এইভাবে মাস, বছর অন্ধকারের অভিসার সুশীল বাবুর কর্ণগোচর হলো সুশীল বাবু হেমন্তবাবুর বিশ্বস্ত কর্মচারী ও বিশিষ্ট বন্ধু। দেবীদাসের অধঃপতিত জীবনকে বাঁচাতে হলে এমন কোন পথ অবলম্বন করতে হবে যাতে হেমন্তবাবুর মান মর্যাদা যেন ক্ষুন্ন না হয়। একমাত্র পথ দেবীদাসের বিয়ের ব্যবস্থা করা। দেবীদাস যদি এই অসৎ পথের পথিক না হতো তাহলে কোন প্রশ্নই উঠতো না ।
Tuesday, December 20, 2022
উপন্যাস - পদ্মাবধূ || বিশ্বনাথ দাস || Padmabadhu by Biswanath Das || Fiction - Padmabadhu Part -31
Monday, December 19, 2022
ছোট গল্প - রিন্টু ও পিঁপড়ে || লেখক - ইমরান খান রাজ || Written by Imran Khan Raj || Short story - রিন্টু ও পিঁপড়ে
রিন্টু ও পিঁপড়ে
ইমরান খান রাজ
আজ রিন্টুর ২য় সাময়িক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। তাই সে খুব চিন্তিত। কারণ বাবা বলেছে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে হবে। না করতে পারলে ভয়াবহ শাস্তি ! সবেমাত্র চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াশোনা করে রিন্টু। এরপরও বাবার কঠোর নির্দেশনা। আজ ক্লাসে গিয়ে সবার পেছনের বেঞ্চে বসে সে। কারও সাথে কথা না বলে, মাথা নিচু করে চুপটি মেরে বসে থাকে। এদিকে স্যার প্রবেশ করেছে ক্লাসে। এক এক করে ডেকে সবার রেজাল্ট তাঁর তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছেন স্যার। হঠাৎ ডাক পড়লো রিন্টুর। স্যারের ডাকে সারা দিয়ে সামনে এগিয়ে যায় সে। স্যার রেজাল্ট হাতে দিয়ে বললেন, বাবা রিন্টু, তুমি পড়াশোনা করো না কেনো? এইবারও তোমার দুই বিষয়ে ফেল এসেছে। বার্ষিক পরীক্ষায় কিন্তু ভাল ফলাফল করতে হবে৷
স্কুল ছুটির পর ধীর পায়ে হেঁটে বাসার দিকে যেতে থাকে রিন্টু। বাসায় পৌঁছে প্রথমে মা'কে রেজাল্ট কার্ড দেখালে মা কিছু না বলে সরাসরি রিন্টুর বাবার কাছে নিয়ে যায়৷ বাবা তো রেজাল্ট দেখে বেজায় চটে যান রিন্টুর ওপর। খুব রাগারাগি করে তাঁকে। পরে তাঁর মা বুঝিয়ে-শুঝিয়ে রিন্টুকে নিয়ে পাশের রুমে চলে যায়। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে রিন্টু। খুব আদরের। বাবার স্বপ্ন, রিন্টু একদিন অনেক বড় হবে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাঁর পড়াশোনার ব্যাপারে বাবা খুব কঠোর। তবে বাবার খুব প্রিয় এবং আদরের ছেলে সে। কিন্তু আজ রিন্টুর খুব মন খারাপ। বাবা বকেছে তাঁকে ! মা খাবার টেবিলে দিয়ে খেতে বলে। তবে সে খাবার না খেয়ে শুধু এক বোতল পানি নিয়ে চলে যায় মাঠে।
মাঠের এক কোণে বসে সে একটু একটু করে পানি খায়। হঠাৎ সে লক্ষ্য করে, তাঁর পাশেই একটা গর্ত। সে খুব আগ্রহ নিয়ে গর্তের ভিতরে চোখ দেয়, দেখার জন্য। কিন্তু ভিতরে অন্ধকার থাকায় কিছুই দেখতে পারে না। তখন সে তাঁর হাতে থাকা পানির বোতল নিয়ে পুরো পানি ঢেলে দেয় গর্তের ভেতর। কিন্তু কোন সারা শব্দ নেই। হঠাৎ বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনতে পায় রিন্টু। তারপর দেখে গর্তের ভেতর পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে এক পিঁপড়া। রিন্টু তো অবাক! পিঁপড়ে আবার কথা বলতে পারে ? পিঁপড়ের আর্তনাদ শুনে, রিন্টু দৌড়ে গিয়ে একটা গাছ থেকে ডাল ভেঙে আনে। সেই ডালটি গর্তে ঢুকিয়ে পিঁপড়েটিকে উপরে তুলে আনে রিন্টু। জীবন বাঁচানোর জন্য রিন্টুকে ধন্যবাদ জানায় পিঁপড়ে। তখন পিঁপড়েটি বলে, তুমি কি আমার বন্ধু হবে? রিন্টু পিঁপড়ের কথা শুনে রাজি হয়ে যায়। তারপর রিন্টু, পিঁপড়ে'কে জিজ্ঞেস করে, তুমি এই গর্তে একা কেনো? তোমার বাবা-মা কোথায়? বাবা-মায়ের কথা শুনে পিঁপড়েটির মন খারাপ হয়ে যায়। তারপর মৃদুস্বরে উত্তর দেয়, গত বর্ষায় আমার বাবা-মাসহ আমার প্রজাতির সকল পিঁপড়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। এখন একমাত্র আমিই বেঁচে আছি। আমার কোনো বন্ধু নাই। আমি খুব একা। এই কথা শুনে রিন্টু বলে, কে বলেছে তুমি একা! আজ থেকে তো আমরা দু'জন বন্ধু। আমরা সারাজীবন বন্ধু হয়েই বেঁচে থাকবো৷ রিন্টুর কথা শুনে পিঁপড়েটি অনেক খুশি হয়। তারপর রিন্টু ও পিঁপড়ে মনের আনন্দে গল্প করতে থাকে।
ছোট গল্প - মাস্টার মশাই || লেখক - অমিতাভ ভট্টাচার্য্য || Written by Amitabh Bhattacharya || Short story - Master moshay
মাস্টার মশাই
অমিতাভ ভট্টাচার্য্য
ওদের দুজনের বন্ধুত্ব সেই ছেলেবেলা থেকে। কখন যেন একসাথে খেলাধূলো করায় টান পড়ল। তারপর এক সময় দুজনের মধ্যে সলজ্জ দৃষ্টি বিনিময় শুরু হল। তখন ওরা দূজনেই ইস্কুল জীবনের শেষের দিকে। গরমের ছুটির এক নির্জন দুপুরে, হঠাৎ সমীরণ খুব উচাটন মন নিয়ে একটা বই শর্বরীকে ফেরৎ দেবার অছিলায় ওর একটা হাত ধরে বলেছিল, ‘তুমি আমাকে কোনদিন ভূলে যাবে না তো?’ শর্বরী তাকে কথা দিয়েছিলো যে সে ওর জন্যে আজীবন অপেক্ষা করে থাকবে। কিন্তু সে কথা রাখেনি। বিএ পরীক্ষার আগেই বাবা-মার পছন্দের পাত্রের সঙ্গে বিয়েতে বসে যায়। বাবা-মার চাপের কাছে ও যে কতো অসহায়, তা একটা কাগজে বিস্তারিত লিখে এক বান্ধবীর হাত দিয়ে বিয়ের দিন সকালে সমীরণের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। সমীরণের বড়দা বেশ কিছুদিন হল সংসারের হাল ধরেছে। মেজদা একটা ভাল সরকারী পদে চাকরি পাবার পর বড়দার সঙ্গে যোগ দেয়। আস্তে আস্তে সংসার বড় হতে থাকল। একদিন বড়দা অসুস্থ অবস্থায় অফিস থেকে তারাতারি বাড়ি ফিরে রাতের দিকে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ল। ডাক্তার ডাকা হল সঙ্গে সঙ্গে। ডাক্তার বড়দাকে পরীক্ষা করে বলল, ‘ম্যাসিভ স্ট্রোক’। বড়দা হাসপাতালে ভর্তি হল। এক সপ্তাহ পরে ছাড়া পেয়ে প্যারালাইজড অবস্থাতে আজও শয্যাশায়ী। বড়দার এই অবস্থায় মেজদা বাবাকে বলল, ‘আমরা চারজন এই সংসারে না থাকলে, আর্থিক চাপটা তোমার অর্ধেক হয়ে যাবে। সুবিধে হবে সংসার চালাতে। আমরা না হয় মাঝে মাঝে এসে দেখে যাবো তোমাদের।’ যেদিন মেজদা, মেজবৌদি আর তার দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে গেল, বাবা সেদিন সমীরণের একটা হাত নিজের দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘সমু, আমি আবারও হেরে গেলাম রে।’ এই প্রথম সমীরণ তার বাবাকে কাঁদতে দেখল। বড়দা যেখানে কাজ করত তারা মানবিকতা দেখিয়েছিল। সমীরণ পড়াশুনো বন্ধ করে সেই চাকরিতে মন দিল। এর কিছুদিন পরে বাবা মারা গেলেন। মাঝে মাঝে শর্বরীর কথা সমীরণের মনে আসেনা তা নয়। যে অল্প সংখ্যক মানুষের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা আছে, সমীরণের ধারণা শর্বরী তাদের মধ্যে একজন।
ট্রেনটা আজ খুব দেরিতে যাচ্ছে। বাড়ি পৌঁছতে নির্ঘাৎ রাত হয়ে যাবে সমীরণের। কিছুদিন ধরে চোখ নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। ওর বন্ধু দেবাশীষ ওকে পরামর্শ দিয়েছে চোখের ডাক্তারের কাছে যাবার জন্যে। কিন্তু সমীরণের সাহস হচ্ছে না। কত টাকা ডাক্তারের ফি তাই বা কে জানে। যদি চশমার কাঁচ পাল্টানোর কথা বলে, তার জন্য খরচ কত পড়বে সমীরণ জানেনা। জানবেই বা কি করে? অসুখ বিসুখ সর্দি কাশি মাঝে মধ্যে যে হয়না তা নয়। তবে তার জন্যে ডাক্তার বদ্যি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ার চল অনেকদিন হল বাড়ি থেকে উঠে গেছে। মাস গেলে মাইনের টাকাটা বড় বৌদির হাতে দিয়ে দেয়। বড় বৌদি সেই টাকা থেকে ওকে ওর হাত খরচ আর ট্রেনের মান্থলীর খরচ বাবদ টাকা দেন। এছাড়া দুটো রুটি আর আলু ভাজা বা কোনো একটা তরকারী অফিসে যাবার সময় টিফিন বাক্সে ভরে ওর হাতে দেন। হাত খরচ বলতে তেমন কোনো খরচ ওর নেই। টাকাটা সমীরণ জমিয়ে রাখে।
ষ্টেশন থেকে বাড়ি যাবার জন্যে একটা শর্টকাট রাস্তা আছে। রাস্তাটা সন্ধ্যের পর অন্ধকার থাকে। ঐ রাস্তা দিয়ে যাবে কি যাবেনা এই নিয়ে যখন দোটানায়, তখন একজন যুবক সমীরণের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বলল, 'মাস্টারমশাই কেমন আছেন?' সমীরণ খুব অবাক হল। পায়ে হাত দিয়ে আজকাল তাকে কেউ বড় একটা প্রণাম করে না। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে সে বড়দের প্রণাম করেই এসেছে। সমীরণ যুবকটিকে বলল, 'আমি তো ঠিক চিনতে পারলাম না তোমাকে।'
আমাকে চিনতে পারলেন না মাস্টারমশাই? আমি অরুণাভ; আপনার ছাত্র ছিলাম।
আমি তো কোনদিন স্কুলে পড়াইনি। তুমি বোধহয় আমাকে অন্য কারোর সাথে গুলিয়ে ফেলেছ।
আপনি আমাকে বাড়িতে পড়াতেন মাস্টারমশাই; মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়েছেন।
অরুণাভর চেহারাটা মনে পড়ল সমীরণের। অরুণাভ যখন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় তখন ছিল ছিপছিপে চেহারার কিশোর। একেবারে চিনতে না পারার মতো পরিবর্তন ওর চেহারায় আসেনি বটে। তবে সমীরণের ওকে চিনতে একটু সময়ই লাগল। অরুণাভকে স্নেহ করত সমীরণ। সবাই অবশ্য এই স্নেহ করাকে তির্যক দৃষ্টিতে দেখত, "বড়লোক বাড়ির টিউশনি, মাস গেলে অনেক টাকা মাইনে। তার ওপরে ভারী টিফিন খেতে দেয়। ছাত্রকে স্নেহ না করে উপায় আছে?"
সমীরণ হাত বাড়িয়ে ওর কাঁধ দুটো ঝাঁকিয়ে দিয়ে বলল, আরে অরু, কতো বড়ো হয়ে গেছিস! কি করছিস এখন?
বাবার ব্যবসা দেখছি মাস্টারমশাই।
লেখাপড়া আর করলি না?
বাবা একদিন বললেন, 'এতো বড় ব্যবসা, আমার অবর্তমানে সাতভূতে খাবে। ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে কি লাভ হোলো?' আমি তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি। পাশ করে সোজা বাবার ব্যবসায় ঢুকে পড়লাম।
সাতভূতকে একেবারে অভুক্ত রেখে দিলি?
দুজনেই হেসে উঠল এই কথায়।
অরুণাভর বাবার খুব শখ ছিল ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াবেন। নিজে বিশেষ লেখাপড়া করতে পারেননি। সাহস করে একমাত্র ছেলেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পর্যন্ত ভর্তি করাতে পারেননি। সমীরণ যেদিন পড়ানোর খবর পেয়ে দেখা করতে গেল, সেইদিন অরুণাভর বাবা নিজের মনের কথাটা ওকে বলে ফেললেন, 'বাড়িতে তো ইংরেজিতে কথা বলা হয়না, তাই মাস্টার রাখা'। কথাটা শুনে অরুণাভ বলেছিল, 'আমি তো ইংরেজিতে কথা বলতে পারিনা। আপনি বরং অন্য কোন টীচার দেখুন, যিনি পড়ানো আর ইংরেজিতে কথা বলা দুটোই একসাথে শেখাতে পারবেন।’ অরুণাভর বাবা সমীরণের এই কথা শুনে অপ্রতিভ হয়ে বললেন, 'না, না, আমি ঠিক তা বলতে চাইনি। আপনারা শিক্ষিত পরিবারের ছেলে, যা পড়াবেন তাতেই আমার ছেলের অনেক হবে।'
অরুণাভ আর তার মাস্টারমশাই একই পাড়াতে থাকে। একই পাড়াতে থাকলেও দুজনের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ অরুণাভর মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোবার পর এই প্রথম। অরুণাভ ভালো ফল করেছিল মাধ্যমিকে। রেজাল্ট বেরোবার পর মিষ্টির বাক্স নিয়ে মাস্টারমশাইয়ের বাড়ি গিয়েছিল খবরটা দিতে। দরজায় কড়া নাড়তে, একটি মিষ্টি দেখতে মেয়ে এসে দরজা খুলে ওর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল কয়েক মুহূর্ত। মেয়েটিকে আগে কখনো অরুণাভ দেখেছে বলে মনে করতে পারল না। সে মেয়েটিকে দেখে নার্ভাস হয়ে গেল। ওর বাবা ওকে কো-এডুকেসন স্কুলে ভর্তি করাননি। ওর বাবার ধারণা, কো-এডুকেসন স্কুলে গিয়ে মেয়েদের সাথে মেলামেশা করে ছেলের লেখাপড়া একেবারে বারোটা বেজে যাবে। মেয়েদের সাথে মেলামেশা না করার ফলে, মেয়েটির সাথে কথা বলতে গিয়ে অরুণাভ তোতলাতে শুরু করলো। কোনরকমে মেয়েটিকে বলল, 'আমি মাধ্যমিকে নাইন্টি থ্রি পারসেন্ট পেয়েছি। মাস্টারমশাইয়ের জন্য মিষ্টি এনেছি।' কথাটা শেষ করে মেয়েটির হাতে মিষ্টির বাক্স তুলে দিয়ে দ্রুত পেছন ফিরে চলে যেতে যেতে শুনতে পেল মেয়েটি বলছে, 'কাকুকে কি বলব ?' অরুণাভ আদৌ এই কথার উত্তরে কিছু বলতে পেরেছিল কিনা, আজ আর ওর মনে নেই। সেদিন সোজা বাড়ি চলে এসেছিল। পড়াশুনোর ব্যস্ততায় তারপর অনেকগুলো বছর কেটে গেছে।
অনেকদিন পরে আপনার সঙ্গে দেখা হলো মাস্টারমশাই। আসুন আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই।
আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিবি মানে? আমিতো নিজে হাঁটতে চলতে পারি।
না, না তা বললে হবেনা। ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি ষ্টেশনে গাড়ি নিয়ে আসার জন্যে।
আমার সাথে হেঁটে চল। কথা বলতে বলতে দিব্যি কখন পৌঁছে যাব বুঝতেই পারবি না। এতে শরীর মন দুটোই ভালো থাকবে। ড্রাইভারকে ফিরে যেতে বলে দে।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে, রেললাইনকে বাঁ দিকে রেখে ডান দিকে পুকুরের পাশ দিয়ে সোজা গেলে শর্টকাট রাস্তায় গিয়ে পড়বে। ঐ রাস্তা ধরে এগো্তে থাকল ওরা দুজনে। গাড়ি ঘোড়া খুব কমই যায় ঐ রাস্তা দিয়ে। পুরো রাস্তাটাই নিরিবিলি আর অন্ধকার। দুপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকটা বাড়ির জানলা দিয়ে যেটুকু আলো রাস্তায় এসে পড়ে তা সমীরণের দেখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। দু'পা এগোতেই সমীরণ হোঁচট খেল। পুরোনো চটিটা এই হোঁচট খাবার ফলে ছিঁড়ে গেল। সমীরণ ছেঁড়া চটিটা হাতে তুলে নিয়ে অরুণাভকে বলল, ‘গল্প করতে করতে এগোতে থাকলে রাস্তার দূরত্ব অনেক কমে যায়। আমি যখন একা যাই, নিজেই নিজেকে নানা রকম গল্প বলি। অনেক রাস্তা পেরিয়ে এলাম বলে মনেই হয় না। সমাজ সেবা করতে গিয়ে সমাজের কাছে যে অপদস্ত হতে হবে, এমনটা কেউ ভাবে না। কিন্তু আমাদের জীবনে ঘটেছিলো যখন আমরা বন্ধুরা মিলে সমাজ সেবা করতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম।
তখন আমি কলেজে পড়ি। কেন জানিনা পাড়াতে সবাই আমাকে ভালোছেলে বলে ভাবতো। বাবা হেডমাস্টার মশাই ছিলেন বলে হয়ত হতে পারে। আমার বন্ধুরা অবশ্য সত্যিই ভালোছেলে ছিল। ভালোছেলেদের দলে থাকার দৌলতে আমার নামের ওপরে একটা ভালোছেলের ছাপ পড়ে গিয়েছিল। সেই সময় পাড়ায় কোন সমস্যা হলে পাড়ার ছেলেদের ডাক পড়ত। এখনকার মত তখন পিচের রাস্তা ছিলোনা আমাদের পাড়াতে। ছিলো কাঁচা মাটির রাস্তা। রাস্তার দুপাশে কাঁচা নর্দমা। বর্ষায় নর্দমার জল উপছে রাস্তা ভেসে যেত। বৃষ্টি থেমে গেলে সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা মুশকিল হত। কাদায় ভর্তি হয়ে থাকত গোটা রাস্তাটা। লোকে জুতো বা চটি খুলে হাতে নিয়ে ঐ রাস্তাটুকু পার হয়ে যেত। চটি ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা ছিলোনা ।
বর্ষাকালে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করার সমস্যা হচ্ছে দেখে পাড়ার কয়েকজন বয়ঃজ্যেষ্ঠ আমাদের বললেন, রাস্তায় ইঁট পাতার বন্দোবস্ত কর। এভাবে যাতায়াত করা যায়না।
কিন্তু ইঁট কোথায় পাবো?
কেন? পাড়াতে কত নতুন নতুন বাড়ি হচ্ছে, তারা দিতে পারবে না?
কিন্তু তারাই বা এতগুলো ইঁট দেবে কেন? রাস্তা তো সকলের।
না দিলে রাত্রি বেলা তোরা গিয়ে নিয়ে আসবি। ভালো কাজের জন্য নিলে তাকে চুরি করা বলে না।
বয়ঃজ্যেষ্ঠরা যে সব উপদেশ দেন, তা যে সব সময় গ্রহণযোগ্য হবে তার কোন মানে নেই। আমরা চাঁদা তুলে ইঁট কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। চাঁদা তুলতে বেরিয়েছি আমরা দুই বন্ধু। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী শ্রী রমেন্দ্র নাথ মুখার্জীর বাড়ি থেকে শুরু করলাম। দরজা খুলে বেরলেন মুখার্জী কাকীমা, অর্থাৎ রমেন কাকুর স্ত্রী। কাকীমা আমাদের ডেকে বললেন, ‘আয় আয়, তোদের কথাই ভাবছিলাম। এ পাড়ায় আর থাকা যাবেনা দেখছি। কিছু একটা ব্যবস্থা তোদের করা উচিৎ।’ আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘কী হয়েছে কাকীমা?’ কাকীমা আমাদের বাড়ির
ভেতরে ডাকলেন। বাড়ির ভেতরে ঢোকার পর কাকীমা বাইরের দরজাটা বন্ধ করে আমাদের বসতে বললেন। তারপর একটু গলা উঁচু করে বললেন, ‘ঝিণি সমীরণ আর দিলীপ এসেছে। ওদের জন্য দুকাপ চা করে নিয়ে আয়।’ কাকীমার মেয়ের নাম ঝিণি, দেখতে মন্দ নয়। মাধ্যমিক পরীক্ষাটা এর মধ্যে ওর বার দুয়েক দেওয়া হয়ে গেছে। নিন্দুক প্রতিবেশীদের সংখ্যা তো কম নেই। তাঁদের অভিমত, “সুকুমার রায় এই সময় বেঁচে থাকলে নির্ঘাত ‘সৎপাত্রী’ নামে একটি কবিতা লিখে ফেলতেন।” কাকীমা নিজের গলার স্বর নীচু করে আমাকে বললেন, ‘নিমাইবাবুর ছেলে রতন, আর তার বন্ধু দিপু, এদের জ্বালায় তো পাড়া ছাড়া হতে হবে দেখছি।’ আমি জানতে চাইলাম, ‘কেন কাকীমা? কি করেছে ওরা?’ কাকীমা বললেন, ‘আগে পাঁচিল ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে, গাছে উঠে অসভ্যতা করত। তোমার কাকু ওদের বাড়িতে গিয়ে একদিন জানিয়ে এসেছিলেন। তার ফলে বাড়িতে ওদের উপদ্রব বন্ধ হল ঠিকই। কিন্তু তার কিছুদিন পর থেকে ওরা বাইরে অসভ্যতা করতে শুরু করেছে।’ জানতে চাইলাম ‘বাইরে কি ধরনের অসভ্যতা করছে ওরা ?’ কাকীমা বললেন, ‘পরশু তোমার কাকু যখন অফিস থেকে ফিরছিলেন, ওরা তখন পেছন থেকে ধাক্কা দেয় তোমার কাকুকে। তুমিতো জান এই অঞ্চলের রাস্তায় প্রায়দিনই আলো জ্বলেনা। তোমার কাকু ওদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান। হাত-পা ছড়ে যায়। আরেকটু হলে চশমাটা ভাঙছিল।’ কাকীমার কথা শুনতে শুনতে আমার মনে হল এর একটা বিহীত অবশ্যই করা দরকার। ‘ব্যাপারটা আমরা দেখছি’ বলে উঠে পড়লাম।
রতন ক্লাস নাইন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে একসাথে একই ইস্কুলে পড়ত। আমাদের বাড়িও একেবারে পাশাপাশি। ক্লাস নাইন থেকে টেন-এ ওঠার বার্ষিক পরীক্ষায় রতন পাশ করতে পারেনি। তার ওপরে রতনের করা অন্যায় তো একটা নয়। প্রায় দিনই মাস্টার মশাইরা ভুরি ভুরি অভিযোগ করতেন, রতন এই করেছে, রতন ঐ করেছে।
হেডমাস্টার মশাই- এর অলিখিত নির্দেশে মাস্টার মশাইয়েরা ছাত্রদের আচার-আচরণ এবং পড়াশুনো দুটোর দিকেই বিশেষভাবে নজর রাখতেন। তিনি বলতেন, বিদ্যা মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। যার আচরণে বিনয়ী ভাব নেই, তার শিক্ষা আদৌ হয়ে ওঠেনি; যতই বড় বড় ডিগ্রী থাকুক না কেন।
প্রত্যেকদিন একই ছাত্র সম্পর্কে অভিযোগ শুনতে শুনতে হেডমাস্টার মশাই একদিন “গার্জেন্স মিটিং” ডেকে বসলেন। গার্জেন্স মিটিং -এ সেইসব ছাত্রের অভিভাবককেই ডাকা হত, যার সম্পর্কে মাস্টার মশাইদের অভিযোগের গুরুত্ব অনেক বেশী। সেই হিসেবে একমাত্র রতনের অভিভাবককেই ডাকা হয়েছিল। গার্জেন্স মিটিং-এর দিন হেডমাস্টার মশাই তাঁর অফিসে সহকারী প্রধান শিক্ষক, মৃণ্ময় স্যান্যাল মশাইকেও ডেকে নিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে রতনের অভিভাবক এসে পৌঁছলে, হেডমাস্টার মশাই ইস্কুলের দপ্তুরীকে দিয়ে ক্লাস থেকে রতনকে ডেকে পাঠালেন। একটু পরেই রতন এসে ঢুকল, ‘জেঠু আমায় ডেকেছো?’ বলে হেডমাস্টার মশাই- এর অফিস ঘরের দরজায় ঝোলানো ভারী পরদাটা পাকিয়ে হাতে ধরে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল। হেডমাস্টার মশাই একবার তাঁর অফিস ঘরে উপস্থিত সকলের মুখের দিকে দেখলেন। তারপর রতনের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। হেড মাস্টার মশাইয়ের সাথে কেউ এই ভাবে কথা বলছে, বিশেষ করে তাঁরই এক ছাত্র, তিনি এই দৃশ্য কল্পনা করতে পারছিলেন না। তিনি রতনের বাবার হাতে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের স্কুলের এ হেন হেডমাস্টার মশাই ছিলেন আমার বাবা। অধিকাংশ অভিভাবকরা সেই সময় আমার বাবার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, মানুষ হিসেবে তিনি যাই হোন না কেন, হেডমাস্টার হিসেবে আরো সংবেদনশীল হওয়া উচিৎ ছিল। রতনের বাবারও সেই একই অভিমত। তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষায় না হয় এক বছর ফেল করেছে। আরো এক বছর কি একই ক্লাসে রেখে দেওয়া যেত না? তাতে শিক্ষার ভিতটা পাকা হত। বাচ্ছারা তো দুষ্টুমী করবেই। তাই বলে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে? পরে অবশ্য বাবা বলেছিলেন,‘আদতে আমি হেরে গেছি। ওর মধ্যে পড়ার আগ্রহ গড়ে তুলতে পারিনি। ওকে শিক্ষা দিতে পারিনি। ওকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজের হারটাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষক হিসেবে কাজটা ভালো করলাম না।’
বাইরে বেরিয়ে এসে আমাদের কি করা উচিৎ ভাবতে ভাবতে হাঁটা শুরু করলাম। পথে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হল। তাকে সংক্ষেপে বললাম ঘটনাটা। এমন সময় দেখি রতন আসছে। আমার সেই বন্ধুটি ওকে ডাকল। রতন তাই শুনে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, ‘যা বলার এখানে এসে বলে যা।’ এরপর সব কিছু খুব দ্রুত ঘটে গেল। আমার বন্ধু রতনের কাছে গিয়ে সপাটে এক চড় মারলো ওর গালে। রতন চড় খেয়ে গালে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, ‘আমাকে মারলি? দাঁড়া তোদের দেখাচ্ছি।’ এই কথা বলে সে চলে গেল। আমার বন্ধুটি হঠাৎ রেগে গিয়ে মারলো কেন আমি বোঝবার চেষ্টা করছি তখন। বন্ধু নিজেই ব্যাখ্যা করল, ‘অন্যায় করে আবার মেজাজ দেখাচ্ছে। এত সাহস ওর?’ আমি বললাম, ‘না মারলেই পারতিস।’ এমন সময় দেখলাম রতন, দিপু তাদের বাবা-মা ভাই-বোন সবাইকে নিয়ে আমাদের দিকে আসছে। আমাদের কাছে এসে রতনের বাবা আমাকে বললেন, ‘রতনকে তোমরা মেরেছো কেন?’ আমি উত্তেজিত হয়েই ছিলাম। বললাম, ‘ছেলেকে নিজেরা শাসন না করতে পারলে, পাড়ার লোকে শাসন করবে এটাই তো স্বাভাবিক।’ আমার কথা শুনে রতনের বাবা আমার কাছে রতন কি করেছে তা জানতে চাইলেন। আমি ওনাকে মুখার্জী কাকীমার কাছ থেকে ওরা যা যা করেছে বলে শুনেছি তাই বললাম। রতনের বাবা আমাকে ওনার সাথে যেতে বললেন। সব কথা তিনি মুখার্জী কাকীমার মুখ থেকে শুনতে চান। আমি ওদের সাথে গেলাম মুখার্জী কাকীমার বাড়ি। কড়া নাড়লাম। কিন্তু কেউ দরজা খুলল না ।
মুখার্জী কাকীমা দরজা না খোলার ফলে রতন চোখে মুখে একরাশ রাগ আর আক্রোশ নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে এল, ‘এবার কিন্তু লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে ফেলব।’ আমরা চুপ করে ওর আস্ফালন আর ওর বাবার নিঃস্পৃহ হয়ে থাকা দেখছিলাম তখন । তবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে দরজা খুলে কাকিমা বেরিয়ে এলেন।
রতনের বাবা সরাসরি কাকীমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি আমার ছেলেকে শাসন করার জন্য এদের বলেছেন?’ নিজের নিকটতম প্রতিবেশীর কাছ থেকে এমন প্রশ্নের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। এর ওপরে প্রতিবেশী ছেলেটির যা কর্মকান্ড, সে কথা তিনি পাড়াতে বলে বেড়িয়েছেন বলে স্বীকার করলে কী ঘটতে পারে এই ভেবে কাকীমার মুখের ওপরে কিসের যেন একটা ছায়া এসে পড়ল। অন্য কেউ দেখতে পেল কিনা জানিনা। তবে আমি লক্ষ্য করেছিলাম। কাকীমা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বললেন, ‘এই ধরনের কোন কথা কারোর সাথে আমার হয়নি।’ এবার রতন উত্তেজিত হয়ে আমাকে বলল, ‘সবার সামনে কান ধরে কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
অরুণাভ অনেকক্ষণ ধরে মাস্টার মশাইকে লক্ষ্য করছিল। এমনিতেই মাস্টার মশাইয়ের কথা শুনতে শুনতে মনটা বিষণ্ণ হয়ে রয়েছে। তার ওপরে, মাস্টার মশাই ছেঁড়া জুতো হাতে নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ওর সাথে হাঁটছেন। অরুণাভর ভালো লাগছিল না। খুব রাগ হচ্ছিল মিউনিসিপ্যালিটির ওপরে। বছরের পর বছর রাস্তা সারাবে না, রাস্তায় লাইট লাগাবে না। কি করে টাকাগুলো দিয়ে? মাস্টার মশাইয়ের জন্য কিছু একটা তো করা উচিৎ। কিন্তু কিছু করতে গেলে যে উনি তা গ্রহণ করবেন না, অরুণাভ সেটা খুব ভাল করে জানে। বলবেন, ‘আমার তো এটার প্রয়োজন নেই’। অরুণাভ মনে মনে ভাবল, গুরুদক্ষিণার প্যাঁচে যদি মাস্টার মশাইকে বাগে আনা যায়। সমীরণ অরুণাভর গুরুদক্ষিণা দেবার প্রস্তাব শুনে বলল, ‘একান্তই যদি গুরুদক্ষিণা দিতে চাস, তাহলে একটা কাজ কর। অনেক বছর ধরে বকেয়া পড়ে আছে তোদের প্রপার্টি ট্যাক্স। টাকাগুলো পেমেন্ট করে দে তারাতারি। তোদের মত অনেকেই আমাদের পাড়ায় আছে, যাদের প্রপার্টি ট্যাক্স অনেক বছর ধরে বকেয়া পড়ে আছে। তারা আর্থিক দিক থেকে যথেষ্ট সক্ষম। নাম বললে চিনবি তাদের। দীর্ঘ দিন বকেয়া রেখেছে কাগজে কলমে দুঃস্থ প্রমাণ করার জন্য। এরজন্যে মিউনিসিপ্যালিটির লোককে তারা মিষ্টি খেতে অনেক টাকা দেয়। তবু সময় মত মিউনিসিপ্যালিটিকে ট্যাক্সের টাকা দেয় না। মিউনিসিপ্যালিটির হাতে টাকা না থাকলে রাস্তাঘাট সারাবেই বা কি করে?
কথায় কথায় ওরা নিজেদের পাড়ায় পৌঁছে যায়। সামনের বাঁ দিকের রাস্তা ধরে সমীরণকে চলে যেতে হবে। যাবার আগে সে তার ছাত্রকে গুরুদক্ষিণা দেবার কথাটা আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে, অন্যকে দায়ী করার আগে নিজের দায়িত্ব পালন করাটা খুব জরুরী।
Friday, December 16, 2022
মাধ্যমিক পাস যোগ্যতায় কয়েক হাজার শূন্যপদে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনে কর্মী নিয়োগ | Indian Oil Recruitment 2022 || IOCL Recruitment 2022 || www.iocl.com/apprenticeships
প্রত্যেক দেশবাসী জানেন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড একটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পাবলিক সেক্টর। যেটি ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ পেট্রোলিয়াম এন্ড ন্যাচারাল গ্যাস দপ্তরের অন্তর্ভুক্ত। প্রায় 56,000 এর বেশি গ্রাহকদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কোণায় জ্বালানি সরবরাহ করে চলেছে এই কোম্পানি।
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড তরফ থেকে কয়েক হাজার অ্যাপ্রেন্টিস শূন্যপদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ভারত সরকারের তরফ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই অ্যাপ্রেন্টিস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ট্রেনিং চলাকালীন প্রতিটি প্রার্থীকে পর্যাপ্ত অর্থের স্টাইপেন্ড প্রদান করা হবে। ট্রেনিং শেষে পাবেন স্থায়ী চাকরি। প্রতিটি শাখায় বিনামূল্যে ১ থেকে ১.৫ বছরের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েক হাজার শূন্যপদে গ্ৰুপ ডি সহ আরও অন্যান্য ধরনের কর্মী নিয়োগ করা হবে। চাকরি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ বিবরণ নীচে আলোচনা করা হল -
শূন্যপদ গুলির নাম:-
Indian Oil corporation limited এ যে সব শূন্যপদে নিয়োগ হবে সেগুলি হল-
• Technician Apprentice (Civil, Fitter, Machinist)
• Graduate Apprentice
• Trade Apprentice (Data Entry Operator)
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স সীমা:-
Trade Apprentice (Data Entry Operator)-
স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমতূল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সেই সঙ্গে NCVT/SCVT অনুমোদিত যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ২ বছরের ITI কোর্স Complete করে থাকতে হবে।
এক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স ১৮-২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মানুযায়ী বয়সের ছাড় পাবেন।
Technician Apprentice (Civil, Fitter, Machinist)-
কোনো সরকারি অনুমোদিত ইউনিভার্সিটি থেকে Civil Engineering এ অন্তত পক্ষে ৫০% নম্বর পেয়ে ৩ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স Complete করে থাকতে হবে। তবে সংরক্ষিত প্রার্থীরা ৪৫% নম্বর পেয়ে থাকলেই আবেদন করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স ১৮-২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মানুযায়ী বয়সের ছাড় পাবেন।
Graduate Apprentice-
সরকারি কলেজ থেকে কমপক্ষে ৫০% নম্বর পেয়ে BA/B.Com/B.Sc পাস করে থাকতে হবে। তবে সংরক্ষিত প্রার্থীরা ৪৫% নম্বর পেয়ে থাকলেই আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
এক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স ১৮-২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মানুযায়ী বয়সের ছাড় পাবেন।
আবেদন পদ্ধতি:-
শুধু মাত্র অনলাইন এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
১) প্রথমে এই Indian Oil corporation limited এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.iocl.com/apprenticeships এ প্রবেশ করতে হবে।
২) এরপর সেখানে Apply now Option এ ক্লিক করলে একটি অ্যাপ্লিকেশন ফর্মের আকারে একটি নতুন window open হবে।
৩) এরপর সেখানে আপনার নিজের নাম, বাবা মায়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেন্ডার, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, একটি বৈধ ইমেল আইডি ও ফোন নাম্বার ইত্যাদি দিয়ে সঠিক ভাবে ফর্ম টিকে ফিলাপ করতে হবে।
৪) এরপর এক কপি পাসপোর্ট রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ফটো, আগে থেকে করে রাখা একটি সিগনেচার, সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার ডকুমেন্টস সহ অন্যান্য সব ডকুমেন্টস এর ছবি তুলে স্ক্যান করে আপলোড করে দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই অ্যাপ্লিকেশান complete।
৫) সবশেষে এই ফিলাপ করা অ্যাপ্লিকেশান ফর্মের একটি প্রিন্ট আউট বের করে নিজেদের কাছে রেখে দেবেন।
গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট-:-
অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার সময় যে সব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট লাগবে সেগুলো হল-
১) মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেট স্ক্যান করা।
২) শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কসীট ও সার্টিফিকেট স্ক্যান করা।
৩) আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড স্ক্যান করা।
৪) এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ফটো স্ক্যান করা।
৫) প্যান কার্ড স্ক্যান করা।
৬) কাস্ট সার্টিফিকেট যদি থাকে তাহলে স্ক্যান করা।
৭) cancel চেক বা ব্যাঙ্কের পাস বুকের প্রথম পাতা স্ক্যান করা।
নির্বাচন পদ্ধতি:-
সবার প্রথমে হবে একটি কম্পিউটার বেসড পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন তাদেরকে শর্টলিস্ট করে ইন্টারভিউ লেটার পাঠিয়ে ইন্টারভিউ ও ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন এর জন্য ডাকা হবে। শেষ পর্যন্ত এই ইন্টারভিউ তে যারা পাস করবেন তাদেরকে সরাসরি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে।
আবেদনের সময় সীমা:-
আবেদন শুরু - ১৪/১২/২০২২
আবেদন শেষ - ০৩/০১/২০২৩
OFFICIAL NOTICE:
OFFICIAL WEBSTE:
______________________________________________
চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
Telegram group-
Whatsapp group-
Thursday, December 15, 2022
রাজ্যে ICDS এ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা পদে নিয়োগ || WB ANGANWADI Helper, Worker Recruitment 2022 || ICDS Karmi Recruitment 2022 || ICDS Worker New Recruitment in Murshidabad
Friday, December 9, 2022
Water ways Recruitment 2022-23 || কেন্দ্রীয় জলদপ্তরে কর্মী নিয়োগ 2022-23 || IWAI Recruitment 2022-23
Thursday, December 8, 2022
উপন্যাস - পদ্মাবধূ || বিশ্বনাথ দাস || Padmabadhu by Biswanath Das || Fiction - Padmabadhu Part -30
দাঁড়াও মুকুল, তুমি আমাকে তোমার মন থেকে দূরে সরিয়ে দিলেও আমি তোমাকে সরাতে পারব না। তবে ঐ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাও তোমার কাছে কিভাবে প্রতারক হলাম।
Wednesday, December 7, 2022
ছোট গল্প - একটু সাবধান || লেখক - সুমিত রায় || Written by Ektu Sabdhan || Short story - Sumit Roy
একটু সাবধান!
সুমিত রায়
ক্লাবে কয়েকদিন ধরে প্রতুলবাবু সান্ধ্য আড্ডায় অংশ নিচ্ছেন না দেখে, ক্লাব সম্পাদক মৃনালবাবু ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন- না আসার কারণ। উত্তরে জানলেন, কয়েকদিন যাবৎ পেটে প্রচন্ড যন্ত্রণা। এপেনডিক্সের ব্যথা সন্দেহে বাজার থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। ডাক্তার এখনও দেখাননি। মৃনালবাবু ফোনটা রেখে দিলেন!
মৃনালবাবু ক্লাবের অন্য দুই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে চললেন প্রতুলবাবুর বাড়ি। প্রতুলবাবুর বাড়িতে গিয়ে তিনি রেগে গেলেন-যখন শুনলেন, একই ওষুধ দশ দিন ধরে বাড়ির পাশের ফার্মেসি থেকে কিনে কিনে খাচ্ছেন, ডাক্তার দেখানোর কোন নাম গন্ধ নেই। নিজে নিজেই বলছেন,-' এপেনডিক্সের ব্যথা।'
কি আশ্চর্য ব্যাপার! এই অবস্থায় কেউ ডাক্তার না-দেখায় থাকতে পারে কীভাবে? আগামীকাল ডাক্তার দেখানোর কথা জোর করে বললেন মৃণালবাবু।
পরের দিন মৃণালবাবু , প্রতুলবাবুকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল কলেজে গেলেন। সেখানে নানা পরীক্ষা করার পর জানা গেল, প্রতুলবাবু পেটের ব্যথা নিয়ে যে সন্দেহ করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ ভুল সন্দেহ। আরও কিছুদিন এরকম এপেনডিক্সের ব্যথা সন্দেহে ওষুধ খেলে- সমস্যা অন্য দিকে মোড় নিত, অন্য কোনো কঠিন রোগের শিকারী হয়ে যেতেন প্রতুলবাবু।উনার পেটের ব্যথার কারণ হিসেবে ধরা পরল গ্যাস্ট্রিক। কয়েকদিনের চিকিৎসায় প্রতুলবাবু সুস্থ হয়ে উঠলেন। বাড়ি ফিরলেন।
আজ রোববার, অনেকদিন পর প্রতুলবাবু ক্লাবের সান্ধ্য আড্ডায় আবার যোগ দিলেন। হাসি-ঠাট্টা চলল আগের মতন। ক্লাব সম্পাদক মৃনালবাবুর পরামর্শে ডাক্তার না দেখালে, না জানি কী বড় বিপদের সম্মুখীন হতেন-তা অকপটে স্বীকার করলেন ক্লাব সদস্য প্রতুলবাবু। নিজে নিজে রোগের সন্দেহ করে ওষুধ খাওয়া যে একেবারেই ঠিক নয়, তা কত বড় যে অন্যায়, সেটি হাঁড়ে হাঁড়ে বুঝতে পারলেন- প্রতুল বাবুসহ ক্লাবের আরও অনেক সদস্য।
মৃনালবাবু হাসতে হাসতে প্রতুলবাবুকে বললেন,-"প্রতুল দাসকে কতটা উৎফুল্ল লাগছে! আজ অনেকদিন পর আমাদের সান্ধ্য আড্ডায় এসেছে, প্রতুল। প্রতুল, তুমি এতটা শিক্ষিত হয়ে কীভাবে এপেনডিক্সের ব্যথা সন্দেহে পেট ব্যথা নিয়ে বাড়িতে এতদিন কষ্ট করছিলে? -এটা ভাবলেই তোমার উপর আমার প্রচন্ড রাগ হয়। তুমি কি এটাও ভুলে গেছিলে, যে কোন রোগের উপযুক্ত ওষুধ একমাত্র দিতে পারেন স্বয়ং ডাক্তার। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের রোগের ওষুধ ঠিক করে ফেলি, তাহলে ডাক্তাররা আছেন কী জন্যে? তুমি যে পেটের ব্যথাকে এপেনডিক্সের ব্যথা সন্দেহে ওষুধ খেয়ে যাচ্ছিলে দীর্ঘদিন, তাতে কি সর্বনাশ হতে পারতো, তা কখনো ভেবেছো?তোমার পরিবারের দিকে তুমি একটিবারও চিন্তা করোনি? কপাল ভালো মেডিকেল কলেজে তোমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। না হলে একটা ভয়ঙ্কর বিপদ হয়তো আমাদের সামনে এসে দাঁড়াত।
নিজে নিজেই রোগ সন্দেহ করে ওষুধ খেয়ে কী সর্বনাশ ঘটেছিল আমার অফিসের এক সহকর্মীর, যেটা আমি খুব ভালোভাবে জানি। সেটাই তোমাদের আজ বলব-
অনিমেষ দত্ত, আমার অফিসের করণিক। আমার থেকে কয়েক বছরের বড়।সব বিষয়ে তার মাতব্বর ভাব কাজ করতো, এটা আমরা অফিসের সকলেই কয়েক বছরের মধ্যেই পুরোপুরি বুঝতে পেরেছিলাম। এইজন্য উনাকে আমরা কেউ কোন পরামর্শ দিতে যেতাম না। অনেকদিন ধরে তার ঘাড়ে ব্যথা, জিজ্ঞেস করলে বলতেন, -'স্পন্ডালাইসিস এর ব্যথা।'
কোন ডাক্তার দেখাতে চাইতেন না, ব্যথা বাড়লে ফার্মেসি থেকে ব্যথা কমানোর ওষুধ এনে খেতেন। ব্যথা কমলেই আবার যেই আর সেই। ডাক্তার দেখানোর কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই।
এরকমভাবে কয়েক বছর কেটে যায়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা দুই থেকে চার-এ পৌঁছায়। ধীরে ধীরে ঘাড়ের ও কোমরের ব্যথা বাড়তে থাকে। ব্যথা কমানোর ওষুধ খান।বেশ কিছুদিন ভালো থাকেন, তারপর আবার ব্যথা শুরু হয়।
গত দু'বছর আগে, একটু একটু শীত পড়তে শুরু করেছে । একনাগাড়ে বেশ কয়েকদিন আসছেন না অনিমেষ বাবু। জানতে পারলাম ঘাড় ও কোমরের অসহ্য ব্যথায় বাড়িতেই আছেন। কিন্তু সেবারের ব্যথার লক্ষণ একটু আলাদা রূপে দেখা দেয়। হাত-পা ক্রমশ অবশ হয়ে যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে হাত-পায়ের জোর হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। হাঁটতে পারতেন না। হাত দিয়ে কোন কিছু খেতে পারতেন না। একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। চিন্তার মধ্যে পড়ে গেল বাড়ির সকলে।
করণিক পদে চাকরি, আর্থিক স্বচ্ছলতা সেরকম ভাল না। কি করবেন একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করতে লাগল পরিবারের মধ্যে।
একমাত্র বাড়ির ফাঁকা কিছুটা জায়গার, বিক্রির টাকায় অবশেষে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে যাওয়া হল। সঙ্গে আমি গিয়েছিলাম। ব্যাঙ্গালোরে নামকরা নার্ভের চিকিৎসালয়ে অনিমেষবাবুর চিকিৎসা আরম্ভ হল। প্রাথমিক পর্যায়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে অনিমেষবাবুর সঠিক চিকিৎসার পথ খুঁজে চলছেন চিকিৎসকেরা।
আমি চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করেছিলাম,-'স্যার আপনার কী সন্দেহ হয়?
'সন্দেহ! সন্দেহ করে কিছু বলা যায় না, পরীক্ষা চলছে, রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে- কী হয়েছে উনার।' কিছুটা জোর গলায় বললেন চিকিৎসক।
আমরা হসপিটালের পাশে যে ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলাম, সেই ঘরে যাওয়ার রাস্তায় অনিমেষবাবুকে যে চিকিৎসক দেখছিলেন তার সাথে দেখা হয়ে যায় একদিন। আমাকে চিন্তাম্বিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ডাক্তারবাবু হাঁটতে হাঁটতে নিজেই বললেন,-'আপনার পেশেন্টের ভয়ের কোন কারণ নেই। উনার ঘাড়ে ব্যথা দুটো কারণে হতে পারে, একটি টিউমারের ব্যথার কারণে , অন্যটি টি.বি.। মেরুদন্ডে অনেক ধরনের টি.বি. হয়। আগে অনেক বেশি হত, তবে এখন আমাদের সৌভাগ্য যে টি বি. অনেক কমে গেছে। অনেকে বুঝতে পারেন না, হাঁড়ে আবার কেন টি.বি. হবে।সাধারণ লোকের ধারণা কেবল ফুসফুসে টি.বি. হবে। কাজেই তাদের জেনে রাখা উচিত টি.বি. কিন্তু হাঁড়েও হয়। হাঁড়ে টি.বি হলে সেখান থেকেও ঘাড়ে ও কোমরে ব্যথার সূত্রপাত হয়।
এছাড়া আমাদের ঘাড়ে ও কোমরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে লিম্ফোয়েড গ্রন্থি, যেগুলোতে টি.বি. সংক্রামিত হয়। সংক্রামিত এই লিম্ফোয়েড গ্রন্থিগুলো এক সঙ্গে মিশে জোড়া পাকিয়ে যায়। মিশে জোড়া পাকানো লিম্ফোয়েড গ্রন্থির এই অবস্থাকে আমরা বলি- ম্যাটেট লিম্ফোয়েড, তখন এগুলোতে প্রচন্ড ব্যথা হতে থাকে। সেই ব্যথাই ঘাড়ে ও কোমরে প্রকাশ পায়।'
পুরো দুদিন পর সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এলে জানা গেল অনিমেষবাবুর আর্থ্রাইটিস হয়েছে। সেই রোগের চিকিৎসা চলে প্রায় দশ দিন ধরে। অনেকটাই সুস্থতা ফিরে পেলে, অনিমেষবাবুর বাড়ি ফেরার অনুমতি মিলল।
অনিমেষবাবুর ছুটির পর চিকিৎসক আমাদের বলেছিলেন, -'আপনারা কোন রোগের সন্দেহবশত ওষুধ খাবেন না। আজকে এই পেসেন্ট স্পন্ডেলাইসিস সন্দেহে যে ওষুধ খেয়েছিলেন, সেটি যদি আরও কিছু দিন খেতেন, তবে তার নার্ভ কার্যক্ষমতা হারিয়ে- উনাকে পঙ্গু করে ফেলত। ঈশ্বর সহায় উনি এখানে এসেছেন এবং সঠিক রোগের চিকিৎসায় উনি সুস্থ হচ্ছেন এবং আগামীতে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।'
আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম চিকিৎসকের কথা শুনে। ওই চিকিৎসকের ওই কথাগুলো আমি আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলছি। অসুস্থ অনুভব করলেই, ডাক্তার না দেখিয়ে ওষুধ খাই না। আমার সহকর্মীকে সেদিন যদি ব্যাঙ্গালোরে না নিয়ে যাওয়া হত, তবে ভুল ওষুধের দাপটে তাকে আজ পঙ্গু হয়ে থাকতে হতো। আমি ক্লাবের প্রত্যেক সদস্যের উদ্দেশ্যে বলছি - শরীরের কোন জায়গায় ব্যথা হলে, আপনারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন। আপনাদের যত পরিচিতি মহল রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে এই কথাটি মানতে বলবেন।
আজকের সান্ধ্য আড্ডাটা একটু অন্যরকম ভাবে পালন করলাম।আগামীতে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আমরা সকলের সামনে তুলে ধরব।"







