Sunday, January 30, 2022

কবিতা || নারী ও রজঃস্বলা || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

 নারী ও রজঃস্বলা




প্রিয়জনের হাতে প্রহৃত স্নেহা

ক্ষতদাগকে জেনেছে নিয়তির বিধান

বলে,নিয়ম ভাঙতে পারেনি আধুনিকা।


যে হাত জ্বালায় উনোন শাকে দেয় রসুন ফোড়ন

অশোউচ হলে পায় না ছুঁতে ঈশ্বরের বেদীমূল।


আমি মেলাতে অঙ্ক ভাঙতে বিস্ময় ঘোর

গিন্নিকে বলি,এঁকে দাও একে দাও আলপনা,

দেখি,তেমনি রয়েছে সতেজ সবুজ তুলসী পাতা।


আসলে,গুটির ভেতর পিউপার দশা

সেতো রঙিন প্রজাপতির পূর্বাভাস,

নারী রজঃস্বলা না হলে

হ্যাঁ,পিতৃত্ব কোন আশায় বাঁধতে ঘর?

প্রিয় যাপন সুতোয়।

কবিতা || মহৎ || পাভেল রহমান

 মহৎ



খ্যাতির জন্যে সবাই যেখানে কুপথে করিল গমন

সেখানে তুমি হে মহৎ, সুপথ করিলে চয়ন।

মহৎ, তুমি সর্বক্ষণ

হয়ত শুধুই পাচ্ছ কাঁদন

তবু যেই- ই নেয় তোমার শরণ

সেইই পায় শম, ইহা কি কম!ইহাই তোমার পুরস্কার!

ধরা হতে নভে তবে তবে তবে তোমারই জয়- জয়কার!

কবিতা || অশরীরি প্রেম || নমিতা বসু

 অশরীরি প্রেম 




ঝোড়ো হাওয়া 

হয়তো বিকেল,

কি এসে যায় 

রাস্তা আছেই ।


ঝাপটা বৃষ্টি 

গুমোট ভীষণ ,

থমকে শব্দ,

আলো তো কাছেই ।


পাতারা উড়ছে 

ধুলোর ঘুরছে ,

গাছ কি পড়বে?

মজাটা জমবে ।


একটা তো রাত 

বারোটা ঘন্টা,

নিশ্চিহ্ন শকুন 

ভাবি সূর্য টা ।

কবিতা || আলোকে || আশীষ কুন্ডু

 আলোকে




কেন জানি মনে হচ্ছে আলোকপথে 

আমার মুক্তি লেখা আছে অধরা

তবে তাই হোক, আলোক বিন্দুবৎ

একটু তাপের সঞ্চার হোক না মনে!


দীপ্যমান এ সময় লক্ষিত হোক

আলো সেকেন্ডে চলে যাবে দূর

কিছু অন্ধকার রাত বিভাজিত

সন্দেহ পড়ে থাক মগজের কোষে !


অনুরণিত হোক হৃদয়ের অজস্র স্বপ্ন

ক্ষেতে যে জীবন সৃষ্টির মহালগ্নে 

সম্ভাবনার মঞ্জিল ছিল বীজসুপ্ত

তবে তাই হোক, আলোকপথে বিন্দু।

কবিতা || আমি সুভাষ বলছি || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 আমি সুভাষ বলছি

 


      

   হ্যাঁ হ্যাঁ আমি গো আমি

 তোমাদের ঘরের ছেলে- সুভাষ

শত বিপদেও আমি মাথা নোয়াইনি

ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়েছি

 মায়ের শিকল ভাঙার ছলে

 সে দীর্ঘ ইতিহাস

তোমরা যারা স্বাধীনতা পেয়ে খুশি আছো

    বলো সত্যি করে--

 সত্যিই কি স্বাধীনতা পেয়েছো! 

এই স্বাধীনতা কি আমি চেয়েছিলাম

এর জন্যই কি আমি ছদ্মবেশে পলায়িত ছিলাম! 


আজকের স্বাধীনতা পেয়ে তোমরা দেখছো-- শত শত 

 চোর গুন্ডা মাফিয়া আর বেইমানি করা লুন্ঠনকারী

 বড় বড় নেতাদের

যাদের ছবি বড় বড় আইনসভায়, রাস্তার মোড়ে, অফিসে আদালতে। 

না না ওদের বিশ্বাস কোরোনা

ওরা মুখোশ পরে আছে- ওরা বিশ্বাস ঘাতক

 বড় বড় অভিনেতা ---

শুধু বড় বড় ভাষনের বন্যা

 ওদের ছবি রয়েছে ড্রইং রুমে, রেস্টুরেন্টে

নয়তো কোনও মন্দিরের চূড়ায়-: ওরা চায়না

শিক্ষা, চায়না প্রকৃত মানুষের অন্তর

ওরা ধর্ষক, খুনি, আবার ন্যাকা বিচারক

বিচারের বানী ওদের ভয়ে নিভৃতে কাঁদে। 

     কৈ

  আমার ছবি তো চাইনি। 

         বড় বড়, সভায়

তোমরা যাকে সভাপতি পদে বসিয়েছো--

 দ্যাখো তার কর্মের ইতিবৃত্ত-----


এই স্বাধীনতাই কি আমি চেয়েছিলাম! 

এর জন্যই কি আমি রক্ত চেয়ে বলেছিলাম--

'রক্ত দাও স্বাধীনতা দেব! '

ইংরেজ করেছে দমন পীড়ন লাঠি গুলি লুঠ

আর এখন চলছে-- 

মার দাঙ্গা হয়রানি ধর্মীয় উসকানি ধর্ষণ

লুটেরা মাফিয়া বাহিনীর ধাপ্পাবাজি

বিচারের নামে চলছে প্রহসন-

এই স্বাধীনতাই কি আমি চেয়েছিলাম! 

  আমার জন্মদিন পালনেও ওদের চোখে দ্যাখো কত  

    দুরভিসন্ধি কাজ করছে। ওরা

 স্বার্থপর বেইমান-- একটু দূরত্ব রেখে চলো


       আজ আমি বহু বহু দূরে


কী করে কীভাবে ধরবো তাই আবার চাবুক! 

আবার গড়বো নতুন "আজাদ বাহিনী"!

তোমরা বলো -বীর দর্পে বীর কর্মে 

      আবার আমরা 

   লড়বো একসাথে.... 


আমি মরিনি বিশ্বাস করো

       আমি আছি

     হ্যাঁ, আমি আছি

     আছি গো আছি--


আমি সুভাষ বলছি।

কবিতা || নিক্তি || রানা জামান

 নিক্তি


 



কোনো কোনো বসন্তে অভিজ্ঞ গাছে

মুকুল ফোটে না; তাতে রঙধনুর রঙের

ভিন্নতা না হলেও মহাজন ক্যালকুলেটর

নিয়ে বসে; নিক্তির দিকে থাকে চেয়ে

জুয়ারি বিচারপতি; বহু বিবর্তনও ঘটে

সরকারি টাকশালে; গোপন গোলায়

জমা হতে থাকে দরকারি নিত্য দ্রব্য

বাজারের আগুনে পুড়তে থাকে সৎ

জেব; চাপে বাঁধটা ভাঙলে নর্দমা

ঢুকে হাড়িপাতিলে; ময়লা টাকায়

মুঠো ভরলেও নিক্তির কাঁটা

বাম দিকে থাকে হেলে।

কবিতা || কূটকাচালী || আবদুস সালাম

 কূটকাচালী



চারিদিকে পড়ে আছে অন্ধকারের কথকথা

বিষকন্যারা চুমু খায় সভ্যতার মুখে অবাঞ্ছিত দুপুরে ওড়ে ক্লান্ত মৌমাছি

রুদ্ধ পৃথিবীর উঠোনে জিরিয়ে নিচ্ছে কাঙ্গালী শুভেচ্ছা


কামনাস্রোতে ভেসে যায় অলীক সতীত্ব

নিভে যায় ঈশ্বরময় আয়োজনের প্রদীপ

সভ্য পাখির ডানা ভাঙে বিপ্লবের মাঠে


  সময়ের বারান্দায় জেগে ওঠে মৃত ঘাসের পাঠশালা

দিক্ষিত হয় সময়ের পড়ুয়া

  

জাগরণের মাঠে শয্যা পেতে বসে আছে কুয়াশার ভোর

ভালোবাসারা ডুকরে ডুকরে কাঁদে আর কেতন ওড়ে সতী বিজয়ের

কবিতা || শূন্যপথে || সুব্রত মিত্র

 শূন্যপথে

          



                      পথ চলি একা একা

কোথাও দেখি সুন্দর আলোকিত উজ্জ্বল মরীচিকা;

          মাঝে মাঝে দেখি খানাখন্দ; দুর্গম প্রস্তর

           মাঝে মাঝে দেখি তৈলাক্ত মসৃণ সড়ক

        মাঝে মাঝে দেখি অপমানের সুন্দর মোড়ক। 


                আমি বিনোদন বিমুখ অসুখ

                   আমি যেন সত্যের দর্শক

     এখন এই নতুন পৃথিবীর গায়ে নতুন আকাশ

         আঁকার স্বপ্ন দেখা বারণ,

    নিদারুণ প্রকাশের বাতাসে দেখি উলঙ্গ মহারণ। 


এখন আমার বিদ্রুপ আঁকা ছবি নক্ষত্রের প্রত্যায়িত বলয় দেখে। 


মহা সঞ্চারের অষ্টধাতুতে মোড়া নবজাগরণের আছি অপেক্ষায়,

পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পড়ে থাকা মরীচিকার সাথে দেখা করার আছি অপেক্ষায়। 


মেঘ-গ্রহের অর্থনীতি;চাঁড়াল মেঘের দুর্নীতি;

দেয়নি এনে সভ্য মনোবৃত্তি

উদীয়মান পথিকের বেশ ধরে স্বতন্ত্র মরীচিকা দাঁড়ায়ে,

         রাক্ষসে দাবানল রয়েছে হাত বাড়ায়ে। 


ছুটে ছুটে যাবে তারা; পাবেনা যে.... কোনো কিছু

আমিত্বের বহু বাদে বসে আছে তারা সব; করে মাথা উঁচু।

কবিতা || দুঃখ শব্দ || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 দুঃখ শব্দ




জানি তুমি ভালোবাসছ না

আমি দূরে থেকেও সবটা বুঝতে পারি

পুঁতে যাচ্ছে মাটিতে পা

বোবা ছেঁকে ধরছে প্রবল সারি সারি

ছুটে যাচ্ছি হুরমুরিয়ে

ছুটে যাচ্ছি উপায়হীন ভাবে

শূন্যতার ভাষা শরীর চায় আদীম স্বভাবে

যখন তুমি ফাঁকা পথে পিপাসার মরে যাবে কি আঁকড়ে ধরবে? শব্দের অনুমান মুছে দেবে একবারে

বারান্দা দাঁড়িয়ে থাকবে সামনে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলে, নিঃস্ব কে আরও নিঃস্ব করবে পাগল করবে কাছে এলে, হয়তো তুমিও একদিন হাঁটু গেড়ে বসবে দুঃখ শব্দের কাছে, আমি তো জানি প্রতিটি প্রেমের অসামান্য অপরাধবোধ আছে।

কবিতা || ফিরতে পারি || সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

 ফিরতে পারি





গা-ছাড়া ভাব আগাছা ঘিরে

সারাদিনের জবর খবর

চোর পালালে তাই বুদ্ধি বাড়ে

মগজ-ভর্তি তখন হা-ঘর।

ছেঁড়া ছেঁড়া চেতনায় শুদ্ধতাকে

হারিয়ে ফেলে আবালবৃদ্ধজন

ভোগের বাসায় বাঘের ত্রাসে

বোধ ছিল না কখনো আপন।

শত্রুরা সব সমবেতভাবে

কোমর কষে চালায় হানা

ছন্নছাড়ার কান্না ব্যাতিত

আর কিছু নেই একটানা।

কোণঠাসা হয়ে ঠাসা ঘরে

এবার বুঝি জাগছে শোক

ফিরতে পারি এক মোচড়ে

মুচড়ে দিয়ে দৈন্যালোক।

কবিতা || শীতের কালে হটাৎ বৃষ্টি এসে || চাতক পাখি

 শীতের কালে হটাৎ বৃষ্টি এসে...

 



আজ যে দেখি হটাৎ করে

এক পশলা বৃষ্টি এসে

ভিজিয়ে দিলো আমায়

 জলের ফোঁটায় 

সারা গায়।


আমি ভাবলুম যা!

শীতের দিনে বৃষ্টি ফোঁটা

এ যে অকাল বোধন,

এক্ষুনি না আবার 

ঠান্ডা লেগে যায় ।


এতো দেখি 

যখন তখন 

বর্ষা এসে যায়,

এযে পিছন ছাড়ার নয় 

এটুলির মতো চিপকে থাকে

তাই তো লাগে ভয়।


এই যে দু দিন রোদ উঠলো

ভাবলুম আমি 

যাক বাবা বর্ষা বুঝি গেলো,

পড়বে এবার শীতের রেশ

কিন্ত এযে বর্ষা ঘুরে এলো,

হলো আবার শীতের পরাজয়।


ডালিয়া টা বেশ 

শীতের পরশ পেয়ে 

মেলে ছিলো পাপড়ি

 মনের সুখে 

ছিলো তরতাজা।


এখন যে দেখি সেও

মুখ থুবড়ে

 রয়েছে পড়ে,

 যেন বর্ষা এখন

 শীতের কাঁধের বোঝা।


যতই নাড়ে

হয় যে ভারী

জোরালো হয় মেঘ,

যখন তখন খেয়াল মতন

সে যে বাড়ায় গতি বেগ।



কখনো বা দেখি ঝির ঝির

কখন বা হয় জোরালো ,

আর মনের মাঝে ঝড় তুলে যায়

দিয়ে দেখা আকাশেতে

 হয়ে কালো মেঘ।


কবিতা || কাল || অরবিন্দ সরকার

 কাল

       


জ্যোতিষীর বুজরুকি কালসর্পদোষ,
কালের বিপদ দশা যাগযজ্ঞ ক'রে,
কালচে পাথর ধাতু পাঁকাল আপোষ,
কালের ছোবলে মৃত্যু ধাকাল বিচারে।

আজ ব্যবসা নগদে কাল দেবে ধার,
ধারের পায়ে প্রণাম বুদ্ধি ব্যবসায়ী,
শেয়ালের যুক্তি ঘর কাল হবে সার,
কালের গহ্বরে কালো টাকা শয্যাশায়ী।

অকাল বোধনে দুগ্গা রামের কাঁকালে,
সকাল বিকাল রাত্রি বাঙালি গাজন,
পটকা বাজীর শব্দে মরণ নাকালে,
তৎকালে কালকে মেলে পাড়ি জ্ঞানীজন।

খাদ্যের আকালে কালী জিভ্ রক্তখাকী,
লক্ষ্মীর বাহন হবে-কালপেঁচা নাকি?

কবিতা || সাপ || তৈমুর খান

  সাপ

  



ভিতরে ভিতরে সবাই সাপ পোষে

সুযোগ পেলে নাচায়

বাইরে শুধু সাপুড়েকেই দ্যাখে


আমারও অনেক সাপ আছে

মাঝে মাঝে তারাও গর্জন করে

সাবধানে থাকি 


কত যে রঙিন ওরা

দ্বি-ফলা জিভ বের করে

মনের ভিতরে অনেক গর্ত

গর্তে গর্তে ওরা বাস করে


বাইরে শুধু ঢেউখেলা চুল

টেরি কাটা, রঙিন পোশাক

সুগন্ধ ছড়ায়, হাসে


কোনও কোনও দিন

আত্মদংশনের ক্ষত সারাই করি নিজে 

কোনও কোনও দিন ঝলসে যাই

আত্মদংশনের বিষে।