1. ৩ বছর মেয়াদের জন্য, 'ব্রিকস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি উইমেন ভার্টিকাল। এর প্রেসিডেন্ট হিসবে নিযুক্ত হলেন রুবি সিনহা।
Tuesday, August 22, 2023
August Current affairs 2023 || 1 to 15 Days || Current affairs 2023 || Current Event 2023 || August Current Event || সাম্প্রতিক ঘটনাবলী 2023
Wednesday, August 16, 2023
সরষে ইলিশ' রান্নার প্রনালী || কিভাবে রান্না করবেন 'সরষে ইলিশ'? || 'Sorse Elish' Cooked by Joyiti Banerjee
বিভাগ - রান্নাটাও শিল্প
কলমে - জয়তী বন্দ্যোপাধ্যায়
সরষে ইলিশ' রান্নার প্রনালী। কিভাবে রান্না করবেন 'সরষে ইলিশ'। 'Sorse Elish' Cooked by Joyiti Banerjee
উপকরণ:ইলিশ মাছের পিস 8 টি, সরষে বাটা 3 টেবিল চামচ, কাঁচা লঙ্কা, লবন, হলুদ গুঁড়ো, কালো জিরে,সরষের তেল।
প্রনালী:বাজার থেকে আনা ইলিশ মাছ ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন, তারপর লবন ও হলুদ গুঁড়ো দিয়ে মাছটি মেরিনেট করে রাখুন।
তারপর কড়াইয়ে সরষের তেল দিতে হবে। তেল গরম হয়ে আসলে কম আঁচে মাছ গুলি হালকা করে ভেজে নিন।(ইলিশ মাছ কখনোই কড়া করে ভাজবেন না, কারণ ইলিশ মাছ কড়া করে ভাজলে মাছের স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়।) ভাজা ইলিশ মাছ গুলি একটি পাত্রে তুলে রাখুন। (ভাজা ইলিশ মাছ খিচুড়ির সাথে খেতে বেশ ভালোই লাগে, কিংবা এক থালা গরম ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা ও মাছ ভাজার অল্প একটু তেল দিয়ে খেয়ে দেখবেন বেশ ভালোই লাগবে।)
মাছ ভাজার তেলের মধ্যেই সামান্য পরিমাণ কালোজিরে ফোড়ন ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে, তারপর পরিমাণ মতো লবন আর হলুদ গুঁড়ো ও সরষে বাটা ও সামান্য জল দিয়ে কষিয়ে নিয়ে। পরিমাণ মতো জল দিয়ে,মাছ গুলো কড়াইয়ে ছেড়ে দিতে হবে। জল শুকিয়ে আসলে সামান্য পরিমাণ কাচা সরষের তেল ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিন রান্নাটি। পরিবারের সকলকে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করে সরষে ইলিশ উপভোগ করুন।
ইলিশ মাছের উপকারীতা:ইলিশে মাছে ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি (ইপিএ ও ডিএইচএ) অ্যাসিড বেশি থাকে, যা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে দ্রুত ভালো চর্বি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।ইলিশের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি । ইলিশের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বেশ ভালো কাজ করে। ইলিশের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ৪০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ইলিশে থাকা ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।ইলিশে অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, এটি কোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।ইলিশে যে প্রোটিন থাকে, তা কোলাজেনসমৃদ্ধ। এ ছাড়া ইলিশে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বক সুস্থ রাখে। এর কোলাজেন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ওমেগা ৩ ছাড়াও ইলিশে আছে ভিটামিন বি১২, যা স্নায়ুকোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ইলিশ ভিটামিন ডির ভালো উৎস। ভিটামিন ডি মানবদেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।ইলিশে থাকা আয়োডিন, জিংক ও পটাশিয়ামের মতো বিভিন্ন খনিজ উপাদান রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে ও থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামুদ্রিক মাছ ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি রোধ করতে পারে ইলিশ। যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁদের ফুসফুস অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
Saturday, August 12, 2023
লটে মাছের ঝুরি' রান্নার প্রনালী || কিভাবে রান্না করবেন 'লটে মাছের ঝুরি'? || 'Lote fish recipe' Cooked by Joyiti Banerjee.
বিভাগ - রান্নাটাও শিল্প
কলমে - জয়তী বন্দ্যোপাধ্যায়
লটে মাছের ঝুরি' রান্নার প্রনালী। কিভাবে রান্না করবেন 'লটে মাছের ঝুরি'। 'Lote fish recipe' Cooked by Joyiti Banerjee.
উপকরণ: লটে মাছ (500 গ্ৰাম), পেঁয়াজ বাটা (200 গ্ৰাম), আদা বাটা 1টেবিল চামচ, রসুন বাটা 1 টেবিল চামচ , পরিমাণ মতো জিরে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা,লবন, হলুদ, সরষের তেল।
প্রনালী: বাজার থেকে আনা লটে মাছ ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন, এবার একটি পাত্রের মধ্যে লবন, হলুদ গুঁড়ো, পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, সরষের তেল দিয়ে একটি মসলার মিশ্রন তৈরী করে লটে মাছ আধাঘন্টার জন্য মেরিনেট করে রাখতে হবে।
কড়াইয়ে সরষের তেল দিয়ে, তেল গরম হয়ে আসলে সামান্য পরিমাণ পেঁয়াজ কুচি,আদা বাটা, রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা, টমেটো কুচি দিতে হবে। মসলা ভাজা হয়ে আসলে সামান্য পরিমাণ লবন দিয়ে, মেরিনেট করা লটে মাছ কড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে কম আঁচে মাছটি ভালো করে কষাতে হবে।
( মনে রাখবেন একটি কথা লটে মাছ রান্না করার কোনো জল লাগে না,লোটে মাছ খুব নরম প্রকৃতির হয় প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, সেই দলেই পুরো রান্নাটি তৈরী হয়ে যায়)। কষানোর সময় মাছের থেকে বেরিয়ে আসা জল ভাল করে শুকিয়ে নিন,তারপর ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিয়ে রান্নাটি নামিয়ে নিন।
তৈরি হয়ে যাওয়া লটে মাছের ঝুরি পরিবারের সকলকে পরিবেশন করে গরম ভাতের সাথে উপভোগ করুন।
লটে মাছের উপকারীতা: লটে মাছের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, এছাড়াও মানুষের শরীরের কোষ গঠনে সাহায্য করে, এই মাছের প্রোটিন শরীরের হরমোন, এনজাইম,অন্যান্য কেমিক্যালের সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মানুষের শরীরের রক্তনালী গুলি পরিস্কার রেখে হার্ট স্ট্রোকের ঝুকি কমায়, আর্থারাইটিস আক্রআন্ত রোগীর জন্য খুবই উপকারী, তাছাড়া ও কোলোন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়,এই মাছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে,ও মানুষের শরীরের হাড়, দাঁত, পেশীর শক্তি বৃদ্ধি ও চোখের দৃষ্টি শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Tuesday, August 8, 2023
রিলায়েন্স স্কলারশিপে আবেদন করে ২ লক্ষ টাকা পান || Reliance Foundation Scholarship 2023
ভারতের জনসংখ্যা প্রায় 140 কোটি বা তারমধ্যে অধিকাংশ অর্থাৎ প্রায় 60 কোটি ভারতীয় রয়েছেন যাদের বয়স 25 বছরের কম। এই সংখ্যার মধ্যে অধিকাংশ স্টুডেন্ট অর্থাভাবে পড়াশোনা করতে পারে না কিংবা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাইনা। এইসমস্ত স্টুডেন্ট দের জন্য এক নতুন স্কলারশিপ প্রোগাম চালু করেছে দেশের একটি বড় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন (Reliance Foundation)।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন দ্বারা সঞ্চালিত এই স্কলারশিপটির নাম হলো রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ (Reliance Foundation Scholarship)। যে সমস্ত স্টুডেন্ট স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেতে চাইছেন তারা এই স্কলারশিপের আওতায় আর্থিক সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ যে সমস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের আয় অনেক কম তারা এখানে আবেদন করার সুযোগ পারেন।
এই স্কলারশিপে আবেদনের যোগ্যতা, সুযোগ-সুবিধা, আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিবরণ নীচে দেওয়া হল।
বিষয় সূচীঃ-
1) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ ২০২৩ (Reliance Foundation Scholarship 2023)
2) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের লক্ষ্য (Reliance Foundation Scholarship 2023 Aims)
3) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের সুবিধা (Reliance Foundation Scholarship 2023 Benefits)
4) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের যোগ্যতা (Reliance Foundation Scholarship 2023 Eligibility)
5) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া (Reliance Foundation Scholarship 2023 Application Process)
## রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ ২০২৩ -
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য 2 লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য 6 লক্ষ টাকা পর্যন্ত মেধা বৃত্তি ঘোষণা করেছেন।
## রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের লক্ষ্য -
এই স্কলারশিপ দেশের সমস্ত রাজ্যের মেধাবী স্টুডেন্টদের আর্থিক সাহায্য করবে। এই স্কলারশিপ এর মূল লক্ষ্য দেশের সমস্ত স্টুডেন্টদের শিক্ষায় সফল করতে সাহায্য করবে।
## রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের সুবিধা -
যে কোনো শাখায় পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
এই স্কলারশিপে 5,000 পর্যন্ত স্নাতক স্কলার নির্বাচন করা হবে।
স্নাতক ডিগ্রি সময়ে বৃত্তির মোট পরিমাণ হবে 2 লক্ষ পর্যন্ত।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপে 100 জন পর্যন্ত স্নাতকোত্তর স্কলার নির্বাচিত হবে।
স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামের সময়ে বৃত্তির মোট পরিমাণ হবে 6 লক্ষ পর্যন্ত।
##রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের যোগ্যতা -
আবেদনকারীকে একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
স্নাতক বৃত্তি: শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম 60% সহ 12 তম স্ট্যান্ডার্ড পাশ এবং ভারতে একটি পূর্ণ-সময়ের স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রামে যোগদান করার সুযোগ পাবেন।
স্নাতকোত্তর বৃত্তি: প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীযারা GATE পরীক্ষায় 550 – 1,000 স্কোর পেয়েছে তারা আবেদন করতে পারবে।
যে ছাত্ররা GATE-এর চেষ্টা করেনি কিন্তু তাদের স্নাতক CGPA তে 7.5 বা তার বেশি স্কোর করেছে তারাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
##রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া -
সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এখানে আবেদন করতে হলে আপনাকে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে হবে।
Apply Now -
Monday, August 7, 2023
উপন্যাস - পদ্মাবধূ || বিশ্বনাথ দাস || Padmabadhu by Biswanath Das || Fiction - Padmabadhu Part -46
আমি পুনরায় ছিটকে পড়লাম। এইভাবে আমি প্রায় ত্রিশ মিনিট লড়াই করলাম। আমি আর পেরে উঠতে পারলাম না। জলস্রোতের মত রক্ত বয়ে যাচ্ছে শরীরে। ক্ষত- বিক্ষতের যন্ত্রণায় আমি কাহিল হয়ে পড়লাম। ভাবলাম আমার মৃত্যু অনিবাৰ্য্য, শেষ চেষ্টাতেও আমি পেরে উঠতে পারবো না। বাঘিনীর অগ্নিশর্মা চক্ষুখানি অস্পষ্টভাবে দেখছি, সে আমাকে এবার শেষ করে দেবে। সে পুনরায় আক্রমণ করতেই কোথা হতে যে একটা গুলি বাঘিনীর মাথায় লাগলো, দ্বিতীয় শব্দ শুনতেই আমি অজ্ঞান হলাম। তারপর আমার মনে নেই।
Sunday, July 30, 2023
জুলাই সংখ্যা 2023 || সম্পাদকীয় || July Sonkha 2023
বিকেলের নির্লিপ্ত রোদ্দুরে মেখে নেওয়া রক্ত স্নান প্রতিটি দেহান্তর উদ্ভাসিত করে। বেঁকে বসা হৃদয় অঙ্কুর একটু বিশ্রামের আশা রাখে। নরম কোলে বালিশ খোঁজা পাঠক বর্গ -- একটা প্রেমের খোঁজ করে। কল্পনার দর্শনে আগন্তুক নারী ফিকে হাসি দিয়ে অল্প সময়ে আরাম দেয়। প্রাণ সখীর সম্ভাষণ কিছুটা স্বস্তি দেয়। আসলে বন্ধুহীন পাঠকের জীবনে একটা সঠিক প্রীতিপূর্ণ মানুষের আগমন ঘটুক -- এটাই সাহিত্যের চাওয়া পাওয়া।
চিনের কবিতা - শংকর ব্রহ্ম || Chiner Kobita - Sankar Brhama || প্রবন্ধ || নিবন্ধ || Article
চিনের কবিতা
শংকর ব্রহ্ম
চিনা সাহিত্যের প্রধান ঐতিহ্য তার সুদীর্ঘ কালের ব্যাপ্তি ও অভিজ্ঞতা, অভিন্নতা এবং যুক্তিগ্রাহ্যতা।
খ্রীষ্টপূর্ব ছয়শো বছর আগে চিনের যে কবিতা বা গদ্য সাহিত্য পাওয়া গেছে তা (প্রকাশের ভাষার ও ভঙ্গির ভিন্নতা ছাড়া) মূলতঃ অভিন্ন রয়ে গেছে আজও। ধ্বনির পরিবর্তে ভাবমূলক লিপি পদ্ধতি ও ব্যাকরণের সল্পতায় তা সম্ভব হয়েছে।
চিন যুগে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে একতাবদ্ধ করার পর প্রকাশের একতার প্রচেষ্টা হান যুগে (২০৬ খ্রীস্ট পূর্ব- ২২০ খ্রীষ্টাব্দ) আরও দৃঢ়মূল হয়েছে। এই সময় তারা
বহির্জগত বিচ্যুত হওয়ায় সাহিত্যের স্থিতবস্থা থেকে গেছে। দ্বিতীয় শতাব্দীতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে তার কিছুটা পরিবর্তন হয়।
বিংশ শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের সংস্পর্শে এসে এখন অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।
প্রাচীন কনফুসীয় সাহিত্য এবং পাঁচ ও সাত
অক্ষরে লেখা 'শিহ্ কবিতা' (জাপানী হাইকু কবিতার মতো) এদের প্রাচীন সাহিত্যের সম্পদ।
প্রাচীনতম যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত
চিনের কাব্য রচনা মূখ্যত রাজকর্মচারীর ব্যাপার ছিল, একমাত্র ব্যতিক্রম তাং যুগের শ্রেষ্ট এবং বিশ্বের অন্যতম কবি 'লি পো'।
কবি তু ফু এবং লি পো দুই বন্ধু ছিলেন।
লি পো (৭০৫- ৭৬২ খ্রীষ্টাব্দ)
------------------------------
টিয়া
----------
দল বেঁধে কুঞ্জবনে সুন্দরীরা রত্ন সাজে
মনে মনে ভাবে কত কি যে,
কুঠরীর গোপন খবরগুলি,
বলি বলি করেও বলে না,
আকুলি বিকলি করে মনে।
কিন্তু টিয়ার খাঁচা বড় বেশী কাছে এসে দেখে
কোন কথা বলার সাহস নেই বুকে।
স্তব্ধ রাতে
---------------
খাটের পায়ার কাছে কি এতো করছে চিক্ মিক্
এখনই কি তুষার পাত শুরু হয়ে গেল?
উঠে বসে দেখি তা আলোর ঝিক্ মিক্
চাঁদ এসে ঘরে ঢুকে আছে,
আবার শরীর এলিয়ে দিয়ে ভাবি
ঘরে একা প্রিয়া বসে আছে।
নানকিং পানশালা বিদায়
------------------------------
শিমূলের তুলো বয়ে আনা দমকা বাতাস
সহসা এ পানশালা মদির গন্ধে ভরে তোলে
উ-প্রদেশের তরুণী সুরা ঢেলে বিদায় জানাতে এসে
শহরের বন্ধুদের সাথে পানে পীড়াপীড়ি করে,
পেয়াল উজার করে তারা পান করছে যখন,
আমার বিদায় সম্ভাষণ,
আহা যাও পুবে ছোটা ওই নদীটিকে বলো,
বন্ধুর প্রেমের চেয়ে
আরও দূরে কখনও সে যেতে পারে কিনা?
সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ,মানবিকতা বোধ, যুক্তিবাদ ,ব্যক্তিগত অনুভূতির সহজ প্রকাশ,অতীন্দ্রিয়তার স্পর্শ চীনা কবিতার চিরন্তন বৈশিষ্ট।
বিখ্যাত চীনা সাহিত্যের সমালোচক
'লিউ হ্ সি এহ্'( ৪৬৫-৫২২ খ্রীষ্টাব্দ) বলেছেন,
" বৎসর ও মাস ছুটে চলে যায়, আত্মা চিরস্থায়ী নয়, শুধু লেখার মধ্য দিয়েই মানুষ তার খ্যাতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরতে পারে এবং আপন কীর্তিগুলোকে ব্যাপ্তি দিতে পারে।"
তাই দেখা যায়, সরকারী আধিকারিক থেকে
সম্রাট , সম্রাট-প্রিয়া , প্রধান মন্ত্রী , সেনাপতি , রাজনীতিবিদ ,সন্ত ও সাধারণ নর-নারী সকলেই কবিতা লিখেছেন।
গ্রীক বা সংস্কৃত কাব্যে যেমন মহাকাব্য আছে চীনা কাব্যে সেরকম কিছু নেই।
শুধু পাওয়া যায় গীতি কবিতা। চীনা সাহিত্যে কাব্যের নায়ক নায়িকারা কোন দেব-দেবী নয়, মর্তের মানব-মানবী।
বিপুল চিনা সাহিত্য সম্ভারে, দেশপ্রেম থাকলেও যুদ্ধের প্রশস্তি বা যৌনতার কোন নাম গন্ধ নেই। বাস্তব জীবনের দুঃখ কষ্টের রূপয়ণ করেই তারা চরম আনন্দ পেয়েছেন।
চীনের আদিতম কাব্যগ্রন্থ কনফুসিয়াস ( তার চিনা নাম - কুং ফু ৎজু- জন্ম ৫৫১ খ্রী.পূঃ) সংকলিত 'শিহ্- চিং'।
তিন হাজার কবিতা থেকে নির্বাচন করে এই গ্রন্থে তিনশ' পাঁচটি (৩০৫) সুরানুক্রমিক সাজানো হয়েছে।
এর অধিকাংশই লোকগীতিন,বাকী অংশের নাম
কুয়ো পেং বা 'দেশের হালচাল'।
তাং যুগকে (৬১৮-৯০৭ খ্রীষ্টাব্দ) চীনা কবিতার স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই সময়ের বিখ্যাত কবিরা হলেন-লি পো (যাদুকর কবি নামে খ্যাত) , তু ফু ( ঋষি কবি নামে খ্যাত), পাই চু-য়ি মেং ,হাও জান প্রমুখ।
তু ফু (৭১২-৭৭০ খ্রীষ্টাব্দ)
------------------------------
রাতের ভাবনা,যুদ্ধ ও শান্তি
------------------------------
বাগান থেকে ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢোকে জ্যোৎস্নায়
চাঁদের কিরণ নাচে পাগলের মতো,
বাইরে পড়ছে শিশির ,আকাশের তারাগুলি দেখে।
জোনাকিরা এধারে ওধারে ভেসে চলে যায়
নদীচরে জলচর পাখি ডাকে তার সঙ্গীনীকে।
আর আমি?
যুদ্ধ বিদীর্ণ পৃথিবীর কথা ভেবে
অশান্তিতে ঘুমাতে পারি না।
ফুলের দিকে তাকিয়ে
------------------------------
জীবনের চেয়ে ফুল বেশি ভালবাসি
ভেবো না ভুলেও,
কুসুম শুকিয়ে গেলে ভয়ে হীম হয়ে যাই,
চোখের পলকে আমিও জরাজীর্ণ হবো।
ফুলের পাপড়িগুলি কত না সহজে
শুকিয়ে ছড়ায় চারিদিকে,
আহা কুঁড়িগুলি আরও ধীরে বিকশিত হলে
কত না যে ভাল হতো বলো?
লি পো-র কবিতার 'যাদু বাস্তবতা' মায়াময় করে
তুলেছে তার কাব্যকে। হৃদয় নিঙড়ানো তার সব শব্দ ব্যবহার পাঠককে আকুল করে তুলেছে।
এর পাশাপাশি লোকায়ত সাহিত্য ধারাও অব্যাহত ছিল নিশ্চিৎ ভাবেই।
তাং যুগের শেষ দিকে কাব্যে বিষয়বস্তুর চেয়ে, ধ্বনি উৎকর্ষের প্রাধান্য দেখা দেয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিদেশী সাহিত্যের প্রভাবে (বিশেষ করে অনুবাদ সাহিত্য পড়ার ফলে) তাদের ঐতিহ্যবাহী চিন্তাধারায় কিছুটা চিড় ধরে। তারা তখন নতুন কাব্য ধারার মধ্য দিয়ে আপন সত্তাকে খুঁজে পেতে চাইল।
আফিনসেবী দরিদ্র চীন দেশের উর্বর মাটিতে , মার্কসবাদ বীজ বপনের উর্বরক্ষেত্র খুঁজে পেল।
১৯১৯ সালের আন্দোলন মূলতঃ রাজনৈতিক হলেও, এর ফলে আধুনিক চিনা কবিতার জন্ম হলো।
ওয়েন ই-তো ,হ্ স্ উ , চিহ্-মো , কুয়ো-মো-জো প্রমুখ চীনা কবিরা পাশ্চাত্য সাহিত্যের রোমান্টিকতার সঙ্গে পরিচিত হলেন। তাঁরা ভাষার সৌকুমার্যের উপর জোর দিলেন।
সাম্প্রতিক কালে চিনা সাহিত্যের প্রেরণা রাজনৈতিক সাম্যবাদ প্রচারের ফলে ,কবিতা তার মূল উদ্দেশ্য থেকে অনেকটা বিচ্যুত হয়ে প্রচার সাহিত্যে পরিণত হয়েছে।
মাও ৎসে তুং (১৮৯৩-১৯৭৬ খ্রীঃ)
------------------------------
তিনটি কবিতা
--------------------
১).
গিরি চূড়াগুলি
দ্রুত অশ্বে, উদ্যত চাবুক,পৃষ্ঠাসন কখনও না ছেড়ে
পিছনে তাকতে ছিল ভয়,
কারণ আকাশ মাথার উপরে দু'হাতের সামন্য
তফাৎ।
২).
গিরি চূড়াগুলি
ঝাপিয়ে চূর্ণতাকামী সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ যেন তারা,
কিংবা পূর্ণ উল্লম্ফনের ছোটা
দশ সহস্রাশ্ব যেন,সংগ্রাম সাগরে।
৩).
গিরি চূড়াগুলি
সুনীল ত্রিদিবভেদী,শীর্ষ বিন্ধু নয় অনুজ্জ্বল
আকাশ পড়ত বুঝি ভেঙে
এই স্তম্ভগুলির অভাবে।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী চীন অর্থাৎ তাইওয়ানের বর্তমানের কবিতা একটি অপূর্ব রূপ নিয়েছে। ১৯৪৯ সালের আগে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তাইওয়ান জাপানীদের দখলে ছিল।
জাপানী ভাষা ছাড়া অন্যকিছু ছাপা হতো না। এমনকি পান্ডুলিপি আকারেও কিছু পাওয়া যায়নি।
১৯৪৯ সালে মূল ভূখন্ডের সংস্কৃতি বহন করে কুড়ি লক্ষ চীনা সৈন্য তাইওয়ানে আসে।
মূল ভূখন্ড থেকে তাইওয়ান এক সংকীর্ণ উপসাগর দিয়ে বিচ্ছিন্ন। তাই তাদের মানসিকতার বিচ্ছিন্নতাও হয়তো অতলান্তিক। তাইওয়ানের কবিরা একদিকে যেমন চিনের প্রাচীন ঐতিহ্যকে ভোলেনি , অন্যদিকে তেমনি বহির্জগতের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের ফলে নতুন ধ্যান ধারণা , আঙ্গিক গ্রহণ করে , অকল্পনীয় সৌন্দর্যময় কাব্য সৃষ্টি করেছে।
দুই ধারার কাব্য স্রোত স্ব স্ব বর্ণবৈশিষ্টে
অভিন্ন হলেও সতন্ত্র বৈচিত্র নিয়ে বয়ে চলেছে।
কোনদিন ওতপ্রতভাবে একধারা হবে কিনা
সে প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসীত।
কিছু তাইওনান কবিতা
------------------------
য়াং হুয়ান (১৯৩০-১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দ)
------------------------------
কবিতা
-------------
কবিতা অমর পুষ্প
জীবন মৃত্তিকায় উপ্ত হতে হয় তাকে,
কবিতা কাকলি ভরা পাখি
গীতিময় প্রাণবন্ত হৃদয়ে সবার।
মরি যে লজ্জায়
তুমি এলে যে কবিতা লিখি হৃদয়ে আমার,
তারা শুধু কালো অক্ষর
কবিতার বিবর্ণ নমুনা?
য়া হ্সুউয়ান (১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দ - মৃত্যু জানা নেই)
------------------------------
ঈশ্বর
----------
ঈশ্বর একা
চুপচাপ বসে গীর্জার জানলার নীচে,
কেননা বেদীটি থাকে
পুরহিতের জবর দখলে।
ফাং হ্সিন ( জন্ম - ১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দ - মৃত্যু জানা নাই)
------------------------------
খোলা টেরিফোন বুথ
----------------------------
সঙ্গীহীন জনৈক যুবক
যুবতীর হাসি যেন একমুঠো চকচকে টাকা
মেঝেতে ছড়াল টুং টাং,
আমি নই খোলা টেলিফোন বুথ
আঃ নয় কখনোই -
এমন কি প্রত্যাশার মুদ্রাটিও তাতে
ফেলা যাবে না কখনও।
হ্সিউং হুং ( জন্ম- ১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দ - মৃত্যু জানা নেই)
------------------------------
প্রতিশ্রুতি
---------------
একদিন তোমাকে তো আর আমি লিখব না চিঠি
তখন জানবে তুমি আমি আর নেই,
যখন অনেক দেরী হয়ে যাবে সখী
আমার দরজায় এসে যদি তুমি কর করাঘাত।
মরে গিয়েও প্রাণবন্ত থেকে যাব
শুধু প্রাণটুকু মিশে যাবে পঞ্চ উপাদানে,
স্রোতশীল নদীকে বলে যার আমার বেদনা
ঝিরি ঝিরি বাতাসকে বলে যাব
তোমাকে পাঠাতে সোহাগের কথা।
কাঁপা কাঁপা বাতাস এসে ছড়াবে আমার দীর্ঘশ্বাস
আগুনের শিখায় হবে বিচ্ছুরিত আমার কামনা
তুমি তুলে নেবে তাই ,পৃথিবীতে এ দেহের রক্ত
জন্ম দেবে অজস্র সুগন্ধী গোলাপ।
------------------------------





