Sunday, January 9, 2022

গল্প || লাস্ট প্রশ্ন || সিদ্ধার্থ সিংহ

 লাস্ট প্রশ্ন




বাড়ি ঢুকতেই বউ বলল, তুমি যে কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে গিয়েছিলে কেমন হল?

স্বামী বলল, অমিতাভ বচ্চন আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিল। লাস্ট প্রশ্ন। সাত কোটি টাকার।

--- কী প্রশ্ন?

--- জিজ্ঞেস করেছিল পৃথিবীর সবচেয়ে খতরনাক মহিলার নাম কী? আমি সাত কোটি টাকার মুখে লাথি মেরে চলে এসেছি। তাও তোমার নাম বলিনি।

গল্প || দীপ নিভে যায় || আশীষ কুন্ডু

 দীপ নিভে যায় 




অনেক দিন পর একা ট্রেনে চেপে বসেছে দীপ। 

অসুস্থতার পর এই প্রথম। ছাড়তে চাইছিলো না দীপকে একা একা, মিত্রা,অত্যন্ত চাপে থাকা অর্ধাঙ্গিনী। 

ট্রেন চলছে, হাওড়ামুখী। পৃথিবী দৃশ্যতঃ ছুটন্ত। সব পিছিয়ে যাচ্ছে যেন অতীতের পথে। গোলমাল একটা দরজার মুখে খড়গপুর পেরিয়ে ।একটা লোক বিনা রিজার্ভেশনে উঠেছে, টিটি ধমকাচ্ছে তাকে।লোকটা চেনা মনে হচ্ছিল। মনে পড়ছে না, খুব চেনা, খুব কাছের মানুষ মনে হচ্ছে। 

দীপ টিটিকে বললো, " ছেড়ে দিন না ওকে, গরীব মানুষ মনে হচ্ছে। " টিটি রেগে গিয়ে বললো, "নিজের চরকায় তেল দিন।"

মাথা গরম হয়ে গেল দীপের, "এরকম ভাবে

কথা বলছেন কেন? "

--" এই যে মশায়, সরকারী কাজে হস্তক্ষেপের ফল জানেন। " টিটিকে উদ্ধত মনে হয় দীপের। 

মাথা ঝিম ঝিম করছে দীপের। তবু একটা শেষ চেষ্টা হিসাবে দীপ বলে, "আপনি-- একটা

গরীব মানুষকে , --একটু ছেড়ে দিতে পারছেন

না,! "

এবার টিটি কার্যতঃ দীপকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে

দেয়। দীপ চোখে অন্ধকার দেখে। জিভ শুকনো লাগে। লোকটা সামনে। ভীষণ শ্বাসকষ্ট হচ্ছে দীপের।অসাড় হয়ে আসছে অস্তিত্ব। লোকটা হাত বাড়িয়ে ধরে, --বলে,-- "আমার হাত ধরো কোনো কষ্ট থাকবে না !"

হাত বাড়িয়ে দেয় দীপ। ------

দীপের পার্থিব শরীরটা শোয়ানো বাড়ির উঠোনে। দুটো জ্যোতি বলয় অলক্ষে শূন্যে মিলায়। 



কবিতা || বাধ্যতা || আবদুস সালাম

 বাধ্যতা




তরুণ ঘাসেরা স্নান সেরে নিলে কথোপকথনের শুরু

অপেক্ষার প্রান্তরে বুড়ি ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা ঢেউ এ ঢেউ এ বাধ্যতার রঙ্গমঞ্চ


রান্নাঘরের ফুসফুসে অনুভবহীন নাব্যতা

পিরিতির ফাগে মোহময় উষ্ণ সোহাগ চিকন গালের টোলে নিঃস্বতা লুকানো


ভালোবাসার দীঘল ক্ষণে জমে উত্তুরে হাওয়ার রুক্ষঘুম

আকাশ-পাতাল ভেবে ভেবে সুখ-দুঃখের এলোমেলো সংলাপ

বিশ্বাসের অলিন্দে উঁকি মারে ঔপনিবেশিক কুয়াশা


আলোর সীমানা জুড়ে ডানা ঝাপটায় জোয়ারের শান্ত উচ্চারণ

সুগন্ধি বাতাসে নিচে উঠে ময়ূরী

নতুন জলের ছোঁয়ায় নেচে উঠছে গর্ভবতী ঢেউ

কবিতা || সাজবো আমি শিম্পাঞ্জি || শ্যামল চক্রবর্ত্তী

 সাজবো আমি শিম্পাঞ্জি 




বেকার আমি ভাই,

চাকুরী খুঁজি তাই

 খবর পেলাম বিজ্ঞাপনে,

সাজদে হবে শিম্পাঞ্জি,

  কষ্ট কিছুই নেই।

চাকরি আছে এমে পাশে।

দেখবে আমার টিকিট কেটে

বাঁদর কিন্তু নয়।

হঠাৎ করে দেখতে এলো

বিজ্ঞ মহাশয়।

অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,

শেষে কিনা জন্তু হোলি ভাই?

মুখ ঢেকেদে শিক্ষাতে এ,

মূল্য শিক্ষার কই?

শিক্ষা দেবে জন্তু কত,

 বন্দি খাঁচায় তুই।

দেশ চালাবে শিম্পাঞ্জি।

মুচকি হাসে পক্ষী পশু,

 করলি স্বাধীন ভাই।

আবাস মোদের মুক্ত জগত,

  চিড়িয়াখানায় তুই।

কবিতা || রুবাই || সব্যসাচী মজুমদার

 রুবাই




নানকের চাঁদে পোড়া নবীন কিশোর

রেখেছে কাবিন সুর---এও নিবি, চোর?

যদিও দেওয়ানা একা কূহক ইতর


তবে যদি অন্ধ শুয়ে গ্রামের দোঁয়াশে

তুই ভুলে যাবি ধুলো হেমন্তের মাসে

--এ দেন মোহর নিস পাগল নিঃশ্বাসে


সমাধী নীলিমা হলো অঙ্গে লাগে ছুরি

আয় তবে মাঠে মাঠে ঋতু হয়ে ঘুরি

মিলাদে রুবাই হবে ভেলুয়া সুন্দরী


সুন্দরীর মাটি ভাঙে কামট হারায়

মধুর ঈষতে মানচিত্র মুছে যায়

পশুর মতন ঘুরি নদী ভরসায়


এরপরে গানে লিখবো তুই মন্ত্রনয়


নানকের চাঁদে লাগে কিশোরের ক্ষয়


কবিতা || পিতৃদেবতা || বিমান প্রামানিক

 পিতৃদেবতা


 


বাবা আমাদের সবার প্রিয় দেবতার সমান,

কখনও যেন তাঁকে না করি অপমান। 

বাবার সাথে জগতে কারও হয় না তুলনা, 

বাবার মত অতি আপন কাউকে পাবো না। 


জীবনের প্রতি ক্ষণে থাকে বাবার আশীর্বাদ, 

তাঁকে করলে অবহেলা জীবন বরবাদ। 

বাবা শুধুই থাকেন আমাদের মুখটি চেয়ে,

আমরাও যেন ধন্য ধরায় তাঁকেই পেয়ে।


আমাদের যত কিছু চাওয়া পাওয়া করতে পুরণ,

সর্বস্ব নিজের সুখ বিলিয়ে দেন সারাজীবন। 

'বাবা' জাতি এমনই হয় জেনে রেখো সবাই,

আবারও বলি বাবা শুধু আমাদের মঙ্গল কামনায়। 


আমাদের পরিচয় যেমন বাবাকে জড়িয়ে আছে,

আমাদের নিয়েই যত স্বপ্ন ভাসে তাঁর চোখে। 

শত অভাব চেপে রেখে মিটিয়েছেন যত আবদার,

চিন্তায় চিন্তায় বিনিদ্রায় কত রাত কাটে বাবার। 


কাজের চাপে সব ভুলেও হাসি মুখে ফেরেন বাড়ি,

ভাবেন-'সন্তানদের সুখের জন্য যতই হোক কাজটি ভারী।' 

আমরা বাবার কষ্টের দিনগুলি যেন কখনও না ভুলি,

তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই যেন কর্ম পথে এগিয়ে চলি।

কবিতা || মুখোশ || অভিজিৎ দত্ত

 মুখোশ 




অসৎ, নীতিবর্জিত মানুষজন 

আজও আছে সমাজে

আমাদের চারপাশে মুখোশ পরে

যখনই মুখোশ যায় সরে

আসল মুখগুলো বেরিয়ে পড়ে।


চারিদিকে শোষণ,বঞ্চনা,দূর্নীতি

প্রকৃত মানুষের খুবই অভাব 

প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি।

গোড়াতেই গলদ আমাদের দেশে

শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি লেগেই আছে।


আমরা যদি হতাম আন্তরিক 

শিশুদের প্রকৃত মানুষ করতে

পাঠ্যপুস্তকগুলি সব তৈরী করতাম

নীত আর আদর্শ দিয়ে।


মহাপুরুষ,স্বাধীনতাসংগ্রামী

কে না জন্মেছে আমাদের দেশে

এদের জীবনকথা কেন

জানবেনা আমাদের শিক্ষাথী'রা

দেশ যাদের সংগ্রামে উজ্জ্বল হয়েছে।


আমরা যদি স্বাধীন হয়ে

নিজের দেশকে ভালো না করি

তবে মিথ্যে এই স্বাধীনতা

এ নিয়ে ভাবতে 

সকলকে অনুরোধ করি।

কবিতা || করবো নাকো বারণ || ফরমান সেখ

 করবো নাকো বারণ

        


বিশাল তোমার ঘর- দালানে
      কাটছে মহাসুখে,
ধুঁকছে আমার হৃদয় খানি
    করছে জ্বালা বুকে!

মনোনান্দে তোমার মুখে
   ফুটছে অমল হাসি,
আমার তখন গহীন হৃদে
  বাজছে দুঃখের বাঁশি!

পরীর মতো রাস্তা-ঘাটে     ঘুরছো যখন তুমি,
কাঁপছে আমার বুঁকের পাঁজর
    নড়ছে হৃদয় ভূমি।

সারাবেলা বাড়ির পাশে
    মাতছো যখন রণে,
কাঁটার মতন কঠিন জ্বালা
    বিঁধছে আমার মনে!

আমার মনে ব্যথা দিয়ে
     হও যদি গো সুখী,
করবো নাকো কোনো বারণ
       হই যদিও দুখী!

কবিতা || ক্যানভাস || নমিতা বোস

 ক্যানভাস

      



নিশ্চয় কোথাও আগুন লেগেছে ,

নাহলে শূন্য কলসির দিকে ঝুঁকছে কেন কিছু দ্বন্দ্ব বিবাদ!

উদ্দ্যেশ্য বিহীন রক্ত ক্ষরণ গন্ধহীন ,অর্থহীন।

পরিচিত অক্ষর শুকনো কাঠে বেঁচে থাকার লড়াই করছে।

পরিমার্জিত হতে চাইছে বর্নলিপি।

কাল ও তো তোমাকে দেখেছি সজীব দেহে,

জতিস্মরের জন্মা থেকে জেগে ওঠা আলোক মালায় ,

তখন তো কোনো আভাস ছিল না অনিশ্চয়তার কাল্পনিক সিড়ির ,

তবে কেন এই অগ্নিপ্রীতি,আর অনভ্যাসের সপ্তসুর ?

তবে কি বুঝে নেবো বর্ষারম্ভের প্রাক্কালে এই গোলাকার পৃথিবীর শরীরে সুর্য্যের দংশন আলপথে মহাদেশ গুলোকে ক্যানভাসে রেখেছে শুধুমাত্র দিনরাত্রির প্রত্যাশায়?

কবিতা || কুয়াশা || সামসুজ জামান

 কুয়াশা

           



ইদানীং আমরা সবাই শান্ত হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে

বেদনা জাগাতে ভালবাসি। কুয়াশা সবার অন্তঃপুরে।

 কেউ আর থাকি না সরল, কেউ নই আজকাল ভালো। 

টেনে নিই মনে জটিলতা, তাই মুছে যায় সব আলো।

আলো মুছে কালো নয়, দেখা যায় দূরে ভাসা ভাসা

পাব নাকি হারিয়ে যাবে? একেই তো বলে কু-আশা।

 কুয়াশার কু টা ছেড়ে দাও, পাবে তুমি নিশ্চিত আশা।

 খুঁজে পাবে জীবনের মানে, হারিয়ে যাবে না ভালোবাসা।

 না হলে যে প্রতি পদে পদে হারাবেই জীবনের খেই,

 আশার সূর্যটা দেখো, এই আছে, এই দেখো নেই।

 সূর্যের এত বেশি জ্যোতি, কুয়াশার কাছে যাবে হেরে?

 কুয়াশার জটিলতা এসে জীবনের আলো নেবে কেড়ে?

জীবনের মানে খুঁজে নাও। জীবনের গাও জয়গান।

 জীবনে শুধু ভাল থাক, কুয়াশার না থাকুক স্থান।

কবিতা || আগামীর আশায় || বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র

 আগামীর আশায়




সবেমাত্র কুয়াশার আঁচল ভেদ করে,

ম্রিয়মান অরুণের জলছবি ভেসে উঠে—

সাগরের তরঙ্গ দোলায় দোদুল দুল৷ শীত পরি

হাওয়ার দাপটে ঝাঁউয়ের বন বেসুরো মাতাল৷

পাখপাখালি, শঙ্খচিল আর হকারের হাঁকডাক

ঝিঁঝিঁ পোকার মতোই ক্রন্দন রত বেলাভূমি পরে৷

নিত্য যে ক্ষুধার অন্ন চাই৷দু চোখে আঁধার৷

কখনও পেট ভরে না মিঠে কথা আর স্তোকে,

তাই গৃধিনীর মতোই চেয়ে থাকা সুদুর থেকে৷

সময় পুড়িয়ে যায় মনটাকে বাগনলের মতো—

 তবুও সে এখনো খাঁটি সোনা হতে পারলো না৷

একরাশ খেদোক্তি নিয়ে বসে থাকা জীবন খাদে

শুধু অপেক্ষা—কখন সে মুক্তির আশায় গড়িয়ে পড়ে ঝরণার মতো৷

আর তার গড়িয়ে পড়া জলতরঙ্গ থেকে শুধু অনুরণন উঠবে তেমমি আগের মতো অবিরত৷

পাখি যেমন চঞ্চু দিয়ে পালক ঝরায়৷

এ শীতের লগনে তেমনি আমলকি গাছে শূন্য হবে পাতা৷

শুধু কঙ্কাল নিয়ে বেঁচে থাকবে সে আগামীর আশায়৷

কবিতা || কাঁসার গ্লাস || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

 কাঁসার গ্লাস




রোদের টিলা ভেঙে চৌকাঠে দাঁড়াই

সামনে এগিয়ে আসে একটি কাঁসার গ্লাস

কানা-উপচে আলোর মুখে শিশিরের মতো চমকায় প্রেম

আমার শরীরের প্রতিটি ঘামের ফোঁটায় ফোঁটায়

ফোটে উঠে প্রশান্তির কুসুম।

কবিতা || আমাদের উঠোন নেই || সোনালী মীর

 আমাদের উঠোন নেই




থ্রি বি এইচ কে ফ্ল‍্যাটে

সাজানো ডাইনিং ড্রয়িং আছে

উঠোনটাই কেবল নেই ;

দক্ষিণখোলা বারান্দায় মাদুর পেতে বসে

উঠোনময় জ‍্যোৎস্নার মায়াময় খেলা,আর

বারান্দা ঘেঁষা শিউলি কামিনীর তারা হয়ে যাওয়া,

নেই।

ব‍্যালকনি থেকে বৃষ্টিপড়া দেখি এখন

জল থৈ থৈ বৃষ্টিতে নেচে

কাগজের নৌকো ভাসানোর উঠোন নেই

স্নানের আগে তেলমাখা গায়ে ছুটে বেড়ানো শৈশবের উঠোন

এককোনে মানকচু আম লিচুর আলোছায়া মাখা

ভয়ের উঠোন

চু কিৎকিৎ খেলার 

খঞ্জনি বাজিয়ে বৈষ্ণবীর গান শোনার 

অনাবৃষ্টিতে ব‍্যাঙের বিয়ে দেখার 

উঠোন নেই।

ড্রয়িং রুমে মেকি আলো,টবে গাছ আছে

দাদিমার রোদ পোহানোর

মায়ের গন্ধমাখা শাড়ি মেলে দেওয়ার 

উঠোন গেছে ঢেকে।

ছোট পাখি আসে না আর ধান খেতে


উঠোনবিহীন ঘর,হৃদয়, সম্পর্ক ছোট হতে হতে 

প‍্যান্ডোরার সেই চারকোনা বক্সে জমছে 

একাকীত্বের কষ্ট,সঙ্কীর্ণতার ভয়


দেওয়াল ভাঙার শব্দ শুনি রোজ

ছাদখোলা আকাশ ছোঁয়ার নির্মল আদুরে উঠোনটা

গেছে হারিয়ে।