Sunday, December 12, 2021

কবিতা || হাইফেন জীবন || নবকুমার

 হাইফেন জীবন


 


জন্ম-মৃত্যুর মাঝে একটি হাইফেন । 

এই হাইফেনটিই হলো জীবন নড়াচড়া 

এতো ছোট্ট জীবন -আশ্চর্য !


সাইকেলে কোন দূরত্ব মিটার থাকে না 

শুধুই প্যাডেল ঘুরিয়ে যাই-

টপকাই সিঁড়ির পর সিঁড়ি --

আর কতোটা সিঁড়ি আছে জানি না ।


তবুও রক্তে শ্বাপদকে জাগাই

দাঁত-নখ-চেরা জিভ বা'র করে 

খণ্ড খণ্ড করে মানুষের দেহ

মেতে উঠি বীভত্স চিৎকারে -- ।


তারপরও ভাঙতে চাই অন্ত:পুরের দেয়াল

একদিনও যে বলা হয়নি--ভালোবাসি

সে কথার থাকে না খেয়াল।

কবিতা || মেঘলা দিনে || ফরমান সেখ

 মেঘলা দিনে

               


এমন মেঘলা দিনে পড়ে গো প্রিয়ার মনে

          ভাসে যে তার আনন খানি।

হেথায় একলা লাগে সঘনে বাঞ্ছা জাগে

          ঝরে যে মোর নয়ন পানি।


গগনে নীরদ ডাকে বাজে তা আমার বুকে

          কাঁপে যে মোর কোমল মন।

ভূলোকে বৃষ্টি পড়ে মন যে কেমন করে

          মন উভরায় সারাক্ষন।


যেন প্রিয়া সৌদামিনী সে নীরদ নন্দিনী

          মেঘের কোলে চমকি আলা।

এমনিই প্রিয়া মোর মাড়াইনা মোর ঘর

          যেন হৃদয় স্বপনবালা।


মেঘে শুধু আনে স্মৃতি দুখের লহরী ভীতি

          নিতই জ্বলে হৃদয় শালা।

বাড়ে তবু করে নাই হৃদয়েরে কুঁরে খায়

          শুধু উঠে উদাত্ত জ্বালা।


প্রিয়ার সে শুভানন মনে পড়ে সারাক্ষন

           অনিবারে কাঁদে মোর হিয়া।

শুধু মনে মনে ভজি যেওনা গো মোরে ত্যজি

             চলে এসো কাছে মোর প্রিয়া।

কবিতা || আমি || দিলীপ কুমার মধু

 আমি



আমি হিংস্র ।

আমি দুর্বল মানুষের মাথা খাই,

আমি নারীদের বুকে ঢুকে ঋণী হই ।


আমি সবুজ ।

আমি প্রকৃতির বুকে মলম লাগাতে চাই

আমি এই প্রকৃতির সাথে আর প্রকৃতির সম্বন্ধ ঘটাই ।


আমি সাবধানী ।

আমি খালি পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাই ,

আমি মানুষের লোভে করাত চালাতে চাই ।


আমি বিদঘুটে ।

আমি চামচে করে যাবতীয় জঞ্জাল সরাই ।

আমি সবুজ ঘাসের সাথে বন্ধু পাতাই ।


আমি ইচ্ছেধারী ।

আমি দুটো জামা পরে এলোমেলো বোতাম লাগাই 

আমি পকেটে আঁশ রেখে মাছ কেনার সাধ মেটাই ।

কবিতা || স্বপ্নরা ছুঁয়ে যায় জীবনের রঙ || মৌসুমী চন্দ্র

 স্বপ্নরা ছুঁয়ে যায় জীবনের রঙ



ওই তো দূরে, ওই দেখা যায়

রঙবাহারি ফুলের বাহার।

কুমোরটুলির দেবীর মত কে যায়

কি অপরূপ রূপ তাহার!


আমার স্বপ্নরা উড়ে উড়ে খেলে

রঙে রঙে জীবনকে রাঙায়।

ফুলেরা পাপড়ি মেলে ডাকে

মনেতে কি আবেশ মাখায়....


সব রঙ ঢেলে ঢেলে কে যায়

কি বাহার তার, কে যায়?

তুমি কি রূপকথা এক স্বপ্নের?

জীবন ছন্দ ফিরে ফিরে পায়।


এ কি! এ কি স্বপ্ন স্বপ্ন আমার?

কি মধুর পরশ তোমার!

জীবনের পাতা রঙে রঙে ভরে

কি অপরূপ তার বাহার!

কবিতা || অভিসার || বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র

 অভিসার



আজ এলেম আমি চাইতে তোমার দ্বারে

রাজ ঐশ্বর্য নয় মনের ঐশ্বর্যই মুল সুর,

যে গানের বানীর তরণী বেয়ে জীবন সাগর

পাড়ি দেবো কান্না হাসিতে দুজনায় দুর বহুদুর৷

মোদের সে পথ চলার পথে কতদিনের কত না

রাগ অনুরাগের পলাশ চম্পা চামেলী বেলী,

উঠিবে ফুটিয়া নয়নে নয়নে অভিসারে রূপসী

শতদল সম সময়ের অঙ্গনে আপন দলেরে মেলি৷

কবিতা || ছলনার ভিখারি || সুব্রত মিত্র

 ছলনার ভিখারি



আমি আবারও লোভের আকাশে নিজেকে ভাসালাম

পোশাকি বর্ণনায় কতিপয় ভিন্ন ছবি আঁকলাম,

নিজের প্রকৃত ছবিটাকে ঢেকে রেখে নকল ছবিতে নিজেকে রাঙালাম। 


চারিদিকে এত সাজ

আজ বড় সুন্দর লাগে এই ভদ্র সমাজ,

মনোবিকাশের ভাণ্ডার ভুলে যাব; হয়তো আজ কিছু পাব

নাব্যতার সীমাবদ্ধতায় থাকে যেন মার্জন,

নাটকীয় মনোরম করবে আমাকে জানি বিভ্রম

অগত্যা কর্ণের পাশে হবে সেই বাণী শ্রবণ,

সময়ের কাছে আছে মোর ইতিহাস

সময়ই হয়তো জানাবে সমন। 


তবু বলি একটি কথা বারবার

এই সময়ের কাছে নেই ভাষা জানাবার কৃতজ্ঞতার

নিয়েছিল কেড়ে সব হয়েছিল ছারখার

সময়ের হাত ধরে সময়ই ফিরিয়ে দিল তাহা আবার

সার্থক তোমাদের দেয়া ভালোবাসা; প্রেরণা; সার্থক জনম আমার।

কবিতা || প্রেমের দৃষ্টি || শ্যামল চক্রবর্ত্তী

 প্রেমের দৃষ্টি

           


     হৃদয় দিয়ে ডাকবো তোরে।

    চক্ষু দিয়ে কথা।

    বোকার মতন তাকিয়ে কেন?

    বুঝবি মোর ভাষা

   হৃদয়টাকে জ্বালিয়ে দিলি।

    তুই কি আমার প্রাণেশ্বরী।

  কতোনা অবকাশ করেছি ক্ষয়।

  মানিনি ঘড়ির বারণ।

চোখটা মোর পাগল হয়েছে।

কেন যে এত সুন্দর।

মন মানে না দিন রাত তাই।

শুধু আছে জীবন মোর।

হৃদয় আছে দব দব হৃদস্পন্দন।

নেইমার নেই অর্থ ভিজে আছে শুধু রক্তে।

তোকে পেয়ে ভেবেছিল পাবে এভারেস্টে।

ঘড়ি হাসে আর বলে দোস্ ওই চোখটা।

হারিয়েছি সব জীবনের প্রান্তে।

রাখবে না খবর, হাবিএই ভবঘুরে।

এমন করে হারিয়েছে কতনা ভবঘুরেজাত ।

কবিতা || যৌথরাগ || সব্যসাচী মজুমদার

 যৌথরাগ




মান্ধাতার যৌথরাগ

যৌথরাগ খুব ঘোরায়

রাস্তাঘাট ঢ্যামনা দাগ পক্ষীছাল মাংসতে

ভনভনাই ভনভনাই

সুপ্ত চিল গুপ্ত ঝিল লুপ্ত রিল

সব ওঠে সব চলে কায়নাদে

হে শামুক, তোর পামুক পড়ছি না

বললে কী ভুল হবে!


তীর ধনুক পীর বনুক পীর বনুক লুব্ধকের


ভনভনাই ভনভনাই

নুন জড়াই মাংসহীন চর্বিতে

নুন পোড়া উত্তাপে এ ধরার প্রত্নাতীত

                        যৌনস্বাদ


যৌথরাগ যৌথরাগ

আশ্বিনের চাঁদ ডোবে

দ্রংষ্ট্রা চাই লিঙ্গ চাই

                 নিঃসহায় তক্ষকের

                 গন্ধ চাই স্বপ্ন চাই

                  গর্ভীনি সন্তানের

কবিতা || মধ্যবর্তী চরাচর || উদয়ন চক্রবর্তী

 মধ্যবর্তী চরাচর 



বাতাসের অশরীরি শরীর বয়ে নিয়ে চলে শব্দের শব সে অবয়বে যে

কথা জাপটে থাকে সে কবিতা শরীর

নির্মাণ করে নিজের মননের রসে 

মানুষ আঁকিবুকি কাটে নিজের 

বরাদ্দ চৌহদ্দির আয়তক্ষেত্রে।

কখনও উল্লাস কখনও বিষাদ 

নিয়ে চলে শেষ পারানির দিকে 

আমি তুমি সবাই ঘুন পোকা পুষি।

গুড়ো গুড়ো হয়ে সুখ ঝরে পরে

অসুখের রুপান্তরে বোঝা যায়না 

সুখ অসুখের মধ্যবর্তী চরাচর

ঘুরে চলে চক্রবত যাপনের ইতিবৃত্ত।

কবিতা || হুমকি || আবদুস সালাম

 হুমকি



শরীরে জ্বলছে আগুন

মারণ রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে

মৃত্যু অনিবার্য জেনে ও ডাক্তার ওষুধ লেখে

বিষফোঁড়া বেরিয়ে আসে অজান্তে


ভালোবাসা দাঁড়িয়ে আছে পরিচয়হীন স্টেশনে

নিমপাতায় নেমেছে অন্ধকার

পশ্চাৎগামী অবক্ষয় আত্মবিলাপে মগ্ন

অবেলায় মগ্নহাহাকার ডানা মেলে

ঝিমিয়ে পড়ে শরীরী ব‍্যাঞ্জনা করে


এ শরীর আমার নয়

আমার জ্বলনের তাপ পাড়া জুড়ে


দৈববাণীর মতো মাইকে ভেসে আসছে

এ শরীর তোমার নয় অন্য শরীর ধরো।

কবিতা || বেহুলা-যন্ত্রণা || গোবিন্দ মোদক

 বেহুলা-যন্ত্রণা



ভরা শ্রাবণ। খল খল খল জল। স্রোত। 

কলার মান্দাসে ভাসে বেহুলা ভেলা।

শায়িত লখিন্দর। 

নিষ্প্রাণ, কালনাগিনীর রোষে। 

ভেলা ভাসে।

শায়িত লখিন্দর। সুন্দরী বেহুলা।

পাট পচা জল গন্ধ ছড়ায়।

গন্ধ ছড়ায় লখিন্দরের সাপে কাটা শরীর। 

ভেলা ভাসে। সুন্দরী বেহুলা-ভেলা।

ভেলা ভাসে। সাথে বেহুলা-যন্ত্রণা।

আর কতো দূর নেত্যধোপানীর ঘাট !

ভেলা ভাসে। ভাসে বেহুলা-যন্ত্রণা !

কবিতা || এক মুঠো রোদ || চাতক পাখি

 এক মুঠো রোদ



শীতের আমেজ পড়তে না পড়তেই

না জানি কোথা থেকে হটাৎ টানা বৃষ্টি এসে ,

মনের কোণে ফেলে গেলো

একটা দুশ্চিন্তার ছাপ এক নিমিষে।


অমনি নগেন খুড়ো উঠলো বলে 

হতাশ সুরে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে।

"এবার বুঝি আর আর হবে না চাষবাস

কে যেন গেছে পাকা ধানে মই দিয়ে। "


আকাশের যে দেখি যখন তখন মুখভার

সব সময় আঁধার করে ছেয়ে।

এতো দেখি ঋতুর খামখেয়ালী পনা,আর বর্ষা যে দেখি শুধুই একাই সারাবছর যায় গান গেয়ে।


তাই টানা দুদিন ব্যাপী বৃষ্টির ই শেষে 

যখন এক মুঠো রোদের পেলুম দেখা।

তখন মনে হলো এতো পুনর্জন্ম 

কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয় রয়েছে সবার সীমারেখা।

কবিতা || শিখন্ডী || কুনাল রায়

 শিখন্ডী




এক অসামান্য চরিত্র তুমি,

মহাকাব্য মহাভারতে,

অবহেলিত,

স্বল্পালোচিত,

তবু-

পর্বতের সম তোমার গরিমা!

সমুদ্রের সম তেজ তোমার,

শিখন্ডী তুমি!


মহেশ্বরের কৃপা প্রাপ্ত,

অম্বা,

পূর্বজন্মের কাহিনী,

যা দৃঢ় করে তোলে তোমায়!

শৈল্যের উপেক্ষা,

গঙ্গাপুত্রের প্রত্যাখ্যান,

আহুতি দিতে বাধ্য করে তোমায়!


ফিরে এলে তুমি,

দ্রূপদের সন্তান রূপে,

আবির্ভাব ঘটল তোমার-

কুরুক্ষেত্রের পুণ্য ভূমিতে।

গঙ্গাপুত্রের মৃত্যু কারণ হলে তুমি,

শরশয্যায়ে পিতামহ-

সুনিশ্চিত করলে,

ধর্মের জয়!

মুছে দিলে অধর্মের গ্লানি।

সমাজে আজ,

শিখন্ডীদের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ,

ছিনিয়ে নিয়েছ অধিকার,

তুলেছ ঝংকার,

প্রতিবাদের ভাষায়,

শরীরী আশ্লেষ,

তীব্র অনুভূতির ছায়ায়ে!