Thursday, November 17, 2022

ছোট গল্প - বদ || লেখক - অলভ্য ঘোষ || Written by Alabhya Ghosh || Short story - Bod


 

    বদ 

অলভ্য ঘোষ 


আমি তখন স্কুলে পড়ি একটি ছেলে বখে গিয়েছিল।লুকিয়ে লুকিয়ে বিড়ি সিগারেট খেত কেবল না গঞ্জিকা সেবন ও করতো।আমাকে অনেকে বারণ করতো ও খারাপ ছেলে তুই ভালো ছেলে ওর সাথে মিশিস কেনো।খারাপ হয়ে যাবি।আমার ভালো ভালো ছেলে গুলোর চাইতে খারাপ ছেলেটাকেই বেশি ভালো মনে হতো।কারণ তার ভালো সাজার কোন দায় ছিলনা।কে তাকে খারাপ বলবে তাতে তার কিছুই যেত আসতো না।আর আতু আতু পাতু পাতু ভালো ছেলে গুলোর ছিল সর্বদা লোকের কাছে ভালো হবার চেষ্টা।গজ-দম্ভ মিনারে বাস!আমার মনে হত একটা খারাপ ছেলে যদি একটা ভালো ছেলেকে খারাপ করেদিতে পারে তবে একটা ভালো ছেলে একটা খারাপ ছেলেকে কেন ভালো করতে পারবে না।যদি সে সত্যিই ভালো হয়।যদি ভালো ছেলেটা খারাপ ছেলেটার ভালো না করতে পারে তবে ভালো ছেলেটার ভালো গুণে খামতি আছে।অমন ভালো হওয়ার চাইতে না হওয়া ভালো। আমি ছেলেটার সাথে স্কুলে যেতাম।ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী ,নেতাজি সুভাষ-চন্দ্র বসু,মাস্টারদা সূর্য সেন, বাঘা যতীন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার,মাতঙ্গিনী হাজরা, রবিনহুড প্রতিদিনই এক একটা গল্প শোনাতাম।


"উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে, 

তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে !"


ছেলেটা আমাকে একদিন একটা মাঠের মাঝে নিয়ে গিয়ে বলল;

-তুই তোর জ্ঞানের কথা রাখ।কত বড় হিম্মত আছে বিড়ি খেয়ে দেখা।


আমি বললাম;

- বিড়ি খেতে আবার হিম্মত লাগে নাকি।


ছেলেটা বলল;

-মুখে বললে হবে কেন খেয়ে দেখা।


ওর হাত থেকে একটা বিড়ি নিয়ে মুখে ধরলাম।দেশলাই কাঠি জ্বেলে ও আমার মুখাগ্নি করার সাথে সাথে ওর মুখটা যেন প্রজ্বলিত হয়ে উঠলো আনন্দে। বিড়িটা ঠিকমতো জ্বলেনি তখনো ফিরিয়ে দিতেই সে ফুরফুর টান দিতে লাগলো আমার মুখের বিড়িটা আনন্দের চোটে।এ আনন্দ কিসের আনন্দ আমি আন্দাজ করেছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে তার প্রকাশও পেলাম।ছেলেটা জনে জনে স্কুলে সকলকে বলে বেড়াতে লাগলো আমাকে সে বিড়ি খাওয়াতে পেরেছে।কেউ কেউ বিশ্বাস করলো ছিঃ ছিঃ করে বলল আমি উচ্ছন্নে গেলাম।কেউ কেউ কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইল না।আমার মত ভালো ছেলে তেমন কোন কাজ কখনোই করতে পারে না।বরং ছেলেটার ওপর তাদের বিশ্বাস ছিল না।


আমি ছেলেটার সাথে পরের দিনও প্রস্তুত হলাম স্কুলে আসতে নতুন একটা গল্প শোনাতে।ছেলেটা তখন আমায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে ভাবটা এমন তার আর আমার মধ্যে এখন কোন ফারাক নেই।তবে কেন বাপু জ্ঞানের কথা অতো।


আমার খুব হাসি পেয়েছিল।আমি বিড়িটা মুখে ধরেছিলাম কিন্তু ধোঁয়াটা কখনোই মুখের ভিতর টানিনি।ছেলেটাকে বলেছিলাম শোন কে আমাকে ভাল-বলবে তার চেয়ে ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমি নিজের কাছে নিজে কতটা ভাল।আমার পথ যদি তোর পথের থেকে উৎকৃষ্ট হয় তোকে আমার পথে আসতেই হবে। তোর পথ যদি আমার পথের থেকে ভালো হয় আমি তোকে কথা-দিলাম নির্দ্বিধায় তোর পথে হাঁটব।


ছেলেটাকে আমি সেদিন বুদ্ধদেবের গল্প বলেছিলাম পথ হাঁটতে হাঁটতে।


সময় টা বর্ষাকাল জঙ্গলের মধ্যে সিক্ত বুদ্ধদেব তখন ধ্যানে মগ্ন থাকেন সারাদিন।কর্দমাক্ত পথে বেশিদূর যাওয়া সম্ভব হয় না জঙ্গল সন্নিকট নগর থেকে ভিক্ষানুসন্ধানে বেড়য় শিষ্যগণ।কোনদিন ভিক্ষা জোটে কোনদিন ভিক্ষা জোটে না।যেদিন জোটে সেদিন আহার্য গ্রহণ করে।যেদিন জোটে না খেতে পায় না।খাদ্যের চেয়েও অন্তরায় প্রকৃতি বর্ষা মুখর দিনে জঙ্গলে থাকা দুরূহ।একটা ছাউনি খুব প্রয়োজন।


বুদ্ধ শিষ্যদের বলেন;

- যাও দেখো নগরে একটি ছাউনি মেলে নাকি।


কিন্তু নগরে কিছু লোক তাদের ভিক্ষা দিতে সম্মত হলেও ছাউনি দিতে কেউয়ই চায় না।অবশেষে এক পতিতা তাদের ভিক্ষা ও ছাউনি উভয় দিতে সম্মত হয়।


শিষ্যরা ফিরে এসে গুরুকে জানাল;

- ছাউনি পাওয়া গিয়েছে গুরুদেব। কিন্তু......


বুদ্ধ বলেন;

-কিন্তু কি?


শিষ্যরা সংশয়ের সাথে বলেন;

-কিন্তু গুরুদেব তা বেশ্যালয়।


বুদ্ধ বললেন;

-আমরা সন্ন্যাসী ভিক্ষুক।আমাদের কাছে বেশ্যালয় আর দেবালয়ের মধ্যে কোন ফারাক নেই।চলো সেই উত্তম স্থানে আমাকে নিয়ে চলো।


শিষ্যরা বুদ্ধকে সেই বেশ্যালয়ে আতিথেয়তার জন্য নিয়ে গেলত বটে কিন্তু মনের মধ্যে সংশয়ে দোদুল্যমান রইলো এই ভেবে যে তাদের সন্ন্যাস ব্রত থেকে স্খলন ঘটতে আর বেশি দেরি নেই।এদিকে বুদ্ধকে অতিথি হিসেবে পেয়ে লাস্যময়ী বারবনিতা টি কি করবে কিছুই ভেবে উঠতে পারছিল না।কিভাবে কতটা সেবা করলে প্রভু পরিতৃপ্ত হবেন।বুদ্ধের সিক্ত বস্ত্রের বদলে তিনি তাকে রেশমের কোমল গরম কাপড় পরিধান করতে দিলেন।সুগন্ধি খাদ্য পানীয় আহার করতে দিলেন; এমনকি তার মনোরঞ্জনের জন্য নৃত্যও পরিবেশন করতে লাগলেন।আর এই প্রতিটি পদক্ষেপে শিষ্যরা আঁতকে উঠতে লাগলেন তবেকি তাদের গুরুদেব বশীভূত হয়েছেন এই সামান্য কয়েক কড়ির বেশ্যার!


বুদ্ধ শিষ্যদের ডেকে বলেন;

-শোন বাইরের কোন কিছুতেই মানুষের স্খলন ঘটে না।মানুষের স্খলন ঘটে ভেতরের দ্বিচারিতায়!


আমি থেমে বলেছিলাম;

- তারপর কি হয়েছিল জানিস?


ছেলেটা বোকার মত বলেছিল;

-কি?


আমি বলে ছিলাম;

-বুদ্ধদেব যখন সেই বেশ্যাখানা ছেড়ে চলে গেলেন।সেই বেশ্যাও তার পিছু নেয় সন্ন্যাস গ্রহণ করে।


ছেলেটা তীব্র প্রতিবাদ করেছিল।

-এসব ঢপের গল্প।শোন নগরের পথে ওই ভিখারি আর খানকি টা যদি এক সাথে বেড়য় লোকে ভিখারি কে ছেড়ে খানকির পেছনে ছুটবে কারণ সে বেশি আকর্ষণীয়।


কয়েক দিনের মধ্যেই আমি স্কুলে পেট ধরে বাবাগো মাগো করে উঠলাম।সর্বাগ্রে যে এগিয়ে এল সে ওই বিড়ি খাওয়া ছেলে টা।ওই টিচার্স রুমে গিয়ে শিক্ষকদের খবর দিল কেবল নয়।রিকশা ডেকে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে উদ্যত হলো।শিক্ষক মহাশয় রা জরুরি অবস্থার জন্য স্কুলে সংরক্ষিত সাধারণ পেট ব্যথার ট্যাবলেট দিয়ে ছেলেটাকে আমার বাড়িতে পাঠাল খবর দিতে।


মায়ের কাছে কোন কিছু লুকানোর সাধ্য আমার নেই।তড়িঘড়ি আমার মা খবর পেয়ে ছুটে গেল স্কুলে এবং আমাকে বাড়ি নিয়ে এসে প্রথম যে কথাটি বলেছিল সেটি হল;

- তোমার কিছুই হয় নি।


আমি মায়ের মুখের দিকে চেয়ে হেসেছিলাম।


মা কেবল বলেছিল;

- আর যেন এমন করোনা।


মা আমাকে জানতে চায়নি কেন আমি পেট ব্যাথার অভিনয় করেছিলাম।আমার স্কুল কখনো কামাই হতো না স্কুল থেকে পালিয়ে আসাত দূর।মা ভালকরেই জানতো এর পেছনে আমার কোন স্কুলের চাইতেও বড় কোন জীবন পাঠ লুকিয়ে রয়েছে।পাঠটি ছিল; আমি কি ঠিক না ভুল?Am I right or wrong?সমগ্র জীবনটা তো একটা পাঠশালা।


বহুদিন বাদে সেই ছেলেটি পথে আমায় ধরে বলল গল্প বলেবলে তুই আমার মাথাটা বিগরেদিলিরে।


আমি বললাম;

-যে মানুষ তার বদ বুদ্ধিকে অতিক্রম করতে পারে সেই বুদ্ধ।আর যে মানুষ তার বদ বুদ্ধির নিচে চাপা পড়ে থাকে তারা বুদ্ধু।


Wednesday, November 16, 2022

ছোট গল্প - যমজ || লেখক - অমিত কুমার জানা || Written by Amit Kumar jana || Short story - Jomoj


 


  যমজ
অমিত কুমার জানা


অনুপ এবং অজিত দুই যমজ ভাই। দুজনকে দেখতে হুবহু একই রকম এবং হাঁটা চলার ধরনও প্রায়ই একই। তবে ছোটবেলা থেকে পাঁচ মিনিটের ছোট  অজিত অনুপের চেয়ে বেশ দুষ্টু। অজিতের এই দুষ্টুমি বড় হওয়ার সাথে সাথে কমলো না,বরং বদমায়েশিতে পরিণত হলো। সে বিভিন্ন ধরনের অকাজ কুকাজ করে আনন্দ পেতে শুরু করলো। এদিকে অনুপ কলেজের পড়াশোনা শেষ করে পুলিশের চাকরি পেল। অবশ্য এর জন্য তাকে নিয়মিত অনেক পরিশ্রম এবং পড়াশোনা করতে হয়েছে। 
অজিত কলকাতার একটা কলসেন্টারে কাজ করতো। এতেও তার ধৈর্য্য ছিল না। মাঝেমধ্যেই কারণে অকারণে বাড়ি চলে আসতো। ইতিমধ্যে কলকাতা সহ সারা পশ্চিমবঙ্গে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সংকট রেখা অতিক্রম করলো। কলকাতায় শয়ে শয়ে মানুষ সংক্রামিত হলো এবং মারা যেতে লাগলো। করোনার ভয়ে অজিত বাড়ি ফিরে এলো, মেদিনীপুর শহরে। এদিকে অনুপ করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ গৃহে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। সে বাড়ির বাইরে সচরাচর বেরোয় না। অনেক দিন পর অজিতকে দেখে মা উলপীদেবী ভালো মন্দ রান্না করে খাওলেন এবং তাকে সাবধানে থাকতে বললেন। কারণ ভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার না করলে নির্ঘাত করোনা আক্রান্ত হতে হবে। কিন্তু অজিতের অনুপকে দেখেও শিক্ষা হলো না,সে ইচ্ছাখুশি এদিক ওদিক বেড়াতে লাগলো।  অজিতের বেপরোয়া ব্যবহার ক্রমশ বাড়তেই থাকলো। পাড়ার অনেকেই তার দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করলো যে সে কলকাতা থেকে এসে টেস্ট, আইসোলেশন এইসব কিছু না মেনে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে কেন? অজিত এসব কথায় তোয়াক্কা না করেই বললো যে তার যা মন চায় তাই করবে। শুধু তাই নয় সে এই ভয় দেখায় যে তার দাদা অনুপ পুলিশ, বেশি ঝামেলা করলে দাদাকে দিয়ে লক্ আপে ঢুকিয়ে দেবে।

এদিকে অসুস্থ অনুপ বাড়িতে আইসোলেশনে সময় কাটাচ্ছে। যদিও সে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। বাড়িতে সব্জি ছিল না। মা অজিতকে বাজার যেতে বলে বাথরুমে চলে গেলেন। অজিতের মাথায় একটা বদমায়েশি বুদ্ধি খেলে গেল। সে তার দাদার পুলিশ ইউনিফর্ম এবং ক্যাপটা পরে নিল। তারপর মুখে মাস্কটা লাগিয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লো বাজার করতে। শহরেরের প্রান্তের হাইরোডে যেখানে তুলনামূলক জনসমাগম বেশ সেখানে দাঁড়িয়ে রুললাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। এরপর সে ঘুষখোর পুলিশি স্টাইলে তোলাবাজি শুরু করলো।  বাইক আরোহী যারা যারা হেলমেট এবং মাস্ক পরেনি তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা নিতে লাগলো। মাস্কহীন ফোরহুইলারের ড্রাইভারও রেহাই পেলো না। এক দু ঘন্টায় অজিতের দু পকেট টাকায় ভরে গেল। এরপর অজিত মহানন্দে বাজারে গিয়ে বাজার সেরে পান সিগারেট খেয়ে বাড়িতে ফিরে এলো।

এর পরদিনের ঘটনা। অজিত মাস্ক পরে বাইক নিয়ে দিব্যি বাজারে বেরিয়ে পড়ল। পঞ্চুর চকে চায়ের দোকানে বেশ ভিড়। যদিও এই সংক্রমনের সময়ে চা পানের দোকান খোলা সরকার কার্যত নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু শোনে আর কয়জন?
এক যুবক চা পান খেয়ে  দোকান থেকে বেরিয়ে পড়েছিল ।দোকানি তাকে বললেন যে এই সাতসকালে খুচরো নেই তাই বাকি দুশো  টাকা একটু পরে এসে যেন সে নিয়ে যায়। যুবকটি মাথা নেড়ে বাইক নিয়ে অন্যত্র চলে গেল। ঠিক এই সময়ে চায়ের দোকানের দিকে বাইক নিয়ে এলো অজিত। উক্ত যুবকের জামা প্যান্টের কালার হুবহু অজিতের মতোই ছিল। এবার অজিতের মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেল। সে বাইক নিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। দশ পনের মিনিট পর অজিত মাস্ক পরে আবার ওই চায়ের দোকানে ফিরে এলো। ফিরে এসে চা দোকানীকে বলল যে আমার পাওনা দুশো টাকা দিন। দোকানদার অজিতকে উক্ত যুবক ভেবে অজিতকে দুশো টাকা ফেরত দিয়ে দিলেন।

এর কিছুক্ষণ পর উক্ত যুবকটি চায়ের দোকানে ফিরে এলো। ফিরে এসে দোকানীকে বললো, " আমার পাওনা দুশো টাকা দিন।"
দোকানী অবাক হয়ে বললো, "তুমি তো এখনই দুশো টাকা নিয়ে গেলে! মাস্ক পরে টাকা মারার ভালোই সুযোগ পেয়েছো।"
যুবকটি রেগে ফেটে পড়লো এবং বললো, " এখনই আমার টাকা দিন নইলে পুলিশ ডাকবো। আমার পাওনা আমি নিয়েই ছাড়বো। ভালো চান তো দিয়ে দিন।"
এইভাবে তর্কাতর্কি হতে হতে দোকানদারের সাথে যুবকটির তুমুল বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। অনেক লোক জড়ো হলো। খানিকক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হলো।
পুলিশের এসেই প্রথমে চায়ের দোকানিকে গালিগালাজ শুরু করলো। পুলিশ বলল যে আপনি কি জানেন না এই লকডাউনে চা পানের দোকান খোলা নিষিদ্ধ। দোকানদার কাঁচুমাচু হয়ে হাত জোড় করে পুলিশের কাছে ক্ষমা চাইলেন। এরপর পুলিশ এই ঝামেলার কারণ শুনে হেসে ফেলল। ঠিক এই সময় উপস্থিত একজন ছেলে পুলিশকে বলল, "যে দুশো টাকা যে নিয়ে গেছে তাকে দেখতে অনেকাংশে অনুপদার মতো।"

পুলিশ ঐ ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়ে অনুপের বাড়িতে চললো। অনুপের মা উলপীদেবী দরজা খুললেন। পুলিশ দেখতে পেল অনুপ একটা আলাদা রুমে কোয়ারেন্টাইনে আছে, সে করোনা আক্রান্ত। উলপীদেবী বললেন যে অনুপ দশ বারো দিন বাড়ি থেকেই বেরোয় নি।  ঠিক এইসময় বাথ‍রুম থেকে বেরিয়ে এলো অজিত। পুলিশ একবার অনুপ একবার অজিতের দিকে তাকিয়ে উলপীদেবীর দিকে বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকালো। দুজনকে একেবারে একইরকম দেখতে। উলপীদেবী বললেন, "এ হলো অজিত,অনুপের যমজ ভাই। এবার পুলিশের বুঝতে অসুবিধা হলো না যে চায়ের দোকানীকে বোকা বানিয়ে এই অজিতই দুশো টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
পুলিশ এবার ডাইরেক্ট অজিতকে জিজ্ঞেস করলো, "তুমি তোমার দোষ এখানেই স্বীকার করবে নাকি থানায় নিয়ে গিয়ে বাধ্য করাবো।" পুলিশের চোখরাঙানিতে অজিত থতমত খেয়ে গেল এবং শেষমেশ নিজের দোষ স্বীকার করলো। উলপীদেবী বললেন, "ছেলেটার জন্য আর কত নীচে নামতে হবে আমাদের কে জানে!" অনুপ করজোড়ে বললো বললো,  "স্যার ভাইকে এবারের মতো মাপ করে দিন। আমিও একজন পুলিশ, আমি নতমস্তকে ওর দোষ স্বীকার করছি।"
অনুপের বিনম্র ব্যবহার দেখে পুলিশ মোহিত হয়ে অজিতকে মাপ করলো এবং বললো যে এবারের মতো ছাড়া পেয়ে গেলে নেক্সট টাইম এরকম বেয়াদবি করলে সোজা লক্ আপে পুরে দেবো। এ যাত্রায় অজিত দাদার দৌলতে নিষ্কৃতি পেলো।
তা সত্ত্বেও অনুপের প্রতি অজিতের বিন্দুমাত্র সৌজন্য দেখা গেল না। অজিতের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হলো ও কিছুই করেনি। যাইহোক পুলিশের নির্দেশে অজিত চা দোকানীকে দুশো টাকা ফেরত দিলো।

এর কিছুদিন পরের ঘটনা। অজিত তার কলেজের এক বান্ধবী তনুজাকে দেখতে পেল হলুদ সালোয়ার কামিজ পরে শহরের চৌরাস্তা থেকে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল। অজিত খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো যে তনুজা তার মামার বাড়িতে এসেছে। কলেজে পড়াকালীন অনুপ এবং তনুজা পরস্পরকে ভালবাসতো। কিন্তু অজিতও তনুজাকে ভালবাসতো। তনুজার পক্ষে অজিতের প্রপোজাল একসেপ্ট করা সম্ভব হয় নি। সেদিন থেকে অজিতের মনে তনুজার প্রতি যে প্রতিহিংসার আগুন জমে ছিল তা আজ যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। অজিত তনুজাকে শায়েস্তা করতে যেন শিকারীর মতো ওত্ পেতে বসে থাকলো। মানে প্রতিদিন নিয়ম করে ঐ চৌরাস্তার মোড়ে অপেক্ষা করতে থাকলো যাতে সুযোগ পেলেই কার্যসিদ্ধ করতে পারে।

পরদিন সকাল দশটার ঘটনা। মাস্ক এবং হলুদ সালোয়ার কামিজ পরা একটা মেয়ে চৌরাস্তার মোড়ের ওষুধের দোকানের দিকে হেঁটে হেঁটে আসছিল। এইসময় উল্টোদিকের চায়ের দোকানে অপেক্ষা করছিল অজিত। অজিত ধীরে ধীরে ওষুধ দোকানের দিকে হাঁটতে লাগলো। তার পকেটে রয়েছে সালফিউরিক এসিডের একটা ছোট বোতল। দোকানের কাউন্টারে এসে মেয়েটি ওষুধ চাইলো। অজিত তখন পকেট থেকে এসিডের বোতলটা বের করে হাতে ধরেছে। দোকানী বললো, "তুমি মিতালী তো, গতকাল আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রেকোয়েস্ট পাঠিয়েছো?"
মেয়েটি বললো , "হ্যাঁ, আমি মিতালী। এই বলে সে মাস্ক খুলে ফেলে বললো যে সে তার পিসতুতো বোন তনুজার পোশাক পরে এসেছে।"
তা শুনে আতঙ্কিত কিংকর্তব্যবিমূঢ় অজিতের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং হাত থেকে এসিডের বোতল পড়ে যায়। ধোঁয়া উড়তে থাকে। ওষুধ দোকানী চিৎকার করে লোক জড়ো করে ফেলে। ততক্ষণে সাত -আট জন লোক এসে অজিতকে পাকড়াও করে। মারাত্মক এসিড ব্যবহার এবং এসিড হামলার প্রয়াসের জন্য পুলিশ এসে অজিতকে ধরে নিয়ে যায়। এবার সে আর ছাড়া পেলো না। আদালতে কেস না ওঠা পর্যন্ত অজিত আপাতত কারাবাসে দিন কাটাচ্ছে।

Tuesday, November 15, 2022

উপন্যাস - পদ্মাবধূ || বিশ্বনাথ দাস || Padmabadhu by Biswanath Das || Fiction - Padmabadhu Part -27


 


দেবীবাবু ধীর কণ্ঠে বললেন, আমার সাথে আসুন। তিনি পাশের রুমে গিয়ে একটা বড় আয়নার কাছে গিয়ে নিজের চেহারাকে দেখিয়ে বললেন, ঐ লোকটাই আপনার দাদাকে খুন করেছেন।

 দেবীবাবু - । আপনি আমার দাদাকে খুন করেছেন? হ্যাঁ।

 আপনাকে ছাড়বো না দেবীবাবু। আজ হত্যাকারীর রক্ত দিয়ে ভ্রাতৃহত্যার তর্পণ করবো। ছুরিখানা উপরে তুলে দেবীবাবুর বক্ষে বিদ্ধ করতে যাবো এমন সময় দৈববাণীর মত ময়নার কণ্ঠস্বর আমায় ওপথ থেকে বিরত করলো। মনে হল ময়না যেন বলছে, মা, বাবাকে হত্যা করছ - মা, বাবাকে খুন করছ - মা তুমি ;

ওকথা শুনে ছুরি হাতে নিয়ে নিথর হয়ে স্টাচু হয়ে পড়লাম। পারলাম না। দেবীবাবুর বুকে ছুরিখানা বসিয়ে দিতে। আমার সমস্ত প্রতিহিংসা ক্রোধ এ মুহুর্তে অগ্নিতে জল ঢালায় শীতল হয়ে গেল। কে যেন জোর করে আমার হাত হতে ছুরিটা ছিনয়ে নিলো। পিছন হতে ময়নার ঐ কণ্ঠস্বর আবার যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ‘মা বাবাকে মেরো না

ওখানে না দাঁড়িয়ে টলতে টলতে বারান্দয় এসে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকলাম। দাদাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আমি পারলাম না দাদা, তোমার শত্রুকে শেষ করতে পারলাম না। আমার এই সাময়িক হৃদয় দৌর্বল্যের জন্য তোমার আত্মার নিকট আমি ক্ষমাপ্রার্থী দাদা। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

কোন সময় যে দেবীবাবু পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন আমি জানি না। আমায় কাঁধে হাত রেখে বললেন, আমায় ক্ষমা কর পদ্মা। অজ্ঞানে অনেক পাপ করেছি, সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও একটা গরীব পরিবারকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছি এবং নিজের জীবনেও চরম অধঃপতন নিয়ে এসেছি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তোমার দাদা আমার শত্রু হয়েছিল। কিন্তু সেই সুমন্ত আমার তমসাচ্ছন্ন জীবনের ঘন কৃষ্ণ মেঘরাশি সরিয়ে দিয়ে আমার জীবনে নব প্রভাতের অরুণ উদয় ঘটিয়েছে। সেই সূর্যশান্তি আলো ঝলমল জীবনে আমি শান্তির বিহগগীতি শুনতে পেয়ে নিজের জীবনকে ধন্য বলে মনে করেছি। আমার অতীত জীবনের ব্যাভিচার, উদগ্র লালসা শুধু আমার জীবনকে ধ্বংস করেনি, আমার সহধর্মিনীকেও এই দুষ্কর্মের জন্য আমিই দায়ী পদ্মা। তাই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য আমি সদা প্রস্তুত আছি। কেন তুমি আমায় শাস্তি দিচ্ছ না।

একটু পর নিজেকে শান্ত করে বললাম, শাক্তি আপনাকে দিতাম দেবীবাবু, কিন্তু এক নিষ্পাপ, সরল শিশুর মুখ স্মরণ কর ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে পারলাম না। ঐ অবোধ শিশু আমাকে বার বার এই হত্যাকান্ডের হাত থেকে বিরত হবার ইঙ্গিত দিয়েছে।

পদ্মা, ময়নাকে অপার মাতৃস্নেহে তুমি মৃত্যুর কবল হতে বাঁচিয়েছো, সে তোমার মাতৃ হৃদয়ে তোমার অলক্ষ্যে কন্যার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে, সেই স্থান হতে তুমি তাকে কিছুতেই সরাতে পারবে না। তোমার দাদা আমার ক্রোধবহ্নির শিকার হয়েছে ফলে দেখা দিয়েছে পিতা ও পুত্রীর জীবনে ভাগ্য বিড়ম্বনা। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য তোমার জীবনের দায়িত্ব আমি মাথা পেতে নিলাম। এবার তোমার সম্মতি আমাদের মিলন পথকে কুসুমাস্তীর্ণ করে তুলুক। - তোমার নিকট এই আশাই রাখছি।

দেবীবাবু -

হ্যাঁ, পদ্মা, আমি এক চক্রান্তের বশে নিজের পুরুষত্ব হারিয়ে তোমার দাদাকে খুন করেছি। বিশ্বাস করো এক মুহুর্তের জন্য ভাবিনি কত বড় সর্বনাশ আমি করেছি। আমি তোমার ভ্রাতৃঘাতক হলেও তুমি আমায় ক্ষমা করো। সেদিন কনক নার্সিংহোমে বলেছিলাম সময় হলে বলব আমার অতীত। যে অতীত নোংরা, আবর্জনায় পরিপূর্ণ কেন আমার স্ত্রী চন্দ্রাকে হারিয়েছি, কেন এই সসাগরা পৃথিবী হতে নিরপরাধ গরীব সন্তানকে চিরদিনের ঘুম পাড়িয়েছি। দেবীবাবু চোখের সামনে অতীত ইতিহাস অস্পষ্টভাবে ভেসে উঠল এবং তখনই তিনি তার স্মৃতি চারণ করতে শুরু করলেন। যে ইতিহাসের কাহিনী সেদিন পর্যন্ত তার অন্তরের অস্তঃস্থলে বিদ্ধ হয়েছিল। তা মোটামুটি হল এরকম।



মাঘের শেষাশেষি। শীত তেমন নেই, বসন্ত দেখা দিয়েছে ফাল্গুনের আগে। এলোমেলো ভাবে বাতাস বইছে। ওতে ভেসে আসছে যেন ফুলের গন্ধ। ধরণীর বুকে রক্তিম আভা ম্লান হতে চলেছে। একটু পরে শহরের কালো অন্ধকার নেমে আসবে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী বলে। একাকী ফুটপাতে দেবীদাস দাঁড়িয়ে আছে যানবাহনের অপেক্ষায়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর আর ধৈর্য্য রাখতে না পেরে ব্যাকুল হয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকে।

হঠাৎ একটা কালো রঙের ট্যাক্সি কাছে এসে এমনভাবে ব্রেক কষল যে দেহের গ্রন্থিগুলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন অবশ হয়ে গেলো। ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে পড়ল। কোন প্রকারে সামলে ড্রাইভারের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল গম্ভীর মুখ তার। চোখ দুটো যেন লাল মার্বেল। স্টীলের ফ্রেমের চশমা চোখে আটকানো। ভূগুলো বেশ মোটা। মাথা ভর্তি কোঁকড়ানো চুল। জুলফি কানের পাশ দিয়ে বেশ খানিকটা নেমে গেছে চোয়ালে।; গোঁফটাও মোটাসোটা। গাল ভর্তি দাড়ি তবে মসৃণ। মাথায় একটা কালো টুপি। দেহের দিকে তাকিয়ে দেখল, কালো রঙের ওভারকোর্টে ঢাকা।

ওভাবে তার চেহারার খুঁটিনাটি দিক লক্ষ্য করে চলেছে, ঠিক সেসময় ভদ্রলোক বললেন, কোথায় যাবেন, আসুন না আমার ট্যাক্সিতে?

কেমন হকচকিয়ে গেলো ওর কথা শুনে। বিশেষ করে এক অচেনা অজানা মানুষের সহানুভূতি আশ্চর্য্য করল দেবীদাসকে। কব্জি উল্টিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সময় অনেক পেরিয়ে গেছে, তাছাড়া বাড়ীতে বিশেষ কাজ আছে অতএব সুযোগ যখন পাচ্ছে হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা উচিত নয়।

ট্যাক্সিতে চড়ে বসতেই ষ্টার্ট দিলো ভদ্রলোক। ওর পাশে বসেছিলেন, ফুটখানেক মাত্র ছাড়াছাড়ি। দেবীদাস ও ড্রাইভার ছাড়া তৃতীয় ব্যক্তি ছিলো না। ট্যাক্সি দ্রুত গতিতে চলছে। পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রকান্ড বাড়ীগুলো পলক না ফেলতে ফেলতে সোঁ সোঁ শব্দে পেরিয়ে যাচ্ছে। মনে মনে হিন্দী গানের সুর ভাঁজছে। বেশ ভালোই লাগছিল। একটু পর ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন,

কোথায় যাবেন?

শ্যামবাজার।

তারপর চুপচাপ হিন্দী গানের পুনরাবৃত্তি করতে একটু পর ভদ্রলোক পুনরায় বললেন, আপনি বিখ্যাত শিল্পপতি মিঃ হেমন্ত রায়ের ছেলে নন ?

 ও কথা শুনে হিন্দী গানের সুর ভুলে ভদ্রলোকের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি ওকে তো কোথাও দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না।

Saturday, November 12, 2022

ছোট গল্প - দরজার পাশে || লেখক - রোহিত দাস || Written by Rohit Das || Short story - Dorjar pase


দরজার পাশে 

রোহিত দাস 



সাহিত্য বিষয়টা চিরকালই‌ আমার কাছে বিরক্তিকর। তবে আজ হঠাৎ করে এভাবে খাতা কলম নিয়ে যে আকারনে তা নয়। বিগত কয়েক মাসে আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, সত্যি-মিথ্যে, ভালো-মন্দের যুদ্ধের মাঝে এসে পড়েছি তা আমকে এই কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এতদিন মনের কথা শুনে আসা আমি পড়েছি আজ মাথার কোটি কোটি প্রশ্নের জালে। এই ঘটনার শুরু প্রায় আট মাস আগে।

গত বছর বাবার আদেশে এম.এ কমপ্লিট করে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থায় চাকরির জন্য ছুটেও যখন কোন ফল হলো না, তখন বাবার অবাধ্য হয়ে নিজের গিটারিস্ট হবার লক্ষ্যে এগিয়ে গেলাম। এই নিয়ে বাবা বেশ রাগারাগি করলেও একপ্রকার জোর করেই করি। কলেজ শুরুর সময় যে দলের সঙ্গে পারফর্ম করতাম তারা এককথাতে রাজি হয়ে গেল আমায় দলে নিতে। আসলে গিটারে আমার হাত চিরকালই ভালো, এটা বাবাও অস্বীকার করতে পারবেন না। বেশ নাম করেছে এরই মধ্যে আমার দল। বছরের শেষ তখন, বেশ কিছু জায়গা থেকে শো এর ডাক পায় আমারা। কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু টাকা জোগাড় করে একবারে বাবার হাতে তুলে দেবো ভেবে একের পর এক জমজমাট শো‌ করতে লাগলাম। রাত করে বাড়ি ফেরা আর শো করতে একটু হলেও নেশা করা হয় বলে বাবা একেবারে কঠোর বিরোধি। মা একটু ‌রাগারাগি করেন তবে তিনি জানেন আমি ওসব খায়না বেশি। তাই তিনি বাবাকে সামাল দেন।

এভাবে একের পর এক শো করে আর একটা মোটা অঙ্কের টাকা বাবার হাতে তুলে দিতে পেরে আমি একটু নিশ্চিন্ত। তবে গত ছ মাস আগে একটা শো করতে গিয়ে সেবার হঠাৎ করেই পেটে ব্যথা ওঠে। কোন রকমে শো‌ শেষ করে দেড় ঘন্টা গাড়ি জার্নি করে যখন পৌনে একটার সময় বাড়ি ফিরলাম তখন যন্ত্রনায় আমার চোখ বুজে আসছে। কাঁধের গিটারের ব্যাগটা শ্লিপ করে পরে যাচ্ছে সেটা সামলানোর ক্ষমতাও নেই। বাবা দরজা খুলে আমাকে এঅবস্থায় দেখে তৎক্ষণাৎ আমাকে সোফায় শোয়াতে শোয়াতে চিৎকার করে মা কে ডাকলেন। আমাকে মাও নাড়াতে নাড়াতে ডাকতে লাগলেন। মা'র গলায় কান্নার স্বর।বাবার গভীর গলায় রুদ্র রুদ্র ডাকটা শুনতে শুনতে আমার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরলো আবছা চোখে কাঁচের ওপারে কিছু মুখ দেখলাম। একটা একটা করে চিনতে পারলাম। মা বাবা আর পাড়ার ড: অতুল কাকু। জ্ঞান এসেছে দেখে বাবা ছুটে এলেন বাবার মুখে কঠোরতার জায়গায় কষ্ট আর চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। কান্নার স্বরে মা বললো “ এখন আর ব্যাথা হচ্ছে না তো বাবা!!” 

দুপাশে মাথা নাড়িয়ে না বললাম। বাবা ভাঙ্গা গলায়দেখে বললেন‌ “কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, জল খাবি রুদ্র?”

কষ্ট করে হ্যা বলাতে বাবা জলের গ্লাসটা মুখের সামনে ধরলো ঢকঢক করে পূরো জলটায় খেলাম। বাবা গ্লাস রেখে বেরিয়ে গেলন। দুদিনে চার বার ব্যাথা ওঠার পরেও যখন ডাক্তাররা এর কারণ খুঁজে বের করতে পারলো না তখন বাবা আমাকে ভেলোর‌ নিয়ে যাবেন‌ বলে ঠিক করলেন। তবে ‌সেখানে গিয়েও তে খুব লাভ হলো এমনটা একেবারেই নয়। তারা ব্যাথার কারণ খুঁজে পেল না। কোনো ওষুধে‌য় আমার রোগ সারেনা। সময়ে সময়ে ব্যাথা আসে ওষুধে ব্যথা কমে কিন্তু একেবারে সেরে ওঠে না। ব্যথায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এভাবে দু মাসে অনেক টাকা খরচ করেও আমার অবস্থা বিন্দুমাত্র ভালো হলো না দেখে অগত্যা বাবা আমাকে আগের হসপিটালে ফিরিয়ে আনেন। বাবার দোকান বহু দিন বন্ধ। বহু টাকা পয়সা খরচের পরও এই অবস্থা।দিন দিন ব্যাথায় ভুগে মুখের স্বাদ নেই। শরীরও ভেঙ্গে গেছে। পেটে ব্যাথা,মা'র কান্না আর বাবার ধরে আসা গলা শুনে আমার তখন বাঁচার ইচ্ছা প্রায় শেষ। উঠে বসতেও কষ্ট হয়।দলের সবাই প্রায় দেখা করে গেছে।আমার দেখাশোনার জন্য একজন নার্স আছেন। সময়ে সময়ে তিনি‌ ওষুধ দেন। একদিন সকাল থেকেই বৃষ্টিটা মুশোল‌ ধারায় শুরু হয়েছিল। সকালে সেদিন ব্যাথাটা একবারই এসেছিল। শুনলাম অনেক নার্স আসেননি। অপর্না দিদিও আসেননি বৃষ্টির জন্য।অন্য একজন ওষুধ দিয়েছিল আমাকে। রাত্রেও বৃষ্টির বেগ কোমলো না। খেয়ে নিয়ে শুয়ে ছিলাম।কখন ঘুমিয়ে গেছি জানি না। তীব্র যন্ত্রনায় ঘুমটা ভেঙে গেল। যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে কোনরকম করে দুবার নার্স নার্স বলে ডাকলাম। কিন্তু কোন উত্তর এলো না। ব্যাথাটা ক্রমশ যেন বেরেই চলেছে। প্রান তখন ওষ্ঠাগত হবার উপক্রম। ঠিক তখনই পুরোনো কাঠের দরজাটা ঠেলে কেও ভেতরে এলো। ধীর পায়ে সে আমার মাথায় কাছে এসে দাঁড়ালো। মুখ ঘুরিয়ে তাকে দেখার ক্ষমতাও আমি তখন হারিয়েছি। সে তার নরম হাতটা আমার একঝাকড়া চুলের ওপর বোলাতে বোলাতে বললো শান্ত হও তুমি। পাশের টেবিল থেকে একটা ওষুধ মুখে দিলো, জল খাওয়ালো। আমার দুচোখে অন্ধকার নেমে এলো। আধ বোঝা চোখেই দেখলাম সে আমার মাথার কাছে বসে।

ঘুম যখন ভাঙলো ঘড়িতে দেখলাম সারে আট্টা। নিজেই কোনোরকমে টেবিল থেকে খাবার আগের ওষুধ গুলো খেয়ে নিলাম। কাল রাতের ঘটনা কিছুটা মনে পরতেই মাথায় ঝিম ধরে এলো। খুব স্পষ্ট না হলেও মনে আছে সেই মানুষটির কথা। কে ছিলো জানিনা কিন্তু নতুন কেও। আশ্চর্য রকম ভাবে সেদিন সকাল থেকে আর ব্যথা ওঠেনি কিন্তু সন্ধ্যে হতে না হতেই অন্যদিনের তুলনায় যেন হাজার গুণ বেশি জোরে ব্যথা উঠলো পরপর দু বার।শুধু পেটে না সারা শরীর জুড়ে, চোখ-মুখ কুঁকড়ে যাচ্ছিল। জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম। জ্ঞান যখন ফিরলো বাবা-মা দুজনেই বসে, মা কাঁদছে বাবা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।আমার চোখ খোলায় তারা যেন প্রাণ ফিরে পেল। বিছানা শুয়েয় মায়ের হাতে রাতের খাওয়া খেয়ে নিলাম।বাবা-মাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাড়ি পাঠালাম। আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম আগের রাতের ঘটনা। কে ছিল সে? আজ সন্ধ্যেয় কি এসেছিল, সেই কি আমার বাবা-মাকে খবর দিয়েছে? ব্যথার সময় কেন আসে? সারাদিন তো তাকে দেখলাম না! আজ রাতে কি তবে সে আসবে? জেগে বসে আছি তার অপেক্ষায়।হঠাৎ আবার ব্যথা, কিছুক্ষনে তার উপস্থিতি অনুভব করলাম।একইভাবে আমায় সান্তনা দিচ্ছ,আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। আজ আবচ্ছা চোখে দেখলাম মানুষটি একটা মেয়ে। বয়স কম হয়তো আমারই মতো। এভাবে আরও দুদিন কেটে গেছে,সে রোজ রাতে আসে আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আমাকে সান্ত্বনা দেয়, ওষুধ দেয়,আমি জ্ঞান হারায়। বলে রাখা ভালো ইদানিং আমার ব্যথাটা যেন কিছুটা কমেছে আগের তুলনায় অনেকটা কম জোরালো। বলতে গেলে এখন সারাদিনে ব্যথা হয় না খালি রাত হলেই ব্যথা আসে সাথে সেও। এভাবে চলতে চলতে একদিন ঠিক করলাম যতই ব্যথা আসুক কিছুতেই আর জ্ঞান হারালে চলবে না তার সাথে আমাকে দেখা করতেই কে সে? কেনই বা সে খালি রাতেই আসে?আমাকে জানতেই হবে।

সেদিন রাত্রে যখন ব্যথা উঠলো তখন ব্যথার কথা ভুলে আমি জ্ঞান না হারাবার চেষ্টায় মত্ত। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিছুক্ষণ ব্যথায় ছটফট করার পর সে টেবিলে রাখা কোন ওষুধ দিল।না সেদিন আমি অজ্ঞান হয়নি। কিছুক্ষণ পর আমি স্পষ্ট দেখলাম আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে একটা বছর বাইশের মেয়ে। তাকে দেখতে অপূর্ব সুন্দর। আমি স্কুলে-কলেজে সত্যি এত সুন্দরী আমি কাউকে দেখিনি‌।এই প্রথম দেখলাম। খুব লম্বা নয় মাঝারি লম্বায়, লম্বা চুলে তার ছোট্ট মুখখানা আমার দৃষ্টিটাকে কিভাবে যে বেঁধে রেখেছিল তা আজও আমি বলে বোঝাতে পারিনা। আমি বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে খালি চেয়েছিলাম। সে হেসে বলল আর কষ্ট হচ্ছে না তো। আমার গলা থেকে খালি না ছাড়া আর কিছু বেরোলো না। ধীর পায়ে সে দরজার পাশে গিয়ে বসল। ঘরটায় একটা নীল আলো জ্বলছে অতটা জোরালো না হলেও তাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল "তোমার খুব কষ্ট হয়না যখন এই ব্যথা ওঠে" আমি বললাম তা হয়।তবে এতদিনে কষ্ট পাওয়াটা অভ্যাস হয়ে গেছে এখন অতটা কিছু মনে হয়না। মেয়েটা অবাক হয়ে বলল কিন্তু কেন হয়? আমি বললাম জানিনা এর উত্তর হয়তো স্বয়ং উপরওয়ালার কাছেও নেই। মেয়েটা তার মিষ্টি নরম গলায় কোন অচেনা গান গুন গুন করে দু'লাইন গেয়ে আমাকে প্রশ্ন করল তুমি গান গাইতে পারো। আমি হেসে বললাম একটু-আধটু পারি,তা তুমি ওরকম মনমরা হয়ে বসে আছো কেন? অসুবিধা থাকলে আমায় বলতে পারো। এই কথাটা কেন বললাম আমি জানিনা। আমি তাকে চিনিও না। এখনো পর্যন্ত নামই জানি না, আমার উঠার ক্ষমতাও নেই তবু কেন যেন ওকে খুব আপন বলে মনে হলো। সে বলল “তোমার ব্যথা দেখলে না আমারও ব্যাথার কথা মনে পড়ে।এইতো সেদিন যেন খুব ব্যথা উঠেছিল ওরা আমাকে খুব ব্যথা দিয়েছিল।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম কারা তোমাকে ব্যথা দিয়েছিল আর কেন? জবাবে সে কিছু বললো না, মাথা নামিয়ে নিলো। শুধু বলল “আজ তবে আসি”। সে নিঃশব্দে দরজাটা টেনে বেরিয়ে গেল। পরদিনও ঘুম থেকে উঠে খুব বেলা হয়ে গেল ঘুম থেকে উঠে ওষুধ খেয়ে নিলাম।অন্যদিনের তুলনায় আজ কিছুটা নিজেকে সুস্থ বলে মনে হচ্ছে। অনেকদিন হলো ফোনটা দেখিনি। ফোনে ডাটাটা অন করতে একগুচ্ছ মেসেজ এল হোয়াটসঅ্যাপে।বন্ধুদের মেসেজ, খোঁজ নিচ্ছে সকলেই আমি কেমন আছি কিন্তু কাউকেই রিপ্লাই করা হয়নি তাই সবাইকেই একসাথে গ্রুপে বলে দিলাম এখন কিছুটা সুস্থ আছি। মিনিটের মধ্যেই গ্রুপে একসাথে সকলের আড্ডা আবার জমে উঠলো। ফেসবুক টা খুলে নোটিফিকেশন গুলো চেক করতে দেখলাম প্রোফাইল পিকচারের লাইক কমেন্টের বন্যা হয়েছে।প্রোফাইল খুলে পোস্টটা দেখলাম চারশোর বেশি রিয়াক্ট পড়েছে অনেক কমেন্টও এসেছে। ছবির দিকে চোখ পড়তেই চোখটা ভারী হয়ে এলো। শেষ শো এর আগের শো তে ছবিটা তোলা। কবে যে আবার আগের জীবনে ফিরে যাব জানিনা। ফোনটা পাশে রেখে কিছুক্ষণ আগে রেখে যাওয়া খাবারটা খেয়ে নিলাম। রাত্রে বাবা-মাকে সেই মেয়েটার কথা বলতে চেয়েও বলিনি,এইসময় এ কথা শুনলে তারা হয়তো ভাববে আমার শরীর হয়তো আর বিগ্ৰেছে, তাই উল্টাপাল্টা জিনিস দেখছি। ন'টা নাগাদ ওষুধ খেয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সে আমাকে নাড়িয়ে ডাকলো আমি উঠতেই সে বাধা দিয়ে বলল উঠো না! শুয়ে থাকো আমি দরজার পাশে গিয়ে বসছি। সে দরজার পাশে বসে বলল ”আচ্ছা ঘুমিয়ে পড়েছিলে বুঝি!” হ্যাঁ দু চোখ জুড়িয়ে এসেছিল। তুমি কেমন আছো? সে বলল “আমি তো নেই বললেই চলে..। আচ্ছা আমি “তুমি অসুস্থ হওয়ার আগে কি করতে?” আমি বললাম আমি গিটার বাজাতাম আমার একটা দল আছে তাদের সাথে একসাথে গিটার বাজিয়ে প্রোগ্রাম করতাম। “জানোতো আমারোনা গান শেখার খুব ইচ্ছে ছিল। ভর্তিও হয়েছিলাম গান শেখার জন্য। অনেক কিছু শিখেছি। তারপর তারপর হঠাৎ একদিন...”‌। ওর কথা শেষ হতে না হতেই হঠাৎই কারেন্ট চলে গেল সারা ঘর অন্ধকার। সে সেখানেই বসে বলতে লাগলো। “বাবা রিক্সা চালায়, মা বেশকিছু ঘরে ঝিয়ের কাজ করে, বড় অভাব ঘরে। পড়াশোনা শেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি কোনদিনও কিন্তু গান শেখার ইচ্ছা ছিল। কোনদিনও বলিনি বাবাকে। ভয় লাগতো। সারাদিন তো বাবাকে দেখতে পায়না আর রাত্রে বাবা নেশা করে বাড়ি ফেরে। মাকে মারে, কখনো কখনো আমাকেও..তাই বলতে পারিনি। আমি যখন 18 বছরের হয় তখন মা আমাকে একটা ঘরে কাজ খুঁজে দিলো,বেশ কিছু বছর টাকা জমিয়েছিলাম। আমাদের বাড়ির পেছনদিকে অনেকটা গিয়ে মোরের বাঁকে একজন গান শেখায় তার কাছে গান শিখতে শুরু করেছিলাম।” এতটা বলেই সে থামল। পরিবেশ টা কেমন যেন‌ হয়ে গেছে, তখনই কারেন্ট ‌চলে এলো।ওই আলোতেই দেখলাম মেয়েটির চোখে জল। “আমি কিছু বলতেই যাচ্ছিলাম সে বলে উঠলো আলো এসে গেছে আজ আসি তবে”। সে উঠে চলে গেল। 

আরও দু দিন কেটে গেলো একই ভাবে।এখন আমার শরীর বেশ সুস্থ বলে মনে হচ্ছে। শরীরে বেশ বল ফিরে পেয়েছি। সে রোজ রাতে আমার সাথে অনেক ক্ষন গল্প করে। দুদিনে তার নাম জানতে পেরেছি, ইন্দিরা...।

আশ্চর্য রকম ভাবে সেদিন সকাল থেকে একবারও ব্যাথা এলোনা, সন্ধ্যেতেয় না, এমনকি রাত দশটার আগে পর্যন্ত না। শুয়ে শুয়ে তার আসার অপেক্ষা করতে লাগলাম।কিন্তু আজ যেন আমার অপেক্ষার শেষ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একঘন্টা.. দুঘন্টা.. কতক্ষণ অপেক্ষা করেছি জানি না। একসময় অধৈর্য হয়ে যখন সে আসবে না মনস্থ করেছি ঠিক সেই সময় খুব জোরে ব্যথা উঠলো। এত জোরে ব্যথা এই দীর্ঘ কয়েক মাসে কখনো উঠেনি। কষ্টে মরেই যাচ্ছিলাম।ব্যথায় গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না যে চিৎকার করে কাউকে ডাকবো। ব্যথায় ছটফট করতে করতে যখন বিছানা থেকে পড়েই যাচ্ছি তখন সে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে আমার কাছে এসে আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলল “কিচ্ছু হবে না তোমার একটু শান্ত হও আমি এক্ষুনি ওষুধ দিচ্ছি।” পাশের টেবিলে হাতরে কোন ওষুধ না পেয়ে সে ছুটে বাইরে গিয়ে কোন একটা ওষুধের বাক্স হাতে করে নিয়ে এল।বাক্সের একটা প্যাকেট থেকে একটা ওষুধ আমার মুখে দিয়ে কিছুটা জল খাইয়ে আমার মাথাটা বালিশের উপর রেখে দিল।এরপর কি হয়েছে আমি আর জানি না।

আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গেছি। মা বাবা অতুল কাকু সবাই এসেছিলো।

বিগত কয়েক মাসের তুলনায় আজ নিজেকে অনেক বেশি অসুস্থ বলে মনে করছি। বিছানা ছেড়ে উঠার ক্ষমতা হয়েছে। অবস্থার উন্নতি দেখে মা-বাবা অতুল কাকু সবার মনে আশার আলো দেখা দিয়েছে,আমারও নিজেকে অনেক বেশি সুস্থ বলে মনে হচ্ছে। আর ব্যথা ওঠেনি। এই নিয়ে পাঁচ দিন হল। চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছি মুখে খাবারের স্বাদ এসেছে। বলতে গেলে কিছুটা আগের জীবনে আবার ফিরে এসেছি। আরো দু-তিন দিন আমাকে অবজারভেশনে রেখে তারপর রিলিজ করে দেবে বলে ঠিক করেছেন অতুল কাকু। সকালের ওষুধ দিয়ে তিনি যখন চলে যাচ্ছিলেন হঠাৎই আমি তাকে ডেকে বসলাম। অতুল কাকু বলল “হ্যাঁ কিছু বলবি?” আমি জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা তোমাদের এখানে কি আমার বয়সে বেটে সুন্দর দেখতে কোন নার্স আছে? অতুল কাকু কিছুটা অবাক হয়ে বলল “কেন তুই জেনে কি করবি?” আমি বললাম না আসলে কিছুদিন আগে পর্যন্ত রাত্রিবেলা যখন আমার ব্যথা হতে তখন একজন অল্প বয়সী মেয়ে আমাকে ওষুধ দিত আর আমার সাথে অনেকক্ষণ গল্প করতো। দিনের বেলা কোন দিনও আসেনি তো তাই ভাবলাম হয়তো রাতে ডিউটি পরে খালি।

“রাত্রে! কিন্তু বিগত কয়েকদিন ধরে তো রাত্রে সন্ধ্যা দিদি আর তুলসী ছাড়া বাকি তো সব ছেলে নার্স ডিউটিতে আছে। তুই কাকে দেখেছিস? ঠিক দেখেছিস তুই ওটা মেয়ে ছিল?” আমি গলার স্বর দৃঢ় করে বললাম আমি ঠিকই বলছি অতুল কাকু আমি ঠিকই শুনেছি ও মেয়ে ছিল। আমি দেখেছি ওকে। “না সেটা তো হতে পারে না তবে.....” তবে কি অতুল কাকু? পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে একটা ছবি বার করে আমার চোখের সামনে ধরে বলল “দেখতো এই মেয়েটা কি না?” আমি দেখলাম ছবিটা একটা খবরের কাগজের। তাতে একটা রঙিন ছবি একটা মেয়ের বছর বাইশের। হ্যাঁ..হ্যাঁ..হ্যাঁ.কিন্তু মেয়েটা...। মেয়েটির ছবির মাথার ওপরে বড় বড় করে যা লিখা আছে সেটা দেখে আমার চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইল। অতুল কাকু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল “জানিনা তুই সত্যি বলছিস কিনা তবে তুই যদি সত্যিই একে দেখে থাকিস তবে এটা অলৌকিকে থেকে কম কিছু নয়।” কিন্তু এটা কি করে সম্ভব কাকু। মারা যাবার পর কাওকে কিভাবে দেখতে পাওয়া যায়? অতুল কাকু বলল “জানি না রে... কিচ্ছু বছরে পরছি না।” খবরের কাগজে ছবিটা উপরে লেখা ছিল...“২২ বছর বয়সী এক যুবতী ধর্ষিত”। অতুল কাকু বলল “সপ্তাহ খানেক আগেই কয়েকজন মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে। যখন নিয়ে এসেছিল তখন ওর অবস্থা খুব খারাপ ছিল।‌ দুদিন আমাদের এখানে ট্রিটমেন্টে ছিল। হঠাৎ হঠাৎ করেই তোর মতই পেটে যন্ত্রণা উঠত। তারপর মেয়েটির মৃত্যু হয়। পুলিশ খোঁজখবর করে জানতে পারে মেয়েটি গান শিখতে গিয়েছিলো, বাড়ি ফেরার পথে কেউবা কারা তার সাথে এই দুষ্কর্ম টি করে। অনেকক্ষণ যন্ত্রণায় ছটফট করে আশেপাশে কেউ ছিল না,অন্ধকার গলি তার পাশেই ফাঁকা মাঠ সেখানেই। মেয়েটির বাবা রিক্সা চালায় এবং জুয়া এবং মাদে সব টাকা ওড়াতো। মেয়েটি‌ একটা বাড়িতে কাজের লোকের কাজ করতো। পুলিশ বাড়ির লোকের খবর দেয়।”

আরো দুই দিন আমাকে অবজারভেশনে রাখার পরও আমার ব্যথা উঠেনি। জানি না কি বলবো? কিভাবে আমার এই অজানা রোগ সেরে উঠলো? শুধু এটুকু জানি হয়তো সেই মেয়েটির জন্যই আজ আমি আমার সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে পেরেছি কষ্ট শুধু একটাই তাকে ধন্যবাদ টুকু জানানোর উপায় আমার কাছে নেই। শুধু তার নান আর অপূর্ব সুন্দর মুখখানা আমার কাছে তার স্মৃতি হিসেবে থেকে গেল। অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েও এখনো পর্যন্ত তার কথা ভুলে উঠতে পারিনি। নিজের শেষ রক্ষা না করতে পারলেও আমাকে দিয়ে গেল একটা উপহার।


Wednesday, November 9, 2022

উপন্যাস - পদ্মাবধূ || বিশ্বনাথ দাস || Padmabadhu by Biswanath Das || Fiction - Padmabadhu Part -26


 

আমি দৌড়ে এসে শ্যামলীদিকে জাপটে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলাম। অসহ্য জ্বালা কোন প্রকারে দমন করতে পারলাম না। শ্যামলীদির চোখ দুটো জলে ভরে এলো। বহু কষ্টে অস্ফুট গলায় বলল, আর পারলাম না রে তোর বাবাকে বাঁচাতে। তোর কাছেও থাকার দিন ফুরিয়ে এলো। ভালোভাবে থাকিস। বাবাকে নিজের পরিচয় দে, বাকী জীবন আর ফুটপাতে কাটাতে দিস না। আসি রে।

 শ্যামলীদি চলে যেতে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে কাঁদতে থাকলাম। একি করলে ঠাকুর, তুমি কি সদা সর্বদাই নির্দয়? এই পতিতার কান্না তোমার হৃদয়ের রুদ্ধ দুয়ারে কি আঘাত করতে পারে না? অসহায় নারীর দীর্ঘশ্বাস, চোখের জল এমনি করেই কি ব্যর্থ হবে? না, ঈশ্বরকে ডেকে কোন লাভ নেই।

 শ্যামলীদিকে আমার কাছ হতে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো, ওকে আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না। এবার আমাকেও মরতে হবে। হিংস্র পাশবিক প্রবৃত্তির শিকার হতে হবে ও লাঞ্ছনায় জীবন কাটাতে হবে।

 আমিও থানাতে যাবো, গিয়ে বলবো, আমিও তো এই দুঃকর্মে শ্যামলীদিকে পরিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছি। সেজন্য আমি কি অপরাধী নই? শ্যামলীদির সঙ্গে একই কারাবাস গ্রহণ করব।

হঠাৎ কাসার বাসন পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেলাম, তাকিয়ে দেখি বাবা এগিয়ে আসছেন দরজার দিকে। কয়েক মুহুর্ত বাবার কথা ভুলেছিলাম। এগিয়ে আসতে দেখে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জাপটে ধরলাম এ কারণে টিনের ছাউনি বলে সামনে একটা লোহার দণ্ডের কিছুটা অংশ বেরিয়ে আছে, ওতে ধাক্কা মারলে বাবার মাথায় ভীষণ আঘাত লাগবে। বাবাকে জড়িয়ে ধরতেই বললেন, কে, মা তুমি? এমন করে জড়িয়ে ধরলে কেন ?

আমার মুখ বন্ধ। কোন কথা বলতে পারলাম না। থর থর করে ঠোঁট কাঁপতে থাকলো। কি করে কথা বলবো। আমার কণ্ঠস্বর যে অতি পরিচিত। চোখ দিয়ে টপ্‌ টপ্ করে জল ফেলা ও ঠোঁট কাঁপানো ছাড়া কোনো পথ পেলাম না।

বাবা দ্বিতীয়বার বলে উঠলেন, কি হলো মা, কথা বলছো না কেন? আবার ঠোঁট কাঁপতে শুরু করলো। কোন প্রকারে ঘৃণায়, লজ্জায়, দুঃখে কথা বলতে পারলাম না। আমি বোবার মত অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলে বাবাকে বুঝিয়ে দিলাম। আমি একটি বোবা মেয়ে।

বাবা সহজে ধরে ফেললেন যে আমি বোবা। বললেন, তুমি বোবা, কথা বলতে পারো না? ওঃ ভগবান একি তোমার বিচার প্রভু, এ সংসারে কেউ বোবা, কেউ অন্ধ। এই সুন্দর ধরণীতলে তাদের জীবন বিড়ম্বনাময় হয়ে ওঠে এটা কি তুমি জানো দয়াল ? পৃথিবীর সৌন্দর্য্য সূর্যালোক, বৃক্ষের মর্মর ধ্বনি, নদীর কলতান, পাখীর কাকলি এইগুলো কি তাদের জন্য নয়? মা আমাকে একটু রাস্তায় বের করে দেবে? যদি বা একজনের কাছে আশ্রয় পেলাম তাকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেলো। আর কত কষ্ট দেবে ঠাকুর? তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তো যাবার ক্ষমতা আমার নেই। জানি না কি এমন পাপ করেছিলাম যে এভাবে আমাকে তিলে তিলে মৃত্যু বরণ করতে হচ্ছে? মা আর দাঁড়িয়ে কেন, রাস্তায় নিয়ে চলো। বাবার কথায় বিচলিত হলেও তাকে রাস্তায় বার করে দেওয়া ছাড়া তখন আর কোন আমার গত্যন্তর ছিল না। -

বাবাকে চোখের জলে বিদায় দিয়ে বিছানায় এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। এটাই আমার কাছে শেষ প্রাপ্য ছিল। একটু পর ধৈর্য্য ধরতে না পেরে বিছানা হতে উঠে ঘরের ভেতরে এসে কপালে করাঘাত করতে থাকলাম। এই পোড়া কপালীর বেঁচে থাকার কি সার্থকতা আছে। নিজের জীবনকে ধিক্কার দিতে থাকলাম! মৃত্যুই আমার শ্রেয়।

 হঠাৎ আমার হৃদয় অন্য রূপ ধারণ করল। না! আমি মরব না, আমি বাঁচব, বাঁচতেই হবে, দেখতে হবে আমার জীবনের চরম পরিণতিকে। যদি এর চেয়ে আরো

কঠিন শাস্তি পেতে হয়, তা নেবার জন্য প্রস্তুত থাকবো। সে সময় মনে পড়লো শ্যামলীদির কথা, সে বলেছিলো এ জীবন নিয়ে যদি বাঁচতে হয়, এই অধঃপতিত জীবনের জ্বালা যন্ত্রণা যদি ভোগ করতে হয় তাহলে সুরাপান করতে হবে। এতে অনেক শান্তি পাওয়া যায়, দুঃখে সুখ পাওয়া যায়, দুর্বলে শক্তি পাওয়া যায়। হ্যাঁ-হ্যাঁ, আমিও মদ খাবো, সব দুঃখ, যন্ত্রণাকে ভুলতে চাই। বিলম্ব না করে শ্যামলীদির পথ অনুসরণ করে আমার হৃদয় দৌর্বল্যকে সতেজ করে তুলবো সুরাপানে।

উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে এলাম এক দোকানে, যেখানে মদ পাওয়া যায়। এক বয়কে বললাম। এক বোতল মদ মিনিটের মধ্যে শেষ করলাম। আরো চাই। পর পর দু'বোতল খাওয়ার পর আমি যেন চারিদিক অন্ধকার দেখলাম। সমস্ত শরীর ঘর্মাক্ত হয়ে গেলো। আমি মদের নেশার ঘোরে আরেক বোতল চাইতে কে যেন শক্ত কঠিন হাতে আমাকে চেপে ধরলো। তার মুখের দিকে তাকিয়েও চিনতে পারলাম না। ধীরে ধীরে সংজ্ঞাহীন হয়ে গেলাম। তারপর

তারপর যখন জ্ঞান ফিরলো আমি আরামদায়ক খাটের উপর শুয়ে আছি। মাথার উপর বনবন করে একটা বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে। ঐ সব দেখে আমার মনে একটা চমক সৃষ্টি হলো। দেখলাম বাড়ীর জানালার কাছে পিছন ফিরে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।

ধীরে ধীরে লোকটার কাছে গিয়ে বললাম, শুনছেন ? আমি কোথায় এসেছি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে কি আমায় আপনি - দিগন্ত পানে দৃষ্টি নিবন্ধ করে ভদ্রলোক আমার পানে তাকাতেই আমার চোখ দুটো বিস্ময়ে ভরে উঠল। ভদ্রলোকের মুখখানি দেখে বললাম, দেবীবাবু আপনি!

কেন, আমাকে দেখে বিস্মত হয়েছেন নাকি? আমিই আপনাকে অজ্ঞান অবস্থায় দুলু ঘোষের দোকান হতে তুলে এনেছি। কিন্তু আমার অন্তরে এখন এক প্রশ্নের তুফান ছুটছে, কেন বোতলের পর বোতল মদ খাচ্ছিলেন। আপনাকে পৌঁছে দেবার জন্য বক্তীতে গিয়েছিলাম, ওখানে শ্যামলীকেও দেখতে পেলাম না। তবে কি

ওকে পুলিশে নিয়ে গেছে। পুলিশে নিয়ে গেছে। কেন ?

সে কথা বলার সময় নেই। আমাকে বস্তীতে ফিরে যেতে হবে, এখন আসি। কয়েক পা এগিয়ে এসে দরজার কাছে পৌঁছতেই চোখে পড়লো কাঠের বড় ফ্রেমে বাঁধানো একটা ছবিকে। ঐ ছবিখানি দেখে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলাম। একটু পরে দেবীবাবুকে বললাম, এই ছবিখানি কার বলতে পারেন ?

দেবীবাবু মন্থর পদে কাছে এসে বললেন, এটা আমার অন্তরঙ্গ শুভাকাঙ্খী এক পরম বন্ধুর। একজন চরিত্রহীন লম্পটের হাতে অসহায়ভাবে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।

ঐ যুবকটিকে আপনি চেনেন?

হ্যাঁ।

আমাকে সেই হত্যাকারীর কাছে নিয়ে যেতে পারবেন?

কেন ?

প্রতিশোধ নেব।

সুমস্ত আপনার কে?

আমার দাদা।

কি বললেন, আপনার দাদা? দেবীবাবু একরকম চমকে উঠলেন। চমকে উঠলেন কেন? যে দাদাকে খুন করেছে তাকে আমি সহজে ছাড়বো না। কারণ দাদার মর্মান্তিক অকালমৃত্যু আমাদের সংসারকে ঝটিকা বিক্ষুব্ধ করে দিয়ে গেছে। ওর জন্য আমি ছিন্নমূল ব্রততীর মতো কলকাতার পতিতালয়ে অধঃপতিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছি, নারী জাতির মর্যাদা হারিয়েছি, জীবনের মূল্যবোধ আমার নষ্ট হয়ে গেছে। এমন কি বাবা অন্ধত্ব বরণ করে কলকাতার রাজপথে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করেছেন। আমাদের সুখের সংসারকে তছনছ করেছে? আমি দাদার হত্যাকারীর চরম প্রতিশোধ না নিয়ে আমি ছাড়বো না।

দেবীবাবু, অর্থের বিনিময়ে আপনার মেয়েকে সুস্থ করে তুলেছি সত্য, কিন্তু এর পরেও কি কিছু পাওনা থাকতে পারে না?

দেবীবাবু ঘাড় নাড়লেন। যদি পাওনা থাকে তাহলে ঐ হত্যাকারীকে চিনিয়ে দিন। প্লিজ দেবীবাবু, আমি আপনার পায়ে পড়ে বলছি। কিন্তু

কোন কিন্তু নয় দেবীবাবু। প্রতিশোধ আমাকে নিতেই হবে। নইলে শাড়ীতে ভেজানো একখানা ছুরি বের করে বললাম, এই ছুরি খানা ওর বুকে বসিয়ে দেব। আমাকে ওই পাষন্ডটার কাছে নিয়ে চলুন।

Tuesday, November 8, 2022

ছোট গল্প - মৃত্যুই শেষ নয় || লেখক - তনিমা সাহা || Written by Tanima Saha || Short story - Mrityuy ses noi


 


মৃত্যুই শেষ নয়

তনিমা সাহা



সাবিত্রীর হাত-পা গুলো শুষ্কতার জন্য ফেটে গেছে। সেখান থেকে এখন রক্ত বেরোচ্ছে। সাবিত্রীর দুচোখ বেয়ে ঝরে পরছে গরম নোনা জল। তবে যতটা না শারীরিক কষ্টের জন্য সে কাঁদছে, তার চেয়েও বেশি কাঁদছে মনের যাতনার জন্য। আজ দুমাস হয়ে গেল মকবুল নেই। পুরোনো অভ্যেসে বালিশের তলায় হাত দিয়েই জোর চমকে উঠল সাবিত্রী।



ভালবাসার বিয়ে মকবুল আর সাবিত্রীর। গরীব বলেই হয়তো বিধর্মে বিয়ে করতে বেগ পেতে হয় নি তাদের বিশেষ। পয়সাওয়ালাদের তো দেখে কিছু একটা হলেই ইয়া বড়ো বড়ো করে খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে! কিন্তু তাদের বেলায় পরম দয়াময়ের কৃপায় সেসব কিছুই হয় নি। রিক্সা চালাতো মকবুল আর সাবিত্রী তিনটে বাড়ির রান্নার কাজ করত। কোনোরকমে টেনেটুনে ঠিক চলে যেত ওদের সংসার। খুব সুন্দর হাতের কাজ জানতো মকবুল। কিন্তু অভাবের তাড়নায় তার পড়াশোনা বা শিল্প ওইসব দিকে কিছু করা হয়ে ওঠেনি। তবে মকবুলের তাতে কোন আফসোস ছিল না। 


সে বলতো, 'জানো তো সাবিত্রী আল্লাহ্ কখনোই সবদিক থেকে আমাদের মারে না। বই পড়া হয়তো বা হয়নি কিন্তু শিল্পকে আমি ছাড়িনি।' 



বিবাহবার্ষিকীতে মকবুল বিভিন্ন সাজের জিনিস দিয়ে কখনও ফুলের মতো বা কখনো অন্য কিছুর আকার বানিয়ে উপহার দিত সাবিত্রীকে। সারাবছর সাবিত্রীর তাতে চলে যেত। মকবুল কী করে যেন আগে থেকেই সাবিত্রীর সব প্রয়োজনের কথা বুঝে যেত। সাতটা বছর ধরে যেন আলোর বন্যায় ভাসছিল তারা। প্রথম প্রথম তারা বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কিছুতেই গর্ভধারণ করতে পারছিল না। ডাক্তারের কাছে যেতে তিনি কি যেন বড়োসরো একটা রোগের নাম বললো, আর তার নামের থেকেও বড়ো ছিল চিকিৎসায় খরচের অঙ্ক। স্পষ্টতঃই সাবিত্রী বুঝতে পেরেছিল যে তাদের কখনো বাচ্চা হবে না। খুব কেঁদেছিল তখন সে। 


মকবুল তাকে দুবাহুতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, 'আল্লাহ্ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। একদিকে ভালই হয়েছে! আমাদের এই টানাটানির সংসারে যদি সে আসতো তাহলে সত্যিই কি আমরা তার জন্য কিছু করতে পারতাম। তারচেয়ে একটা কাজ করলে হয়! আমরা যদি এক/দুজন পথশিশুর খাওয়াপরার দায়িত্ব নেই তাহলে কেমন হয়। হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারবো না। কিন্তু ওদের একবেলার খাবার, বছরে একবার জামা-কাপড় দিতে পারবো। তাতে তুমি একজনের নয় অনেকজন বাচ্চার মা হতে পারবে।' 



সাবিত্রী বলল, 'কিন্তু মকবুল তাহলে তো আমরা কখনও টাকা-পয়সা কিছুই জমাতে পারবো না। যখন আমাদের বয়েস হবে বা ভগবান না করুক যদি আমরা অসুস্থ হয়ে যাই তখন তো আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্যও পয়সা থাকবে না। তখন আমাদের কী করে চলবে মকবুল।' 



হেসে মকবুল বলেছিল, 'ওসব চিন্তা আল্লাহর উপরই ছেড়ে দাও! যখন উঁনি আমাদের উপায় বলেছেন তখন দেখবে ওই উপায়কে পাওয়ার পথটাও উঁনিই বলে দেবেন।' 


মকবুল কখনওই সাবিত্রীকে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কিছু বলেনি। মকবুল বলতো সবই 'এক শক্তি'। আমরা আমাদের মনের মতো তাকে সাজিয়ে নেই। তাই তাদের ভিন্ন ভিন্ন নাম ভিন্ন ভিন্ন আকার। সাবিত্রী মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল মানুষটির মানসিকতায়। নিজেকে মনে মনে গরীব হওয়ায় ভাগ্যবতী ভাবলো সে। ভাগ্যিস! মকবুলকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছিল। আর্থিক ভাবে নির্ধন হলেও মানুষটি মনের দিক থেকে ছিল চরম ধনী। এরজন্য কতবার যে সাবিত্রী নিজের ঠাকুরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তার হিসেব নেই। 


একদিন এমনই পথশিশুদের খাওয়ানোর সময় কোথা থেকে এক বেপরোয়া লড়ি এসে চোখের সামনে রাস্তায় পিষে দিল মকবুলকে। সাবিত্রীর গোটা জীবনটা যেন সেখানেই শেষ হয়ে গেল। কতবার ভেবেছিল নিজেকে শেষ করে মকবুলের কাছে চলে যাবে। কিন্তু তখনই পথশিশুগুলোর মুখ ভেসে উঠতো তার চোখের সামনে। আজকাল তো তার মনে হয় মকবুল যেন তার আশেপাশেই কোথাও আছে। মকবুলের মনটা খুব শৈল্পিক ছিল। যখন কথা বলতো তখন যেমন গুছিয়ে বলতো তেমনই সব জিনিসকে জায়গামতো গুছিয়ে রাখতো যাতে হাত দিলেই পাওয়া যায়। যেমন গরমের সময় পাঁচবাড়ির কাজ করতে করতে বেশি জলঘাঁটার জন্যে সাবিত্রীর সারা পায়ে হাজা হতো। তখন মকবুল একটা হাজার মলম নিয়ম করে সাবিত্রীর মাথার বালিশের নিচে রাখতো যাতে সাবিত্রী হাত দিলেই পেয়ে যায়। শীতকালে তার জায়গায় স্থান নিত বোরোলিন। বিয়ে হওয়া ইস্তক এই নিয়মই চলে আসছে।



আজ ফিরতে বড্ড রাত হয়ে গেছে সাবিত্রীর। যে পথশিশুগুলোকে সাবিত্রীরা দেখাশোনা করতো তারমধ্যে বুলবুলি হল সবচেয়ে ছোটো। বুলবুলিটা আজ হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। রান্নার কাজগুলো শেষ করেই বুলবুলিকে নিয়ে ছুটেছিল ডাক্তারের কাছে। সব সেরে ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেছে তাই। রাত বেড়ে যাওয়ায় রাস্তায় মাতালদের আনাগোনাও বেড়ে গেছে। জোরে পা চালিয়ে হাঁটছে সাবিত্রী। এই তো এই মোড়টা পেরোলেই ওর বাড়ির রাস্তাটা পড়বে। মোড়টা একটু অন্ধকার-অন্ধকার মতো! একটু ভয়ও করছে সাবিত্রীর। মোড়ের সামনে আসতেই হঠাৎ অন্ধকার ফুঁড়ে তিনটে লোক বেরিয়ে এল। আপাদমস্তক টলছে তাদের। গা থেকে ভুরভুরিয়ে মদের গন্ধ বেরোচ্ছে। সাবিত্রীর বমি পেয়ে গেল ওই দুর্গন্ধ শুঁকে। সেটা দেখে তিনজনের একজন খ্যানখ্যানে গলায় বলল, 'আরেব্বাস! ফুলটুসি…. এতো রাতে কোথায় যাচ্ছো। শরীরটা তো খারাপ মনে হচ্ছে। একটু এগিয়ে দেবো নাকি বাড়ি পর্যন্ত‌।' 



সাবিত্রী গলায় জোর এনে বলল, 'পথ ছাড়ো! নইলে...ভাল হবে না বলে দিচ্ছি।'



আরেরজন বলল, 'এই, এই ছেড়ে দে...ছেড়ে দে...নইলে এক্ষুনি 'হালুম' করে উঠবে রে', বলে তিনজনই বিচ্ছিরি ভাবে হাসতে লাগল। 



তৃতীয়জন ধমকের স্বরে বলল, 'আমরা যাকে ধরি তাকে যে অত সহজে ছাড়িনা ফুলটুসি! ভালয় ভালয় মেনে যাও। নইলে তোমারই কষ্ট বেশি হবে।'



কথাটা বলে আরেক চোট তারা হেসে উঠল। হাতের খালি মদের বোতলগুলো ফেলে দিয়ে এবার ওরা তিনজন সাবিত্রীর দিকে পায়ে পায়ে এগোল। 



সাবিত্রী আবার ধমকে উঠল, 'ভাল হবে না বলছি! পেছনে যা! যেতে দে আমায়।' 



প্রথমজন সাবিত্রীর শাড়িতে ধরে টান দিলে দ্বিতীয় জন সাবিত্রীর পড়নের ব্লাউজটাতে টান মারতে যেতেই হঠাৎই চোখমুখ বিকৃত করে কাটা কলাগাছের মতো ধপ্ করে রাস্তায় পড়ে গেল। লোকটি চিৎকার করে এলোপাথাড়ি হাত-পা ছুড়তে লাগল। কিছুপরেই তার চোখ মুখ ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল। প্রথম জন এই দৃশ্য দেখে মারাত্মক চমকে সাবিত্রীর শাড়ি ছেড়ে কেমন একটা স্থবিরের মতো দাঁড়িয়ে পড়ল। তৃতীয়জন এইসব দেখে ক্রমাগত চিৎকার করতে লাগল, 'এই পল্টু, এই টনি..কি হল রে তোদের! কথা বলছিস না কেন?'


বলতে বলতে সে তার স্থবির হয়ে যাওয়া সাথীর কাঁধে হাত দিতেই সঙ্গে সঙ্গে স্থবির লোকটি ভষ্মে পরিনত হয়ে গেল। তৃতীয়জন এইবার প্রচণ্ড আক্রোশে সাবিত্রীর দিকে তেড়ে আসতেই কোথা থেকে এক ঘূর্ণি বাতাস এসে তৃতীয় লোকটিকে উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল। সাবিত্রী এই সমস্তকিছু দেখে বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। একটু পর হঠাৎই অন্ধকার মোড়টা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং রাস্তার ধুলোরাশি সরে গিয়ে সেখানে কিছু শব্দ ফুটে উঠল…



'ভয় পেয়ো না সাবিত্রী….আমি মকবুল। আমি থাকতে তোমার কেউ কোন ক্ষতি করতে পারবে না। জীবিত থাকা অবস্থায় যেমন করে তোমায় আগলে রাখতাম মৃত্যুর পরেও তেমনি তোমায় আগলে রাখবো। তারপর যখন সময় হবে তখন দুজনের দেখা হবে মৃত্যুর ওপারে। মৃত্যুই শেষ নয় সবকিছুর.. সাবিত্রী আমি অপেক্ষা করবো তোমার জন্যে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত তোমার পাশে থাকবো আমি…..এভাবেই।' 



এবার সাবিত্রীর কাছে সবকিছু স্পষ্ট হল। কিকরে বালিশের তলায় বোরোলিন আসলো বা কেনই তার চারপাশে মকবুলের উপস্থিতি মনে হত। সেসব কিছুর উত্তর তার ক্রন্দনরত ঠোঁটে হাসি হয়ে ফুটে উঠল।


ছোট গল্প - ব্রাত্য জীবন || লেখক - মিঠুন মুখার্জী || Written by Mithun Mukherjee || Short story - Bratto jibon

 



ব্রাত্য জীবন

                  মিঠুন মুখার্জী



সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মালেই সবার কপালে সুখ থাকে না। ছয় ষষ্ঠীতে ভাগ্যদেবতা যা লেখার লিখে দেয়, তাকে কেউ খন্ডন করতে পারে না। কলকাতা শহরের মস্তবড় এক ব্যবসায়ী দীপঙ্কর রায়ের দুই ছেলের পরে এক মেয়ে। ছেলে পছন্দ হলেও মেয়ে সন্তান তার একদম পছন্দ নয়। বছর পাঁচেক আগে তাঁর সহধর্মিনী আরও এক সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সেই সন্তানটি ছিল তৃতীয় লিঙ্গের অন্তর্ভুক্ত। বাবা এই খবর পাওয়ার পর পন করেন এই সন্তানের মুখ সে জীবনে দেখবে না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন অনাথ আশ্রমে এই সন্তানটিকে চুপিচুপি দিয়ে আসবেন। কথায় যা, কাজেও তাই। সকলের অমত থাকা সত্বেও মায়ের নাড়ি ছেঁড়া ধন নিয়ে যাওয়া হয়। সন্তান যেমনই হোক মায়ের কাছে সে সন্তানই হয়। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা একজন মা ছাড়া কেউ বুঝতে পারেন না।
              আজ সেই তৃতীয় লিঙ্গের সন্তানটি পাঁচ বছরে পড়েছে। অনাথ ছেলেমেয়েদের মাঝখানে পিতা-মাতা থাকা সত্ত্বেও অনাথের মতো মানুষ হতে হয় তাকে। এই অপরাধ কার? এদিকে অনাথ আশ্রমে তার নাম হয় বৃন্দাবনী। তার দুই দাদা যথাক্রমে অরুময় ও রাধেময়, এবং দিদির নাম শ্যামা।অরুময় ও রাধেময় যমজ হওয়ায় তারা এখন একাদশ শ্রেণীতে পড়ে এবং শ্যামা নবম শ্রেণীতে পড়ে। ছেলে দুটি দীপঙ্কর বাবুর গর্বের হলেও শ্যামাকে সেভাবে ভালোবাসেন না। একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে মেয়েরা এখনো যে ব্রাত্য সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ছোট সন্তানের শোকে তাদের মা অসুস্থ দীর্ঘদিন। তাই তাদের দেখাশোনা করার জন্য দুজন কাজের লোক রেখেছেন দীপঙ্কর বাবু। এদিকে কোনরকমে অবহেলায় বেড়ে উঠতে থাকে বৃন্দাবনী।
            দশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। দীপঙ্কর বাবুর বয়স হওয়ায় তার কাজকর্ম অরুময় ও রাধেময় দেখাশোনা করতে শুরু করেছেন। এক উচ্চবংশের ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে শ্যামার বিয়ে দিয়েছেন তিনি। মাঝেমধ্যে ছেলেদের দিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। পিতার এহেন আচরন শ্যামার চোখে বুক ফেটে জল এনে দেয়। হঠাৎ অসুস্থ কিছু গুরুতর হওয়ায় শ্যামার মা পরলোক গমন করেন। তার কাজ সম্পন্ন করে দীপঙ্কর বাবু তার ছেলেদের বলেন-- "তোমাদের মার চলে যাওয়ায় আমার মনের শান্তি নষ্ট হয়ে গেছে, আমি কিছুদিনের জন্য হরিদ্বারে তীর্থ করতে যাব। তোমরা বড় হয়েছ, ব্যবসা সামলানোর ক্ষমতা হয়েছে, আমার আর চিন্তা নেই। তোমাদের কাছে ছেড়ে দিয়ে আমি তীর্থে যেতে চাই"। ছেলেরা তাদের পিতাকে জানায় তারা পিতার বিশ্বাসের অমর্যাদা করবেন না।
          এদিকে বৃন্দাবনী এখন পনেরো বছরের যুবতী। তার যৌবন টলমল করছে বটে, কিন্তু সভ্য সমাজের থেকে সে অবহেলিত। নিজের জীবনের দুঃখ চিরসঙ্গী জেনেও নিজের মতো করে বাঁচার চেষ্টা করে সে। কেউ কেউ তাকে মাসি বলে ব্যঙ্গ করে। তাতে প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো বৃন্দাবনীর। কিন্তু যত দিন যায় ততই গা সওয়া হয়ে যায় তার। হিজরে মাসিদের দলে নাম লেখায় সে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে যা পাওয়া যায় তাতে তার ভাগে মাসে কুড়ি হাজার টাকার বেশি পড়ে। খাওয়া-পরার অভাব না থাকলেও জীবনের অধিকাংশ সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় মাঝে মাঝে খুব কষ্ট পায় সে। তার দলের বদন হিজরে, রূপসী হিজরে, ফাল্গুনী হিজরে তাকে খুব ভালবাসে। তার থেকে সকলেই বড় হওয়ায় তাকে স্নেহ করে সকলে।
         বৃন্দাবনী জন্মাবার পর যেহেতু তাকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে আসা হয়েছিল, সেহেতু নিজের বংশ পরিচয় কিছুই জানে না বৃন্দাবনী। পিতা-মাতার অভাব মাঝেমধ্যে অনুভব করে, কিন্তু অন্য মাসিরা তার সে অভাব ভুলিয়ে দেয়। একমাত্র শ্যামা ছোটবেলা থেকেই বৃন্দাবনীর খোঁজ নিত। যখন তার পিতা বৃন্দাবনীকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে এসেছিল, তখন শ্যামা পিছন পিছন গিয়ে সেটি দেখে ফেলেছিল। তাই বৃন্দাবনীকে একমাত্র শ্যামায় চেনে। মাসিদের সমাজে আসার পর শ্যামা তার স্বামীকে নিয়ে দুবার বৃন্দাবনীকে দেখতে এসেছিল। নিজের পরিচয় দেয় নি কষ্ট পাবে বলে। স্বামীকে বিয়ের পরে সব জানিয়েছিল শ্যামা।
       এদিকে দীপঙ্কর বাবু হরিদ্বারে তীর্থ করতে যাওয়ার সুযোগে অরুময় ও রাধেময় নিজেদের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করেন, এবং বোনদের ফাঁকি দিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নামে করিয়ে নেন। এখানে বলার প্রয়োজন, দীপঙ্কর বাবু অশিক্ষিত থাকায়, একদিন খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে সরকারি স্ট্যাম্প পেপারে টিপ সই দিয়ে নিয়েছিলেন অরুময় ও রাধেময়। দীপঙ্কর রায় বাড়ি ফেরার পর সবকিছু জেনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে প্রচুর রক্ত বেরিয়ে যায়। খবর পেয়ে শ্যামা ও তার স্বামী আসেন তাদের বাড়িতে। এদিকে পাড়ার লোকে দীপঙ্কর বাবুকে হসপিটালে ভর্তি করেন। প্রচুর রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার ফলে 'ও নেগেটিভ' রক্তের প্রয়োজন হয়। শ্যামার ও তার স্বামীর রক্ত 'ও নেগেটিভ' না হওয়ায় খুব চিন্তায় পড়ে যায় তারা। ডাক্তার বলেছেন-- এক ঘণ্টার মধ্যে রক্ত না দিলে সে তার পিতাকে বাঁচাতে পারবে না।এই কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে শ্যামা।
               হঠাৎ করে শ্যামার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।সত্বর হিজরে মাসিদের পল্লীতে গিয়ে বৃন্দাবনীর সঙ্গে দেখা করে সব বৃত্তান্ত খুলে বলল সে। বৃন্দাবনীর প্রথম পিতার প্রতি রাগ হয়েছিল, কিন্তু পরক্ষণেই ভেবে দেখল পিতাকে বাঁচাতে না পারলে কোনদিন সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না।
               দীপঙ্কর বাবুর অজানতে বৃন্দাবনীর রক্তে সেদিনের মত মরতে মরতে বেঁচে গেলেন তিনি। যখন জ্ঞান ফিরল তখন তার পায়ের কাছে দাঁড়ানো বৃন্দাবনী, শ্যামা ও শ্যামার স্বামী। শ্যামা তার পিতাকে বৃন্দাবনী সম্পর্কে সব খোলাখুলি বলে। এরপর দীপঙ্কর বাবু লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, বৃন্দাবনীর ওপর তিনি এত বড় অন্যায় করেছেন, সেই আজ তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছে। তাঁর এই অসময়ে ছেলেরা একবারের জন্যও আসেন নি। বৃন্দাবনী চলে যাওয়ার সময় পিতাকে উদ্দেশ্য করে সে শ্যামাকে বলে--" তুমি বললে তাই আমি এখানে এলাম, নতুবা আমি কখনো এখানে আসতাম না। সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, সে সন্তানই হয়। বাবা-মার প্রতি কর্তব্যই প্রমান দেয় সে সুসন্তান, না কুসন্তান। মেয়েরা পারে না এমন কিছু নেই। আর আমার মত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও তো পিতা-মাতাই জন্ম দেয়। তাহলে ঈশ্বরের সৃষ্ট সেই সন্তানের কি দোষ বল তো দিদি?" আমরাও তো মানুষ। এই কথা বলতে বলতে বৃন্দাবনীর চোখের কোনে জল দেখা যায়। বৃন্দাবনীর পিতা সকলের সামনে বৃন্দাবনীর কাছে তাঁর কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বৃন্দাবনী তার পিতাকে ক্ষমা করেছিল কিনা জানি না, তবে তাঁর প্রতি অভিমান করে নৈশব্দ্যে হাসপাতাল থেকে হিজরে পল্লীর দিকে পা বাড়ায়।



Saturday, November 5, 2022

Special General Knowledge part -1 || October Current affairs in Bengali pdf download || RRb NTPC Gk || RRb group d Gk || Wbp si Gk || Wbp Constable gk || General Knowledge || Special Gk & current affairs Part - 1



   Special General Knowledge part -1


1) মাও সে তুং এর উক্তিটি হল ‘Let a hundred flowers bloom'। 



 2) সুভাষচন্দ্র বসু পদত্যাগের পরে রাজেন্দ্রপ্রসাদ কংগ্রেসের সভাপতি হয়।

 3) লর্ড কর্ণওয়ালিশ ভারতের পুলিশিব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। 

 4) ১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ কর্তৃক ‘ভারতসভা' স্থাপিত হয়। 

5) মহাত্মা গান্ধি বলেছিলেন, 'অস্পৃশ্যতা, মানুষ ও সমাজের বিরুদ্ধে চরম অপরাধ'।

 6) জে পি নিয়োগী প্রথম অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।

 7) ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ফাঁসিতে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম মোহবনি গ্রামে।

 8) ভি ডি সাভারকার বলেছিলেন ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ হল জাতীয় স্বাধীনতার একটি পরিকল্পিত যুদ্ধ।

 9)আমির খসরু বলেছেন, 'ভারতীয় সঙ্গীত' শুধু মানুষকে নয়, প্রাণিদেরও মুগ্ধ করে। 


10)ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণকেন্দ্রটি থুম্বাতে তৈরি হয়েছিল।

11) ইউনিট ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার সদর দপ্তরটি মুম্বইতে অবস্থিত।

 12) দাদাভাই নৌরজি ‘মহান বৃদ্ধ' নামে পরিচিত।


13) জয়নাল আবেদিন কে ‘কাশ্মীরের আকবর' বলা হয়।

 14) কিপলিং বলেছিলেন, 'East is East and West is
 West and twain shall never meet'. 

15) নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর ছদ্মনাম ‘ফাদার মার্টিন’।

16) ভারতের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর হলেন গুলজারিলাল নন্দ।

 17) বাংলার প্রথম নির্বাচিত রাজা হলেন গোপাল (৭৫০ খ্রিস্টাব্দ)।

 18) ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়। 

19) অরবিন্দ ঘোষ Life Divine, দিব্যজ্ঞান গ্রন্থটি লেখেন।

 20) SI পদ্ধতিতে তাপমাত্রার একক কেলভিন।

 21) ভিকাজি রুস্তমজি কামাকে ভারতীয় বিপ্লববাদের জননী বলা হয়।

 22) ১৯৪৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বম্বে তলোয়ার জাহাজে "নৌবিদ্রোহ প্রথম হয়েছিল।


23) ক্যানসার রোগের অপর নাম 'Big C’. & ADH হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস বা শর্করাবিহীন বহুমূত্র রোগ হয়।

24) ‘গদর' শব্দের অর্থ হল বিপ্লব।



25) আমাদের চোখে উল্টো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় রেটিনায়। 

 26) গ্যাসের আয়তন গ্যাসটির চাপের সঙ্গে ব্যাস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়। & PV = RT সমীকরণটি মেনে চলে যে গ্যাসগুলি তাদের আদর্শ গ্যাস বলে।

 
27) বয়েলের সূত্রের গাণিতিক রূপ হল PV = = K.I & সিগারেটের লাইটারে বিউটেন গ্যাস থাকে।

 28) LPG হল বিউটেন, প্রোপেন এর মিশ্রণ।

 29) কোনও মৌলের একটি পরমাণু একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর চেয়ে যতগুণ ভারি, সেই সংখ্যাটিকে ওই মৌলের পারমাণবিক গুরুত্ব বলে।

 30) পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মহিলা রাজ্যপালের নাম হল শ্রীমতী পদ্মজা নাইডু।

 
31) ভারত সরকারের আইন বিষয়ক সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তির নাম হল অ্যাটর্নি জেনারেল।


32) ভারতের প্রথম মহিলা স্পিকারের নাম হল শ্রীমতী
শানোদেবী (হরিয়ানা)।


33) ১৯৯২ সালে সত্যজিৎ রায় ‘ভারতরত্ন উপাধি পান। & সবুজ বর্ণের আলোকে সালোক সংশ্লেষ বন্ধ হয়।

 
34) ১৪৯২ খ্রিঃ কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন।

35) ভারতের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয় জাতীয় উন্নয়ন পর্ষদ দ্বারা।


36) বয়েলের সূত্র হল - নির্দিষ্ট উয়তায় কোনও নির্দিষ্ট ভরের


37) একটি তরলের ফোঁটা গোলাকৃতি হওয়ার কারণ হল পৃষ্ঠটান।

 
38) জোনাকির আলো দেখা যায় লুসিফোরিন রাসায়নিক পদার্থ থাকার জন্য।

 39)যে সমস্ত সৌররশ্মি বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে মহাশূন্যে প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত হয় তাকে অ্যালবেডো বলে।

 40) সমুদ্রপথের দূরত্ব মাপা হয় নট এককের সাহায্যে। & বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় আয়নোস্ফিয়ার স্তরে।

 41) ব্যারোমিটারের পারদস্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ কমে গেলে ঝড় এর পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

 42) ‘চিনুক বায়ু আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রকি পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়।


43) স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি হলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ।

 44) ধর্মপাল বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। > আলাউদ্দিন খিলজি প্রথম রেশনব্যবস্থা চালু করেন।

 45) ‘হুমায়ুন' কথাটির অর্থ হল সৌভাগ্যবান ।

 46) বেবাদল খাঁ ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।

 47) শাহজাহান এর রাজত্বকালে ‘মুঘল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ' (Golden Age of the Mughals) বলা হয়। 

48) রঞ্জিত সিংহ এবং ইংরেজদের মধ্যে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে অমৃতসর সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

 49) ভারতের গভীরতম বন্দরটির নাম হল বিশাখাপত্তনম।

50) ভারতের উচ্চতম শহর হল লে বা লেহ।

 51) ভারতের শুল্কমুক্ত বন্দর হল কান্ডালা (গুজরাট)। & লিংসি লা ও ইউল লা গিরিপথ ভুটান ও তিব্বত এই দুটি স্থানের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করছে।

 52) এশিয়ার বৃহত্তম লৌহ-ইস্পাত কারখানা হল জাপানের ইয়াওটা উটা ।

 53) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি।

 54) ভারতের সর্বোচ্চ সড়কপথ হল খারদুং লা ।

 55) ভারতের ক্ষুদ্রতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হল মালদ্বীপ (ভূটান দ্বিতীয়)।

 56) অনিষিক্ত ডিম্বাশয় থেকে বীজবিহীন ফল সৃষ্টি হওয়াকে পারথেনোকার্পি বলে।

 57) ইথিলিন হরমোন ফল পাকাতে সাহায্য করে।

 58) অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোশ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়।

59) অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোশ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়।

 60) প্রতি 100 ml. রক্তে শর্করার স্বাভাবিক পরিমাণ হল 80-120 mg. I

 61) রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধিকে হাইপারগ্লাইসিমিয়া বলে।

 62) রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসিমিয়া বলে।

 63) রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধিজনিত রোগকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে।


64) সূর্য থেকে যে শক্তি বা উত্তাপ পৃথিবীতে এসে পৌঁছয় তাকে ইনসোলেশন বা সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল বলে। 

65) কুয়াশার খুবই ক্ষুদ্রাকৃতি জলকণাগুলিকে ফগ বলে।

 66) শীতপ্রধান স্থানে শিশির বিন্দুগুলি ঠান্ডায় জমাট বেঁধে কঠিন হলে তাকে তুহিন বলে।

 67) আকাশে সর্বোচ্চস্তরের মেঘের নাম সিরাস।

 68) বায়ুর গতিবেগের একক হল নট।

 69) The Commonwealth-এর আসল নাম হল The British Commonwealth of Nations 

70) ১৯২৬ সালে কমনওয়েলথ গঠিত হয়।

 71) বর্তমানে কমনওয়েলথ দেশের সদস্যসংখ্যা হল ৫৪টি।

 72) কমনওয়েলথ সদর দপ্তর হল লণ্ডনে। 

73) কমনওয়েলথ-এর প্রতীকী প্রধান হলেন ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথ।

 74) রাষ্ট্রসংঘের পর বিশ্বের বৃহত্তম জোট হল NAM। 

75) ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বান্দাং-এ NAM এর আত্মপ্রকাশ হয়।

76) বর্তমানে NAM-এর সদস্যসংখ্যা হল ১১টি। ১২০

77) ১৯৬১ সালে পূর্বতন যুগোশ্লাভিয়ার বেলগ্রেডে NAM-এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হয়।

78) ভারতবর্ষে ১৯৮৩ সালে, নয়াদিল্লিতে প্রথম NAM-এর শীর্ষ সম্মেলন হয়।

79) ১৯৬৭ সালের ৪ আগস্ট, ব্যাংকক-এ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস (ASEAN) গঠিত হয়।

 80) রাশিয়া, ১৯৯৮ সালে যোগ দিয়ে G-7-এর নাম G-8 হয়।

81) ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (INTERPOL) ১৯২৩ সালে প্যারিসে গঠিত হয়।

 82) রেডক্রস তিনবার (১৯১৭, ১৯৪৪ এবং ১৯৬৩ সালে) নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়।

 83) আকবরের তরবারির নাম সংগ্রাম। & জে এইচ ডুনান্ট, ১৮৮৬ সালে রেডক্রস গঠন করেন।

84) রেডক্রস-এর সদর দপ্তর হল জেনিভা।

85) শিবাজির তরবারির নাম ভবানী।

 86) 'March of the Volunteers' - চিন দেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম লাইন।

 87) হল্যান্ড / নেদারল্যান্ড দেশের সরকারি নথির নাম 'অরেঞ্জবুক'।

 88) 'Long live our beloved king'-সৌদি আরব দেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম লাইন।

 89) Where Art thou—আত্মজীবনীটি মকবুল ফিদা হুসেন।

90) Being Myself - আত্মজীবনীটি মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা এর লেখা।




       Current affairs October (part -1)


1) সম্প্রতি সাহিত্যে ২০২২ নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ফ্রান্সের লেখিকা Annie Ernaux


 2) ২০২২ সেপ্টেম্বর মাসে মহিলা বিভাগে ICC Player of the Month হলেন ভারতের হারমানপ্রীত কৌর

 
 3) World Cotton Day পালন করা হয় ৭ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো-“Weaving a better future for cotton"

 4) Devendra Lal Memorial Medal 2022 জিতলেন ড. রক্সি কল

 9) সম্প্রতি সমাজ সেবার জন্য "সেবা রত্ন সম্মান" পেলেন রতন টাটা



10) World Mental Health Day পালন করা হয় ১০ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো-"Make mental health and well-being for all a global priority "

 11) আন্তর্জাতিক কন্যা সন্তান দিবস পালন করা হয় ১১ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো- "Our time is now – Our rights, Our future"

 12) World Arthritis Day পালন করা হয় ১২ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো-“It's in your hands, take action

13) World Standards Day পালন করা হয় ১৪ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো- " Shared Vision for a Better World"

 14) এ.পি. জে আব্দুল কালামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে World Students' Day পালন করা হয় ১৫ই অক্টোবর


15) ষষ্ঠবার ভারতের সবথেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শহরের তকমা পেল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহর

16) ৩২তম বিহারী পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন লেখক মাধব হাদা

17)  সম্প্রতি পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০২২ পাচ্ছেন Alain Aspect, John F. Clauser 4 Anton Zeilinger

18) সম্প্রতি UNHCR Nansen Refugee Award পেলেন জার্মানির প্রাক্তন চ্যান্সেলর Angela Merkel 

19) ইলেকশন কমিশনের দ্বারা "ন্যাশনাল আইকন" হিসাবে ঘোষিত হলেন অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠী

 20) Indian Ordinance Factory-এর ডিরেক্টর জেনারেল পদে নিযুক্ত হলেন সঞ্জীব কিশোর

 21) রসায়ন বিজ্ঞানে ২০২২ নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন Carolyn Bertozzi, Morten Meldal 4 Barry Sharpless

 22) কানাডাতে Global India Award জিতলেন অনিল

 আগারবাল

23) World Animal Day পালন করা হয় ৪ঠা অক্টোবর; এবছরের থিম হলো - "A Shared Planet "


 24) ভারতীয় বায়ুসেনা দিবস পালন করা হয় প্রতি বছর ৮ই অক্টোবর



25) SASTRA Ramanujan Prize for 2022 পাচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর Yunqing Tang

26) World Post Day পালন করা হয় ৯ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো - " Post for Planet "

 27) ২০২২ সেপ্টেম্বর মাসে পুরুষ বিভাগে ICC Player of the Month হলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান

 28) বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয় ৫ই অক্টোবর; এবছরের থিম হলো- "The Transformation of Education Begins with Teachers"


____________________________________________

সম্পূর্ণ পিডিএফ পেতে নীচে দেওয়া লিংক টি ক্লিক করুন -👇👇👇


Friday, November 4, 2022

রাজ্যে স্বাস্থ্য দফতরে চুক্তি ভিত্তিক কর্মী নিয়োগ || বেতন ২৫ হাজার টাকা || WB health department Recruitment 2022


 


আবার নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে আমাদের রাজ্যে। অনেক গুলো পদে নিয়োগ করবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এখানে চাকরি পেতে দিতে হবে না লিখিত পরীক্ষা। শুধু ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। এটি একটি চুক্তিভিত্তিক পদ। কোন কোন পদে নিয়োগ হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, মোট শূন্য পদ, আবেদন পদ্ধতি, নিয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিবরণ নীচে আলোচনা করা হল -



পদের নাম - 


নার্সিং স্টাফ

কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট



মোট শূন্যপদ - এখানে মোট ৮টি শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।



শিক্ষাগত যোগ্যতা - এখানে আবেদনের করতে হলে ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে GNM নার্সিং কোর্স করতে হবে এবং কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া আবশ্যক।



বয়সসীমা - 

 প্রতিটি প্রার্থীর বয়সসীমা অবশ্যই ২১-৪০ বছরের মধ্যে হওয়া আবশ্যক। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।



বেতন - 

নার্সিং স্টাফ পদে মাসিক বেতন দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা। কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে মাসিক বেতন দেওয়া হবে ১৩ হাজার টাকা। 



কীভাবে আবেদন করবেন - 

এখানে শুধু মাত্র অফলাইনে ফর্ম জমা হবে। প্রয়োজনীয় নথি-সহ আবেদনপত্র নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে। 





আবেদন পাঠানোর ঠিকানা -


Office of the Chief Medical Officer of Health, MNK Road, Old Outdoor Campus, Kamarpotty More, Rampurhat, Dist-Birbhum, Pin-731224, W.B



আবেদনের শেষ দিন -

১৯ নভেম্বর এর মধ্যে আপনাকে আবেদন পত্র জমা করতে হবে।



 

কীভাবে নিয়োগ হবে -

এখানে চাকরি পেতে গেলে কোনরকম লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে না। শুধু মাত্র ইন্টারভিউ দিয়ে এবং সবশেষে নথি পত্র যাচাই করে প্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে।



কোথায় নিয়োগ হবে -

বীরভূমের রামপুরহাটের হেলথ অফিসে নিয়োগ হবে।



Official Website-


Click here 🔴