Sunday, January 23, 2022

Poem || Only for you || Chand Roy

 Only for you

       



Thousands of roses in a Gulab Bag

  With the smile of the moon, 

I can apply pearls all over my body

Can spread butter, spread with both hands

They can count

 One can bring a star through the sky

I can go to the stars in a Malay chariot

I can write poetry in a sleepless night in solitude

I can dance, I can dance with the song

Happiness can float in memory

I can come to the Ganges again and again

I can see, I can show around

I can touch the blue sky,

 I can give the mind

 At the source of the heart. 

 I can pull the silver moon down, I can land

I can come in the transparent water of love

 I can travel around the world-- I can lift the world

I can forget all the sorrows by love

I can do everything today only for you, only for you

 Just get close to you.

রম্যরচনা || শিরে সংক্রান্তি || অরবিন্দ সরকার

 শিরে সংক্রান্তি

                    

             


তখনকার দিনে স্বামী শ্বশুর ভাসুর বা গুরুজনদের নাম করা যেত না।যদি মুখ ফস্কে বেড়িয়ে যেত তাহলে গোবর দিয়ে মুখ শুদ্ধিকরণ করতে হত। তারপরেও অকথ্য আচরণ করা হত বৌ দের প্রতি। সে সময় রসগোল্লাকে অসগোল্লা,আখকে রাখ,রেনুকাকে এনুকা, প্রতিমাকে পিতন ইত্যাদি বলতো।

এমন দিনের একটি ঘটনা হল- পাতনা গ্রামের শঙ্কর দাসের বাড়িতে।শঙ্কর দাসের ছেলের নাম- পিতাম্বর ও পুলিন। দুই ছেলের দুই বৌমা।


আজ পৌষ মাসের সংক্রান্তি। মকর সংক্রান্তিও বলে। বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে পুলি শুরু। একেবারে সরস্বতী পূজা অবধি এই ধূমধাম।

শঙ্করের দুই বৌমা রাধারানী,ও কেতকী দুজনেই আলোচনা করছে আজ তো শিরে চালগুলো হবে। 

শাশুড়ি হৈমবালা বললো তোমরা কি বলছো গো - আজ যে সব পালন।

বৌমারা - কি পালতে হবে আমাদের। খাওয়া দাওয়া বন্ধ কি আজ?

শাশুড়ি- না না ,তোমরা এসো আমার সঙ্গে।আজ যে মাসের শেষ--

রাধারানী- জানি তো সংক্রান্তি। আজ পিঠে পুলি হবে।

শাশুড়ি - হেইমা রে হেইমা!রামো রামো ,ছিক্কো!- আস্পর্ধা দেখো! তোমার মুখে পোকা হবে। শ্বশুরের নাম করলে তুমি। আমি কোনদিন বিয়ের পর ওকথা মুখেও আনিনি।আর তুমি---

রাধারানী- মা ! সংক্রান্তি আর শ্বশুরের নাম একেবারেই আলাদা।

শাশুড়ি- ছোট মুখে বড় কথা। তুমি আগে এসেছো এ বাড়িতে না আমি এসেছি? মুখের ওপর কথা। এক্ষুনি একটু গোবর মুখে দাও ও গঙ্গাজল মুখে নাও। সহবত শেখো?

পীতাম্বর তার বৌকে বলল - তুমি মায়ের কথা অমান্য কোরো না। তাহলে হুলুস্থুল কাণ্ড হয়ে যাবে।এ বাড়িতে এসব চলবে না।

রাধারানী - আমার শিরে সংক্রান্তি! মুখটা অশুদ্ধ হয়ে গেল নাম নিয়ে। শঙ্কর, মহাদেব, কৃষ্ণ, গোপাল, হরি, কার্তিক, শিব, এসব নাম কেন রাখে লোকে? কেউ কি এরা দেবতা হতে পারবে ? তার চেয়ে ওদের বাহন ষাঁড় হয়তো হতে পারবে। তাহলে বাহনের নাম রাখাই ভালো। তখন আবার ছেলে মেয়েদের গরু বাঁদর বলতে পারবো না।কি কুলক্ষনে যে এ বাড়িতে পা দিয়েছি।বাবা আমার সদাশিব তাই এসেছি এ বাড়িতে।বহু জন্মের পাপ ক্ষয় করতে।

শাশুড়ি- আবার বললে? 

রাধারানী- না তো? কখন বললাম আবার! 

শাশুড়ি- ওই যে অপর নাম বললে? 

পিতাম্বর- ওই যে শিব বললে? শিব শঙ্কর একই ব্যাপার।

রাধারানী- ঠিক আছে আমি মুখ শুদ্ধিকরণ করছি আর মুখ খুলবো না।

পুলিন- কেতকী তুমি কিছু বলোনি তো?

কেতকী- আমি তো বলার সুযোগই পাইনি। দিদিভাইয়ের সঙ্গেই তো ঝামেলা হচ্ছে।ও পিঠে পুলি খেয়ে লাভ নেই। বাপের বাড়ীতে ঢেক্ খেয়েছি।

শাশুড়ি- বৌমা তুমি আমার ছেলের সামনেই ছেলের নাম করলে? পুলি বললে? মুখে পোকা হবে ।সোয়ামীর নাম জানো না? পুলিন নাম। তাও মাথা খেয়ে, ভুলে বসেছো?

কেতকী- তাহলে তো ওগুলো খাওয়াও যাবে না। তাহলে বলবেন সোয়ামীকে খেলি।থাক্ মা - ওসব খেয়ে লাভ নেই! গোবর গঙ্গাজল খেয়েই থাকবো।সবাই যদি অষ্টোত্তর শতনাম রাখেন তাহলে তো চলতেই পারবো না। রাস্তার নাম পুল , তাহলে হাঁটব কি করে। শুয়ে থাকতে হবে! কত্তাঠাকুরের নাম শ্রীবাস ,তাই এখনো বিছানা বলতে পারি না।

গ্রামের মোড়ল হাবলবাবু এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হাঁক পাড়লেন কি হয়েছে গো শঙ্কর। চেঁচামেচি কেন?

শাশুড়ি হৈম - মাথায় মাথায়‌।

হাবল- মাথায় কি হল?

হৈম- আজ মাথায়!

হাবল- ঠিক আছে কাল শুনবো।আজ তাহলে থাক্।

হৈম- তা নয়!

হাবল- তাহলে?

হৈম - আজ পার্বন তাই বলছি। মাথায় !

হাবল- ও শিরে সংক্রান্তি বলছো!

রম্য রচনা || ছেলেবেলা || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 ছেলেবেলা


   ছেলেবেলায় কী ঘটে আর কী ঘটে না তা বোধকরি লিখে বা এঁকে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু তারই মধ্যে স্মৃতিপটে অমলিন। তাকে রঙ তুলি কিংবা পেন পেন্সিল দিয়ে নিজের মনের মতো বাগিচায় সাজানো বাস্তববিকই দুষ্কর। 

          অথচ ছেলেবেলায় ঘটা ঘটনার আউটলাইন করে যে ঘটনার পুননির্মাণ করবো তাও ভেতর থেকে সাড়া মেলে নি। কেননা, অবসর যে নেই ফিরে তাকানোর। তাই আগামী দিনের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করি-- যেটা মানব ধর্মই বলা যেতে পারে। যেটা কিন্তু অনেক সময়ই অন্ধকারে পড়ে বালকমনে বেশ কিছু ছবিই অকপটে নিজের কাছে নতজানু হয়ে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য হয়।। সুতরাং ছেলেবেলার ঘটনা মনের ওপর ছাপ ফেলার আগেই নিমেষে সংশোধনাগারে বন্দীত্বকে মেনে নেয়। 

       এই ছেলেবেলার উজ্জ্বলতা যথাযথভাবে সংগ্রহ করে ফটো ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখা বিশ্রামাগারে বসে গাড়ির জন্যে অপেক্ষা করার মতোই নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। তবুও চেষ্টা করছি যতটা মনে পড়ে। পিছনের দিকে তাকালে নিজের পিঠেও কী আছে জানা যায় না। বিনোদনের কিছু কেউ মনে করালে তবেই বোধহয় বর্ণনা দেয়া যায় বা সম্ভব।। মনের মধ্যে অনেক ঔৎসুক্য জমা হলেও বিচিত্র বর্ণে তাকে সাজিয়ে রাখা হয়তো আমার মতো ক্ষীণ দুর্বল চিত্তের মানুষের পক্ষে একদমই মানানসই নয়।। 

      আবার এমন কিছু নেই যেটা কে মনে করে চিরস্মরণীয় করে কেউ খোঁপা বাঁধতে সক্ষম হবে! তবু

তারই কিছু খন্ড চিত্র আজও লিপিবদ্ধ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করে চলেছে প্রতিনিয়ত আমার লেখনীর দোরগোড়ায়।। এটা সাহিত্য নয় জেনেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জানাতেই যেন এই শুদ্ধিকরণ আর কি! 

                   শৈশব

 তখন কেবল আমি একা। যদিও জাড়তুতো দিদি শ্যামলী আমার থেকে বড় হলেও একসাথেই পড়াশোনা করেছি। যৌথ পরিবার (প্রায় ৭০/৭২) ভুক্ত হবার কারণে জাড়তুতো, খুড়তুতো, বা সহোদর, সহোদরার মানে বোঝানো হয়নি, সেসময় বা বুঝতে শিখিনি। পাঠশালা নয়। নিজের বাড়িতে এক মাটির ঘরে বসে পন্ডিত মশাই সনাতন চক্রবর্তীর কাছে শিক্ষা শুরু। 

তার আগে বাড়ির কাছে ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরের দোরে হাতে খড়ি। বিশাল একটা চক( আয়তনে প্রায় ৭/৮ ইঞ্চি হবে। দুদিকটা সরু মাঝে মোটা পটল আকৃতি।) অ আ ক খ লিখে সেই যাত্রার শুরু। তারপর বাড়িতে পড়াশোনা। সংস্কৃত পড়াতেন ঐ পন্ডিত সনাতন চক্রবর্তী। আমার উচ্চারণে বাবা অনুপ্রাণিত হয়েই বোধহয় কাব্য মধ্য তীর্থ বেদান্ত পড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেটা যদিও আর বাস্তবে রূপ পায়নি। বাবার মামাতো ভাই শ্যামসুন্দর দত্ত নাকি খুব ছোট্ট বয়সেই কীর্তনীয়া কোনও নবদ্বীপ গায়কের ভুল ধরে দিতে পেরেছিলেন যখন তাঁর বয়স মাত্র ৯/১০! সেই শুনে আমার কাছেও বাবার ইচ্ছাগুলো নাভিশ্বাস তুলতো মনে হয়। সেই মামাতো কাকা পরে ভারত সরকারের বিশিষ্ট পদে আসীন ছিলেন এবং উলুবেড়িয়ার সাব --জর্জ নিযুক্ত হয়েছিলেন। আবার পরে রিটায়ার্ড হয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ফুড করপোরেশনের ম্যানেজার হয়েছিলেন -- শুনেছি। গুটির ( হুগলি) তৎকালীন বিখ্যাত জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন সেই শ্যামু কাকা। আমার দাদু মানে বঙ্কুবিহারী পাইন সেই জমিদার বাড়িরই জামাই। শুনেছি- পায়ে হেঁটে শ্বশুর বাড়ি যেতে হতো সেসময় প্রায় ১৪ কিমি।যাবার পথে রাস্তায় একদিন কোনো এক অজানা ভিক্ষুক দাদুর কাছে একটা কাপড় চাইলে দাদু তৎক্ষণাৎ নিজের ধুতি খুলে দিয়ে একটা গামছা পড়ে শ্বশুর বাড়ি যান। জমিদার বাড়িতে সবাই অবাক হলেও সব শুনে আর কিছু প্রতিবাদ করেননি। আমি সেই বংশজাত বলে বাবা তাই বারবার আমাকে অনুপ্রাণিত করতেন। যেটা নাকি আমাকে পরে সেই দাদুর উত্তরসূরি বা পুনর্জন্ম নেওয়া ভেবে আমাকে আমার নাম না ধরে 'বাপ'বলে সম্বোধন করা হতো। ঠাকুরদা আমি জন্মাবার মাত্র বছর দুই আগে যদিও মারা গিয়েছিলেন। আর ঠাকুমা মারা যেতেই আমাদের বেনে পাড়ায় যত পুজো অনুষ্ঠিত হতো( দুর্গা, অন্নপূর্ণা, বাসন্তী)সবই বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বাড়িতে দুর্গাপূজা হতো। এক বৎসর কোনও এক ব্রাহ্মণ এমন আরতি করেছিলেন-- যেটায় ঠাকুমা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কেননা, সেই বৎসর আমাদের কূল পুরোহিত মারা গিয়েছিলেন বলে অন্য ব্রাহ্মণ পুজো করেছিলেন। সেটা শুনে জেনেছি-যে জন্য আর পুজো হয়নি। যদিও আমি ঝোঁক ধরে অনেক বড় বয়সে বাবাকে জানিয়ে ই দুর্গাপূজা আনিয়েছিলাম। যেটা বেশি বৎসর অবশ্য চালাতে সক্ষম হইনি। বাবা মারা যাবার পরে পরে বছর দুই চালাতে পেরেছিলাম মাত্র। সেটা অবশ্যই পরের কাহিনী। আমি আমার খুব ছোট্ট বয়সে আমাদের বাড়ি থেকে লুপ্ত হয়ে যাওয়া কিছুটা উল্লেখ করতাম বলে আমার প্রতি একটা অন্য টান ছিল বাড়ির সবারই। যাই হোক্-- সেসবই অন্য ব্যাপার। 

   এখন শৈশবের পর্দা খোলা হয়েছে। সেটাই অভিনীত হবার কথা। তাই ওদিকে না এগিয়ে শৈশবের কথাই বরং বলি। যৌবনে একদিন হঠাৎই মা ডেকে এনে ছড়া লিখতে বলেন- সম্ভবত ১৯৬০/৬২ সালে। তার পরেই আমার কলমের পথ চলা বা এগিয়ে চলা। 

 লেখাপড়া চললো। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করা হলো তৃতীয় শ্রেণীতে। বয়স তখন ৬ ( ছয়) হয়নি। তাই কিছুটা বয়স বাড়িয়ে ভর্তি হতে হলো। জন্ম আমার ১৯৫২সালের ১৯ এপ্রিল। করা হলো ১৯৫২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সনাতন পন্ডিতের পরে শিক্ষক হলেন কাশীনাথ করাতি, পরে সত্য রঞ্জন সাধুখাঁ এবং সবশেষে দেবীপুর গ্রামের সুদেব গাঙ্গুলী মহাশয়। যখন লেখা চলছে অর্থাৎ ১৪২৮ বঙ্গাব্দেও যিনি জীবিত আছেন। সেখান থেকেই সোজা কলেজের পান্থ দেশে। এর আগে চতুর্থ শ্রেণীর বৃত্তি- পরীক্ষায় অবশ্য উত্তীর্ণ হতে পারিনি। শ্যামলী দিদি ও আমি ক্লাসে প্রথম ও দ্বিতীয় হলেও দুজনেই কিন্তু চতুর্থ শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় ফেল। তারপর পঞ্চম শেণীতে ভর্তি হলাম। শ্যামলী দিদি র পড়া হলো না। কেননা, নারীদের পড়াশোনা করার পক্ষে তখন কেউ ছিলেন না। স্কুলও ছিল না। আমি ভর্তি হলাম গড় ভবানীপুর রামপ্রসন্ন বিদ্যানিকেতনে। যেটি আর এক স্থানীয় জমিদার (রায় )বংশেরই একজন ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা।

    এখানে এই স্কুলে স্বয়ং বিদ্যাসাগর মহাশয় একবার পদধূলি দিয়েছিলেন, রাত্রি যাপনও করছিলেন-- শুনেছি তাঁর হস্তাক্ষরের নমুনা আজও বিদ্যমান।( আমি পরে এই স্কুলেই বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছি। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছি)! যাক গে সে কথা। ভর্তি হবার পর থেকেই আমি সকল শিক্ষকদের খুব অনুগত এবং গুণগ্রাহী ছিলাম। কারণ কী অবশ্য কোনও দিনই জানতে পারিনি। বাবার উঁচু মাথা নাকি আমার ব্যবহার বোঝা যায়নি। যদিও ক্লাস ফাইবের ফাইনালে আমি বিজ্ঞানে অকৃতকার্য হই। বাবা আমাকে ষষ্ঠ শ্রেনীতে তুলতে রাজি হননি। আমি কেঁদে কেঁদে যখন অন্যরকম তখন স্কুলের শিক্ষকদের আব্দারে বাবা ষষ্ঠ শ্রেণীতে তুলে দেন একপ্রকার বাধ্য হয়েই। আবার সেই শ্রেণীতে হাফ ইয়ারলি পরীক্ষাতেও আমি বিজ্ঞানে ফেল করি। তারপর ফাইনালে যদিও আমি পঞ্চম হই। প্রগ্রেস রিপোর্ট দিয়ে তাই সেই সময়কার মাষ্টার মশাইরা বলেছিলেন-- দেখুন দেখুন , গার্জেন যদি লক্ষ্য করেন তাহলে "সঠিকটা" কেমন সম্ভব। তারপর থেকে শুধুই উঁচুতে ওঠা। পরপর ক্লাসে উন্নতি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়ে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায় বসা। এবং সেখানে দ্বিতীয় হওয়া। মাঝে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। যদিও এটা এখন সম্ভব কিনা আগামী ভবিষ্যৎ ই বলবে। এখনকার ছেলে মেয়েরা তো বাবার মায়ের শসন মানতেই চায়না। তারা উচ্ছৃঙ্খল কিনা বলতে পারবো না। কিন্তু বড়ই অবাধ্য। কিছু একটা চেয়ে না পেলেই আত্মহত্যা করতেও পিছপা হয়না। একবার আমি বাবার কাছে একটা জুতো আব্দার করলে বাবা দূর অদৃশ্যের দিকে আঙুল বাড়িয়ে বলেন দাখো একট লোক হাঁটছে। একটা পা নেই। তোমার দুটো পা আছে একজোড়া জুতো আছে। আবার কিসের দরকার!?

     ভর্তি হতে গিয়ে বাসে মামার পকেট থেকে টাকাকড়ি সহ সমস্ত সার্টিফিকেট খোয়া যায়। । আবার ডুপ্লিকেটের জন্যে কলকাতা থেকে এসে স্কুল থেকে ফের ভর্তি হতে যাওয়া। আবার ভর্তির ঠিক পূর্ব মুহুর্তে কলেজের ক্যাশ কাউন্টার থেকে বাবাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয় "কোথায় ছেলে থাকবে"!? বাবা অকপটে কলেজ হোষ্টেলের কথা বললে-- কাউন্টার থেকে ফেরত দেয়া হয়। বলা হয়" আগে ঘর দেখুন। তারপর ভর্তি। এখানে থাকলে ছেলে মরে যাবে।" ঘর খুঁজে তারপর ভর্তি হলাম। একা একা রান্না করে কলেজ করার অনুমতি নিয়ে। ভাবাই যায় না। যে --আমি এর আগে কোনো দিনই কিছুই করিনি,-- জল খাওয়া , স্নান করা, জামা প্যান্ট পড়া কিচ্ছু না সেই আমি সূদুর কলকাতায় এক্কেবারে একা! বাবার ভগবানের ওপর ভরসা আর মায়ের বিদায় কান্না আজও বড় মনে পড়ে। যেন মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির পথে এগিয়ে দেওয়া। সেটা ১৯৬৭ সালের কথা। অবশ্য প্রথম বছর হাওড়ায় পিসিমার ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা শুরু। পিসিমা ছিলেন বিধবা এবং খুবই গরীব। কিন্তু "সেজদা "র ছেলে হিসেবে যথেষ্ট যত্নশীল ছিলেন আমার ওপর। পিসিমার ছোট ছেলে খোকন পড়াশোনায় একেবারেই ভাল ছিল না। তবুও আমার সাথে নিবিড় ভাবে যুক্ত ছিল। বয়সে আমার থেকে একবছরের বড়ো। কিন্তু বোকা হাঁদা যেন। একসাথে রেশন তুলতে, বাজার করতে যেতাম-- হাওড়ার তাঁতিপাড়া লেনে। যেখানে নকশাল আমলের বেশ কিছু ছেলে আমাকে খুব ভালোবাসতো ও চোখে চোখে রাখতো। পুলিশ এলে অবশ্য তেমন আমার সাহায্য ও সহযোগিতা পেত। তারপর অনেক ইতিহাস স্বাক্ষী করে আমি প্রথম বছর কাটিয়েছি। কিন্তু অনার্স পরীক্ষায় আবার ফেল। ফলে একই বছরে পুনপদার্পণ। সেই থেকে ১৯৬৮ সালের ১৫ আগষ্টে কলকাতার তালতলা লেনে একা একা পড়াশোনা করা। অনেক মেয়ে বন্ধু এসেছে। আমাকে শয্যা সঙ্গী হিসেবে পেতেও চেয়েছে কেউ কেউ-- ফলপ্রসূ হয়নি। ছেলে বন্ধুরা অবশ্য আমাকে নীতিশিক্ষা বা জটিল শহরের আদিখ্যেতা বোঝাতো সবসময়। এমনিভাবে কেটেছে বেশ কয়েকটা বছর। অনার্স পেয়ে পাশ করেছি। কিন্তু পরবর্তী মাষ্টার ডিগ্রিতে (মাত্র সীমিত সিটের জন্যে)আবার অকৃতকার্য হওয়ায় পড়া হয়নি। পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়তে চাইলাম। বাবার হুকুমে দেশে ফিরে আসতে হলো১৯৭৩ সালে। বাবার ধারণা হয়েছিল-- আমি কামিনী মোহে মশগুল। কারণ, বাবার মনে দৃঢ় হয়েছিল-- আমি কামিনী অনুরাগী নাহয় সন্ন্যাসী হবার পথে অগ্রণী।তাই ছেলের অন্তর্দশা কাটাতেই ফিরিয়ে আনা। ততক্ষণে ১৯৬৯ সালে ভাই পুশান( প্রশান্ত) হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করেছে। তাকেও বাধ্য হয়েই একপ্রকার কমার্সের জন্য গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হতে হয়েছে এ্যাকাউন্টেসি অনার্সে। যদিও আমরা স্কুলে দুজনেই ছিলাম আর্টসের ( কলা বিভাগের) ছাত্র। কারণ, স্কুলটায় তখন সায়েন্স বা কমার্স কিছুই স্বীকৃতি পায়নি। এটা আর একটা দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। বহুদূরে গিয়ে পড়লে জাড়তুতো রেনু দিদির বাড়িতে ঝিখিরায় - পড়তে হতো -- যেখানে স্কুলে সায়েন্স ছিল। দিদি রাজিও ছিল। বাবা রাজি হননি। ফলে-- অগত্যা--- আর্টস পড়ে ইকনমিক্স, আর কমার্সের পথে এগিয়ে চলা আর কি! হায়ার সেকেন্ডারিতে তারপরে দ্বিতীয় ডিভিশনে পাশ করে ইকনমিক্স পড়তে সোজা কলকাতার পথে সেন্ট পলস কলেজে। অধিকাংশ কলেজেই সেসময় ইকনমিক্স ছিল না বলে। তাছাড়া যখন হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দিই তখন সিট পড়েছিল এই এখানে সুদূর সেন্ট পলস স্কুলে। সেটাতেই এই কলেজের প্রতি একটা আলাদা টান ছিলই। খুব পছন্দ হয়েছিল ক্যাম্পাস টা। আবার নিয়তির বিধানে অন্য কলেজে ভর্তি হতে না পারাটাও মনে হয় সাহায্য করেছিল আমায়।। 

   আমি কামিনী কাঞ্চন ভোগী কিনা-- সেটায় দ্বিমত নেই। কিন্তু "কাঞ্চনের "প্রতি অতটা টান ছিল না মনে হয়। আজও নেই। কিন্তু কামিনী যেন আজও আমাকে কুরে কুরে দংশন করে সদা সর্বদা। স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন -- শান্তিনিকেতনের ছাত্র বাসুদেব ইন্দ্র মশাই। তাঁর সৌম্য চেহারা এবং শান্তিনিকেতনীয় শিক্ষায় আমি প্রলুব্ধ ছিলাম। তাঁর চেষ্টায় ও আমার বাবার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ক্লাস নাইন থেকে নারী শিক্ষার প্রসার চালু হলো। আমিও ছিলাম এব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণে সহযোগী। জানিনা এটা কামিনী মোহ নাকি নারী শিক্ষার প্রতি অনুরাগ বোঝাতে পারবো না। এরপরে অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি। স্কুলে ছাত্ররা আমাকে "একঘরে" করে বসতে জায়গা দিত না। বেশ কিছু দিন এভাবে চলার পরে একদিন জানলার ধারে দাঁড়িয়ে (তখন প্রায় রোজই) ক্লাস করছি। জয়দেব বাবু (এক শিক্ষক)আমার বিরুদ্ধে বাবাকে নালিশ করেন। সেটা বিভিন্ন ভাবে প্রধান শিক্ষক বাসুদেব বাবুও জানতে পেরে শান্তিনিকতনীয় ঢংয়ে অন্যান্য ছাত্র বন্ধুদের নীতি শিক্ষায় শিক্ষিত করে আমাকে পুনর্জীবন দান করেন। মেয়েরা অবশ্য এতে আমার জন্য দুঃখ পেত কিনা না জানলেও আমার মুক্তিতে যথেষ্ট আনন্দ পেয়েছিল --বুঝেছিলাম। বুঝোছিলাম -- প্রত্যেক শরীরের অংশই বুঝিবা সবসময় ভালোবাসা পেতে আগ্রহী। 

কিন্তু বাবা যেহেতু "আমার বাবা" তাই তাঁকে পীড়া দিত কামিনী মোহের ব্যাপারে।আর কলেজ জীবনে যখন আর এক নারী আমার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছিল সেখানে বাবার কর্তব্যে একটুও ভুল হয়নি বোধহয় আমাকে মুক্ত করার। তাই ফিরিয়ে আনা আর কি। তাছাড়া বাবার মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল--( কুষ্ঠি অনুযায়ী )আমি কামিনী লোভী। তাই মেয়েদের থেকে দূরে দূরে রাখতে সর্বদা খুবই সচেষ্ট ছিলেন। আমি গয়না বা অলংকার খুব একটা ভালোবাসতাম না। একটা আংটিও হাতে কোনও দিন পরতাম না বলে মায়ের মনে কষ্ট হতো। কোনও দিন( এখনও) বিড়ি সিগারেট বা চা পান করিনি বলে মা মনে হয় ব্যাথা পেয়ে আমাকে সিগারেট পানে অনুপ্রাণিত করতে বলেছিলেন-- খাবার পর একটা অন্ততঃ খাবি বাবা, তবে পুরুষ বলে মানাবে। যদিও তার উত্তরে আমি বলেছিলাম--" মা আমি খাইনি বলে তুমি খেতে বলছো। খেলে বারণ করতে।" এখানে অন্ধভয় বা অন্ধপ্রীতি নয় নিরাপদ স্থানে অবস্থান বোঝায়। আমার চেয়ে যাঁরা বড়ো তাঁরা বলতে পারবেন হয়তোবা সত্যি কোনটা।

রম্য রচনা || পাদুকা-পুরাণ || সামসুজ জামান

 পাদুকা-পুরাণ


                   

২০০৪-এ ভয়ঙ্কর সুনামির বিপর্যস্ত অবস্থার পর বহু মানুষ ও সংস্থা দান-সামগ্রী পাঠিয়েছেন আন্দামানে। সরকারি শিক্ষা বিভাগের কর্মী হিসেবে মেমারির পিনাকী ভট্টাচার্যের ডিউটি ছিল সেসব বিলিবণ্টনের। একদিন খবর পেলেন কোন এক সংস্থা প্রচুর জুতা-চপ্পল এনে দিয়েছে আর লোকের কাড়াকাড়ি- মারামারি পড়ে গেছে সেসব নেবার জন্যে। পিনাকীদা ছুটলেন কাজ ফেলে নিজের জন্য এক জোড়া বাগাতে। কিন্তু গিয়ে দেখেন পছন্দমত জুতো আর পড়ে নেই। বেঁটেখাটো মানুষ তিনি কিন্তু শেষমেশ পেলেন বড় বড় এক জোড়া চপ্পল। সেই জুতো বাড়িতে এনে বঁটির সাহায্যে নিজের পায়ের সাইজের বানাতে গিয়ে সে এক বিদিকিচ্ছিরি কান্ড! সোজা করে কাটাই যাচ্ছেনা, ত্যাড়াব্যাঁকা হয়ে, যাচ্ছেতাই অবস্থা!

 কিছুদিন বাদে হ্যাভলকে বদলি হয়ে পিনাকীদা সেই চপ্পল নিয়ে যেতে ভোলেন নি। দু-একদিন বাদে এক সকালে কুকুরের বেজায় চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে উঁকি দিয়ে দেখলেন বাড়িওয়ালা নিজের আদরের কুকুরটাকে বেজায় পেটাচ্ছে। পিনাকীকে দেখে উনি বলে উঠলেন - ছি-ছি-ছি, মাস্টারমশাই! কুকুরটার দাঁত উঠেছে আর বে-আক্কেলটা আপনার জুতোগুলো কি করেছে দেখুন! 

পিনাকীদা লজ্জায়, বঁটি দিয়ে জুতো কাটার কথা বেমালুম হজম করে গেলেন! কিন্তু সেই প্রহারের চোটে বেচারা কুকুর মরেই গেল!

 অনেক পরে আবার অন্যত্র বদলির সময় আত্ম-অনুশোচনায় পিনাকীদা বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছিলেন- দাদা, সেদিন আমি বলতে পারিনি। জুতোটা বঁটি দিয়ে কাটতে গিয়ে আমি ওই দশা করেছিলুম, আপনার কুকুরে কিছুই করেনি কিন্তু বেচারা আমার কারণেই মরে গেল!!

বাড়িওয়ালা এরপর কথা বলতে পারেননি শুধু অবাক চোখে পিনাকীদার চপ্পলের দিকে চেয়েছিলেন! পাদুকা-পুরাণের কথা বলতে গিয়ে পিনাকীদার সেই কুকুর-কেত্তনের কথা কি আর ভোলা যায়!


রম্যরচনা || মানবিক হিরো গ্রীনল্যান্ডের স্নোম্যান || শ্যামল চক্রবর্ত্তী

 মানবিক হিরো গ্রীনল্যান্ডের স্নোম্যান 

             



গ্রীনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান না বললে অবলা থেকে যাবে। মেরু অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে সূর্যের দেখা পাওয়া যায় মাত্র ৩ ঘণ্টা বা তার একটু বেশি কিংবা কম সময়। ফলে সেখানকার শীতকাল বা শৈত্যপ্রবাহকাল খুব দীর্ঘ সময় হয়ে থাকে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এক পরিবেশ যেনো কালো চাদরের মতো ঝুলে থাকে গোটা গ্রিনল্যান্ডে। এই ঠাণ্ডা অন্ধকারাচ্ছন্ন দ্বীপেও লুকিয়ে রয়েছে বিচিত্র সব সৌন্দর্য্য। অপূর্ব দেশের রাজধানী নূক।ইউরোপ মহাদেশের ডেনমার্কের অন্তর্গত স্বাধীন দেশ।

সারা বছর বরফে ঢাকা থাকলেও গ্রীষ্মে দেশটির রূপ পাল্টে যায়। উত্তর মেরু অঞ্চলেই ঘটে তা নয় অংশজুড়ে গ্রীষ্মে একটা নির্দিষ্ট সময় আক্ষরিক অর্থেই সূর্য ডুবতে দেখা যায় না। অদ্ভুত হলেও সত্য যে, তখন ২৪ ঘণ্টা সূর্য আলোরিত হয়। দিন-রাত তখন সমান বরফের রাজ্য গ্রিনল্যান্ডে ।যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক নয়। অন্য দেশ থেকে গ্রিনল্যান্ডে সরাসরি যাতায়াতের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরে রয়েছে ১৬টি বড় শহর। কিন্তু একটি শহর থেকে আরেকটি শহরে যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা তাদের যাতায়াতে ব্যবহার করে উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতে তারা নিজেদের তৈরি যানবাহন ব্যবহার করে,তন্মধ্যে হলো- স্লেজ, কায়াক এবং স্নো স্যুথাকে।


                            ছেলেটি জানে, ( হনস বোল্ড) সে দুনিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষ। এবং এই খ্যাতির মাসুল হিসেবে, সে, তার স্বল্প জীবনের শান্তিতে কাটাতে পারে নি। স্নোম্যান হওয়ার জন্য তাকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছু। অত্যন্ত ঠান্ডা কিছু জায়গা তাপমাত্রা স্বাভাবিক -১০ থেকে - ৫, আরো কিছু জায়গার তাপমাত্রা -৫০ এর উপর) নিকটাত্মীয় পিতা মাতা কে হারাতে হয়েছিল।

স্নোম্যান অত্যন্ত মেধাবী হঠাৎ করে প্রতিকূলতা দূর করার জন্য, গ্রীনল্যান্ড অধিবাসী জন্য"ওয়ে টু ওয়েসিস ইন আইস" অদ্ভুত আবিষ্কার। বিষয়ে আলোচনা করতে হলে, আগের দুটির প্রসঙ্গ টানতে হবেই। ১৯০৫৬ সালে জন্ম নেওয়া স্নোম্যান "স্লেজ পাওয়ার ইন আইস" অদ্ভুত আবিষ্কার’,১৯৯০ সালের গল্প হলেও সত্যি। জীবন জুড়ে বলেছেন কষ্ট লাঘবের আবিষ্কার। 

এতোদিনে পৃথিবীতে স্নোম্যান পরিচয় কেউ জানতো না – হানস বোল্ড যে স্নোম্যান– পরিচয় গত দশকে ফাঁস করে দেয় গ্রীনল্যান্ড বাসী ।তারপরেই খুশির বন্যা দেশব্যাপী। সঙ্গত কারণের গ্রীনল্যান্ডের মাটির তলা থেকে অদ্ভুত এক রাসায়নিক তরল সংগ্রহ করেন । বিজ্ঞানমনস্ক হাওয়ায়, হাতে না নিয়ে একা আধারে সংগ্রহ করেনে। এখান থেকে হয়ে ওঠেন "স্নোম্যান"। অদ্ভুত জয়যাত্রা বরফের দেশে কেন গ্লেসিয়ার দৌড়ানো। বাকি গল্পটা উহ্য । তিনি হয়ে ওঠেন সুপার হিরো ।

লড়াই যথেষ্ট আকর্ষণীয় নিজের পরীক্ষাগারেই ,সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বোল্ড বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন, সহজে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত স্লেজ কুকুরের পরিবর্তে একটি সামান্য যন্ত্রে ওই রাসায়নিক ঢেলে শক্তি উৎপন্ন করে বরফ কে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠেছিলেন স্নোম্যান । জানিয়েছিলেন বোল্ড হেরে যাবে ঠান্ডা শয়তান। কারণ মানুষের প্রতি তার ভালবাসা। মানবিকতা আদতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লোকের ভীতি হাড় হিম করা ঠান্ডা যা কল্পনা করা যায় না। এই তরল রাসায়নিকের সঙ্গে বরফ স্পর্শ করলেই অদ্ভুত শক্তি উৎপন্ন হবে কথাটি কিন্তু জানিয়ে দিয়েছেন স্নোম্যান। ক্ষমতা পাওয়া এবং তা মানবকল্যাণে কাজে লাগানো। এই মানবিক সত্ত্বাই গ্রীনল্যান্ড বাসির স্নোম্যান গড ।কারণ শয়তান ঠান্ডা তার আত্মীয়স্বজন এমনকি নিজের মা-বাবাকে কেড়ে নিয়েছিল। জন্ম নেয় দায়িত্ববোধ। জন্ম নেওয়া সার্থক হবে তবে –। সেই বিপুল দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছে স্নোম্যান ব্যতিক্রমী। সে প্রবল পরাক্রমশালী হয়েও শোকে চোখের জল ফেলে – নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে পারিনি ।

প্রেমিকার জন্য উৎকন্ঠিত হয়ে শহরের ভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়ায় –এবং শেষ অব্দি আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়। বিশ্ব-কাঁপানো স্নোম্যান এক প্রকৃ্তপক্ষে ‘হিরো’-দেরই হিরো ।প্রধানত পুরুষ সেই সঙ্গে ঠান্ডা গরম বিভাজন এস্কিমোদের জয়। স্নোম্যান, সাদা বরফ, রাসায়নিক তরল শক্তিধর। অন্যদিকে ভিলেন ঠান্ডা -৫৫ ডিগ্রী – অর্থাৎ সাদা চামড়ার মানুষ যাতে আন্টার্টিকা ,সাইবেরিয়া, গ্রিনল্যান্ড ইত্যাদি ঠান্ডা শাসন করতে পারে তাদের ভগবান। তিনি তবে যেটা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। ‘ব্ল্যাক’ গ্লেসিয়ার " জয়ের আকুতি রেখেছেন। ফলে দুর্দান্ত সম্পদ "ওয়ে টু ওয়েসিস ইন আইস"। সুপারহিরো স্নোম্যান ঠান্ডা ভিলেন প্রতিহত করা ।মানবিক কান্ডকারখানা যেভাবে মানবকল্যাণে এনেছেন, তার তুলনা নেই। শেষে সে গ্রীনল্যান্ডের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলো। সহকর্মী গার্লফ্রেন্ড চুম্বন করে পিতামাতাকে উৎসবে করলেন। আশা করা যায়, আগামি দিনে পর্বতারোহীদের নতুন দিশা স্নোম্যান গড । শৈত্য সরিয়ে স্বীয় উদ্ভাবন পরিচয় গ্রিনল্যান্ড কেন আন্টার্টিকা জাতীয় ভূমিকায় দেবে দেখা।


নিবন্ধ || স্মরণে- নবনীতা দেব সেন || শিবাশিস মুখোপাধ্যায়

 স্মরণে


নবনীতা দেব সেন, বিশিষ্ট লেখক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক




আমার বিশেষ পরিচিতা নবনীতা দেব সেন, বিশিষ্ট লেখিকা এবং সকল প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক গুণাবলীর অধিকারী বহুমুখী মহিলা। অভিনেত্রী নন্দনা দেব সেনের মা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী শ্রী অমর্ত্য সেনের প্রাক্তন স্ত্রী। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। 

আমার ভাষাতত্ত্ব পড়ার সময়ে 1984 এ ওনার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং আমার তুলনামূলক সাহিত্যের ওপর উৎসাহ দেখে একদিন বাড়িতে ডাকেন লাঞ্চ এ। তারপর আমাকে উনি বলেন ডেকান কলেজ, পুনা তে যেতে। সেখানে তখনকার দিনে বিশ্ববিখ্যাত পন্ডিতরা ছিলেন যাঁরা ভাষাতত্ত্ব পড়াতেন। তাই আমার পুনাতে পড়তে যাবার অন্যতম কারণ ছিলেন উনি। তারপরেও অনেক বার যোগাযোগ হয়েছিল এবং সময়ে সময়ে আমাকে উৎসাহিত করতেন।

কলকাতায় একটি সাংস্কৃতিক পরিবারে তার জন্ম 13 জানুয়ারী, 1938। তার বাবা-মা দুজনেই ছিলেন কবি।  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক এবং কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডিস্টিনশন সহ উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন। তিনি বার্কলেতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউনহাম কলেজ থেকে তার পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

1988-1989 সালে, তিনি কলোরাডো কলেজে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এবং তুলনামূলক সাহিত্যের চেয়ার পেয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় তুলনামূলক সাহিত্য সমিতির সহ-সভাপতিও হন। বেশ কয়েকবার তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার যেমন জ্ঞানপীঠ, সরস্বতী সম্মান, কবির সম্মান এবং রবীন্দ্র পুরস্কারের জুরি সদস্য ছিলেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ মহিলা লেখক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি পদ্মশ্রী এবং সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন । বিভিন্ন ঘরানার বাংলায় অনেক বই প্রকাশ করেছেন। ভ্রমণকাহিনী লেখার জন্যও তিনি বিখ্যাত। তার ছোট গল্প সবসময় অনন্য। তার প্রথম প্রকাশিত বইটি ছিল কবিতার সংকলন, প্রথম প্রত্যয় 1959 সালে। তার প্রথম উপন্যাস 1976 সালে আনন্দ বাজার পত্রিকার পূজা সংখ্যায় আসে, যার নাম 'আমি অনুপম'। 7 নভেম্বর 2019শে উনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।

অনুগল্প || ওজন || সিদ্ধার্থ সিংহ

 ওজন




বোন খুব চিন্তিত হয়ে বলল, কী ব্যাপার বল তো, সকালে মাপলাম আমার ওজন পঞ্চাশ কিলো। এখন দেখছি আমার ওজন আটান্ন কিলো। মেশিনটা কি খারাপ হয়ে গেছে নাকি?

ভাই বলল, মেশিনটা ঠিকই আছে। তোর ওজন পঞ্চাশ কিলোই। আর তুই এখন যে মেকআপ করেছিস তার ওজনটা ধর, ওটা তো আট কিলো।

কবিতা || অসতর্কতায় || রানা জামান

 অসতর্কতায়





কিছুদিন আগে ঝরা পাতায় পায়ের


শব্দে হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিলো; বিষয়টা


আমলে দেই নি; ভেবেছিলাম বনের


আবাসে এমন পদশব্দ হয়েই থাকে; বিছানা পাল্টে


আবার ঘুমুতে যাই; চারিদিকে মেঘের পালক


কাশবনের মৃদুমন্দ সমীরণ; শিশিরের


শীতল পরশ আর রাতের পোকার


ধীর লয়ে গান; ক্যালেন্ডারে কয়েক পাতা


উল্টালে সবুজ পাতায় কিট


দেখে শঙ্কিত হই; পলক না


ফেলতেই পঙ্গপালেরা আসে ধেয়ে


অসাবধানে বেহুলা লোহার বাসরে


ফুটো খুঁজে পায় নি; পরিণামে


সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য।

কবিতা || বয়স হয় না || আশীষ কুন্ডু

 বয়স হয় না




বাস্তবে আমাদের কোনো বয়স হয় না

এ সব সংখ্যাতত্ত্ব, 

সময় বয়ে চলে নিজ নিয়মে ,

আমরা এই অখন্ড জন্ম-মৃত্যু ধারায়

খুঁজে পেতে চাই আংশিক অবস্থা !

বয়স হয় না অনাদিধারার

খড়কুটো আমরা -ভ্রমে বয়স মায়ায়!

এ পৃথিবী অলীক কল্পনা! 

প্রক্ষেপিত আংশিক আনন্দে 

মিথ্যা মায়ার মরীচিকা লুব্ধক! 

এ প্রাণ রূপান্তরে নব নব কলেবরে

জন্ম ও বয়স নিমিত্ত মহাকাল নিরিখে

আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকবো 

আমি চিরন্তন, আমি সত্য, আমি মৃত্যুহীন

জন্ম-মৃত্যু কালধারার দুই তীরে

অস্তিত্ব বিলীন এক ধ্রুবসত্য। 


কবিতা || অজানা || সৈয়দ শীষমহাম্মদ

 অজানা 

        



মিহির কুন্ড থমকে গেলো

সাগর লবন সব হারালো,

মন মহাজন রয় গুটিয়ে 

ভাবনা গুলো যায় পালিয়ে,

বলার মতো নাইকো কিছু 

নাই কিছু আর উঁচু নিচু,


পৃথিবীতে চেপে শুন্য হাতে 

যাচ্ছি এ কোন অজানাতে l

কবিতা || শান্তির নীড় || বিমান প্রামানিক

 শান্তির নীড়




চল্ ফিরে যায় নীড়ে

দেরি করিস কেন ওড়ে। 

তোর আসন কোথা গেল

চুল কেন এলো মেলো? 

তোর গলায় কিসের আঁচর?

দেখে কন্ঠে উঠে মোচর। 

বাক রুদ্ধ হয়েই থাকা

ওরে আমার চীর সখা। 

আমি ছিলাম তোর অপেক্ষায়

তোর আসার সময় হয় নাই? 

বিধাতাও আজ বিমুখ হয়ে

আমিও সেদিক পানে চেয়ে। 

তোর জন্য আসনখানি পাতা

আমি রয়েছি হয়ে ছাতা। 

আয় তবে আয় এবার

শান্ত করবি তবে সবার। 

মনের ভাবনা যত তাদের

তুই রাখিস শান্তিতে ওদের

আবার বলছি সেকথা তোরে

চল ফিরে যায় নীড়ে।

কবিতা || অস্তমিত নিষ্ঠা || নমিতা বোস

 অস্তমিত নিষ্ঠা 



 


অস্তমিত নিষ্ঠার রংটাই বুঝি এই রকম---

জীবনে জল ঢালে আগুন থেকে জ্বালানি নিয়ে,


যৌবনে রং লাগায় স্বপ্নের পারানি দিয়ে,


উচ্ছ্বাসকে টেনে তোলে উদ্বেগকে জব্দ করে,


বিবেককে ভর্তুকি দেয় বন্ধনকে স্তব্দ করে ,


রাস্তায় নেমে ছোটে ঘট ভরার প্রবণতায়,


আবার অকপটে ফিরে ও তাকায় অস্তিত্ব খোঁজার অস্থিরতায়,


আসন পাতে মন্ত্র পড়ে,আহ্বান করে মান্য করে,


আর অবশেষে ! উত্তেজনার উচ্ছিষ্ট দিয়ে দীপ জ্বালে শূন্য ঘরে 

কবিতা || চাতকের ডানায় মেঘেদের ঘর || আব্দুস সালাম

 চাতকের ডানায় মেঘেদের ঘর




কত দিন বৃষ্টি হয়নি

যন্ত্রনার মাকুতে বোনা হচ্ছে বিষন্ন সুর

চাতকের ডানায় এঁকে দিলাম মেঘেদের ঘর


সাঁঝের লিপস্টিক ভেজা আলোয় দেখি পরিকল্পিত গর্জন

মোহের বারান্দায় খেলা করে সময়ের ধূর্ত শেয়াল

সময়ের ধারাপাতে আঁকা যন্ত্রণার শতকিয়া


ওগো প্রত্যয়ের বাঁশি,বাজলে ডেকে দিও

ঐ দ্যাখো চেয়ে আছে আমার উদাসী বউ--

চোখের কোনে তার নেমে আসছে অন্ধকার

রাস্তার মোড়ে খ্যাপাটা গাইছে

"এ দুনিয়া----

ইয়ে মেহেফিল!

মেরে কাম কি নেহি-"