Monday, August 16, 2021

কবি শ্যামল রায় -এর একটি কবিতা

 ভাবনাটা একাকার হলে



মেঘের শরীর জুড়ে তোমার ভাবনাটা

আমাকে বৃষ্টির ফোঁটা করে দাও

আমি সংযুক্তিকরণ হবো রাঙাপথের জন্য।

বাতাসের কাছে বলবো আমার জন্য দাও

এক নীল আকাশ স্বপ্নপথ

পাশাপাশি হেঁটে গিয়ে হৃদয়ের সাথে মিলবো

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে সূর্য খুঁজে নেব

শুধুই একটু উষ্ণতার জন্য----।

চঞ্চলতা দিয়ে আমি বলবো কৃষ্ণগহ্বর কে

আমি কখনো বিশ্বাস করি না

শুক্লপক্ষের পথ প্রান্তে, দুচোখ বুজে

শুধু নির্ভেজাল বৃষ্টির ফোটায়

চুম্বন এঁকে দেবো--ভেসে যাব নতুন ভ্রমণে

ওখানে কবিতার বর্ণমালায় অক্ষর গুলো

আমাকে তোমাকে ঠিকানা বানিয়ে দেবে।

চিমনির মতো আগুন জ্বলবে না

খিদে মিটে যাবে, দুহাত তুলে সাহস নিয়ে বলবো

এই ঠিকানা লাল পাহাড়ির দেশ হবে

মাদল বাজবে, ঘুমিয়ে পড়বো চোখ বুজে নিঃশ্বাসে

নিঃশর্তে---সাজবাতি নিয়ে জুঁই ফুলে ফুলে।

Sunday, August 15, 2021

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 বনধে মাতরহম


হ্যঁ গো বুড়হ বাবহু,

অ্যাজখে কি বটেক গো।

সুখাল থ্যাইখেই আমহাকে বলছেক,

তরহণী কাকহা তুমহি ও যাভেক গো।


কি একডা ফ্রিসহাদে পরলুম ব্যাপহু,

আমহী মুনলিশ খেইটে খ্যায় ।

লিজের মতহো কইরে থ্যাখহি,

ক্যার ও কোইনো খেতি করহিল্যায়।


কি যে বুলহে গ্যালোক, ছোঁকরা গুলহান,

     আমহী বুঝতে লারছিক গো।

ডরহেতে আমহার পরহানখানহা

         শুদুই ধুরুক - ফুখ, ধুরুক - ফুখ করছেক গো 


আজকে স্বাধীনতা দিবস পালন

     ঐ পুব গাঁয়ের মাঠের ধারে হবে।

তুই আমার সঙ্গে যাবি বুঝলি,

তোকে ও কিছু কথা বলতে হবে।


অঃ সাদীনতা দিবহস, পতপত করে পতহকা উড়বেক আকহাশে, গান গাইবেক, চ্যাচ্যাঙ - চ্যাচ্যাঙ বুলবোক।

আমহাদের পুরব পুরহুষ সিদহু-কানহু,

মোঙগল প্যারানডে, বীরস্যা মুনড্যার কুথা ও বুলবোক।

অ্যারহো অনহেকে জ্যান দিয়্যাছেক,

গরহেবেতে চোকদুখ্যান জলহে ভরুম,

গলহা বরেধো হয়্যা গেলেক ও বুলবোক

"বনধে মাতরহম ", "বনধে মাতরহম "---

জয় হিন্দ।


                       

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

 সুরের স্বরলিপি 


বাকল-মোচন আছে বলেই, ছাগল-মুড়ি গাছেও

ফোটে নক্ষত্রের মতো স্বপ্নের সোনালি মুকুল।

তা হলে কি দৃষ্টি বিভ্রম?

সেও এক ভালো,

স্মৃতি -লোপ হলে মুছে যেত মনের ভেতরে

জেগে থাকা মানুষটির কথা ।

দেখি গাছের ভেতর থেকে রোজ বেরোয় একটি মানুষ

পাশে বসতেই ছায়া দেয় প্রিয় বৃক্ষ টি ।

জীবন চক্র, সে তো জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানে

তুলে ধরা কিছু সোনালি ফসলের জীবন্ত অক্ষর,

সুখ আর দুঃখ এক-থালায় না-খেলেও খাবার

এক-উঠোনেই পাতে খেলনা-ঘর।

প্রেম,শুধু প্রেমের কাঙালিপনায় তৃষিত ঠোঁট

কষ্টের কাঁটা বাছতে বাছতে, আশার আঙুল

বীণার তারে তারে বাজাতে পারে বাঁচার স্বরলিপি সুর।

পাখিদের কথোপকথন শেষে

ফেলে যাওয়া প্রদীপ্ত সবুজ কনা

দুহাতে কুড়োই মগ্ন অবহাগনে

ছড়িয়ে মুঠো মুঠো বৃক্ষ হয়ে আঁকড়ে ধরি উঠোন-মাটি।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

    ছন্দের বন্ধনে



   ঘটে ঘাটে তরী লইলো সুধারস ভরি

  আঙিনায় দিকভ্রান্ত তাই বঙ্গ সুন্দরী। 


    রূপ রসে ডুবে ছুটিছে প্রলয় বেগে

   দিগন্ত অসংযত উন্মত্ত আবেগে। 


 গগনে গগনে দেখি কী অপরূপ শোভা

  সমতল ছন্দে কত মনোলোভা! 


  অসীম গগন আসে যদি কোনও ক্ষণে

  যতনে রেখো ধরি তারে সেই ক্ষণে। 


 কাঁটাতারে বন্ধ দুয়ার যা হয়েছে তাই হবার

 কটাক্ষে ফেলি দিলে মরিবেও তুমি দু'বার


কাব্য ঘোর অতি কাননে দেখিবে না ফুল ফুটি

লও গো স্মরণ তার চেয়ে খুঁজে বসতি। 


 দৈব্যের শাস্তি পাইবে তুমি সবখানে

  গান থেমে যাবে ধরিবে না কুসুম বনে।। 


 যারা বলিছে মোরে এমন চলিবে না

ঘোমটা খুলে দিয়ে কি হয় সাধনা? 


ফল ফুল মাঠ ঘাট সবই তো ঠাট বাট

ছি ছি কেন করিতেছ মারো দুই হাত। 


বচন যদি ফিরে ফিরে চলে যায়

কী হেতু লেখনীর গূঢ় সমস্যায়? 


অমৃত যা উঠে আসে কর তাই পান

জীবন মরনে যাও করে দান।। 


আর কহিবো না হে কবি ভাই

যেমন চলছে চলুক দেখুক সবাই।।

কবি তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি কবিতা

 নতুন



তারপরে কেউ

এদিক ওদিক বেঁকে চলেছে রাস্তা

চোখ যতদূর যায়

ততক্ষনই শ্বাস

আবার নতুন

ঘটনার পর ঘটনা

মুখ ঘোরালেই


পাল্টে যায় রাস্তা ।                 

কবি চিত্তরঞ্জন সাহা -এর একটি ছড়া

 শীতটা আসে



  শীতটা আসে

  সূর্য হাসে

  লুকিয়ে মেঘের কোলে,

  শিশির ঝরে

  ঘাসের পড়ে

  যেন হাওয়ায় দোলে।


  খেজুর গাছে

  কলসী আছে

  রস পড়ে টুপ করে,

  পুলি পিঠা

  বড্ড মিঠা

  ধুম পড়ে যায় ঘরে।


  শীতটা মানে

  কষ্ট প্রানে

  শরীরখানা কাঁপে

  সবাই তখন 

  ছোটে তখন

  মিঠেল রোদের তাপে।

কবি মধুপর্ণা বসু -এর একটি কবিতা

 নদীর কথা


নদীর পাড়ে একা

প্রশ্ন করি, তরঙ্গহীন

সংশয় বিভঙ্গী শাখাপ্রশাখা,

প্রতিকূল সময়ে আমাদের দেখা।


স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে

উপকূলের প্রান্তিক প্রেম

পাড় ভেঙে মৃত্যু আনাচে-কানাচে

ছাড়েনি দান পরাজিত ভাগ্যের কাছে।


সেও তেমন বজ্রকঠিন

কোমলতা নির্ভর সলিল

আমরাও আজ নিরাশ্রয় উত্তরহীন

একফোঁটা সুখে জন্য পথিক অর্বাচীন।


এ কাহিনী শেষ অঙ্কে

অন্তঃস্থিত শব্দেরা জেনেশুনে মূক

আমাদের বোঝাপড়ার সমাবেশ

আগামীর জন্যে রাখা মহার্ঘ্য আদেশ। 

কবি বদ্রীনাথ পাল -এর একটি ছড়া

 কবিতা ও ছড়া

                   


কবিতা টেরিয়ে বলে "শোন্ ওরা ছড়া-

সহজেই যায় দেখি তোকে ভাঙা গড়া !

সোজা নয় মোটে দ্যাখ্ আমাকে তো ছোঁয়া-

আমাকে বুঝতে লাগে মগজেতে ধোঁয়া"।


ছড়া হেসে বলে "ভাই, আমি এলেবেলে-

তাই তো সবার মুখে ফিরি হেসে খেলে !

সহজ সরল তাই ভালোবাসে লোকে-

কয়জনা মনে রাখে বল্ দেখি তোকে"?

কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 শহর থেকে ফিরছি



এই শহরের কিছু চোখরাঙানি 

আমাকে বিমুখ করেছে 

ফিরে এসেছি নিজেরই ভাঙা কুঠুরিতে 

মা কুপি জ্বেলে মৃত আত্মাদের 

ঘুম পাড়াচ্ছে

আত্মারা নিশিকাকের মতো 

চোখ ঠার করে তাকিয়ে আছে দূরে 


উঠোনে বাবার লাগানো গাছে 

অনেক জোনাক নেমেছে 

মা বলছে, কী সুন্দর তারাফুল  

ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি ভাষা ! 


শহর থেকে ফিরছি 

হিংস্র সভ্যতার জামা গায়ে 

রক্তগন্ধ মাখা - 

মা, একটু ঘুমোনোর জায়গা হবে ? 


আমার কথাগুলি বাতাসে ওঠে কেঁপে



পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদকীয়

       



       সম্পাদকীয়


 যমুনা নদীর জলের রং কালো না নীল সেই নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। সাহিত্যে কল্পনা লোক এর স্থান অনস্বীকার্য। তাই সাহিত্যে কেউ যমুনার রং কালো কিংবা নীল রং ব্যবহার করুক তাতে কিছু যায় আসে না। গুরুত্ব তো শুধু ভাষা ও শব্দের খেলায়। প্রেমের আসল রং খুঁজতে খুঁজতে কত কবি রসের শব্দে মেতেছেন সেই নিয়ে কি কেউ পর্যালোচনা করেছেন। তাই লিখুন ভালোবাসা নিয়ে। এগিয়ে চলুক আমাদের সকলের সাহিত্য যাত্রা।

     

                                     ধন্যবাদান্তে 

                         World Sahitya Adda Team




___________________________________________________




Saturday, August 14, 2021

পঞ্চম সংখ্যার সম্পূর্ণ সূচিপত্র(৩৪জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র




বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, বদ্রীনাথ পাল, মধুপর্ণা বসু, চিত্তরঞ্জন সাহা, তীর্থঙ্কর সুমিত, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, চিরঞ্জিত ভান্ডারী, মায়া বিদ, শ্যামল রায়, সুব্রত মিত্র, শ্রাবণী মুখার্জী, স্বাগতা দাশগুপ্ত, আবদুস সালাম, আশীষ কুমার কুন্ডু, মিঠুন রায়, মিলি দাস, প্রণব দাস, রফিকুল রবি, রানা জামান, সুজিত রেজ, সব্যসাচী মজুমদার, অভিজিৎ হালদার।


বাংলা গল্প--


স্বপ্না বনিক, তুলসি দাস বিদ




বাংলা গদ্য--


সুমন সাহা।




বাংলা প্রবন্ধ---


রামপ্রসাদ সরকার, তৈমুর খান, চাঁদ রায়।




বাংলা উপন্যাস---

 সুদীপ ঘোষাল।




ইংরেজি কবিতা---


Soumendra Dutta Bhowmick, Sunanda mondal.




Photography----


 Amit Pal, Somnath Ghosh, Arpan Chowdhury, Amlan Lahiri.