Sunday, October 3, 2021
Poet Pradip Kumar lahiri's one poem
Mothere Ganges
Poet Sunanda Mandal's one poem
Farce
On the stage of life
Bargaining for acting.
Some dialogue on stage,
Behind the makeup.
So are the people
And in the circle of real masks,
Builds its own.
Interests go beyond conflict
The heat of a loveless world.
Masks and people,
People and masks
Life and biological struggle,
Which is sometimes a farce.
Poet Soumendra Dutta Bhowmick's one poem
SENSITIVE WARRIOR
Vis-a-Vis a life meets the challenges
When the hurdles are its lovers.
Then the pleasure jumps up and down
With a fine touch of sensation.
Herein the Golden Flower opens its mouth
Owing to a very sweet smelling and passion.
Let live those lovers long long time,
For a life with a plenty of honey.
Through a terrific sound darkness
A depressed finds the day bright and sunny.
Vis-a Vis a life thus meets a way-
The way to the solid base
Where obstacles turn into roses
And roses have the thorns—
Not not a few less!
লেখক সুজিত চট্টোপাধ্যায় -এর একটি রম্য রচনা
ছেঁড়া প্যান্ট বনাম প্যাটন ট্যাঙ্ক
প্যাটন ট্যাঙ্ক যুগের লোকেরা জানতোনা একদিন ছেঁড়া প্যান্টের যুগ আসবে।
ছেঁড়া প্যান্ট দিয়ে শরীরের অসভ্য জায়গা ঢেকে ঢুকে বুক চিতিয়ে বলবে,,
এই দ্যাখ , এটা তোর চাইতে দামী।
প্যাটন ট্যাঙ্ক যুগের স্মার্ট লোকগুলো
হটাৎ ক্যাবলাকান্ত হয়ে গিয়ে ছেঁড়া প্যান্টের ঘুলঘুলির দিকে তাকিয়ে থাকবে আর মনে মনে বলবে,,,
একি?? কেন ??
কানের পাশে ফিসফিস করে কেউ একজন এক কানে রিং দুল পড়ে পানমশলার থুথু জমানো মুখে উচ্চারণ করে যাবে,,,
একেই বলে সভ্যতা,, চাঁদু,,,। ফ্যাশন সভ্যতা।
সভ্যতা কী। সহজ কথায় বলতে গেলে ,
মিছরি , সোজা হাতে ধরে খাও কিংবা বাঁকা হাতে। স্বাদ একই থাকবে , মিষ্টি ।
পাড়ার জনদরদী মিশুকে মিঠু বৌদি পেখম তোলা ময়ূরের মতো সেজেগুজে , ঝর্ণার মতো কলকল করে উচ্ছ্বসিত হয়ে বান্ধবী তনু কে বললো ,,,,
জানিস , কালকে ইউ টিউবে দারুণ একটা রান্না শিখলাম।
__ কি রে ? উৎসাহে টগবগ করে ফুটছে।
__ উচ্ছের বিরিয়ানি,,
__ এ মা,, উচ্ছে দিয়ে,,, ভালো হবে ?
স্বরে সন্দেহের তিতকুটে গন্ধ ।
মিঠু বৌদি ঠোঁট বাঁকিয়ে চ্যালেঞ্জ নেবার ভঙ্গিতে বললো ,,,,,
হবেনা মানে,, ফাটাফাটি হবে। আমি তোকে ক`রে খাওয়াবো।
এসে গেল সেই চ্যালেঞ্জিং উচ্ছে বিরিয়ানি ডে। সন্ধ্যেবেলাই মিঠু বৌদি উড়ন্ত পাখির মতো উচ্ছ্বাসে ভাসতে ভাসতে এক গামলা উচ্ছে বিরিয়ানি উপহার দিয়ে গেল।
ডিনারের ব্যবস্থা পাকা । সুতরাং আজ তনুর রাতের রান্না নেই। সকালের চিকেন কারি ফ্রিজে রাখা আছে। গরম ক`রে নিলেই হবে।
যথাসময়ে ডাইনিং টেবিলে ইউ টিউবের বিশেষ বিরিয়ানি পরিবেশিত হলো। হায় হায়,, একি হলো ,, ছি ছি ছি ,, এটা একটা খাদ্য ,, মানুষ খায় ? গরুও ছোঁবে না।
তনুর স্বামী ছুটে চলে গেল বেসিনে। ওয়াক থু ওয়াক থু ক`রে ভালো করে মুখ ধুয়ে এসে বললো ,,,
তোমার সুন্দরী বান্ধবীকে বলে দিও। দুনিয়ায় বহু খাদ্য আছে , কিন্তু তার সবই মানুষের জন্যে নয়।
ভাগ্যিস ঘরে খানিকটা মুড়ি ছিল। চিকেনকারি দিয়ে মুড়ি , খুব একটা মন্দ নয়।
বোঝা গেল , যেখানে যা মানানসই সেটাই সভ্যতা। অন্যথায় ভোগান্তির একশেষ।
প্যাটন ট্যাঙ্কের যুগে চোর আসতো রাতে। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে।
ধরা পড়লে রক্ষে নেই। বারোয়ারী ঠ্যাঙানি। মেরে লাট করে দেবে।শেষে কেউ একজন বীরপুরুষ কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কোপচে খামচা করে কেটে , শেষ বারের মতো শাসানি দিয়ে ছেড়ে দেবে।
যুগাবসানে চোর আসে দিনদুপুরের মধ্যিখানে। চুল নিজেই মেল পার্লার থেকে চোরছাঁট ছেঁটে তাতে ব্রাউন কালার লাগিয়ে দেবানন্দ স্টাইলে বেঁকে বেঁকে এসে ক্লায়েন্টের চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকিয়ে , গালে ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে , পেটের কাছে সেই জায়গায় দেশীগান ঠেঁসে ধোরে বলে ,,,
কী আছে বের ক`রে দে। শিগগির।
ক্লায়েন্ট বেচারা কাঁপতে কাঁপতে ঘড়ি ওয়ালেট মোবাইল ফোন স্বহস্তে সর্বশান্ত হয়ে কেৎরে দাঁড়িয়ে থাকলো।
ছেঁড়া প্যান্ট স্টাইলিশ চোর যাবার আগে শেষ শাসানি দিয়ে গেল,,,,
বেশি বাড়াবাড়ি করলে দাদাকে বলে দেবো, ম্যাঁও সামলাতে পারবিনা। তোর পুলিশ বাবা আমার জাঙ্গিয়া কেচে দেবে। যা ফোট।
মলয় মল্লিক প্রতিদিনের মতো সেদিনও তার কাজের জায়গায় যাবেন বলে সদর দরজা খুলে বাইরে পা রেখেই চমকে এবং বমকে গেলেন। স্বাভাবিক।
দরজার সামনে চাপচাপ রক্ত , মরা মুরগির ঠ্যাং পালক ছত্রাকার হয়ে রয়েছে।
একটি ছোকরা ছেলে , মোটা বেঁটে সাইজের কাঠের গুঁড়ির ওপর ফটাফট করে মুরগী কেটে বিক্রি করছে।
মলয় মল্লিক রেগে কাঁই। মুরগী কাটা ছেলেটাকে তেড়ে গেলেন ,,,,
আহাম্মক , আমার বাড়ির দরজায় মুরগী বেচার জায়গা বানিয়ে ফেললি ? যাওয়া আসায় রাস্তা । যা খুশি তাই করবি , কী ভেবেছিস কী ; হঠা,, হঠা সব এখন থেকে । এক্ষুনি সরিয়ে নে বলছি,, নইলে,,
এইবারে মুরগী কাটা ছোকরা উঠে দাঁড়ালো। পরনে সেই ফ্যাশানের ছেঁড়াপ্যান্ট। গায়ে স্লিভলেস গেঞ্জি। সারাগায়ে রক্তের ছিটে। একেবারে নিখুঁত বুটিক ডিজাইন।
__ নইলে কী? বেশি ভাঁজবেন না। ব্যবসা করছি। কোনও চুরিচামারি করছিনা। বেকার বাঙালির ছেলে। সৎ পথে করে খাচ্ছি। ব্যাগড়া মারবেন না।
__ শোনো শোনো,, তোমাকে ব্যবসা করতে মানা করিনি। আমার দরজা টুকু ছেড়ে , যেখানে খুশি বসো।
__ দূর মশাই , দরজা দেখাচ্ছে। দরজা আপনার , তাই ব'লে কি কর্পোরেশনের ফুটপাতও আপনার ? লে হালুয়া।
কিচ্ছু সরবে টরবে না। যান তো , যা পারেন করে নিন। তারপর বুঝবেন আমি কে,,।
লিখে রাখুন আমার নাম ডাব্বু। আট থেকে আশি সব্বাই একডাকে চেনে।
দাদা এখানে বসতে বলেছে , ব্যাস।
কোনও কথা হবেনা।
ততক্ষণে লোক জড়ো হয়ে গেছে। লাগদাই সিন। এসব ক্লাইম্যাক্স সিন দেখার রসিক পাবলিক প্রচুর ।
মল্লিক মশাই এবার একটু নরম হয়ে বললেন,,,
ঠিক আছে , বসো এখানেই বসো। ব্যবসা করো। কেউ তো মানা করছে না। তাই বলে মুরগী ? ঘরের সামনে না না এটা কীভাবে সম্ভব ? গন্ধে কেউ টিঁকতে পারবে এখানে?
অন্যকিছু করো , ফুল বিক্রি করো।
__ হাসালেন দাদা। এই গুড্ডু বসে বসে ফুল বেলপাতা বেচবে ? হেঁ হেঁ,,,, আপনি ফুলের গন্ধ শুঁকবেন ? হেঁ হেঁ ,,,,
শুনুন স্যার , ছোট মুখে একটা বড়ো কথা বলে রাখি , ভবিষ্যতে মিলিয়ে নেবেন।
মা কালীর দয়ায় যদি এই মুরগির ব্যবসাটা জমে যায় , তাহলে আপনার পাশের বাড়িটাই আমি কিনবো। প্রতিবেশী । দুবেলা দেখা হবে।
খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে আবারও বসে পড়ে ঘ্যাচাং ঘ্যাঁচ্ করে মুরগী কাটতে শুরু করলো।
মল্লিক মশাই রাগে ফুলছিলেন। মনে মনে বললেন ,,,
এটা যদি আমাদের সেই প্যাটন ট্যাঙ্কের জামানা হতো , তাহলে এক্ষুনি ও-ই মুরগির জায়গায় তোকে ফেলে ঘচাং ফু করে দিতাম শালা ।
কী আর করা যাবে। সেই প্যাটন ট্যাঙ্কও নেই তার দাপুটে গর্জনও নেই।
এখন ফ্যাশনের ছেঁড়াপ্যান্টের মুখ ভ্যাংচানো দেখার যুগ । একটু মানিয়ে নাও গুরু। সহ্যশক্তি মহাশক্তি , মহাগুনও বটে ।
চিন্তা নেই । অনিয়ম টেঁকসই হয়না।
দু'দিন বৈ তো নয় ।
( প্যাটন ট্যাঙ্ক একটি পুরাতন যুদ্ধাস্ত্র । বাংলাদেশ মুক্তি যুদ্ধে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যবহার করে অসামান্য সাফল্য পেয়েছিল ভারতীয় বাহিনী )
লেখক তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি গদ্য
নদী কথায় ভেসে যায় ....
(৬)
কথার সাথে সাথে কথারা বদলে যায়।দুপুরের রোদ গায়ে মেখে ভোরের কাকটা
বাড়ি ফেরে ক্লান্ত হয়ে।ঘরের সাথে সাথে ঘর বদলে যায়।নতুন নতুন মুখ খুঁজে ফেরে চিরনতুনের সন্ধানে।গল্প কথায় সাজিয়ে নেয় তথ্য।আর ফিরে আসে কিছু অবাধ্য যন্ত্রণা।যেখানে জন্ম হয় এক একটা কবির।আবার ফিরে পাওয়া মুহূর্তে নদী কথায় ফিরে আসে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার মানে।যে নদী স্রোত হারিয়েছে সে নদীর গভীরে যেওনা ...
(৭)
সময়ের সাথে সাথে সময় বদলে যায়।মুহূর্তের সাথে মুহুর্ত।সবাই কথা রাখে। শুধু সময় পেরিয়ে গেলে ভুলে যাওয়ার অভিনয় করে । তাইতো ফাঁকা পথেও কথায় যেনো একটা জট। জটের মধ্যে লুকিয়ে থাকে আমার পৃথিবী।জল আলো বায়ু সবই আছে।শুধু হারানো দিনগুলো আর নেই।নেই কোনো সীমাবদ্ধতার লড়াই।সবাই মুক্ত ।মুক্ত পৃথিবীর কথা আমরা সবাই জানি।কবি , গল্পকার , পবন্ধকার সবাই সাজিয়ে নেয় তাঁর পৃথিবীকে। আমার কল্পনায় হৃদয় ভেসে যায় __ গঙ্গা,মেঘনা,পদ্মার দিকে ...
( ৮)
যে পথটা বেঁকে গেছে সে পথটাই মনে হয় সবথেকে সোজা ছিল।বহুদিন আগে যে রাস্তা হারিয়ে গেছে,সে রাস্তার ই আজ বড় প্রয়োজন।কয়েকটা অক্ষর কি কয়েকটা চিহ্ন কখনো ই রাস্তার গল্প শোনায় না। শোনায় না ফেলে আসা নদী বাঁকের গল্প। যে গল্পে দুপুরের রোদ বিকালের ধুলো আর রাতের ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।তাইতো আমি গঙ্গার কাঁধে মাথা রেখে পদ্মাকে দেখি।আর মেঘনার গল্পে ব্রহ্মপুত্রর রূপ খুঁজি।
(৯)
অক্ষরগুলো মনে হয় এইভাবেই হারিয়ে যায় মানুষের জীবন থেকে।সাদা কালো সব ই রং মাত্র।আর হারিয়ে না যাওয়ার কারণ নেই কোনো।শুধু হাততালি আর পুরস্কার কখনই সঠিক পথের সন্ধান দেয়না।ফেলে আসা স্মৃতি আর অভ্যাস একে অপরের পরিপূরক।তাইতো গানের সাথে গান,পথের সাথে পথ লুকিয়ে থাকে প্রতিটা অক্ষর বিন্যাসে।আর এখানেই সৃষ্টি হয় এক একটা নদীকথা।যেখানে সব স্রোতের পথ চলা শুরু ...
(১০)
যে নদীটা রোজ দেখি বয়ে যেতে তাকে নিয়ে ই মানুষের যত প্রশ্ন।সকাল থেকে রাত যত ভাবনা,অনুশোচনা,ক্রমশ ভালো লাগার তাগিদ আবার নানা প্রশ্ন।এভাবেই দিন চলে যায়।কেউ এর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করে না।কোনো কারণ ছাড়াই অকারণে নানা কথা।যুক্তিগুলো কে পাশাপাশি সাজিয়ে নতুন হয়ে ওঠা।এভাবে কি কিছু ফিরে আসে?
প্রাবন্ধিক অমিত পাল -এর একটি প্রবন্ধ
লকডাউন ধনীদের জন্য
লকডাউন ধনীদের জন্য, গরীবদের জন্য নয়। লকডাউন তো তারাই চাই তারা প্রাসাদে বসে আরাম করে, লকডাউন তো তারাই চাই যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এ মাস শেষে মোটা টাকা আসে। কিন্তু গরীবরা তো লকডাউন চাই না। কারণ তারা হল দিন আনা, দিন খাওয়া মানুষ।
এই লকডাউনে কত মানুষ অনাহারে ভুগছে হুঁশ আছে আমাদের দেশ ও রাজ্য সরকারের? আমাদের কি হবে কেউকি ভাবছেন? আমাদের মত গরীব দের পেট কিভাবে চলবে তার একটি রাস্তাও কি বের করা আছে? তাহলে লকডাউন কেন? মানছি করোনা অতিমারিতে এটা জরুরী পদক্ষেপ কিন্তু একটি বছর এই করে কেটে গেল। তাহলে আবার এই বছরে? এতে তো অনাহারী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাহলে লকডাউন টা কি জরুরী ছিল?
আচ্ছা, প্রথম বছরের পরিস্থিতি তো অনেকটা শিথিল ছিল তাহলে আবার করোনা বৃদ্ধি পেল কেন? এইটা নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন করে না। এখন দ্বিতীয় ধাপে করোনা বৃদ্ধি পেয়েছে তাই কোনো কিছু না ভেবেই কি লকডাউন? সাধারণ মানুষের জন্য ই সরকার। তাহলে ভোটটা কি মহামারী থেকে মুক্ত হওয়ার পর করলে হত না? যেমন চাকরি পরীক্ষার রেজাল্ট ঝুলে থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদান ঝুলে থাকে তেমনই ভোটটাও ঝুলিয়ে রাখলে কি অসুবিধা ছিল? মানুষের জন্য ই তো সরকার গঠন আর যদি মানুষ ই বেঁচে না তাহলে কার জন্য সরকার? এই প্রশ্নের উত্তর কি কেউ দিতে পারবেন?
ধনীদের উদ্দেশ্যে বলছি, গরীবদের কষ্টের ফলেই আপনি কিন্তু প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তাই গরীবদের কথা ভাবুন। ধরুন আমাদের মত গরীবরা আর বেঁচে থাকল না, কেউ অনাহারে আবার কেউ মহামারীর কবলে ধ্বংস হয়ে গেল তখন কি করবেন? পারবেন কি রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলাতে? পারবেন কি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শস্য বোঝাই করতে? কি খাবেন তখন? মাসের শেষে মে মোটা টাকা আসে সেগুলো তো কাগজমাত্র, তখন কি ঐগুলি খেয়ে বাঁচবেন? মনে রাখবেন এই প্রকৃতির বাস্তব পরিবেশে বাস্তুতন্ত্রের চক্র বলে একটা চিরন্তন সত্য আছে। আমরা গরীব রা এবং আপনাদের মত ধনীরা এই চক্রের মধ্যে আবদ্ধ। তাই আমাদের মত গরীবরা ধ্বংস হলে আপনারাও ধীরে ধীরে বাস্তুতন্ত্র ও সময়ের কাল চক্রে ধ্বংস হয়ে যাবেন। তখন কোথায় থাকবে প্রাসাদ? কেই-বা ভোগ করবে, ভেবেছেন কি?
সরকারের উচিত এই ব্যাপারে আমাদের মত গরীবদের জন্য ভালো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া। জানি লকডাউন দরকার। কিন্তু অতিমারির বদলে যদি অনাহারে আমাদের মৃত্যু হয় তখন তার দায় কি সরকার নেবেন? এর জন্য এই লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রতিটি গরীব মানুষদের পেটের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। কিছু না হলেও অন্তত পরিবেশ সুরক্ষা মূলক ১০০ দিনের কাজ , গ্রাম উন্নয়ন মূলক কাজ দেওয়া হোক তাতে সরকারের ফান্ড থেকে আমাদের মত গরীবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এও কিছু টাকা আসে। যাতে করে আমরাও বাঁচতে পারি। আমি কাজ ছাড়া সরকারকে এমনি টাকা দেওয়ার কথা বলিনি। তাই সরকারের উচিত এই দিক গুলো ভেবে দেখা।
লেখক সামসুজ জামান -এর একটি গল্প
চোর
‘চোর’ এই ছোট্ট কথাটা, ছোট্ট বাবলির মাথায় ঢুকে গেল। পড়তে পড়তে থেমে গিয়ে জিজ্ঞাসা নিয়ে দাদুর কাছে দৌড়ে এল- দাদুভাই চোর কী? দাদুভাই ফাইলে ব্যস্ত ছিলেন তবুও ফাইল থেকে চোখ সরিয়ে উত্তর দিলেন- না বলে পরের জিনিস নিতে নেই দিদিভাই। যে না বলে নেয়, তাকে চোর বলে।
- দাদুভাই,তুমি কি চোর হয়েছে কখনো ?
- সেটা কি আর ভাল কাজ, যে করব ? বলতে বলতেই দাদুর মন পাড়ি দিল নিজের সেই হারানো স্কুল জীবনে। তখন ক্লাস সেভেন বোধহয়, ঘরেতে বরাবরই অভাব। স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে সব বাচ্চারা যখন পকেটের পয়সা খরচ করে এটা-সেটা খেতে ব্যস্ত থাকত, জীবন সরকার নামের এই ছেলেটা তখন জুলজুল করে চেয়ে থাকত।
সেদিনও কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, আইসক্রিম ওয়ালা ছেলেদের আইসক্রিম দিয়ে বাক্সে ঢাকনার উপর রাখছিল পয়সাগুলো। লোকটার একটু অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে বাক্সের উপর রাখা পয়সাতে হাত ছুঁইয়ে আওয়াজ দিয়ে জীবন বলেছিল - আইসক্রিম দাও তো একটা।
- কত দামের ? পয়সা দিলে? সরল বিশ্বাসে জিজ্ঞাসা করল তৃপ্তি আইসক্রিম বিক্রেতা ওই লোকটি।–
- এই তো পাঁচ টাকা রাখলাম। আমি কি চোর নাকি, যে, না দিয়ে বলব, দিয়েছি!
লম্বা জিভ কেটে আইসক্রিম বিক্রেতা বলল – না,না, বাবুসোনা, তোমরা চুরি করবে কেন? তোমরা তো সবাই ভদ্র ঘরের ছেলে। জানো, আমি তো আর পড়াশোনা করতে পারি নি, তাই তোমাদের দেখি আর কী যে ভাল লাগে। তোমাদের কাছে দু-পয়সার জিনিস বিক্রী করে কী যে আনন্দ হয়! আরও কী যেন সব বলতে লাগল লোকটা বিড় বিড় করে। কিন্তু সে সব না শুনে আইসক্রিম টা হাতে নিয়ে একটু পাশে সরে এসেছিল জীবন। ভেবেছিল মজা করে খাবে কিন্তু সেদিন আইসক্রিমটা খেতে তেমন যেন মজা পায়নি জীবন। যদিও তার এই নতুন লোক ঠকানো পরিকল্পনার কথা কাকেও জানাতে পারেনি সে।
আজ নাতনির কথায় মনটা বিষণ্ন হয়ে গেল। ছোট্ট ঘটনা কিন্তু সেটাও তো একটা চুরিই ছিল। পরে বার বার তার মনে হয়েছে গরিবের পাঁচ টাকা চুরির মূল্য তো অনেক বেশি! কতবার ভেবেছেন যদি সুযোগ থাকত তাহলে সেই টাকা ফেরত দিয়ে দিতেন কিন্তু সেই আইসক্রিম বিক্রেতা মারা যাওয়ায় তাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। মনে হলো আজ বাবলীর কাছে বলে একটু হাল্কা হবেন। কিন্তু মুখ যেন খুলল না জীবনবাবুর। নিজের আভিজাত্যকে এত ছোট করার মতো সরলতা দেখাতে পারলেন না।
বাবলি তখন দাদুর মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছে কেন কে জানে! সে বলল - দাদু, কিছু বলবে? মাথাটা খুব জোরে জোরে নাড়তে লাগলেন জীবন বাবু। নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে গেল আর মনটা হঠাৎ বড় বিষন্ন হয়ে গেল তাঁর।
--------------------
কবি ইমরান শাহ্ -এর একটি কবিতা
গন্তব্য
সে যে শরতের স্নিগ্ধ সুধাংশু-কিরণ,
উভয়েরি প্রাণে করে অগ্নি বরিষণ।
ইচ্ছে হলে আসে আবার চলেও যায়
তারই বিরহে কাটে স্মৃতি মেদুরতায়।
অজস্রজন্ম বৃথা অনাহুত করে শোক র্যালী
মিছিলে মিছিলে ভেতরটায় দেয় উলুধ্বনি।
সে ছাড়া যে নিতান্তই সব নিরর্থক
জীবন গানে সেই-তো শ্রেষ্ঠ আভোগ।
বলি কবিতায়, যদি তার ভালোবাসা পাই
সমুদ্দুর হবো, না-পেলে সন্ন্যাসী।
কবি তাপস মাইতি -এর একটি কবিতা
নীলিমা তারা
ভর সহ্য করতে করতে পুনরায়
পৃথিবীর নিজস্ব কেন্দ্রের দিকে
টান হয়ে উঠি ।
সমস্ত প্রেম যদি হয়
সবুজ ও সতেজ
আমি আমার ওজন -- টনের সীমারেখা
বরাবর তাকে আর একবার
টেনে ধরে তুলতে চাই ।
ঘূর্ণনের অপর নাম কেন্দ্রিক ভারকর্ষণ
সে -- এর সহ্যের কথা জানে না
বলেই, আমি তার নীল -- নীলিমা
তারায় একটা সহবাস রচনা করি ।
কবি তুলসীদাস বিদ -এর একটি কবিতা
শারদীয়া
নদী পাড়ে কাশের বন
ডাক দিয়েছে আয়রে আয়।
সবুজ খেতের শিশির রেখা
আগমনীর গান যে গায়।
মেঘের কোলে শান্ত আকাশ
শীতল বাতাস দোদুল বায় ।
শিউলি ফুলের মিষ্ট সুবাস
শারদীয়ার আলো - ছায়।
সবুজ আমের শাখে শাখে
মিলন মেলার গন্ধ পায়।
আলতা পরা দুর্গা মাকে
দু-চোখ ভরে দেখতে চাই।
শ্রাবণ ধারা বাঁধন হারা
শরতে তার শেষ বিদায়।
শাপলা, শালুক দিঘি ভরা
পদ্ম ফুলে দীপ জ্বালায়।
পূজা পূজা গন্ধ বাতাস
সোনার রোদে মত্ততায়।
আশ্বিনে সেই নতুন আভাস
মাতৃ পূজার বন্দনায়।
দোলায় দোলে নব শাখে
উঠোন ভরে আলপনায়।
বরণ ডালা গাথা মালা
গ্রামের বধূ শাঁখ বাজায়।
পূজা পাঠে পূর্ণ ঘটে
শুক্লা পক্ষের চন্দ্রিমায়।
উল্লাসে প্রাণ মেতে ওঠে
মরা গাঙে বন্যা বয়।
কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা
আভাস
শরৎ আকাশে ভেসে ভেসে
আসছে পূজোর আভাস ।
কৌলাস থেকে মা আসছেন
বইছে খুশির বাতাস ।
শেফালি তলায় ঝড়া শেফালি
গন্ধে মাতায় ভূবন ।
কাশফুলগুলি দ্যৌদুল দোলে
আহা কি শোভা দর্শন।
শরৎ আকাশে স্নিগ্ধ বাতাসে
ভাসে আগমনী সুর ।
আর দেরি নেই মহোৎসবের
হবে মার আবাহন।
করোনার কালে পূজো শিয়রে
মন ভারী ভারাক্রান্ত।
দশপ্রহরিণী দশভূজা মাগো
পৃথিবীটাকে কর শান্ত ।
কবি রোকেয়া ইসলাম -এর একটি কবিতা
শরতের গল্প অন্য শরতে
অন্যমনস্ক বিস্মৃত প্রায় শরতের পুনরাবৃত্তি হয়
ধুলো ঝেড়ে যত্ন করে ফিরে আসে অচেনা কিশোরী
যখন নিরালা একা ও আমি শিউলি ঝরা ভোরে
ভেবে নেই -বয়স এক সংখ্যা মাত্র
ভেতরের সব প্রেম জড় করি সারাটা দুপুর জুড়ে...
হাঁটাছি সব চেনা পথ হারিয়ে একাকি
ঐ দূরে সমুদ্রের মতো কাশবন
শ্বেত সখ্য ফুলের সাথে বাতাসের মাখামাখি
যেন কত বছরের ভালবাসাবাসির ঘর সংসার ; যাপন....
হাঁটছি. নিরেট প্রেমটুকু সম্বল
সবুজ বিকেল ছুঁয়ে ফেলে ধুসর সন্ধ্যা
সমুদ্রের বুকে আলবাট্রসের ছায়া নেই
দূরের কাশবন কাছ এলে বড্ড ফাঁকা
ম্লান হয়ে চেনা পোট্রের্ট ম্লান এই লোটাকম্বল
উত্তরা পেরিয়ে মিরপুর ছাড়িয়ে দিয়াবাড়ির আমন্ত্রণে
পুরোটা শরত জুড়ে দুঃসহ প্রতীক্ষায় ছিলাম
-- আসোনি
তোমার না আসা শরত মুখ লুকিয়েছে অন্য শরতে
বুঝতেই পারিনি ভালবাসনি
নন্দনালোকে সে এক অসমাপ্ত অপেক্ষা
তোমার আসার কথা ছিল বিকেলে আকাশের এক মুঠো নীল শার্টে
আমার খোঁপায় সাদা মেঘ রঙা রোদ্দুরের ফুল
আমাদের সে টার্ম পুরোটাই অপ্রাসঙ্গিক
ভুলে যাওয়া ডাক নীলা
সে পথ হারিয়ে বহুদূর, সিলগালা
অতঃপর
খুলে দেয়া ঈশ্বরের দ্বার ছুঁয়ে নেমে আসে অরফিয়াস।
না আমার স্বপ্ন দেখা মিথ্যে আমার ভাঙা ঘর।
অরফিয়াস সব সত্য অঙ্গিকারের বাহনে তুলে নেয় প্রেম হারানো আমাকে।