Sunday, August 15, 2021

কবি মধুপর্ণা বসু -এর একটি কবিতা

 নদীর কথা


নদীর পাড়ে একা

প্রশ্ন করি, তরঙ্গহীন

সংশয় বিভঙ্গী শাখাপ্রশাখা,

প্রতিকূল সময়ে আমাদের দেখা।


স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে

উপকূলের প্রান্তিক প্রেম

পাড় ভেঙে মৃত্যু আনাচে-কানাচে

ছাড়েনি দান পরাজিত ভাগ্যের কাছে।


সেও তেমন বজ্রকঠিন

কোমলতা নির্ভর সলিল

আমরাও আজ নিরাশ্রয় উত্তরহীন

একফোঁটা সুখে জন্য পথিক অর্বাচীন।


এ কাহিনী শেষ অঙ্কে

অন্তঃস্থিত শব্দেরা জেনেশুনে মূক

আমাদের বোঝাপড়ার সমাবেশ

আগামীর জন্যে রাখা মহার্ঘ্য আদেশ। 

কবি বদ্রীনাথ পাল -এর একটি ছড়া

 কবিতা ও ছড়া

                   


কবিতা টেরিয়ে বলে "শোন্ ওরা ছড়া-

সহজেই যায় দেখি তোকে ভাঙা গড়া !

সোজা নয় মোটে দ্যাখ্ আমাকে তো ছোঁয়া-

আমাকে বুঝতে লাগে মগজেতে ধোঁয়া"।


ছড়া হেসে বলে "ভাই, আমি এলেবেলে-

তাই তো সবার মুখে ফিরি হেসে খেলে !

সহজ সরল তাই ভালোবাসে লোকে-

কয়জনা মনে রাখে বল্ দেখি তোকে"?

কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 শহর থেকে ফিরছি



এই শহরের কিছু চোখরাঙানি 

আমাকে বিমুখ করেছে 

ফিরে এসেছি নিজেরই ভাঙা কুঠুরিতে 

মা কুপি জ্বেলে মৃত আত্মাদের 

ঘুম পাড়াচ্ছে

আত্মারা নিশিকাকের মতো 

চোখ ঠার করে তাকিয়ে আছে দূরে 


উঠোনে বাবার লাগানো গাছে 

অনেক জোনাক নেমেছে 

মা বলছে, কী সুন্দর তারাফুল  

ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি ভাষা ! 


শহর থেকে ফিরছি 

হিংস্র সভ্যতার জামা গায়ে 

রক্তগন্ধ মাখা - 

মা, একটু ঘুমোনোর জায়গা হবে ? 


আমার কথাগুলি বাতাসে ওঠে কেঁপে



পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদকীয়

       



       সম্পাদকীয়


 যমুনা নদীর জলের রং কালো না নীল সেই নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। সাহিত্যে কল্পনা লোক এর স্থান অনস্বীকার্য। তাই সাহিত্যে কেউ যমুনার রং কালো কিংবা নীল রং ব্যবহার করুক তাতে কিছু যায় আসে না। গুরুত্ব তো শুধু ভাষা ও শব্দের খেলায়। প্রেমের আসল রং খুঁজতে খুঁজতে কত কবি রসের শব্দে মেতেছেন সেই নিয়ে কি কেউ পর্যালোচনা করেছেন। তাই লিখুন ভালোবাসা নিয়ে। এগিয়ে চলুক আমাদের সকলের সাহিত্য যাত্রা।

     

                                     ধন্যবাদান্তে 

                         World Sahitya Adda Team




___________________________________________________




Saturday, August 14, 2021

পঞ্চম সংখ্যার সম্পূর্ণ সূচিপত্র(৩৪জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র




বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, বদ্রীনাথ পাল, মধুপর্ণা বসু, চিত্তরঞ্জন সাহা, তীর্থঙ্কর সুমিত, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, চিরঞ্জিত ভান্ডারী, মায়া বিদ, শ্যামল রায়, সুব্রত মিত্র, শ্রাবণী মুখার্জী, স্বাগতা দাশগুপ্ত, আবদুস সালাম, আশীষ কুমার কুন্ডু, মিঠুন রায়, মিলি দাস, প্রণব দাস, রফিকুল রবি, রানা জামান, সুজিত রেজ, সব্যসাচী মজুমদার, অভিজিৎ হালদার।


বাংলা গল্প--


স্বপ্না বনিক, তুলসি দাস বিদ




বাংলা গদ্য--


সুমন সাহা।




বাংলা প্রবন্ধ---


রামপ্রসাদ সরকার, তৈমুর খান, চাঁদ রায়।




বাংলা উপন্যাস---

 সুদীপ ঘোষাল।




ইংরেজি কবিতা---


Soumendra Dutta Bhowmick, Sunanda mondal.




Photography----


 Amit Pal, Somnath Ghosh, Arpan Chowdhury, Amlan Lahiri.



Monday, August 9, 2021

Photography by Arpan Chowdhury



 

Photography by Somnath Ghosh



 

Photography by Pantha das

 



Photography by Shilpa de

 



Poet Soumendra Dutta Bhowmick's one English poems

 SIGNIFICANCE OF LAMP


 


Destitute of respect she felt and left


                      The place with worries.


Male-shovinism with its sharpened weapon


Suddenly appeared as a hungry tiger,


Puzzled she wondered for a moment


How the poverty had been a bold tiger?


Unnecessary conflict between men and women


Thus becomes meaningless in the hearts,


                          Is it possible to lit a lamp


When the positive has lost the connection


                          With the negative in the parts?


Knowledgeable without knowledge here


Commit mistakes and errors,


Ashamed those minds become mute and only sorry


                            For such unwanted fakes!

গীতিকার বদরুদ্দোজা শেখু -এর একটি গান

 গান



চোখের দেখায় সাধ মেটে না যে , মনের দেখা তাই চাই গো,

আলোয় যা দেখা যায় না সহজে, তমসায় তাই পাই গো।।


চোখের সীমানা পেরিয়ে যেখানে

আরো দূর দেখা যায় আপন ধেয়ানে

সেই অনাবিল বাতায়নের পরশ মনোভূমে পেতে চাই গো ।।


আলোর ওপারে যে আকাশ আছে

কতোটুকু তার পাই বলো কাছে ? 

তাই তো বিভোর হ'য়ে চ'লে যাই , প'ড়ে থাকে শুধু ছাই গো ।।

কথাসাহিত্যিক সুদীপ ঘোষাল -এর উপন্যাস (চতুর্থ পর্ব)

 ইউরেকা ইউরেনাস




(৪)

সাইকো ভেগাস আবার বললো, প্রোটিন প্রয়োজনের নির্দেশ দেয় শরীরের ক্লান্তি।


 ধারণা ছিল মানুষের প্রায় 1 লক্ষ জিন আছে এখন জানা গেছে এই সংখ্যা প্রায় 30 হাজার।

আমাদের দেহে এর সংখ্যা 30 কোটির মত একটি ক্রোমোজোমে সারিবদ্ধ ভাবে মালার মত থাকে। যেহেতু আমাদের গ্রহের জীব, প্রাণী স্বাভাবিক অতিমানবিক শারীরিক-মানসিক বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট।


এটা সহজেই অনুমেয় যে এই অতিমানবিক অবস্থার জন্য জিন দায়ী। এ

অবস্থা ছাড়াও দৈহিক বিকৃতি অসম্পূর্ণতা অস্বাভাবিক গঠন মানসিক প্রতিবন্ধকতা জরায়ু ক্যান্সার ইত্যাদির জন্য দায়ী এই জীন বৈশিষ্ট্য।একে বিভিন্ন রকম ভাবে ভাগ করা হয়েছে আপনারা জানেন একটি জিন হচ্ছে প্রবলভাবে প্রকাশিত আরেকটা হচ্ছে প্রচ্ছন্নভাবে প্রকাশিত।


তোতন বললো তাহলে আপনাদের আমাদের এই শরীরের মতো শরীর নয় কেন?


 মনে হয় যেন আমাদের ছায়া।

 ছায়ার মতো শরীর অন্ধকারময় কেন?


 সাইকোভেগাস বলল,এটা হয় তখন , আমরা বায়ুর থেকে প্রতিসরাঙ্ক কমিয়ে অদৃৃশ্য হতে পারি। বায়ুর প্রতিসরণাঙ্কের সমান করলে ছায়ার মত হতে পারি। অহেতুক আমরা প্রকাশিত হতে চাই না। আমরা আড়ালে থাকতে ভালবাসি। 


 বায়ুর থেকে কম করলে আমরা ভ্যানিশ হয়ে যেতে পারি। অবাক করে অনেক সময় আমরা ভ্যানিশ হতে পারি।


বিশ্ব বাংলার লোগোর মতো সবুজ গোল ফুটবলের মত গ্রহে যানে চেপে ভালই লাগছিল। সুমন, তোতনের কথা হল ভালভাবে। এতদিন অবাক জগতে ছিল। আজ বাস্তব জগতে পদার্পণ করার আগে উত্তেজনা হচ্ছিল তাদের। তারা আস্তে আস্তে গল্প করছিল। তাদের ড্রাইভার ছিল ভেতরে।

তারপর পৃথিবীতে নেমে তারা তোতন এবং সুমনকে বাইরে আসতে বলল।


সুমনা তোতন বাইরে বেরিয়ে এসে দেখল অনেক লোকের ভিড়। সবাই খোঁজাখুঁজি করছে টর্চ নিয়ে লাইট নিয়ে।

জঙ্গল আলোময় হয়ে উঠেছে। এখন রাত দুটো বাজে। তারা অন্য গ্রহে গেছিলো প্রায় ছয় ঘন্টা।সবুজ গোল যানের গতিবেগ আলোর গতিবেগের থেকও বেশি --সুমন বললেন। 


সবাই দেখলো তিনটে ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে দুজনকে তারা চিনতে পারল।


 কিন্তু একজন কে চিনতে পারল না।


 তখন গোয়েন্দা সুমন বললেন, ইনি হচ্ছেন আপনার দেখা সেই অন্য গ্রহের জীব ছায়া।

যিনি আমাদের তাদের গ্রহে নিয়ে গেছিলেন। আমরা দেখে এলাম।আমরা বলি এলিয়েন। 


সুমনবাবু আরও বললেন বিজ্ঞানের কল্পনার কথা, আমাদের পৃথিবীর বাইরে প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কিনা বা সত্যিই এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে কিনা, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কখনই শেষ হবার নয়। কেউ বলছেন প্রাণের অস্তিত্ব আছে আর কেউ বলছেন তা কল্পনা মাত্র।বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে এ বিষয়ে মানুষের কৌতুহল শুধু বেড়েছেই। তবে এ মাসের শুরুতেই বৈজ্ঞানিক মনিকা গ্রেডি মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি ‘প্রায় নিশ্চিত’ যে জুপিটারের একটি চাঁদ ‘ইউরোপা’য় প্রাণের অস্তিত্ব আছে।তবে সেটি হাঁটাচলা করতে পারার বা কথা বলতে পারা কোনো এলিয়েন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। লিভারপুল হোপ ইউনিভার্সিটির গ্রহ ও মহাকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিকা গ্রেডি বলেন, সেখানে যে ধরণের প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, তা ‘অক্টোপাসের বুদ্ধিমত্তার কাছাকাছি প্রাণী’ হতে পারে।তিনি মনে করেন ঐ প্রাণীটি ইউরোপার বরফের নিচে থাকতে পারে।

বৃহস্পতি গ্রহের যে ৭৯টি চাঁদের সম্পর্কে জানা গেছে, ইউরোপা তার মধ্যে একটি। এটি ১৫ মাইল পুরু বরফের আস্তরণে ঢাকা।অধ্যাপক গ্রেডি মনে করেন মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেলেও সেখানে খুব উন্নত বুদ্ধির কোনো প্রাণী পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন: “মঙ্গলগ্রহে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়াও যায়, সেটি খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ধরুন, ব্যাকটেরিয়ার মত।


এবছরের শুরুতে মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ধারণা প্রকাশ করেন যে তারা যদি মহাকাশে অক্সিজেনের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে পারেন তাহলে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পেতেও সক্ষম হবেন।যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহে অক্সিজেন গ্যাস খোঁজার একটি পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।নতুন গ্রহে আসলে প্রাণ থাকতে পারে?অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) পৃথিবীর অদূরেই একটি ‘বাসযোগ্য’ গ্রহের খোঁজ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।


তোতন বললেন, তাহলে স্যার আমরা তার সাক্ষাৎ দর্শন পেলাম। সুমনবাবু বললেন, গত সোমবার নাসা দাবি করে নতুন ওই গ্রহ পৃথিবী থেকে ‘মাত্র’ ১০০ আলোকবর্ষ দূরে। পৃথিবীর আকৃতির ওই গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই৭০০ডি’। এটি ‘টিওআই৭০০’ নামের একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।বিজ্ঞানীরা জানান, টিওআই৭০০ নামের ওই নক্ষত্র ও তাকে প্রদক্ষিণরত তিনটি গ্রহ আবিষ্কার করেছে টেস। এর মধ্যে টিওআই৭০০ডি নক্ষত্রটিকে এমন দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে, যা ওই সৌরমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্বের বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দূরত্বে তরল পানির অস্তিত্ব থাকা সম্ভব বলে দাবি করেছে নাসা।


পরে আপনাকে বলা যাবে এখন উনাকে আমরা বিদায় সম্ভাষণ জানাবো। এলিয়েন সুমন্তবাবুর জ্ঞানের প্রশংসা করলেন। সাইকো বললেন, আপনাদের মত জ্ঞানী লোক এই পৃথবীর সম্পদ।


বৃদ্ধ ভদ্রলোকসহ সকলে অবাক বিস্ময়ে আকাশে দেখল তুবড়ির রোশনাই আর শুভেচ্ছার ভরসা পৃথিবীবাসির আগামী দিনের জন্য। 



এরপর সুমন্তবাবু চলে এলেন তোতনকে নিয়ে নিজের বাড়ি। সেখানে তিনি পড়ান বহু বহু ছাত্রছাত্রীকে তারপর আনন্দে সব ছেলেদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলাই তার কাজ। 

কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে তারা যাতে বিজ্ঞানমনস্ক পথে বৈজ্ঞানিক যুক্তি দ্বারা সবকিছু বুঝতে পারে তার চেষ্টা করে যান তিনি। আজ অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছেন তার ঘরে। একজন জিজ্ঞাসা করল, মহাকাশের প্রাণের অস্তিত্ব কি বিশ্বাস করা যায়? তিনি তার বিরাট হল ঘরে তোতন আর ছাত্ররছাত্রীদের নিয়ে বসেন।তিনি বলছেন, টিভির পর্দায় এমন দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি৷ মহাকাশে নীল মরুদ্যানের মতো শোভা পাচ্ছে পৃথিবী৷ তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, ‘‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র পৃথিবীতেই কি প্রাণের স্পন্দন রয়েছে? নাকি অন্য কোথাও প্রাণের বিকাশ সম্ভব?'' এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত কয়েক বছরে গবেষণা অনেক বেড়ে গেছে৷ জার্মানির পটসডাম শহরের বিজ্ঞানীরা সদ্য আবিষ্কৃত বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু পরীক্ষা করেন৷ তাঁরা জানতে চান, দূরের এই জগত প্রাণের বিকাশের জন্য কতটা উপযুক্ত? পৃথিবীর সঙ্গে মিল আছে, এমন গ্রহ খোঁজা কেন এত কঠিন? গ্রহ গবেষক ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘এক্সট্রা-সোলার গ্রহ খোঁজার সমস্যা হলো, নক্ষত্রের আলো সংলগ্ন গ্রহের আলোকে পুরোপুরি ম্লান করে দেয়৷ রাতের আকাশে শুধু নক্ষত্রগুলি দেখা যায়, তাদের আশেপাশে গ্রহ থাকলেও সেগুলি দেখা যায় না৷''

তিনি বলেন: “মঙ্গলগ্রহে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়াও যায়, সেটি খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ধরুন, ব্যাকটেরিয়ার মত।” নতুন গ্ররহ নিয়ে আশা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা।


এবছরের শুরুতে মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ধারণা প্রকাশ করেন যে তারা যদি মহাকাশে অক্সিজেনের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে পারেন তাহলে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পেতেও সক্ষম হবেন।


একজন ছাত্ররী বলল, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহে অক্সিজেন গ্যাস খোঁজার একটি পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন। এটা কি ঠিক সংবাদ।


সুমন্ততবাবু বললেন, অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) পৃথিবীর অদূরেই একটি ‘বাসযোগ্য’ গ্রহের খোঁজ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।গত বছর নাসা দাবি করে নতুন ওই গ্রহ পৃথিবী থেকে ‘মাত্র’ ১০০ আলোকবর্ষ দূরে। পৃথিবীর আকৃতির ওই গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই৭০০ডি’। এটি ‘টিওআই৭০০’ নামের একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।


তোতনও অনেক খবর রাখেন। তিনি বললেন, বিজ্ঞানীরা জানান, টিওআই৭০০ নামের ওই নক্ষত্র ও তাকে প্রদক্ষিণরত তিনটি গ্রহ আবিষ্কার করেছে টেস। এর মধ্যে টিওআই৭০০ডি নক্ষত্রটিকে এমন দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে, যা ওই সৌরমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্বের বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দূরত্বে তরল পানির অস্তিত্ব থাকা সম্ভব বলে দাবি করেছে নাসা।মার্কিন মহাকাশ সংস্থার (নাসা) একদল জ্যোতির্বিদ দাবি করছেন, পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহের খোঁজ মিলেছে। এটি নিজ নক্ষত্রকে যতটুকু দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করছে, তা আমাদের পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্বের প্রায় সমান। খবর রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসির।নাসার ওই বিজ্ঞানীরা আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবী-সদৃশ গ্রহটির সন্ধান পাওয়ার কথা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন। নতুন চিহ্নিত ওই গ্রহের নাম ফোরফিফটিটুবি। এটি পৃথিবীর চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি বড়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকৃতি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করে মনে হচ্ছে ওই গ্রহে পাথর, আগ্নেয়গিরি, মহাসাগর ও ‘সূর্যালোক’ থাকতে পারে। তবে সেখানকার মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর দ্বিগুণ এবং বছর হয় ৩৮৫ দিনে। গ্রহটির অবস্থান ১ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলে। এটি যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে তা আমাদের সূর্যের সমান হলেও বেশি পুরোনো। এটির বয়স প্রায় ৬০০ কোটি বছর। কিন্তু আমাদের সূর্যটি ৪৬০ কোটি বছরের পুরোনো।


সুমন্তবাবু বললেন, নাসার কেপলার মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রের (স্পেস টেলিস্কোপ) সাহায্যে ওই পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল সাময়িকীতে প্রকাশিত হবে।জ্যোতির্বিদেরা মনে করেন, এ আবিষ্কারের ফলে পৃথিবীর বাইরে প্রাণীর বসবাসযোগ্য স্থানের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। নাসার বিজ্ঞানী জন জেনকিনস বলেন, এ পর্যন্ত পৃথিবীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া গেছে নতুন চিহ্নিত গ্রহটির। এটি নিজ নক্ষত্রের কাছাকাছি বসবাসযোগ্য অঞ্চলে ৬০০ কোটি বছর পার করেছে—এমন ইঙ্গিত অবশ্যই বেশ আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পৃথিবীর মতো’ গ্রহটি নিজস্ব নক্ষত্র থেকে যে দূরত্বে রয়েছে, তাতে সেখানকার পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা তরল পানি ধারণ করার উপযোগী হতে পারে। আর পরিবেশের এ ধরনের অবস্থায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কেপলার টেলিস্কোপের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে। এ প্রকল্পের বিজ্ঞানী জেফ কগলিন বলেন, পৃথিবী-সদৃশ এবং সম-আকৃতির সূর্যের পাশে প্রদক্ষিণরত একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের একটি বড় সাফল্য।নতুন চিহ্নিত ওই গ্রহের নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের চেয়ে ১৫০ কোটি বছরের পুরোনো, আকারে ৪ শতাংশ বড় এবং উজ্জ্বলতাও ১০ শতাংশ বেশি। তবে ১ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত বলে সেখানে এই পৃথিবী থেকে শিগগিরই কোনো নভোযান পাঠানোর সম্ভাবনা কম। তবু বিজ্ঞানীরা গ্রহটি নিয়ে আরও গবেষণার ব্যাপারে ভীষণ আগ্রহী। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুজান আইগ্রেইন বলেন, কেপলার-ফোরফিফটিটুবির যেসব বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এটিই এ পর্যন্ত তাঁর জানামতে সবচেয়ে বেশি পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ।কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০টি গ্রহের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি মহাজাগতিক কাঠামোর খোঁজ পেয়েছে, যেগুলো গ্রহ হতেও পারে। এর মধ্যে ১১টি পৃথিবীর কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের এবং সেগুলোর নয়টি সৃর্য-সদৃশ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। কেপলার টেলিস্কোপ সরাসরি গ্রহগুলোকে দেখতে পায় না। কিন্তু সেগুলো থেকে নিঃসৃত আলোর ছোটখাটো পরিবর্তন পরিমাপ করে বিভিন্ন জটিল কম্পিউটার প্রোগ্রামে বিশ্লেষণ এবং বারবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করে।এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষ মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কীনা তা নিয়ে বহু জল্পনা কল্পনা করছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।


আজকের মত ক্লাস হয়ে গেল সুমন্ত বাবু ছাত্রছাত্রীদের কিছু জলখাবার খেয়ে ছেড়ে দিলেন তারপর বললেন আমি যেদিন বলব সেদিন আবার আসবে আমি ফোনে ডেট বলে দেবো তারপর তোতন খাবার-দাবার জোগাড় করতে লাগল সুমন্ত আপাতত দুজনে থাকেন এখানে আর কেউ থাকে না তারা নিজেরাই নিজেদের না করেন এবার হঠাৎ এক ভদ্রলোক বারেন্দায় ঢুকে বললেন আপনাদের নমস্ককার জানাই। আপনাদের সঙ্গে কথা আছে আমি একটু ভিতরে আসতে পারি কি।


ক্রমশ...

কথাসাহিত্যিক অভিজিৎ চৌধুরী -এর উপন্যাস (চতুর্থ তথা অন্তিম পর্ব)

মুকুট



(৪)

 পরদিন ভোর রাতে মুকুট এলো বৃদ্ধ মানুষটর কাছে। কুলকুচির শব্দ শুনতে পেল।

বিশ্বজিৎ কাকুও রয়েছেন।

মুকুটকে দেখে বললেন- আজ আমাদের ছুটির দিন।

মুকুট বলল- কাকু, প্রতি বুধবার ছুটি থাকে।

হ্যাঁ। অন্যান্য দিনগুলি তো কাজ আর কাজ আর আজকের দিনে সবাই মিলে নানা অন্বেষণ।

মুকুট বলল- মহাকাশ, আলোকবর্ষ, সুপারনোভা- এসবও আলোচনা হয়!

এইসময় বৃদ্ধ মানুষটি এলেন, বললেন- মুকুট এসেছ!

প্রণাম করল মুকুট।

বিশ্বজিৎ বলল- মহাকাশ সম্পর্কে ‘ও’ জানতে চাইছে।

বৃদ্ধ বললেন- মুকুট যুক্ত হতে চাইছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের উৎসের সঙ্গে।

মুকুট বলল- আমি কিন্তু অংকে আর ভৌত বিজ্ঞানে কাঁচা।

বৃদ্ধ বললেন- আমি তো চাষা। তবে মাঝে মাঝে ভূমির সঙ্গে আকাশের যোগ করার চেষ্টা করি।

আলোকবর্ষ তো আলোর একক। আর বিজ্ঞানের ভাষায় E=mc2 এনার্জি দেখা যায়।

গ্যালাক্সি তো আমাদের মস্তিষ্কে রয়েছে। কতো গ্রহ, তারার খেলার সেখানে।

 মুকুট বলল –ফোটন কণারাও আছে। 

আছে বৈকি।

মুকুট বলল- আমি কখনও কখনও তাদের দেখি।

দেখবে বৈকি দাদু- তুমি যে ভালো ছেলে। ভাবনার চাষ করো।

ওদের কথা থেমে গেলো কারণ একজন ভয়ংকর মানুষকে দেখা গেলো।

ঋত্বিকও এগিয়ে এলো তখন।

দেবলীনা ভয় পেয়েছে, সেও সঙ্গে রয়েছে।

লোকটা সামনে এসে দাঁড়াতে মুকুট ফিসফিস করে বলল- ‘ও’ কে দাদু!

লোকটা বলল- আমি শার্প শ্যুটার।

উপস্থিত সকলেই চমকে উঠল।

দাদু বলল- বারুই, পাট ফলন কেমন হবে!

লোকটি এবার অমায়িক কণ্ঠে বলল- ভালোই হবে, বাবা-মশাই।

প্রণাম করে চলে গেলো লোকটি।

তখন বৃদ্ধ বললেন- খুব distorted character ছিল তো! তবে কর্ষণে সবাই বদলে যায়।

এখন কিছু স্মৃতি বেঁচে রয়েছে, খুব দগদগে। 

তাই নতুন লোক দেখলেই বলে- শার্প শ্যুটার।

বৃদ্ধ বললেন- মুকুট, রাতে আকাশ দেখব। আমার একটা দূরবীণও আছে।

দেখবো- তুমি কেমন শার্প শ্যুটার!

দুজনেই হেসে উঠল। তাসুর বাইরে অঘ্রাণের রোদ লুটোপুটি খাচ্ছে তখন।

পরদিন ভোরে কৃষিকাজ করে বৃদ্ধ মানুষটা আবার বসলেন তাবুতে।

মুকুট মাফলার, টুপি সোয়েটার চাপিয়েছে, মা-বাবাও তাই। আর বৃদ্ধ মানুষটি একটি সাদা ফতুয়া গায়ে দিয়ে উত্তরাস্য হয়ে বসে রয়েছেন।

মুকুট এসে প্রণাম করল।

বৃদ্ধ মানুষটি বললেন- বিজ্ঞান চর্চা হলো !

মুকুট হঠাৎ ‘তুমি’ বলা শুরু করল।

তুমি না থাকলে আমাকে কে শেখাবে!

বৃদ্ধ হাসলেন, বললেন- তাই তো। মুকুট, তুমি যা চাইবে মন-প্রাণ দিয়ে ঈশ্বর তা মঞ্জুর করবেন।

মুকুট বলল- ঈশ্বর কি আছেন!

বৃদ্ধ হেসে বললেন- আছেন আমাদের কাজের মধ্যে। আমার কাছে তিনি আছেন লাঙ্গলের ফলায়। ধানে শিস্‌ এলে আমার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়।

মুকুট বলল – তুমি কি ফোটন কণা নিয়েও জানো! 

বৃদ্ধ হাসলেন, বললেন- গিলবার্ট লিউস ১৯২৬ প্রথম বলেন ফোটন কণার কথা।

মুকুট অবাক হয়ে গেল। একটু আগে এই দাদু গাছে গাছে সার দিচ্ছিলেন। ফুটগাছে জল দিচ্ছিলেন। কাদামাখা হাতে-পায়ে ফিরে এসেছিলেন কর্ষণভূমি থেকে।

মুকুট বলল- দাদু, তুমি আইনস্টাইনের কোয়ান্টামও জানো! ওসব খুব শক্ত- আমি বুঝতে পারব না।

বৃদ্ধ হাসলেন- মুকুট, তোমার মধ্যেই আলোকবর্ষের গতি। তোমার মধ্যেই আছে সুপারনোভা, এমনকি মহাবিশ্ব।

যখন বড় হবে নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে মানুষ, পরিপার্শ্বের বৃদ্ধি ভাবতে ভাবতে আলোর গতি প্রাপ্ত হবে।

আর তুমি তা পারবে!

কি করে দাদু!

সেই বৃদ্ধ বললেন- তুমি যে ফোটন কণাকে দেখতে পাও। তোমার সরল বিশ্বাসই তো তোমার দূরবীণ। দূরের জিনিসকে কাছে দেখায়।

মুকুট বা স্বর্নেন্দু বড় হয়েছে। সেই দাদু আর ইহলোকে নেই। বাবা, মা মারা গেছেন। তাঁরা সবাই মুকুটের ফোটন কণা। আর দেওঘরের সেই দাদু যেন আশ্চর্য এক কৃষ্ণগহ্বর- যাঁর কাছে জন্ম-মৃত্যু স্তব্ধ হয়ে থাকে।

খুব নতুনই ব্যারাকপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হয়ে এসেছে স্বর্নেন্দু। নির্বাচনের দুন্দুভি বাজছে। পৃথিবী জুড়ে হিংসার চাষের মধ্যে স্বর্নেন্দু এখনও স্বপ্ন দেখে ভালোবাসা ফিরে আসবে। কিশোর মুকুটের মতোন সে আবার দেখতে পাবে সহজ বিশ্বাস থেকে অশেষ ভালোবাসার পৃথিবী। সেই দূরবীনটা হৃদয়ে অক্ষত রেখে কাজে ডুব দিলো স্বর্নেন্দু বা মুকুট।

   

সমাপ্ত।