Thursday, March 30, 2023

ইশারায় কি বলে - উৎপল মুখার্জী || Onugoddya || অনুগদ্য || মুক্তগদ্য

 ইশারায় কি বলে? 

                      উৎপল মুখার্জী


   যামিনীর খেয়ালের পার্থিব সুখের মোহে স্বামী ছেড়ে স্বাধীন দিগন্তের দিশে হারা মানবী, ভালোবেসেছে চাহিদা নিরিখে, কখনো প্রজাপতি, নতুবা ভালোবাসার চায়না, গোলাপ ও জুঁই। পাখিরা আকাশ সীমানার ধারে করে কিচিমিচি, আপন আপন জগতে মনে ও দেহে মশগুল মানব - মানবী। পাহাড়িয়া সামতলিকে করে ইশারা, নদী সাগরের জোয়ার- ভাটায় করে খেলা। যামিনী নিশি -ভোর জেগে থাকে নিজের বলে কিছু পাবার? -রূপের অপ্সরা সৌন্দর্যে চোখের ও দেহের তৃষ্ণা ভরা মৌসুমের আগরবাতি, দুবছর স্বামী র ঘন চাহিদার ঘোলাটে আবরন আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে হঠাৎ বাংলাদেশের রাঙামাটি অঞ্চলে হাজির, কেননা সেখানে ই তাঁর জন্মস্থান। 

 কর্ণফুলির নদের কোপ্তা শাখার তীরে যামিনী র বাস, লাল মাটির দেশে মহুয়া বনের তলে চট্টগ্ৰামের ছেলে আবীর, দোল পুর্নিমার দিনে রঙীন হয়েই যামিনী র প্রেমে জড়িয়ে মধুমাখা রাতে তাদের কুঠিতে মহুয়া র আরকে বন মোরগের রোস্ট খেয়ে সন্ধ্যায় জোনাকির আলো তে লাল লন্ঠনের বাতি তে দুজন উন্মত্ত যৌবনে অধরা মাধুরী সৌন্দর্যের 

নেচেছিল, সাক্ষী ছিল চাকমা পরিবার, আকাশের অভেদ চন্দ্রের কিরন, ইশারা ছিল প্রত্যুষের দিগন্তে হরিনীর মত কোপ্তা নদীর স্নান ও রবির কিরনের উদ্ভাসিত প্রেম যূগলের মুর্তি। 

যামিনী দেহের আবরন খুলে নরম স্পর্শে স্পর্শকাতর হয়ে বলে ছিল- তুমিই কৃষ্ণ আমি ভোগী, - ভালোবেসেছিল গভীরে আবীর কে, চেয়েছিল দুর্দাম কেশর অঙ্গের একটা সুমধুর আবেদন, হ্যাঁ গো, ছেড়ে যাবে না বলো! আমি তোমার নয়নমণি হয়েই থাকতে চাই। 

আবীর বাংলার চট্টগ্ৰামের কাপড় কলে কাজ করতো। পরে সুতোর আঁশে তার ফুসফুসের রক্তক্ষরণ। আজ,যামিনীর সব আছে, নেই শুধু দেহের সুখ, চেয়েছিল আবীর তাকে জড়িয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে মর্দনের ডান বামের অঙ্কীয় পাঁজরের নরম সূঁচালো মাংসল খন্ড গুলি নিয়ে খেলা করুক, না - তা- আর হয় নি, 

ভালোবেসেছিল আরো অন্য পুরুষ কে, পার্থিব চাহিদা ঘিরে, ক্লান্ত মনের কিনারায় জন্মের ভ্রুণ এসেছিল, আজ সে পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা, স্বীকারের বাহিরে আবীর, ফিরে এসেছে সেই রাঙামাটিতেই, মনের শান্তি, দেহের ক্লান্তিতে সারা গায়ে লাল মাটি মেখে কানা ব্যোষ্টমী নীড়ে, পালক মাতা। 

আবীর জরা জীর্ণ শরীরে এসেছিল, বসন্তের শেষের ঠিকানায়, ঝুলন্ত সেতুর উওর - পশ্চিমের বাংলাদেশের সীমান্তের চাকমা অঞ্চল ঘিরে সেই পাহাড়ী উপত্যকা য়, বলেছিল- মৌচাকে রানী মৌ এর রেশম কীটের গুটির নীড়ে শিশুর দায়িত্ব নিতে পুরুষ মৌ য়ের চালিকা শক্তির উপাসক হয়ে, রানীর কাছের খবর -, চলো সেই বাড়ি যেটা তোমার- আমার, 

না - হলে ওরা আমাদের মেরে রেশমের কাপড় বানাবে!

কালো জগৎ করিবে আলো - পাভেল রহমান || কবিতা || Poem || Kobita

 কালো জগৎ করিবে আলো

   পাভেল রহমান



হে বন্ধু, কি হয়েছে তোমার বর্ণ কালো বলে!

কালো, জগৎ আলো করিবে তোমরাই দলে দলে।

বন্ধু, তাই তো কখনো ভুলে

কোরো না চিন্তে ফাঁস দিতে গলে

তোমার বর্ণ কালো বলে;

কর্ম দ্বারা হলে অজেয় জগৎ বলিবে , “কালোভাই”

-আমি তোমাদেরে বারে বারে এইই কথা বলে যাই।

অনন্ত অপেক্ষা - আনন্দ গোপাল গরাই || কবিতা || Poem || Kobita

অনন্ত অপেক্ষা

আনন্দ গোপাল গরাই


 

দিনদুপুর রাত্রে কানে ভেসে আসে

পিশাচের নির্মম উল্লাস। অন্যায়ের

রক্ত নিশান হাতে ঘুরে বেড়ায় স্বার্থান্ধ পশুর দল,‌‍

অবিচারের চোরাবালিতে ডুবে যায় ন্যায্য অধিকার।

ক্ষমতার দম্ভ কেড়ে নেয় প্রতিবাদের ভাষা।

এর শেষ কোথায়!

      

যে আকাশে সার দিয়ে উড়ে যায়

বুনোহাঁসের দল, সেই আকাশ হতেই

নেমে আসে হিংস্র শকুন - খুবলে খুবলে খায়

পচন ধরা সমাজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো---

উপড়ে নেয় দয়া মায়া মমতার স্নেহময় চোখ, 

দেখা যায় কঙ্কালসার চেহারাটা শুধু।

এর শেষ কোথায়!


সমাজবৃক্ষের মরা পাতাগুলো ঝরে গিয়ে

আবার গজাবে কবে নব কিশলয়---

বসে আছি চেয়ে আছি সেই অপেক্ষায়।

গ্রাম - সোহেল রানা || কবিতা || Poem || Kobita

 গ্রাম 

সোহেল রানা 


১.

ছায়ার ভিতর দিয়ে উঠে আসছে মায়া! 

মায়ায় আঁচল হাওয়ায়, হলুদ গন্ধে

টুনটুনির টুনটুন ভরা দুপুর... ভরদুপুর! 

কুটুম পাখি ডেকে ডেকে আগাম অনুষঙ্গ জানান 

গৃহস্তবাড়ি, 


মাঝি পাল বেয়ে ফিরছে, গোধূলি গোধুম... 

চাঁদনি রাতে কবিগান-পালাগানের আসার বসেছে 

প্রতিদিন নবান্ন; পিঠাপুলি সাজিয়ে হাত বাড়িয়ে ডাকছে 

আমার মায়াভরা সেই চিরসবুজ কায়া!


২.

এই ছায়া মায়া কায়া-

ধুলোমাটি, ঘাস, শিশির-

দোয়েলের শিস, ঘাসের বুকে ফড়িং নিবিড়!

খালে- বিলে- ঝিলে। 

আমি মাছরাঙা মন, হড়াই নদীর হাঁটুজলে

উড়ছি উড়ছি বাঁকে বাঁকে-

মাছ মাছ মাছ মাছ। 

শারদ-সুন্দর কাশফুলের আকাশ! 

ডানা মেলেছে শাদা-শাদা বকের পাল! 

আর এখানে দক্ষিণা বাতাস!

আর যদিও তুমি গাছ 

এখানে তার অটুট বন্ধনে শেকড়।


অচেনা - অসীম কুমার সমদ্দার || কবিতা || Poem || Kobita

       অচেনা 

অসীম কুমার সমদ্দার 


তুমি আসবে বলেছিলে কোন এক বিকেলে ,

প্রতিজ্ঞা ছিল কঠোর , নতুন করে ঘর গোছানোর ।

পাখিগুলোকে খাঁচা থেকে উড়িয়ে 

শুরু থেকে সিংহদ্বার সাজানোর। 

কিন্তু বিভ্রম ঘটেছিল কিছু অপার্থিব কারণে ,

তুমি ছিলে অলক্ষ্যে , ভুলিয়ে দিতে বাস্তবতা 

দুঃখের পাত্রে তুমিই ঢেলেছো গরল অমৃত শুষে নিয়ে ,

বারবার দাবি করেছো তোমার উপস্থিতির সার্থকতা ।

এ তুমি কেমন তুমি ছিলে কবি কল্পনায় !

যা দেখে শিউরে উঠেছিল ক্রুদ্ধ যম ।

বিবেক বিসর্জনে তুমি হও নি আহত ,

অতিথির কাছে তুমি আজ মূর্তিমতী ভ্রম। 




লেটার বক্সে - সৌম্যদীপ সাহা || কবিতা || Poem || Kobita

 লেটার বক্সে

সৌম্যদীপ সাহা 


রাস্তার পাশে লেটার বক্সে

কত চিঠি জমে আছে,

নিষ্ক্রিয় হয়ে কতকাল

সে নীরবে পড়ে কাঁদে।

চিঠিগুলো বুঝি হলুদ 

হল বাক্সের ভিতর থেকে

কষ্টের লেখা স্পষ্ট আজও

জীর্ণ চিঠির ছিন্ন বুকে।


বহু অতীতের সাক্ষী সে

কেউ কি সেসব জানে আর?

বাক্সের গায়ে জং ধরেছে

ভগ্ন হয়েছে শরীর তার।

মেল, মেসেজে বার্তা যায়

চিঠির আজ নেই প্রয়োজন,

মূল্যহারা লেটার বক্সটা 

ভাবছে কবে আসবে পিয়ন।


বসন্তের দিনে - বাপী নাগ || কবিতা || Poem || Kobita

 বসন্তের দিনে 

  বাপী নাগ



নতুন পাতা দোলে বাতাসে

বসন্ত যে এসে গেছে।

গাছে ধরেছে আমের বোল

পাখিরা গান গাইছে।


মিষ্টি রোদ আকাশের গায়

কুসুম কলি ফোটে।

উড়ছে পাখি দূর আকাশে

নেই যে তারা কষ্টে।


সুন্দর এই দিনগুলো আজ

তোমার হয়ে থাক।

তোমার এ ভালোবাসা কুহু

কোকিলের ডাক।


নানা রঙে বসন্ত এসে গেছে

হলুদ কিংবা নীল।

রঙের-ই ছোঁয়ায় মন ভরবে 

কতই আছে মিল।


আবিরের রং যে চারিপাশে 

গাছে পাখি ডাকে।

সবাই আনন্দে মাতে আজ

রং দেব যে তাকে।


এলো মনেতে আজ বসন্ত

মনেতে রঙ ছড়ায়

ফাগুনের এই দিনে দুচোখ

কত কি যে দেখায়।


রঙ খেলার এই দোলযাত্রা

ফাগুনের দিনেতে

হালকা হালকা মৃদু বাতাস

রঙে সবাই মাতে।

রাক্ষসী - মিঠু বিশ্বাস || কবিতা || Poem || Kobita

 রাক্ষসী


মিঠু বিশ্বাস 


প্রতিরাতে ফিরে আসে এক নারী আমার মোবাইলে

আমার আঙ্গুল ছুঁয়ে গড়িয়ে পড়ে শরীরে

চুষে নেয় আগুন-

চুলের আড়ালে চুমু খেতে খেতে টেনে নিয়ে যায় তার দেশে

রাত জেগে বসে থাকি তার কোলে মাথা রেখে

সকাল হলে উড়তে থাকে আমার রক্তাক্ত দেহ সীমান্তের কাঁটাতারে।

অন্ধকারেরা - মহা রফিক শেখ || কবিতা || Poem || Kobita

 অন্ধকারেরা

মহা রফিক শেখ


ক্লান্ত রাতের অন্ধকারেরা হা- পিত্যেশ করে বসে আছে।

সবে অমাবস্যা লেগেছে।

তবুও ভোরের আলোকে একবার ছুঁতে চাই।

গভীর গুহায় কিলবিল করছে বন্দী অন্ধকারেরা....

মুক্তি পেতে চাই।

বারবার আঘাত করে বদ্ধ পাথরে ।

যদি ফিনকি দিয়ে আগুনের রশ্মি বেরোয়।


গুমটি মেরে বসে থাকে - জমাট অন্ধকারে রা ।

শ্যাওলা হয়ে জমতে থাকে বুকের খাঁচায়।

সবুজ হতে চাই প্রাণের ভিতর প্রাণ পেয়ে।

দেশটার নাম ভারতবর্ষ - রবি রাম হালদার || কবিতা || Poem || Kobita

 দেশটার নাম ভারতবর্ষ 

 রবি রাম হালদার 



দেশটার নাম ভারত বর্ষ , স্পষ্ট দুটি ভাগে ,

 কেউ থাকে অট্টালিকায় , কেউ ভিক্ষা মাগে।

 একটি ছেলের দল আজও কাগজ কুড়ায় ,

একটি দল সেজেগুজে বেশ ঘুরে বেড়ায় ।

 কত শত মহিলারা রোজ সকালে বাসন মাজে ,

 বাবুদের বাড়িতে সবাই যায় ঝি-এর কাজে ।

 এক শ্রেনির বাড়ি - ঘর নেই, ফুটপাতে যাপন ,

 ফুটপাতকে করেছে তারা যেন কত আপন।

 এক দল ইটের ভাটায় কাজ করে সারাদিন ,

আবালবৃদ্ধবনিতা নদীতে ডুবে ডুবে ধরে মীন।

একশ্রেনি টাকার জোরে ঘুরে বেড়ায় বিদেশ,

একশ্রেনি থাকে অনাহারে,ছিন্ন বস্ত্র মলিন বেশ।

একটি দল কাঁকড়া ধরে সুন্দরবনের গাঙে,

বাঘে ধরার ভয় আছে জেনেও তারা মধু ভাঙে।

কেউ দেখি ঠাণ্ডা ঘরে বসে আপন মনে লেখে ,

দেশের সম্পদ চুরি করার ফন্দি ফিকির শেখে।

দেশটার নাম ভারতবর্ষ, দুটি ভাগ স্পষ্ট দৃশ্যমান ,

স্বাধীনতা- সমানাধিকার - কেতাবে বিদ্যমান।

খন্ডিত সময় - অঞ্জন মুখার্জী || কবিতা || Poem || Kobita

 খন্ডিত সময় 

 অঞ্জন মুখার্জী


যেদিন বড় হবো 

রক্ত নেশায় আগুন পাবে 

                   - - কথা ছিলো । 

সেই কবে বড় হয়ে গেলাম আর একবার 

চেয়ে দেখি গোলাম হয়ে আছি । 

কিছু থাকলে দিয়ে দিই সময়কে 

কিছুই থাকে না বাকি 

                 - - দারিদ্র কর্মে ।  

তবু , যখন খিদে পায় খাই 

বহু জন্ম ধরে বারে বারে । 

নাইবা কথা রইলো আজ 

এখনও তো বেঁচে

             - -বাঁচার নিয়মে । 

শুয়ে জাগা স্বপ্ন দেখি , সেই কবেকার - 

আগুন জ্বালিয়েছি পাথরে পাথরে ,  

খুঁজে পেয়েছি প্রান , প্রাগ - ঐতিহাসিক 

                    - - জ্বালামুখ । 

সুখ করে আগুন পুইয়েছি মধ্যযুগে । 

গোলাম তো মোটে , 

        - - এই অর্ধ শতাব্দীর ॥  

পদ্ম মধু - সবুজ জানা || কবিতা || Poem || Kobita

 পদ্ম মধু

সবুজ জানা



আগুনে ফেনার ভেতর আবহমান শুয়ে আছে রৌদ্রপায়ী সৈকত

সাংসারিক বিষে নীল হয়ে আসা নাবিকের চোখ  

তাকিয়ে আছে জলে

ক্রমাগত বৈষ্ণব বিনয়ী ঘরানার ঢেউ উঠে 

আর ধুয়িয়ে দেয় নরনারায়নের পা...

অখণ্ড ভারতবর্ষ পবিত্র হয়ে ওঠে

জগন্নাথ ঘাটে ডুবে যায় আমাদের চৈতন্যদেব

এমন করে ডুবলে যুগে যুগে ভেসে ওঠা যায়।


আমরাও এক একজন লোটাস ইটারেরই অবতার

স্ত্রীর দেওেয়া কমলালেবু আছে অফিস ব‍্যাগের ভেতর  

জিভের স্বাদ নিম্ন মধ‍্যপন্থার পদ্ম মধু।




বিচ্ছিন্ন ঘটনা - ইমতিয়াজ কবির || কবিতা || Poem || Kobita

 বিচ্ছিন্ন ঘটনা 

      -ইমতিয়াজ কবির


যে কঙ্কাল-হাত সযত্নে
চা পাতা তুলতে ব্যাস্ত;
নদী খাতের পাথর, ইট-ভাটায়, ক্ষেত মজুরিতে নিযুক্ত
প্রসূতির অপুষ্টি দেহ শুন্য রক্ত !
অজুহাত সার, শিক্ষা-সচেতন
বিলম্ব"রেফার'প্রশ্ন -ই বীমা-পরিবহণ
মৃত্যু রটনা শুধু-ই "বিচ্ছিন্ন ঘটনা '?
যে দেশ তোমার
সে দেশ-ও আমার !
রাজার রাজা নির্বাচিত
সবাই প্রজা জন্মগত
সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু
তত্ত্ব বড়ো-ই ভুল
ভিন্ন মেঘের বর্ষণে তাই
ভরে নদীর কূল !
দেহের মিলন রং দেখে না
মনের মিলন জাত !
শুন্য জঠর দুর্বল পানি কষ্ঠে জুটায় ভাত ।
বন্দী পাখির মুক্ত আকাশ
পশুর সীমানা.......!
মন-মণ্ডপে মানুষ পূজো
বিধি মেলাক ডানা...?