Sunday, November 21, 2021

কবি সুমিত্রা পাল -এর একটি কবিতা

 কি চায় জনগণ




ওগো নেতানেত্রীগণ,

শোনো দিয়া মন,

আমরা চাইনা ভিক্ষার দান,

সে দানে বাঁচেনা প্রাণ!

আমরা চাই উন্নয়ন ,

আমরা সাধারন জনগন।


ওগো নেতানেত্রীগণ,

শোনো দিয়া মন,

চাকরির আশায় খইছে জুতো,

আমরা চাই নাই এই বেকারত্ব।

আমরা চাইনা অবিচার !

চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার।


ওগো নেতানেত্রীগণ ,

দাঁড়িয়ে যাও কিছুক্ষণ!

কি চাই দেশের জনগণ?

বাবা-মা-ভাই-বোন ,

বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজন ,

শোনো দিয়া মন।


ওগো নেতানেত্রীগণ,

একটু বোঝো কি চায় জনগণ!

আমরা চাই না ঐ সিংহাসন!

শুধু চাই, বেঁচে থাকার মতো উপার্জন।

চাই কর্মব্যস্ত জীবন,

চাই সুস্থ শরীর, সুস্থ মন।


ওগো নেতানেত্রীগণ ,

আমরা চাই নিরাপদ জীবন।

আমাদেরও আছে আত্মসম্মান,

চায়না চলে যাক তাজা প্রাণ ।

চাই মানুষ হওয়ার দীক্ষা,

পেতে চাই সঠিক শিক্ষা।

এটুকু তো চাওয়া,

তাও হয় না পাওয়া!


ওগো নেতানেত্রীগণ,

করো একটি পণ, 

পেয়ে বিজয় সিংহাসন ভুলবেনা ধর্ম ,

ভুলবেনা নিজের কর্ম ।

মনে রেখো, সকল মানুষজন, 

সবাই তোমার আপন জন।

কবি অভিজীৎ ঘোষ -এর একটি কবিতা

 চাওয়া-পাওয়া




চাইলি কেন হাসনুহানা,ভাবছি

 তোকে গোলাপ দেবো;

বাইক চড়ার সখ ছিল তোর, 

পক্ষীরাজে সঙ্গে নেবো। 

খেয়াল বশে বায়না সেদিন,প্যারিস 

নাহয় ফ্রান্সে যাবি;

নিয়ে গেলুম নরওয়ে, বললি 

সেথায় ফুচকা খাবি। 

আবার প্রাণে শখ ছিল তোর

নাইতে যাবি নায়াগ্রাতে, 

স্নানের শেষে মিশর যাবি

প্রখর রোদে চুল শুকাতে। 

যেতেই হলো আফ্রিকাতে

তোরই অভিমানের বশে, 

ফিরতে হলো অস্ট্রেলিয়ায়

প্রেম-পিরিতির দারুণ জোশে। 

আমার শুধু চাওয়ার ছিল

তোর সঙ্গ দু-দশ জনম;

হৃদয় ভরা সেই ক্ষতটা, ঢাকতে

যে তুই লেপলি মলম।

কবি সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক -এর একটি কবিতা

 দিশান্তর



জহান্নমের তখতে বেশ বেশ আছি বসে।

ফুরফুরে ফুলেল আমেজ মগজের কোষ-কোষান্তরে

যেন হাসাহাসির ফুলঝুরি।

এরপর আধবোজা চোখে ঢুলঢুলু বিক্রম ত্রাস

ছড়ায় নাভিশ্বাসে।

চকিতচপলা মুহূর্তের ঘরে অতিঘন অকাতরে

বাজে দুন্দভি, হঠাৎ ওড়ে রাতজাগা ত্রস্ত পাখী,

বিষ-বিষয়ে নারাজ আকুলতা

তথাপি খোঁজে একখণ্ড বাতিল অনাবাদী জমি-

সেখানেই আবার আবার বসত-নির্মাণ,

নির্মিত ইমারতে একমুঠি বাচাল অকাল আকাশকুসুমে

ভর্তি হাওয়ায় শুধুই কালাতিপাত,

ধোঁয়াশায় এখনো অন্তরাল স্পষ্ট স্পষ্টতর

যেদিকে প্রত্যাশায় জন্নত-সরণী।

কবি রানা জামান -এর একটি কবিতা

 ময়ূর

    


পালক খসিয়ে চলে যায় ময়ূর সুদূরে

মুঠো ফসকে; চড়ুই সামান্য দানাপানি

খেয়ে খড়ের বাসায় থাকে ঘুমিয়ে; পেছনে

ফাইভস্টার হোটেলের খাদ্যের সুবাসে

জিভ থেকে লালাটা ঝরায় না টোকাই

প্রাকৃতিক নিয়মে ঘাসের ডগায় শিশির

বসে পাওনাটুকু বুঝে নেয়

সূর্যালোক থেকে; কৃষকের উদাসিনতার

সুযোগে কিটানু হুল বসায় কোলের

ফসলে; গ্রহণ লাগে ভরা পূর্ণিমায়

দিন যায় রাত আসে; এর চক্রে

প্রতিনিয়ত কতক তারা খসে; কিছু অনাঘ্রাতা

গাড়িতে আগুন লাগিয়ে ধরায় সিগারেট।

কবি নীতা কবি মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 শিশু-মঙ্গল




শিশু দিবসের মহান লগ্নে শিশুদের ভালোবেসে

স্নেহ চুম্বন দিয়ে যান যেন দেবতা মাটিতে এসে।


মাতৃহারা, অনাথ শিশু সহায় সম্বলহীন

একটু সহায় হবে কি তোমরা?শোধ হবে মনুয‍্যত্বের ঋণ?


হোটেলে , বাজারে ,রেস্তোরাঁতে যত শিশু মজদূর

ছিঁড়ে ফেলে দাও শৃঙ্খল তার, অবহেলা করো দূর।


শিশুরা হাসবে, খেলবে, গাইবে, আনন্দে মতোয়ারা

সেই সুযোগেই শিখে নেবে তারা জীবনবোধের ধারা।


ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হোক বা না হোক মানুষ তো হোক আগে

বিবেক- বুদ্ধি, পরোপকার আর মনুষ্যত্ব যেন জাগে।


বিদেশে গিয়ে টাকা রোজগারের যন্ত্র যেন না হয়

আর্ত-দুখীর পাশে থেকে যেন সমাজের ভার বয়।


এই সমাজের পিতা মাতা আর অভিভাবকের দল 

চাপিয়ে দিচ্ছে প্রত‍্যাশার বোঝা,শিশুরা যে টলমল।


সুন্দর আর নিষ্পাপ শিশুকে ঠিক মতো দাও বাড়তে

অতিরিক্ত আকাঙ্খার বোঝা চাপিও না তাকে মারতে।


ছোট্ট কুঁড়িরা হতাশায় ভোগে প্রতিযোগিতার ভিড়ে

মৃত্যুর কোলে সঁপে দেয় তাদের, অসহায় নিজ নীড়ে।


একটি ফুলকে যত্ন করে পালন করো গো মা

বিদ্যাসাগর, নেতাজীর মতো করে তোলো উপমা।


আমার দেশের, আমার মাটির ছোট্ট কুঁড়িশিশু যত

ফুটে ওঠে যেন কোমল কুসুম, শতদল শত শত।


স্বার্থপর এই দুনিয়াটাতে পথশিশু আজ বড়ো বিপন্ন

ঘরে ভাত নাই ! কে তুলে দেবে তাদের মুখে দুমুঠো অন্ন?


সারাদিন ধরে কাগজ কুড়ায় ছেলেটা পাড়ায় পাড়ায়

কখনো আমরা চোর বলে তাকে পুলিশ ডেকে ধরাই!


শোনো রে মানুষ ভাই,

 পৃথিবীতে এসে ভালো কিছু করো যাতে ওরা বেঁচে যায়।

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 আলোর পথে 



আলোর সিঁড়ি বেয়ে চুপ সময়

ওঠা নামা প্রহর গোনে মনোময়

সুখ আকাশ এক ঝাঁক পায়রার 

সফেদ মেঘের ভেলায় ফেরার

টুকরোয় নামে আলোর বাসর

হাটের সীমানায় নাবাল প্রান্তর

তোমায় লিখবো ভেবে সাদাপাতা

এক ঝাঁক শব্দের খাঁচায় খাতা

মন কি বলে সবটাই হয় না শব্দে

আরও কিছু ঝকমারি শব্দজব্দে।

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 সানাই



রাত খুন হয়ে যাচ্ছে আর

গাছের তলায় বসে সানাই

বাজাচ্ছে মাতাল প্রেমিক,

প্রেমিকা বাসবদত্তার বাসর

পুড়ছে লোভের আগুনে...       

কবি তৈমুর খান-এর একটি কবিতা

 সংশয়ের সিলেবাস 



নিজেকে গড়ানোর প্রক্রিয়া কী

সমাজের কীভাবে উন্নতি হবে

কল্যাণ কল্যাণ বলে যাকে ডাকি

সে কি প্রকৃত কল্যাণ?

এসবই সংশয়ের সিলেবাস

রোজ সূচিপত্র দেখে দেখে

ধ্বংসাবশেষ হাতড়াই

সময়ের মরালাশ বজ্রের আলোয় চকচকে

বিভূতি উড়িয়ে দেখি শুধু হাড়

বেঁচে থাকা যদি নদীর মতো হয়

বিশ্বাস যদি পাহাড়ের মতো

তাহলে ধ্বংসাবশেষই সংশয়

আলো জ্বেলে কিছুই দেখা যায় না

অথচ অন্ধকারে স্পষ্ট হয় কল্যাণের মুখ।

১৭ তম সংখ্যার সম্পাদকীয়


 

                                       অঙ্কন শিল্পী- মৌসুমী চন্দ্র


___________________________________________________


সম্পাদকীয়



নদীর মত বয়ে যাওয়া ভাষাশৈলী কে বুঝতে হলে প্রয়োজন সমুদ্র সুলভ মন। কারণ একটাই নদীর শেষ ঠিকানা সমুদ্র। আজ এগারোতম সংখ্যা প্রকাশিত হল। এতদিন লিখছেন, পড়ছেন আমাদের ব্লগ ম্যাগাজিন। পাশে আছি আমরা পরস্পরের কাছে। ভালোবেসে পড়ুন পত্রিকা। লেখা গুলি হৃদয়ে অন্তর্নিহিত করে তাৎপর্য বুঝতে শিখুন। জানান প্রতিটি লেখার মন্তব্য। তাই আমাদের ওয়েবসাইট ম্যাগাজিনে লেখা পাঠান, অন্যের লেখাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। পড়তে থাকুন আমাদের পত্রিকা।

 

 

                                      ধন্যবাদান্তে

                     World sahitya adda সম্পাদকীয়


___________________________________________________

**Advertisement  (বিজ্ঞাপন):



১)


___________________________________________________

২)


বইটি সরাসরি পেতে-- 6291121319
___________________________________________________


৩)


##উত্তরপাড়া,সিঙ্গুর এবং কোলকাতার বেহালায় এছাড়াও যে কোনো প্রান্ত থেকেই যেকোনো ক্লাসই অনলাইনে করতে পারবেন। 

এছাড়া কেউ যদি সরাসরি অফলাইন এ ভর্তি হতে চান যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-- 9330924937
______________________________________________________________________________________________________


বি. দ্র. -- বিজ্ঞাপন এর সমস্ত দায়িত্ব বিজ্ঞাপন দাতার

Saturday, November 20, 2021

১৭ তম সংখ্যার সূচিপত্র (৩০ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র:



বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, মহীতোষ গায়েন, আশীষ কুন্ডু, নীতা কবি মুখার্জী, রানা জামান, সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক, অভিজীৎ ঘোষ, সুমিত্রা পাল, মিলি দাস, মিঠুন রায়, সুমিত্রা পাল, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মিত্র, আবদুস সালাম, কমল মন্ডল, সৈয়দ শীষমহাম্মদ, নবকুমার, অরবিন্দ সরকার, অভিজিৎ দত্ত, সেখ নজরুল, তহিদুল ইসলাম।


বাংলা গল্প---


সিদ্ধার্থ সিংহ, অমিত পাল, উম্মেসা খাতুন।



প্রবন্ধ----


সত্যেন্দ্রনাথ পাইন



বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---


মৌসুমী চন্দ্র।

 


ইংরেজি কবিতা--


Sunanda Mandal

Pavel Rahman



Photography---


Moushumi chandra, 

Sohini Shabnam


Sunday, November 14, 2021