Sunday, October 31, 2021

কবি সুমিত্রা পাল -এর একটি কবিতা

 ভোটের দামামা




যখন বাজে ভোটের দামামা,

থাকে একরাশ প্রতিশ্রুতি আর হাঙ্গামা ,

দল বদলের খেলা চলে ,

একে অন্যকে কুকথা বলে ।

 মুখোশ গুলো পড়ে আসে,

ভোট পেতে কোমর বাঁধে কষে ।

নেতা-নেত্রীদের ভাঙে ঘুম,

চলে মানুষকে কাছে টানার ধুম।

হাসিমুখে সব কথা শোনে,

 মনে মনে সপ্নজাল বোনে।

একবার পেয়ে গেলে আসনটাকে ,

ঠিক দেখে নেবে সব বেটাকে।

বুঝবার নেই কোন উপায়,

বোকা জনগণ ভোলে এদের কথায়।

এলে ভোটের সময় কাল ,

নেতারা হয় তখন ভিজে বেড়াল।

নেতাদের লোভের লালসায় ,

সাধারণ মানুষের প্রাণ চলে যায়।

এল গেল কত রকমের দল,

 মানুষ পেয়েছে শুধুই ছল।

নেই ঠিকমতো অন্নবস্ত্রের সংস্থান,

 আজো তাদের ঘরে বেকার সন্তান।

আজও বসে আছে আশায় ,

হয়তো আলো জ্বলবে বাসায়।

হয়তো খুশির জোয়ার লাগবে ,

হয়তো একদিন মানবতাজাগবে।

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

 অকৃতজ্ঞ




ভণ্ডরা কখন যে কোন রূপ ধরে প্রেমকে দেয় ফাঁকি

জানে না প্রেম পুজারির উঠোন।


দরজা খোলা রাখে

অভুক্ত ফিরে গেলে সে যে বড়ই বেদনার

তাই বেড়ে দেয় ভাত

এক সময় গতর বাড়ে

বলও আসে শরীরের এ-কানায় ও-কানায়।


অহিংসার ভূমিতে প্রেমের ছায়া তলে দাঁড়িয়ে

যারা সান দেয় আসুরিক প্রবৃত্তি

ছিঁড়তে থাকে শান্তির নরম পালক।


এক সময় যে পাতে খায় সে ভাতে ছেদ করে

লেজ নাড়তে নাড়তে ছুটে যায় ভাগাড়ের দিকে

এক সুরে বাজায় গান মাংস ছেড়ার উল্লাসে

কবি প্রতীক হালদার -এর একটি কবিতা

 দিদার কান্ড 



ছুটল গোপাল আমটা পেড়ে 

করল দিদা তাড়া ,

হয়েছিস কেমন বাপের ব্যাটা 

একবার তুই দাঁড়া ।


জোরসে ছুটে বেড়ার ওপার 

পড়ল গোপাল জোরে ,

হোঁচট খেয়ে পড়ল দিদা 

ছিল ঘুমের ঘোরে ।


চেঁচায় জোরে আয় রে ছুটে 

ভাঙল বুঝি ঠ্যাং ,

গোপাল ছোঁড়া বড্ড জোরে 

মারল আমার ল্যাঙ ।


ঘেঁচি জোরে দৌড়ে এল 

একি তোমার দশা ?

এই বয়েসে পা'টা গেলে 

চরম সর্বনাশা ।


কি কান্ডটা কর না তুমি 

বয়সটা কি কম ?

এই বয়েসে কোথায় তুমি 

পাও যে এত দম ?

কবি মঞ্জুলা বর -এর একটি কবিতা

 কোথায় চেতন 




সুন্দর পৃথিবীতে মানুষ কবে আর 

মানুষ হবে ? এতো শিক্ষা ব‍্যবস্থা  

এতো আইন কানুন তবুও শত সহস্র

 নারীর গণধর্ষণ গর্ভকালীন !


 কেমন শিক্ষা?---ভাবতে অবাক লাগে

 এতো পুলিশের সমারোহ পথে পথে--

 হাজার হাজার জন মানব তবে কী

 করে মোড়ে মোড়ে নারীর কেন 

 এত ধর্ষণ ও মৃত্যু !


আসলে সব থেকে ও কিছু নেই অভাগা 

দেশে! জ্ঞানের আলোকে মানুষ কবে  

আর মানুষ হবে?সবাই আমরা মুখে 

কত জ্ঞানের বাণী শোনাই কিন্তু সত‍্যি কী 

কেউ সঠিক পথে চলি! সবটা যেন  

অজানা! ------


বিবেক চেতন যদি জাগতো তবে দিনের 

পর এতো অন‍্যায় অরাজকতা হতো না!

মিথ‍্যার কবলে সত‍্য হতো না জর্জরিত ।


লোভের মোহে দিকে দিকে ধান্দা 

আর মারামারি । স্বার্থের তরে হিংসা,ঈর্ষা ,

ক্ষুণ,খারাপি চলছে অহরহ।  


 কোথায় মনুষ্যত্ব ?কোথায় চেতন?

কোথায় বা মানবিকতা? নীরবে আজও 

কাঁদে অসহায় ধরণী ।

কবি শ্রাবণী মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 প্রয়াস 




দেখিলে কন্যা রাজকন্যা বন্দিনী র বেশে ,

তোমার মনের গহন বনে রূপকথার দেশে ।

রূপ তোমায় পারে নি করিতে মোহিত স্নিগ্ধ হেসে 

বন্ধু হয়ে দাঁড়ালে না তবু কোনোদিন পাশে এসে ।

মুক্ত করিতে করিলে না তুমি কণামাত্র প্রয়াস ।

ব্যাকরণ বুঝায়ে জানিয়ে গেল মুক্ত ধূসর আকাশ ।

ঝরলো বৃষ্টি কপোল বাহিয়া শ্রাবণের বারিধারা ,

চাহিলে পারিত মুছাতে দুঃখ প্রেমিক পাগলপারা ।

ভাসে নি রূপেতে মিত্র আমার অতি সাবধানে পা, 

সময় কাটানোর যন্ত্র করেছে উপায়ান্তর না ।

সাজায়েছো কতো স্বপনে মননে সুন্দরী কুমুদিনী,

লুটায়ে কেশ জড়ায়ে বাহু প্রেমিকা বিরহীনি ।

বাজিলো না ভেরি মধুরিমা ওই ছোট্ট আশায় জুড়ে ,

সুনীল আকাশ বুক ভরানো কি হবে হৃদয় খুঁড়ে ?

 মন্দ্রতালে লয় তাল মেলায় খানিক ছন্দপতন ,

কাঙালিনী বধূ কুসুম চয়নে রেখেছে জীবন পণ ।

প্রাচীর ছিদ্র বেয়ে কোনোদিন আসিবে কি সোনারবি ?

বন্দিনী হয়ে দাঁড়ালে সেথায় কবিতা লিখবে ? কবি ।

হৃদয় দুয়ারে এখনো রইবে শুভ সকাল শুভ রাত ,

বৃষ্টিস্নাত প্রভাতী বেলায় দিও সারা জীবন সাথ ।

কবি তহিদুল ইসলাম -এর একটি কবিতা

 নানা জনের নানান মত



একটা স্তম্ভের উপর একটা শিশুমূর্তি 

একটা অবোধ্য শব্দ করে চিৎকার করছে।

তার অমন আওয়াজ শুনে মানুষ এসে জড়ো হয়।

তাদের মধ্যে কয়েকটি মতে অবস্থান নিলো।

একদল বলল,' ছেলেটা কেমন কান্না করছে।

আরেকদল বলল,' না না, ও কাঁদছে না,

ও হাসছে দেখুন; ও না,অমন করেই হাসে।'

পাশের ফ্লাট থেকে একটা তীক্ষ্ণ কণ্ঠ ভেসে এলো,

' এইযে শুনুন, ও না অমন করেই লোক জড়ো করে।'


চিদানন্দ সন্ন্যাসীর দল,দরবেশ ফকিরের মতে,

' মানুষ আনন্দ পেলে হাসে, দুঃখ পেলে কাঁদে।

ব্যথার নীল পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সে গান করে।

সে এখন অমন সুরে গান ধরেছে।'



আকাশে একটুকরো মেঘ কোথায় উড়ে এলো

বাতাস উঠলো, মূর্তির গা'য়ের ধূলো উড়িয়ে দিলো

তারপর বৃষ্টি নামলো,ভিজিয়ে দিলো তার শরীর

ধুয়ে দিল ব্যথা ,যন্ত্রণা যত জমেছিল বুকে তার।

যেমন করে মা'য়ে দেয়,তার সন্তানের।

কবি অভিজীৎ ঘোষ -এর দুটি কবিতা

 আজব জেরা



এইতো সেদিন পুলিশ মামা 

গ্রামের ভিতর এসে, 

দাসুর বাড়ি ডুকলো সবাই

ধরলো তারে কষে। 

নিয়ে গেল জীপে তুলে

থানার রাস্তা ধরে, 

ভগবানকে ডাকছে দাসু

ভয় ভরা অন্তরে। 

পুলিশ সুপার করছে জেরা

অস্ত্র কোথায় আছে? 

ক্ষীণ স্বরে বললেন দাসু

'নেই তো আমার কাছে।'

ধমক দিয়ে বলল পুলিশ

বলবি কিনা বল? 

তোরা সবাই একই গ্যাঙের

সবটা তোদের ছল। 

দাসু তখন বললো কেঁদে

 শুনুন স্যার তবে , 

গ্রামের মুখে তিনখানি গাছ

তার দুখানি বাদ যাবে। 

তারই পরে তিনখানা পথ

প্রথম দুটি বাদে, 

গেলেই পরে দেখতে পাবেন

মোর পরিবার কাঁদে। 

সেই বাড়িতে তিনখানি ঘর

ঢুকেই দেখতে পাবেন, 

প্রথম এবং দ্বিতীয় বাদে

তৃতীয় ঘরে যাবেন। 

সেই ঘরেতে আছে রাখা

তিনখানা আলমারি, 

প্রথম দুটি বাদ দিয়ে স্যার

তৃতীয়টা দরকারী। 

তারই ভিতর তিনটি লকার

প্রথম দুটি ছেড়ে, 

তৃতীয়টা খুলবেন স্যার

হাতল খানি ধরে। 

দেখতে পাবেন তিনটি ছবি

তৃতীয় ছবিতে মা, 

ঐ ছবির কশম খেয়ে

বলছি ধরে পা! 

জানিনে মুই কোনো কিছু

অস্ত্র কিম্বা বোমা;

তাইতো বলি সবার মাঝে, 

করুন আমায় ক্ষমা। 

পুলিশ মামা বললো হেসে

ছাড়রে পাগল পা, 

তোকে আমি দিলুম ছেড়ে

বাপি বাড়ি যা।

_______________________


  চাওয়া-পাওয়া




চাইলি কেন হাসনুহানা,ভাবছি

 তোকে গোলাপ দেবো;

বাইক চড়ার সখ ছিল তোর, 

পক্ষীরাজে সঙ্গে নেবো। 

খেয়াল বশে বায়না সেদিন,প্যারিস 

নাহয় ফ্রান্সে যাবি;

নিয়ে গেলুম নরওয়ে, বললি 

সেথায় ফুচকা খাবি। 

আবার প্রাণে শখ ছিল তোর

নাইতে যাবি নায়াগ্রাতে, 

স্নানের শেষে মিশর যাবি

প্রখর রোদে চুল শুকাতে। 

যেতেই হলো আফ্রিকাতে

তোরই অভিমানের বশে, 

ফিরতে হলো অস্ট্রেলিয়ায়

প্রেম-পিরিতির দারুণ জোশে। 

আমার শুধু চাওয়ার ছিল

তোর সঙ্গ দু-দশ জনম;

হৃদয় ভরা সেই ক্ষতটা, ঢাকতে

যে তুই লেপলি মলম।

কবি কাজী রিয়াজউদ্দিন আহমেদ -এর একটি কবিতা

 মুক্তি 




বন্ধু এবার পাপ পথ ছেড়ে 

          এসো সৎপথে ফিরে,

পৃথিবীটা দেখ ধ্বংসের পথে 

           চলিয়াছে ধীরে ধীরে!

মানব জীবন অশরীরি আজ

           পরিশ্রান্ত সবে,

ভোরের আকাশে রক্ত-কুয়াশা 

             ঝরে পড়ে এই ভবে।

তাই বলি সখা আর না অসৎ,

              সৎপথে এসো হাঁটি -

ভেঙে দেব মোরা রাহাজানি-খুন

                সন্ত্রাস যত ঘাঁটি।

পরের বিপদে ঝাঁপাইয়া পড়ি'

                 আসান করিব তারে,

শান্তি নামুক চরাচর ব‍্যপি 

                  সকলের দ্বারে দ্বারে!


মুছে দেব সবে ধরণী হইতে

                  লাল রক্তের দাগ,

খুন-ধর্ষণ ঠগ-দুর্নীতি

                  ভাগরে এবার ভাগ।

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 অর্ধসমাপ্ত শক্তি



পুরোনো জীর্ণ সংসার ফেলে হারিয়ে গেলে গৌরী পাজামার দেশে,

ক্ষতি হয়ে গেল একটা জীবন,

তবুও বলেছিলাম দাও, কিছু দিয়ে যাও।

বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তো কিছু দিয়ে যেতে চেয়েছিলে।

প্রস্ফুটিত রজনী গন্ধার আবেশে কেটেছে কত দিনরাত,

কিশোর বেলার ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি, বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বিষাদের সুর একাত্ব হয়ে মিশে গেছে ঘরের আনাচে কানাচে।

এ বয়সে কোন উৎসবেই যেন কিছু নেই এর ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মধ্যরাতে শক্ত পাথর ভাঙা ছেলেটি তাঁর সর্বস্ব বিকিয়ে দিয়ে সমাধিতে শুতে এসেছে আজ।

এইটুকু জীবনে অর্ধসমমাপ্ত গভীর সুখ আর কত পোড়াবে!

বৃষ্টি এলে ক্ষুরের ঝড়ের মত দাগ লেগে থাকে নিজস্ব ফুলের জঞ্জালে।

জুঁই মাধবীর দিকে তাকিয়ে বলি প্রেম দাও প্রেম দাও,একাকিত্বের জনতার ভীড় থেকে একটু প্রেম এনে দাও।

আমি দেখতে পাই -

ফিরে যাওয়ার উৎস দেখে মানুষ ভয় পেয়েছে।

চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলাম গভীর দুঃখের মাঝে কোন সুখ লুকিয়ে আছে?

নির্ভয়ে চেয়ে থেকে বলেছিলাম ,

আজ তবে থাক,আবার আসছো কবে?

কিসের এত কাজ ,কেন এত দূরে দূরে থাকা?

বলেছিলে ধান কোটা শেষ হলে,

নেমে আসা অন্ধকারের মাঝে একটি কবিতা টাঙাতে হবে।

তখনই সকলকে বলবো আমায় এবার নিয়ে চলো।

আমি চিৎকার করে বলবো

আমাকে জাগাও, আমাকে জাগাও।

আমি দেখতে চাই কে বেশি সুন্দর?

এভাবেই উন্মাদনার কীর্তনগুলো শেষ হয়ে যাবে একদিন,

এভাবেই শেষ হয়ে যায় অর্ধসমাপ্ত গল্পগুলো।

কবি রাজা দেবরায় -এর একটি কবিতা

 চলুন ভাবতে শিখি



ভোগবাদের দুনিয়ায়

কেউ ভাবতে পারছে না,

ভাবতে শিখছেও না।

ভাবাটা কেমন যেন ব্রাত্য!

মস্তিষ্ক বলে যে কিছু আছে

ভুলেই যাচ্ছি আমরা।

একগাদা তথ্য ও পণ্য,

এটাকেই শুধু করছি গণ্য।

কিভাবে ভাবতে হয়,

কেনো ভাবতে হয়,

কী ভাবতে হয়,

সেটাই তো শিখিনি মোরা।

কিন্তু ভাবতে যে হবে!

টিকে থাকতে হলে,

দাপিয়ে বেড়াতে হলে,

সম্মান পেতে হলে,

ভাবতে যে হবেই।

চলুন ভাবতে শিখি!

কবি অরবিন্দ সরকার -এর একটি কবিতা

 নাথুলা পাশ

          


সিকিম চীন সীমান্ত অনেক উচ্চতা,

অক্সিজেন অপ্রতুল শ্বাসকষ্ট হবে,

অতীতের সিল্ক রোড তিব্বতের মাথা,

দখলে চীনাবাহিনী দেশ বন্দি ভবে।


অতন্দ্র প্রহরী সেনা তুষারে আবৃতা,

দেশমাতৃকার সেবা চালান নীরবে,

হিমালয়ের চূড়ায় শান্তির বারতা,

অখণ্ডতা রক্ষাকারী জাতির গৌরবে।


আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় একতা,

তিব্বতের জনপথ হারিয়েছে যবে,

বৌদ্ধ লামা ভিক্ষুগন অহিংসার ত্রাতা,

দেশটাই লোপ হলো যুদ্ধ জারি রবে।


নাথুলাপাশ বিশ্বাস সৌভাতৃত্ব জ্ঞানে,

ভারত ও সমকক্ষ পৃথিবী তা জানে।

কবি সোনালী মীর -এর একটি কবিতা

 তুমি কি কোন কবি নাকি চাষি



ওই হাতে ক্ষুরধার লাঙল নিয়েছ তুলে,

সাদা মাটিতে অক্ষর করেছ বপন রোদে জলে:

কতবার চষে গেছ আমাদের মন

গভীর থেকে গভীরে চিন্তার খনন

কতদিন ঊষর মাঠের বুকে

দু হাত আকাশে ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছ সুখে-

তুমি কি কোন কবি নাকি চাষি

ঠোঁটে লেগে আছে শষ্য রাশি রাশি

বুকের ভেতর থেকে উৎসারিত কলমের কালি

বয়ে গেছে শিরায় শিরায়।শরীরের ধুলোবালি 

হীরের দ‍্যুতিতে শব্দ হয়ে পড়ছে ঝরে

মাটির 'পরে ঘাসের 'পরে।

একলা মেঠো গাছের নীচে ভাবাক্রান্ত উদাসী

কবি সৌমেন কর্মকার -এর একটি কবিতা

 শোক



চুপ হও,

দেখছোনা স্তব্ধ এখানে প্রাণ—

একলহমার জন্য হারিয়ে গেছে হাসি নীহারিকার গহীনে,

কান্নার গর্জন শ্রুতি—

ধরণীর কুঞ্জবন হতে ওই গগন চুম্বী পর্যন্ত,

বাঁধভাঙা অশ্রুর ধারা সবার চোখে।

ধূপের গন্ধ বয় তবুও,

বিষাদের সুর।

চেয়ারের ওপর রাখা একখানা ছবি,

ফুলের মালা জড়ানো—

ঘুমোচ্ছে সে,

আজ তার নির্বাক শ্রোতা হওয়ার দিন।

সাদা চাদরে ঢাকা দেহ'টার—

ওপর কত কারোর মায়া ছিল,ভালোবাসা ছিল।

চমকপ্রদ এক অট্টালিকা-রাশি রাশি ধন-সম্পত্তি ভরা,

স্ত্রী-আর দুই সন্তান—

দেখে মনে হয়েছিলো কি পরিমান সে সুখময়—

আসলে সুখ ছিলোই না তার কপালে,

একুল—অকূল খুঁজে খুঁজে আজ তার এই পরিণাম,

কাঠের বিছানা তৈরি—

শেষবারের মত একটিবার নাম ধরে ডাকা,

ক্লান্ত হয়ে শোবে সেই মৃত পুরুষটি—

প্রকৃতির মুখ দেখো চেয়ে করুন নীরবের ভূমিকায়,

মুক্তির দণ্ড ছোঁয়ালো,

অগ্নিষ্পর্শ তার চোখে মুখে,

সেই মুহূর্তেই;

দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা।

মৌনাবৃত চিৎকার—

জ্ঞানশূন্য! বোঝে না কেউ,

বুক জুড়ে পৃথিবীর চূড়ান্ত শান্তির তারল্য—

বিনিময়ে হবে একমুঠো নিষ্কলঙ্কিত ছাইয়ের গুড়ো,

ইতি হলো সেই ছোট্ট জীবন টার,

না! ভুল বললাম;

ছিনিয়ে নেওয়া-লুণ্ঠিত-অনতিক্রমনীয়—

সাক্ষী রইলো ঠাঁই নিত্যপ্রবাহ গঙ্গার বেহদ্দ সৈকত।

তবুও রয়ে গেলো নিরুত্তাপ সে,

যাকে নিয়ে এতকিছু দুঃখ-এতকিছু শোক।