Sunday, December 12, 2021

কবিতা || মধ্যবর্তী চরাচর || উদয়ন চক্রবর্তী

 মধ্যবর্তী চরাচর 



বাতাসের অশরীরি শরীর বয়ে নিয়ে চলে শব্দের শব সে অবয়বে যে

কথা জাপটে থাকে সে কবিতা শরীর

নির্মাণ করে নিজের মননের রসে 

মানুষ আঁকিবুকি কাটে নিজের 

বরাদ্দ চৌহদ্দির আয়তক্ষেত্রে।

কখনও উল্লাস কখনও বিষাদ 

নিয়ে চলে শেষ পারানির দিকে 

আমি তুমি সবাই ঘুন পোকা পুষি।

গুড়ো গুড়ো হয়ে সুখ ঝরে পরে

অসুখের রুপান্তরে বোঝা যায়না 

সুখ অসুখের মধ্যবর্তী চরাচর

ঘুরে চলে চক্রবত যাপনের ইতিবৃত্ত।

কবিতা || হুমকি || আবদুস সালাম

 হুমকি



শরীরে জ্বলছে আগুন

মারণ রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে

মৃত্যু অনিবার্য জেনে ও ডাক্তার ওষুধ লেখে

বিষফোঁড়া বেরিয়ে আসে অজান্তে


ভালোবাসা দাঁড়িয়ে আছে পরিচয়হীন স্টেশনে

নিমপাতায় নেমেছে অন্ধকার

পশ্চাৎগামী অবক্ষয় আত্মবিলাপে মগ্ন

অবেলায় মগ্নহাহাকার ডানা মেলে

ঝিমিয়ে পড়ে শরীরী ব‍্যাঞ্জনা করে


এ শরীর আমার নয়

আমার জ্বলনের তাপ পাড়া জুড়ে


দৈববাণীর মতো মাইকে ভেসে আসছে

এ শরীর তোমার নয় অন্য শরীর ধরো।

কবিতা || বেহুলা-যন্ত্রণা || গোবিন্দ মোদক

 বেহুলা-যন্ত্রণা



ভরা শ্রাবণ। খল খল খল জল। স্রোত। 

কলার মান্দাসে ভাসে বেহুলা ভেলা।

শায়িত লখিন্দর। 

নিষ্প্রাণ, কালনাগিনীর রোষে। 

ভেলা ভাসে।

শায়িত লখিন্দর। সুন্দরী বেহুলা।

পাট পচা জল গন্ধ ছড়ায়।

গন্ধ ছড়ায় লখিন্দরের সাপে কাটা শরীর। 

ভেলা ভাসে। সুন্দরী বেহুলা-ভেলা।

ভেলা ভাসে। সাথে বেহুলা-যন্ত্রণা।

আর কতো দূর নেত্যধোপানীর ঘাট !

ভেলা ভাসে। ভাসে বেহুলা-যন্ত্রণা !

কবিতা || এক মুঠো রোদ || চাতক পাখি

 এক মুঠো রোদ



শীতের আমেজ পড়তে না পড়তেই

না জানি কোথা থেকে হটাৎ টানা বৃষ্টি এসে ,

মনের কোণে ফেলে গেলো

একটা দুশ্চিন্তার ছাপ এক নিমিষে।


অমনি নগেন খুড়ো উঠলো বলে 

হতাশ সুরে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে।

"এবার বুঝি আর আর হবে না চাষবাস

কে যেন গেছে পাকা ধানে মই দিয়ে। "


আকাশের যে দেখি যখন তখন মুখভার

সব সময় আঁধার করে ছেয়ে।

এতো দেখি ঋতুর খামখেয়ালী পনা,আর বর্ষা যে দেখি শুধুই একাই সারাবছর যায় গান গেয়ে।


তাই টানা দুদিন ব্যাপী বৃষ্টির ই শেষে 

যখন এক মুঠো রোদের পেলুম দেখা।

তখন মনে হলো এতো পুনর্জন্ম 

কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয় রয়েছে সবার সীমারেখা।

কবিতা || শিখন্ডী || কুনাল রায়

 শিখন্ডী




এক অসামান্য চরিত্র তুমি,

মহাকাব্য মহাভারতে,

অবহেলিত,

স্বল্পালোচিত,

তবু-

পর্বতের সম তোমার গরিমা!

সমুদ্রের সম তেজ তোমার,

শিখন্ডী তুমি!


মহেশ্বরের কৃপা প্রাপ্ত,

অম্বা,

পূর্বজন্মের কাহিনী,

যা দৃঢ় করে তোলে তোমায়!

শৈল্যের উপেক্ষা,

গঙ্গাপুত্রের প্রত্যাখ্যান,

আহুতি দিতে বাধ্য করে তোমায়!


ফিরে এলে তুমি,

দ্রূপদের সন্তান রূপে,

আবির্ভাব ঘটল তোমার-

কুরুক্ষেত্রের পুণ্য ভূমিতে।

গঙ্গাপুত্রের মৃত্যু কারণ হলে তুমি,

শরশয্যায়ে পিতামহ-

সুনিশ্চিত করলে,

ধর্মের জয়!

মুছে দিলে অধর্মের গ্লানি।

সমাজে আজ,

শিখন্ডীদের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ,

ছিনিয়ে নিয়েছ অধিকার,

তুলেছ ঝংকার,

প্রতিবাদের ভাষায়,

শরীরী আশ্লেষ,

তীব্র অনুভূতির ছায়ায়ে!

কবিতা || স্মৃতিচারণা || মিলি দাস

 স্মৃতিচারণা



নির্বাক নিস্তব্ধ নারীগুলি 

যখন উন্মুক্ত বক্ষে দ্বিপ্রহরে

প্রদক্ষিণ করে চলেছে কারুকার্য মন্দির,

হাতুড়ি ছেনি শলাকা রেখে

সমান্তরাল প্রবাহে অন্বেষণে

প্রত্যক্ষ করি গুহা গহবরের চিকচিক করছে বৃষ্টি ফোঁটা মাখা শ্রাবণী মেঘেরা,

ওদের চোখের বিষণ্ণতা ধরা দিয়েছিল

প্রতিটি ভাস্কর্যের অন্তরে।

রিরংসার উৎকণ্ঠা জাগ্রত হয়নি

পাথুরে ঘন ছায়ায়,

বরং মনে পড়েছিল একযুগ আগে ফেলে আসা স্ত্রী,

প্রেয়সী কিংবা রক্তে ভেজা সুডৌল কন্যার কথা।

কবিতা || মন || আশীষ কুন্ডু

 মন



মন যখন পোড়ে, তখন নদীর জল 

ধোঁয়ায় ভরা সবুজ, স্বপ্ন টলমল!

মন যখন নৌকা, পাড়ের স্বল্পভাষ

চিকচিক জল, প্রলম্বিত আকাশ!

মন যবে চোখে, তখন ঝাঁক পায়রা

গাঙের বাঁকে গান, কলস যেন ভরা!

মন যখন বিমুখ, বিস্বাদ স্বপ্নের 

কাঁচের চুড়ি ভেঙে,বিচ্যুত প্রাণের!

মন যখন শরীর, দোলাচলে জগত

মনকে চেনা ভার, নানা মুনির মত।

কবিতা || গুপি বাঘা ফিরে গেল || অরবিন্দ সরকার

 গুপি বাঘা ফিরে গেল

         


গুপি বাঘা এসেছিল ফিরে তার দেশে,

রাজকন্যা সঙ্গে নিয়ে রাজকীয় বেশে,

চাওয়া পাওয়া ক্ষান্ত ধর্ম অবশেষে,

সোনা দানা জহরত খেলা একপেশে।


রাজধর্ম নাই হেথা নেতা মন্ত্রী চোর,

ধর্ম কাহিনীতে তাঁরা না কর্নগোচর, 

ফিতা কাটে কানকাটা চুরিতে বিভোর,

বসতের কাটমানি বান্দা নাছোড়।


গুপি বাঘা রাজা ছিল অত্র হাবাগোবা,

মসনদ একটাই প্রেরণার ভোঁভা,

ভূতের বরের চেয়ে ভেল্কি মনোলোভা,

তাদের জুতোর চেয়ে চটি পদশোভা।


সবাই তো চলে যাবে থাকবে না কেউ,

ভিখারীরা চেয়ে রবে শব্দে ঘেউ ঘেউ।

কবিতা || দুঃখ || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 দুঃখ



আমার খুব কাছাকাছি এসে তুমি দীর্ঘশ্বাস ফেলো

আমার সারাটা ঘর ভরে যায় আলোয়

আমার সমস্ত দুঃখেরা ঘর জুড়ে জ্বল জ্বল করছে

কত অভিমানে জড়িয়ে ধরে আমায়

রিনিরিনি সুরে বেজে ওঠে

আমার কাছে দুঃখ এসে দাঁড়ায়।

কবিতা || দায় || মিঠুন রায়

 দায়



অস্তিত্বকে আঁকড়ে বেঁচে থাকে মানুষ 

প্রশ্ন তুলে মানবতার অপমৃত‍্যু

পরিচিতির সোপান যদি রাজনৈতিক রঙ,

ক্ষুধার্তের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় কারা,

তারাও মানবপ্রেমের বুলি আওড়ায়।

মেকি দেশপ্রেমীরা ঘৃণা করে মানবতাকে

বিপথে স্বপ্নরা ডানা মেলে,

লুটে নেয় মহাজন শস‍্যকণা

কথা রাখার দায় কারোর নেই।

কবিতা || কালো ধোঁয়া || সুমিত্রা পাল

 কালো ধোঁয়া 

       


একটা কুণ্ডলীকৃত কালো ধোঁয়া ,

ব্যাপ্ত মানব সমাজের অন্তরালে।

বাহিত হয়েছে শিরা-উপশিরায়,

জরাগ্রস্ত তাই মানব সভ্যতা।


একটা কুণ্ডলীকৃত কালো ধোঁয়া,

দুরন্ত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

চাপা শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি,

দম বন্ধ হওয়া পরিবেশ।


একটা কুণ্ডলীকৃত কালো ধোঁয়া,

নরম তুলতুলে তাজা হৃৎপিণ্ডটিকে,

করেছে রংহীন, রক্তশূন্য মাংসপিণ্ড।

ধুঁকছে যমরাজের প্রতীক্ষায়।


একটা কুণ্ডলীকৃত কালো ধোঁয়া,

পৃথিবীকে ঢেকেছে গভীর অন্ধকারে।

ভয়ার্ত চোখ, শঙ্কায় গুনছে প্রহর,

শোনা যায় তারই আর্তনাদ।

কবিতা || ব‍্যবধান || মহীতোষ গায়েন

 ব‍্যবধান



ব‍্যবধানটা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে

কিসের ব‍্যবধান,কি ব‍্যবধান সেটা

সময় বলে দেবে,বলে দেবে কাছের

অথবা দূরের প্রিয় কিম্বা অপ্রিয়জন।


আকাশের সাথে বাতাসের ব‍্যবধান

বাড়ছে,জলের সাথে স্থলের ব‍্যবধান

বাড়ছে,মনের সাথে মননের,মানুষের

সাথে মানুষের ব‍্যবধান বেড়েই যাচ্ছে।


আমরা দেখে দেখছি না,শুনেও শুনছি না

জেনেও জানছি না,বুঝেও না বোঝার ভান

করছি,আমাদের অতীত করেছে,বর্তমানও

করছে,ভবিষ্যতেও করবে,এটাই চিরায়ত।


সম্পর্কের মধ‍্যে ব‍্যবধান,সম্পর্কের বাইরে

ব‍্যবধান,সম্পর্কের জন‍্য ব‍্যবধান বাড়ছে,

ব‍্যবধান কমছে দুর্নীতির সঙ্গে দুর্নীতির,

মৃত্যুর সাথে মৃত্যুর,মানুষ দৃশ্যত নির্বাক।

কবিতা || দুটি দেশ || তৈমুর খান

 দুটি দেশ



 গ্রিক দেশের মাটিতে অনেক বীর জন্মাত

 আমরা বাংলাদেশের মাটিতে

 ধানগাছ হয়ে জন্মালাম।

 গ্রিকরা পৃথিবী কাঁপাত

 আমরা কাঁদতে থাকলাম।

 গ্রিকরা নাটক লিখত

 আমরা চর্যাপদ….


 আলেকজান্ডার তবু খুশি হয়েছিল!