Monday, November 22, 2021

লেখক সিদ্ধার্থ সিংহ -এর একটি গল্প

 ফোন কল



স্বামী-স্ত্রী রাত্রিবেলায় খেতে বসেছেন। দু'জনেরই মোবাইল টেবিলের উপরে। তখনও তাঁদের খাওয়া অর্ধেকও হয়নি। ঘনঘন রিং বাজতে লাগল স্বামীর মোবাইলে।

এই সময় রোজই তাঁর ফোন আসে। আজকে দেরি করে খেতে বসেছে দেখে। না হলে এই সময় ও শোওয়ার ঘরেই থাকে। এদিককার টুকিটাকি কাজ সেরে যতক্ষণ না বউ ওই ঘরে যাচ্ছে ততক্ষণ ও কথা বলে যায়।

বউও জানে কার ফোন। তাঁর স্বামী একদিন তাকে বাড়িতেও নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর স্বামী ফোন ধরছে না দেখে এর মধ্যে কবে যেন ওই মেয়েটি তাঁকে ফোনও করেছিল।

বউ বুঝতে পারল, সে সামনে বসে আছে বলেই তাঁর স্বামী ফোনটা ধরছে না। ফোনটা ননস্টপ বেজে যাচ্ছে।

না, এ বার আর স্বামীর নয়, বেজে ওঠল তার ফোন। বউয়ের ফোনে রিং হতেই তাঁর স্বামী তড়িঘড়ি করে বলল, কেউ যদি আমার খোঁজ করে বলবে বাড়িতে নেই।

বউ কলটি ধরেই বলল, আমার স্বামী বাড়িতে আছে। বলেই, লাইনটি কেটে দিল।

স্বামী অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলল, তোমাকে বললাম না, বলে দিও আমি বাড়িতে নেই?

বউ তাঁর স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, এটা তোমার ফোন নয়, আমার।

Poet Pavel Rahman's one poem

 Cause Of Living



If you don’t get anyone’s love,

If all hopes to live are vanished,

Nonetheless, you will have to live-

For saving others from danger.

Though night is coming deeper,

Though there is no any hope to live,

Nonetheless, say to your mind-

“ I will have to live for saving others.”

Poet Sunanda Mandal's one poem

 Catalyst

       


We don't have society,

No struggle for existence.

In the present civilization

A mixture of anxiety and pain,

A kind of catalyst.

The smell of rotten meat emanating from life.

কবি তহিদুল ইসলাম -এর একটি কবিতা

 তুমি বলে ছিলে




তুমি বলে ছিলে, বৃষ্টি ভালোবাসো

কিন্তু যখন বৃষ্টি ঝরে ,তুমি আশ্রয় খুঁজে পাও

তুমি বলে ছিলে, সূর্য ভালোবাসো

চোতের বিরহকাতর মাঠের বুকফাটা রোদে

তুমি হাফ ছেড়ে বাঁচো ,ছায়া খুঁজে নাও

আমি বড় চিন্তিত, তুমি যখন বলো,

" আমি তোমাকে ভালোবাসি"।


তুমি বলে ছিলে ,চাঁদ ভালোবাসো

আবার জোছনা রাতে ,তার কলঙ্ক খুঁজতে যাও

তুমি বলে ছিলে, গোলাপ ভালোবাসো

গোলাপ বনের কাঁটা দেখে থমকে দাঁড়াও।

আমার ভয় করে তুমি যখন বলো,

" আমি তোমাকে ভালোবাসি"।             

কবি সেখ নজরুল -এর একটি কবিতা

 ভালোবাসা অন্ধ




সত্যি ভালোবাসা অন্ধ,

চোখে দেখা যায় না।

মন দিয়ে অনুভব করতে হয়।।

আমি যখন মাতৃগর্ভে ছিলাম, তখন মা আমাকে না দেখেই মনে মনে অনুভব করে,আমাকে নিয়ে হাজার ছবি আঁকতেন।

আমার খোকার এরকম হবে, তার চোখ দুটো এরকম হবে, তারা হাত দুটো এরকম হবে, তার পাদুটো এরকম হবে,তার নাকটা এরকম হবে।

অনেক সময় আমরা অজানা মানুষের ছবি মনের মধ্যে এঁকে ফেলি এবং পাগলের মতো ভালোবাসি।

সত্যি ভালোবাসা অন্ধ,

চোখে দেখা যায় না,

মন দিয়ে অনুভব করতে হয়।যখন আমরা বাইরে থাকি,

মা ভাবতে শুরু করে,

আমার খোকা কিছু খেয়েছে কিনা,আমার খোকা কি করছে,,কখন বাড়ি ফিরবে।

সত্যি ভালোবাসা অন্ধ,

চোখে দেখা যায়না,,

মন দিয়ে অনুভব করতে হয়।

কাউকে দেখে তার প্রতি মন কেঁদে ওঠে,

এটা ভালবাসা নয়,,ভাললাগা।

আমরা সৃষ্টিকর্তাকে কোনোদিন চোখে দেখিনি, তবুও উনার প্রতি আমাদের মন কেঁদে ওঠে এবং দুটি হাত তুলে সব সময় উনার কাছে কিছু চাইতে থাকি।

সত্যি ভালোবাসা অন্ধ,

চোখে দেখা যায় না,

মনে দিয়ে অনুভব করতে হয়।

কবি অভিজিৎ দত্ত -এর একটি কবিতা

 মৃত্যু



হে পথিক করিও স্মরণ 

জীবনের শেষে আসবে মরণ

মৃত্যু জীবনের চরম সত্য 

অথচ এই সত্যটিকে আমরা

কেন ভুলে যায় অবিরত?


লোভ,হিংসা,মারামারি

একে অপরকে বঞ্চিত করার জন্য 

করি শুধু বাড়াবাড়ি 

এমন কী এজন্যই পিতামাতাকে 

পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে ঘর-বাড়ি।


মানুষের দুর্নীবার লোভ

গ্রাস করেছে সবকিছু

অথচ কিছুই যাবে না সঙ্গে

কবে বুঝবে মানুষ এই সত্য?


অন্যায়, অবিচার, দেবেন,হিংসা 

সবই লোভ পেতো

যদি মৃত্যুভয় স্মরণে থাকতো।

মানুষের বিবেক যদি হয় জাগ্রত 

সব অন্যায় হবে পরাভূত।

মৃত্যুকে গ্রহণ করো হাসিমুখে

মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে যাও

শুভ কার্যের সাথে।

কবি অরবিন্দ সরকার -এর একটি কবিতা

 গুরু

             

           


লালন পালনে গুরু তাঁরা মাতাপিতা,

গোরু পালনে গোপাল সে পরমগুরু,

দলের নেতা ভোম্বল সেও কাটে ফিতা,

ডাকাত দলে সর্দার নাম তার হীরু।


গুরু মশাই শিক্ষক তিনি পাঠদাতা,

বস্ত্রহরনে খচ্চর তার হাতে নাড়ু,

সব শালায় কর্মের গড়েন বিধাতা,

যত শালা আছে তারা, সবে ধর্মভীরু।


পশুরাজ সিংহ গুরু নয় পরিত্রাতা,

স্রষ্টা গুরু প্রজাপতি হাতে নিয়ে গারু,

জীবের কল্যাণে ব্রতী তিনি বিশ্বপিতা,

স্বর্গ মর্ত্য পাতালেতে বাজাবে ডমরু।


পাঠশালায় শিক্ষক গোশালায় গোরু,

কামার কুমোর শালা না থাকলে মরু!

___________________

কবি নবকুমার -এর একটি কবিতা

সমস্ত প্রতারণাগুলি 



সমস্ত প্রতারণা গুলি লিখে রাখি বুকের দেয়ালে ।


যেখানে গেছি পেয়েছি শুধুই প্রতারণা 

কেউ দেয়নি স্নেহে একটু শীতল জল ।


মরুভূমির ভেতর হেঁটে হেঁটে 

ফোস্কা পড়েছে পায়ে 

কেউ বলেনি ডেকে -এসো ,একটু জিরিয়ে নাও শীতল ছায়ায়।


যা-ই ধরতে গেছি পিছলে পিছলে গেছে

অসময়ে রজ্জুও সাপ হয়ে মাত করে 

ছোবলে ছোবলে ।


সমস্ত প্রতারণা গুলি লিখে রাখি বুকের দেয়ালে ।



কবি সৈয়দ শীষমহাম্মদের অনু কবিতা

 ১


লাঙ্গল ঘাড়ে কৃষক আমি 

মুখে তুলে দিই অন্ন,

দিসনা বাধা আমার কাজে 

তোর সাথে নই ছিন্ন ।

______________


ভাত ঘুমের ব্যার্থ চেষ্টা হলো 

ঘুম যে গেল চলে,

তিনটে শালিক ঝগড়া করে 

রান্না ঘরের চালে l

কবি কমল মন্ডল -এর একটি কবিতা

 চেনা গন্ধ 

                   


সুন্দরতাকে উপেক্ষা করে তুমি চলে গেছো সাফল্যে

আমি জানি, তুমি চলে যাবে স্নান ঘরে 

শরীর ভিজিয়ে ভাববে নাতো আমায়

স্বপ্ন খুঁজে পাওয়া যায় সকল মধু 

আমি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি নরম শাড়িতে।

চুড়ির চেনা শব্দ কানে বাজে আমার 

কেউ কোথাও নেই 

কে ওখানে দাঁড়িয়ে। কেউ কোথাও নেই 

একটা খুব চেনা গন্ধ ঘরময় ছড়িয়ে 

আমাকে জড়িয়ে ধরলো, গলা শুকিয়ে গেছে 

কাঠগলায় বললাম কে ওখানে দাঁড়িয়ে 

কোনো আওয়াজ নেই!

মেয়ের কান্নায় ঘুম ভেঙে যায়। 

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 অবিশ্বাস মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে



অবিশ্বাসের ছাতা মাথায় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি

ধর্ম প্রচারের দ্বায়ীত্বে আছেন ধর্ষক বাবা

অসহায় রাস্তায় পাহারা দিচ্ছে পঙ্গু পুলিশ

ধর্ম প্রাণ মানুষ পুলিশের হাতে গুঁজে দিচ্ছে বরাদ্দ মাসোহারা

এটাই নাকি অলিখিত সংবিধান


ইহকাল নিয়ে বিজ্ঞাপনের পাতা ভরাট হয়

সংকেত পাঠাচ্ছে পরকাল

দীর্ঘরাত অসহায় বারান্দায় ঘুমায়

বয়ঃসন্ধির বিজ্ঞাপন ঝুলছে ধর্মবেদীর দূয়ারে


সকাল সন্ধ্যা পূজা করি যৌন মানবের

অসহায় ঝরে পড়ছে বিবেকের বারান্দায়

Sunday, November 21, 2021

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 রোষের মুখে কালক্রম



উদঘট পাথরে জীবনের নাম লেখা

জীবন দরিয়ায় মায়া-মমতার ছবি আঁকা;

কল্পনার বিষ পাথরে তামাশারা গল্প লেখে

পরিণতির পরিহাস সদাহাস্য বারো মাস--

বাস্তবের কালিমা আছে গায়ে মেখে।


সৃষ্টির লীলাভূমি তুমি মোর প্রিয়তম

শত দুর্গতি এসে যায় কপালে তবু --- ---

তবু যেন হও তুমি স্বর্গ সম,

এখনো তো ঝড় হয়; ভাঙে ঘরবাড়ি;

আমি অদ্ভুদ স্রোতের মাঝে অলিখিত প্রতিরোধ

এক অদৃশ্য শক্তির সহযোগে রুখে দাঁড়াই আড়াআড়ি।


সরল আর সহজের হাটে সাধনারা ফিকে হয়

দূর্মূল্যের বাহারি রংমশাল আজকাল বড় সম্মান পায়,

অবচেতনার সিঁড়ি বেয়ে প্রজন্ম ক্রমশ ঝরে পড়ে সময়ের পায়ে

কর্মেরা আগাছার দিকে তাকায়;

বিচ্ছিন্ন গতিপথে মানুষেরা সংঘবদ্ধতা হারায়,

ব্যবধান লেখা থাকে মানুষের চেতনায়

ব্যবধান লেখা থাকে মানুষের ভাবনায়,

তৎক্ষণাৎ উর্বর গতি রেখার দিকে সকলে ধেয়ে যায়

ক্রমান্বয়ে দূরদর্শিতার অভাব দেখা যায় এই সময়।


এই সকল ভাবনার ঊর্ধ্বে উঠে---------

কালের জয়ের কথা রেখে গেলে কালজয়ী হওয়া যায়

সমকালে কোনদিন যদিও জীবন হয় অমলিন

নাভিশ্বাস আর দীর্ঘশ্বাস আসবে না কোনদিন;

তবু তারা কেহ কেহ ছুটে যায় প্রান্তকে ভেদ করে

মর্মবাণীর 'পরে মর্মেরা শুয়ে পড়ে,

আমি জীর্ণ চেতনায় শীর্ণ হয়ে জেগে থাকি ঘুমোঘরে।

একবার দেখে যাও,শুধু একবার পৃথিবী যাও তুমি দেখে

এই ভগ্ন হৃদয়ের শক্ত দেওয়াল হতে--------

ক্রন্দন ভেসে আসে রাতে দিনে দুপুরে।


পৃথিবীরা সুখে থাকে; লড়াই করে বাস্তব,

মূর্খেরা করে বড়াই তবুও থামেনা সে লড়াই

বেহিসেবী খাতা কলম দিয়ে যায় মুখরোচক মলম

নিঃস্ব হয়ে পড়ে থাকে ন্যায্য চেতনার সামাজিক অনুভব।

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 আমার অসুখে



আমার অসুখ বেড়ে ওঠে যেমন বেড়ে ওঠে লতা

পরম গুহায় নামে তুমি নামের বৃষ্টি

দুচুমুক স্নান করে আমার কবিতা

তোমার কাছে রেখে যাই দংশনের দায়

দুঃখ ভিজে যায় পুরনো পাতার মতো

আয়ুর মতো জেগে থাকে ঘুম ঠায়

তুমি এসে চলে যাও নিজের আড়ালে

স্রোত থেকে স্রোতে প্রেম কাঁদে

প্ররোচনা দেয় অসুখ শরীর

সামনে এসে দাঁড়ালে মিশে যাও তুমি

আর তোমার পাঞ্জাবি আকাশের নীলে

বৃষ্টির মুদ্রিত রূপ আমার কবিতায়

আমায় অসুখ নিয়ে তুমি জড়িয়েছিলে

সমস্ত মৃত্যু আজ লেগে থাকে শ্রাবণের গায়ে

আমার অসুখে পৃথিবী আজ নিজেকে লুকায়।