Sunday, September 12, 2021

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 ঘরে ফেরার গান



বছর ঘুরে বছর এলো আবার,

বাতাসে ভাসে নব জীবনের সুর...

বিপন্ন সময়! বিস্ময় ঢেউ খেলে রক্তে;

প্রতিবাদী মানুষ সোচ্চার হয়ে ওঠে।


দিগন্তের রক্তিম সূর্য সুচারু 

বিদ্ধ হলো মনোময় সত্তায়,

হৃদয় আকাঙ্ক্ষা-উদ্বেলিত

হলো সংগ্রাম-প্রতিজ্ঞায়।


এবার ঘরে ফেরার ডাক,

সৃজন লিখে যায় জীবনের পদ‍্য...

দুরের গাছগুলোতে পাখিরা 

আবার গাইছে নতুন দিনের গান...


আরেকটা স্বপ্ন,সুখের অসুখ সারিয়ে

মানুষ ফিরছে অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে;

প্রজন্মের বাগানে ফোটে বিপ্লবের ফুল,

ঘরে ফেরার গান গাইছে প্রতিবাদী মানুষ।

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 আবহাওয়া দপ্তর



ওয়েদার ফোরকাস্টে শুনলাম তোর আসার কথা

বর্ষার মতো এক সম্ভবনার তত্ত্ব

আমার চারপাশে বসন্ত নয়

পায়ের নীচে পুড়তে পুড়তে গলে যাওয়া রাস্তা

জ্বলছে সূর্য, তবু তুই আসলে ওয়েসিস হয়

তোর পায়ের আওয়াজে বর্ষার মতো অনিশ্চয়তা

লুকনো আছে আমার ভেতর ল্যান্ডমাইনেরা

আবার যদি শুরু হয়ে যায় মুক্তি যুদ্ধ

সাবধান! মুশকিল হয়ে যাবে ফেরা।

কবি তাপস মাইতি -এর একটি কবিতা

 একটি সরলতম নয়ন 



কঠিন করে ভাবি 

দেখি , সহজতর দিনগুলি 

নদীর কিনারে ঢেউর মতো করে ভাসছে 


আকাশের উত্তর কোণে 

আমাকে আরও কঠিন হতে হবে , 

একটা নিরন্ন ছবি ফুটে উঠছে 


এখানে পথ দূরুহ বটে 

কিন্ত আমার বেদনার ভার 

নিয়ে এক পশলা বৃষ্টি ধেয়ে আসছে 


খুব কঠিন করে বিস্তর 

বুকের নিনাদ ফুঁড়ে তখন একটি

সরলতম নয়ন আমাকে ডাকছে 

কবি স্বপ্না বনিক -এর একটি কবিতা

 যেওনা চলে



কতদিন পরে তুমি এলে

তুমি তো কথা দিয়েছিলে

চাঁপা যখন গন্ধ ছড়াবে 

জুঁই বেলেরা হাসবে যবে। 


আসবে তুমি পায়ে পায়ে

বইবে বাতাস পূবালী বায়ে

শাওন ভেজা বৃষ্টি রাতে

রজনী আনবে রাঙ্গা হাতে। 


বাজবে বুকে স্মৃতির মাদল

বইবে হাওয়া ঝড় বাদল, 

জ্যোৎস্না রাতে নাইবা এলে

কাঁদিয়ে আমায় কিবা পেলে? 

কতকাল পরে এলে

এলে যদি যেওনা চলে, 

নীল স্বপ্নের ঘুম ঘোরে

স্মৃতির আঙিনা দাও গো ভরে। 

কবি অভিজিৎ হালদার -এর একটি কবিতা

 কবর



কবরের নীচে মৃতদেহ

সোয়ানো রয়েছে কত না দেহ;

সারি সারি কত না জন

দিন দিন হয়েছে মলিন।

বাঁশ বাগানের সেই না দিন

রয়েছে কত না মিল

শুষ্ক প্রান্ত হয়েছে শান্ত

মরুভূমি কত না ক্লান্ত।

জলহীন কত যে দিন

হঠাৎ কোনো একদিন,

মরুভূমির মতো এসেছে

কোনো এক জন।

সন্ধ্যা রাত্রে বন্যার কান্না

কবরের সারি সারি বন্যা

হারানো কত যে দিন

কবরের নীচে সেই যে দিন।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 যা বলার ছিল

            


    

     আমার চিতার পাশে রেখোনা কোন ফুল

                   ঐ ফুল তো জ্বালা দেবে ,

            তোমার বুকের সঞ্চিত ভালোবাসা

                  হয়ত আবার কেড়ে নেবে ।


     আমি নিষ্প্রাণ স্মৃতি হব , অমানবিক কল্পনা ;

করে যদি স্মৃতির ঘরে বসবাস পাবে কেবল যন্ত্রণা ।


এত খেলাধূলা ; এত মোহ মায়া ; সব ,সব ভুলে যেও

                        নিজেরে করিও যতন ,

            স্বাস্থ্যটা পরে গেলে দেখবে না কেহ ।


       আমার ব্যর্থতার ইতিহাস কবে হবে পরিহাস

                     সেই ভয় আজ পাই ,


তুমি খোলা মনে করনা ব্যক্ত আমার জীবনের বক্তব্য ,

            কতবার ব্যর্থ হয়েছি হবে উপহাস

           কল্পনার অতীত লিখবে ভবিতব্য ।


        এতদিনের যৌথ প্রয়াস , যৌথ আশ্বাস ,

           যৌথ স্বপ্ন দেখা , যৌথ আজীবন,,,

                        হ্যা গো প্রিয়া ,,

      ওরা যদি তোমায় কোনদিন করে অপমান

                    এসো মোর কাছে

          ভরসার বিশ্বাসে ধরিও মোর চরণ ।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

 ডাইরির পাতা

    


 কবে থেকেই ভাবছি খুলি ডাইরির পাতা

             সময়টা হয়ে ওঠে না

কত স্মৃতি কত সুখ জেগে আছে শত মুখ

              চেনা যেন হয় অচেনা।! 


আজ সেটা খুলে দেখি কী যেন আছে একি

               মিথ্যে যত লেনাদেনা

কত লেখা কত চিঠি আঁখি তোলে শত গীতি

                 ছোট বড় নানা যন্ত্রনা । 


ডাইরির পাতাগুলো হয়েছেও বেশ কালো

                আছে প'ড়ে মুখ গুঁজে

 মোর হাতের পরশে হঠাৎ বেশ হরষে

               ( বলে)-- কার এত খোঁজে? 


কত স্মৃতি কত গন্ধ সুর তাল আর ছন্দ

              লেখা আছে সে পাতাতে

 দেখে কোথা যে লুকোই মনে হয় সব চুকোই

               চলে যাই অজানা কোন্ প্রান্তে!  


চলে গেছে প্রেম প্রীতি আত্মীয় সুজন বীথি

                 কোথা গেলে পাবো দেখা

ডাইরির পাতাগুলো যেন বলে হয়ে নুলো

                বেশ তো আছো একা একা!

কবি তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি কবিতা

 ছেলেবেলা কথা



ফেলে আসা দিন হারানো কথা

টাপুর টুপুর বাজিয়ে নুপূর

মনের কথায় বৃষ্টি এলো

ঝমঝমিয়ে লিখলো আকাশ

ছেলেবেলার হারানো দিন

সেই দিনেতে আকাশ পথে

আজও নামে মনের চূড়া

রাস্তা কথা লিখছে দেখো

ছেলেবেলায় হারিয়ে যাওয়া।

কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 প্রসব 



রোজ মৃত্যু এসে শরীরে ঘুমায় 

আমি ওর পরিচর্যা করি 

কলঙ্ক রটে যায় ঘোর সহবাসে 

অন্ধকারে মৃত্যু ওঠে হেসে 



ওষুধ পথ্য জলের বোতল 

                        সবাই পাহারা দেয় 

উজ্জ্বল শয্যা ঘিরে বসে থাকে 

                           নির্ঘুম সংসার 

আমার নীরব ভাষা আর নীরব ভাষার সংকেতগুলি 

                             বাহু বিছিয়ে রাখে 

আমি তাতেই আমার মাথা রাখি 

                      ওরাই বুঝুক কষ্ট, মৃত্যুর গভীর পরিচয় 



অবসন্ন কালটুকু কেটে গেলে 

আমিও প্রসব হব এই সময় যন্ত্রণার।

নবম সংখ্যার সম্পাদকীয়

 


                            অঙ্কন শিল্পী- মৌসুমী চন্দ্র


সম্পাদকীয়


ভালোলাগা এবং ভালোবাসা-এর মধ্যে যেমন অন্তর আছে, ঠিক তেমনি পত্রিকার লেখাগুলো পড়েছি এবং পড়ি কিংবা পড়ি তো এরমধ্যে যথেষ্ট অন্তর আছে কারণটা বলি World sahitya adda পত্রিকার আটটি সংখ্যা আটটি সপ্তাহে প্রকাশিত হয়ে গেছে কিন্তু পাঠক সংখ্যা বাড়ছে কই ? যদি সত্যিই সকলে পড়ছেন তাহলে মন্তব্য কোথায় হচ্ছে ? লেখা যে পড়েন তিনিই আসল সমালোচক এবং পর্যালোচনা কারি পাঠক। তাই সত্যতা এই, শুধু মুখে বলা আপনার পত্রিকা পড়ি আমার ভালো লাগে, সেটা শুধু বলা থেকে প্রতিটি লেখার নিচে মন্তব্য করায় ভালো, এতে বুঝবো হ্যাঁ আপনি সত্যি কারের পাঠক। তাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। পড়তে থাকুন World sahitya adda এবং আমাদের পাশে থেকে একসাথে এগিয়ে চলুন।




                                  ধন্যবাদান্তে
              World sahitya adda সম্পাদকীয়

_____________________________________________________________


Advertisement (বিজ্ঞাপন)




বি.দ্র: বিজ্ঞাপনের সব দায়িত্ব বিজ্ঞাপন দাতার।

Saturday, September 11, 2021

নবম সংখ্যার সূচিপত্র (২২ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র



বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, তীর্থঙ্কর সুমিত, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, সুব্রত মিত্র, অভিজিৎ হালদার, স্বপ্না বনিক, তাপস মাইতি,জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, মহীতোষ গায়েন, আশীষ কুন্ডু,পুষ্পিতা বিদ, মিলি দাস, উদয়ন চক্রবর্তী, অমিত পাল, মুহাম্মদ বায়েজিদ আলী, 

ইমরান শাহ্।


বাংলা গল্প---

দীপক কুমার মাইতি, অমিত পাল।



বাংলা প্রবন্ধ---

তৈমুর খান।



ইংরেজি কবিতা--


Soumendra Dutta Bhowmick, Amit Bid.



Photography----


ARISHNA SARKAR, Moushumi chandra



গান---


বদরুদ্দোজা শেখু