Sunday, August 29, 2021

কবি ক্ষুদিরাম নস্কর -এর একটি কবিতা

 শেষ বয়সের ছুটি



মায়ের পিঠে ঢুলছে খোকা 

ঝুলছে ঘুমের মজা 

পেটের জ্বালায় মায়ের মাথায় 

মস্ত ইটের বোঝা


ঘাম ঝরা সেই দিনের শেষে 

যে টুক পয়সা মেলে 

সব চলে যায় চালে-ডালে 

লঙ্কা,লবণ,তেলে।


তার থেকেও বাঁচায় কিছু 

শিখবে পড়া ছেলে 

মানুষ মতো মানুষ হবে 

হয়তো সুযোগ পেলে।


থাকবে না আর অভাব তাদের 

ফুরাবেনা রুটি 

চাকরিজীবীর মত পাবে 

শেষ বয়সে ছুটি।


স্বপ্ন সবার সত্যি হয় না 

কষ্টো আরো শেষে 

খোকার চাকরি মস্ত বড় 

ফিরতে দেয় না দেশে।

কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

রম্যগাঁথা



মন চায় আমার 

 দুহাতে ধানের শীষকে জড়িয়ে ধরতে

আবেগ যে জড়িয়ে আছে এখনো,

চারদিকে কলমীর শাকের মতো লতানো ঘ্রাণ আমাকে গ্রাস করতে চায়

আমি পিছিয়ে যাই শুধু ইচ্ছে করেই।

কেননা,ভালোবাসার ব‍্যাকরণ যে আমি বুঝিনা।

ভালোবাসা যে আমার কাছে ছেঁড়া পোষ্টারের মতো, 

যার কোনো অভিমান নেই।

শুধু বহন করে অতীতের ধূসর সাক্ষ‍্য,

কানে কানে যেন বলে দেয় অভিমানের ঝরা বকুলের রম‍্যগাঁথা।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 মর্ম কথা



একদিন সব কোলাহল থেমে যাবে

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না;

একদিন আবার হঠাৎ করে কোলাহল শুরু হবে

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না,

একদিন আবার সকলে নীরব হতে হতে সমবেত কণ্ঠে বলবে কারুর নাম

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না;

একদিন সব দেয়া-নেয়া মিটে যাবে পড়ে রবে এই আপন ভুবন

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না,

একদিন পৃথিবীর আকাশে কবিদের ছায়া হয়ে মায়া গুলো পড়ে রবে

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না;

একদিন স্বার্থের বিনিময়ে ভালবাসার বড় অভাব হবে

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না,

একদিন এই মায়ার পাথরগুলো ফুল হতে গিয়েও ফল হয়ে ধরা দেবে

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না;

একদিন হয়তো তোমরা ভুলতে গিয়েও ভুলতে পারবেনা আমায়

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না,

যদি কোনদিন কেউ করো আমায় নিয়ে সমালোচনা

হয়তো সেদিন আমি থাকবো না;

পৃথিবীর গায়ে আমি খোদাই করা বিরম্বনা

আমি মরচে পড়া শব্দের ধাতু, আমায় সকলে চিনলো না।

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 একটাই রাস্তা



ধর্ম নিয়ে এত মাতামাতি

কর জাতির বিচারে।

আমরা হলাম মানব জাতি

জন্ম মায়ের উদরে।

ভূমি, জল, বাতাস নিয়ে

একই আকাশ তলে।

শ্বাস প্রশ্বাস প্রাণে নিয়ে

বাস করি সকলে।

সাকার - নিরাকার ঈশ্বর একই

ভজন - সাধন করি।

মৃত্যুকালে শমন আসে সবার

একই পথ ধরি।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

 তোমার সঙ্গে



যাব আমি যাব তোমার সঙ্গে যাব

কোথায় গিয়ে কী যে খাব আমি খাব

সেথায় যদি হয় গো দেখা ঐ বাংলার মাঠ

জলাজমি অরন্য আর নদী পুকুর ঘাট

শালিক ডাকবে কিচিরমিচির সুরে

বনলতা ঘেরা বনপলাশি নাচবে অচিন পুরে

কোকিল ডাকবে কুহু কুহু রবে

কোকিলা আসবে ছূটে আপন সগৌরবে

সেথা আমি যাব গাইবো নতুন গান

ভাদ্রের নীল আকাশের ছেঁড়া মেঘের টান। 


তবুও সোঁদা গন্ধের গন্ধ লাগবে নাকে

শরৎ আসবে শিউলি ঝরবে তাল পড়বে ঢাঁকে

এমন পুজোর শারদীয়া কেন যে আজ মনমরা

বাঙালি হৃদয় তবুও কেমন সুধারসে ভরা। 

যাব আমি যাব সেথা পুজোর সাজ পরে

আনন্দে মাতবে যেথায় মানুষ থরে থরে।।

কবি তীর্থঙ্কর সুমিত -এর দুটি কবিতা

 ভালোবাসার জলাশয়


হাতে হাত ---

উড়ে বেড়ায় স্বপ্ন

চোখ খুললেই পৃথিবী জেগে ওঠে

কিছু বাকি রয়েই যায়

বিবর্তন শুধু শরীরের ___

হাত,পা,মুখ

এবার একটা ইতি টানতে হয়


হাঁস ভেসে যায় ভালোবাসার জলাশয়।

-----------------------------------------------------------------------


স্বপ্নের ফেরিওয়ালা



কত স্বপ্ন বিক্রি হয়ে যায়

সকাল বিকেল প্রতিনিয়ত ...

ধূসর স্বপ্ন গোধূলি আঁকে ঝাঁকা ভরে

ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে চিকন হাওয়া

অনন্ত যাত্রাপথে সঙ্গীহীন নৌকা একাকী

ফিরে আসে তার গন্তব্যে 


এভাবেই কেটে যায় কত জীবনের ট্যাজেটি। 

কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 ভবিষ্যৎ



বেলা বাড়ছে 

বেজে যাচ্ছে ধৈর্যের সংগীত 

বিপ্লবের মঞ্চ বেঁধে স্বপ্নের নীলরাষ্ট্র ছড়াচ্ছে উদ্বেগ 

সময়ের তরঙ্গ এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাকে 

বিকেলে আলোর চিঠি আকৃষ্ট করেছে 



এখানে অন্ধকারের পাহাড়ে 

দু একটি সুড়ঙ্গ গিরিখাতে 

ভবিষ্যৎ উঁকি মারছে :

কী সুন্দর মাজা, পুলক মাখা পলক 

ঠোঁটে ঠোঁটে নতুন চুমুর অভিঘাত 



ধৈর্যের স্বরলিপি আর দূরের দর্শক আমি 

যদিও অভিযাত্রী, যদিও বশংবদ 

সময়ের কাছে রেখেছি সমর্পণ 

নিঃস্ব ঝরনায় ধুয়ে নিয়েছি হাত মুখ

সপ্তম সংখ্যার সম্পাদকীয়






 মানসিক উত্তেজনায় বিকারগ্রস্থ মানুষের হৃদয় থেকে কবিতা বের হতে পারে। ভাববার বিষয় তার কাছে প্রেম ও আছে আবার বেকারত্বের আর্তনাদ আছে। তাই কবিতার কাঁচামাল হিসেবে এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে! এক আকাশ ভাষান্তরে জর্জরিত না করে একটি গাছের পাতা গুণতে থাকার সমান শব্দ প্রয়োগে কবিতা গুচ্ছ হয়ে ওঠে আরও বেশি উজ্জ্বল এবং বেদনাদায়ক। ভালোবাসার আর অন্তর্নিহিত আর্তনাদ বলেও একটি কথা আছে। সেই নিয়ে কবি মন আরও বেশি উৎসুক। তাই লিখুন নতুন নতুন প্রেম। ভালোবাসার নরম ও বেদনাদায়ক চাদরে ভরে উঠুক আমাদের সকলের প্রিয় পত্রিকা World Sahitya Adda. ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। পাশে থাকুন আমাদের।



                                           ধন্যবাদান্তে

                                 world sahitya adda



---------------------------------------------------------------------------




Saturday, August 28, 2021

সপ্তম সংখ্যার সূচিপত্র(২১ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র




বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, তীর্থঙ্কর সুমিত, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, মায়া বিদ, সুব্রত মিত্র, মিঠুন রায়, ক্ষুদিরাম নস্কর, অভিজিৎ হালদার, সুনন্দ মন্ডল, স্বপ্না বনিক, জয়তী দেওঘরিয়ার, গোবিন্দ মোদক।



বাংলা গল্প--


রানা জামান, অমিত পাল, ডঃ রমলা মুখার্জী




বাংলা প্রবন্ধ---


রামপ্রসাদ সরকার।




ইংরেজি কবিতা--


Soumendra Dutta Bhowmick.




Photography----


 Amit Pal, ARISHNA SARKAR.

Monday, August 23, 2021

Photography by ARISHNA SARKAR

 



Photography by Amit Pal

 



Poet ‎Sunanda Mandal's one English poem

 Blood 

                ‎ 

                ‎

My blood is the same as yours, 

Just different in humanity. 


You 

We 

The wind. 


Let's all run to reach the goal, 


You are selfish 

I try selflessly. 

Although selfish in your words. 

In fact blood speaks.

Poet Soumendra Dutta Bhowmick's one English poems

 UNDERNEATH


 


Under the ground you and I


          Try to purchase


The forbidden diabolical love.


Don’t care at all then,


Who cares for this insignificance


Than to look our ugly bluff?


 


Under the ground you and I


          Have no slightest shy!


To be sincerely unfold


We freely think and drink.


Who cares for such unaccounted meal


Than to lose our pure gold?