Sunday, September 19, 2021

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 শরৎ মানে দুর্গা পুজো



বর্ষা রানী বিদায় নিল

   ভূমি সরস করে ।

শরৎ ঋতু বিরাজ করে

     নীল আকাশ জুড়ে।


পেঁজা-পেঁজা তুলোর মতো

  সাদা মেঘের রাশি।

যেথায় দাঁড়ায় সেথায় ঝরায়

         মুক্ত মনের হাসি।


শরৎ এলে কাশের সারি

  শুধুই মাথা নাড়ে।

শিউলিগুলি সাত সকালে

           গাছের তলে ঝড়ে।


শরৎ আনে জীমূতবাহন , বিশ্বকর্মা

        বোধন আর মহলয়া।

কৈলাস থেকে পাই আভাস

আসছেন মহাদেবের জায়া ।


হিসাব - নিকাশ কড়ায় - গন্ডায়

   দুইটি মাসের নিদান।

শারদা মায়ের ছুটির মেয়াদ

     চারটি দিনের বিধান।


শরৎ ঋতু নেশা জাগায়

    বাঙালির মনে - প্রাণে।

আলোক সজ্জায় সাজেন দশভূজা

        একটি বৎসর গুণে।


শরৎ তুমি মিষ্টি ভারী

   নানান গুণে ভরা।

শুভ্র আকাশ মলয় বাতাস

     ধন্য আজি ধরা।

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 কথা



কথার সুতোয় সেতু বেঁধে 

এগিয়ে যায় গুটিগুটি পায়ে 

ভালবাসা সিক্ততায়-

         সবুজ ঘাসের মাঠে! 

কথার সারণী বেয়ে নেমে আসে 

অনেক প্রাণের ঢল, মধ্যরাতে 

রাত পোহাতে --জাগরণী গানে! 

কথার পিঠোপিঠি রোজ 

নতুন শব্দবন্ধ মিছিলের মতো

স্লোগান তোলে --'জীবন জিন্দাবাদ'। 

তাই কথা শেষ হয় না, 

কিংবা শেষকথা হয় না-

শেষের কথার আগে।

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 স্বাধীনতার জন্মদিনে




স্বাধীনতা মানে প্রতিবাদ প্রতিরোধে পথচলা

স্বাধীনতা মানে অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা

স্বাধীনতা মানে মাথা উঁচু,লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া

স্বাধীনতা মানে খেয়ে পরে পরম তৃপ্তি পাওয়া।


স্বাধীনতা মানে মিটিং মিছিল স্লোগান অঘোষিত

স্বাধীনতা মানে পরাধীনতা থেকে মুক্তি অবারিত,

স্বাধীনতা মানে একুশের ভাষা,একুশের মুক্তিপথ

স্বাধীনতা মানে প্রেমের ওষুধে সারবে হৃদয়-ক্ষত।


স্বাধীনতা আসে স্বাধীনতা যায় হয় মেঘ-বৃষ্টির গান

স্বাধীনতা মানে স্বাধীন কৃষক,জমিতে সোনার ধান...

স্বাধীনতা আসে স্বাধীনতা যায় তবুও ফোটে যে ফুল

স্বাধীনতা মানে ফিরে এসো ঘরে করো না আর ভুল।


স্বাধীনতা মানে নতুন প্রভাতে নীলিমায় লাল সূর্য

স্বাধীনতা মানে সবুজ দিগন্ত শোভে বিজয় রণতূর্য,

স্বাধীনতা এসে ফিরে গেলেও ভালোবাসা বেচেঁ থাকে

শুভ জন্মদিনে সবাই হৃদয়ে সুখ শান্তির ছবি আঁকে। 

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 চেনা শহর



আমার চেনা ছোট্ট সেই শহর

ঝোড়ো হাওয়া যার রক্ত মুছে দেয়

পুরনো গন্ধ লেগে আছে রংধনুতেও

বিধিমতো ভয় দুজনেরই গলার শব্দ কেড়ে নেয়

আজ ও রংধনু ওঠে

চোখে পড়ে যায় ল্যম্পপোস্টের নীচে ছায়া কালো

আমার চেনা ঝোপ আজ জঙ্গল হয়েছে

ঝড়ের হাওয়ারা ঘুরে যায়

কাঁপা কাঁপা শিখা নিয়ে মোমবাতি জ্বলে একটা আরও।

কবি তাপস মাইতি -এর একটি কবিতা

 দীর্ঘ অতিক্রমণের যাত্রা

             


নীলের ভেতরে একটি নিরন্নমুখ 

কম্পিত ভাবে চেয়ে আছে 

সাদা সাদা দুঃখ, মেঘের সমান প্রায় 

সামান্য আহত খেয়ে ওই জীবন 

যাকে স্মরণ করতে চেয়েছে -----  

                                        সে বজ্র । 


পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে 

সেই দিনটির কথা, 

তখন অন্ধকার একা 

জ্যোৎস্না -- গহ্বরের আলো চুরি করে 

রক্তাক্ত করেছে সমস্ত আশা ,

রামধনুসুখ দেখেও বলতে পারে নি 

এই দৃষ্টি কেন চিরন্তন নয় ?


মনে পড়ে কেবল দীর্ঘ অতিক্রমণের যাত্রা ।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 আমি কবি নই



আমি নই কবি;

আমি হই একজন অ-কবি,

আমি নই এ যুগের কবি

আমি হই একজন হুজুকের কবি।


আমার ভেতরে নেই কবিতার ব্যাকরণ

তবুও এই গাধার মতো সাদা মাথায় লিখে চলি অকারণ;

অনেক কারণের কথা লিখতে আছে বারণ,

তবু সেকথা লিখে ফেলি যথা সেথা

মোটা মাথার পাগলা কলম অবাধ পথে করে গমন।


সুরের তালে তারা ছুটে চলে বহুদূর

রাশি রাশি মেঘ মাঠের 'পরে আঁধার ঘনায়ে আনে

মনে ভরা সুর প্রাণ মাঝি ধরে গান সমুদ্র অদূর,

এই সকল প্রকৃতির মায়ার ছবি আমারে বানায় কবি

আছে কবি হওয়ার পিছনে আরও কত কারণ

আছে ঘুমেদের দেশে ভেসে আসা আরও কত কল্পনার সম্ভাষণ।


আমি কবি নই

তবু কবিতায় পাগল হই;

এক লহময় পৃথিবীর কাছে কবিতায় শান্তির বার্তা পৌঁছাই,

কবিতা লিখতে গিয়ে হয়েছে আমার শত্রু অনেক

কবিতা লিখতে গিয়ে করেছি পরখ আছে কার কত বিবেক।


কবিদের মাঝেও দেখেছি কত হিংসা

কবিদের মাঝেও দেখেছি কত ল্যাং মারামারি

কবিরাও বেশ পটু সাজতে বেঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমী।


আমি তাই কবি নই,

আমি কবিতায় মনের দুঃখ আর সুখের বাসর সাজাই।

আমি কবি না হয়েও পেয়েছি অজস্র সম্মান

আমি কবিতায়ই পেয়েছি অনেক অপমান,

কবিতায় দেখেছি আমি প্রাণের সংশয়

আমি কবিতায়ই দেখেছি মানবের সমন্বয়।


ভৈববের সুতোয় নিজেরে কোন পরিচয় দেব?

জঞ্জাল জীবনের কিছু কথা তাই কবিতায় লিখে যাবো।

কবি নই তবু কবিতার ছায়ায় গড়ে ওঠে মায়া

হয়তোবা একদিন কবিতার কোলে মাথা রেখে নেবে না বিদায় এই জীবন কায়া।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

 আমি কি জানবো




   যখন চলে যাবো সে ই অজানা দেশে

         পড়ে থাকবে যত্নে রাখা

         শিলমোহর আঁটা সমস্ত কিছু

      এতদিন আমার বলে ছিল যা চিহ্নিত। 

যে শরীরের জন্যে ছিল কত মায়া কত চিন্তা

  সেগুলো পুড়ে পুড়ে হবে ছাই

     জানতেও পারবোনা

       বুঝতেও পারবোনা

         তার জ্বালা কতখানি! 

       

        তবে এত মোহ কেন

    আমি কি জানবো-- আমার 

দেহটা কে নিয়ে তোমরা কী করছো! 

আমি কি জানবো!

কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 সাইকেল 


               

গল্প নয়, জীবন প্রতিদিন সাইকেলে বাড়ি ফিরছে 

বহুদূর রাস্তা, রাস্তার বাঁক 

রাস্তায় দুর্বিপাক 

পাশ কাটিয়ে জীবন ফিরছে বাড়ি 

ঢংঢং ঘণ্টা বাজিয়ে দিচ্ছে সময় 

সময়ের সরোবরে কত পদ্মরাগ 

তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে চিকন পিঠ 

চশমা পরা মোটর সাইকেল যুবক 

আমি শুধু দূর কোলাহল, ব্যস্ত ক্রিংক্রিং 

ধূলি-ধূসর মাথায় ফিরছি বাড়ি 

কোথায় হাত - মুখ ধোয়ার জল ? 

মুখ দেখার আয়না ? 

জীবনে জীবন যোগের সেতু ? 

দুইচোখ করুণ সরোবর 

এখানেই সাঁতার কাটো 

যুদ্ধক্ষেত্রের ঘোড়া এখন এই ভাঙাচোরা সাইকেল ! 

দশম সংখ্যার সম্পাদকীয়

 


                                      অঙ্কন শিল্পী- মৌসুমী চন্দ্র



সম্পাদকীয়



পুজো আসছে কথাটির মধ্যে কতটা গভীরতা আছে?--- এই ব্যাপারে কতজনই বা অবগত! অনেকের কাছে বিশ্বকর্মা পুজো পেরোলেই উমা পুজোর গন্ধ পান। এটা অবশ্য স্বাভাবিক ঘটনা বলেই মনে হয়, যেন এবার পুজো চলে এল। তাই ভাষান্তর ঘটুক পুজোর আকাশ বাতাস ও পশুপাখি-গাছপালার। কারণ শুধু পুজোর উৎসবেই বাঙালিকে মজলে হবে না, হতে হবে পুজোর সময়কার প্রকৃত পাঠক‌। এই বিষয়ে সচেতন যদিও অনেকেই, কারণ পূজার ছুটি কাটানো আর সাথে সাথে বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা হওয়ার মধ্যে যে আনন্দ তা আর কোথাও নেই। বাঙালিকে তাই বলা যেতেই পারে রসে বসে বাঙালি, পেটুক বাঙালি, বইপাগল বাঙালি। তাই দেরি না করে পুজোর আগমনের আনন্দে মেতে উঠুন, সাথে চলুক সাহিত্যচর্চা। আমরা আছি আপনাদের পাশে। সাহিত্যের প্রতি মিলন থাকতে চোখ রাখুন World sahitya adda ম্যাগাজিনে।



                                  ধন্যবাদান্তে
                 World sahitya adda সম্পাদকীয় বিভাগ



_________________________________________________________________


***Advertisement(বিজ্ঞাপন):

১)



##সাঁঝের বেলা' মাসিক অনলাইন ম্যাগাজিনে যে কেউ কবিতা/গল্প পাঠান|
##'সাঁঝের বেলা' সাহিত্য সম্মান' (কবিরত্ন/সাহিত্যরত্ন/সাহিত্যজ্যোতি) পেতে যে কেউ নিজের লেখা সেরা কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/আঁকা ছবি/ভ্রমণ কাহিনী/রম্য রচনা/উপন্যাস/নাটক পাঠান|
##'সাঁঝের বেলা জীবনজ্যোতি সম্মান' পেতে নিজের জীবনী পাঠাতে পারেন|
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন- 9999998705

                     -সম্পাদক সাঁঝের বেলা
___________________________________________________________________


২) 



__________________________________________________________________


৩)




_____________________________________________________________

বি.দ্র : বিজ্ঞাপনের সব দায়িত্ব বিজ্ঞাপন দাতার। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এর কোনো দায়িত্বে নেই। আপনারা আপনাদের সুবিধা মত যোগাযোগ করে নিন। ধন্যবাদ। 

##এছাড়া আপনি ও দিতে পারেন নিজের বই প্রকাশ সহ বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞাপন মাত্র ১০০ টাকা। বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 8016962754 এই নাম্বারে। ধন্যবাদ

Saturday, September 18, 2021

দশম সংখ্যার সূচিপত্র (২৫ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র




বাংলা কবিতা ও ছড়া---



তৈমুর খান, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, সুব্রত মিত্র, তাপস মাইতি, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, মহীতোষ গায়েন, আশীষ কুন্ডু, মায়া বিদ, মিলি দাস, উদয়ন চক্রবর্তী, অমিত পাল, মুহাম্মদ বায়েজিদ আলী, বন‍্যা গুপ্ত, নবকুমার, ইমরান শাহ্, রোকেয়া ইসলাম, চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী।



বাংলা গল্প---


দীপক কুমার মাইতি, রানা জামান।




বাংলা প্রবন্ধ---


তৈমুর খান, ঋদেনদিক মিত্রো




ইংরেজি কবিতা--


Soumendra Dutta Bhowmick, Sunanda Mandal




Photography----

Moushumi chandra




গান---



বদরুদ্দোজা শেখু





Monday, September 13, 2021

গীতিকার বদরুদ্দোজা শেখুর একটি গান

 চোখের ওপারে 



চোখের দেখায় সাধ মেটে না যে , মনের দেখা তাই চাই গো,

আলোয় যা দেখা যায় না সহজে, তমসায় তাই পাই গো।।


চোখের সীমানা পেরিয়ে যেখানে

আরো দূর দেখা যায় যে ধেয়ানে

সেই অনাবিল বাতায়ন-সুখ মনোভূমে পেতে চাই গো ।।


বাসনা বিলাপ হয়েছে সমাধি

মনের গোলাপ তাই বুকে বাঁধি

আঁধিয়ার মাঝে নতুন কী আছে ? ধুলো ছাড়া কিছু নাই গো ।।


আলোর ওপারে যে আকাশ আছে

কতোটুকু তার পাই বলো কাছে ? 

তাই তো বিভোর হ'য়ে চ'লে যাই , প'ড়ে থাকে শুধু ছাই গো ।।