Wednesday, December 22, 2021

Wbp Constable result 2021 || Wbp Constable and lady constable result 2021 || West Bengal police constable result out


 


**Wbp Constable and lady constable prelims 


exam was held on 26 September 2021.


Total post -- 7440 (constable)

                       1192 (lady constable)





constable and lady constable result to


 be released.



Search 🔍 your result official website-


http://wbpolice.gov.in



All details are submitted in this official site.




##যে সমস্ত ছেলে মেয়ে prilims exam পাস করেছ

 

তাদের নামের পাশে Qualified লেখা থাকবে। একমাত্র 


তারাই মাঠের জন্য ডাক পাবে। রেজাল্ট এর ১০-১৫


 দিন পর মাঠ শুরু হবে। তাই আর দেরি না করে মাঠের 


জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নাও। 



More details please click on this official website-


http://wbpolice.gov.in





RRb NTPC Gk || RRb group d Gk || Wbp si Gk || Wbp Constable gk || General Knowledge || Special Gk & current affairs Part - 1




সম্পূর্ণ পিডিএফ পেতে নীচের দিকে রান এবং লিঙ্কে ক্লিক করুন 👇


  1. হরপ্পা অধিবাসীদের সঙ্গে কোন দেশের বাণিজ্য চলত ?

উঃ- সুমের ।


 2. নিচের কে আকবরের রাজসভায় নবরত্ন ছিলেন না ? 

উত্তর :- আমির খসরু ।


 3. বেনারসের কেন্দ্রীয় হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় কে স্থাপন করেন ?

 উঃ:- অ্যানি বেসান্ত ।


4. কোন্ নদীর ওপর ' হিরাকুদ ' বাঁধ অবস্থিত ?

উঃ:- মহানদী।


 5. নিচের শস্যগুলির মধ্যে কোন্‌টি খারিফ শস্য ?         

উঃ:- ধান।


 6. স্বর্ণজয়ন্তী গ্রাম স্বরোজগার যোজনা কত সালে শুরু হয় ?

উঃ:- ১৯৯৯ সালে।


7. ' অপরারেশন বর্গা ’ ভারতের কোন্ রাজ্যে প্রথম চালু হয় ?

 উঃ:- পশ্চিমবঙ্গ ।


 8. কোথায় ভারতের প্রথম মহিলা ব্যাঙ্ক খোলে ?

উঃ:- মুম্বাই ।


9. ঘুমের সময় মানুষের রক্তচাপ কী অবস্থায় থাকে ? 

উঃ:-  ওঠা-নামা করে।


10. কোণ ভিটামিনের রাসায়নিক টোকোফেরল’–

উঃ-  E ভিটামিন


 11. ‘ মিনা ’ ভারতের কোন রাজ্যের উপজাতি ? 

উঃ:- রাজস্থান ।


 12. নোবেল পুরস্কার জয়ী কৈলাস সত্যার্থী কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ? 

উঃ:- বচপন বাঁচাও বা শিশু শ্রম।


13. নিচের কোনটি একটি ‘ পলিমার '

উঃ:- ভিনাহল ক্লোরাইড (PVC)।


14. লাক্ষাদ্বীপ কোথায় অবস্থিত ?

উঃ- আরব সাগর ।


 15. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয় ? 

উঃ- ভিটামিন- A ।


  16. ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর সদর দপ্তর কোথায় ? 

উঃ- নিউ দিল্লি ।


17. স্বাধীনোত্তর দেশে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে হন?

উঃ-  ডঃ প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ ।


18. সারা বিশ্বে ‘ কবিতা ’ দিবস কবে পালিত হয় ? 

উঃ- 21 শে মার্চ ।


19. টক দই - য়ে কোন্ অ্যাসিড থাকে ?

উঃ- ল্যাকটিক অ্যাসিড ।


20. কাজরি কোন দেশের শিল্পকলা ?

উঃ- উত্তরপ্রদেশ।


21. 'আন্নাকালী পাকড়াশী' কোন মহান ব্যক্তির ছদ্মনাম ?

উঃ-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


22. ভারতের একটি অন্তঃবাহিনী নদীর নাম কী?

উঃ:-  লুনি।


23. সার্বিক দাতা কোন শ্রেণীর রক্ত ?

উঃ:- O


24. বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ 'ত্রিপিটক' কি ভাষায় রচিত ?

উঃ:-  পালি ভাষায় ।


25. ' অমৃতবাজার ’ পত্রিকা কে প্রতিষ্ঠা করেন ? 

উঃ-  শিশির কুমার ঘোষ ।


26. কোথায় বুদ্ধদেব তাঁর প্রথম ধর্ম প্রচার করেন ? 

উঃ:-  সারনাথ ।


 27. ঔরঙ্গজেব কোন্ শিখ গুরুকে হত্যা করেছিলেন ?

উঃ:- গুরু তেগ বাহাদুর ।


 28. ১৮৫৭ সালে নানা সাহেব কোন স্থান থেকে মহাবিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন ?

উঃ:- কানপুর ।


 29. ভারতের কোন অভয়ারাণ্যে সবচেয়ে বেশি হাতি পাওয়া যায়—

উঃ:- কাজিরাঙ্গা।


30. মৌর্যযুগে বংশানুক্রমিক সৈনিকদের কী বলা হত ? 

উঃ:-মৌল ।


31. সন্ধ্যাকর নন্দী কার রাজসভার সভাকবি ছিলেন ?

উঃ- পাল।


 32. পশ্চিমবঙ্গের প্রথমে কাগজকল কোথায় তৈরী হয় ?

উঃ:- শ্রীরামপুর।


 33. “ বানিহাল পাস ” কোথায় অবস্থিত ? 

উঃ:- কাশ্মীর হিমালয় ।


 34. বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

 উঃ:- ধর্মপাল।


35. পোলিও ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন ? 

উঃ:- জোনায় সাঁক  ।


36. ২০১৪ শীতকালীন অলিম্পিক কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ? 

উঃ:- সোচি ‌।


  37. ‘ বাটাভিয়ার ’ বর্তমান নাম কী ? 

উঃ:-জার্কাতা ।


 38 . পঙ্কজ আদবানি কোন্ খেলার সঙ্গে যুক্ত ? 

উঃ:- বিলিয়ার্ড ।


39. বিজয় হাজারে ট্রফি কোন খেলার সঙ্গে যুক্ত ?

 উঃ:- ক্রিকেট ।


 40. ভারতের নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানার ক'টি জেলা আছে ? 

উঃ:-৩১টি ‌‌(2021)


41. ভারতীয় সংবিধানে কবে থেকে শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসাবে যুক্ত করা হয় ?

উঃ:-  ২০০২ সালে।


42. এ বছর ন্যাশনাল গেমসে ৮০০ মিটারের মেয়েদের দৌড়ে কে ১৮ বছরের পুরানো রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ? 

উঃ:- টিন্টু লুক্কা।


 43. সম্প্রতি ন্যাশনাল গেমস কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ? 

উঃ- (১)২০২০সালে গোয়াই

       (২) ২০২১ সালে ছত্রিশগড়ে

       (৩) ২০২২ সালে উত্তরাখণ্ড

       (৪)২০২৩ সালে মেঘালয়


44. বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ২ টি বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে কোন ভারতীয় ছবি ?

উঃ:- Dhanak 


45. ২০১৬ - এর টি -20 ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কোন্‌টি ?

উঃ:- ভারতে ।



 Current affairs (2021-2022)

____________________________________________

1) আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস কবে পালন করা হয়? 

উঃ- ৩ রা ডিসেম্বর।


2) বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালন করা হয় ৫ ই ডিসেম্বর ; 2021 সালে থিম কি ছিল

উঃ- ' Halt soil salinization , boost soil productivity ' 


3) বিশ্ব এডস দিবস পালন করা হয় ১ লা ডিসেম্বর ; 2021 সালে থিম কি ছিল?

উঃ-“ End inequalities. End AIDS "


4) ভারতীয় নৌসেনা দিবস কবে পালন করা হয়?

উঃ- ৪ ঠা ডিসেম্বর ।


5) মানবাধিকার দিবস পালন করা হয় ১০ ই ডিসেম্বর ; 2021সালে থিম কি ছিল?

উঃ- " Equality, Reducing inequalities, advancing human rights." 


6) UNICEF Day পালন করা হয় ১১ ই ডিসেম্বর ; 2021সালে থিম কি ছিল?

উঃ- “ to help children to recover from interruption and learning losses experienced through the pandemic in the last two years ".


7) ১৯৮৪ সালে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ দিবস কবে পালন করা হয়? 

উঃ- ২ রা ডিসেম্বর।


8) International Civil Aviation Day পালন করা হয় ৭ ই ডিসেম্বর ; 2021সালে থিম কি ছিল?

উঃ- “ Advancing Innovation for Global Aviation Development . " 


9) আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করা হয় ৯ ই ডিসেম্বর ; 2021সালে থিম কি ছিল?

উঃ- “ Your right , your role : say no to corruption".


10) ভারত ও বাংলাদেশে মৈত্রী দিবস কবে পালন করা হয়?

উঃ- ৬ ই ডিসেম্বর।





Pdf download করতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন 👇

https://drive.google.com/file/d/1rVfEt7wPz-XCdvzyvC7MxXip-uk7ebPn/view?usp=drivesdk



__________________________________________________


চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন


Telegram group-


https://t.me/Jobnewsgovtandpraivate


Whatsapp group-



https://chat.whatsapp.com/FOyQc45Ny1A7acqIc9mKdl

Tuesday, December 21, 2021

গল্প || হারাণের নাতজামাই -- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় || Story || Haraner nathjamay || Manik Bandopadhyay


 



মাঝরাতে পুলিশ গাঁয়ে হানা দিল।


সঙ্গে জোতদার চণ্ডী ঘোষের লোক কানাই ও শ্রীপতি।

 কয়েকজন লেঠেল। কনকনে শীতের রাত বিরাম বিশ্রাম

 হেঁটে ফেলে ঊর্ধ্বশ্বাসে তিনটি দিনরাত্রি একটানা ধান

 কাটার পরিশ্রমে পুরুষেরা অচেতন হয়ে ঘুমোচ্ছিলা পালা

 করে জেগে ঘরে ঘরে ঘাঁটি আগলে পাহারা দিচ্ছিল

 মেয়েরা শাঁখ আর উলুধ্বনিতে গ্রামের কাছাকাছি

 পুলিশের আকস্মিক আবির্ভাব জানাজানি হয়ে

 গিয়েছিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সমস্ত গাঁ ঘিরে ফেলবার

 আয়োজন করলে হারাণের ঘর থেকে ভুবন মণ্ডল সরে

 পড়তে পারত, উধাও হয়ে যেত। গাঁ শুদ্ধ লোক যাকে

 আড়াল করে রাখতে চায়, হঠাৎ হানা দিয়েও হয়ত পুলিশ

 সহজে তার পাত্তা পায় না। দেড়মাস চেষ্টা করে পারেনি,

 ভুবন এ-গাঁ ও-গাঁ করে বেড়াচ্ছে যখন খুশি।




কিন্তু গ্রাম ঘেরবার, আঁটঘাট বেঁধে বসবার কোন চেষ্টাই

 পুলিশ আজ করল না। সটান গিয়ে ঘিরে ফেলল ছোট

 হাঁসতলা পাড়াটুকুর ক-খানা ঘর, যার মধ্যে একটি ঘর

 হারাণের বোঝা গেল আঁটঘাট আগে থেকে বাঁধাই ছিল।



ভেতরের খবর পেয়ে এসেছে।



খবর পেয়ে এসেছে মানেই খবর দিয়েছে কেউ। আজ

 বিকালে ভুবন পা দিয়েছে গ্রামে, হঠাৎ সন্ধ্যার পরে তাকে

 অতিথি করে ঘরে নিয়ে গেছে হারাণের মেয়ে ময়নার মা,

 তার আগে পর্যন্ত ঠিক ছিল না কোন পাড়ায় কার ঘরে সে

 থাকবে। খবর তবে গেছে ভুবন হারাণের ঘরে যাবার

 পরে! এমনও কি কেউ আছে তাদের এ গাঁয়ে? শীতের

 তে-ভাগা চাঁদের আবছা আলোয় চোখ জ্বলে ওঠে

 চাষীদের, জানা যাবে সাঁঝের পর কে গাঁ ছেড়ে বাইরে

 গিয়েছিল। জানা যাবেই, এ বজ্জাতি গোপন থাকবে না।



দাঁতে দাঁত ঘষে গফুর আলী বলে, দেইখা লমু কোন

 হালাপিঁপড়ার পাখা উঠছে। দেইখা লমু।



ভুবন মণ্ডলকে তারা নিয়ে যেতে দেবে না সালিগঞ্জ গাঁ

 থেকে। গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরছে ভুবন এতদিন গ্রেপ্তারী

 ওয়ারেন্টকে কলা দেখিয়ে, কোনও গাঁয়ে সে ধরা পড়েনি

 সালিগঞ্জ থেকে তাকে পুলিশ নিয়ে যাবে? তাদের গাঁয়ের

 কলঙ্ক তারা সইবে না। ধান দেবে না বলে কবুল করেছে

 জান, সে জানটা দেবে এই আপনজনটার জন্যে



শীতে আর ঘুমে অবশপ্রায় দেহগুলি চাঙ্গা হয়ে ওঠো লাঠি

 সড়কি দা কুড়ল বাগিয়ে চাষীরা। দল বাঁধতে থাকে।

 সালিগঞ্জে মাঝরাতে আজ দেখা দেয় সাংঘাতিক

 সম্ভাবনা!



গোটা আষ্টেক মশাল পুলিশ সঙ্গে এনেছিল, তিন-চারটে

 টর্চা হাঁসখালি পাড়া ঘিরতে ঘিরতে দপদপ করে তারা

 মশালগুলি জ্বেলে নেয়। দেখা যায় সব সশস্ত্র পুলিশ,

 কানাই ও শ্রীপতির হাতেও দেশী বন্দুক।



পাড়াটা চিনলেও কানাই বা শ্রীপতি হারাণের বাড়ীটা ঠিক

 চিনত না সামনে রাখালের ঘর পেয়ে ঝাঁপ ভেঙে তাকে

 বাইরে আনিয়ে রেইডিং পার্টির নায়ক মন্মথকে তাই

 জিজ্ঞেস করতে হয়, হারাণ দাসের কোন বাড়ী?



তার পাশের বাড়ীর হারাণ ছাড়াও যেন কয়েক গণ্ডা হারাণ

 আছে গাঁয়ে। বোকার মত রাখাল পাল্টা প্রশ্ন করে,

 আজ্ঞা, কোন হারাণ দাসের কথা কন?



গালে একটা চাপড় খেয়েই এমন হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে

 রাখাল, দম আটকে আটকে এমন সে ঘন ঘন উঁকি

 তুলতে থাকে যে তাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করাই

 অনর্থক হয়ে যায় তখনকার মতা বোেকা হাবা চাষাগুলো

 শুধু বেপরোয়া নয়, একেবারে তুখোড় হয়ে উঠেছে

 চালাকীবাজিতে।



এদিকে হারাণ বলে, হায় ভগবান ময়নার মা বলে, তুমি

 উঠল। কেন কও দিকি? বলে কিন্তু জানে যে তার কথা

 কানে যায়নি বুড়োরা চোখেও যেমন কম দেখে, কানেও

 তেমনি কম শোনে হারাণা কি হয়েছে ভাল বুঝতেও

 বোধহয় পারেনি, শুধু বাইরে একটা গণ্ডগোল টের পেয়ে

 ভড়কে গিয়েছে। ছেলে আর মেয়েটাকে বুঝিয়ে দেওয়া

 গেছে চটপট, এই বুড়োকে বোঝাতে গেলে এত জোরে

 চেঁচাতে হবে যে, প্রত্যেকটি কথা কানে পৌঁছবে বাইরে

 যারা বেড় দিয়েছে। দু’এক দণ্ড চেঁচালেই যে বুঝবে হারাণ

 তাও নয়, তার ভোঁতা ঢিমে মাথায় অত সহজে কোন কথা

 ঢোকে না। এই বুড়োর জন্য না ফাস হয়ে যায় সবা।



ভুবনকে বলে ময়নার মা, বুড়া বাপটার তরে ভাবনা!


ভুবন বলে, মোর কিন্তু হাসি পায় ময়নার মা।


ময়নার মা গম্ভীর মুখে বলে, হাসির কথা না। গুলিও

 করতে পারে। দেখন মাত্তর। কইবো হাঙ্গামা করছিলেন!



তাড়াতাড়ি একটা কুপি জ্বালে ময়নার মা। হারাণকে তুলে

 নিয়ে ঘরে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে হাতের আঙ্গুলের

 ইসারায় তাকে মুখ বুজে চুপচাপ শুয়ে থাকতে বলে।

 তারপর কুপির আলোয় মেয়ের দিকে তাকিয়ে নিদারুণ

 আপসোসে ফুঁসে ওঠে, আঃ! ভাল শাড়ীখান পরতে

 পারলি না?



বলছ নাকি?ময়না বলে।



ময়নার মা নিজেই টিনের তোরঙ্গের ডালাটা প্রায় মুচড়ে

 ভেঙ্গে তাঁতের রঙিন শাড়ীখান বার করে। ময়নার পরনের

 হেঁড়া কাপড়খানা তার গা থেকে একরকম ছিনিয়ে নিয়ে

 তাড়াতাড়ি এলোমেলো ভাবে জড়িয়ে দেয় রঙিন শাড়ীটি।



বলে, ঘোমটা দিবি। লাজ দেখাবি। জামায়ের কাছে যেমন

 দেখাস। ভুবনকে বলে, ভাল কথা শোনেন, আপনার নাম

 হইল জগমোহন, বাপের নাম সাতকড়ি। বাড়ী হাতীনাড়া,

 থানা গৌরপুর–


নতুন এক কোলাহল কানে আসে ময়নার মার। কান খাড়া

 করে সে শোনো কুপির আলোতেই টের পাওয়া যায় প্রৌঢ়

 বয়সের শুরুতেই তার মুখখানাতে দুঃখ দুর্দশার ছাপ ও

 রেখা কি রুক্ষতা ও কাঠিন্য এনে দিয়েছে। ধুতি-পরা

 বিধবার বেশ আর কদম ছাঁটা চুল চেহারায় এনে দিয়েছে।

 পুরুষালি ভাব।



গাঁ ভাইঙ্গা রুইখা আইতেছে। তাই না ভাবতেছিলাম

 ব্যাপার কি, গাঁর মাইনষের সাড়া নাই!



ভুবন বলে, তবেই সারছে। দশবিশটা খুন-জখম হইব

 নির্ঘাৎ। আমি যাই, সামলাই গিয়া।



থামেন আপনে, বসেন, ময়নার মা বলে, দ্যাখেন কি হয়।



শ’দেড়েক চাষী চাষাড়ে অস্ত্র হাতে এসে দাঁড়িয়েছে দল

 বেঁধে ওদের আওয়াজ পেয়ে মন্মথও জড়ো করেছে তার

 ফৌজ হারানের ঘরের সামনে দু’চার জন শুধু পাহারায়

 আছে বাড়ীর পাশে ও পিছনে, বেড়া ডিঙ্গিয়ে ওদিক দিয়ে

 ভুবন না পালায় দশটি বন্দুকের জোর মন্মথের, তার

 নিজের রিভলভার আছে। তবু চাষীদের মরিয়া ভাব দেখে

 সে অস্বস্তি বোধ করছে স্পষ্টই বোঝা যায়। তার সুরটা

 রীতিমত নরম শোনায়—স্রেফ হুকুমজারির বদলে সে যে

 একটু বুঝিয়ে দিতে চায় সকলকে উচিত আর অনুচিত

 কাজের পার্থক্যটা, পরিমাণটাও।


বক্তৃতার ভঙ্গিতে সে জানায় যে, হাকিমের দস্তখতী

 পরোয়ানা নিয়ে সে এসেছে হারাণের ঘর তল্লাস করতো

 তল্লাস করে আসামী না পায়, ফিরে চলে যাবে। এতে বাধা

 দেওয়া হাঙ্গামা করা উচিত নয়, তার ফল খারাপ হবে। বে-

আইনী কাজ হবে সেটা।



গফুর চেঁচিয়ে বলে, মোরা তল্লাস করতি দিমু না।



প্রায় দুশো গলা সায় দেয়, দিমু না!



এমনি যখন অবস্থা, সংঘর্ষ প্রায় শুরু হয়ে যাবে মন্মথ

 হুকুম দিতে যাচ্ছে গুলি চালাবার, ময়নার মার খ্যানখেনে

 তীক্ষ্ণ গলা শীতার্ত থমথমে রাত্রিকে ছিঁড়ে কেটে বেজে

 উঠল, রও দিকি তোমরা, হাঙ্গামা কইরো না। মোর ঘরে

 কোন আসামী নাই। চোর ডাকাইত নাকি যে ঘরে আসামী

 রাখুম? বিকালে জামাই আইছে, শোয়াইছি মাইয়া

 জামাইরে দারোগাবাবু তাল্লাস করতে চান তাল্লাস করেন।



মন্মথ বলে, ভুবন মণ্ডল আছে তোমার ঘরে?



ময়নার মা বলে, দ্যাখেন আইসা, তাল্লাস করেনা ভুবন

 মণ্ডল কেডা? নাম তো শুনি নাই বাপের কালো মাইয়ার

 বিয়া দিলাম বৈশাখে, দুই ভরি রূপা কম দিছি ক্যান,

 জামাই ফির্যা তাকায় না। দুই ভরির দাম পাঠাইয়া দিছি

 তবে আইজ জামাই পায়ের ধূলা দিছে। আপনারে কমু কি

 দারোগাবাবু, মাইয়াটা কাইন্দা মরো মাইয়া যত কান্দে,

 আমি তত কান্দি–


আচ্ছা, আচ্ছা। মন্মথ বলে, ভুবনকে না পাই, জামাই নিয়ে

 তুমি রাত কাটিও।



গৌর সাউ হেঁকে বলে, অত চুপে চুপে আসে কেন জামাই

 ময়নার মা?


গা জ্বলে যায় ময়নার মা-রা বলে, সদর দিয়া আইছে!

 তোমার একটা মাইয়ার সাতটা জামাই চুপে চুপে আসে,

 মোর জামাই সদর দিয়া আইছে।



গৌর আবার কি বলতে যাচ্ছিল, কে যেন আঘাত করে

 তার মুখে একটা আর্ত শব্দ শুধু শোনা যায়, সাপে-ধরা

 ব্যাঙের একটি মাত্র আওয়াজের মতো।



ময়নার রঙিন শাড়ী ও আলুথালু বেশ চোখে যেন ধাঁধা

 লাগিয়ে দেয় মন্মথর, পিচুটির মত চোখে এঁটে যেতে চায়

 ঘোমটা পরা ভীরু লাজুক কচি চাষী মেয়েটার আধপুষ্ট

 দেহটি। এ যেন কবিতা বি.এ. পাশ মন্মথর কাছে, যেন

 চোরাই স্কচ হুইস্কির পেগ, যেন মাটির পৃথিবীর জীর্ণক্লিষ্ট

 অফিসিয়াল জীবনে একফেঁটা টসটসে দরদ। তার

 রীতিমত আপসোস হয় যে জোয়ান মর্দ মাঝবয়সী

 চাষাড়ে লোকটা এর স্বামী, ওর আদরেই মেয়েটার এই

 আলুথালু বেশ!


তবু মন্মথ জেরা করে, সংশয় মেটাতে গাঁয়ের দু’জন

 বুড়োকে এনে সনাক্ত করায়। তার পরেও যেন তার বিশ্বাস

 হতে চায় না! ভুবন চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে গায়ে চাদর

 জড়িয়ে যতটা সম্ভব নিরীহ গোবেচারী সেজে। কিন্তু খোঁচা

 খোঁচা গোঁপদাড়ি ভরা মুখ, রুক্ষ এলোমেলো একমাথা

 চুল, মোটেই তাকে দেখায় না নতুন জামায়ের মত মন্মথ

 গর্জন করে হারাণকে প্রশ্ন করে, এ তোমার নাতনীর বর?



হারাণ বলে, হায় ভগবান!



ময়নার মা বলে, জিগান মিছা, কানে শোনে না, বদ্ধ


 কালা।


আ! মন্মথ বলে।


ভুবন ভাবে এবার তার কিছু বলা বা করা উচিত।



 এমন হাঙ্গামা জানলে আইতাম না কর্তা মিছা কইয়া

 আনছে আমারো সড়াইলের হাটে আইছি, ঠাইরেণ


 পোলারে দিয়া খপর দিলেন, মাইয়া নাকি মর মর, তখন

 যায় এখন যায়।


তুমি অমনি ছুটে এলে?


আসুম না? রতিভরি সোনা-রূপা যা দিব কইছিল, তাও

 ঠেকায় নাই বিয়াতে। মইরা গেলে গাও থেইকা খুইলা

 নিলে আর পামু?


ওঃ! তাই ছুটে এসেছ? তুমি হিসেবী লোক বটে। মন্মথ বলে


 ব্যঙ্গ করে।


আর কিছু করার নেই, বাড়ীগুলি তাল্লাস ও তছনছ করে

 নিয়ম রক্ষা করা ছাড়া। জামাইটাকে বেঁধে নিয়ে যাওয়া

 চলে সন্দেহের যুক্তিতে গ্রেপ্তার করে, কিন্তু হাঙ্গামা হবে।

 দু’পা পিছু হটে এখনো চাষীর দল দাঁড়িয়ে আছে, ছত্রভঙ্গ

 হয়ে চলে যায় নি। গাঁয়ে গাঁয়ে চাষাগুলোর কেমন যেন

 উগ্র মরিয়া ভাব, ভয় ডর নেই। ঘরে ঘরে তল্লাস চলতে

 থাকে একটা বিড়াল লুকানোর মতো আড়ালও যে ঘরে

 নেই, সে ঘরেও কাঁথা বালিস হাঁড়িপাতিল জিনিসপত্র

 ছত্রখান করে খোঁজা হয় মানুষকে।



মন্মথ থাকে হারাণের বাড়ীতেই। অল্প নেশায় রঙিন চোখা

 এ সব কাজে বেরোতে হলে মন্মথ। অল্প নেশা করে, মাল

 সঙ্গে থাকে কর্তব্য সমাপ্তির পর টানবার জন্য,—চোখ

 তার রঙিন শাড়ীজড়ানো মেয়েটাকে ছাড়তে চায় না।

 কুরিয়ে কুরিয়ে তাকায় ময়নার দিকে ময়নার কুড়ি বাইশ

 বছরের জোয়ান ভাইটা উসখুস করে ক্রমাগত ভুবনের

 চোখ জ্বলে ওঠে থেকে থেকে। ময়নার মা টের পায়,

 একটু যদি বাড়াবাড়ি করে মন্মথ, আর রক্ষা থাকবে না!



মেয়েটাকে বলে ময়নার মা, শীতে কাঁপুনি ধরেছে, শো’ না

 গিয়া বাছা? তুমিও শুইয়া পড় বাবা। আপনে অনুমতি

 দ্যান দারোগাবাবু, জামাই শুইয়া পড়ুক। কত মানত

 কইরা, মাথা কপাল কুইটা আনছি জামাইরে,—ময়নার

 মা’র গলা ধরে যায়। আপনারে কি কমু দারোগাবাবু–


ময়না ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। ভুবন যায় না।


আরও দু’বার ময়নার মা সস্নেহে সাদর অনুরোধ জানায়

 তাকে, তবু ভুবনকে ইতস্তত করতে দেখে বিরক্ত হয়ে

 জোর দিয়ে বলে, গুরুজনের কথা শোন, শোও গিয়া।

 খাড়াইয়া কি করবা? ঝাঁপ বন্ধ কইরা শোও!


তখন তাই করে ভুবনা যতই তাকে জামাই মনে না হোক,

 এরপর না মেনে আর কি চলে যে সে জামাই?মন্মথ আস্তে

 আস্তে বাইরে পা বাড়ায়। পকেট থেকে চ্যাপ্টা শিশি বার

 করে ঢেলে দেয় গলায়।



পরদিন মুখে মুখে এ গল্প ছড়িয়ে যায় দিগদিগন্তে, দুপুরের

 আগে হাতীপাড়ার জগমোহন আর জোতদার চণ্ডী ঘোষ

 আর বড় থানার বড় দারোগার কাছে পর্যন্ত গিয়ে


 পৌঁছায়। গাঁয়ে গাঁয়ে লোকে বলাবলি করে ব্যাপারটাা

 আর হাসিতে ফেটে পড়ে, বাহবা দেয় ময়নার মাকে! এমন

 তামাশা কেউ কখনো করেনি পুলিশের সঙ্গে, এমন জব্দ

 করেনি পুলিশকে। ক’দিন আগে দুপুরবেলা পুরুষশূন্য

 গাঁয়ে পুলিশ এলে ঝাঁটা বঁটি হাতে মেয়ের দল নিয়ে

 ময়নার মা তাদের তাড়া করে পার করে দিয়েছিল গাঁয়ের

 সীমানা! সে যে এমন রসিকতাও জানে, কে তা ভাবতে

 পেরেছিল?


গাঁয়ের মেয়েরা আসে দলে দলে, অনিশ্চিত আশঙ্কা ও

 সম্ভাবনায় ভরা এমন যে ভয়ঙ্কর সময় চলেছে এখন, তার

 মধ্যেও তারা আজ ভাবনা-চিন্তা ভুলে হাসিখুশিতে উচ্ছল।



মোক্ষদার মা বলে একগাল হেসে গালে হাত দিয়ে, মাগো

 মা, ময়নার মা, তোর মদ্যি এত?



ক্ষেন্তি বলে ময়নাকে, কিলো ময়না, জামাই কি কইলো?

 দিছে কি?


লাজে ময়না হাসে।


বেলা পড়ে এলে, কাল যে সময় ভুবন মণ্ডল গাঁয়ে পা

 দিয়েছিল প্রায় সেই সময় আবির্ভাব ঘটে জগমোহনের।

 বয়স তার ছাব্বিশ-সাতাশ, বেঁটে খাটো জোয়ান চেহারা,

 দাড়ি কামানো, চুল আঁচড়ানো। গায়ে ঘরকাচা শার্ট, কাঁধে

 মোটা সুতির সাদা চাদর গাঁয়ে ঢুকে গটগট করে সে চলতে

 থাকে হারাণের বাড়ীর দিকে, এপাশ ওপাশ না তাকিয়ে,

 গম্ভীর মুখে।



রসিক ডাকে দাওয়া থেকে, জগমোহন নাকি? কখন

 আইলা?


নন্দ বলে, আরে শোন শোন, তামুক খাইয়া যাও।


জগমোহন ফিরেও তাকায় না।


রসিক ভড়কে গিয়ে নন্দকে শুধোয়, এই কাণ্ড বুঝলা নি?


কেমনে কমু?


অবাক হয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে দু’জনন।


পথে মথুরের ঘর। তার সঙ্গে একটু ঘনিষ্ঠতা আছে

 জগমোহনের নাম ধরে হাঁক দিতে ভেতর থেকে সাড়া

 আসে না, বাইরের লোক জবাব দেয়। ঘরের কাছেই

 পথের ওপাশে একটা তালের গুড়িতে দু’জন মানুষ বসে

 ছিল নির্লিপ্তভাবে, একজনের হাতে খোঁটা সুদ্ধ গরু-বাঁধা

 দড়ি


তাদের একজন বলে, বাড়ীতে নাই। তুমি কেডা,

 হারামজাদারে খোঁজ ক্যান?


জগমোহন পরিচয় দিতেই দুজন তারা অন্তরঙ্গ হয়ে যায়

 সঙ্গে সঙ্গে।


অ! তুমিও আইছ ব্যাটারে দুই ঘা দিতে?


তা ভয় নেই জগমোহনের, তারা আশ্বাস দেয়, হাতের সুখ

 তার ফসকাবে না। কাল সন্ধ্যায় গেছে গাঁ থেকে, এখনো

 ফেরেনি মথুর, কখন ফিরে আসে ঠিকও নাই, তার

 অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না জগমোহনকে। মথুর

 ফিরলে তাকে যখন বেঁধে নিয়ে যাওয়া হবে বিচারের

 জন্য, সে খবর পাবো সবাই মিলে ছিঁড়ে কুটি কুটি করে

 ফেলার আগে তাকেই নয় সুযোগ দেওয়া হবে মথুরের

 নাক কানটা কেটে নেবার, সে ময়নার মা’র জামাই, তার


 দাবি সবার আগে।


শাউড়ী পাইছিলা দাদা একখানা!


নিজের হইলে বুঝতা জগমোহন জবাব দেয় ঝাঁঝের সঙ্গে।

 চলতে আরম্ভ করে। শুনে দুজনে তারা মুখ চাওয়া-চাওয়ি

 করে অবাক হয়ে!


আচমকা জামাই এল, মুখে তার ঘন মেঘ দেখেই ময়নার

 মা বিপদ গণে। ব্যস্ত-সমস্ত না হয়ে হাসি মুখে ধীরে

 শান্তভাবে অভ্যর্থনা জানায়, তার যেন আশা ছিল, জানা

 ছিল, এ সময় এমনিভাবে জামাই আসবে, এটা অঘটন

 নয়। বলে, আস বাবা আস। ও ময়না, পিঁড়া দো ভাল নি

 আছে বেবাকে? বিয়াই বিয়ান পোলামাইয়া?



আছে!


আরেকটুকু ভড়কে যায় ময়নার মা। কত গোঁসা না জমা

 আছে জামাই-এর কাটা-ছাঁটা এই কথার জবাবে। ময়নার

 দিকে তার না-তাকাবার ভঙ্গিটাও ভাল ঠেকে না পড়ন্ত

 রোদে লাউমাচার সাদা ফুলের শোভা ছাড়া আর কিছুই

 যেন চোখ চেয়ে দেখবে না শ্বশুরবাড়ির, পণ করেছে জগমোহন! লক্ষণ খারাপ।


ঘর থেকে কাঁপা কাঁপা গলায় হারাণ হাঁকে, আসে নাই?

 হারামজাদা আসে নাই?হায় ভগবান! নাতিরে খোঁজে,

 ময়নার মা জগমোহনকে জানায়, বিয়ান থেইকা দ্যাখে

 না, উতলা হইছে।


ময়নার মা প্রত্যাশা করে যে, নাতিকে হারাণ সকাল থেকে কেন দ্যাকে না, কি হয়েছে হারাণের নাতির, ময়নার ভায়ের, জানতে চাইবে জগমোহন, কিন্তু কোন খবর জানতেই এতটুকু কৌতূহল দেখা যায় না তারা


খাড়াইয়া রইলা ক্যান? বসো বাবা, বসো।


জগমোহন বসে ময়নার পাতা পিঁড়ি সে ছোঁয় না, দাওয়ার খুঁটিতে ঠেস দিয়ে উবু হয়ে বসে।


মুখ হাত ধুইয়া নিলে পারতা।


না, যামু গিয়া অখনি।


অখনি যাইবা?


হ। একটা কথা শুইনা আইলাম। মিছা না খাঁটি জিগাইয়া

 যামু গিয়া। মাইয়া নাকি কার লগে শুইছিল কাইল রাতে?


শুইছিল? ময়নার মার চমক লাগে, মোর লগে শোয়

 মাইয়া, মোর লগে শুইছিল, আর কার লগে শুইব?


ব্রহ্মাণ্ডের মাইনষে জানছে কার লাগে শুইছিল। চোখে

 দেইখা গেছে দুয়ারে ঝাঁপ দিয়া কার লগে শুইছিল।


তারপর বেধে যায় শাশুড়ী-জামাইয়ে। প্রথমে ময়নার মা

 ঠাণ্ডা মাথায় নরম কথায় ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা

 করে, কিন্তু জগমোহনের ওই এক গোঁ! ময়নার মাও শেষে

 গরম হয়ে ওঠো বলে, তুমি নিজে মন্দ, অন্যেরে তাই মন্দ

 ভাবো। উঠানে মাইনষের গাদা, আমি খাড়া সামনে,

 একদণ্ড ঝাঁপটা দিছে কি না দিছে, তুমি দোষ ধরলা!

 অন্যে তো কয় না?


অন্যের কি? অন্যের বৌ হইলে কইতো।


ড় ছোট মন তোমারা আইজ মণ্ডলের নামে এমন কথা

 কইলা, কাইল কইবা জুয়ান ভায়ের লগে ক্যান কথা কয়।


কওন উচিত। ও মাইয়া সব পারে।


তখন আর শুধু গরম কথা নয়, ময়নার মা গলা ছেড়ে

 উদ্ধার করতে আরম্ভ করে জগমোহনের চোদ্দপুরুষ

 হারাণ কাঁপা গলায় চেঁচায়, আইছে নাকি? আইছে

 হারামজাদা? হায় ভগবান আইছে? ময়না কাঁদে ফুঁপিয়ে

 ফুঁপিয়ে ছুটে আসে পাড়াবেড়ানি নিন্দাছড়ানি নিতাই

 পালের বৌ আর প্রতিবেশী কয়েকজন স্ত্রীলোক।


কি হইছে গো ময়নার মা? নিতাই পালের বৌ শুধায়, মাইয়া কাঁদে ক্যান?


তাদের দেখে সম্বিৎ ফিরে পায় ময়নার মা, ফোঁস করে ওঠে,কাঁদে ক্যান? ভাইটারে ধইরা নিছে, কাঁদব না?


জামাই বুঝি আইছে খবর পাইয়া?


শুনবা বাছা, শুনবা। বইতে দাও, জিরাইতে দাও।


ময়নার মার বিরক্তি দেখে ধীরে ধীরে অনিচ্ছুক পদে

 মেয়েরা ফিরে যায়। তাকে ঘাঁটাবার সাহস কারো নেই।

 ময়নার মা মেয়েকে ধমক দেয়, কাঁদিস না। বাপেরে নিয়া

 ঘরে গেছিলি, বেশ করিছিলি, কাঁদনের কি?


বাপ নাকি? জগমোহন বলে ব্যঙ্গ করে। বাপ না? মণ্ডল

 দশটা গাঁয়ের বাপা খালি জম্মো দিলেই বাপ হয় না, অন্ন

 দিলেও হয়। মণ্ডল আমাগো অন্ন দিছে। আমাগো

 বুঝাইছে, সাহস দিছে, একসাথ করছে, ধান কাটাইছে।

 না তো চণ্ডী ঘোষ নিত বেবাক ধানা তোমারে কই জগু,

 হাতে ধইরা কই, বুইঝা দ্যাখো, মিছা গোসা কইরো না।



বুইঝা কাম নাই। অখন যাই।


রাইতটা থাইকা যাও। জামাই আইলা, গেল। গিয়া,

 মাইনষে কি কইব?


জামাইয়ের অভাব কি। মাইয়া আছে, কত জামাই জুটবো।


বেলা শেষ হতে না হতে ঘনিয়ে এসেছে শীতের সন্ধ্যা অল্প

 অল্প কুয়াশা নেমেছে। খুঁটের ধোঁয়া ও গন্ধে নিশ্চল বাতাস

 ভারি। যাই বলেই যে গা তোলে জগমোহন তা নয়। ময়নার

 মারও তা জানা আছে যে শুধু শাশুড়ীর সঙ্গে ঝগড়া করে

 যাই বলেই জামাই গট গট করে বেরিয়ে যাবে না। ময়নার

 সাথে বোঝাপড়া, ময়নাকে কাঁদানো, এখনো বাকি

 আছে। যদি যায় জামাই, মেয়েটাকে নাকের জলে

 চোখের জলে এক করিয়ে তারপর যাবে। আর কথা বলে

 না ময়নার মা, আস্তে আস্তে উঠে বেরিয়ে যায় বাড়ী

 থেকে। ঘরে কিছু নেই, মোয়ামুড়ি কিছু যোগাড় করতে

 হবে। খাক বা না খাক সামনে ধরে দিতেই হবে

 জামাইয়ের।


চোখ মুছে নাক ঝেড়ে ময়না বলে ভয়ে ভয়ে, ঘরে আস।


খাসা আছি। শুইছিলা তো?


না, মা কালীর কিরা, শুই নাই। মার কওনে খালি ঝাঁপটি দিছিলাম, বাঁশটাও লাগাই নাই।


ঝাঁপ দিছিলা, শোও নাই। বেউলা সতী!


ময়না তখন কাঁদে।


তোমার লগে আইজ থেইকা শেষ।


ময়না আরও কাঁদে।


ঘর থেকে হারাণ কাঁপা গলায় হাঁকে, আসে নাই? ছোঁড়া

 আসে নাই? হায় ভগবান! থেমে থেমে এক একটা কথা

 বলে যায় জগমোহন, না থেমে অবিরাম কেঁদে চলে

 ময়না, যতক্ষণ না কান্নাটা একঘেয়ে লাগে জগমোহনের।

 তখন কিছুক্ষণ সে চুপ করে থাকে। মুড়িমোয়া যোগাড়

 করে পাড়া ঘুরে ময়নার মা যখন ফিরে আসে, ময়না তখন

 চাপা সুরে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। বেড়ার বাইরে সুপারি

 গাছটা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ময়নার মা সারাদিন পরে এখন

 তার দু’চোখ জলে ভরে যায়। জোতদারের সাথে, দারোগা

 পুলিশের সাথে লড়াই করা চলে, অবুঝ পাষণ্ড

 জামাইয়ের সাথে লড়াই নেই!


আপন মনে আবার হাঁকে হারাণ, আসে নাই? মোর মরণটা আসে নাই? হায় ভগবান!


জগমোহন চুপ করে ছিল, এতক্ষণ পরে হঠাৎ সে

 জিজ্ঞাসা করে শালার খবর। —উয়ারে ধরছে ক্যান?


ময়নার কান্না থিতিয়ে এসেছিল, সে বলে, মণ্ডলখুড়ার

 লগে গোঁদল পাড়া গেছিল, ফিরতি পথে একা পাইয়া ধরছে।


ক্যান ধরছে?


কাইল জব্দ হইছে, সেই রাগে বুঝি।


বসে বসে কি ভাবে জগমোহন, আর কাঁদায় না ময়নাকো

 ময়নার মা ভেতরে আসে, কাঁসিতে মুড়ি আর মোয়া খেতে

 দেয় জামাইকে, বলে, মাথা খাও, মুখে দাও।


আবার বলে, রাইত কইরা ক্যান যাইবা বাবা? থাইকা যাও।


থাকনের বোনাই। মা দিব্যি দিছে।


তবে খাইয়া যাও? আখা ধরাই? পোলাটারে ধইরে নিছে, পরাণ পোড়ায়। তোমারে রাইখা জুড়ামু ভাবছিলাম।


না, রাইত বাড়ে।


আবার কবে আইবা?


দেখি।



উঠি-উঠি করেও দেরি হয়। তারপর আজ সন্ধ্যারাতেই

 পুলিশ হানার সেইরকম সোর ওঠে কাল মাঝরাত্রির মতো।

 সদলবলে মন্মথ আবার আচমকা হানা দিয়েছে। আজ তার সঙ্গের শক্তি কালের চেয়ে অনেক বেশী। তার চোখ সাদা।


সোজাসুজি প্রথমেই হারাণের বাড়ী।


 কি গো মণ্ডলের শাশুড়ী, মন্মথ বলে ময়নার মাকে, জামাই কোথা?


ময়নার মা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।


এটা আবার কে?


জামাই ময়নার মা বলে।


বাঃ, তোর তো মাগী ভাগ্যি ভাল, রোজ নতুন নতুন জামাই জোটে। আর তুই ছুঁড়ি এই বয়সে–


হাতটা বাড়িয়েছিল মন্মথ রসিকতার সঙ্গে ময়নার থুতনি ধরে আদর করে একটু নেড়ে দিতো। তাকে পর্যন্ত চমকে দিয়ে জগমোহন লাফিয়ে এসে ময়নাকে আড়াল করে গর্জে ওঠে, মুখ সামলাইয়া কথা কইবেন!


বাড়ীর সকলকে, বুড়ো হারাণকে পর্যন্ত, গ্রেফতার করে

 আসামী নিয়ে রওনা দেবার সময় মন্মথ দেখতে পায়

 কালকের মতো না হলেও লোক মন্দ জমেনি। দলে দলে

 লোক ছুটে আসছে চারিদিক থেকে, জমায়েত মিনিটে

 মিনিটে বড় হচ্ছে। মথুরার ঘর পার হয়ে পানা পুকুরটা

 পর্যন্ত গিয়ে আর এগোনো যায় না। কালের চেয়ে সাত-

আটগুণ বেশী লোক পথ আটকায়। রাত বেশী হয়নি, শুধু

 এগাঁয়ের নয়, আশেপাশের গাঁয়ের লোক ছুটে এসেছে।

 এটা ভাবতে পারেনি মন্মথ। মণ্ডলের জন্য হলে মানে

 বোঝা যেত, হারাণের বাড়ীর লোকের জন্য চারদিকের গাঁ

 ভেঙে মানুষ এসেছে! মানুষের সমুদ্র, ঝড়ের উত্তাল


 সমুদ্রের সঙ্গে লড়া যায় না। ময়না তাড়াতাড়ি আঁচল

 দিয়েই রক্ত মুছিয়ে দিতে আরম্ভ করে জগমোহনের।

 নব্বই বছরের বুড়ো হারাণ সেইখানে মাটিতে মেয়ের

 কোলে এলিয়ে নাতির জন্য উতলা হয়ে কাঁপা গলায়

 বলে, ছোঁড়া গেল কই? কই গেল? হায় ভগবান!


_________________________________________________




গল্প টি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/haimanti-rabindranath-tagore-story.html



ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ৬৪১ টেকনিশিয়ান নিয়োগ || Indian Agricultural research Institute recruitment 2022 || government jobs news 2022

 

মাধ্যমিক ছেলে মেয়ে দের জন্




***ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ৬৪১ টেকনিশিয়ান***




আই.সি.এ.আর. ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ

 ইনস্টিটিউট সারা ভারতের বিভিন্ন রিজিওন্যাল অফিসে

 কাজের জন্য ‘টেকনিশিয়ান (T-1)' পদে ৬৪১ জন

 ছেলেমেয়ে নিচ্ছে। 


মাধ্যমিক পাশরা আবেদন করতে পারেন।

বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তপশিলীরা ৫

 বছর, ও.বি.সি.'রা ৩ বছর ও প্রতিবন্ধীরা যথারীতি বয়সে

 ছাড় পাবেন।


মূল মাইনে : ২১,৭০০ টাকা।


শূন্যপদ : ৬৪১টি (জেনাঃ ২৮৬, ও.বি.সি. ১৩৩,

 সি.ডব্লু.এস. ৬১, তঃজাঃ ৯৩, তঃউঃজাঃ ৬৮)। শূন্যপদের

 সংখ্যা প্রয়োজনে বদল হতে পারে।

এই পদের বিজ্ঞপ্তি নং: 1-1/2021 Recit

 Cell/Technician



প্রার্থী বাছাই হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। ১০০ নম্বরের

 দেড় ঘন্টার পরীক্ষায় অবজেক্টিভ মাল্টিপল চয়েজ

 টাইপের প্রশ্ন থাকবে এইসব বিষয় (১) জেনারেল নলেজ

 ২৫ নম্বর, (২) অঙ্ক ২৫ নম্বর,

(৩) সায়েন্স ২৫ নম্বর, (৪) সোশ্যাল সায়েন্স ২৫ নম্বর।



দরখাস্ত করবেন অনলাইনে, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১০

 জানুয়ারি পর্যন্ত।


এই ওয়েবসাইটে -- www.iari.res.in 


 বৈধ ই-মেল আই.ডি. থাকতে হবে। এছাড়াও পাশপোর্ট

 মাপের ফটো ও সিগনেচার স্ক্যান করে নেবেন। প্রথমে

 ওপরের ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে যাবতীয় তথ্য দিয়ে

 সাবমিট করলেই নাম রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে। তারপর

 স্ক্যান করা প্রমাণপত্র আপলোড করবেন। তখন পরীক্ষা

 ফী বাবদ নির্দিষ্ট টাকা দেবেন।


আরো বিস্তারিত তথ্য পাবেন এই ওয়েবসাইটেে--

www.iari.res.in


______________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/duare-sarkar-new-requirements.html


_______________________________________________



সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--

https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/sbi-new-recruitment-2022-state-bank-of.html


______________________________________________



সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--

https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/asha-karmi-recruitment-2022.html

Monday, December 20, 2021

দুয়ারে সরকার প্রকল্পে ১০০০০ কর্মী নিয়োগ || Duare Sarkar new requirements || দুয়ারে সরকার প্রকল্পে নিয়োগ || government jobs news 2022




 **পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুয়ারে সরকার প্রকল্পে 10 হাজার চাকরির ব্যবস্থা**

 

 


এতদিন দুয়ারে সরকার প্রকল্প ছিল একটি সরকারি পরিষেবা

 মাত্র , কিন্তু এবার বেকার যুবক যুবতীদের সরকারি চাকরির

 সুযোগ করে দেবে এই দুয়ারে সরকার প্রকল্প। এই উদ্যোগটি

 গ্রহণ করা হয়েছে কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে।

 বেকার যুবক যুবতীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে

 সরাসরি কর্মে নিযুক্ত করা হবে দুয়ারে সরকার শিবিরে।

 আসন্ন এই শিবির টি অনুষ্ঠিত হবে জানুয়ারি মাসে।

 ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে "ডিরেক্টর অফ

 ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং" সংস্থা। কারিগরি শিক্ষা

 দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে,

 প্রথম পর্যায়ে রাজ্যে 10000 কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে

 রাজ্য সরকার। কিন্তু পরবর্তীকালে এই কর্মী নিয়োগ সংখ্যা

 আরো বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে।

 



ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার

 একটি অ্যাপ লঞ্চ করেছে যার নাম 'আমার কর্মদিশা'। এই

 অ্যাপ এর একমাত্র লক্ষ্য হল বেকার যুবক-যুবতীদের

 প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে

 দেওয়া। চাকরিপ্রার্থীরা এই অ্যাপ এর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য

 সংগ্রহ করতে পারবে ও এর ব্যাপারে আলোকপাত করতে

 পারবে আসন্ন জানুয়ারি মাসের দুয়ারের সরকার শিবিরে। ওই

 দুয়ারে সরকার শিবিরে বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষক

 ও ইন্সট্রাক্টর থাকবেন যারা চাকরিপ্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য

 দিয়ে সহায়তা করবেন এবং একই সঙ্গে ওই শিবিরে

 কাউন্সিলারের ভূমিকা পালন করবেন। ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে

 ও ব্লক স্তরে এই কাউন্সিলরদের 2885 জনের একটি তালিকা

 তৈরি করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি জেলায় একজন করে

 প্রজেক্ট ম্যানেজার ও দায়িত্বে থাকবেন। একমাত্র বেকার

 যুবক যুবতীদের কথা ভেবেই দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে

 সরাসরি চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।




মন্ত্রীসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখানে

 আপনাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উপরন্তু

 সরকার আপনাকে প্রশিক্ষণ চলাকালীন মাসিক ভাতার

 ব্যবস্থা করে দেবে। রাজ্য সরকার নিজেই প্রশিক্ষণ শেষে

 আপনাদের সরাসরি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। এখানে

 সরকার দ্বারা চাকরি করার সুযোগ দেওয়া হবে ছেলে ও

 মেয়ে উভয়কেই। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারের চিন্তা ভাবনা

 ছিল এইরকম একটি প্রকল্প তৈরি করার কিন্তু করোনা

 পরিস্থিতিতে সরকার তা করে উঠতে পারেনি। অবশেষে

 আসন্ন জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা দুয়ারে সরকার

 শিবিরের মাধ্যমে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এর দ্বারা রাজ্য সরকার

 সকল বেকার যুবক যুবতীদের কর্মমুখী করে তোলার জন্য

 উদ্যোগী হয়েছে।


___________________________________________________






সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--

https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/sbi-new-recruitment-2022-state-bank-of.html


________________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন ---

https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/aiims-c-kalyani-aiims-recruitment-2022.html


_________________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/asha-karmi-recruitment-2022.html

Sunday, December 19, 2021

Photography || Dr Atef kheir


 

Photography || Sohini Shabnam


 

Photography || Moushumi chandra

 


Photography || Nilanjan de


 

Photography || Amit pal

 


গদ্য || প্রতিবন্ধী || প্রদীপ কুমার লাহিড়ী

প্রতিবন্ধী



আমরা যারা শরীরের বিভিন্ন অর্গান হারিয়ে প্রতিবন্ধী জীবনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছি আবার আমাদের মধ্যে অনেক আছেন যারা সো বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়ে ছেন তারই একটা চেষ্টা তুলে ধরলাম আমার লেখার মাধ্যমে l

কি কোইন্সিডেন্স !১৯৯২ এএপ্রিল বিশ্ব বছর আর ১৯৯২ এপ্রিলএ ক্যান্সারে আমার কণ্ঠনালী চিরকালের মতো হারাতে হয় l যদিও সরকার আমাদের প্রতিবন্ধী মনে করেননি,

আর ভারত বা বিশ্বের কোনো মেডিকেল হেল্প ছিলোনা, যা আমাকে কথা ফেরত পাবার উপায় বলতে পারে , অবশ্য আর্টিফিশিয়াল যান্ত্রিক সাহায্য ব্যতীত l

তাই আমাকে বহুদিন বোবাজীবন বইতে হয় নির্বাক প্রতিবন্ধী হয়ে l

মনুষ্যত্বের অসীম আশীর্বাদে আমি

 খাদ্য নালীকে মিডিয়াম হিসেবে ধরে কাজ চালানোর মতো কথা বলতে শিখি l কালক্রমে প্রায় স্বাভাবিক কথা বলা শিখে যাই l আর বহু লোককে, আমার মতো, দেশে বিদেশে শিখিয়ে আসছি , বহুবছর ধরে l

এমনকি স্পিচ থেরাপিস্টরা ও আসেন, এটার ট্রেনিং নিতে আমার প্রতিষ্টিত একটি ক্ষুদ্র সংস্থার মাধ্যমে l

 কিন্তু বাস্তবিক বিচারে একটা ভাইটাল অর্গান যখন আমার নেই তাই একদিক থেকে আমি ও প্রতিবন্ধী l

 তাই সমস্ত পৃথিবীর প্রতিবন্ধী দের জন্যে আমি মর্মবেদনা অনুভব করি l

আজকের দিনে এই কথা গুলি পাবলিকলি জানাতে পেরে মনটা খুব হালকা লাগছে আশা করি এই অপ্রচারিত একটি অবাক করার উপায় 

সহজেই রপ্ত করা যায় যদি নিজের ওপর আস্থা থাকে এত এই বিরল প্রচেষ্টা আমারি শুধু দিতে পারি সংস্থার মাধ্যমে বিনা পারিশ্রমিকে এত আমাদের অহংকার !

রম্যরচনা || তাড়ির কড়চা || অরবিন্দ সরকার

তাড়ির কড়চা

                



কান্দি থানার একেবারে শেষের গ্রাম পলশী। গ্রামের পরেই বিল তেলকর।বন্যায় বর্ষায় ফসল হয়না তবে গ্রামে বন্যার জল প্রবেশ করে না।

বছরে তখনকার দিনে একবারই ফসল হতো।আমন ধান বৃষ্টির জলে উঁচু জমিতে। বন্যায় ডুবে যাওয়া জমিতে খেসারি, মসুর, মটরশুঁটি, ইত্যাদি চাষ হতো।


জানকি মন্ডলের ছেলে তারাপদ তালগাছে তাড়ির চাষ করে।হালে বিয়ে হয়েছে জামনা নামক গ্রামে। মানুষের চৈত্র বৈশাখ মাসে কাজ থাকে না।তাই অভাব লেগেই থাকতো সেসময়। গাছের তাড়ি খেয়েই তাদের উদর পূর্ণ হতো।কচুর শাক, লতাপাতার তরকারি ইত্যাদি সহযোগে তাড়ি সেবা হতো।কেউ কেউ বিল কাঁকড়া, কাদামাছ ধরে রান্না করতো,অথবা মরাবিলে গুগলি শামুক ঝিনুক খাদ্য।


তালের গাছের মালিক কিন্তু মোড়লেরা। তাদের জমির আইলে, পুকুর পাড়ে প্রচুর তালের গাছ। মোড়লের ছেলেরা তেল মেখে চান করার সময় ওদের বাড়িতে বাড়িতে তাড়ি খেয়ে চুপিসারে নিজবাড়ি ফিরে ভাত খেয়ে ঘুম।কেউ কেউ বাড়ি ফিরতো না। মুড়ি গামছায় বেঁধে নিয়ে তাদের দিত ও তাড়ি খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে ওদের বৌয়ের সঙ্গে একটু মেশা মিশি করতো।


সেদিন তারাপদ মাঠ থেকে শামুক গুগলি এনে তার বৌকে বললো এগুলো বেছে রান্না করো। আমি গায়ের কাদা ধুয়ে চান করে পরিষ্কার হ'য়ে আসি।

চান করে গোয়াল ঘরে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ। হ্যাঁ গো ভাগু ! (ভাগ্যবতী নাম) বাড়িতে কে এসেছিল? তাড়ির ভাঁড় যে শুন্য।

ভাগু বললো - তুমি তো না শুনেই চান করতে দৌড়ালে? বলি কি যাদের তাড়ি তারায় খেয়েছে?

তারাপদ তাকে তারু বলেই সবাই ডাকে ? তারু পেটের খিদে তার উপর ওর নাম বলছে তাড়ি! 

একটা গরু চড়ানো পাঁচন দিয়ে পিঠে দুই সাট্ । পাঁচন দিয়ে আঘাতকে সাট্ বলে।

ভাগা শালীর বিটি শালী! কে খেয়েছে আর একবার বল্ ?

ভাগু- বললাম তো যাদের তাড়ি তারায় খেয়েছে তুমি জানকি?

এবার তারু পাঁচন নিয়ে ঘা মেরেই যায়।বলে শালি আমার নাম করছিস্ আবার আমার বাবার নাম করছিস্ জানকি? তোর একদিন কি আমার একদিন। এভাবে ভাগুকে মেরেই চলেছে।ভাগু হাত পা ছড়িয়ে উঠোনে পড়ে গেলো! পাড়াময় লোক ছুটে এসে ভাদুকে চেপে ধরে।যেন আর আঘাত না লাগে। 

এবার তারাপদ চেঁচিয়ে বললো - নষ্টা মেয়ে।সবাই মিলে তোকে চেপে ধরছে আর তুই মজা লুঠছিস্ ? পাড়ার লোকেরা তারাপদর পাঁচন কেড়ে নিয়ে সপাটে গালে চড় থাপ্পর মারতে লাগলো।

তারাপদ- তোমাদের কে ডেকেছে আমার বাড়ীতে? বেরোও বাড়ী থেকে? 

এক পড়শি বললো কেন মারছিস্ তোর বৌকে? খাওয়াবার ক্ষমতা নাই তার উপর মার।

তারাপদ- তোমরা জান ও আমার নাম বলছে আবার আমার মড়া বাবা জানকীর নাম তুলছে? স্বামীর নাম কেউ করে? না শ্বশুরের নাম করতে আছে? ওকে জিজ্ঞাসা করো।

ভাগু আধমরা হয়ে পড়ে আছে।ওকে সবাই তুলে ধরে জিজ্ঞেস করলো - মা বলতো কি হয়েছে? 

তখনই তারাপদ চেঁচিয়ে বললো বল শালী কে খেয়েছে?

ভাগু - তারস্বরে বললো , কতবার বলবো তোমাকে যে যাদের তাড়ি তারায় খেয়েছে? তুমি জান কি?

তারাপদ - এবার মারতে উদ্যত হ'লে সকলে তাকে জড়িয়ে ধরলো।

সকলেই বললো - তাড়ির নামের সঙ্গে তারাপদ নামের মিল নাই।আর তোমার মরাবাবা এখানে নাই।সে সগ্গে গেছে। জানো - কি? এর সঙ্গে জানকির অনেক তফাৎ।


ভাগু এবার সবার কাছে বললো আমি আর এর ভাত খাবো না! আমি বাপের বাড়ি চলে যাবো! সকলের নিষেধ অমান্য করে ভাগু বাড়ীর বাইরে বেরিয়ে এলো।

তারু তাড়াতাড়ি ওর পায়ের কাছে পড়ে বললো - আমার ভাত খাবিনা বলছিস্ ? ভাত তো দিতেই পারি না! তুই আমার কাছে সালুন খেয়েই থাক্। ভাগুর পা আর ওঠে না! চেপে ধরা আছে।

ভাগু- ছিঃ ছিঃ! তুমি স্বামী! আমার পায়ে হাত দিলে যে আমি মহাপাতকিনী হবো। ঠিক আছে আমি আর যাবো না। তোমারই থাকবো।

রম্যরচনা || অন্তরা || সুজিত চট্টোপাধ্যায়

 অন্তরা 



সেই গানটা মনে আছে , 

" তুমি আর আমি শুধু জীবনের খেলাঘর হাসি আর গানে ভ`রে তুলবো ,

 যত ব্যথা দুজনেই ভুলবো "

 গায়ক শ্যামল মিত্র , 

মনে আছে ? 

আচ্ছা , বলুন দেখি এখানে তুমি আর আমি বলতে কোন দু'জন কে বোঝানো হয়েছে ? নিঃসন্দেহে বলা যায় , রোমান্টিক গান সুতরাং প্রেমিক প্রেমিকার ব্যাপার। এখানে বাবা মা ভাই বোন বা অন্য কেউ না শুধুই ভালবাসার কপোত-কপোতী দের মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে। 

" যত ব্যথা দুজনেই ভুলবো "

অর্থাৎ অন্য কারোর ব্যথায় ব্যথিত হবার কোনও দায় নেই। শুধুমাত্র দু'জন দু-জনের ব্যথায় ভোলিনি মলম বুলিয়ে ভুলিয়ে দেবো। দুনিয়া ভোগে যাক। 

এ-ই যে যুগলবন্দী ঘুপচি প্রেম, এর স্থায়িত্ব সম্মন্ধে কেমন যেন সন্দেহ জাগে , তাইনা ?

তুমি আমার আমি তোমার মার্কা এই একবগগা প্রেম, ভ্যানিশ হতে খুব বেশি সময় নেয় না। তুমি আমির ন্যাকামি তখন ঘোর কাটিয়ে রণংদেহী। লাগ লাগ ভেলকি লাগ ,,,,,,,,। 

এবার একঘেয়েমির পালা। সেই একঘেয়েমির দমবন্ধ দশা কাটাতে তৃতীয় কারোর উপস্থিতি চাহিদা তুঙ্গে উঠতে লেগেছে। 

সেইসময় ও-ই শ্যামল মিত্রের গান , মেশিনগান হয়ে বুকে শেল হয়ে বিধছে।  


বেশ ,, ধরা গেল ইচ্ছে হয়ে যে ছিল মনের মাঝারে সে সশরীরে এসে গেল এই ধরাতলে। এইবারে অনিবার্য ভাবেই যত প্রেম ভালবাসা ভাললাগা,,,, উউম আউম চুউম চাউম সব গিয়ে জড়ো হলো সেই নবাগতের চারপাশে। এখন তাকে ঘিরেই যাবতীয় সব। ব্যথাও সেখানে সুখও সেখানে। 

তাহলে শ্যামল মিত্রের গানের সেই গদগদ বাণী " তুমি আর আমি শুধু জীবনের খেলাঘর " , তার কী হবে ? 

খেলাঘর এখন তৃতীয় প্রাণীর কব্জায়। জীবনের খেলাঘর এখন রাতজাগা আঁতুড়ঘর।  

মনের লুকোনো কুঠুরি তে চাপা অনভিজ্ঞতার আক্ষেপ মাঝেমাঝেই সংলাপ হয়ে বেরিয়ে আসছে,,,, 

" দু'একজন বয়স্ক কেউ থাকলে ভালো হতো। ওরা সব জানে বোঝে কিনা। "

পুনরায় প্রমাণ হলো অভিজ্ঞতা বড়ই মহার্ঘ্য । 

জীবনে চলার পথে অপরিহার্য । ভালবাসায় না হোক স্বার্থের চাহিদায় তো বটেই । 


" জীবনের খেলাঘর হাসি আর গানে ভ`রে তুলবো।"  

হায়রে , বাস্তব বড়ই কঠিন নিষ্ঠুর। কপোত-কপোতীর মোহ ভাঙা জটিল হিসেবি মনের মধ্যে জ্বলজ্বল করছে দু-একটি অতি পরিচিত অবহেলিত ভাঙ্গাচোরা মুখের ছবি ।

"দেখা হয় নাই দুই পা ফেলিয়া "

হায় ভবিতব্য ,, যারা ছিল তারা নেই। 

যে ছিলনা সে শুয়ে শুয়ে হাত-পা ছুঁড়ছে । 

অজানা ভবিষ্যৎ এর দূত কাঁদছে। 

এখন গাওয়া যেতেই পারে গানের অন্তরা,, 

" শুধু বলো তুমি কি গো জানতে 

যেতে যেতে এই পথ  

শেষ হবে কোনও মরুপ্রান্তে ? "