Monday, November 29, 2021

কবি সৈয়দ শীষমহাম্মদ -এর দুটি অনু কবিতা

৩)


যদি আমার কিছু ভালো চাস ওরে -

আমাকে বোঝ তবে আমার মতো করে ।


৪)


মানুষ হয়ে মানুষ সমাজে বাস করি,

করোনার কালে মানুষ দেখে ভয়ে মরি।

কবি চাঁদ রায় -এর একটি কবিতা

 চঞ্চল



নদীর মতোই কখনো চঞ্চল

কখনো বা রক্তস্রোতে প্রাণ পাখি

ঘাসের গোড়ায় মুখ নেই শূকরের মতো। 


সমগ্র শরীরে গঙ্গা বয়ে যায়

পাথর স্পর্শ করি কখনো

অথচ পারি নি আকাশের শিষ্য হতে। 


দুহাতে মেখেছি চন্দ্রাণু কখনো

মাদুর বুনেছি মনের কাঠি মিশিয়ে

তবুও গ্রীষ্মের প্রখরতা ঢাকিনি ছত্রছায়ায়। 


আমি চঞ্চল হরিণের মতো

চতুর্থ অবতারের বিষ্ণু ভক্ত কখনো

ধ্বংসের মাঝে শান্তি মানি নি তবুও।

কবি অভিজীৎ ঘোষ -এর একটি কবিতা

 ডিগ্রীর ঝোলা




তোমার আছে অনেক শেখা

বুদ্ধিজীবী হইছো তাই, 

আমার ঘটে গোবর ভরা

বুদ্ধু হয়েই থাকতে চাই। 

তোমার ফাইল ডিগ্রি ভরা

তাইতো এত অহংকার, 

আমার কাঁধে শূন্য ঝোলা

জ্ঞানের আশায় নির্বিকার। 

সংখ্যা ভেঙে অঙ্ক বানাও

লেটার দিয়ে শব্দ, 

আমার মতো অজ্ঞ যারা

সেই কলেতেই জব্দ। 

তোমার হাতের পেনের খোঁচায়

বিশ্ব জোড়া হিসাব রয়, 

আমার মতো মুর্খ হলে

জীবন শুধু দুঃখময়। 

জ্ঞানকে নিয়ে করছো খেলা

খেলতে খেলতে খেলোয়াড়, 

আমি শুধুই জানতে থাকি

তাইতো আমি জানোয়ার।

কবি বিধান সাহা -এর একটি কবিতা

 অজান্তে

 


রীতিমতো উচ্ছ্বাসের

প্লাবন বয়ে গেছে

আমার অজান্তে


চেনা অচেনার স্বপ্ন

নতুন মায়ায়

নতুন করে

আলোকিত করেছে

নিশ্চুপ মুহূর্তগুলো


আলোকিত আবেগ

নতুন ভাবনায়

নতুন প্রত্যাশায়

বুক ভরে দিতে চেয়েছে

নতুন মাধুরীতে


উচ্ছ্বসিত প্রলাপ

জোয়ারের বিপুল স্রোতে

ভাসিয়ে দিয়েছে

পরিবেশ পরিস্থিতি

সবই আমার অজান্তে ...

কবি শেখ নজরুল -এর একটি কবিতা

 পূর্ণিমার চাঁদ

           


আবার দুজনে হবে দেখা বিদায় লগ্নে,

বলবো খুলে মনের কথা ভালোবাসার সন্ধিক্ষণে।

নেমে আসবে সোহাগ

পূর্ণিমার চাঁদ,

দুজনার মনে অনুভব হবে ভালোবাসার স্বাদ।

শরতের শিউলি ফুলের সুগন্ধে বাতাস যাবে ভরে,

আমরা দুজন হারিয়ে যাবো প্রেম সাগরে।

মন দিয়ে দেখবো তোমার ওই চাঁদ মুখ,

ফিরে পাবো হাজারো অজানা সুখ।

তোমার হাসিতে মুখরিত হবে সোনালী সন্ধ্যা,

তোমাকে উপহার দেবো অঙ্কুরিত রজনীগন্ধা।

সেই অঙ্কুর ফুটিয়ে তুলবো আমরা দুজন মিলে,

সেই স্মৃতি গাঁথা থাকবে সারা জীবন দুজনার দিলে।

কবি ইব্রাহিম সেখ -এর একটি কবিতা

 সীমাহীন যাত্রা 




যে যাত্রা করেছ শুরু উঁচিয়ে ভুরু

কোন ঠিকানায়, কোথায় শেষ?

আঁকাবাঁকা কানা গলি

নিজের সার্থে সবাই চলি,

দাঁড়াবার সময় নেই এক নিমেষ।

তড়িঘড়ি তাড়াতাড়ি কুড়াই কড়ি

বাড়ছে বোঝা পাপের রাশি,

ঘুষের রাজা পায়না সাজা

স্বর্গ সুখে বাজাই বাঁশি।

বস্তাবন্দি দুরভিসন্ধি মগজ মাঝে

নানান ছন্দে দ্বন্দ্ব বাধাই,

ধনের তৃষা অতুল নেশা মনের ঘরে

দু-চোখে তাই ঘুম হারায়।

জীবন পাতার হিসাব খাতার

উল্টো দিকে অনন্ত ঘুম,

দিগ্বিজয়ের স্বপ্ন পুড়ে, আঁধার পুরে

মরণ যজ্ঞের লেগেছে ধুম।

শেষের-- শেষে,পরের দেশে যেতেই হবে

সেই যাত্রার নেই ঠিকানা--

কেমন করে আঁধার ঘরে রইবে পড়ে

কেউ জানো না,শেষ সীমা-না!

কবি উদয়ন চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

 জল শুকিয়ে যায়




কখনও কখনও আগুন কে

খায় মানুষ নির্লজ্জ নির্লিপ্ত নির্মমতায়

নিসপিস করে মনের ভেতরে ঘুনপোকা

অস্তিত্ব অস্বীকারে চোখ থেকে রক্ত ঝরে পড়ে

কৃষ্ণ ধূসরতা রূপান্তরে মায়াবী যন্ত্রণায় কাতরায়

আগুন ধুয়ে মুছে দেয় অস্তিত্ব 

সেখানে দীর্ঘশ্বাস নুয়ে পড়ে বিতৃষ্ণায়।

ধর্ষিতার ধর্ষণ হওয়াই ঠিক নিদেন দেয়

গেরুয়া রঙের জীবন্ত রামেরা

বাতাসে ওড়ে সভ্যতার ছাই

জীবনের ভঙুর অহংকার ছুঁয়ে থাকে অন্ধকার 

ছুঁয়ে দেয় সৃষ্টির ইতিহাস সংগোপনে।

আগুনই ছিল প্রাণের সৃষ্টির ঐতিহ্যের 

একান্ত প্রচেষ্টার নিয়ামক সেদিন --

আগুনই শেষ করে মানুষের ঔদ্ধত্য ছাই হয়ে

জল শুকিয়ে যায় সময়ের ক্যানভাসে।

কবি অরবিন্দ সরকার -এর একটি কবিতা

 বুদ্ধিজীবী

   



বুদ্ধি বেচেই জীবিকা তাই বুদ্ধিজীবী,

নাটক যাত্রায় শিল্পী পেশাদার বটে,

পালাবদলে ভূমিকা দিবি আর নিবি,

তুলি কলমে অঙ্কন সব এক ঘাটে।


শিল্পধ্বংসে উজ্জীবিত শিল্পে তালাচাবি,

বেকারের স্বপ্ন চূর্ণ বুদ্ধি লোপ ঘটে,

বুদ্ধিজীবী নেতা মন্ত্রী নাড়িয়ে পৃথিবী,

গুনগানে দলভুক্ত বেহায়া পা চাটে।


অমেরুদণ্ডপ্রাণীর শিরদাঁড়া উবি,

পথের লড়াই ভুলে পয়সা পকেটে,

কলমের নিব্ ভোঁতা সে যে রাজকবি,

বুদ্ধিজীবী পদলোভী এ দুর্নাম রটে।


গিরগিটি বুদ্ধিজীবি রঙ বদলায়,

আত্মসম্মান হারিয়ে শুধু খায় খায়।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 কৌশল বিষয়ক



সভ্যতার রকেটে চড়ে বিষ্ফোরণের কবিতা লিখি

ছন্নছাড়া শব্দগুলো অনাথ হলে আনকোরা ইতিহাস শিখি


দীর্ঘ পথের অনুভূতি ছুঁয়ে যায় হৃদয় কথা

বিবেকের ক্ষয়িষ্ঞু সূর্য ছায়া ফেললে মরমী বাতাসে বাজে তা


সভ্যতার পঙ্কিল অভিমান ডিগবাজি খায় অনাদরে

বিষাক্ত রক্ত কনিকা জাগে,ব্যস্তানুপাতিক ইতিহাসের গহবরে


ইতিহাসের ঐতিহ্য পাল্টে যায় দহনের বেড়াজালে

জন্ম দাগ ধূসর হয় প্রয়োগশালার কূটচালে

রক্তে মিশে অবিশ্বাস, লাজুক নগর আজ ভাঙনের কবলে

মোহময় অন্ধকার তাকিয়ে আছে , জাতিতত্বের বেড়াজালে।

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 নদীহীন



যে শহরে এনেছ ফেলে সেই শহরে কোনো নদী নেই

প্রতিদিন হা হা শব্দে নদী খুঁজেছি

তবুও লিখিনি কোনও নৌকার কবিতা

ভিজতে চেয়েছি প্রতিবর্ষায় থৈ থৈ হাঁটু জলে

ভাসিয়েছি আমার কাগজের নৌকা

দমকা বাতাস এলোমেলো করে দেয় আমায়

উল্টোনো নৌকাকে সোজা করে ঠেলে দিই

নদীহীন শহরের খাঁ খাঁ বুক

ওকেই আমি আপন করে নিই।

কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

 রোজনামচা 



কথাটা হয়তো অনেক আগেই বলার প্রয়োজন ছিল

কিন্তু বলতে পারিনি।

যদিবা নিজের স্বার্থে আঘাত আসে,তার জন‍্য

তবে কি আমিও ঘৃণ‍্য পশুর মতো হয়ে গেছি

না,ভেতরের মানুষটা এখনো যে জেগে আছে।

তাইতো এখনো রাত জেগে লিখে রাখি দৈনন্দিনের রোজনামচা 

ভোরবেলায় বাউলের একতারার সুরে গেয়ে উঠি মানবতার গান।

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 পরাজয় সুখ



সান্ধ্য সরণির আলোটা জ্বলেছে

সরোদ ঘুমিয়ে আজও,

এ কোন ব্যথা বাজে বুকে তার?

চেতনার রঙে ঢাকে লাজও।


ক্লান্ত প্রিয় মুখ ইশারায়

গোপনে সংযত দৃষ্টি

হাজারো যুদ্ধ চলেছে

তবুও কেন অনাসৃষ্টি?


বোঝেনি আকাশের মুখ ভার

দিয়েছে যা ছিল শরীরে

কিসের মালা আজও গাঁথছো?

জ্যোৎস্না চলে গেছে বহুদূরে।


ভেবেছ ভাঙবে অনুভূতি

অক্ষর মিশে যাবে স্রোতে

এখনো অভিমান হয় প্রিয়

দুঃখ টা যায়নি তো মোটে।


পুড়তে নেই কোন বিশ্বাসে

রাখতে নেই মনে আশা

গোলাপ ফুঁটেছে মরুভূমিতে

বিবেকশূন্য খেলা পাশা।


এখনও লোভ জাগে দুচোখে

আগুনে চমকে ওঠে বুক

নেশার ঝাপসা এ দুনিয়ায়

এ কোন পরাজয় সুখ।

কবি সুমিত্রা পাল -এর একটি কবিতা

 মৃত্যুর হাতছানি




মৃত্যু, তুমি হাতছানি দাও কেন বারবার ?

আগেও ডেকেছো কত, তাও মানিনি হার।

যতই ডাকো হারবে তুমি, করব বাঁচার লড়াই,

থাকবেই ঘাত প্রতিঘাত, তাকে না ডরাই।

চলার পথ তো কঠিন হবেই ,পাই না ভয়,

সব বাধা সরে গিয়ে একদিন হবেই জয়।

মৃত্যু তুমি কেন বারবার কড়া নাড়ো দ্বারে?

তোমার বিষাক্ত নিঃশ্বাস কেন পিঠে ঘাড়ে?

যাও যাও যাও তুমি, যাও যাও ফিরে।

কেন তুমি জাল বিছাও আমাকে ঘিরে?

কারণে-অকারণে ছল করে ,আসো ঘুম ঘোরে,

দরজায় দিয়েছি খিল, এসোনা আমার ঘরে।

হারবো না তোমার কাছে ,আছে মান হুঁস,

আমি নই মেরুদণ্ডহীন ভীরু কাপুরুষ।

হারিয়ে যাক যতই ,ঠোঁটের কোণে হাঁসি,

তবুও তোমার লোভের থাবায় ঝুলবনা ফাঁসি।

সুখ-দুঃখ দুই ভাই ,থাকে তারা কাছাকাছি,

দুঃখ যদি থাকে, সুখও আসবে পাশাপাশি।