলি; সেই বলিকৃত পশুর মাংস ও রক্ত এবং মদ দেবীকে দেওয়া হয়। এককভাবে চামুণ্ডা, চণ্ডি বা কালী পূজায় পশুবলি দেখা গেলেও বাংলাদেশের কোথাও দুর্গাপূজায় পশুবলি হয় না।


সরকারি বা জাতীয়ভাবে এই উৎসবকে দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হিসাবে অভিহিত করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এটাকে শরৎকালের বার্ষিক মহোৎসব হিসাবে ধরা হয় বলে এই পূজাকে শারদীয় উৎসবও বলা হয়। রামায়ন অনুসারে, অকালে বা অসময়ে দেবীর আগমন বা জাগরণ বলে শরৎকালের দুর্গা উৎসবকে অকালবোধনও বলা হয়। বসন্তকালের দুর্গাপূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়।


দুর্গা পুষ্পাঞ্জলি দেয়ার মন্ত্র: ঔঁ জয়ন্তি মঙ্গলা কালী, ভদ্র কালী কপালিনী, দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী, স্বাহা স্বধা নমস্তুতে। এস স্ব চন্দন পুষ্প বিল্ব পত্রাঞ্জলী নম ভগবতী দুর্গা দেবী নমহ্।


দুর্গা প্রণাম মন্ত্র: সর্ব মঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরি নারায়নী নমস্তুতে

অর্থ: হে দেবী সর্বমঙ্গলা, শিবা, সকল কার্য সাধিকা, শরণযোগ্য, গৌরি ত্রিনয়ণী, নারায়ণী তোমাকে নমস্কার।


আজ মহানবমী। হোমাগ্নিতে দেবীর স্তুতি। বনেদি বাড়িতে প্রথা মেনে নবমীর বিশেষ পুজো। কোথাও হোম, কোথাও ফল বলি। 

পুজো শুরুর সময় যেমন সঙ্কল্প, তেমনই পুজো শেষের প্রক্রিয়া দক্ষিণান্ত। নানা উপাচারে দেবীর আরাধনা। নবমীতেও কুমারী পুজো হয়। এরই মাঝে বাঙালির প্রাণের উৎসবে বিষাদের সুর। কাতর প্রার্থনা, না পোহায় যেন নবমী নিশি৷ 



 

প্রাবন্ধিক অমিত পাল -এর একটি প্রবন্ধ

 বিধর্মী প্রেমের পরিণাম

                                


      প্রথমেই বলে রাখি আমি এই প্রবন্ধের মাধ্যমে কোনো ধর্মকে আঘাত হানতে চাইনা৷ চাই শুধু একটা সঠিক দৃষ্টান্তের খোঁজ কিংবা দিতে চাই সত্য ভাষার নিদর্শন৷


          প্রথমেই জানিয়ে দিতে চাই এই প্রবন্ধটি যার সম্পর্কে লিখছি সে আর কেউ নয়, আমার খুব কাছের পরিচিত একজন৷ সম্পর্কে সে আমার দাদা৷ নামটা তার প্রকাশ করা আমার পক্ষে বাঞ্ছনীয় নয়৷ যাইহোক ঘটনায় ফেরা যাক, এই যে বিধর্মীর সাথে প্রেম - এর পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে চলেছে তা আমি আমার দাদার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেই বুঝতে পারছি৷ আসলে সে যার সাথে প্রেমেলিপ্ত সে হল এক বিধর্মী মহিলা৷ সে এমন এক বিধর্মী মহিলা যে আমার দাদাকে বশীভূত করে ফেলেছে নিজের কুটিল মায়াজালে৷


              প্রেম হলে শুনেছি প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে রসের কথা, নিজেদের মনের কথা আলোচিত হয়৷ উভয়ের মধ্যে কখনো কখনো ভালোবাসার টানাপোড়েন ঘটে, আবার মিলন ঘটে৷ কিন্তু কখনো শুনিনি প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ধর্ম নিয়ে আলোচনা৷ প্রেমের দোহাই দিয়ে প্রেমিককে প্রেমিকার ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়া - এই ব্যাপারটা কেমন যেন অর্বাচীন৷ 


              দুঃখ কি জানেন, অশিক্ষিতের কাছে শিক্ষা নিলে সে যেমন অশিক্ষিতে পরিণত হয়, ঠিক তেমনি আমার দাদাও শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও, নিজে হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও ভুলে গেছে নিজের সঠিক শিক্ষা, নিজের সততার ধর্ম ও নিজের আরাধ্যা দেব-দেবীকে৷ এমনকি দাদা নিজের দেব-দেবী সম্পর্কে কু-রটনা করতেও ছাড়ে না৷ আসলে সেই বিধর্মী মেয়েটি দাদাকে প্রেমের আদলে বশীভূত করেছে প্রেমাকাঙ্ক্ষী হিসাবে নয়, ধর্মচ্যুত করানোর উদ্দেশ্যে৷

 

             আমি একটা কথা জোড় দিয়ে বলতে পারি যে, আমি হিন্দু হলেও আমি কোনো ধর্মকে অসম্মান বা অবহেলা করি না৷ কারণ আমি হিন্দু৷ গর্বের সাথে আমি বলতে পারি আমি একজন হিন্দু৷ তবে আমি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী৷ তাই আমার দাদার সাথে কোনো বিধর্মী মেয়ের যে প্রেমালাপ ঘটেছে তাকে আমি সমর্থন করেছি৷ কারণ ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ আমিও মানিনা৷ আমি ঈশ্বরকে মানি৷ আর ঈশ্বরকে মেনে চলার অর্থ সকলেই তাঁর সন্তান৷ তাই আমি মন থেকে দাদাদের প্রেম সমর্থন করেছিলাম৷


           কিন্তু হায়! সেই সমর্থন যে আমার দাদার জীবনে কালপিট হয়ে উঠেছে৷ সেই বিধর্মী মেয়ের পাল্লায় পড়ে দাদা যেন সেই বিধর্মের অনুগত হয়ে উঠেছে৷ দাদাও হয়ে উঠেছে যেন এক বিধর্মী পুরুষ৷ তাতে কোনো দোষ নেই আমার মতে৷ কিন্তু নিজের ধর্মকে ভুলে যাওয়া, নিজের আরাধ্যা দেবতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, ঈশ্বরের ভেদাভেদ করা এটা আমি মানতে পারছি না৷ কারণ যে ছেলে হিন্দুত্বের প্রতি, ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস রেখেছিল৷ আজ তার সাথে আকাশ পাতাল তফাৎ৷


             আমি একদিন বসলাম দাদার সাথে যুক্তি তর্কে৷ সেখানে থেকে যা বুঝলাম তার একটা উদাহরণ স্বরূপ দৃষ্টান্ত দিই -- আমি ধর্মের দৃষ্টান্তে প্রথমেই দাদাকে সহজ ভাবে নাক দেখালাম, দাদা বুঝল না৷ আমি আবার দাদাকে ঘুরিয়ে নাক দেখালাম, দাদা বুঝল না৷ আসলে দাদার এখন নাকটাকে কান বলে মনে হচ্ছে৷ তাই আমি নিজেই সরে এলাম এটা ভেবে - কুকুরের লেজ বেঁকে গেছে তাই একে সোজা করার ক্ষমতা আমার নেই৷


         তবে দুঃখ হয় দাদার ভবিষ্যতের কথা ভেবে৷ এর পরিণাম কি হতে পারে জানো? আমি কিন্তু জানি৷ এর ভবিষ্যৎচিন্তা করে বলতে পারি -- যখন দাদা হোঁচট খাবে, আবার ফিরে আসবে ঘরের ছেলে ঘরে তখন হয়ত সমাজ, সততা, হিন্দুত্ব, ন্যায় বলবে জোড় গলায় দাদার প্রতি চেয়ে -- আমরা কারুর ব্যবহার করা রুমাল ফেরত নিই না...