Sunday, December 5, 2021

কবিতা || উত্থিত প্রেমে || সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

 উত্থিত প্রেমে




না ছুঁয়ে-থাকা ভালবাসার অমৃত ফলের

অপ্রাপ্তিতে মন তখন ভীষণ উচাটনে।

কাজে বুঝি শুখা-শুখা মানসিক ছোবলে

জীবনের মানে বদলে যেতে অতি তৎপর।

কেন দরকারী প্রেম? সেটাই তালে হেম,

চারপাশে হেলাফেলা প্রকাশিত বিক্ষিপ্ত মননে।

অতএব তন্নতন্ন দারুণ তালাশে বাঁচার রসদ

ভালবাসায় আরোগ্যলাভ অতি কাম্য যখন-তখন।

কিন্তু কিন্তু তবুও মনোভাবে সাহসের আকাল

প্রেমের উৎস-সন্ধানে ব্যর্থতাই এক পরিহাস!

আড়ষ্টতা মুছে ফেলে সাহসী দৃপ্ত পদক্ষেপে

মিলতেও পারে সহজ স্বাভাবিক তৃপ্ত নিঃশ্বাস।

না ছুঁয়ে থাকা আশনাই খুব তিক্ত বিরক্তিতে

ছেয়ে ফেলে বিশ্বটা অনায়াসে অনামী আস্বাদনে।

সেই গোলকধাঁধার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে

সেই চরম অতৃপ্তির দুনিয়ার সাথে বিচ্ছিন্নতায়

আসুক না একবার নতুনত্ব উল্লাসের আপ্যায়নে।

কবিতা || সবার প্রিয় মারাদোনা || নীতা কবি মুখার্জী

 সবার প্রিয় মারাদোনা




আমাদের সবার প্রিয় তুমি, মারাদোনা

তোমার গল্পকথা যায় না যে গোনা

বিশ্বের বিস্ময়, বিস্ময় পুরুষ তুমি

তোমার চরণ-চুমে সকল ফুটবল-ভূমি।


ফুটবল দুনিয়া ভুলবে না কখনো তোমায়

ফুটবলের রাজপুত্র বলে সেলাম জানায়।


বিশ্বকাপ জিতে হয়েছো বিশ্ব-বিজয়ী

একা লড়ে গেছো, তাই তুমি কাল-জয়ী।


জন্ম হোক যথা-তথা, কর্ম হোক মহান

সেই বিশ্বাসটুকু দুনিয়াকে করেছো দান।


জন্ম তব হতদরিদ্র অনামী এক সমাজে

রাজ-সম্মানে ভূষিত হয়েছো নিজ-কাজে।


শোক, তাপ, ধিক্কার সবই ছিলো জীবনে

তবুও লক্ষ্য ছিলো অসাধ্যসাধনে।


তোমার পায়ের যাদু সর্বজন বিদিত

ব্যাখ্যা হয় না তার, সবাই বিস্মিত।


শিল্পীর মৃত্যু নেই, তুমি মৃত্যুঞ্জয়

সবার হৃদয়ে অমর রবে তুমি নিশ্চয়।


বিদায় বন্ধু, সখা, এই হিংস্র পৃথিবী হতে

সগর্বে ফিরো আবার এই ফুটবল দুনিয়াতে।

কবিতা || স্বরলিপি || মহীতোষ গায়েন

 স্বরলিপি



কবিতা লিখেছি মৃত্যু লিখেছি কত

আশা ভালোবাসা মরেছে অবিরত,

এবার লিখবো হাজার তারার গান

সুসময়ে ফেরে নবান্নের কলতান।


লিখেছি অনেক সব হারানো ব‍্যথা

করিনি কখনো অন‍্যায়ে নত মাথা,

এবার লিখবো মানুষদের কথামুখ

অবিরত যাদের কষ্টে ফেটেছে বুক।


এবার লিখবো প্রেমহীন ভালোবাসা

যেখানে শুধু চাওয়া পাওয়াটাই বড়,

কেটেকুটে সব লিখবো জীবননাট‍্য

স্বপ্নপূরনের সেই স্বরলিপি হবে পাঠ‍্য।

কবিতা || মদ || তৈমুর খান

 মদ



 প্রথম ভালোলাগাটিই ছিল

 প্রথম মদ খাওয়ার মতো;

 মেয়েটি রঙিন কাচের গ্লাস

 তার যৌবন তরল স্বচ্ছ মদ।


 আমি অর্ধ-উন্মাদের মতো গ্লাসের পর গ্লাস

 নিঃশেষ করে দিই…

 হঠাৎ গ্লাসটি ভেঙে গেল বলে

 আমি এখন সম্পূর্ণ উন্মাদ!

১৯ তম সংখ্যার সম্পাদকীয়




 সম্পাদকীয়:


শীতের চাদরে ইলশেগুড়ি। মেখে নেওয়া প্রাণের উদারতা ও করুণা দায়ক বাতাস মাঝে মাঝে স্মরণ করাই তোর মধ্যে একটা কবিত্ব বোধ আছে। সুদূর হিমালয় পর্যন্ত পাড়ি দেওয়ার দরকার নেই। রাজ্য থেকে নিজ জেলা সবই প্রত্যাবর্তন এর আভাস। সবই লেখার খোরাক সাধ স্বাদ দুটোই আছে এই মায়াময় পরিবেশে। চারিদিকে ঘেরাটোপ থেকে মুক্ত হতে শিখুন। বাঁচুন প্রাণ খুলে। এ জীবন সীমিত সময়ের জন্য। এই সময়ে এক মুঠো শান্তি দেয় সাহিত্যচর্চার প্রত্যাশা। তাই পড়তে থাকুন। লিখতে থাকুন। আমরা আপনার পাশে আছি আমাদের World sahitya adda ব্লগ ম্যাগাজিন নিয়ে। এটি শুধু ম্যাগাজিন নয় এটা সেই শান্তির বার্তা। তাই আমাদের পত্রিকা পড়ুন। আদরের সহিত নতুনভাবে পাঠক মনকে সৃজনশীল করুন।



                                 ধন্যবাদান্তে

               World sahitya adda সম্পাদকীয়


________________________________________________


##Advertisement (বিজ্ঞাপন)--


১)


___________________________________________________


২)



বইটি সরাসরি পেতে-- 6291121319

___________________________________________________


৩)


##উত্তরপাড়া,সিঙ্গুর এবং কোলকাতার বেহালায় এছাড়াও যে কোনো প্রান্ত থেকেই যেকোনো ক্লাসই অনলাইনে করতে পারবেন। 


এছাড়া কেউ যদি সরাসরি অফলাইন এ ভর্তি হতে চান যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-- 9330924937

__________________________________________________


৪)



__________________________________________________


৫)



##বইটি পাবেন- National Book house, Soma Book Store, Amor pustakaloy, Tarama Book Store , The Elegant publications(16B Sitaram Ghosh Street, kol 9.), 63no Saha book stall. এবং Amazon and Flipkart -এ।


##বইটি সরাসরি পেতে-- 9831533582 / 9433925262 দেবে।

________________________________________________


৬)


##ছাপানো জীবনী গ্রন্থের জন্য-লেখকের জীবনী সংগ্রহ করা হচ্ছে।


" লেখকদের আত্মজীবনী" গ্রন্থ তৃতীয় খন্ডের জন্য, লেখকদের কাছে থেকে জীবনী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আপনার মূল্যবান জীবনী 300 শব্দের মধ্যে লিখে পাঠিয়ে দেন। বইটি ছাপানো অক্ষরে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু কোন সৌজন্য কপি দিতে পারবে না।

বইটির সাথে সম্মানিক হিসাবে দেওয়া হবে।


1/ সাম্মানিক সার্টিফিকেট।* (বাঙালি লেখক সংসদের পক্ষ থেকে।)

2/ "লেখক পরিচয়পত্র কার্ড"। লেখকের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত পরিচয় বহন করবে। (বাঙালি লেখক সংসদের পক্ষ থেকে।)


3/ সম্মানিত পদক (মেডেল)* {বাঙালি লেখক সংসদের পক্ষ থেকে।}


বইটির বুকিং মূল্য 300 টাকা দিয়ে কিনে, বাঙালি লেখক সংসদ কে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করতে হবে। ডেলিভারি সার্ভিস চার্জ আলাদাভাবে দিতে হবে না।

গ্রন্থের কভার পৃষ্ঠায় আপনার ছবি দিতে আগ্রহী হলে, যোগাযোগ করুন।

টাকা পাঠানোর একাউন্ট

শংকর হালদার

(1) ফোন পে 8926200021

(2) পেটিএম 8926200021

( 3) ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে। 


স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ( S.B.I.)

SANKAR HALDER

Account No : 34681068289

IFSC :SBIN 0015960


টাকা পাঠানোর পর রশিদের স্ক্রিনশট কপি করুন এবং জীবনী লেখা পাঠিয়ে দেবেন।

হোয়াইট অ্যাপস নম্বরে :-

 8926200021


যে কোন বিষয়ে যোগাযোগ :- শংকর হালদার শৈলবালা।  

মোবাইল :- 8926200021

বাঙালি লেখক সংসদ, দত্তপুলিয়া, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

______________________________________________


**বি.দ্র- বিজ্ঞাপন এর সব দায়িত্ব বিজ্ঞাপন দাতার।

Saturday, December 4, 2021

১৯ তম সংখ্যার সূচিপত্র (৩০ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র:





বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, মহীতোষ গায়েন, নীতা কবি মুখার্জী, সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক, সুমিত্রা পাল, মিঠুন রায়, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ সরকার, চাঁদ রায়, উদয়ন চক্রবর্তী, আশীষ কুন্ডু, সৈয়দ শীষমহাম্মদ, শেখ নজরুল, ফরমান সেখ, মিলি দাস, হরিহর বৈদ্য, নবকুমার।



বাংলা গল্প---

দীপক কুমার মাইতি, আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস, সিদ্ধার্থ সিংহ, অমিত পাল, উম্মেসা খাতুন, রানা জামান।



বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---

সত্যেন্দ্রনাথ পাইন,
অরবিন্দ সরকার।



ইংরেজি কবিতা--

Namita Basu, Pavel Rahman, Sunanda Mandal.



Photography---


Moushumi chandra, 
Sohini Shabnam.

Monday, November 29, 2021

Photography by Sohini Sabnam

 


Photography by Moushumi chandra

 


লেখক শ্যামল চক্রবর্ত্তী -এর একটি গদ্য

 দুষ্টু শংকর 

                       

        ‌‌             

শংকর শিয়ালদা স্টেশন থেকে প্রতিদিন ডানকুনি যাতায়াত করে। কয়েকজন ডেলি প্যাসেনজার। কাজের সূত্রে প্রতিদিন সকাল আটটা পাঁচ এর গাড়িতে যায়। লোকাল ট্রেন। সঙ্গে ওর অনেকগুলো বন্ধু বান্ধব। ট্রেনে প্রতিদিন যাকাতের পরিচিত বন্ধু বা গ্রুপ থাকে। একদিনের মজার ঘটনা।

একদিন দুপুর বেলা চারটে পাছে ডানকুনি লোকাল এর গ্রুপ ফিরছিল।

শংকর: অজয় আজ একটা মজার ঘটন ।


অজয়: কি ঘটনা রে?

শংকর: আমি আজকে প্রচুর পরিশ্রম করেছি। তুই তো জানিস আমি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করি। আজ প্রচুর চিঠিপত্র ছিল বস্তা বস্তা চিঠি সরাতে হয়েছে। হাতটা ব্যথা কালরাত্রি ঠিক করে ঘুম হয়নি। আজ প্রচুর ক্লান্ত আর খুব ঘুম আসছে।

অজয় :তাহলে ঘুমাও, এটার কেমন কথা। এইটা আবার মজার ঘটনা নাকি?

শংকর: আরে না না আমি একটা ঘটনার, ঘটতে চলেছে দেখ না।

ওইযে ওইযে ওইযে দেখতে পাচ্ছিস যে ভদ্রলোক পাশে বসে আছে। আস্তে আস্তে!বলেছি আমি দক্ষিণেশ্বর চিনিনা দক্ষিণেশ্বর এলে আমাকে বলে দেবেন ,আমি নামবো।

ভদ্রলোক বললো হ্যাঁ দাদা দক্ষিণেশ্বরে এলে আমি বলে দেবো আপনি নেমে যাবেন।

অজয়: তুই মহা বজ্জাত তুই থাকিস ডানকুনিতে ও তোকে চেনে না ,তুই ওকে মিথ্যা কথা বললি।

আরে না না মা বলেছে প্রতিদিন তুই যখন দক্ষিণেশ্বরের পাশ দিয়ে আসবি মাকে প্রণাম করবি তোর ভালো হবে। তুই বল আমার কি অপরাধ। তুইতো বরণ করে নেবে যাবি। আমি যদি ঘুমিয়ে পরি। তাহলে আমাকে তো আর প্রণাম করা হবে না।

শংকর :ওই ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কোথায় থাকেন উনি বললো আমি' জনাই' থাকি।


ইতিমধ্যে অজয় শংকর সমীর দিব্যেন্দু চারজন ছিল। দিব্যেন্দু ,সমীর ,অজয় যথাক্রমে উল্টোডাঙ্গা দমদম বড়নগর স্টেশনে নেমে গেলো।

এরইমধ্যে শংকর নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে।

এইবার বরনগর ছাড়ার পর যখন দক্ষিণেশ্বরে ট্রেন ঢুকছে,


জনাইয়ের ভদ্রলোক: ও দাদা ও দাদা আরে এত ঘুমালে হবে না। আরে আপনার স্টেশনে এসে গেল। আপনি তো নামবেন?

শংকর: (ধড়ফড়িয়ে ঘুম ভাঙলো) কি বলছেন কী বলছেন দাদা? ও দক্ষিণেশ্বর এসেছে?

জামাইয়ের ভদ্রলোক: আরে আপনার স্টেশন চলে গেলে পারবেন না।

শংকর: দাদা ঠিকই বলেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ। 

জনাইয়ের ভদ্রলোক: কি হলো না বলেন না? কি হলো উঠে দাঁড়িয়ে আপনি মন্দিরে প্রণাম করছেন এতবার।

শংকর: অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। কিছু মনে করবেন না ,আপনাকে মজা করেছিলাম। আসলে আমি আজ খুব ক্লান্ত কাল আমার ঠিক ঘুম হয়নি। আমি প্রতিদিন দুপুরবেলা যখন যাই মায়ের মন্দিরে প্রণাম করি। এইটা আমার জন্মদাত্রী মায়ের আদেশ। উনি আমায় বলে গেছেন যখনই তুই মায়ের দক্ষিণেশ্বর মায়ের মন্দিরের পাশ দিয়ে যাবি, প্রণাম করতে ভুলবি না।

আমি যদি ঘুমিয়ে পরি। তাহলে তোমাকে প্রণাম করা হবে না। ওই জন্য আপনাকে একটি মিথ্যা কথা বলেছিলাম দক্ষিণেশ্বর নামবো। এই প্রণাম করার জন্যই আপনাকে বলেছিলাম। আবার আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

জনাইয়ের ভদ্রলোক: দুনিয়ায় এমন লোক আপনার মতন দেখি নি মশাই। অসভ্য। খাবার আপনি হি হি করে হাসছে। ছি ছি এইটা আবার কেউ মজা করে।

শংকর: দাদা আমাকে মনে রাখবেন আমার নাম শংকর। অর্থাৎ আপনি ভোলেবাবা কি সাহায্য করলেন। আর আমাকে বিরক্ত করবেন না। ধন্যবাদ।


লেখক সুজিত চট্টোপাধ্যায় -এর একটি গদ্য

 দর্পনে আত্মারাম 




অন্তেষ্টিক্রিয়া শেষ করে ফিরেই , দাঁতে নিমপাতা কাটো, আগুনের তাপ নাও , লোহা স্পর্শ করে বিশুদ্ধ হও। জানা ই তো আছে নিশ্চিত , অতৃপ্ত আত্মা ঘুরঘুর করছে এখনো , এখানেই আসপাসে।

এইতো ছিল আপনজনের দেহ। ভালবাসার আকুল প্রত্যাশায় মোড়া। তাহলে ! 

সেই দেহস্থ আত্মা অতৃপ্ত , বোঝা গেল কীভাবে ? 

এইতো কথার মতো কথা । 

আরে বাবা,, নিজের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি চলেনা। নিজের লোক। রক্তের সম্পর্ক। কোথায় ছিলে বাপধন ? কাজ গুছিয়ে সরে পরেছো। এখন রেড সিগনাল দপদপ করছে। অনুশোচনা,,,,? 

 পাপী শরীর । জ্ঞানপাপী মন। 

কর্তব্যনিষ্ঠার পাঠ মুখস্থ , কন্ঠস্থ, মগজস্থ। শুধু পালনের অনিহা। 

জীবিত কে ভয় নেই । সে বাৎসল্য বোধে ম্রিয়মাণ । কিন্তু , মৃত ভয়ানক । জীবিতের লৌকিক । মৃতের অলৌকিক । 


ক্ষমতা বড়ো লোভনীয়। শুধু নিজের জন্যে। অন্যের ক্ষমতা ঈর্ষনীয়। কর্তব্যপালন -ধর্ম , নিজের প্রতি । অন্যের প্রতি বর্জনীয়। অন্ধকার মনে সাপের বাসা। 

দেহ পুড়লেই স্মৃতি বিলুপ্ত নয় । দেনা পাওনার হিসেব , চুটকি মেরে নিকেশ হয়ে যায়না ।

 অশৌচ দেহ , অশৌচ মন। 

ভেক ধরো, সাজো। নিখুঁত অভিনয়ে প্রমাণ করো তোমার কর্তব্যপরায়ণতা।

 মালসায় হবিস্যি রাঁধো। মুখ ব্যাজার করে ঘি মাখিয়ে আলো চাল সেদ্ধ ঢোঁক গিলে নাও। মাত্র তো ক'টা দিন। খোঁচা খোঁচা চুল দাড়ি, হাঁটু পযন্ত ট্যাঁং টাঁং করা জ্যালজেলে ধুতি, উত্তরীয়র, গলায় ঝুলোনো লোহার চাবি। বগলে কুশাসন। লোকাচার শেষ । তারপর,,, 

তন্ত্রধারকের দুর্বোধ্য দেবপুঁথি উচ্চারণ কে আরও দুর্বোধ্য ক'রে হয়ে যাও শুচি শুদ্ধ। 

বিগ সাইজ পারশে মাছ সহযোগে সবান্ধবে সেরে ফ্যালো অন্তিম কর্ম।

আহা,, উনি পারসে বড্ড ভালবাসতেন । 

 ব্যাস। নিশ্চিন্দি। আর ভয় নেই। ভাবনা নেই। ঝাড়া হাত পা। আত্মা তৃপ্ত । পরমাত্মার জয়জয়কার কেত্তন। বুক ফুলে ছাপ্পান্ন ইঞ্চি । 


কোথাও কী কোনও ফাঁক রয়ে গেল ? দ্যাখনদার লোকাচার কেরামতিতে ? 

মন মোমবাতি বাতাসে দুলছে। সারারাত বিনিদ্র এপাশ ওপাশ । 

অর্ধাঙ্গিনীর শাস্ত্রসম্মত সাবধানী মাঝরাতের উপদেশ,,,, 

অতো খুঁতখুঁত ক`রো না তো। বাৎসরিক কাজে পুষিয়ে দেওয়া যাবে খন। গয়া কিংবা হরিদ্বার। একটু বেড়ানোও হয়ে যাবে সেই ফাঁকে । এখন ঘুমোও দেখি । যথেষ্ট করেছো , আবার কী,,,, 


মৃত বড়ো ভয়ংকর। জীবিত নিরীহ । বাৎসল্য বোধে টইটম্বুর । 

কোথায় যেন মন্দ বাতাস বইছে । কে যেন কু গাইছে। একটা খিকখিক তাচ্ছিল্য হাসির শব্দ । ফিসফিস করে , কানের পাশে পরিচিত কন্ঠ,,,, শ্রদ্ধাহীন শ্রাদ্ধ,,, হায়রে গর্ভজাত আদরের সন্তান আমার,,, হায়,,,

কে ! কে?,,, ও,, তু,,,মি,, বিশুদ্ধ আত্মা !

লেখক অরবিন্দ সরকার -এর একটি রম্য রচনা

        রানীর দেশে

           


ইংরেজদের রানীর মত এক দেশের ,এক রাজ্যের রানী আছে। এখানে রানী সর্বময় কর্ত্রী।লণ্ডনের মত এখানেও রাস্তা জুড়ে লণ্ঠন জ্বলে। ওখানে টেমস্ নদী আর এখানে পর্বতের নদী। রানীমা ইচ্ছে বা মনে করলেই এখানকার আবহাওয়া লণ্ডনের মত হয়ে যাবে। তাঁর ইচ্ছা স্বর্গরাজ্য দখল।

মন্ত্রী পারিষদ জো হুকুম আজ্ঞাবহ রাজকর্মচারী।সব দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তার প্রেরণার কথা উল্লেখ করেন।না করলেই তার ইস্তফা দফারফা মন্ত্রীত্বে। রাজ্যময় তার ছবিশ্রী।ছবি যেন ভালো হয় দেখতে নইলে ঐ দপ্তরের আধিকারীকদের দূরে বদলি। সংসারের মায়া ত্যাগ করে সুদূরে তার প্রাণান্তকর অবস্থা।

সরকারী পায়খানা তৈরীতে রানীমার প্রেরনা।ফিতে কেটে পায়খানার মধ্যে মন্ত্রীর বক্তব্য রানীর প্রেরনায় পায়খানা করলাম।

গণবিবাহ অনুষ্ঠান তাঁর প্রেরনায়। সিঁদুর দান,বাসরসজ্জা এগুলোও। সন্তানের দায় দায়িত্ব তাঁর প্রেরনায়।

প্রেমে উৎসাহিত করা তাঁর প্রেরনা। নিত্যপ্রয়োজনীয় মদের দাম কমানো তারই প্রেরনা। কলকারখানা ধ্বংস ও বন্ধে তার প্রেরনা।

এরোপ্লেনে প্ল্যান পরিকল্পনা , অথবা পর্বতের মাথায় শৈলনিবাসে।

দুমদাম আদর সোহাগ যাকে তাকে! রন্ধন শিল্পে পারদর্শিনী। মসজিদে নামাজ, মন্দিরে পূজো,গীর্জায় বড়দিন ছটপূজোয় দণ্ডিকাটা পালনে জয়গান। ভুলভাল মন্ত্রে পূজো, নাটুকেপনার মধ্য দিয়ে বোরখা পড়ে আচার বিধি অনুকরন।

মেলা খেলা পূজোয় মোচ্ছবে ভর্তুকি, বামের দেনা ডানে বহে কতো তার কারচুপি।

পড়াশোনায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি।পরে নির্দ্বিধায় ডক্টরেট ডিগ্রি ত্যাগ, রাজ্যের উন্নয়নের জন্য। শিলান্যাস দেখে মনে হয় যেন শিলাবৃষ্টি হয়েছে। যত্রতত্র শিবলিঙ্গের মতো বসানো।

বহু আত্মত্যাগ করে আজ তিনি চির কুমারী রানী।

রাজা বাদশাহের প্রচুর রানী থাকে।আর রানী হলে তো রাজা থাকবেই! রাজা আছে কি নাই সেটা একমাত্র ভজাই জানে। তবে সন্তানের ব্যবস্থা হয়ে গেছে তার প্রেরনায়।তার আজ্ঞাবহ পুলিশ প্রশাসন।আইন তার তালুর মধ্যে,তাই আইন নিজেই তৈরি করেন।পরের আইন থোরাই কেয়ার।খোদা বা ঈশ্বর পর্যন্ত তাকে ভয়ে ডরাই।

খেলা হবে-- এই খেলতে গিয়েই মিছেমিছি পায়ে লাগা, পরক্ষণেই পা ভেঙে চুরমার।প্লাস্টার নিয়েই গোটা রাজ্যে খেলা খেললেন। যেমন রেফারি বললেন গো-- ল! অমনি সঙ্গে সঙ্গে পা জোড়া লেগে গেলো। কিছু ঠেলাগাড়ির লোকের কর্মসংস্থান শিকেয় উঠলো।

বিধবাদের ভাতা, কুমার কুমারীদের প্রেমভাতা,সধবাদের হাতখরচ ভাতা। বেকারদের কাজ ভুলিয়ে মদভাতা।অর্থবল থাকলে তবেই চাকুরীর সুযোগ , টাকার পঁচাত্তর পঁচিশ ভাগ কাটমানিভাতা।

সবাই যদি চাকুরী করে তাহলে রাজ্যের উন্নয়নে মজুর কোথায় পাওয়া যাবে। গরীবদের সরকারি চাকুরী করতে নেই! বেসরকারি কাজও তো কাজ।রাখাল,মজুর,দাস দাসী তো লাগবে তাই এই ব্যবস্থা।আর মন্ত্রীরা চিরদিন থাকবে রানীর দলের দলদাস। 

ঠিক কিনা? -- ঠিক ঠিক ঠিক!

প্রাবন্ধিক সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি প্রবন্ধ

 মৃত্যু আসলে দৃশ্যমান পটপরিবর্তন



 

মৃত্যু কোনো বেদনা নয়, পরিপূর্ণ বিশ্রাম। কর্মক্ষম মানুষ অদ্ভুতভাবে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে অবধি নির্ঝঞ্ঝাট কর্মজীবন করতে ভালোবাসে। ইন্দ্রিয় সুখ, ভোগ- লালসা সবই হয় লীলায়িত মধুর।

     শৈশব, কৌমার, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব,বার্দ্ধক্য এবং জরা সবই হোলো জীবনের ঐ ক্রমবিকাশের বিবর্তন। মৃত্যু তো আর একধাপ উন্নত পর্ব মাত্র।

    ক্রমোন্নতির পথে এক শরীর অন্য শরীরের খোঁজে প্রস্তুতি নিতে গিয়েই আনে " মৃত্যু" নামক অহংকারহীন বিশ্রাম। তাই হয় দেহান্তর।

     অর্থাৎ দেহের কর্মক্ষমতা কমলেই দেহধারী জীব অন্য দেহের সন্ধান করে। যেমন কোনও কিছু জড় বস্তুও যখন আর সক্রিয় বা সচল থাকে না আমরা তাকে বদল করি নির্দ্ধিধায়। এ- ও সেই রকমই দেহের বদল দেহ নিজেই করে। আমরা যার নাম দিয়েছি-- মৃত্যু।

      তাই না! আমাদের ' শরীরের' বৃদ্ধি যখন ক্রমশঃ হতে থাকে আমরা মানুষরা কত আনন্দ পাই; বুদ্ধির বিকাশেও আমরা নত না হয়ে উন্নত বুঝি- তেমনি হাঁটি হাঁটি পা পা করে ইন্দ্রিয় সকল বিশ্রাম পেতেই দেহান্তরে যেতে চায়। এটাই তো আমাদের মৃত্যু ভয়।

   কারণ, এই মুহূর্তে যাকে জীবন্ত দেখলাম, কথা বললাম, স্পর্শ সুখ অনুভব করলাম সেই উচ্ছ্বাস আর পাচ্ছিনা বা চিরতরে হারিয়ে গেল। অতএব, জাগতিক দুঃখ, মায়া আমাদেরকে নাস্তানাবুদ করতে শুরু করলো। কারোর মৃত্যু মানে শেষ বা সমাপ্তি নয়--+! নির্ঝঞ্ঝাট পরিবর্তন।

আমরা পৌত্তলিকতায় বিশ্বাসী। ভেবে দেখলে দেখা যাবে মূর্তি আরাধনা শেষে যখন তাকে( প্রতিমা) নিরঞ্জন করি তখন কি আমাদের সমপরিমাণ দুঃখ হয়!? বরং চিৎকার করে বলিনা-- " আবার হবে আসছে বছর"? কোনও দুঃখ না করেই প্রতি মাকে বিসর্জিত করি বরং। এ- ও তো সেই প্রতিমা। মৃত্যু তাকে মুক্তি দিল। অতএব সুষ্ঠুভাবে সদাচারে তাকে বর্জন করাই শ্রেয় নয় কি!?

   " ধী' ব্যক্তি মানে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা হাসি কান্না বর্জন করে নতুন পর্বে প্রবেশের নতুন সংগা খোঁজেন। কোনও ঋতু যেমন চিরস্থায়ী নয়--- পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী তেমনই জীবনের ক্রমবিকাশে মৃত্য ও হোলো এখানে চরমতম বিবর্তন। কৌমার, যৌবন ফেলে প্রৌঢ়ত্ব ও বার্দ্ধক্য শেষে দেহান্তরে যাবার এক শ্রেষ্ঠতম পর্ব। তাই মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে, দুঃখ না করে যে বা যাঁরা বুঝতে চেষ্টা করেন তার বা তাঁদের দুঃখ ও কম।

     অবশ্য অকালমৃত্যু বা দুর্ঘটনায় মৃত্যুটা ঐ অসাবধানে হাত থেকে পড়ে কাঁচের কোনো শৌখিন বস্তুর ভেঙে যাবার মতই। যদিও কাঁচের বস্তুটি আবার সংগ্রহ করা যায় কিন্ত্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা অকালে ঝরে যাওয়া মানুষ কে আর ফিরে পাবনা ভেবে মায়া বদ্ধ মানুষ কেঁদে ভাসায়। । যার অন্তিম ফল-- শূন্য। প্রশ্ন সংশয়াতীত নয়-- তবুও--!! শোক পরিহর্তব্য।।

       শিশুর জন্মলগ্ন থেকেই শিশুটির জীবন পরিধি ক্রমশঃ ক্ষয় হতে থাকে। যেমন একটা প্রভাত শেষে একটা নতুন দিন ; কিন্তু কেউ কি ভাবি ঘড়ির কাঁটারয মতোই সে পলে পলে সেকেন্ডে সেকেন্ডে শেষ হয়ে যাচ্ছে ক্রমশঃ। আর একটা নতুন প্রভাত আসবে তাই।

-- জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে এই তত্ত্ব টাও খেয়াল করলে বোঝা যাবে মৃত্যু ভয়ংকর নয়। মৃত্যু জীবনের যবনিকায় শেষ পর্ব মাত্র।

  মৃত্যু আসলে--

    শরৎকালীন শিশিরের মতোই

দৃশ্যমান পটপরিবর্তন....... 

লেখিকা উম্মেসা খাতুন -এর একটি গল্প

 মৌনালির মনে দুঃখ


                     


স্বর্গীয়া ননীবালা দেবী অমিতের মা। তিনি কাঙালদের খুব ভালোবাসতেন। নিজে না খেয়ে কাঙালদের খাওয়াতেন।

তাঁর আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে অমিত তাই একটা কাঙালি ভোজের আয়োজন করেছে। প্রায় শ' খানেক কাঙাল ভোজ খেতে এসেছে। তাদের সাথে তাদের ছোট ছোট বাচ্চারাও এসেছে।

অমিত নিজ হাতে তাদের খাওয়াচ্ছে। আর মৌনালি গেটের কাছে একটা টুলে বসে রেজগি পয়সা বিতরণ করছে।

হ‍্যাঁ, খাওয়াতে খাওয়াতে অমিত একটা বাচ্চার খাওয়া দেখে আশ্চর্য হল। বাচ্চাটার গায়ে কোন কাপড় নেই। পরনে শুধু ছেঁড়া একটা হাফ প‍্যান্ট রয়েছে।

বাচ্চাটা কী সুন্দর করে খাচ্ছে! কেউ তাকে খাইয়ে দিচ্ছে না। বা খাওয়ার জন্য কেউ সাধাসাধি করছে না। আপন ইচ্ছায় সে নিজ হাতে কত সুন্দর করে খাচ্ছে, ঝাল তরকারি দিয়ে ভাত মেখে----

অথচ এই বাচ্চাটার মতন অমিতের নিজের একটা বাচ্চা রয়েছে। সে এখন ঘুমাচ্ছে।

ফ্রিজে তার জন্য কত রকমের খাবার রাখা রয়েছে। তার যখন যেটা ইচ্ছা করবে সেটা সে খাবে বলে। কিন্তু সে সব সে কিছুই খায় না। ভাত তরকারি তো মুখেই করে না। যদিওবা করে ওই দু-একবার। তারপর খুব ঝাল বলে অমনি জল চায়। পরে আর একবারও মুখে করে না। ওকে কি আর খাবার খাওয়া বলে? তাও আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইল, খেলনা, পাখি ও আরও কত রকমের কত জিনিস দেখানোর পর। না হলে যে সেটুকুও খাবে না।

খাবার খায় না বলে ডাক্তার দেখানোও কামাই নেই। এই তো সেদিনই পাঁচশো টাকা ভিজিটের একটা ডাক্তার দেখিয়ে আনল। ডাক্তার দেড় হাজার টাকার ওষুধ দিয়েছে। সব ওষুধ খাওয়াচ্ছে তবু কোন কাজ হচ্ছে না, ভালো করে খাবার খাচ্ছে না। আর এই বাচ্চাটা?

রাত্রে অমিত মৌনালিকে কথাটা যেই বলে অমনি তার কান্না চলে আসে। ঠাকুর তাদের বাচ্চাটাকে যদি ভালো করে খাবার খাওয়া ধরাত!

হায়! মৌনালির মনে কী দুঃখ!