Monday, February 7, 2022
রম্যরচনা || একান্নবর্তী নাকি অনু পরিবার || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন
একান্নবর্তী নাকি অনু পরিবার
পরিবার যদি যৌথ হয় অনেক কিছুই সহজলভ্য হয়। তাতে হয়তো কাউকে সামান্য আত্মকেন্দ্রিকতাকে বিসর্জন দিতে হয় কিন্তু লাভ হয় মানসিকতার এবং অনেক যৌথ প্রকল্পের।
অনু পরিবারে যেটা কখনোই সম্ভব নয়। ফলে অনু পরিবারের মানুষদের সন্তানেরা বেশি মাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারে সহজেই-- অন্যজনের তাতে কতটা ক্ষতি হলো তাদের কিছু যায় আসে না।
ভীষণভাবে স্বার্থপর জীবন যাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাবা মা জীবিত থাকলে তাদেরকে বোঝা মনে করে সবকিছুই ব্যাঙ্কের দোরগোড়ায় জমা দিয়ে বাবা মাকে ঠকিয়ে কাজ হাসিল করতে চায়। কতটা সম্পত্তি তার হিসাব করে নিজের দখলে আনতে বাবা মাকে নির্বিচারে মানসিক চাপ দিতে ব্যস্ত হয়।। এরা অবশ্যই বেশিরভাগই "শিক্ষিত সম্প্রদায়ের। যার জন্যে বাবা মা অনেক জটিল পরিস্থিতিতেও তাকে শিক্ষিত করলো তার হিসেব না রেখে বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রম পর্যন্ত ঠেলে দিতেও কুণ্ঠা করেনা বরং আনন্দই পায়। এরা বর্তমানে সামাজিক স্বীকৃতি পেয়ে বড় লিডার ( নেতা) সেজে বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাবা বা মা কী খেল এবং আদৌ খেল কিনা তাদের খবর নেবার সময়ই হয় না তাদের। অনেক বিদ্বজ্জন অবশ্য বলেন তারাও পরবর্তী জীবনে একই জ্বালা যন্ত্রনা ভোগ করবে। এব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত মত হলো কাউকে শাস্তি দিতে কানমূলে দিলে সেই ব্যক্তি যদি অন্যজনের কানের দেয় সেটা কি প্রথমজন বুঝতে পারলো কানমূলে দেবার যন্ত্রনা বা জ্বালা! অতএব এ পরম্পরা না থাকাই ভালো। বরং ছেলে একান্নবর্তী থেকে অন্যান্য ফ্যামিলি মেম্বারের খেয়াল রাখুক; একান্নবর্তী হোক্। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে পুত্র সন্তানের মোহে মানুষ কন্যা ভ্রুণ হত্যা করছে। কিন্তু ভেবে দেখুন--- মেয়েরা সম্পত্তির লোভে এতটা নৃশংস হয়না বোধহয়।
একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের হাসি ঠাট্টা খুবই মজার বিষয় হয়ে আনন্দ বৃদ্ধি করে। তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেনা কেউ কাউকেই। হ্যাঁ, একান্নবর্তী থাকার সুবাদে কেউ হয়তো শারীরিক ভাবে ততটা শ্রম দিতে পারে না। কিন্তু সেটাও ধর্তব্যের মধ্যে ধরা হয় না। দাদা দিদি কাকা কাকীমা, জ্যেঠা জ্যাঠাইমা, ঠাকুমা, দাদুর আদর থেকে বঞ্চিত হয় না বরং লাভবান হয়। সামান্য তম স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পরম প্রাপ্তি হয়। যৌথ পরিবার এখন যদিও দুঃস্বপ্নের -- তবুও ক্ষমতাহীন নয়। অনুসারে পরিবারের ঢেউ অবশ্যম্ভাবী ভাবে একদিন নষ্ট হবেই হবে। নদীর স্রোত বাধা পেলে যেমন সে গতিপথ খুঁজে আরও জোরালো হতে চায় তেমনি এই যুগের অনুসারে পরিবারের স্রোত গতি পথ বদলাবে -- এ ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী।
রম্যরচনা || সংকল্প এবং আমরা || সামসুজ জামান
সংকল্প এবং আমরা
সেই ছোট্ট বেলায় স্কুলের প্রার্থনার সময় থেকে আমরা সংকল্প করার নামে এর এত অপব্যবহার করি যে শেষ পর্যন্ত সংকল্পের মাধুর্যতাই আর আমাদের আকৃষ্ট করেনা । শব্দটা এলোমেলো ব্যবহারে ক্লিষ্ট হয়ে বোধহয় তার ব্যঞ্জনাটুকুও হারিয়ে ফেলে। অথচ তা হওয়ার কথা নয়। মণিমাণিক্যের থেকেও দামী এই শব্দবন্ধ আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতই অপরিহার্য হয়ে থাকার কথা।
স্বামী বিবেকানন্দ এই সংকল্পের কথাটাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁর বাণীর মাধ্যমে - "Arise! Awake! and stop not until the goal is reached ". স্বপ্নের বাস্তবতা প্রাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনক্রমেই না থামার এই ইঙ্গিত সংকল্পের আদর্শ পন্থা। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, না শুধু বলেননি, একেবারে জীবন দিয়ে করে দেখিয়েছিলেন যে “ আমাদের প্রত্যেকটি ছোট ছোট কাজের জন্যেও সংকল্প থাকা উচিত”। এই সংকল্প কি তিনি অন্য নামে বলেছেন-"করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে"। ভারতবর্ষের নারী শক্তির প্রকৃত ধারাবাহিক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী একেই অন্য ভাষায় বলেছেন -"কঠোর পরিশ্রমের কোন বিকল্প নাই"। "কথা কম, কাজ বেশি" এই মন্ত্রের মাধ্যমেও ইন্দিরা গান্ধী সেই সংকল্পের ই পুনর্ঘোষণা করেছেন। মুখ থেকে যে বাক্যটি নির্গত হয়েছে, যে কোন মূল্যে তাকে পরিপূরণ করতেই হবে এই ছিল তাঁর বাণী। কিন্তু সে কথার মর্যাদারক্ষার ভাবনা কি আমাদের মর্মেও স্থান পায়? প্রতিদিন তাই সংকল্প আর বিশ্বাসভঙ্গের হাজার হাজার ফুলঝুরি।
সংকল্পরক্ষার আদর্শে আমার বাবা তাঁর নিজের কাকার জীবনাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন। নিজের ছাত্রাবস্থাতে দেশমায়ের শৃঙ্খল মোচনের সংকল্পরক্ষায় বিদ্যাশিক্ষা বিসর্জন দিয়েও নিজের পথে অটুট ছিলেন এবং এর জন্যে তাঁকে মূল্যও কিছু কম চোকাতে হয়নি। কেস চালাতে বিক্রী হয়ে যাওয়া জমিজমার শোকে শিক্ষায় অনগ্রসর ঠাকুমা , বাবাকে চোর-ডাকাতের মতই দেখতেন। তবে বাবার সেই সংকল্পকে আমি শ্রদ্ধা করি। তাইতো কাউকে কথা দিলে কথার খেলাপ করতে মন ছিঁড়ে যায় আজও। এইজন্যেই শিক্ষকতার পেশা নিয়ে চেষ্টা করেছি সংকল্পে অটুট থাকার। এই সংকল্পের গুণেই ছাত্র-ছাত্রীদের মণিকোঠায় আজও এত সমাদর!! সংকল্প কথাটি বড় ছোট্ট কিন্তু তার ব্যঞ্জনা বড় সুদূরপ্রসারী।
গল্প || তৃতীয় নয়ন || ডঃ রমলা মুখার্জী
তৃতীয় নয়ন
জন্মান্ধ অর্কর জন্যে ওর গরীব বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ নেই। তাঁদের অবর্তমানে পরাধীন হয়ে অর্ককে জীবন কাটাতে হবে। হয় তো ভিক্ষা করেই খাবার জোটাতে হবে তাকে!
অর্ক কিন্তু হারে না। বহু লড়াই করে, অন্ধবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শিখে অবশেষে সে প্রতিবন্ধী কোটায় একটি স্কুলে চাকরি পায়।
নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তার মত অন্ধ গরীব বাচ্চাদেরও চোখে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আঁকার চেষ্টা করে চলে অর্ক অবিরত। বাড়িতে টেপ রেকর্ডার ও অন্যান্য শিক্ষণ-সহায়ক যন্ত্রপাতির সাহায্যে অন্ধ ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা বেতনে পড়ায় সে, আবৃত্তিও শেখায়।
গ্রামের সবাই গর্ব করে অর্ককে নিয়ে। মায়েরা তাদের সন্তানদের অর্ককে উপমা দিয়ে বলে, "দেখ তোরা চোখ থাকতেও অন্ধ, আর অর্ককে দেখ মনের আলোয় ও সবকিছু কত বেশি দেখে।"
অর্ক আবৃত্তিও করে ভারি চমৎকার! বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সে কিন্তু ছোট থেকেই আবৃত্তিতে প্রথম হয়ে আসছে। অর্কর বাবা বীরেণবাবু নাটকপাগল মানুষ, তিনি ছোট থেকেই ছেলেকে বহু কবির কবিতার ক্যাসেট নাটকের দল থেকে এনে তাঁর ছোট্ট টেপ রেকর্ডারে ছেলেকে শোনাতেন। অসম্ভব শ্রুতিধর অর্ক সেগুলি শুনে শুনেই মুখস্হ করে ফেলত। বীরেণবাবু ছেলেকে আবৃত্তিগুলি সুন্দর করে শিখিয়ে দিতেন। নাটক নাটক করে বীরেণবাবু কোনদিন কোন চাকরিতে যোগদান করেন নি। ফলে বৃদ্ধ বয়সে এখন তিনি প্রায় কপর্দকশূন্য।
বৃদ্ধ বাবা-মাকেও অর্ক মাথায় করে রেখেছে। অর্কের ছোট্ট সুন্দর বাড়িতে অর্কের ছেলে বুম্বাকে নিয়ে অর্কের বাবা-মায়ের শেষ জীবনটা পরম প্রশান্তিতে ভরে উঠেছে। বুম্বা ও পাড়ার আরও কয়েকটি কচি-কাঁচাকে নিয়ে বীরেণবাবু ইদানীং একটি শিশু-নাট্য দল "ক্ষুদে পালোয়ান" গড়ে তুলেছেন। টিভি, রেডিও, বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় তারা ছোটদের উপযোগী নানা শিক্ষামূলক নাটিকা প্রদর্শন করে।
অন্ধ বলে অর্কের স্ত্রী সুতপার মনেও প্রথমে একটা কিন্তু ছিল। গরীবের মেয়ে সুতপা, চার বোন তারা, সুতপাই সবার বড়। তার বাবা যখন দাবীহীন অন্ধ সুউপায়ী পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করলেন উপায়ান্তর না দেখেই বিয়েতে মত দিয়েছিল সুতপা। এখন কিন্তু সুতপার অর্ককে পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়। দৃষ্টি না থাকলে কি হবে তৃতীয় নয়নের আলোয় অর্ক যে একজন মহামানব!
অনুগল্প || দরদাম || সিদ্ধার্থ সিংহ
দরদাম
বাজারে সবজির দোকানে গিয়ে মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, টমেটো কত করে?
ছেলেটি বলল, আশি টাকা।
মেয়েটি বলল, আপনি দেখতে কী হ্যান্ডসাম...
ছেলেটি বলল, আশি টাকা।
--- আপনার চুলের স্টাইলটা কী সুন্দর...
ছেলেটি বলল, আশি টাকা।
--- আপনার বডিটা কিন্তু দারুণ...
ছেলেটি বলল, আশি টাকা।
--- আমি যদি এ রকম ছেলে পেতাম না... সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে করে নিতাম...
ছেলেটি এ বার রেগে গিয়ে বলল, আপনি আমাকে যতই পাম্প দিন, টমেটোর দাম কিন্তু এক টাকাও কমবে না।
Composition || LOVE, RELATION, WEAKNESS : A VIEW || Kunal Roy
LOVE, RELATION, WEAKNESS : A VIEW
'Do you like me? '. ' Do you love me?'. Questions like such often become the source of disgust. Is it easy to love some one? Is it easy to steal someone's heart? Is it easy to impress someone? I strongly feel, 'No'. But still misunderstanding and misinterpretation creep into a relationship. A relationship is built on the foundation of mutual trust and belief, but at times these two words lose their significance and the bond crumbles into pieces. If the beloved thanks a man with a smile on her face, her lover changes the echoes of his face and consequently there is a silent war between the two! But why? True love or something else? It is obsession and the fear of losing somebody who is his favourite gets him into the web of insecurity that paves the path for further suspicion and if possible an indulged crime! Little does he know that love demands space and wishes to breathe in the open air. If love is the termination of one's freedom, than it is better not to love, not to hug and not to make promises! If you really desire to be in someone's tender arms, than you should try to rise above the banalities of life to make your tomorrow a better one!!
Poem || Taking Care Of The Best Gem || Pavel Rahman
Taking Care Of The Best Gem
The almighty has given us many gems,
Do you know what is best among them?
The best gem is heart,
Who has that, take care
Of that – oh friend, it is my request.
To keep heart tidy
Body must be tidy.
To keep pure heart, keep your body pure.
কবিতা || হটাৎ যখন হলো দেখা || চাতক পাখি
হটাৎ যখন হলো দেখা
চারিদিকে ঘন কুয়াশা ,
বাসের ভিতর রয়েছি বসে
একমনে গান শুনছি হেডফোনে।
গাড়িও চলছে তার নিজের মতো করে
আর আমিও চারপাশ দেখতে দেখতে
ডুব দিয়েছি আপন মনে।
চারিদিক আঁধারে গেছে ছেয়ে
যেন প্রভাত কালে সন্ধ্যা নেমে আসে
সূর্যের মুখও যেন রয়েছে মেঘে ঢাকা ।
তাই পড়েছিল মনটা বেশ মুষড়ে
তারপরে কি জানি মনটা উঠলো নেচে
যখন হটাৎ করে হলো কারো দেখা।
না জানি এমনি এমনি
জানালার কাঁচ হলো স্বচ্ছ ,
যেন কত চেনা
চারপাশ কত পরিচিত।
যেন হটাৎ বাসের গতিও গেছে স্থির হয়ে
পলকের দেখায়,
যেন থমকে গেলো চারিদিক
আর আমিও হলাম স্থিত।
কবিতা || রাঢ়-বাংলার ছিলা || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী
রাঢ়-বাংলার ছিলা
রুখা মাথার ভূখা পেটের-
আমরা রাঢ় বাংলার ছিলা
বেদম ক্যষে খেলতে পারি
গুলি ডাংটার খেলা।
আঘন মাসে খেজুর গুড়ট,
দমে মারি চাট্যে
সোনা বউটা পাঁকাল ধানট,
ভালোই কাটে মাঠে।
গরম কালে গামছা বাঁধে,
ফুটাই পাহাড় টিলা
রুখা মাথার ভূখা পেটের
আমরা রাঢ় বাংলার ছিলা।
চিকন-চিকন পিরীত চোখে,
পড়লে রোদের ছিটা
কুখড়া ডাকা বহুল ফুলটা
বেবাক লাগে মিঠা।
খেজুর গাছের ভাড়টা ভাঙ্যে,
যুতাই মারি তাড়ি
উদাম ঘরে খড়ের ছাদন,
পাকাই পুয়াইল- দড়ি।
বাঁশের বাঁশি ভালোবাসি
বাঁজাই মাঠে -ঘাটে
হাজার রকম পাখির গানট,
এমনি যায় গো জুট্যে।
সাদাসিধা কাদার মানুষ,
যেন চিকন কালা
রুখা মাথার ভূখা পেটের
আমরা রাঢ় বাংলার ছিলা।
কবিতা || হে মা সরস্বতী || মঞ্জুলা বর
হে মা সরস্বতী
সরস্বতী মাগো আমার
বিদ্যা বুদ্ধি দিয়ো,
সবার মনে ঘুচাও আঁধার
হও গো সবার প্রিয়ো।
শুভ্র বস্ত্র গায়ে পরে
বসো পদ্মাসনে ,
হস্তে দেখি পুস্তক ধরে
থাকো সবার মনে।
জ্ঞানের আলো ঢেলে দিয়ে
আঁখি মেলে দেখো,
সবার কাছে পূজো নিয়ে
সুখে যেন রেখো।
বীণাপাণি এসে তুমি
করো জগৎ আলো,
ধন্য হবে আমার ভূমি
হবে সবার ভালো।
সবার মুখে ফোটাও হাসি
এসো মধুর ভবে ,
শান্তি ঢালো রাশি রাশি
সুখে থাকবে সবে।
কবিতা || সরস্বতী পূজোর সেকাল ও একাল || নীতা কবি মুখার্জী
সরস্বতী পূজোর সেকাল ও একাল
সরস্বতী ভারতী বিদ্যা দাও মা
জ্ঞান আর বুদ্ধিটা ঠিকঠাক রেখো মা
বাগদেবী নামে তোমায় সকলেই জানে যে
ছেলেবুড়ো, খোকাখুকু সক্বলে মানে যে
সরস্বতী পূজো মানে ছোটদের উদ্যোগ
সরস্বতী পূজো মানে চিঁড়ে-গুড় মাখা ভোগ।
ভোরবেলা উঠে পড়ে পূজো দিতে হবে যে
ইস্কুলে যেতে হবে, খিঁচুড়িটা খাবে যে
বাসন্তী শাড়ী পরে ফাংশানে গান গাই
সরস্বতী বন্দনা লিখে রেখো খাতাটায় ।
দিদিমনি শিখিয়েছেন নজরুল-গীতিটা
চলবে না ফ্লিম সং, মনে রেখো কথাটা
মনে পড়ে ছোটবেলা প্রেম-প্রেম খেলাটা
ছোট ছোট প্রেম চিঠি, আড্ডার বেলাটা।
সেইসব দিন ছিলো সরল আর সুন্দর
মাসতুতো-পিসতুতো ভাইবোনের কি কদর
হাসি-মজা গান গাওয়া সুন্দর সাবলীল
খুনসুটি, হুটোপুটি, হেসে ওঠা খিলখিল।
সেই সব দিন গুলো গেছে যেন হারিয়ে
ছন্দের গতিটাও গেছে যেন ঝিমিয়ে
এখন এসেছে এক যন্ত্র, যে বলিহারি
মোবাইলে টিপটপ ,হায়! প্রাণ ছাড়ি ছাড়ি।
নাহয় কানেতে গোঁজা তার-দুটো ঝুলছে
ধ্যান নেই কোনোদিকে, শুধু বসে ঢুলছে
এ কি বাবা! এ কেমন সরস্বতী পূজো রে
নির্ভেজাল আড্ডাটা সব গেল ভাঁড়ে রে!
কবিতা || তোমার ইতিহাস || নবকুমার
তোমার ইতিহাস
কবিতা || নিঝুম রাতের কান্না || রথীন পার্থ মণ্ডল
নিঝুম রাতের কান্না
হঠাৎ যখন ঘুম ভাঙে মাঝরাতে
আলো জ্বালতেই দেখি হৃদয়ের গভীর থেকে
পাখা সম্বলিত পিঁপড়েরা আলোর দিকে উড়ে যায়
যেখানে মৃত্যুর সাক্ষাৎ নিশ্চিত জানে,
জেনে ইচ্ছে গুলো মরে যায়।
বাথরুমের ট্যাপ থেকে জল ঝরবার শব্দ
শুনি শুয়ে শুয়ে
ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে যায় স্বপ্নগুলো !
বেওয়ারিশ কুকুর বিলাপে জানায় যত কষ্ট
ট্রাকের চাকার নীচে পিষ্ট কবিতার ব্যাকুলতা
কাঁদে অসহায়, তবু জেগে থাকে বিদগ্ধ মন
মুখ থুবড়ে নর্দমায় পড়ে অনুভূতি।
মাঝরাতে প্রায়ই আমার ঘুম ভাঙে আজকাল।