Sunday, September 5, 2021

কবি উদয়ন চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

 ব্যর্থতার শূন্যতা বুকে নিয়ে 





আমি ভেবে ছিলাম আর বলব না

কোনও কথা যেখানে ধূসর বালুকনা

মিশে আছে শব্দের সাথে --

যেখানে সাগর নদীও পাল্টে নিয়েছে 

নিজের অস্তিত্বের অহংকার --

যেখানে তুমি কতটা ঝুঁকিয়েছ মাথা

সেটাই তোমার বরাদ্দ স্বাধীনতা।

নিয়তী ভাগ্য অদৃষ্ট সবই অলীক শব্দ 

আকাশে হাহাকার ভেসে বেড়ায় 

হতভাগ্যের হাহুতাশে নিরন্তর --

এ সূর্য সংসারে প্রতিদিন উল্লাস আর

বিষাদ আচারের মতো চুষে খায় অতৃপ্তি মাখা 

মানুষের দল তৃপ্তি আর ব্যর্থতার শূন্যতা বুকে নিয়ে।

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

 পুঁইলতা



সে যদি,না

থাকতো,মাটির কাছাকাছি

কি করেই বা হরিৎ ক্ষেতের,অক্ষর

তুলে সাজাতাম কবিতার খোঁপা!

একটুকু তৃষ্ণার,জল

পেলে মরো মরো লতা থেকে

গুঁটি ভাঙে লাল-নীল-সবুজ প্রজাপতি,

ঠিক যেন,অভাবি উঠোন জুড়ে,হাসা

কুমড়ো-করলা-ঝিঙের জালি।

দরিদ্র আর পুঁইশাক,বসত পাশাপাশি

খড়েরচাল ছাড়া পুঁইলতা,আজও

ঢুকতে পেলো না রাজার বাড়ি।

কবি কাজী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ -এর একটি কবিতা

 কিন্তু



আজ আমি তোমারি প্রথীহ্মায়। 

সেদিন শ্রাবন-সন্ধায়

আমি তোমার হ্নদয়-কমলের ঘ্রাণ পেয়েছি।

পেয়েছি আমার হ্নদয়ে তোমার রক্তের স্পন্দন।

দেখেছি তব নয়ন যুগলে নিবীড় বন‍্যার ছায়া।

যেন বসন্ত এলো ফিরে নিয়ে নব উচ্ছাস।

আমার হ্নদয়ে তোমার করুণ দৃষ্টির আঘাত হেনেছিলে;যদি প্রত‍্যাখ‍্যান করি তব প্রেম,

ভাসায়েছি তরণী তব প্রণয়-পাথারে।

তাই পৃথিবীর ধূসর সন্ধায়

সেখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমারি প্রতীহ্মায়;

কিন্তু তুমি ত এলেনা,

আজও এলেনা!!

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 এশিয়া মহাদেশের বুকে



তোমাকে পাবার জন্য

আর কতবার জন্ম নিতে হবে!

জানি না,কিছুই জানি না।

দাপর ত্রেতা কলি যুগ এ পুনর্বার

জন্মেছি নতুন নতুন রূপে।

পৌঁছতে পারিনি,

শোনাতে পারিনি এক ভালোবাসার

গল্পকথাকাহিনী,

পৃথিবী ধ্বংসের দামামা বাজছে ,

পশুপাখিরা বিলীন হচ্ছে,

অরণ্যভূমি হচ্ছে কংক্রিট ক্ষেত্র।

বিশুদ্ধতা হারিয়েছে বাতাসেরা ,

এখনো মৌসুমী বায়ু বয়ে গেলে মনে হয়-

এ জন্মেই বলে দেবো সেসব গোপন কথা,

প্রশান্ত মহাসাগরের স্ফীত জলে প্লাবিত হতে হতে বলেছিলাম-

এই ছেলেটা শুনছো

হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকে বলছি তোমাকে

আমি বহু মৃতমুখ পাল্টে হাজার হাজার বছর ধরে নক্ষত্রের সাথে কাটিয়েছি ঝলমলে আশ্চর্য রাত।

শিরীষের নীচে ঘুমিয়েছি কয়েকশো বছর,

বোষ্টমী সেজে আম্রকুঞ্জে কাঁচামিঠে আম কুঁড়িয়েছি অসংখ্যবার,

নদীতে বাঁধ দিয়েছি, ভেসে গেলেও ধরতে পারবো জেনে,

দেখে গেছি শুধু দূর থেকে দূরে 

তবুও বলতে পারিনি।

এই ছেলেটা শুনছো-

এই রূপসী বাংলায় জন্ম নিয়েছি

সেই কথাটি বলার জন্য।

কাতারে কাতারে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকবে রাস্তায়,

আমি চিৎকার করে বলবো

এশিয়া মহাদেশের বুকে জন্মেছি

শুধু তোমাকে পাবার জন্য

তোমাকে কিছু বলার জন্য

তোমাকে ভালোবাসার জন্য।

কবি ক্ষুদিরাম নস্কর -এর একটি কবিতা

 প্রতিরোধ



চলুক লাঠি,চলুক গুলি, 

তবু চলো প্রতিরোধ গড়ে তুলি।


ঝড়ে নুয়ে পড়া গাছের মত 

আর কতদিন ! কতবার ! 

মাটির সঙ্গে মিশে যাবে ?


শরীরে শক্তি আনো,

মহীরুহ হও।


ভাঙ্গ,তবু মচকিও না।

তাতে,মরার আগে মনে হবে হারিনি।


চলুক লাঠি,চলুক গুলি, 

তবু চলো প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 পরখ

    

ইলেকট্রিকের সুইচ টিপলে

 চলে আলো ফ্যান।

হাত দিয়ে কপাল টিপলে

বিশাল আরাম পান।

বন্দুকের ট্রিগার টিপলে

মরে অনেক প্রাণ।

ডাক্তারেরা নাড়ি ধরলে

    জীবনের হদিশ পান।

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 আকাশ দেখতে চাই 



আকাশ দেখতে শিখেছিলাম -

তোমার দু চোখে বাজি রেখে! 

মেঘ করতো, বৃষ্টি হতো-

বাজ, বিদ্যুৎ, ঝড় সব দেখেছি!

আজ আকাশ দেখতে গিয়ে -

দেখলাম বেবাক ফাঁকা সমুদ্র। 

শুধু সফেদ লবণ পাহাড়, 

পাহাড়ের চূড়ায় দু একটা হাত-

বাড়িয়ে আছে, আকাশ ধরার চেষ্টায়!

আকাশ বেয়ে মরচে রঙ,

ঝরছে ইউক্যালিপটাস বনে! 

আমার পা ডুবে যাচ্ছিল, 

ত্বরাবালির রাশি -

আমায় ক্ষতবিক্ষত করছিলো! 

আমি আকাশ দেখতে চাইছিলাম

আমি তোমার দুচোখে হারাতে চাই।

কবি নবকুমার -এর একটি কবিতা

 নাম নেই 

  


আমার কোন নাম নেই

কোন পরিচিতিও নেই

প্রকৃতির অপার শূন্যতা থেকে 

নাভি ছিঁড়ে আমার

উত্তরণ

তা-ই কোন নাম দেয়নি কেউ ।



এই যে দেখছ বিস্তৃত প্রাঙ্গণ --

এটাও আমার নয়  

মাঝে মাঝেই ভাবি,

এই শরীরও আমার নয় ।


এমন একটা দিন আসবে

তুমি-আমি কেউ থাকবো না

থাকবে এই ছলাত্ ছলাত্ নদী

দিগন্ত গন্ডীঘেরা এই প্রকৃতি ।


আমাকে যা খুশি নামে ডাকো-

আমিও মনোমতো নামে ডাকি--

ভালোবাসাহীন জীবন

শুধ ফাঁকি---আর ফাঁকি ----।

কবি ইমরান শাহ্ -এর একটি কবিতা

 অন্তর বেদন (১)



বোঝ না কেমন কইরা বাচিঁ

কেমন কইরা কাটে আমার এই–

দুই আনার জীবন; সবইতো জানো

যেহানে তাকাই শুধু তোমারে দেহি

স্নানে, গানে কবিতায় এমনকি জলপাত্রে।


এমনতর হইয়া গেলা কেমনে কও

মানুষ পাইবার পর বুঝি পাল্টায়–

ধ্যান-জ্ঞান অন্যখানে বিছাইয়া দেয়;

শষ্যদানার মত বিরান অফসলি জমিতে

অথচ আমিতো আছিলাম একদিন প্রাণভোমরা। 


সোনার পিনিস খানি ডুবাইলা ক্যান 

পাইলা কি ডুবাইয়া; সোনার জীবন?

আন্ধার রাইতে কুহুক ডাকে খালি

মাঝেমধ্যে কোকিল ডাকে বিষাদের সুরে

মানুষ বদলায় ক্যান, কইতে পারো!


সত্যি যদি ভালোবাইসা থাকো আমারে

তুমিও হোনো কণ্ঠের মামুলি চিৎকার–

সিন্দুরমতির মেলায় হারাইলা কোন আশায়

একটা মানুষের জীবনে কতখানি লাগে?

কি পাইবার পর ক্ষ্যান্ত হয়!

কবি মহীতোষ গায়েন -এর দুটি কবিতা

 হৃদয়-বাসর



আমার বাসর আমার একমুঠো আকাশ,

এ আকাশ আমার আশাপূরণের ঘর;

আমার অবকাশের বাৎসল‍্যহীন

আড়ম্বরহীন বাসর।


একান্তে,নির্জনতায়,নিভৃতে,নিরাপদ

নিরালাতে কবিতা লেখার ছাপোষা বাসর: 

খোলা জানালা দিয়ে নারকেল, 

সুপারি,আর কাঠাঁলের ছায়া 

ঘন হয়ে পড়ে বিছানায়, 

যখন পূব আকাশে সূর্য হাসে । 


এরাই আমার ভালোবাসা, 

এরাই আমার একান্ত প্রেম...

যেখানে কান্না ভেজা চোখে মেশে

জানালা দিয়ে আসা বৃষ্টি ফোঁটা।

 

এ-আমার ভূবনডাঙ্গার মাঠ...

রাজনীতিহীন কেয়া পাতার 

নৌকাগুলো হৃদমাঝারে ভাসে;

আমার বাংলা আমার বাংলা মায়ের কোল। 


_________________________________________



মেঘবালিকা ও পাহাড়ের গল্প



মেঘবালিকা সমুদ্রের টানে ঘর ছেড়েছিল

এই তার প্রথম,এই তার শেষ,এই তার শুরু;

সমুদ্র তার অর্পণ ফিরিয়ে দিয়েছিল,চোখের

জল সমুদ্রে মিশলেও সমুদ্রের হৃদয়ে মেশে নি ।


মেঘবালিকা আর ঘরে ফেরে নি,ঘুরতে ঘুরতে 

নির্জন,নিরিবিলি প্রকৃতিকে সমর্পণ করতে যায়

তার নির্মল নিষ্পাপ দেহ,আচমকাই পাহাড় এসে

বাধসাদে,পাহাড়ে ভর করে আবর্তিত হয় জীবন।


মেঘবালিকা পাহাড়ের কাছ থেকে শেখে জীবনের

মানে,আনন্দ আর বেঁচে থাকার রহস‍্য;ফিরে পাওয়া

জীবনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়,পাহাড়ের শিরায় শিরায়

ফুল ফোটে,পাহাড়ের ফুলে হারিয়ে যায় মেঘবালিকা।


সমুদ্রের অপ্রাকৃত প্রণয় পিপাসা,তর্জন,গর্জন

হৃদয় থেকে উৎপাটিত করে সে,স্থিতধী হয় মন,

তার ঘরে ফেরার গান রচে পাহাড়,বহুদিন পরে 

আবার নাড়ির সম্পর্কের বন্ধনে সঁপে দেয় সে।


মিলনোচ্ছ্বাসের লগ্ন আসে,এবার ঘরে ফেরার পালা,

মেঘবালিকা সব জানতে পারে,পাহাড় প্রত‍্যাখ‍্যান করে

তাকে ফেরানোর পুরস্কার,ঈশারা হৃদয় আবদ্ধ করে;

মেঘবালিকার তনুমনপ্রাণ চির সমর্পিত হয় পাহাড়ে।

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর দুটি কবিতা

 ভয়ের কুঁড়ি



তুমি আমার যুদ্ধ গোলাপ

আকাশের শান্ত কন্ঠস্বর

স্থাপত্যের ভিত্তি থেকে শুরু হয় বৃষ্টি

শুরু হয় অজস্র রক্তপাত

তোমার চোখে চোখ রেখে স্বপ্ন আঁকি

রোদ্দুর লিখি অক্ষরে অক্ষরে

তবু আজও ঝরে পড়ে আগুন

হাওয়ায় হাওয়ায়

শান্ত রূপসী সন্ধ্যা ঝুপ অন্ধকারে

ভীষণ অবিশ্বাস ফুটিয়ে তুলছে কুঁড়ি।। 

______________________________________


প্রজাপতি জন্ম



পুড়িয়ে দিচ্ছে আমার দুটো সোনালী ডানা

তোর ছায়ার আগুন

মেঘের উৎসব থেকে মুখ ফিরিয়ে

আমি গেছিলাম তোর কাছে

আজ নিরুৎসাহে ঝুঁকে পড়ে আমার শরীর

শূণ্যে যেন ছুঁড়ে দিলি আমায়

আমি মাটির ওপর মুখ থুবড়ে

আমার সৌন্দর্য পাঁজর

ডুবে যাচ্ছে কান্নায় হাড় থেকে শিরায়

গুঁজে গুঁজে আছে ক্লান্ত শব্দ

কোনও অবসরের শ্লোকে গেঁথে গেছি আমি

কত সুদীর্ঘ দুঃখ নিয়ে, 

আমি উড়ে যেতে চাই রেশমি হাওয়ায়

আমার সোনালী ডানায় দুরন্ত প্রশ্রয়

ছায়ার শৃঙ্খলদের আজো জড়ো করি

বৃষ্টির ভেজা দাগ তুলে আনি মায়ার প্রাচীরে

আমি হাওয়ায় হাওয়ায় লিখে দিলাম 

পুড়ে পুড়ে খাঁক হওয়ার গাঁথা।। 

কবি তাপস মাইতি -এর একটি কবিতা

 ঘরই খোঁজে পথ 



এখানে অনেকদূর পথ 

                 ভূমিকার মতো দাঁড়ায় ।

দৈন্যমুখ দিয়ে তার সমান্তরাল 

বক্তৃতার রেখায় এক একটি 

         দুঃসহ জীবন বড়োই কৌতুক ।

আমি তার দৃঢ় নির্বাচন করি 

অথচ সে কঠিন নয় 

কাদার মতো কতক স্পৃশ্য কথা নিয়ে

                   সবাইকে ভাবায় ।


সেই বিস্তৃত বাঁকে 

সহস্র মন শুধু বলে , 

আহা --- কী সবুজ, সবুজ না দেখায় ।


সব বৈঠার সামাজিক মাস্তুলের পিঠে 

অথচ হতশ্রী কাক  

                       ডানা ঝাপটায় ।


পথের ধারেই ঘর 

                       তবুও যে   

                               ঘরই খোঁজে পথ ... 

কবি স্বপ্না বনিক -এর একটি কবিতা

 অপেক্ষা



ভোরের আবছা ধোঁয়াশায়

দূর থেকে দেখা না যায়, 

আসছো তুমি হরিণীর মতো

হৃদয়ে দোলা দেয় আগের মতো। 


আধেক ঘুমে কাটে সারারাত,

কখন আসবে রাঙা প্রভাত

সোনালী ভোরের প্রতীক্ষায়

প্রহর কেটে যায় আজানা শঙ্কায়। 


বাতাসে ওড়ে আঁচল তোমার

নীলাম্বরী সাড়িতে রূপের বাহার

এলায়িত কেশরাজি দোলে

উজ্জ্বল তোমার মসৃণ ভালে। 


আবেগে কাঁপে দেহ তোমার

খোলো মৌনতার রূদ্ধ দুয়ার। 

তুমি কি জানো বন্ধু

কতভোর কেটেছে তোমার অপেক্ষায়।