Thursday, December 29, 2022

বিশ্ব ও ভারতের প্রথম ব্যাক্তিত্ব || General Knowledge part -1 || Gk Bengali part -1 || All 1st Person Name List in Bengali

 



১.প্রথম ও শেষ গভর্নর জেনারেল :-  লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং ও রাজা গোপালাচারী।

 

২.প্রথম ভাইসরয়  :- লর্ড ক্যানিং।


৩.স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল :- লর্ড মাউন্টব্যাটেন।


৪.স্বাধীন ভারতের শেষ এবং ভারতীয় গভর্নর জেনারেল :- চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী।


৫.প্রথম রাষ্ট্রপতি :-  ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ।


৬.প্রথম উপরাষ্ট্রপতি :- ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান।


৭. প্রথম প্রধানমন্ত্রী :- পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু।


৮. প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী :- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।


৯. প্রথম নির্বাচন কমিশনার:- সুকুমার কুমার সেন।


১০. লোকসভার প্রথম অধ্যক্ষ:- জি.ভি. মাভালঙ্কার ।


১১.সুপ্রীম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি :- জাস্টিস হীরালাল জে কানাইয়া।


১২. রাজ্যসভার প্রথম অধ্যক্ষ :- ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান।

 

১৩.স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় কমান্ডার ইন চিফ :- জেনারেল কে.এম.কারিয়াপ্পা।


১৪.প্রথম ফিল্ড মার্শাল :- এস.এইচ.এফ.জে. মানেকশ।


১৫.প্রথম আই সি এস অফিসার :- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


১৬. প্রথম ভারতীয় এভারেস্ট জয়ী :-তেনজিং নোরগে।


১৭.এভারেস্ট,উত্তরমেরু ও দক্ষিণ মেরু জয় করেছেন :- সত্যব্রত দাম।


১৮.প্রথম ভারতীয় ইংলিশ চানেল অতিক্রম করেন :- মিহির সেন।


১৯. প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী :- রাকেশ শর্মা।


২০. প্রথম হাইকোর্টের বিচারপতি :- শম্ভুনাথ পন্ডিত।


২১. প্রথম ব্যারিস্টার :- জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর।


২২. প্রথম গ্রাজুয়েট :-   বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও  যদুনাথ সরকার।


২৩.প্রথম ভাইসরয় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলেন সদস্য :- এস.পি. সিনহা।


২৪.প্রথম ব্রিটিশ পর্ণমেণ্টের সদস্য :- দাদাভাই নুরুজি।


২৫. প্রথম অস্কফোর্ডের ভারতীয় অধ্যাপক :-ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ ।


২৬.প্রথম ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট :-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


২৭.প্রথম ভাইসব চ্যান্সেলর :- স্যার গুরুদাস বন্দোপাধ্যায়।


২৮.প্রথম লন্ডনে রয়েল আর্টিস্ট সভার সদস্য :- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 


২৯.প্রথম ব্যঙ্গচিত্র ভারতীয় শিল্পী :-গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর ।


৩০.ভারতের মাটিতে প্রথম শহীদ :- মঙ্গল পান্ডে।


৩১.বিদেশের মাটিতে প্রথম শহীদ :- মদনলাল ধিংড়া।


৩২.প্রথম ভারতীয় নোবেল পুরস্কার প্রাপক :-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


৩৩.প্রথম ভারতীয় অস্কার পুরস্কার প্রাপক :-সত্যজিৎ রায়


৩৪.প্রথম ভারতীয় পরমবীর চক্র পুরস্কার প্রাপক :- মেজর সোমনাথ শর্মা।


৩৫.প্রথম ভারতরত্ন পুরস্কার প্রাপক :- ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।


৩৬.প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপক :- জি.শঙ্কর কুরুপ।


৩৭.প্রথম দাদাসাহেব পুরস্কার প্রাপক :-শ্রী বি.এন.সরকার ।


৩৮. প্রথম ভারতের বাইরে অভিনয় করে:-শিশির কুমার ভাঙ্গুড়ী।


৩৯. প্রথম ভারতের বাইরে নৃত্যকলা প্রদর্শন করেন:-উদয় শংকর।


৪০. প্রথম ইংরেজি ভাষায় কবিতা লেখেন :-মাইকেল মধুসুদন দত্ত।


৪১. প্রথম বিলেতযাত্রী:-রাজা রামমোহন রায়।


৪২. প্রথম আন্তর্জাতি বিচারালয়ের বিচারপতি:-ডঃ নগেন্দ্র সিং।


৪৩. প্রথম ম্যাগসাসাই পুরস্কার প্রাপক:-আচার্য বিনোভাভাবে।


৪৪. প্রথম রাষ্ট্রপতি :- শ্রীমতি প্রতিভা দেবী সিং পাটেল ।


৪৫. প্রথম রাজ্যপাল :-  শ্রীমতি সরোজিনী নাইডু।


৪৬. প্রথম প্রধানমন্ত্রী :- শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী।


৪৭. প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী :-শ্রীমতী রাজকুমারী অমৃতা কাউর


৪৮. প্রথম মুখ্যমন্ত্রী :- শ্রীমতি সুচেতা কৃপালিনী।


৪৯. প্রথম রাষ্ট্রমন্ত্রী :- শ্রীমতী বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত।


৫০. সুপ্রিম কোর্টের প্রথম বিচারপতি :-জাস্টিন মীর সাহেব ফতেমাৰিবি


৫১. প্রথম হাইকোর্টের বিচারপতি :-আন্নাচন্ডী।


৫২. প্রথম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি :-জাস্টিস লীলা শেঠ।


৫৩. প্রথম রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার সভাপতি :-শ্রীমতী বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত।


৫৪. প্রথম আই .এ .এস. অফিসার :-আন্না রাজম জর্জ।


৫৫. প্রথম আই. পি. এস. অফিসার :-কিরণ বেদী।


৫৬. প্রথম এভারেস্ট জয়ী :-বাছন্দ্ৰী পাল ।


৫৭. প্রথম ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন :-আরতি সাহা।


৫৮. প্রথম ভারতীয় নোবেল পুরস্কার প্রাপক :-মাদার টেরেসা।


৫৯. প্রথম ভারতীয় অস্কার পুরস্কার প্রাপক :-ভানু আথাইয়া।


৬০.প্রথম ভারতরত্ন পুরস্কার প্রাপক :-শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী।


৬১. প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপক :-শ্রীমতী আশাপূর্ণা দেবী।


৬২. প্রথম দাদাসাহেব পুরস্কার প্রাপক :-শ্রীমতী দেবিকা রানি।


৬৩. প্রথম নির্বাচন কমিশনার :-শ্রীমতী ভি. এস. রমাদেবী।


৬৪. প্রথম মিস ওয়ার্ল্ড :-রিতা ফারিয়া।


৬৫.প্রথম মিস ইউনিভার্স :-সুস্মিতা সেন।


৬৬.প্রথম মহাকাশচারী :-ডঃ কল্পনা চাও। 


৬৭. প্রথম কংগ্রেস সভাপতি :-অ্যানি বেসান্ত। 


৬৮.প্রথম সংগীত শিল্পী যিনি পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, ভারতরত্ন ভর করেছেন :- শুভলক্ষ্মী।


৬৯.প্রথম চিত্রকর :-সুননী দেবী। 


৭০.প্রথম অভিনেত্রী যিনি পদ্মশ্রী ও রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছিলেন :-নার্গিস দত্ত।


৭১.প্রথম রাষ্ট্রদূত :-শ্রীমতী বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত।


৭২.প্রথম নোবেল পুরস্কা:-রবীন্দ্রনার ঠাকুর।


৭৩.প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান :-তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।


৭৪.প্রথম ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান :-অমিতাভ চৌধুরী।


৭৫.প্রথম অস্কার পুরস্কার পান :-সত্যজিৎ রায়।


৭৬.প্রথম বিলাজকারী :-রাজা রামমোহন রায়


৭৭.প্রথম তিব্বতে বৌদ্ধপ্রচারক :-অতীশ দীপঙ্কর।


৭৮.প্রথম বি. এ. পাশ :- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু।


৭৯. প্রথম আই সি এস হন :-সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


৮০. প্রথম ইঞ্জিনিয়ার :-নীলমনি মিএ ।


৮১.প্রথম ‘লড' উপাধি পান :-স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।


৮২. প্রথম জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি :-উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।


৮৩. প্রথম প্রাদেশিক গভনর :-লর্ড সত্যেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ।


৮৪. প্রথম জাতীয় অধ্যাপক :-সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।--


৮৫. প্রথম নৌবাহিনীর প্রধান :- অ্যাডমিরাল এ. কে.ব্যানার্জী।


৮৬. প্রথম স্থল বাহিনীর প্রধান :- জে, জয়ন্ত চৌধুরী।


৮৭. প্রথম বিমান বাহিনীর প্রধান :- এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জী।


৮৮. প্রথম হাইকোর্টের বিচারপতি :- রমাপ্রসাদ রায়।


৮৯. প্রথম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি :- স্যার রমেশ চন্দ্র মিত্র।


৯০. প্রথম কলকাতার মেয়র :-চিত্তরঞ্জন দাস ।



৯১. প্রথম শেরিফ :-দিগম্বর মিত্র।


৯২. প্রথম এম. আর. সি. পি. পরীক্ষায় প্রথম হন :-ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়।


৯৩. প্রথম বিদেশে ধর্ম প্রচার করেন :-স্বামী বিবেকানন্দ।


৯৪. প্রথম স্যার উপাধী পান :-চন্দ্রমাধব শেষে।


৯৫. প্রথম ব্রতচারী সংঘ প্রতিষ্ঠাকরেন :- গুরুসদয় দত্ত।


৯৬. প্রথম আই. সি .এস পদ ত্যাগ করেন :-সুভাষচন্দ্র বসু।


৯৭. প্রথম 'নাইট' উপাধি ত্যাগ করেন :-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


৯৮. প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক :-মাইকেল মধুসূদন দত্ত।


৯৯.প্রথম হিমালয়ের উচ্চতা মাপনকারী :- রাধানাথ শিকদার


১০০. প্রথম সাইকেলে ভ্রমণ :- রামনাথ বিশ্বাস।


_______________________________________


Pdf download link -

Click here 🔴


রাজ্যে প্রচুর ভলেন্টিয়ার কর্মী নিয়োগ || WB Volenteer Recruitment 2022-23 || Para Legal Volunteers Recruitment 2022-23


 


আমাদের রাজ্যে চাকরি প্রার্থীদের জন্য আবার নতুন সুখবর। নিয়োগ হতে চলেছে ভলেন্টিয়ার পদে।  অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের রাজ্যের যে কোনো জেলার প্রার্থীরা এখানে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। 
তাই বর্তমানে যেসমস্ত চাকরি প্রার্থী সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। কোন কোন পদে নিয়োগ করা হবে, মাসিক বেতন কত দেওয়া হবে, বয়সসীমা কত থাকতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা কি লাগবে এবং কিভাবে আবেদন করতে হবে তা নিচে থেকে পরপর জেনে নেব। 




Employment No- 83/DLSA

পদের নাম- Para Legal Volunteers


মোট শূন্যপদ- ৪৫ টি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা- উচ্চমাধ্যমিক পাশ।


বয়স- প্রার্থীর বয়স ১৮ বছরের উপরে হওয়া আবশ্যক। 


বেতন- দৈনিক বেতন ৫০০/- টাকা।



শূন্যপদের বিন্যাস-
 Bankura Sadar Sub Division– Bankura Sadar- 10, Bankura I- 1, Bankura II-2, Barjora-2, Chhatna-2, Gangajalghati-2, Mejia-2, Onda-2, Saltro-2, Khatra Sub Division- Khatra-2, Indpur-1, Hirbandh-1, Ranibandh-1, Raipur-1, Sarenga-1, Simlapal-1, Taldangra-1, Bishnupur Sub Division- Bishnupur-3, Indas-1, Joypur-1, Patrasayer-1, Kotulpur-1, Sonamukhi-1




আবেদন পদ্ধতি- 
এখানে আপনি অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। নিচে দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিটি ডাউনলোড করে আবেদন পত্রটি প্রিন্ট আউট বের করে নেবেন। সম্পূর্ণ আবেদন পত্র টি সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র, বায়োডাটা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংযুক্ত করে একটি মুখ বন্ধ খামে ভরে নির্দিষ্ট ঠিকানায় আবেদনপত্র জমা করতে হবে।



আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ঠিকানা- 
The Chairman, District Legal Service Authority, Bankura, Address- ADR Building, District Judge Court Compound, Bankura, Pin- 722101.



আবেদনের শেষ তারিখ- ২০ জানুয়ারি, ২০২৩




Official Notification: 

Official Website:

___________________________________________

চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন




Telegram group-





Whatsapp group-


Wednesday, December 28, 2022

উপন্যাস - পদ্মাবধূ || বিশ্বনাথ দাস || Padmabadhu by Biswanath Das || Fiction - Padmabadhu Part -32


 

বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে দেবীদাস সেদিন ঐ অবস্থায় কোন মতে থাকতে পারল না। বিছানায় শুয়ে সর্বদা ছটপট করতে থাকে। দেহের সমস্ত স্থানে যেন বিছুটির আঘাতে যন্ত্রণা অনুভব করছে। বুঝতে পারল যে, ঐ চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র হতে নিস্তার পাবার কোন উপায় নেই। অগাধ ধন দৌলত, টাকা কড়ি থাকা সত্বেও যে অভাবনীয় চিন্তা সারা মনকে ক্লান্ত করবে কোন দিন কল্পনা করেননি।


 সারারাত্রি কোন প্রকারে চোখ দুটোকে মুদতে পারল না। এতদিন পরে তার জ্ঞান চক্ষুর উন্মেষ ঘটলো কেন ঐ অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করেছিল সে? কেন এক নিষিদ্ধ পল্লীতে গিয়ে রাতের পর রাত কাটিয়ে ছিলো? এত সব ভাবলে কোন কাজ হবে না। থেকে এড়িয়ে যাওয়া সহজ নয়।

এক সময় চন্দ্রার মুখপানে তাকিয়ে দেখলো সে জেগে আছে। স্বামীর মনের কণ্ঠ সে বুঝতে পেরেছে তবু ও কোন কিছু বলার শক্তি পায় না। কারণ দেবী তার প্রতি অনেক অন্যায় আচরণ করেছে। ওর কোলে তিন বছরের কচি শিশু ময়না ঘুমাচ্ছে। অবোধ শিশুর পানে তাকাতেই চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। কোনদিন একটিবার কোলে নিয়ে আমোদ আল্লাদ করেনি। ভাগ্যহীনার প্রতি সর্বদায়ই কটাক্ষপাত ফেলেছে সন্দেহবশতঃ ওকে আপন মেয়ে নয় বলে ঘৃণার চোখে দেখেছে।

কিন্তু ওদের দুঃখ ক্লেশ দেখে মনটা একেবারে ভেঙ্গে গেলো। নিজেকে স্থির রাখতে পারল না সমস্ত অপরাধের বোঝা এসে উপস্থিত হয়েছে। দেবীদাস চিন্তা করে ময়নাকে একবার কোলে নিয়ে চুমু খাবে একটু আদর করবে। তাই ধৈর্য্য হারিয়ে ওর দিকে হাত দুটো প্রসারিত করতেই বাধা পড়ল। চন্দ্রার সাথে তার চোখ এক হতেই দেখল ওর চোখ দিয়ে যেন আগুনের ফুলকি বেরিয়ে আসছে। কোন প্রকারে একটুক্ষণ ষ্টাচুর মতো দাড়িয়ে থেকে বারান্দায় এসে উপস্থিত হলো। মাথা উঁচু করে ওর সামনের দাঁড়াবার কোন ক্ষমতাই তার নেই। কারণ ওর কাছে সে নানা ভাবে অপরাধী। ওকে কেন্দ্র করে তার ফেলে আসা দিনগুলি তার চোখের সামনে ভাসতে থাকল।

চন্দ্রা কখন যে তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারেনি। সে শান্তস্বরে বলল, তুমি যেমনভাবে ছটপট করছো কেন? আমি কি কোন অপরাধ করেছি? বিশ্বাস করো বাবাকে বারবার নিষেধ করে ছিলাম বাড়ীতে আসতে। সে শুনেনি বলে তার অপরাধ নিওনা। বাবা কথা দিয়েছে, আর কখনো এ বাড়ীতে আসবে না।

চন্দ্রার কথা শুনে তার হৃদয় কেঁদে উঠল। যেমন ক্লান্ত অশ্বের অঙ্গ হতে স্বেদধারা বয়ে যায়, ঠিক তারও সেইরূপ অবস্থা হলো। বলল, বাবা কোথায় গেছেন? - তীর্থে গেছেন।

ও কথা শুনে আরো মুষড়ে পড়ল দেবীদাস। বাবার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ক্ষমতা কোনদিনই তার ছিল না। তবু এই বিপদে তার বাবার কাছে নিজেকে সারেন্ডার করতো। তিনি যে কতদিন পর বাড়ীতে ফিরবেন তা তার অজানা নয়। এখন আট হতে দশ মাস তো দেরী হবেই। যে স্ত্রীর সাথে ভালোভাবে কোনদিন কথা বলেনি, যাকে কাছে টানবার ইচ্ছে জাগেনি ; হয়তো মাতাল অবস্থায় বাড়ীতে এসে কয়েকবার কাছে টেনেছিলো, তার মলিন মুখখানি দেখে স্থির থাকতে পারল না।

ওর হাত দুটো ধরে বলল, আমাকে ক্ষমা করো চন্দ্রা, অনেক অবিচার করেছি তোমার প্রতি। মনে হয় সে জন্য ভগবান আজ বিচার করছেন। তুমি তো প্রতিশোধ।
নেবার চেষ্টা করোনি। তাই তোমার হয়ে আরেকজন নিচ্ছেন। তবে বলে রাখছি এই বিপদ হতে কোনদিন যদি রক্ষা পেয়ে থাকি ; তোমার কাছে ফিরে আসবো।

ওখান হতে সরে পড়ার চেষ্টা করতেই সে দেবীর পথ অবরোধ করে বলল, কি এমন বিপদ তোমার, আমি কি তার ঝুঁকি নিতে পারি না।

কোন উত্তর না দিয়ে কোন প্রকারে সরে পড়লো দেবীদাস। শুধু চোখ দুটো তার ছলছল করে উঠল। শেষ পর্যন্ত ওদের আড্ডায় যেতে হলো দেবীদাসকে। ভেবেছিল সুশীল বাবুর সাথে পরামর্শ করবে ওদের আড্ডায় যাবার আগে, কিন্তু পারেনি। হেমন্তবাবু তাঁর উপর ব্যবসার সমস্ত ভার দিয়ে তীর্থে গেছেন। একমাত্র দেবীদাসের অত্যাচারের জন্য তার অশান্তিময় জীবনে কিছুটা শান্তির স্পর্শ লাভের জন্য।

ওদের আড্ডায় পৌঁছতে মিঃ জ্যাকি অর্থাৎ ওদের বস তাকে সাদরে অভ্যর্থনা করলেন। যেন দেবীদাস তার কত কালের পরিচিত। ট্রেনিং শুরু হলো। মদ, মাংস এবং নারীর কোন অভাব ছিল না। যখন যাকে প্রয়োজন সব দিক দিয়ে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।

এবার দেবীদাসের মধ্যে পশবিক বৃত্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। তার ছন্নছাড়া ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কি করুন পরিনতি। এই আড্ডাতে এনে চন্দ্রার কথা ভুলে গেল। E.C.G. মেসিন চুরি করার ট্রেনিং হয় প্রতিদিন। রাত্রিতেও এর ব্যতিক্রম হয় না।

একদিন স্থির হলো দেবীদাসকে এবার কাজে নামতে হবে, যে কাজের জন্য তাকে আনা হয়েছে এখন সে কাজ করার সক্ষম হয়েছে। মিষ্টার জ্যাকি বললেন, শুনিয়ে দেবদাস বাবু, হামলোগ চোর, ডাকু, স্মাগলার হতে পারি, লেকিন হামাদের দিল বহুত উঁচা আছে। হাপনি এ বাত ইয়াদ রাখবেন না হাপনাকে জিন্দেগী ভর হামারা সাথ থাকতে হোবে। হাপনার কাম হাসিল হলে পর হাপনি এখান হতে খালাস পাইবেন লেকিন এক শর্ত মে, যদি বেইমানি করবেন এই দুনিয়া হতে হট যাইবেন। মিষ্টার চৌবে দেবদাস বাবুকে সমঝে দিন ক্যায়সে কাম হাসিল হোবে। জরুরি কামমে হামি বাহার যাচ্ছি।

মিষ্টার চৌবে শেষবারের মতো ডিরেকশান দিলেন। ও পরের পর কাজ বাতলে দিলেন। তাড়াহুড়ো করবার কোন প্রয়োজন নেই, তবে সর্বদা মনে রাখতে হবে কাজের সময় যদি কেউ বাধা দিতে আসে তাহলে প্রয়োজন হলে জীবন নাশও করতে হবে। তাতে ভাই, বন্ধু আত্মীয় পরিজন যে কোন ব্যক্তি হোক না কেন। একটা পিস্তুল তার হাতে তুলে দিলেন। অবশ্য কাজ শেষ হলে ওটা ফেরৎ দেবার নির্দ্দেশ রইলো। বারবার সতর্ক করে দিলেন দেবীর কাজে যেন কোনরূপ বাধা না পড়ে।

পর দিন সন্ধ্যের সময় দেবীর অভিযান শুরু হলো। থমথমে কালো অন্ধকারে বুকচিরে এগিয়ে চলেছে কলেজের ল্যাবরেটরি রুমের দিকে। আকণ্ঠ মদ পান করেছে।
তবুও চলতে চলতে পা কাঁপছে না দেহ তার পরিশ্রান্ত হচ্ছে না। দেবী স্বচ্ছন্দে হেঁটে চলেছে। ল্যাবরেটরি রুমের পাশে কয়েকটা ছোট ছোট ঘর সময় বিশেষে ও গুলো নিয়ে মেডিকেল ছাত্রদের মধ্যে গবেষণা হয়ে থাকে।

Monday, December 26, 2022

13404 শূন্য পদে রাজ্যের স্কুলে স্কুলে প্রচুর গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি ও নন টিচিং স্টাফ নিয়োগ || School Group-D Group-C Non Teaching Staff Recruitment || West Bengal jobs 2023 || WB job 2023


 


পশ্চিমবঙ্গে চাকরি প্রার্থীদের জন্য সুখবর। বহুদিন স্কুল কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রকাশিত হয়েছে নতুন চাকরি বিজ্ঞপ্তি। সমগ্র রাজ্য তথা সারা দেশের সকল ন্যুনতম উচ্চমাধ্যমিক পাস বেকার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বিশাল বড় সুখবর। আর সেটি হল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা প্রতিটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় গুলিতে বিভিন্ন ধরনের গ্ৰুপ 'সি' সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক পদে কর্মী নিয়োগ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এখানে মোট ১৩ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ হতে চলেছে, যা অফিসিয়াল নোটিফিকেশনে জানানো হয়েছে। আর যেহেতু সমগ্র দেশ জুড়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে তাই সমগ্র দেশের যে কোনো জায়গা থেকে ন্যুনতম উচ্চমাধ্যমিক পাস যোগ্যতার ছেলে মেয়ে উভয় বেকার চাকরিপ্রার্থীরা এখানে চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

তাই বর্তমানে যেসমস্ত চাকরি প্রার্থী সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। কোন কোন পদে নিয়োগ করা হবে, মাসিক বেতন কত দেওয়া হবে, বয়সসীমা কত থাকতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা কি লাগবে এবং কিভাবে আবেদন করতে হবে তা নিচে থেকে পরপর জেনে নেব। 




নিয়োগকারী সংস্থা ও শূন্যপদ গুলির নাম:-

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে কোন কোন পদে নিয়োগ হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হল-

• Stenographer Grade II
• Assistant Commissioner
• Senior Secretariat Assistant
• Assistant Section Officer
• Post Graduate Teacher
• Finance Officer
• Librarian
• Primary Teacher (Music)
• Trained Graduate Teacher
• Assistant Engineer (Civil)
• Principal
• Vice Principal
• Junior Secretariat Assistant



শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও বেতনের পরিমাণ:-

উপরিউক্ত শূন্যপদ গুলিতে চাকরির জন্য আবেদন করতে হলে যে ক্ষেত্রে যে ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন সেগুলি হল-


Stenographer Grade II-

উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এছাড়াও কম্পিউটারে টাইপ করার ক্ষেত্রে মিনিটে ৫০ টি ইংরেজি শব্দ ও ৬৫ টি হিন্দি শব্দ টাইপ করার দক্ষতা থাকতে হবে। 
আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮-২৭ বছর। 
সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।
Ex-Serviceman এ রা ৩-১০ বছর পর্যন্ত বয়সের ছাড় পাবেন। 
বেতন দেওয়া হবে প্রতিমাসে ২৫,৫০০-৮১,১০০ টাকা।

Junior Secretariat Assistant-

উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এছাড়াও কম্পিউটারে বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে এবং কম্পিউটারে মিনিটে ৩৫ টি ইংরেজি শব্দ এবং ৩০ টি বাংলা শব্দ টাইপ করার দক্ষতা থাকা আবশ্যক। 

 এখানে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮-২৭ বছর। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।
Ex-Serviceman এ রা ৩-১০ বছর পর্যন্ত বয়সের ছাড় পাবেন। 
বেতন দেওয়া হবে প্রতিমাসে ১৯,৯০০-৬৩,২০০ টাকা।



Librarian-

 Library Science এ ব্যাচেলার ডিগ্ৰি Complete করে থাকতে হবে। সঙ্গে Library Science এ ১ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ও Complete করে থাকতে হবে। ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় কাজ করার জ্ঞান থাকতে হবে এবং কম্পিউটারে বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে। 

এখানে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮-৩৫ বছর। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।
Ex-Serviceman এ রা ৩-১০ বছর পর্যন্ত বয়সের ছাড় পাবেন।

বেতন দেওয়া হবে প্রতিমাসে ৪৪,৯০০-১,৪২,৪০০ টাকা। 


Primary Teacher(Music)-

 কমপক্ষে ৫০% নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এছাড়াও কোনো সরকারি কলেজ থেকে Music নিয়ে ব্যাচেলর ডিগ্ৰি Complete করে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে কম্পিউটার নলেজ ও হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় কাজ করার জ্ঞান থাকতে হবে।

 এখানে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।
বেতন দেওয়া হবে প্রতিমাসে ৩৫,৪০০-১,১২,৪০০ টাকা।



     বাকি যে সমস্ত পদে আবেদন চলছে তার সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচে দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ ক্লিক করুন।


আবেদন পদ্ধতি:- 
শুধুমাত্র অনলাইন এর মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
নীচে দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে।
আর তার জন্য যা যা করতে হবে সেগুলি হল-

১) সর্বপ্রথম এই বিজ্ঞপ্তির নীচে দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লেখাটিতে ক্লিক করে অথবা মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে browser open করে search box এ এই দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.kvsangathan.nic.in লিখে search করতে হবে।
২) এরপর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট Open হলে সেখান আগে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন Complete করতে হবে।
৩) রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আপনাকে একটি বৈধ ইমেল আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে সেটি দিয়ে Login করতে হবে।
৪) এরপর এই দপ্তরে চাকরির জন্য আবেদন করার অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম টি আসবে সেখানে আপনার নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, অভিভাবকের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেন্ডার, বয়স, ঠিকানা, আধার নম্বর, একটি বৈধ ইমেল আইডি ও ফোন নাম্বার ইত্যাদি লিখে ফর্ম টিকে ফিলাপ করে ফেলতে হবে।
৫) এবং এরপর আপনার recent তোলা এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ফটো ও আপনার নিজের করা একটি সিগনেচারের ছবি তুলে স্ক্যান করে ফর্মের মধ্যে সঠিক স্থান অনুযায়ী আপলোড করে দিতে হবে।
৬) এরপর আপনার নিজের যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার ডকুমেন্টস সহ অন্যান্য সব ডকুমেন্টস গুলির ছবি তুলে স্ক্যান করে ফর্মের নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করে দিন।
৭) এরপর আবেদন মূল্য হিসেবে জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থীরা যে যে পদের জন্য আবেদন করবেন সেই পদ অনুযায়ী কত টাকা করে আবেদন মূল্য দিতে হবে তা আবেদন করার আগে অফিসিয়াল নোটিফিকেশন থেকে জেনে নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে জমা করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই আপনার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শেষ। তবে সংরক্ষিত শ্রেনীর প্রার্থী ও মহিলা প্রার্থীদের কোনো রকম আবেদন মূল্য দিতে হবে না।
৭) সবশেষে এই অ্যাপ্লিকেশান ফর্মের সাদা A4 সাইজ পেপারে একটি প্রিন্ট আউট বের করে নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দেবেন।



গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট:-
যেসমস্ত ডকুমেন্ট সাবমিট করতে হবে নীচে আলোচনা করা হল -

১) বয়সের প্রমানপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেট।
২) দেশের এবং রাজ্যের স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রমান হিসেবে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড।
৩) সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কসীট ও সার্টিফিকেট।
৪) এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ফটো।
৫) ওয়ার্ক এক্সপিরিয়েন্স সার্টিফিকেট।
৬) কাস্ট সার্টিফিকেট যদি থাকে।
 


নির্বাচন পদ্ধতি:-
এখানে চাকরির জন্য প্রথমে নেওয়া হবে কম্পিউটার  বেসড পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রার্থীদের নাম একটি শর্টলিস্ট করে সেই অনুযায়ী ইন্টারভিউ লেটার পাঠিয়ে ইন্টারভিউ ও ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন এর জন্য ডাকা হবে। 
সব শেষে যারা পাস করবেন তাদের জয়েনিং লেটার পাঠিয়ে চাকরিতে নিয়োগ করবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।


আবেদন করার সময় সীমা:-
আবেদন শুরু -  ৫/১২/২০২২
আবেদন শেষ - ২৬/১২/২০২২ রাত ১২টা


OFFICIAL NOTICE:

OFFICIAL WEBSITE: 


APPLY NOW: 

______________________________________________
চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন




Telegram group-





Whatsapp group-



Sunday, December 25, 2022

রাজ্যে রূপশ্রী প্রকল্পে কর্মী নিয়োগ, বেতন ১৫ হাজার টাকা || Rupashree Prakalpa Work Recruitment in Purulia || Rupashree Prakalpa Work Recruitment 2022-23



পশ্চিমবঙ্গের চাকরি প্রার্থীদের জন্য সুখবর। রাজ্যে চালু হওয়া রূপশ্রী প্রকল্প, এই প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নতুন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো এই নিয়োগটি পুরুলিয়া জেলার ডিস্ট্রিক্ট প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের অধীনে করা হবে। আপনারা অবশ্যই জানেন রুপশ্রী প্রকল্প রাজ্য সরকারের অধীনস্ত একটি প্রকল্প। যা মুখ্য মন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়।

তাই বর্তমানে যেসমস্ত চাকরি প্রার্থী সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। কোন কোন পদে নিয়োগ করা হবে, মাসিক বেতন কত দেওয়া হবে, বয়সসীমা কত থাকতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা কি লাগবে এবং কিভাবে আবেদন করতে হবে তা নিচে থেকে পরপর জেনে নেব। 




পদের নাম:  একাউন্টেন্ট (Accountant)


মাসিক বেতন:  প্রতি মাসে 15 হাজার টাকা আপনাকে বেতন দেওয়া হবে।


বয়সসীমা:  আবেদনকারীর বয়স 18 থেকে 40 বছরের মধ্যে থাকতে হবে। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।



শিক্ষাগত যোগ্যতা: 

কমার্স বিষয়ে অনার্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন পাস করতে হবে।
কম্পিউটারে MS Office Package এর কাজের জ্ঞান লাভ করতে হবে। 
সেইসাথে স্পিড শীট, ট্যালি এবং প্রেজেন্টেশন প্যাকেজ এর কাজের জ্ঞান লাভ করতে হবে। 


শূন্যপদ: 
3 টি (UR-1, SC-1, ST-1) 

নিয়োগ প্রক্রিয়া: 
প্রথমে হবে লিখিত পরীক্ষা, তারপর হবে কম্পিউটার টেস্ট এবং সব শেষে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করে নিয়োগ করা হবে। 

লিখিত পরীক্ষা– 50 নম্বর 
কম্পিউটার টেস্ট– 40 নম্বর 
মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce)– 10 নম্বর


লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস: 
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস দেওয়া রয়েছে। নিচের দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংকে ক্লিক করে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ডাউনলোড করে এই বিষয়ে দেখে নিতে পারবেন। 


আবেদন প্রক্রিয়া: 
পুরুলিয়া জেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (purulia.gov.in) থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য আবেদন করার অফিসিয়াল লিঙ্ক নিচে দেওয়া রয়েছে। ওই লিংকে ক্লিক করে সরাসরি আবেদন করা যাবে। 


গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (Important Dates) 

নোটিশ প্রকাশ - 15.12.2022
আবেদন শুরু -         15.12.2022
আবেদন শেষ -  30.12.2022



গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কগুলি (Important Links)  👇👇

Official Website -

Official notice -


Apply Now -


______________________________________________
চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন




Telegram group-





Whatsapp group-

Friday, December 23, 2022

WB Water and Irrigation Department Recruitment 2022 || পশ্চিমবঙ্গে জল সেচ দফতরে নতুন নিয়োগ || আবেদন চলবে ২৭ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত || সেচ ও জল দফতরে কর্মী নিয়োগ


 


রাজ্য বাসীর কাছে নতুন সুখবর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও জলদপ্তর নতুন নিয়োগ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। এই নিয়োগ টি পশ্চিমবঙ্গের পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC) দ্বারা  সম্পন্ন করা হবে।

আমাদের রাজ্যের সমস্ত জেলা থেকেই চাকরি প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই চাকরির বিশেষ যোগ্যতা থাকলে তবেই এই চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তাই কোন কোন পদে নিয়োগ করা হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কি লাগবে, কিভাবে আবেদন করতে হবে, বেতন কত পাওয়া যাবে ইত্যাদি বিষয়ে নিচে থেকে এক এক করে দেখে নিন। 



বিজ্ঞপ্তি নম্বর: 15/2022

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ: 03.12.2022

আবেদনের মাধ্যম: সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।


সম্পূর্ণ তথ্য:-

পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল (Assistant Engineer, Mechanical and Electrical) 

মাসিক বেতন:  56,100-1,44,300 টাকা। 

বয়সসীমা: এই পদে আবেদনকারীর বয়স 36 বছরের কম হতে হবে। বয়সের হিসাব করতে হবে 01.01.2022 তারিখ অনুযায়ী। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়মে ছাড় পাবেন।


শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিক্যাল অথবা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ডিগ্রী থাকতে হবে। সেই সাথে এক বছরের পোস্ট গ্রাজুয়েট প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং অথবা রিসার্চ এর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। 

শূন্যপদ: 16 টি 

আবেদন প্রক্রিয়া: 
(1) পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্থাৎ WBPSC এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন ছাড়া অন্য কোন উপায়ে আবেদন করা যাবে না।

(2) তাই যোগ্য এবং ইচ্ছুক চাকরি প্রার্থীকে প্রথমেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

(3) রেজিস্ট্রেশন করা হয়ে গেলে লগইন ডিটেলস ফিল করে লগইন করতে হবে। এরপর আবেদনের মেইন পেজ খুলবে।

(4) এখানে আবেদনকারীকে তার নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ অন্যান্য দরকারি তথ্যগুলি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

(5) অনলাইন ফর্ম পূরণ করা হয়ে গেলে সবশেষে আবেদন ফি জমা করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। ফাইনাল সাবমিট করার আগে তথ্যগুলি ঠিকঠাক দেওয়া হয়েছে কিনা একবার মিলিয়ে নেওয়া ভালো। 


আবেদন ফি: 
আবেদন ফি বাবদ 210 টাকা অনলাইনের মাধ্যমে পে করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের সংরক্ষিত প্রার্থী তথা SC, ST, PwD শ্রেণীদের ক্ষেত্রে আবেদন ফি লাগবে না। 


গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (Important Dates) 

নোটিশ প্রকাশ - 03.12.2022
আবেদন শুরু -  06.12.2022
আবেদন শেষ - 27.12.2022


গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কগুলি (Important Links)  👇👇

Official Website -

Official notice -

Apply Now -

_______________________________________

চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন




Telegram group-





Whatsapp group-


Tuesday, December 20, 2022

ছোট গল্প - দীপাবলি || লেখক - চন্দ্রাণী গুপ্ত ব্যানার্জী || Written by Chandrani Gupta Banerjee || Short story - Dipabali


 


দীপাবলি

 চন্দ্রাণী গুপ্ত ব্যানার্জী


               (১)

মা বাবা বেশ দেখে শুনেই আমার বিয়েটা  দিয়েছিল। জানা শোনা পরিবার। পাত্রটি ও বেশ ভালো। শিক্ষিত। দেখতে মোটামুটি       ভালোই।পেশায় সরকারি ‌চাকুরে। অতএব  বাড়ির কারোর অপছন্দ  হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। আমার স্বর্গীয়া ঠাকুমা ও বড় দাদা দিদির ও পছন্দ ছিল সে। বয়সে সে আমার থেকে প্রায় বছর দশেকের বড়। সে সময় আমি ' নির্ভরতা ' খুঁজছিলাম। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গেছিলাম।। শূণ্যতা গ্রাস করেছিল আমার জীবন। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না।বেশ‌ সাজানো গোছানো ছিল আমার পৃথিবীটা। স্কুল জীবনের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পৌঁছুলাম। নতুন বন্ধু দের সাথে আলাপ পরিচয় হল। তাদের মধ্যেই    আমার জীবনে এক ঝলক  টাটকা  বাতাসের মতো এলো নয়ন। লম্বা, চওড়া , সুঠাম ,  সুদর্শন। প্রথম দর্শনেই তার প্রেমে পড়ে গেলাম আমি। কিন্তু প্রকাশ করলাম না কিছুতেই।পাছে সে আমায় প্রত্যাখ্যান করে । হৃদয় ভাঙ্গার ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রইলাম। কিন্তু চোখ তো মিছে কথা বলে না। নয়ন আমার নয়নের কথা বুঝতে দেরি করল না। আমি মনপ্রাণ তাকে নিবেদন করলাম। ভালবাসলাম হদয় দিয়ে। ঈশ্বরের কাছে প্রত্যেক মেয়েই যা চায় তাই চাইলাম। নয়নের সাথে একটা সাজানো সংসার। স্বামী- সন্তান নিয়ে সাজানো একটা সংসার। স্বপ্ন দেখতে দেখতে কেটে গেল দু তিনটে বছর। স্বপ্নেরা সত্যিই ক্ষণস্থায়ী! আমার জীবন দিয়ে আমি বুঝেছি।কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম। নয়নও কলকাতা ছেড়ে রওয়ানা দিল সূদূর আমেরিকার উদ্দেশ্যে । উচ্চ শিক্ষার জন্য।
নয়নের সাথে চিঠির মারফত যোগাযোগ ছিল। তখন তো আর অত ফোনের ঘটা ছিল না। কিন্তু আস্তে আস্তে সেই যোগাযোগ টা ফিকে হয়ে আসতে থাকে। নয়নের তরফ থেকে চিঠির আদান-প্রদান কমতে থাকে। জানি না কেন তা কমে গেল। বহু বার চেষ্টা করেছি তার সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু সব বিফলে গেল। সত্যি বলতে দ্বিধা নেই একটা সময় আমি ও হাল ছেড়ে দিলাম। জোর করে কারো ভালোবাসা পাওয়া যায় না। হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ আমার হতে থাকলো।দিনে দিনে ক্ষত স্থানটা শুকিয়ে গেল। কিন্তু হৃদয় ভাঙ্গার দাগটা সেখানে রয়েই গেল। পরে জেনেছি এক  নেপালী কণ্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।

              (২)

               
দেখতে শুনতে বেশ ভালোই আমি।তাই আমাকে আমার শশুর বাড়ী থেকে যারা দেখতে এসেছিল , তারা আমায় পছন্দ করে ফেলল। বিয়ে হয়ে গেল আমার ধুমধাম করে  সুপাত্রর সাথে। সুখের সংসার আমার। লক্ষ্মী উপচে পড়ছে।কোন কিছুর অভাব নেই। আমার বাপের বাড়ির লোকজন আমার স্বামীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এরকম স্বামী নাকি আমি ভাগ্য করে পেয়েছি। আমি ও নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করে সুখী হতে চাইলাম। ক্ষত স্থানের দাগটা একটু একটু করে বোধকরি মিলিয়ে যাচ্ছে। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সুখবর টি এল। আমি 'মা' হতে চলেছি। বিধাতাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানালাম। বিধাতা মুচকি হাসলেন। স্বামী- শাশুড়ি নতুন অতিথির আগমনের জন্য তৈরি হতে লাগলেন। হঠাৎ করে একদিন রক্ত ক্ষরণ শুরু হল। এবার হৃদয়ে নয়। শরীরের অভ্যন্তরে। হারিয়ে ফেললাম অদেখা অতিথিকে।

            (৩)

স্বামী আর ভালো করে কথা বলে না আমার সাথে। কেমন যেন গা-  ছাড়া ভাব। শশুর বাড়ীর সকলের ভালোবাসা আর বর্ষিত হচ্ছে না। ঘরের কোণে সময় কাটে আমার ।অবসর শুধু অবসর। রান্নাঘরে এখন আমার ঢোকা বারণ। আমি যে ব্রাত্য! সন্তান দিতে পারিনি। রক্তাক্ত আমার মন। আমার শরীর। নতুন করে জীবনটা আবার শুরু করতে চাইলাম। স্বামী কে বললাম। শুনেও শুনলেন না।  বাপের বাড়িতে বলায়  সবাই বললো, ' মানিয়ে গুছিয়ে নাও। লোকজন কি বলবে যদি বাপের বাড়ি চলে আস।' বুঝলাম যা করার নিজেকেই করতে হবে। নিজের পায়ে নিজেকে দাঁড়াতে হবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি টা তো ছিলই।গণিত আমার বিষয়। খবরের কাগজ দেখে দেখে বিভিন্ন জায়গায় দরখাস্ত পাঠাতে লাগলাম। জীবন দিয়ে বুঝলাম প্রত্যেকটা মানুষের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়াটা কতটা প্রয়োজন।
কিন্তু যা আশা করছিলাম কিছুই কপালে জুটল না। নিদেনপক্ষে গুটি কয়েক গৃহশিক্ষকতা দিয়ে আমার একাকী পথ চলা  শুরু। শাশুড়ির চূড়ান্ত অসহযোগিতা ছিল। স্বামী অসম্ভব রকমের নিশ্চুপ ছিলেন। আমার অস্তিত্বটা তাকে কাঁটার মতো বিধছিল।আর আমার   অদর্শন দিচ্ছিল অপার শান্তি।‌ আমি ও কিছুটা শান্তির খোঁজে বাইরে পা বাড়ালাম। 
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গুলোর সান্নিধ্য আমায় বড়োই আনন্দ দিত। আমার অনাগত সন্তানকে তাদের মধ্যে দেখতে পেতাম।

              (৪)


কেটে গেছে বেশ কিছুটা সময়। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে , পরীক্ষা দিয়ে একটা সরকারি স্কুলে চাকরি পেয়েছি। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে। কিন্তু অব্যক্ত এক যন্ত্রণা আমায়   এখনো এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। এক না পাওয়ার বেদনা।এর ই মাঝে হারালাম মা আর বাবাকে । ঠাকুমা আগেই চলে গেছিলেন।
স্বামী আর আমি এক ছাদের নীচে শুধুমাত্র থাকি। কথাবার্তা নেই বললেই চলে। ‌ আমাদের পৃথিবীটা  রং চটা এক খোলশের মতো।  ইদানিং মুঠো ফোনে র সাথে তার সখ্যতা বেজায় বেড়েছে। সেই সূত্র ধরেই জানলাম  আমার জায়গায় নতুন  কেউ আসছে। সেই দিনই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। হুঁশ ছিল না কতক্ষণ হেঁটে চলেছি। আশে পাশে আনন্দে উচ্ছল এক প্রানবন্ত শহর। আমার বৃত্তে নিকষ, কালো  অন্ধকার। হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানি। হাতের  ব্যাগটা ছিটকে কোথায় পড়ে গেল। ....... আবারও রক্ত ক্ষরণ..... ব্যথায় মুচড়ে গেল শরীরটা।

           ‌(৫)

আলোয় আলোকিত চারিদিক। কোথাও নেই কোন অন্ধকার।নেই কোন কালিমা। আমার বাড়িতে আজ চাঁদের হাট। ছাত্র ছাত্রীরা সবাই আমার বাড়িতে বাজি পোড়াবে। ওদের চাহিদা বড্ড কম। ওদের প্রত্যেক কে বাজি কিনে দিয়েছি। রং মশাল , তুবড়ি , চরকি আরও  কত কি! ট্রান্সফার নিয়ে শহর   ছেড়ে গ্রামের স্কুলে পড়াতে  এসেছি । এখানে এদের সাথে থেকে অদ্ভুত শান্তি পাই। এদের সারল্য আমায় মুগ্ধ করে। এদের যতখানি ভালোবেসেছি  এরা তার দ্বিগুন আমায়  ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার জীবনের মলিনতা, ধূসরতা আজ অতীত। ওদের সাহচর্য আমার জীবনের রসদ। আমার সাথে  থাকে ' মুনলী' । নিজের কাজ গুলো যতটা পারি করি। কিন্তু মুনলী তা করতে দেয়না। জোর করে  আমার সাথে থাকতে চলে এল। ওর এই গ্রামেই বাড়ি। সতের- আঠারো বছর বয়সী মেয়ে। আমার কাছে লেখা পড়াও  শেখে । শেখার বড় ইচ্ছে মুনলীর। আমি ও তাকে প্রাণভরে শেখাই। মুনলী আর তার মাকে বললাম  গ্রামের সবার জন্য  রান্না করতে। আজ সবাই আমার এখানে খাবে। পেটপুরে। মানুষ গুলো বড্ড গরীব। তাদের উৎসব , আনন্দ নেই বললেই চলে। তাই এই ছোট্ট আয়োজন। বিকেল থেকেই গুটি গুটি পায়ে সব ' ছানারা ' এসে হাজির। আনন্দ করবে বলে। ইদ্রিসের বউ এর কোলে তাঁর ছমাসের মেয়ে টা । কেমন টুকুর টুকুর করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কোলে নিতে বড্ড ইচ্ছে করছে। ইদ্রিসের বউটা ঠিক বুঝলো।
___ ' দিদি, তুমি কুলে লিবা?'
কোথা থেকে মুনলী  একখানা চেয়ার দৌঁড়ে নিয়ে এল।
___ ' দিদি, তুমি ইখানটায় বুসো।'
ক্রাচে ভর দিয়ে আমি চলি। কোলে নিতে পারব কি করে! একদম ছোট্ট বাচ্চা। তাই মুনলী আমায়  চেয়ারে বসিয়ে দিল। আমার কোল জুড়ে আছে তখন ' আসমা '। 
সেই রাতের দুর্ঘটনায় আমার বা পাটা কেটে বাদ দিতে হয়। বেশ কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমার স্বামী খবর পেয়েও আসেননি। আর দাদা দিদিরা তখন সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারে। নিজেকে বোঝালাম- ' কেন স্বামী আসবেন। আমরা তো কেউ কাউকে সুখী করতে পারিনি। তার কিসের দায়?' আমার সহকর্মীরা না থাকলে এই জীবন যে কতটা সুন্দর তার জানতেই পারতাম না।  চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের অপত্য ভালোবাসা , মায়া, মমতা আমার না পাওয়ার যন্ত্রণা কিছুটা হলেও নিরাময় করেছে। ঈশ্বর কে ধন্যবাদ জানালাম। আমি যে ভালোবাসার কাঙাল।

               (৬)

শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই গ্রামের সাথে আমার যে আজ নাড়ীর টান। চেয়ারে বসে ছেলে মেয়েদের বাজি পোড়ানো দেখছি বিভোর হয়ে। হঠাৎ একটা গাড়ীর শব্দে চিন্তার তরঙ্গে বাঁধা পড়ল। দেখলাম গাড়ি থেকে নামছেন ডঃ চিরন্তন বসু। বাচ্চা গুলো তাকে দেখে আনন্দে তার কাছে ছুটে গেল। আপনজনকে পাওয়ার আনন্দ। যখনি ডঃ বসু আসেন , বাচ্চা গুলোর জন্য কিছু না কিছু আনবেনই। বড় ভালো মানুষ। বছর কয়েক আগে ঘটা সেই দুর্ঘটনার সময় উনিই আমার চিকিৎসা করেছিলেন এবং আমার বাঁ পাটা কেটে বাদ দেন।তখন থেকে আমাদের আলাপ পরিচয়।আপন ভোলা একটি মানুষ। শহরের একটি হাসপাতালে কর্মরত। আসমা কে তার মায়ের কোলে দিয়ে আমি ক্রাচে ভর দিয়ে ডঃ বসুর দিকে এগিয়ে গেলাম।
--- ' আসুন ডঃ বসু। আপনার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। দীপাবলী শুভ কামনা।'
ডঃ বসুর  মুখে উজ্জ্বল  হাসি। 
--- 'ভেতরে আসুন '
আমরা দুজন ঘরের ভেতরে এসে বসলাম। মুনলীকে বললাম দু কাপ চা পাঠিয়ে দিতে। 
--- ' রাতের খাবার কিন্তু খেয়ে যাবেন। '
--- ' আচ্ছা । কেমন আছেন আপনি ? এবার আসতে একটু দেরি হয়ে গেল। হসপিটালে কাজের বড্ড চাপ।‌ম্যানেজ করতে পারছিলাম না। '
--- 'আমি ভালো আছি। আপনি ?'
---- ' চলে যাচ্ছে।‌ ভাবছি শহরে তো অনেক দিন কাজ করলাম। এবার ভাবছি গ্রামের এই লোকগুলোর জন্য কিছু করি। আপনাকে আমার পাশে চাই। '
বেশ কিছুক্ষণের নীরবতা। মুনলী এসে ততক্ষণে চা আর কিছু খাবার দিয়ে গেছে। 
--- ' কিছু বললেন না দীপা? এই চাওয়াটা কি আমায় দেওয়া যায় না? '
আমি চুপ করে রইলাম। 
--- ' আমি আমার সারাটা জীবন আপনাকে দিতে চাই। '
আমি ওনার চোখের দিকে এবার তাকালুম। সততার ছায়া তার চোখে। আমি জানি এ ভালবাসা বড্ড গভীর।  বড্ড সত্যি। কিন্তু আমি যে আর সাংসারিক জীবনের বাঁধনে
 জড়াতে চাই না। 
--- ' সারা জীবন আমি আপনার পাশেই থাকবো ডঃ বসু। একজন ভালো বন্ধু হয়ে। আমাদের বন্ধুত্ব চিরদিন অটুট থাকবে। তাকে শুধু শুধু জটিল করে কি লাভ বলুন। জীবন আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছে। এরাই আমার সংসার । আমার সন্তান। সেই সাংসারিক জীবনের স্বামী - স্ত্রী র বৃত্তে আর নয়। এরাই আমার পৃথিবী। আপনি আপনার জীবনে সুখী হোন। আপনি  আমার ভালো বন্ধু ছিলেন ও থাকবেন। আর সব সম্পর্কের পরিণতি হয় না। নাম পায় না। কিছু সম্পর্ক এমনিতেই সুখকর। '

আমরা দুজনে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। মুনলী বাড়ির চারিদিকে আজ প্রদীপ জ্বালিয়েছে। অন্ধকার নেই। প্রদীপের আলোয় সবকিছু প্রজ্বলিত। কিন্তু বারান্দার কয়েকটা প্রদীপ হাওয়ায় নিভে গেছিল। আমি আবার তাদের জ্বালিয়ে দিলাম। জ্বল জ্বল করে প্রদীপ গুলো জ্বলছে। অমাবস্যার সমস্ত অন্ধকার দূর করে আমার জীবন আজ আলোময়। আজ শুভ দীপাবলি। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। ও হ্যাঁ.... আমার   পুরো নামটাই যে বলা হলো না আপনাদের।  ঠাকুমা বড় আদর করে নাম রেখেছিল.... দীপাবলি ।।

ছোট গল্প - এমনও হয় || লেখক - সিঞ্চিতা বসু || Written by Sinchita Basu || Short story - Emono Hoi


 

এমনও হয়


সিঞ্চিতা বসু 



যন্ত্রমানবের শতবর্ষে এসে আজ আপনাদের এক যন্ত্র দুনিয়ার গল্প শোনাই l প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ডঃ রজত গোস্বামীর কাছ থেকে জানা ঘটনাটি বলছি,যদিও এর শেষ আমার জানা নেই l কারণটা হলো টেলিপ্যাথির মাধ্যমে ওনার সাথে যতটুকু যোগাযোগ ছিল,ততটুকুর কাহিনী আমরা জানতে পেরেছি l ক্রমে যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছে,সিগন্যাল  ক্ষীণ হতে হতে হারিয়ে গেছে l

               ডঃ রজত গোস্বামীর কাজ ছিল এসকেপ ভেলোসিটি বা মুক্তি বেগ নিয়ে l পাঠকরা নিশ্চই মুক্তিবেগ কি তা জানেন,মানে গতিবেগে ছেড়ে দিলে কোনো কিছু পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে তুচ্ছ করে মহাকাশে বেরিয়ে যাবে,আর পৃথিবী নিজের কেন্দ্রের দিকে তাকে টানবে না l এতদিন বিজ্ঞানীরা মুক্তিবেগ কাজে লাগিয়ে রকেট,কৃত্তিম উপগ্রহ ইত্যাদি পাঠিয়েছেন,কিন্তু রজতবাবুর মাথায় কি যে ভূত চাপলো,উনি এটমিক এনার্জি দিয়ে একটা ছোটো অ্যালুমিনিয়াম নির্মিত এরোপ্লেন মুক্তিবেগে উড়িয়ে দিলেন l প্লেনটি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে মহাকাশে এসে পড়লো,তারপর দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে  সূর্যের মতো আর একটি নক্ষত্রের একটি প্ল্যানেটে গোঁত্তা খেয়ে পড়লো l একটা ছোটো টিলাতে ধাক্কা খেয়ে ছোট্ট  মহাকাশযানটি ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল,সেই সাথে রজতবাবুর  নিজেভূমে ফিরে যাওয়ার স্বপ্নও খানখান হয়ে গেল l উনি বেশ কিছুটা সময় অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকার পর ঠান্ডা বাতাস চোখে মুখে মেখে উঠে বসলেন l এস্ট্রোনটদের মাথায় যে হেলমেট থাকে তা ছিটকে গেছে,ফলে অক্সিজেন সাপ্লাই বিচ্ছিন্ন হয়েছে,কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি উঠে বসে দেখলেন দিব্যি নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারছেন l মনে মনে ভাবলেন -"জায়গাটা তো বেশ,প্রায় পৃথিবীর মতোই l তবে কি বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর ধারণাটাই সঠিক?সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যতটা,ঠিক ততটা দূরত্ব বজায় থাকলে বায়ুমন্ডল,জল থাকা সম্ভব,প্রাণের অস্তিত্বও থাকতে পারে হয়তো l এটা কি তেমনই একটা গ্রহ বা উপগ্রহ?"

              রজত স্যারের রিপোর্ট

             ----------------------------------

                পৃথিবীর মতো তবু পৃথিবী নয় l এখানে সবকিছু যন্ত্রচালিত,মানুষ পুরোপুরি যন্ত্রনির্ভর l যন্ত্র গ্রাস করেছে এ শহরের মানুষদের শরীর,মন,মেধা অনুভূতি,চাহিদা সবকিছু l চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না,এ যেন সেই ছোটবেলায় দেখা সত্যজিৎ বাবুর হীরক রাজার দেশের যন্তর মন্তর l সারা শহরে এমন কতই না কেন্দ্র,সবগুলোই কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,রোবট চালিত l গ্রিক শব্দ রোবোটাস থেকে রোবট কথাটি এসেছে,মানুষের অনুচরবৃত্তি করার জন্য সৃষ্ট যান্ত্রিক দাস এখন মানুষকেই দাস বানিয়ে ছেড়েছে l এখানে সবুজ গাছপালা,ফুল ফল সবজির কোনও চিহ্ন নেই l এদের কোনো ভাষা নেই,নির্ভর করে বাইনারি ইন্সট্রাকশন আর কোডিং এর উপর l এলাকা বেশির ভাগ সময়ই ফাঁকা,যে কজন মানুষ আছে,তারা দেখতে অনেকটা মানুষের মতো হলেও,আদপে আগাপাশতলা এক একটা রোবট l

তারা উচ্চ প্রযুক্তির গাড়ি বানায়,ব্রিজ বানায়,গগনচুম্বী বাড়ি বানায় l সবই নিক্তিতে মাপা, কোথাও কোনো ভুল হওয়ার উপায় নেই l মানুষের প্রয়োজন হলে কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে নারী পুরুষের জোড় নির্বাচন করে তাদের থেকে ডি.এন.এ  সংগ্রহ করে তার ক্লোন বানানো হয় l যন্ত্রই ঠিক করে দেয় ভ্রূণটিতে কতো শতাংশ জল,কার্বন,অক্সিজেন,লোহা ইত্যাদি থাকবে l হিসেবের জন্য ফর্মুলাও কম্পিউটারে মেমোরিতে পুরে রাখা আছে l এরপর শিশুটির জন্মের দুমাস পর থেকেই শুরু হয় ব্রেন ওয়াশ l ঢুকিয়ে দেওয়া হয় কিছু বাইনারি ডিজিটের সংকেত,বের করে নেওয়া হয় মানবিক অনুভূতিসমূহ lখাবার দাবারের দরকারই হয় না,কারণ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন,কার্বহাইড্রেট,মিনারেল ইত্যাদির চাহিদা মেটানোর জন্য আছে নানারকম ট্যাবলেট,ক্যাপসুল,ইনজেকশন l 

        এহেন বাইনারি শহরে তো কোনো সমস্যা থাকার কথা না,কিন্তু গোল বাঁধলো অন্যত্র l ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্টের কারণে এমন কিছু মানুষের জন্ম হয়েছে,যাদের মনের অনুভূতি ও সুকুমার প্রবৃত্তিগুলো রয়ে গেছে ভীষণভাবে l  যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য ভালোবাসা,গান,সুর ইত্যাদি মান্ধাতার আমলের অনুভুতিগুলি তাদের মনে প্রাণে জড়িয়ে গেছে,অনুভূতির নৈবেদ্য সাজিয়ে বসে আছে l একেবারে গোড়ায় গলদ! যাদের জন্ম হয়েছে তারা সবাই নারী l বাইনারি শহরে এদের স্থান হয়নি,বিজ্ঞান নগরী এদের ত্যাগ করেছে l জন্মের সময়েই এই ডিফেক্ট পূর্ণ ভ্রূণগুলোকে নষ্ট করার জন্য প্রোগ্রাম বানিয়ে কম্পিউটারের মগজে ভরে দেওয়ার আগেই সুকুমার প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মে গেছে কিছু কন্যাসন্তান l শহরের প্রান্তে দেওয়াল তুলে,যন্ত্র মানব মানবীদের থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে এরা বাস করে l এরা প্রযুক্তি ও যন্ত্র নির্ভর না l শহরের বাকি অঞ্চলের তুলনায় একেবারেই অনুন্নতl প্রত্যেকের হৃদয় আছে,হৃদয়ে সুর আছে,আর আছে বেদনা l এরা প্রায় সবাই প্রবীণা l ব্যাতিক্রম শুধু একজন,তার নাম  অরোরা l পুরুষের এভাবে বংশবৃদ্ধি একেবারে থমকে গেছে l সব সময় একটা ভয় এদের তাড়া করে বেড়ায়,মৃত্যুর পরে সব শেষ l তাদের এই স্থানটির দখল নেবে যন্ত্র,ভুখন্ড থেকে মুছে যাবে সুর,ভাষা,মানবিক অনুভূতি সমূহ l 

                   ডঃ গোস্বামীর বয়ানে

              ---------------------------------------

   আমি এদের ভাষা বুঝিনা,কিন্তু সাথে থাকা কালো বোতামের মতো ইন্টারপ্রেটর যন্ত্রের সাহায্যে এদের মনের ভাব বুঝে নিতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না l আমি আসলে মহাকাশযান ভেঙে এদের এরিয়ার মধ্যে এসেই পড়েছিলাম,যন্ত্র সভ্যতার কথা এদের থেকেই জেনেছি l পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার উপায় নেই বুঝে এদের সঙ্গে মিশে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে হয়েছিল l আশ্রয় যখন দিয়েছে,ঠিক করলাম যথাসাধ্য সাহায্য করার l যন্ত্র দুনিয়ার গ্রাস থেকে এদের বাঁচাতেই হবে l সামান্য উপকরণ জোগাড় করে কাজ শুরু করলাম l অরোরার শরীরের ডিম্বাণু আর আমার স্পর্ম নিয়ে তৈরি হলো জাইগোট l ধীরে ধীরে টিউবের মধ্যে বড়ো হতে লাগলো l অরোরার শরীর তা স্থাপনও করলাম l একদিন একটা ফুটফুটে শিশু ভূমিষ্ঠ হলো,এদের সমাজের প্রথম ছেলে l আমার পড়া বায়ো কেমিস্ট্রির বিদ্যে নিয়ে শিশুটির ক্লোন তৈরির কাজ শুরু করলাম l বারবার ব্যর্থ হচ্ছি,কিন্তু হাল না ছেড়ে চললো উদায়াস্ত পরিশ্রম l স্বপ্ন দেখছি এদের সমাজ ভরে উঠবে,সংখ্যায় বেড়ে উঠে যন্ত্র সভ্যতার মোকাবিলা করবেl

      পুনশ্চ : এর পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াতে আর বিশেষ কিছু জানা যায়নি l তবে আমার স্থির বিশ্বাস যে ডঃ গোস্বামীর মতো ট্যালেন্টেড বিজ্ঞানী নিশ্চই সফল হয়েছেন l হয়তো আবার কোনো নভশ্চর ওখানে গিয়ে পড়লে দেখতে পাবেন বাইনারি শহরের সাথে টেক্কা দিয়ে বেড়ে উঠেছে আর এক মানবিক গুনসম্পন্ন শহর l হয়তো দেখতে পাবেন নারীপুরুষের চিরন্তন আকর্ষণে বাঁধা পড়েছে রজত স্যার আর অরোরা,হয়তো টেস্ট টিউব বেবি না -তাদের কোলে এসেছে তাদের ভালোবাসার ফসল,হয়তো,হয়তো......

ছোট গল্প - বিপণন || লেখক - দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায় || Written by Darpana Gangapadhay || Short story - Biponon


 


বিপণন

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়




লকডাউনে বীথিদের অবস্থা বড়ই খারাপ গেছে ,ওদের রোজগার পাতি তলানিতে ঠেকেছে। যা জমানো ছিল তাও খেতে খেতে শেষ। এ বছর ওর বর একটা কারখানায় কাজ পেয়েছে। আগেরটা গেছে, যা হোক যা পাওয়া যায় তাই সই। বীথি ভাবলো দুটো কানের দুল আছে। ওগুলো বেচে পুজোর কাপড় তুলে বেচবে ,যেমন ভাবনা তেমনি কাজ দুল বেছে বড়বাজারে একটা বড় দোকান থেকে কিছু তাঁত ছাপা সিন্থেটিক শাড়ি কিছু বিছানার চাদর  আর কুর্তি লেগিন্স লুঙ্গি ইত্যাদি নেবে।


 শুনেছে বড় দোকান ধার দেয় ছেঁড়াফাটা ফেরত নেয় ,আবার দাম দিয়ে আরো নতুন জিনিসও নেওয়া যায়। কিছুটা বেচেই আবার যাওয়া যায় নতুন জিনিসের জন্য। তাহলে বেচার এবং কেনার বেশ সুবিধা হয়।

সেদিন বুধবার সকাল সকাল খেয়েদেয়ে বেরিয়ে পড়ল বড়বাজারের দোকানের সন্ধানে।

পেয়েও গেলো, দোকানের মালিক বসেছিল, তো তার সঙ্গে কথা হলো। মালিক বলল বেশ,--- কিন্তু একটা শর্ত আছে তোমাকে আমার দোকানে এসে সপ্তাহে তিন দিন বসতে হবে শিখতে হবে কিভাবে শাড়ি বেচতে হয় তারপর তোমাকে আমি সম্পূর্ণ ধারেই সবকিছু দেব,--- বিক্রি করে দাম দেবে। বীথি তো খুব আনন্দ পেল এবং বাড়ি ফেরার উপক্রম করছে ঠিক তখনই দুজন মহিলা ও একজন পুরুষ দোকানে প্রবেশ করল। আর বলল তারা দামি শাড়ি দেখাতে। মালিক বলল বীথি তুমিও বসে যাও । দামি শাড়ি দেখার শখ কোন মেয়ের না থাকে বসে গেলাম বড় কালো ট্রাঙ্ক থেকে একের পর এক বালুচড়ি বেরোতে লাগলো কোনোটা ৬০০০ কোনটা ১০০০০ কোনটা ১২000 কোনটা কুড়ি হাজার চলতেই থাকে চলতেই থাকে যতই দেখায় কিছুতেই মন ভরে না, একটা একটা শাড়ি রাখছে আর বলছে আরো শাড়ি দেখান এভাবে এক ঘন্টা ধরে দুজন কর্মীর কাল ঘাম ছুটে যাচ্ছে ,অবশেষে মালিক বলল (ইশারায় চুপ মুখে আঙুল দিয়ে। একটাও কথা নয় প্রথমে ঢুকেই আমি একটা সুন্দর রানী কালারের শাড়ি পছন্দ করে জিজ্ঞাসা করেছিলাম শাড়িটার কত দাম তখন মালিক বলেছিল কত আর হাজার খানেক হবে,) সেই শাড়ি খানা অত দামি শাড়ির ওপর ফেলল। বলল দেখুন তো দিদি। এটা গায়ে দিয়ে কেমন লাগছে সঙ্গের পুরুষটিও বলল আঙুল তুলে দারুণ। ব্যাস এবার দুজনেই বলে তাহলে আমি? মালিক বললে কোন চিন্তা নেই। আর একটা আছে,একই রঙের ডুপলিকেট।

আগের একটি দামী শাড়ি বাছা ছিল,

 মোট তিনটি হচ্ছে আরেকটি চাই মালিক বললে অসুবিধে নেই ওই যে গাট্টি আছে ওই গাট্টিতে আরেকটা আছে ঐরকম ডুপলিকেট শাড়ি আরেকটি শাড়ি ও একই রকম এনে দিল মালিক এবং বিল করল কুড়ি হাজার টাকা আর ওরা সেই চারটি শাড়ি কুড়ি হাজার টাকায় নিয়ে চলে গেল। এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়ল মালিক সমস্ত শাড়ি তোলার জন্য আর বলল বীথি তুমি ওদের একটু সাহায্য কর ওরা দুজনে যথেষ্ট এক্সপার্ট শাড়ি তোলার কাজে, তবুও আমাকে সঙ্গে নিল। আমিও কিছু শাড়ি পাট করে ওদের এগিয়ে দিতে লাগলাম বড় ট্রাঙ্ক  দুটো ভরে আসার সময় এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা এসে ঢুকলেন । বেশ সুন্দর দেখতে সাজগোজ করা এসে বসে হাঁপাতে লাগলেন মালিক বলল চা নিয়ে আয় ততক্ষণ একটু জিরিয়ে নিক ,তারপর আমি শাড়ি দিচ্ছি । মাসিমা বলল আমার পুজোর শাড়ি চাই আমি পছন্দ করব না ঠাকুর সবার তাই তোমরাই পছন্দ করে দেবে আমি শুধু নেব দেখো কালো না থাকে।বললে ঠিক আছে মা আপনি চিন্তা করবেন না মালিক সঙ্গে সঙ্গেই বলল গনসা ওই যে শাড়ি আমি একটু আগে ওনাকে  দিলাম ওই শাড়ি তিনখানা নিয়ে আসো বিস্কুটেতে লাল  যে শাড়িটা ওটা মা দুর্গার, আর হলুদ খোলে লাল পাড় যেটা ওটা মা সরস্বতীর ,আর সবুজে লালেতে যেটা সেটা মা লক্ষ্মীর আর তিনটি  কুঁচোনো ধুতি আনো, একটা শিবের একটা গণেশের একটা কার্তিকের তিনটে পাঞ্জাবি দিও একটা হলুদ একটা সবুজ একটা সাদা ।সাদাটা শিবের, হলুদটা গনেশের ,আর সবুজটা কার্তিকের ।আর ছটা  গামছা দিও, আর কলা বউয়ের একটা লাল পেড়ে শাড়ি দিয়ো। এছাড়া ছটা ধুতি ছটা লাল পেড়ে আলাদা।এতে বীথি মনঃক্ষুন্ন হয়ে বলল সবার জন্য দামি শাড়ি আর বাড়ির বউ এর জন্য একটা কম দামি লাল পেড়ে শাড়ি ! এ কথা শুনে মালিক বলল যে মায়ের এবার বেশি দামি শাড়ি পরার শখ হয়েছে শাড়িটা তুলে রাখো। মায়ের জন্য একটা দামি লাগবে ,মাসিমা বলল আমি কিন্তু দশ হাজার ই দেব এর বেশি দেব না তখনই ওর অপর কর্মী চা নিয়ে এসে হাজির হলো এবং মাসিমাকে চা দিতে লাগলো চা খেতে খেতে বলল আর শোনো মেয়ে,--- কলা বউ গণেশের বউ না কলা বউ নবপত্রিকা মা দুর্গার নয় রূপ কলা গাছের সাথে বাকি আটটি গাছ একত্র করে দুটো বেল মাঝখানে দিয়ে বাঁধা হয়। কলা গাছকে চান করানোর পর এবং এই নব পত্রিকাকে ৯ রূপ দুর্গা হিসাবে পুজো করা হয় দুর্গার ডানদিকে এই নবপত্রিকা থাকে। আবার দুর্গার ডানদিকে গণেশ ও থাকে ফলে মনে হয় গণেশের বউ। কিন্তু বউ হলে গণেশের ডান দিকে থাকতো না বাম দিকে থাকতো মানুষ এটা ভুল করে এই নটি গাছ হল হল কলা কচু হরিদ্রা, জয়ন্তী বিল্ব  দারিম্বো মান ধান অশোক আর যথাক্রমে দেবীর নয়রূপ হলো , ব্রহ্মনি কালিকা উমা কার্তিকী শিবা রক্তদন্তিকা চামুন্ডা লক্ষ্মী শোকরোহিতা এসব বলার পর দশ হাজার টাকা দিয়ে জিনিসপত্র গাড়িতে তুলে নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেল।

 মালিক বলল কি শিক্ষা হলো আজ তোমার? আমি বললাম দু'রকম ধনী দেখলাম। ছ্যাঁচড়া আর বনেদি ! মালিক বিস্ময়ে আমার দিকে চেয়ে রইল ,

কিছুক্ষণ পর বললো দুজনকেই শাড়ি বিক্রি করতে হবে, তবে পদ্ধতি আলাদা।