Thursday, December 16, 2021
Merit cum Means Scholarship 2022 || Swami Vivekananda scholarship Form fill up || বিকাশ ভবন স্কলারশিপ 2022
Wednesday, December 15, 2021
কল্যানী AIIMS এ গ্রুপ- c পদে নিয়োগ || Kalyani AIIMS Recruitment 2022 group-c post
Tuesday, December 14, 2021
রাজ্যে নতুন আশা কর্মী নিয়োগ || কয়েক হাজার নতুন আশা কর্মী নিয়োগ || asha karmi recruitment 2022
##রাজ্যের মহিলাদের জন্য একটা বড় সুখবর রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায় আশা কর্মী নিয়োগ হতে চলেছে প্রায় 13 হাজার, মুখ্যমন্ত্রীর নিজে ঘোষণা করেছেন বর্তমানে দুটি ব্লকে আশা কর্মী নিয়োগ হতে চলেছে যার বিবরণ নিচে দেয়া হল।
মোট শূন্যপদ--- ১২ টি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা--- মাধ্যমিক ও সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন। আবার উচ্চতর যোগ্যতার
ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারবেন তবে মাধ্যমিকের
প্রাপ্ত নম্বর দেখে বিবেচনা করা হবে।
বয়স--- বয়স 30 থেকে 40 বছরের মধ্যে হতে হবে
সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়ম অনুসারে ছাড় পাবেন।
01/01/ 2021 তারিখ হিসেবে বয়স গুনতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি--- অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ
করে সঙ্গে সমস্ত ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে BDO অফিসে
জমা করতে হবে আবার ডাকযোগে পাঠাতে পারেন।
কি কি ডকুমেন্ট লাগবে---
1) শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ পত্র।
2) স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র রেশন কার্ড ভোটার কার্ড।
3) বয়সের প্রমাণপত্র (জন্ম সার্টিফিকেট কিংবা মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড)।
4) বিধবাদের ক্ষেত্রে স্বামীর ডেট সার্টিফিকেট।
5) বিবাহিতদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট।
6) ডিভোর্স সার্টিফিকেট কাস্ট সার্টিফিকেট।
8) দুটি পাসপোর্ট ছবি।
আবেদনের শেষ তারিখ--- 24/12/2021 বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নিয়োগের স্থান--- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা-১ ব্লক
(মোট শূন্যপদ ৬টি) ও সুতাহাটা ব্লক (মোট শূন্যপদ ৬টি)
এলাকায় নিয়োগ হবে । প্রার্থী যে গ্রামে আশা কর্মী পদে
নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন তাকে অবশ্যই
সেখানকার বাসিন্দা হতে হবে।
**এগরা-১ ব্লক এর ফর্ম ডাউনলোড করুন এই লিংক টি ক্লিক করুন--
https://drive.google.com/file/d/1vVCsca6SKvIHuOWn_xDtHHZW_q4iEb7O/view?usp=drivesdk
**সুতাহাটা ব্লক এর ফর্ম ডাউনলোড করুন এই লিংক টি ক্লিক করুন-
https://drive.google.com/file/d/1vZpeBc3kQDiBuuvdGJViqCNj8PnA4CI6/view?usp=drivesdk
Sunday, December 12, 2021
Poem || You Are With You || Pavel Rahman
You Are With You
You are not alone, you are with you
So, why are you crying that makes you weak?
You are not weak
If you think, “ I am not weak!”
You are yours best friend in the world.
“ From now, I won’t cry
My best friend is I”
By thinking this, makes you a strong man.
Poem || Namita Basu || Balance queen
Balance queen
No end with the every begin,
It goes on round over in,
Stone or water what ever is creating,
It interact as a balance queen.
So on on on is echoing with the Nature green,
I am balance queen, I am the balance queen,
I am the balance queen.
গদ্য || মালের কথোপকথন || অরবিন্দ সরকার
মালের কথোপকথন
হ্যাঁরে পচা মালের দাম যেভাবে বাড়ছে, বেঁচে থাকাটা দায়। গ্রামের মণ্ডপে পচা ও ভজা কথা বলছে বাঁশের মাচায় ব'সে। পচা বলেই চলেছে কোথায় আর যায় বল্ ভজা ? সর্বত্রই সমানে দাম বেড়েই চলেছে।
ভজা- কে বলেছে যে মালের দাম বেড়েছে? আমি আজকেই সস্তায় মাল নিয়ে এলাম।যে মালের দাম বেড়েছিল নাগালই পেতাম না।এখন ধরাছোঁয়ার মধ্যে রয়েছে। অনেক দাম কমে গেছে।এখন চুল্লুর সমান বিলেতির দাম।মালের দাম কোথায় বেড়েছে ?
পচা-- ও মালের কথা বলিনি আমি। বলেছি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের কথা!
ভজা - মদ কি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়? সবার দরকার , সবাই খায়! না খেলে কি জীবন যন্ত্রনা ভোলা যায়।
পচা -- সে খায় ঠিকই আমরা।ওতে তো পেট ভরে না, শুধু মনটা ভরে। এটা নেশার জিনিস।
ভজা - ভাত খাওয়াও তো নেশা? ও খেলেই ঘুম আসে।তার উপর যদি পচিয়ে ভাত রাখি তো পচাই মাল তৈরি হয়।
পচা - তুই বুঝতে পারছিস না।বাড়ীর মাল মানে মালকিন,এ মাল খেয়ে গেলে জীবনটাকে পয়মাল করে ছাড়বে! বলবে ভাত দেবার মুরোদ নাই এই আমার ভাতার! সারাদিন মাল গিলে আসবে আর আমার দিকে নজর নাই? পরনের কাপড়টা যে ছিঁড়ে গেছে তার ব্যবস্থা নাই? তাই ওসবে না গিয়ে অন্য কথা বল্ ।
ভজা - তুই বলছিলি মালের দাম বেড়েছে? লরিতে পরিবহনে যেসব মালামাল আসে সেগুলোর কথা বলছিলিস তো তুই? আরে আলু বেগুন পটল মূলো শাক সব্জি সবকিছুই মাল। তেমনি মদটাও মাল। বরং যত্ন সহকারে পরিবহনে এ মাল আসে।
সিনেমাওয়ালা সব মালেরা এ মাল খায়। আর শুধু শুধু আমরা যখন খায় তখন চুল্লু বলে।আর ওরা খেলে সেটা মাল হ'য়ে যায়!
পচা - মাল না খেয়েও ঐ পাড়ার নাম মালপাড়া ? মাল জাতির বাস তাই। পুলিশ এসে ঐ মালপাড়ায় আগে তল্লাশি করে মালের খোঁজে।মাল না পেয়ে সুমত্ত মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলে এই মালটা তো বেশ বটে? তাই মাল পরিবহনে ,জাতিতে, সন্তান সন্ততিতে নাম নিয়ে বেঁচে আছে।
ভজা- চোর চুরি করে আর পুলিশ বলে বামাল সমেত ধরা পড়েছে।ওখানেও বা--মাল!
আবার চৌকিদার হেঁকে হেঁকে বলে সামাল সবে সামাল। মাল সামলাতেও আছে সা-- মাল। আবার খেলার মাঠে ভকাভগ গোল দিয়েছে সে আবার কামাল কামাল রবে বেসামাল।
হায়রে মাল! সর্বত্র বিরাজমান তুমি!
পচা- সে ঠিকই। তোর মনে আছে যখন হামাগুড়ি ছেড়ে তুই বড় হ'লি তখন সবাই বলছে যে দামাল ছেলে! এই দামাল ছেলে নিয়েই তো সব দলে দলে লড়াই।সব দলেই মাল থাকে। আমরা মাল খায় আর ওরা মালশা খায়।
ভজা - হুম এবার মালুম পেলাম।মাতাল বলে বেসামাল নই আমি।কারো পায়ে তেল মালিশ করি না? পরের মালে আমার লোভ নেই। তবে জানি বিষমদ খেয়ে ম'লে বেমালুম লাখ টাকা ঘরে ঢুকবে ! ঘরের মাল রক্ষা করা উচিত এটা ট্যারামালেও বোঝে। নামালে বোঝা শরীর হালকা হয়। তাই বাড়ি গিয়ে মাল চুকিয়ে সন্ন্যাস নেবো।খামালু আর রাখবো না। তুই ও তো পচা মাল!চল্ রুমাল ঝেড়ে ধূলো ময়লা ফেলে নিজ নিজ ঘরে ফিরি।
গদ্য || অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন
অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো
দীপাবলি, দীপান্বিতা, শ্যামাপূজা, সিদ্ধেশ্বরী পূজা, যাই হোক না কেন আসলে আলোর উৎসব। মনের কালীমা ঘুচিয়ে আলোর সন্ধান করা। আলো আলো দাও আরও আলো।
পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে দীপ জ্বালিয়ে যেমন তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয় তেমন এই আলোর উৎসবে প্রার্থনা করা হয় শক্তির কামনা। শক্তি মানে দুর্বলের ওপর অত্যাচার নয়, দুর্বলকে অশুভ হাতছানি থেকে মুক্ত করার জন্য শক্তির আরাধনা।
আমরা প্রত্যেকেই মা শক্তির কাছে প্রার্থনা করি আমাদের মনে অশুভ অন্ধকার ঘুচিয়ে যেন শুভ আলোর উদয় হয়। তাই আলোর রোশনাই। এখানেই অন্ধকারের উৎস থেকে আলো উৎসারিত হোক-- এই প্রার্থনা।
আলো আমার আলো ওগো
আলোয় ভুবন ভরা
আলো....
গদ্য || স্বপ্নে দেখা কাশ্মীর ভূস্বর্গ || জাহির আব্বাস মল্লিক
স্বপ্নে দেখা কাশ্মীর ভূস্বর্গ
জীবনের ডাইরিতে লেখা ভালোবাসার পাপড়িগুলি উল্টাতে উল্টাতে,মনের ট্রেনে পাড়ি দিলাম আমাদের দেখা স্বপ্নের কাশ্মীর ভূস্বর্গ।
যেখানে ছিল গাছহীন ছায়া,তুষারহীন বরফ, আগুন ছাড়া উত্তাপ,দিশাহীন লক্ষ্য, আমিহীন আমি ।
কে তুমি?এখনো রাত দিন শুধু তোমাকেই শুনি, স্বপ্নে শুধু তোমাকেই ছুঁই।
যেদিন তুমি এসেছিলে হৃদয়ের প্লাটফর্মে,সেদিন থমকে গিয়েছিলো অতীত- বর্তমানের সমস্ত ট্রেন। থমকে গিয়েছিল নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ, আরো কতকিছু।
কিন্তু আজ শুন্য একলা খামার আশাবাদী,ঘরের বারান্দাটা এখন যেন শূন্য পাখির খাঁচার মতো মাকড়সার জালের কারুকার্য।পুকুরের পাড় এখনো খালি রাস্তার পাশে বসা চেয়ারটাও আজ শুন্য। ফোনের জয়ধ্বনি ও বাজে না আর। দাঁড়িয়ে থাকে না কেউ,দেখেনা কোন পূর্ণিমা।
আজ বছর কয়েক হল তুমি উঠেছ অন্য নদীর পাড়, তবুও এই নদীতে ঢেউ উঠে চলে, হতে থাকে জোয়ার ভাটা। আর অতীতে দেখা স্বপ্নের ভূস্বর্গ আজও দেখতে ইচ্ছা করে। আজও ভিড় করে আমার হৃদয়ের কল্পনার আকাশে। কিন্তু আজ তুমি আছো আপনজনের সঙ্গে আপনার পাশে।।
নিবন্ধ || তৈমুর খান || লিটিল ম্যাগাজিনের লেখক
লিটিল ম্যাগাজিনের লেখক
এমন একটা সময়ে আমরা উপস্থিত হয়েছি যে, প্রায় সর্বত্রই 'ফ্যালো কড়ি মাখো তেল' অবস্থা। এই কিছুদিন আগেও অন্তত সাহিত্যের ক্ষেত্রে এরকমটি ছিল না। যদিও আমার প্রথম জীবনে একটা কবিতা ছাপানোর জন্য এক লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদক দশ কপি পত্রিকা গছিয়েছিলেন। সেই বাজারে তার দাম ছিল পঞ্চাশ টাকা। পত্রিকা তো কাউকে দিতেই পারিনি, বিক্রি করার ব্যাপারটা তো আরও কঠিন ছিল। এই পঞ্চাশ টাকার জন্য আমাকে মজুর খাটতে হয়েছিল। কিন্তু সেই অবস্থার মধ্যে আর বেশিদিন থাকতে হয়নি।
ইদানীং একটি বিষয় লক্ষ করছি, পত্রিকায় লেখা চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন কোনো সম্পাদক বা কোনো প্রকাশন। এসব যে কোনো নামকরা সংস্থা বা ব্যক্তি তা কিন্তু নন। তবে কয়েকটি ঐতিহ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও এই পন্থা অবলম্বন করেছে। কবিতা বা গল্প-প্রবন্ধের পংক্তি সংখ্যা এবং শব্দ সংখ্যা উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। বিজ্ঞাপনের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো লেখক লেখা পাঠালেই ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার চলে আসছে এবং একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাঠানোর আবেদন জানাচ্ছে। কখনো কখনো এই টাকার পরিমাণটা এত বেশি যে লিখতে আসা তরুণ-তরুণীর বেশ কয়েকবার ঢোক গিলতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে: পত্রিকার দাম এবং ডাক খরচের জন্য নেওয়া হচ্ছে। কারণ পত্রিকা বা সংকলন এবং সার্টিফিকেট একইসঙ্গে পাঠানো হবে। নিরুপায় কবি-লেখকটি কখনো কখনো টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেন হচ্ছেন তা জানি না। এই পত্রিকা বা সংকলন এবং সার্টিফিকেট তাঁর কোন কাজে লাগবে সেকথাও হয়তো চিন্তা করেন না। তাঁর সৃষ্টিকে সকলের দৃষ্টিগোচর করার আবেগ হয়তো এই কাজে তাঁকে চালিত করে। কিন্তু উক্ত পত্রিকায় বা সংকলনে লিখে কয়জনেরই বা দৃষ্টিগোচর হবেন? এই পত্রিকা বা সংকলন যাঁরা করেন তাঁরা সেই কয়জনেরই করেন, যাঁরা টাকা দেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই এইসব সংকলনের মান উন্নত হয় না। লেখা দেখেও নির্বাচন করেন না। শুধুমাত্র টাকা দিলেই এসব পত্রিকায় লেখা যায়।
এইরকমই অবস্থা হয়েছে কলকাতার নামকরা কলেজ স্ট্রিটের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যপূর্ণ পত্রিকারও। একবার একটা পত্রিকায় লেখা পাঠিয়ে ভেবেছি হয়তো প্রকাশিত হবে না। কিন্তু আশ্চর্য কয়েকদিন পরেই সম্পাদক ফোন করে বললেন: 'এই নাম্বারে মোবাইল রিচার্জের জন্য তিনশো টাকা ভরে দিতে হবে তবেই আপনার লেখাটি পত্রিকায় প্রকাশিত হবে।' পত্রিকার যিনি সম্পাদক তিনি একজন সাহিত্যিকও। ফোনটি পেয়ে অনেকক্ষণ থ হয়ে বসে থেকেছি। সাহিত্যজগৎ যে অন্ধকারের জগৎ, দালালের জগৎ পরবর্তী সময়ে আরও গভীরভাবে টের পেয়েছি। লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় লেখক কপি আনতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় তা সম্মানের সঙ্গে বিনা পয়সায় পেলেও বেশিরভাগ জায়গায় টাকা দিয়ে কিনতে হয়। দীর্ঘদিন সাহিত্যজগতে থেকেও যদি সত্যিই টাকা দিয়ে ম্যাগাজিনে লিখতে হয় এবং টাকা দিয়ে লেখক কপি কিনে নিতে হয়, তাহলে সেরকম লেখক হওয়ার কি কোনো মূল্য আছে? হয়তো অনেকেই বলবেন লিটিল ম্যাগাজিনগুলিকে প্রত্যেকের সহায়তা করা দরকার। কিন্তু একজন লেখক খুব কম করে গোটা দশেক পত্রিকায় গোটা দশেক কবিতা লিখে যদি অর্থ প্রদান করেন, তাহলে তাঁর সাংসারিক জীবনেও টানাপোড়েন আসতে পারে। সব লেখকেরই অর্থ দেবার সামর্থ্যও থাকে না। যদি সম্পাদকগণ লেখকদের সম্মান জানাতে না পারেন, পত্রিকার সৌজন্য কপি দিতে না পারেন, তাহলে আমি মনে করি পত্রিকা না করাই অনেক ভালো। কেননা মনে রাখা দরকার লিটিল ম্যাগাজিন কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়, সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য প্রেরণা স্বরূপ। এই প্রেরণা কি টাকা দিয়ে কেনা যায়? অথবা এই প্রেরণা কি টাকা নিয়ে বিক্রি করা যায়?
কিন্তু বর্তমানে তাই হচ্ছে। এবছর বিজ্ঞাপন দেখে এই বিষয়টি যাচাই করার জন্যই বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ছোটখাটো দু একটা করে কবিতা পাঠাই। প্রায় সব কবিতাগুলোই সম্পাদকগণ চোখ বুজে নির্বাচন করেছেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ই-মেইলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং টাকা পাঠাবার আবেদন জানিয়েছেন। না, আশ্চর্য হইনি; বর্তমানে প্রকাশকেরা যেমন টাকা নিয়ে কয়েক কপি বই ছাপিয়ে লেখককে গছিয়ে দিচ্ছেন, ঠিক তেমনি টাকা নিয়ে লেখা ছাপিয়ে পত্রিকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বইয়ের বা লেখার সাহিত্য মূল্য কতখানি, বা লেখার মান উন্নত কিনা, বা প্রকৃত সাহিত্যমূল্যে লেখাটির উত্তরণ ঘটেছে কিনা সে বিচার করার তাদের যেমন ক্ষমতা নেই, তেমনি দায়ও নেই। বই বা পত্রিকা প্রকাশ করাটাকেই এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছেন। ফলে নিরপেক্ষ সাহিত্যবোধসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি প্রকৃত প্রতিভাবান সাহিত্যিকও হারিয়ে যাচ্ছেন গড্ডলিকা প্রবাহে। পাঠকরাও প্রকৃত সাহিত্যবিচারে অগ্রসর হচ্ছেন না। গতানুগতিক দায়সারা গোছের মন্তব্য বা মূল্যায়নে তাঁরা প্রবৃত্ত হয়েছেন। অবশ্যই এর ব্যতিক্রমও আছে, কিন্তু তা দূরবিন দিয়ে দেখতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানগুলি সাহিত্যের মূল্য দেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারাও আর বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারছেন না। কেননা তাদের কাছেও সাহিত্যচর্চাকারীরা ঝাঁকের কই। শক্তিধর অথবা দুর্বল সবই সমান বলে গণ্য হচ্ছেন। হয়তো-বা বহুদিন অপেক্ষা করার পর, হয়তো-বা মৃত্যুরও পর তাঁর মূল্যায়ন হচ্ছে। অবশ্য জীবনানন্দ দাশের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
টাকা নিয়ে সংকলন বা ম্যাগাজিন প্রকাশ করে যেমন শাশ্বত বা ব্যতিক্রমী সাহিত্যের ধারাকে উজ্জীবিত করা যায় না, বা সাহিত্যিককে প্রেরণা দেওয়াও যায় না তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু বর্তমানে এই প্রবাহটা এমনই জোর শক্তি ধারণ করেছে যে একে নিবারণ করার কোনো উপায় নেই। প্রকাশকদের উচিত ছিল, প্রতিভাবান সাহিত্যিকদের খুঁজে খুঁজে বের করা এবং বিনা পয়সায় তাঁদের বই প্রকাশ করা। কিন্তু সেই চলটা প্রায় উঠে গেল। এখন পত্রিকায় লিখতে গেলেও টাকা লাগে, বই প্রকাশ করতে গেলেও টাকা লাগে। আবার সেসব বই বিনা পয়সায় দিতে হয়। তরুণ লেখকদের বই ক্রয় করার মানুষ কম। কম হবেই না বা কেন, তিনি তো আর নামকরা প্রতিষ্ঠানের লেখক নন! কোনো নামকরা ম্যাগাজিনেও লিখেননি। সুতরাং তাঁকে ঘোষণা করতে হয়: 'আমি কবি! আমি লেখক! এই আমার প্রথম কাব্য!' এতে তাঁর দোষ কী! বাজার ভর্তি এত ব্যবসায়ী, এত ঠক জোচ্চোর! তিনি কার কাছেই বা দাঁড়াবেন! কেই-বা তাঁর বই প্রকাশ করবে! কেই-বা নিরপেক্ষ বিচার করবে তাঁর লেখা নিয়ে! সেই সুযোগ তাঁর সামনে যখন নেই, তখন নিজেকে নিজেই কবি বলতে বাধ্য হন। নিজেকে নিজেই লেখক হিসেবে প্রচার করেন। টাকা দিয়ে বই করেছি এই অহংকারও তাঁকে লজ্জানত হতে দেয় না।
অবশ্য টাকা দিয়ে বই ছাপানোটির মধ্যে বাধ্যবাধকতা থাকলেও টাকা দিয়ে পত্রিকায় লেখা ছাপানোর ঘোর বিরোধিতা করছি। কেননা উক্ত পত্রিকাগুলি সাহিত্যের মূল্যমান নির্ধারণ করে না। খুব নিম্নশ্রেণির এবং নিম্নরুচির বালখিল্য লেখা নিয়ে সেগুলি প্রকাশিত হয়। কলেবরে বৃহৎ হলেও এবং প্রচ্ছদে চাকচিক্য থাকলেও, ভেতরের প্রতিটি পৃষ্ঠাকে মনে হয় লেখকরা কলুষিত করেছেন। লেখার পরিসংখ্যান এবং লেখকেরের পরিসংখ্যান দেখে অনুমান করা হয় দেশের বুদ্ধিজীবী রুচিবোধসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। যাঁরা সাহিত্যিক হন, তাঁরা ভালো পাঠকও হন। কিন্তু এই সব পত্রিকায় লেখা দেখে বোঝা যায়, যেন আমরা কয়েকশো বছর পেছনে সভ্যতার অক্ষর-পরিচয়ের যুগে ফিরে গেছি। সাম্প্রতিককালের সাহিত্যের বাঁকবদল, নতুন পথের ধারণা এঁদের একেবারেই নেই। সুতরাং এঁদের লেখা না ছাপালেও সাহিত্যের কোনো ক্ষতি হত না। বরং ছাপিয়েই সাহিত্যের স্তূপ তৈরি করা হলো। এদিকে প্রকাশক-সম্পাদকদের ব্যবসার বাজারও তৈরি হলো।
পত্রিকায় লেখা পাঠানোর বিজ্ঞাপন দেখে লেখা না পাঠানোই উচিত বলে মনে করি। কারণ লেখা পাঠিয়ে, টাকা দিয়ে লেখা ছাপিয়ে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কয়েকবার নিজের শখ পূরণ করা যায় মাত্র। কিন্তু বারংবার এই ধারা চলতে থাকলে লেখক মানসিক রোগীতে পরিণত হবেন। সাংসারিক জীবনেও টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। অবশ্য যেসব পত্রিকায় টাকা লাগে না, সেসব পত্রিকায় লেখা দেওয়া যেতে পারে। তবে এমন কয়েকটি পত্রিকাও আছে যারা লেখা ছাপলে লেখককে সাম্মানিক প্রদান করেন। সংখ্যায় কম হলেও তাদের অস্তিত্ব এখনো বিলীন হয়ে যায়নি। লেখা যেতে পারে সেসব পত্রিকায়ও। বেশকিছু নেট ম্যাগাজিন সগৌরবে প্রকাশিত হচ্ছে, যাদের কাছে কবিকে টাকা দিতে হয় না। সেসব ম্যাগাজিনেও লেখা দেওয়া যেতে পারে। একটা কথাই শুধু বলতে চাই, টাকা দিয়ে বই কেনা ভালো, কিন্তু টাকা দিয়ে লেখা ছাপানো যে নিজেকে মূল্যহীন করা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রবন্ধ || বিপন্ন ভাষা || শিবাশিস মুখোপাধ্যায়
বিপন্ন ভাষা
বিশ্বজুড়ে, ভাষা মারা যাচ্ছে। যারা রয়ে গেছে তাদের অনেকেই বিলুপ্তির পথে। না, আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর কথা বলছি না। আমরা ভাষা সম্পর্কে কথা বলছি। এই ভাষা গুলিকে সংরক্ষিত করার জন্যে স্বাধীনোত্তর যুগে কিছু কথা বলি-
ভাষা কেন বিপন্ন হচ্ছে?
ভাষা বিপন্ন হওয়ার পেছনে বিশ্বায়ন একটি প্রধান ফ্যাক্টর। যেহেতু ব্যবসা বৃহত্তর পরিসরে করা হয়, আঞ্চলিক ভাষাগুলি আর ততটা উপযোগী নয় এবং তাই জনপ্রিয়তা থেকে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষায় আরও প্রচলিত ভাষার আধিপত্য আরেকটি কারণ যা বিশ্বায়নের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যেহেতু ভাষা যোগাযোগের একটি মাধ্যম, তাই অনেক স্কুল আর স্থানীয় ভাষা শেখায় না কারণ সেগুলিকে সাধারণ ভাষার তুলনায় কম উপযোগী বলে মনে করা হয়।
উদ্ভূত ভাষা সংরক্ষণ এবং আদিবাসী ভাষাগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য কী করা হচ্ছে?
বিপন্ন ভাষার জন্য ডকুমেন্টেশন, সুরক্ষা এবং বিপন্ন ভাষার প্রচার সমর্থন করে। পণ্ডিতরা জানেন যে এই ভাষাগুলি পৃথিবীর মুখ থেকে অদৃশ্য হওয়ার আগে তাদের রেকর্ড এবং বিশ্লেষণ করতে হবে। যেহেতু বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভাষার লেখার ব্যবস্থা আছে, একবার এই ভাষাগুলি বিলুপ্ত হয়ে গেলে, আমাদের কাছে সেগুলি এবং তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কোনও রেকর্ড থাকবে না এবং বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যে ভাষাগুলিকে সংরক্ষণ করা যায় না, সেগুলিকে এখনও বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যারা অধ্যয়ন করতে বা পুনরুজ্জীবিত করতে চায় তাদের জন্য নথিভুক্ত করা সম্ভব। অনেক ভাষা আগামী কয়েক দশকের মধ্যে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিলুপ্তির সম্মুখীন হবে। এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায়, ভাষাবিজ্ঞান ধীরে ধীরে ভাষাগুলিকে শুধুমাত্র অধ্যয়নের বস্তু হিসাবে বিবেচনা করা থেকে পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের দিকে সরে যাচ্ছে। সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপগুলির মধ্যে একটি হুমকির সম্মুখীন হয়ে ভাষার পরিস্থিতির মূল্যায়ন, এর বিপন্নতা বা মৃত্যুর কারণ অধ্যয়ন, ভাষার সক্রিয়তা, ভাষার ডকুমেন্টেশন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, তাদের পুনরুজ্জীবন প্রচেষ্টায় স্থানীয় ভাষাভাষীদের সাথে সরাসরি সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ভাষার অবক্ষয় রোধে কী করা হয়েছে তা উপস্থাপন করার জন্য এবং কিছু ভাষা কেন টিকে আছে এবং অন্যদের ব্যাখ্যা করার জন্য অসংখ্য গবেষণা করা হয়েছে। ভাষা পুনরুজ্জীবনের জন্য, এইভাবে, শিক্ষা, ভাষা অর্জন, শিক্ষাবিদ্যা, ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি, ভাষা ডকুমেন্টেশন এবং ভাষাতত্ত্বের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং শাখা থেকে জ্ঞান এবং দক্ষতার প্রয়োজন। ভাষার পুনরুজ্জীবন এমন একটি ভাষার পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত দেয় যার আর কোনো জীবিত বক্তা নেই, কিন্তু সেটিকে পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং ব্যবহারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভাষা রক্ষণাবেক্ষণের গবেষণা ভাষা পরিবর্তনের ধারণার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত; অতএব, এটি প্রায়শই কার্যকরী ক্ষেত্রগুলির সনাক্তকরণের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যেখানে ভাষাটি আর ব্যবহার করা হয় না, বা যেখানে এটি ধীরে ধীরে অন্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। পুনরুজ্জীবনের প্রাথমিক লক্ষ্য হল ভাষাটি যারা জানেন না তাদের কাছে প্রেরণ করা এবং ভাষা ব্যবহারকারী এবং শিক্ষার্থী উভয়কেই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এটিকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করা।
ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া
ভাষার ডকুমেন্টেশনের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে: ডেটা সংগ্রহ করা (রেকর্ডিং, ছবি তোলা, লিখিত নথি সংগ্রহ করা ইত্যাদি), ডেটা প্রক্রিয়াকরণ (সিস্টেমেটাইজিং, ট্রান্সক্রিবিং, অনুবাদ, বিশ্লেষণ, ইত্যাদি) এবং ডেটা সংরক্ষণ (সংরক্ষণ)। এই উপাদানগুলিকে তিনটি ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসাবে ভাবা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথমে আমরা শব্দগুলি রেকর্ড করি, তারপরে আমরা সেগুলি অনুবাদ এবং বিশ্লেষণ করি এবং ফলাফল, উদাহরণস্বরূপ একটি শব্দ তালিকা বা একটি ছোট অভিধানের আকারে, মুদ্রণ বা বৈদ্যুতিন আকারে সংরক্ষণ করা হয়। যাইহোক, তিনটি ধাপ আরও জড়িত। ওভারল্যাপিং হতে পারে - উদাহরণস্বরূপ, কথ্য ডেটা প্রতিলিপি করা (লেখা) ডেটা সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াকরণ উভয় ক্ষেত্রেই একটি উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে, এমনকি এক ধরনের সংরক্ষণাগার হিসাবেও। তবুও, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়। উৎস/কাঁচা ডেটার একই সেট, সঠিকভাবে তৈরি করা হলে, গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ধরণের বিশ্লেষণের জন্য একটি সম্পদ হিসাবে কাজ করতে পারে যেমন: ভাষাবিজ্ঞান, সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস বা ভূগোল। গবেষকদের মধ্যে একজন সাধারণ ভাষাগত বৈশিষ্ট্যগুলি (যেমন ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য) সন্ধান করতে পারেন, অন্যজন উপাদান দ্বারা প্রতিফলিত সামাজিক সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হবেন (যেমন একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তাদের কাজ এবং ভূমিকা)। তারা বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করবে, কিন্তু ডেটার একই সেট ব্যবহার করবে।
মানুষের পরিচয় ও সংস্কৃতি তাদের ভাষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিটি ভাষা অনন্য। বিপন্ন ভাষার মধ্যে কী লুকিয়ে আছে তা কেউ জানে না। আমরা হয়তো কখনই সেসব সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি না যাদের ভাষা হারিয়ে গেছে। এবং আজ আমরা যে ভাষার ক্ষতির মুখোমুখি হই সেখানে দেখতে হবে যে আমরা মানব সংস্কৃতি, মানবিক জ্ঞান এবং ভাষার প্রকৃতি সম্পর্কে কতটা শিখতে পারি।