Sunday, January 2, 2022

কবিতা || অমূল্য রতন || চাতক পাখি

  অমূল্য রতন 

     


তুমি তোমার ও সুন্দর 

চাহনি খানি

চাহিওনা আমার পানে।


আমি যে পারিনে

চোখ সরাতে

দেখেই চলি একমনে।


আর তোমার ঐ কালো 

ভোমরার মতো 

চোখের তারায়।


আমার যে সব স্বপ্ন সুখ,

যায় তৃষ্ণা বাড়িয়ে 

আর আমায় খালি জাগায়।


আর রাতের আঁধারে 

ঘুমের ঘোরে

নিয়ে যায় সে স্বর্গ পুরে।


যেথায় মনের সুখে

ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে যায়

কোকিল কুহু সুরে।


আর আমি 

সেই সুমধুর কণ্ঠ শুনে

ঘুমিয়ে পড়ি অঘোর ঘোরে।


ওমনি ঘুম থেকে 

উঠতে হয় দেরি,

সূর্য উঠে হাসে চুপটি করে।


তাই তুমি তোমার ও সুন্দর

চাহনি খানি 

চাহিও না আমার পানে।


আমি যে এক অদ্য পাগল

স্বপ্ন বুনি যখন তখন,

বলো, এ অমূল্য রতন রাখবো কোনখানে ।

কবিতা || দৈন্যতা || আশীষ কুন্ডু

 দৈন্যতা 



দৈন্যতা ঢাকা যায় না 

সাময়িক দোলাচল কিংবা ভ্রম

মুখোশের আস্তর খসে পড়ে 

পিছিয়ে পড়া মানুষের ভিড়ে 

আমার একাকিত্বই সম্বল!


জগতে রঙ পাল্টায় আকাশ

আমি না পাল্টালে বেমানান

অনধিকারে অধিকার নেই 

আমি অন্তর্মুখী এক বিড়ম্বনা 

তবু পথ চলা থামে না আমার। 


যীশুকে খুঁজেছি একটুকু ভিড়ে

পথের ধারে বাতাসে বাঁশি বাজায় 

অদৃশ্য পালনহার , প্রাঞ্জল শব্দের 

আমি ব্যতিক্রমী হবার চেষ্টা করে 

একান্ত আপন পাইনি এখনও

কবিতা || ক্ষমতার অপব্যবহার || অরবিন্দ সরকার

 ক্ষমতার অপব্যবহার

    



তাল পাতার চটাই বা চট্ পাতি

   মুখে বিড়িতে সুখটান,

ভাগাভাগি ক'রেখাওয়া দাওয়া,                  

  মাথে তেল বিনা স্নান।

মেহনতী মানুষের মুক্তির লড়াই 

    পথের দিশা নিশান,

এক ছত্র ছায়ায় - শ্রমিক কৃষক

    গেয়ে সাম্যের গান।

বিড়ি ফুঁকোরা - ক্ষমতায় এসে,

    সিগারেট, মুখে পান,

চটাই আসন যাদু ঘরে রক্ষিত,

    তৈরি ময়ূর সিংহাসন।

আন্দোলন ভুলে,গরীবকে ভুলে

    চাকুরী স্বজন পোষন,

আখের গোছাতে নেতারা ব্যস্ত

 গরীবের পেটে লাথি পণ।

রদবদল সরকার জগা খিচুড়ী,

    পন্থা তাদের অবলম্বন,

ক্ষমতা গেছে, স্বাদ রয়েই গেছে

    মানুষেরা সব সাবধান।

চটাই এর অভ্যাস গেছে চলে

    উঁচু ধাপে রক্ষা নিমন্ত্রণ,

ভুলতে সে পারেনি গাড়ি চাপা

     খানা পিনা আয়োজন।

ঝাচকচকে বাড়ি চারচাকা তার,

    রাজনীতি ব্যবসা মূলধন,

নিজে নেতাকর্মী নয়তো সাংসদ,

  বৌয়ের চাকুরী প্রয়োজন।

এখনও মিথ্যা আশ্বাস ও বানী,

   কূচক্রী কূটচাল ভরা মন,

দল ভেঙে ছড়াছড়ি, হামাগুড়ি,

    হিসাব চাই সম্পত্তি ধন।

কবিতা || গণতন্ত্রের গল্প || মহীতোষ গায়েন

 গণতন্ত্রের গল্প



ভেতরে কারা আছো? দরজা খোলো,

ভীষণ দরকার,দরজা খোলো,ওরা

পিছু নিয়েছে,ধরলে শেষ করে দেবে,

খোলো দরজা,গণতন্ত্র নিরাপদ নয়।


রাত্রি এখন গভীর,বাইরে বরফ পড়ছে

দরজা খোলো,সব তথ্য সামনে আসবে,

সামনে আসবে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ,

বাইরে সাইরেন পুলিশ অথবা মৃত্যুর।


শেষে দরজা খুলে যায়,ভেতরে অন্ধকার,

অন্ধকারে টিমটিমে আলোয় বসে আছে

গুটিকতক লোক,একজন বক্তৃতা দিচ্ছে,

বিপন্ন গণতন্ত্রে বিপ্লব বা সংগ্রাম আসন্ন।

কবিতা || জবাব || তৈমুর খান

 জবাব



স্মৃতিময়ীর কাছে

 আমার সমস্ত স্মৃতি গচ্ছিত আছে। 

কিছু স্মৃতি রোজ চেয়ে নিয়ে

শব্দে শব্দে ওদের বিয়ে দিই। 

বাইরে শুধু কোলাহল রক্তময় বর্ষাকাল

দাদুরির মৈথুনে রাজনীতি ছয়লাপ। 

সম্প্রদায়ের বাঁশ ঝুঁকে ঝুঁকে নেয় শ্বাস

হরদম দেখি তারা বিলি করে উচ্ছ্বাস।


ছোট্ট বাতায়নে উপলব্ধির গান

ঘুমহীন জাগরণে সারারাত ভিজে গেছে—

কে দেবে করুণা তাকে?

রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে প্রলুব্ধ আন্ধার আছে

সময় মোচড় খায় নষ্ট ইতিহাসে।


পাশ ফিরি। উদাসীন হই।

আমার প্রেমিকা শুধু একান্ত নিরিবিলি।

২২ তম সংখ্যার সম্পাদকীয়





 সম্পাদকীয়:



পুরাতন জীর্ণ তা ও ত্রুটি বিচ্যুতি মন থেকে মুছে ফেলুন। নতুন বছরের আর্দ্রতা হৃদয় অন্তরালে শুভ চিন্তা দিক। ভাসমান সমুদ্রে মনের যত মলিনতা সব ভেসে যাক। খেজুর গুড়ের মিষ্টতা সহকারে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠুক। নতুন বছর যেন হাসি দিয়ে ভরে প্রকৃতি। উচ্চাভিলাসী সবুজ আভা অতিমারী কাটিয়ে তুলক‌ । আর আপনাদের সকলের নজর থাকুক আমাদের ওয়েবসাইট ম্যাগাজিনে। ভালো থাকবেন সবসময়। নতুন বছর কাটুক সুখে। পড়তে থাকুন আমাদের ওয়েবসাইট ম্যাগাজিন world Sahitya Adda.



                                ধন্যবাদান্তে

                             সম্পাদকীয় বিভাগ


______________________________________________________________________________________________________

##Advertisement (বিজ্ঞাপন):


১)


______________________________________________________________________________________________________

২)



______________________________________________________________________________________________________

৩)




##বইটি পাবেন- National Book house, Soma Book Store, Amor pustakaloy, Tarama Book Store , The Elegant publications(16B Sitaram Ghosh Street, kol 9.), 63no Saha book stall. এবং Amazon and Flipkart -এ।



##বইটি সরাসরি পেতে-- 9831533582 / 9433925262 দেবে।


______________________________________________________________________________________________________

৪)


______________________________________________________________________________________________________

৫)

##ছাপানো জীবনী গ্রন্থের জন্য-লেখকের জীবনী সংগ্রহ করা হচ্ছে।




" লেখকদের আত্মজীবনী" গ্রন্থ তৃতীয় খন্ডের জন্য, লেখকদের কাছে থেকে জীবনী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আপনার মূল্যবান জীবনী 300 শব্দের মধ্যে লিখে পাঠিয়ে দেন। বইটি ছাপানো অক্ষরে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু কোন সৌজন্য কপি দিতে পারবে না।



বইটির সাথে সম্মানিক হিসাবে দেওয়া হবে।




1/ সাম্মানিক সার্টিফিকেট।* (বাঙালি লেখক সংসদের পক্ষ থেকে।)



2/ "লেখক পরিচয়পত্র কার্ড"। লেখকের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত পরিচয় বহন করবে। (বাঙালি লেখক সংসদের পক্ষ থেকে।)





3/ সম্মানিত পদক (মেডেল)* {বাঙালি লেখক সংসদের পক্ষ থেকে।}




বইটির বুকিং মূল্য 300 টাকা দিয়ে কিনে, বাঙালি লেখক সংসদ কে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করতে হবে। ডেলিভারি সার্ভিস চার্জ আলাদাভাবে দিতে হবে না।





গ্রন্থের কভার পৃষ্ঠায় আপনার ছবি দিতে আগ্রহী হলে, যোগাযোগ করুন।




টাকা পাঠানোর একাউন্ট




শংকর হালদার




(1) ফোন পে 8926200021




(2) পেটিএম 8926200021




( 3) ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে। 




স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ( S.B.I.)



SANKAR HALDER


Account No : 34681068289


IFSC :SBIN 0015960




টাকা পাঠানোর পর রশিদের স্ক্রিনশট কপি করুন এবং জীবনী লেখা পাঠিয়ে দেবেন।


হোয়াইট অ্যাপস নম্বরে :-




 8926200021




যে কোন বিষয়ে যোগাযোগ :- শংকর হালদার শৈলবালা।  


মোবাইল :- 8926200021


বাঙালি লেখক সংসদ, দত্তপুলিয়া, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।



______________________________________________



**বি.দ্র- বিজ্ঞাপন এর সব দায়িত্ব বিজ্ঞাপন দাতার।

Saturday, January 1, 2022

২২ তম সংখ্যার সূচিপত্র (৪৪ জন)

সম্পূর্ণ সূচিপত্র:




বাংলা কবিতা ও ছড়া---




তৈমুর খান, মহীতোষ গায়েন, অরবিন্দ সরকার, আশীষ কুন্ডু, চাতক পাখি, আবদুস সালাম, বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র, সোনালী মীর, সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক, বিমান প্রামানিক, নিমাই জানা, নবকুমার, অভিজিৎ দত্ত, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, শ্যামল চক্রবর্ত্তী, অমল কুমার ব্যানার্জী, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম নস্কর, সুব্রত মিত্র, তাপস কুমার বেরা, প্রদীপ কুমার লাহিড়ী, সামসুজ জামান, নমিতা বোস, ফরমান সেখ, চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী, চাঁদ রায়, দিলীপ কুমার মধু।





বাংলা গল্প---


সিদ্ধার্থ সিংহ, রথীন পার্থ মণ্ডল, ডঃ রমলা মুখার্জী।




নিবন্ধ -----

শিবাশিস মুখোপাধ্যায়।





বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---

অরবিন্দ সরকার।





ইংরেজি কবিতা--

Pavel Rahman, Sourav Bagchi.




Prose--

Kunal Roy





Photography---


Amit pal, Nilanjan de, Moushumi chandra, Sohini Shabnam, Dr Atef kheir.

Wednesday, December 29, 2021

SSC -র মাধ্যমে কয়েক হাজার group- c কর্মী নিয়োগ || Staff Selection Commission Combined Graduate Level Examination 2022 || ssc CGL recruitment 2022


 


SSC -র মাধ্যমে কয়েক হাজার group- c  কর্মী নিয়োগ 
     



সমগ্র দেশজুড়ে চাকরি প্রার্থীদের জন্য  খুব গুরুত্বপূর্ণ

 খবর।  প্রতিবছরের মতো এবছরও ssc তথা কেন্দ্রীয় 

স্টাফ  সিলেকশন কমিশনের তরফ থেকে কয়েক 

হাজার group-c ও group-b  পদে কর্মী নিয়োগের 

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে কম্বাইন্ড 

গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষার মাধ্যমে। কি কি পদে 

নিয়োগ করা হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা কি, বয়সসীমা 

কত হতে হবে, কিভাবে আবেদন করবেন বিস্তারিত তথ্য 

জানতে পারবেন আজকের এই পোস্ট এর মাধ্যমে।

 Staff Selection Commission Combined Graduate Level Examination 2022.


যেসব পদে নিয়োগ করা হবে- অ্যাসিস্ট্যান্ট অডিট 

অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট একাউন্টস অফিসার, 

অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার, ইন্সপেক্টর অফ 

ইনকাম ট্যাক্স, ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টর, 

সুপারিনটেনডেন্ট, ডিভিশনাল একাউন্টেন্ট, জুনিয়ার 

স্ট্যাটিস্টিকাল অফিসার, অডিটর, একাউন্টেন্ট, ট্যাক্স 

অ্যাসিস্ট্যান্ট ইত্যাদি।



শূন্যপদের সংখ্যা- কেন্দ্রীয় সরকারের স্টাফ সিলেকশন 

কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা 

জানানো হয়নি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই শূন্যপদের 

প্রকাশ করবে সব সিলেকশন কমিশন। প্রতি বছরের 

মত এই নিয়োগে শূন্যপদের সংখ্যা থাকে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজারের মতো।



জাতীয়তা-  উপরের পদগুলিতে আবেদন করার জন্য 

আবেদনকারীকে একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। 

অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের যেকোন জেলা থেকে পুরুষ মহিলা 

উভয় প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া 

পাশাপাশি নেপাল এবং ভুটানের নাগরিকরাও 

শর্তসাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন।



বয়সসীমা- বিভিন্ন পদ অনুযায়ী বয়সসীমা বিভিন্ন 

রকম রয়েছে। বয়স হিসাব করবেন ১ জানুয়ারি, ২০২২ 

তারিখের হিসাবে। সংরক্ষিত প্রার্থীরা সরকারি নিয়ম 

অনুযায়ী বয়সে ছাড় পাবেন।



শিক্ষাগত যোগ্যতা- অ্যাসিস্ট্যান্ট অডিট অফিসার, 

অ্যাসিস্ট্যান্ট একাউন্টস অফিসার, জুনিয়র 

স্ট্যাটিস্টিকাল অফিসার, স্ট্যাটিসটিক্যাল 

ইনভেস্টিগেটর গ্রেড- ২, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন ন্যাশনাল 

কম্পানি ল এপিলেট ট্রাইবুনাল, রিসার্জ অ্যাসিস্ট্যান্ট 

ইন ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন এই পদ গুলি 

বাদে বাকি সমস্ত পদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে 

হবে যেকোনো বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন পাশ। শিক্ষাগত 

যোগ্যতা ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখের মধ্যে শেষ করে থাকতে হবে।



আবেদন পদ্ধতি- আবেদন করতে পারবেন সরাসরি 

অনলাইনে। স্টাফ সিলেকশন কমিশনের অফিশিয়াল 

ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা যাবে।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট- https://ssc.nic.in/

ইতিমধ্যেই অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। 

অনলাইনে আবেদন করার জন্য নতুন প্রার্থীদের প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল আইডি তে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড পাওয়া যাবে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে আবেদন করতে পারবেন।

যেসব প্রার্থীদের আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করা আছে তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। আগের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সরাসরি আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করার সময় আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ফটো আপলোড করতে হবে। ফটোর ওপরে ফটো তোলার তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে। 

আবেদনের শেষ তারিখ-- আবেদন করা যাবে আগামী ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখ পর্যন্ত।



আবেদন ফি- জেনারেল এবং ওবিসি প্রার্থীদের 

আবেদন ফি বাবদ জমা দিতে হবে ১০০ টাকা। তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, মহিলা প্রার্থী, শারীরিক 

প্রতিবন্ধী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আবেদন ফি জমা দিতে হবে না। অনলাইনে আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে 

আগামী ২৫ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখ পর্যন্ত।



পরীক্ষা কেন্দ্র-  পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে পরীক্ষার 

কেন্দ্র থাকে। এবারেও পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, 


কল্যাণী, কলকাতা ও শিলিগুড়িতে পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে।



নিয়োগ পদ্ধতি- নিয়োগ করা হবে মোট চারটি ধাপে। 

টায়ার ১ কম্পিউটার বেসড এক্সামিনেশন, টায়ার ২ 

কম্পিউটার বেসড এক্সামিনেশন, টায়ার ৩ হাতে কলমে 

পরীক্ষা (ডেস্ক্রিপটিভ পেপার), টায়ার ৪ কম্পিউটার 

টেস্ট/ ডাটা এন্ট্রি টেস্ট।


অফিসিয়াল নোটিশ টি ডাউনলোড করতে এবং ফর্ম ফিলাপ করতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--



___________________________________________



সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--


Tuesday, December 28, 2021

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর গল্প - অতনু ফিরে যাবে || ছোট গল্প || Short story || অতনু ফিরে যাবে || সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় || Atanu phire jabe || Sunil Gangopadhyay





##অতনু ফিরে যাবে

       @সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়





এটা কি আগে এখানে ছিল, না ছিল না? একটা বেঁটে

 মতো গম্বুজ, তার সবদিকই নানারকম পোস্টারে মোড়া,

 একটা বড় ফিল্মের পোস্টারে এক যুবতী দু’চোখ দিয়ে হাসছে।


এক পাশে ছিল ধানক্ষেত আর জলা, রাস্তার অন্যপাশে

 দোকানপাট। হ্যাঁ, স্পষ্ট মনে আছে অতনুর, ধানক্ষেতের

 পাশে যে অগভীর জলাভূমি, সেখানে গামছা দিয়ে মাছ

 ধরত কয়েকটি কিশোর, মাছ বিশেষ পাওয়া যেত না,

 ঝাঁপাঝাঁপি, কাদা মাখামাখিই সার, কখনও হয়তো পাওয়া যেত কিছু কুচো চিংড়ি, বেলে আর পুঁটি। একদিন অতনু দুটো খলসে মাছ পেয়েছিল। সব মিলিয়ে এতই কম যে, নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায় না, তাই এক একদিন এক একজন সবটা, কম হোক বা বেশি হোক, যার ভাগ্যে যেমন আছে। খলসে মাছের কথা বিশেষভাবে মনে থাকার কারণ, কই মাছের গরিব আত্মীয় হলেও এই মাছের গায়ে রামধনু রঙের ঝিলিক থাকত। সেই মাছ দুটো রান্না করার বদলে একটা কাচের বয়ামে জল ঢেলে তার মধ্যে রেখে দিয়েছিল অতনু। তিন দিনের বেশি বাঁচেনি। কই-মাগুর জাতীয় মাছ মরে গেলে খেতে নেই বলে মা ছোট খলসে দুটো ফেলে দিয়েছিলেন। এ গল্প অতনু যাকেই বলতে গেছে, সবাই তাকে শুনিয়ে দিয়েছে যে, খলসে মাছ এখন আর পাওয়াই যায় না, খলসে এখন বিলুপ্ত প্রজাতি। সেই ধানক্ষেত আর জলাভূমিও অদৃশ্য। এখন সেখানে সার সার এক ধরনের বাড়ি, চারতলা, মেটে রঙের। মনে হয় কোনো বড় সংস্থার কর্মচারীদের কোয়ার্টার। অদৃশ্য হওয়াই তো স্বাভাবিক, সীতারামপুর নামে পুর হলেও একসময় তো গ্রামই ছিল, এখন শহর হতে চলেছে, শহরের এত ধার ঘেঁষে কি ধানক্ষেত থাকে নাকি? অতনুদের ছেলেবেলায় এখানে রেলস্টেশন ছিল না, চার মাইল হেঁটে চকবাজারে যেতে হতো। এখন স্টেশন হয়েছে বলেই ধাঁ ধাঁ করে বদলে যাচ্ছে গ্রাম। পরিবর্তনগুলো ঠিক ঠিক মিলিয়ে নিতে পারে না অতনু। অনেক দিনের ব্যবধান, ১৭ বছরে সে সীতারামপুর ছেড়েছিল, এখন তার বয়স ৪২। কিন্তু মাঝখানে কি সে আর কখনও আসেনি, তা তো নয়, বেশ কয়েকবার ঘুরে গেছে। কিন্তু স্মৃতির এমনই কারসাজি, কৈশোরের ছবিগুলো এখনও জ্বলজ্বল করে, মাঝখানে অনেক দিনের শূন্যতা। অবশ্য মাঝখানে এসে সে আগে দু’তিন দিনের বেশি থাকেনি, ভালো করে চারপাশটা তাকিয়ে দেখেনি।

শেষ এসেছিল সাত বছর আগে, মায়ের মৃত্যুর সময়। তখন আবার অতনুর ওদিকেও খুব ব্যস্ততা। একটা প্রমোশন নিয়ে দর কষাকষি চলছিল, তবু মা বলে কথা, আসতেই হয়, শেষ দেখা হয়নি, শুধু শ্রাদ্ধের জন্য তিনদিন। মাতৃশোকের চেয়েও মন বেশি অস্থির ছিল চাকরির জন্য, তখন এখান থেকে আফ্রিকায় টেলিফোন করারও সুবিধে ছিল না।

খাল ধালে একটা ছিল ভূতের বাড়ি। কৈশোরেরও আগে, বাল্যস্মৃতিতে একটা গা-ছমছমে ভাব। বেশ বড় তিনতলা বাড়ি, দেয়ালে দেয়ারে বট-অশথ গাছ গজিয়ে গিয়েছিল, ভূত ছাড়াও সাপ-খোপেরও অভাব ছিল না! আসলে হয়তো কোনো শারিকি গণ্ডগোলে পরিত্যক্ত বাড়ি, কোনো সমৃদ্ধ মুসলমানের সম্পত্তিও হতে পারে, দেশ ভাগের পর চলে গিয়েছিল ওপারে, এখনও ওখানে কাছাকাছি মুসলমানদের একটি পল্লী আছে। এখন সেই ভূতের বাড়ির জায়গায় একটি ঝকঝকে রিসর্ট, প্রচুর আলো ঝলমল করে, শহরের লোকেরা এখানে ছুটি কাটাতে আসে। ওরকম ভূতের বাড়ি আরও নানা জায়গায় ছিল, সবই হয়ে গেছে নিশ্চিহ্ন, হবেই তো, এরই নাম উন্নতি।

তবে, সেই রিসর্টের দিকে তাকিযে এখনও অতনু কল্পনায় সেই ভূতের বাড়িটা দেখতে পায়। তার মনে হয়, গ্রামে-ট্রামে ও রকম দু’একটা হানাবাড়ি থাকা বোধহয় উপকারীই ছিল, ওই সব বাড়িতে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের ভয় ভাঙার ট্রেনিং হতে আস্তে আস্তে। অতনুরা প্রথম প্রথম ট্রেনিং হতো আস্তে আস্তে। অতনুরা প্রথম প্রথম ওই বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়াত, একটা কিছু আওয়াজ শুনলেই দৌড়ে পালাত ভয়ে। একটু বয়েস বাড়লে সাহস করে পাড় দিয়েছিল বাগানে বাড়িটার কাছ ঘেঁষত না, বাড়িটার মধ্যে সত্যি সত্যি মাঝে মাঝে উৎকট শব্দ হতো, কেউ কেউ নাকি আগাগোড়া কালো সিল্কের বোরখায় ঢাকা এক মহিলাকে ধীর পায়ে দোতলার বারান্দায় হাঁটতে দেখেছে, কয়েক মুহূর্ত মাত্র, তারপরই তিনি মিলিয়ে যেতেন হাওয়ায়। উনি রাবেয়া বেগম, মারা গেছেন সাতাশ বছর আগে।

কী করে যেন হঠাৎ একদিন ভয় ভেঙে গেল। মধ্য কৈশোরে চার-পাঁচজন বন্ধুর সঙ্গে অতনু উঠে গিয়েছিল দোতলায়। গাঢ় দুপুরে, যখন চারপাশে কোনো শব্দ থাকে না, সে সময় ভূতরা এসে পেছন থেকে ঠেলা মারে। কই কিছুই তো হলো না, কোনো ঘরেরই দরজা-জানলা নেই, চতুর্দিক প্রচুর ভাঙা কাছ ছড়ানো, আর ধুলোতে কিছু কিছু পায়ের ছাপ, ভূতেরা পায়ের ছাপ ফেলতে পারে কি না, তা ঠিক জানা ছিল না তখন। অনেক পায়রার বাসা ছিল।

সে দিনটার কথা খুব ভালোই মনে আছে অতনুর। কারণ সেদিন সে শুধু ভূতের বাড়ি জয় করেনি। সেইদিনই জীবনে প্রথম সে সিগারেট খায়, তার বন্ধু রতন শিখিয়েছিল। সিগারেট টানার মতন অমন নিরিবিলি জায়গা আর পাওয়া যাবে কোথায়? লেবু পাতা চিবিয়ে বাড়ি ফিরলেও কী করে যেন ধরা পড়ে গিয়েছিল মায়ের কাছে। মা কি কোনো শাস্তি দিয়েছিলেন? মায়ের দেওয়া শাস্তি কোনো মানুষই মনে রাখে না। বাবা চুলের মুঠি ধরে মাথাটা দেয়ালে ঠুকে দিতেন, সেটা মনে আছে।

সেই দিনটায় তাদের দলে একটা মেয়েও ছিল না? কী যেন নাম তার, চিনু, চিনু, সে একটা গেছো মেয়ে, তাকে নেওয়া হবে না, তবু এসেছিল জোর করে। রোগা-প্যাংলা চেহারা, সেই তেরো-চৌদ্দো বছর বয়সে তাকে মেয়ে বলেই মনে হতো না, বুকেও বোধহয় ঢেউ খেলেনি, হাফ-প্যান্ট আর শার্ট পরে থাকত। সিগারেট টানার সময় সেও জেদ ধরেছিল, আমায় দাও, আমিও খাব, আমিও খাব, কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি, কে যেন একটা চড়ও মেরেছিল তাকে। কোথায় হারিয়ে গেছে সেই মেয়েটা।

এবারে তিন সপ্তাহের ছুটিতে এসেছে অতনু। সীতারামপুরে তার আর কোনোও আকর্ষণ নেই, এখানে কয়েকটা দিন নষ্ট করার কোনোও মানে হয় না, হঠাৎ মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল, এসেছে সেই নস্টালজিয়ায়। আসার পরই মনটা পালাই পালাই করছে।

যৌথ পরিবার ছিল একসময়, তারপর অনেক ভাগ হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর তার দাদা এসে নিজেদের অংশটা বিক্রি করে দিয়ে যায় এক কাকাকে। সেই কাকা অতনুর বাবার বৈমাত্রেয় ভাই, ছোটবেলায় খুব ভালোবাসতেন অতনুকে। সেই স্মৃতিতে এখানে আসা, কাকার পরিবার বেশ খাতির-যত্ন করছে তাকে, তবু অতনুর অস্বস্তি কাটছে না। কাকা বুড়ো হয়ে গেছেন, অসুখের কথা ছাড়া আর কোনো কথা জানেন না। দুই খুড়তুতো ভাইকেই অচেনা মনে হয়, দুই ভাইয়ের স্ত্রী খুব ঝগড়া করে। কিন্তু চাষের জমি আছে, তার থেকে উপার্জন অনিশ্চিত, বাজারে একটা জামা-কাপড়ের দোকানে সিকি ভাগ মালিকানা, সে আয়ও যথেষ্ট নয়।

মা যে ঘরটায় থাকতেন, সে ঘরটা এখন বৈঠকখানা। কয়েকটা ছেঁড়া ছেঁড়া বেতের চেয়ার, একটা তক্তাপোশ আর একটা টিভি। মায়ের কোনো চিহ্নই নেই। খুড়তুতো ভাইয়ের দুই স্ত্রীর মধ্যে একজন নিঃস্তান, অন্যজনের তিনটে ছেলেমেয়ে তিনটির বয়েস নয়, বারো, চৌদ্দ, মেয়েটিই বড়। অতনুর আর বিয়ে-থা করা হয়নি। ছোট ছেলেমেয়েদের সে ভালোবাসে। ওদের সঙ্গেই তার বেশি সময় কাটে। মাঝে মাঝে অতনু মনে মনে ওদের সঙ্গে তুলনা করে তার বাল্য-কৈশোর বয়সের। তখন এখানে প্রচুর ফাঁকা জায়গা ছিল, কিছু কিছু বাগান আর পুকুর ছিল, অতনু তার বন্ধুদের সঙ্গে হুটোপুটি করে বেড়াত, বাঁদরের মতন লাফালাফি করত অন্যদের বাগানের গাছে, ফল-পাকুড় খেয়েছে, লাঠির বাড়িও খেয়েছে। সন্ধের পরেও দেরি করে বাড়ি ফিরলে বকুনি। খেয়েছে বাবার কাছে। এখন তার খুড়তুতো ভাইয়ের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, বাড়িতে কিছুক্ষণ পড়তে বসে, আর বাকি সব সময়টা টিভি দেখে। বাড়ির বাইর কোথাও যায় না, খেলতেও যায় না, তাই তারা লক্ষ্মী ছেলেমেয়ে। অতনু বুঝতে পারে, এরা হয়তো সারাজীবন এই গ্রামেই থাকবে, আর কোথাও যাবে না।

অতনুকেও ওদের সঙ্গে টিভি দেখতে হয়। অতনু খানিকটা কৌতূহল নিয়েই টিভির অনুষ্ঠানগুলো, বিশেষত বিজ্ঞাপন দেখে। কোনোও দেশের অনেকখানি সমাজের ছবি বিজ্ঞাপন দেখলেই বোঝা যায়। এখানকার বিজ্ঞাপন দেখে সে প্রায় হতবাক। মনে হয় যেন ইন্ডিয়া নামের দেশটা পুরোপরি ওয়েস্টার্নাইজড হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েদের কী সব চোখ ঝলসানো পোশাক, কতরকম গাড়ি, কমপিউটার দারুণ কেরামতি, আর কত টাকা খরচ হয় একটা বিজ্ঞাপনে! এসব দেখে হাসে অতনু। দূরে থাকলেও সে তো মোটামুটি খবর রাখে দেশের। ইন্টারনেটেও পড়া যায় কলকাতার খবরের কাগজে।

টিভিতে অনেকগুলো বাংলা চ্যানেল, তাতে সিনেমা দেখায়, আর হরেক সিরিয়াল কাহিনী, বিদেশের মতোন। এসব একটা সিনেমারও সে নাম শোনেনি, এখনকার অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরও সে চেনে না। উত্তমকুমার চলে গেছেন, সে জানে, কিন্তু বসন্ত চৌধুরী, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর রায়, রবি ঘোষ, অরুন্ধতী, অনুপ, এঁরা কেউ নেই! পুরনোদের মধ্যে রয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আর একালের একজন নায়িকাকে কেন যেন তার চেনাচেনা মনে হয়, যদিও তার একটা ফিল্মও সে আগে দেখেনি, অথচ কোথায় তাকে দেখেছে, তা মনে করতে পারছে না।

এই সীতারামপুরেও অতনুর পুরনো কালের চেনা অনেকেই নেই। তার স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে চার-পাঁচজন এখানকার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে চলে গেছে কলকাতায় বা বিদেশে। আর যারা রয়ে গেছে, তারা রাজনীতির কচকচি বেশ ভালোই ভোজে। কিন্তু অন্য কোনো বিষয়ে তারা প্রায়ই কিছুই খবর রাখে না। আফ্রিকা সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ। যাদের সঙ্গে তুই তুই সম্পর্ক ছিল, তারা এখন তাকে তুমি বলে। এদের সবারই বিশ্বাস, বিদেশে যারাই থাকে, তারা সবাই খুব বড়লোক। এনআরআই-রা অনেক টাকা পকেটে নিয়ে দেশে বেড়াতে আসে।

অবশ্য এনআরআই বলতে ইউরোপ-আমেরিকার অনাবাসীদের কথাই সবাই ভাবে। তারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী বা বড় বড় বিদ্বান। অতনু এর কোনোটাই নয়। ছোটবেলায় সে ভেবেছিল, ডাক্তার হবে। এখানে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ার পর সে গিয়েছিল চক বাজারের হাইস্কুলে। রেজাল্ট মোটামুটি ভালোই ছিল, কলকাতায় গিয়ে ডাক্তারি পড়া যেত অনায়াসেই, থাকতে হবে হস্টেলে। সব যখন প্রায় ঠিকঠাক, তখন একদিন রাত্রির খাওয়া-দাওয়ার পর তার বাবা একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছেন বারান্দায় বসে, হঠাৎ প্রবল ভাবে কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেলেন মেঝেতে, বুকে ছুরিবিদ্ধ মানুষের মতোন গড়াতে গড়াতে আর্তনাদ করতে লাগলেন। একজন ডাক্তারকে ধরে আনা হয়েছিল দু’ঘণ্টা বাদে, ততক্ষণে বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস খরচ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল অতনুর ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন।

দাদা তখন রেশনিং অফিসে কেরানির চাকরি পেয়ে বর্ধমানে পোস্টেড, ছোট বোনের বিয়ে হয়নি। অতনু পড়াশোনা বন্ধ করে এক বছর পড়ে রইল এখানে। তার পরেও থেকে যেতে পারত গ্রামের অন্য ছেলেদের মতো, সেই ষোলো বছর বয়সেই সংসারের অনটন দেখে চেষ্টা করছিল টুকটাক উপার্জনের। বাবা অনেক ধার রেখে গেছেন। কিছুদিন সে আরও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে হাঁস-মুরগির ডিম কিনে এনে সাপ্লাই দিত বাজারের কাছের দুটো ভাতের হোটেলে। শুধু মা দুঃখ করে বলতেন, তোর আর পড়াশোনা হবে না রে তনু! আমার গয়না বিক্রি করে দেব, তুই তবু পড়। ক’খানাই বা গয়না মায়ের, তা বিক্রি করে শহরে গিয়ে বেশিদিন পড়াশুনা চালানো যায় না। তা ছাড়া ছোট বোনের বিয়ের সময় গয়নাগুলো লাগবে না?

মায়ের বড় ভাই থাকতেন পুনায়। তিনি সেখানে স্কুলশিক্ষক। তিনি প্রস্তাব দিলেন, অতনুকে তার কাছে পাঠিয়ে দিলে তিনি ওর পড়াশোনার দায়িত্ব নেবেন। অতনু চলে গেল পুনায়। এসবই যেন সাপ-লুডোর ওঠানামা।

সংসারে আর একটি খাওয়ার পেট বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় মামিমা প্রথম থেকেই অতনুকে পছন্দ করেননি। তাঁকে খুব দোষ দেওয়া যায় না, তাঁদেরও অভাবের সংসার আর বড় মামাও খানিকটা আলাভোলা মানুষ। তিনি অতনুকে ডাক্তারি পড়াতে পারেননি, তবু ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে। সেখান থেকে পাস করার পরই খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে সে চাকরি পেয়ে যায় আফ্রিকার কেনিয়ায়। সীতারামপুর গ্রামের একটি ছেলে চাকরি করতে যাবে কেনিয়ার হোটেলে! নিয়তির নির্বন্ধ।

আফ্রিকা থেকে মাকে নিয়মিত টাকা পাঠিয়েছে অতনু। তখনই ছোট বোনের বিয়ে হয়। দাদা বাড়ির সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রাখেনি। আফ্রিকায় অতনুর চাকরি নিয়ে অনেক ঝঞ্ঝাট হয়েছে বেশ কয়েক বছর। ওখানে হোটেল ম্যানেজমেন্টে ইন্ডিয়ান ট্রেনিংয়ের চেয়েও সুইজারল্যান্ডের ট্রেনিং সার্টিফিকেটের কদর অনেক বেশি। কেনিয়ার ট্যুরিজম ও হোটেল ম্যানেজমেন্টে অনেক সুইস কাজ করে। তাদের সঙ্গে রেষারেষিতে অতনুর পদোন্নতি আটকে যায় বারবার। একবার তার কর্মস্থান-হোটেলটা বিক্রি হয়ে যায়, নতুন মালিকরা প্রথমে তাকে রাখতেই চায়নি, রাখলেও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের পদ তাকে দিতে চায়নি। সেই সময়েই মা মারা যান।

মাকে নিজের কাছে নিয়ে রাখতে চেয়েছিল অতনু। মা রাজি হননি। শুধু বলতেন, আফ্রিকা, ওরে বাবা! না না, ওখানে গিয়ে থাকতে পারব না। মা ভাবতেন, শুধু নেংটি পরা, বর্শা হাতে দুর্ধর্ষ ধরনের মানুষরাই সেখানে ঘুরে বেড়ায়। মাকে কিছুতেই বোঝাতে পারেনি অতনু যে নাইরোবি খুবই আধুনিক শহর, সেখানকার মেথররাও প্যান্ট-শার্ট ও জুতো পরে। মা না হয় স্বল্প শিক্ষিত মহিলা, ও রকম ধারণা থাকতেই পারে, কিন্তু এখানকার অনেক শিক্ষিত ভদ্রলোকেরও তো আধুনিক আফ্রিকা সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার নয়। যতবার সে দেশে এসেছে, প্রতিবারই কেউ না কেউ বলেছে, তুমি আফ্রিকায় পড়ে আছ কেন, বিলেত-আমেরিকায় চলে যেতে পারলে না? ওসব দেশে তো হোটেল অনেক বেশি। এবারেও একজন বলছে। কলকাতাতেও অনেক নতুন নতুন হোটেল খুলছে, তুমি এখানে কাজ পাও কি-না দেখো না! গত পাঁচ বছর ধরে অতনু নাইরোবির যে হোটেলে কাজ করছে, সেটা কলকাতার গ্র্যান্ড বা তাজের চেয়ে অনেক বড়। সেখানকার কাজে সে বেশ খুশি। একটি বেলজিয়ান মেয়ের সঙ্গে সহবাস করে।

কলকাতা শহরটা অনেকটা বদলেছে ঠিকই। এয়ারপোর্ট থেকে আসবার যে নতুন রাস্তাটা হয়েছে, সে রাস্তার পাশে পাশে নতুন নতুন প্রাসাদ দেখে সে মুগ্ধ হয়ে গেছে। তার মনে হয়, কলকাতার চেয়ে সে নাইরোবি শহর অনেক বেশি চেনে। কলকাতায় তো সে কখনও থাকেনি।

এবারে অবশ্য সে একটা ভালো জায়গা পেয়েছে। রাজেশ আগরওয়াল নামে মাড়োয়ারি ভদ্রলোকের ব্যবসা আছে কিনিয়া আর তানজানিয়ায়। তিনি নাইরোবিতে প্রায়ই যান এবং প্রতিবারই রয়াল ক্রাউন হোটেলে ওঠেন। ভদ্রলোক বাংলা বলেন মাতৃভাষার মতো। মেনটেন্যান্স ম্যানেজারের নাম অতনু ঘোষ দেখেই তিনি তার সঙ্গে আলাপ করেছেন। মাঝে-মধ্যে সন্ধেবেলা গল্প হয়ে অনেকক্ষণ।

অতনু নিজের কোয়ার্টারে তাকে নেমন্তন করেও খাইয়েছে, তিনিও অতনুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছিলেন কলকাতায়। তার নিজের বাড়িতে নয়, আগরওয়ালদের একটি ননফেরাস মেটালের কারখানা আছে টালিগঞ্জ অঞ্চলে, অতনুর থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, দেয়াল ঘেরা এলাকাটিতে রয়েছে সুসজ্জিত বাগান, একটি গাড়িও বরাদ্দ করা আছে তার জন্য।

অতনু অবশ্য মেট্রো ট্রেনে যাতায়াত করে বেশ নতুনত্ব বোধ করে। কলকাতা শহরের মাটিরতলা দিয়ে ট্রেন চলে, এ খবর তার না জানার কথা নয়, যদিও আগে কখনও স্বচক্ষে দেখেনি, তাই প্রথম দিনে সেই ট্রেনে ওঠা যেন মনে হয়েছিল আবিষ্কারের মতন।

রাত আটটা ন’টায় ট্রেন থেকে নামলে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মেয়েকে দেখা যায়। তাদের স্বাস্থ্য এত খারাপ কেন? ভাল করে সাজতেও জানে না। যে শহরের বার-নারীদের অবস্থা করুণ, সে শহরের নৈতিক স্বাস্থ্যও খারাপ হয়, অর্থাৎ অনেক সুখী সংসারের মধ্যেই নৈতিকতার পতন হয়েছে। সত্যি কি তাই? জাগতিক উন্নতি আর নেতিকতার পতন পাশাপাশি চলে! এই শহর থেকেই সবচেয়ে বেশি কিশোর ও যুবতী পাচার হয়ে যায় বাইরে, খবরের কাগজেই ছাপা হয়। সে সব মেয়েদের জায়গা হয় না এই উন্নতির মধ্যে!

ভাল পেনের ব্যবহার তো উঠেই গেছে। এখন সবাই সস্তার পেন দিয়ে লেখালেখি করে। অতনুর বাবার পকেট থেকে একটা শেফার্স পেন চুরি গিয়েছিল লোকাল ট্রেনে। এখন সেই সব পেন পকেটমাররা বেকার, সাত-আট টাকার ডট পেন মেরে কোনো লাভ হয় না। মেট্রো সিনেমার সামনে একজন সিড়িঙ্গে চেহারার প্রৌঢ় সেই পেন বিক্রি করতে এসেছিল অতনুকে। হোটেলে যারা কাজ করে, তাদের কাছে এই পেন যে কত গণ্ডা থাকে, তার ঠিক নেই। সীতারামপুরে বিলি করার জন্য অতনু তার হোটেলে নাম লেখা এই ধরনের পেন এনেছিল পাঁচ ডজন।

লোকটিকে দেখে অতনু চমকে উঠে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।

সে চিনতে পেরেছে। কিন্তু সেটা জানানো ঠিক নয়। এই লোকটি তাদের সীতারামপুরের স্কুলের ইন্দুভূষণ স্যারের ছেলে বিশ্বনাথ, অতনুর সহপাঠী। অথচ এর মধ্যেই এত বুড়োটে চেহারা হয়ে গেছে। দারিদ্র্য আয়ু হরণ করে নেয়, স্বাস্থ্য, শরীরের জ্যোতি, সবই খেয়ে নেয়। অতনুর এখনও অটুট চেহারা, গায়ের রং কালো হলেও অনেকে তাকে সুপুরুষই বলে। বিশ্বনাথ ইস্কুল মাস্টারের ছেলে, অথচ তার এই পরিণতিং জুয়া খেলে নে, না নেশা করে? উন্নতির দৌড়ে সে পা মেলাতে পারেনি!

মস্ত বড় হোর্ডিং-এ বাংলা ফিল্মের এক নায়িকার মুখ দেখে তার খটকা লাগে। কোথায় একে দেখেছে? কোনও ফিল্মে নয়।

কলকাতার সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে রাজেশ আগরওয়ালের বেশ যোগাযোগ আছে। তার অনেক ব্যবসা, তা ছাড়াও ফিণ্ম প্রোডিউস করেন। এতগুলো ব্যবসার কথা মাথায় রাখেন কী করে? এত টাকা নিয়েই বা কী পরমার্থ হবে!

মাঝে মাঝেই তিনি পাঁচতারা হোটেলে পার্টি দেন। একটা শহরের, যাদের বলে গ্গ্নটারেট্টি, তারা অনেকেই আসেন, কিছু কিছু রাজনীতির লোকও। সার্থকভাবে ব্যবসা চালাতে গেলে টেবিলের তলা দিয়েও কিছু কিছু আদান-প্রদান করতে হয়। সবাই জানে। তবুও জিনিসটা চাপা দেবার জন্য মাঝে মাঝে সংস্কৃতির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা বেশ সুবিধেজনক। বাঙালিদের ধারণা, যারা সংস্কৃতি ভালবাসে, তারা উচ্চ মার্গের মানুষ। তারা কখনও কোনও নোংরা ব্যাপারে জড়াতে পারে না।

রাজেশ আগরওয়াল অতি সজ্জন ও বিনয়ী ব্যক্তি। হয়তো সত্যি তিনি সংস্কৃতি প্রেমিক। পার্টিতে ঢোকার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে হাত জোড় করে তিনি নিজে সব অতিথিকে অভ্যর্থনা জানান, অনেককেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে নাম ধরে চেনেন। ভদ্রতাবশত তিনি অতনুকেও আজকের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

হোটেল সংলগ্ন বিস্তৃত লনে পার্টি। সবুজ ঘাস ঘিরে চেয়ার, অতিথি অন্তত পঞ্চাশজন তো হবেই। মাঝখানে একটা অস্থায়ী মঞ্চে একটি মেয়ে গান গাইছে। আজকাল গায়িকাদের খুব স্বল্প পোশাক পরাই রীতি। সারা গা ঢেকে গান আজকাল পুজোর অনুষ্ঠানেও চলে না। গরম দেশ, তবু এর মধ্যে অনেক পুরুষেরই অঙ্গে কোট আর টাই। আর মেয়েদের শরীরের অনেকটাই খোলামেলা।

এত লোক হলে, ছোট চোট দলে ভাগ হয়ে আড্ডা হয়। দু’চারজন মদের গেলাস হাতে ঘুরে ঘুরে অনেকের সঙ্গে আরাপ করে। আর বেশির ভাগ অতিথি বসে থাকে একই চেয়ারে।

অতনু এখানে একজনকেও চেনে না। সে গ্রামের ছেলে, কলকাতায় কখনও পাত্তা পায়নি। তারপর পুনা থেকে চলে গেছে ধাদ্ধারা গোবিন্দপুরের চেয়েও অনেক দূরে কালো মানুষদের দেশে। এই ধরনের পার্টিতে এলে সে জানে একা একা বেশি মদ খেয়ে নিতে হয়। আর দেখতে হয় অন্যদের। হোটেল ম্যানেজমেন্টের ট্রেনিং থেকে সে জানে। মদ খেয়ে কখনও বেচাল হতে নেই, একটা সময়ে মদের গেলাস শুধু হাতে ধরে রাখলেও চুমুক দেবার বদলে মাঝে মাঝে ফেলে দিতে হয় মাটিতে।

অতনু নিজে থেকে কারও সঙ্গে আলাপ করে না, তবে অচেনা কেউ কথা বলতে এলে সে গুটিয়ে থাকে না। একটা কিছু হাসি-ঠাট্টার প্রসঙ্গ খুঁজে নেয়।

পার্শ্ববর্তী পাঁচ ছ’জনের দলের একজন সুবেশা তরুণী তার দিকে ঝুঁকে বলল, আপনার সঙ্গে আমাদের আলাপ নেই। আমার নাম সুদর্শনা রায় গুপ্ত, আমি একজন সাংবাদিক।

অতনু নিজের নাম জানিয়ে বলল, গ্ল্যাড টু মিট ইউ, আপনি কোন কাগজের?

সুদর্শনা নিজের কাগজের একটা কার্ড দিয়ে বলল, আপনি কোথায়?

অতনু বলল, আমি থাকি আফ্রিকায়। কয়েকদিনের জন্য এসেছি।

আফ্রিকা শুনেই একজন পুরুষ গলা বাড়িয়ে বলল, আপনি আফ্রিকায় থাকেন? কোথায়?

এই ধরনের বাঙালি আড্ডায় কথা জমাবার জন্য অতনুর একটা বাঁধা রসিকতা আছে।

সে বলল, আমি থাকি কেনিয়ার নাইরোবি শহরে। রবীন্দ্রনাথ এই শহর নিয়ে গান লিখেছেন, আপনারা জানেন?

এবার অনেকগুলি কৌতূহলী মুখ কাছে ঝুঁকে আসে। একজন বলল, রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকা নিয়ে একটা বড় কবিতা লিখেছেন জানি। কিন্তু লাইব্রেরি নিয়ে—

অতনু বলল, রবীন্দ্রনাথ নিজের নাম নিয়ে অনেক কবিতা ও গান লিখেছেন। তাই রবি’র সঙ্গে কবি, ছবি,হবি এই সব মিল দিয়েছেন, মিল খুঁজতে খুঁজতে একবার নাইরোবীও পেঁৗছে গেছেন একটা গানে। সেই গানটা হল, সকালবেলার আলোয় বাজে, বিদায় ব্যথার ভৈরবী/ আন বাঁশি তোর, আর কবি… এরপর একটা লাইন হল নাই যদি রোস নাই রবি, সেদিন নাইরবি…

সবাই কলহাস্যমুখর হয়।

আর কিছু বলার আগেই একটা গুঞ্জন ও কিছু লোকের ব্যস্ততা দেখা যায় প্রবেশ মুখে। বিশিষ্ট কোনো অতিথি এসেছেন।

রাজেশ আগরওয়াল হাত জোড় করে ও কোমর ঝুঁকিয়ে সেই অতিথিকে নিয়ে আসছেন, অতিথি একজন মহিলা। সাদা সিল্কের শাড়ি পরা, তার থেকে ঝিলিক মারছে অনেক জরির চুমকি, মাথার চুল চুড়ো করে বাঁধা, পালিশ করা মুখ, খুব গ্গ্ন্যামারের ছড়াছড়ি।

অতনু সাংবাদিকটিকে জিজ্ঞেস করল, ইনি কে?

সে বলল, সে কী। আমাকে বলেছেন বলেছেন, আর কারুকে বলবেন না। লোকে আপনাকে গেঁয়ো ভূত ভাববে। সুরশ্রী মিত্র, বাংলা ফিল্মের সবচেয়ে নামী নায়িকা, মুম্বাই থেকেও ডাক এসেছে, চলে গেল বলে।

আর একবার তাকিয়ে দেখে বুঝল। কয়েকদিন আগেই টিভির কোনও ফিল্মে সে এই নায়িকাটিকে দেখেছে, গ্রাম্য মেয়ের ভূমিকায় সাজপোশাক ছিল অন্যরকম? কেন ওকে একটু চেনা চেনা লাগছিল তার কারণটাও বোঝা গেল, সীতারামপুরের গোল গম্বুজটার গায়ে ফিল্মের পোস্টারে এরই মুখের ছবি ছিল, যাতায়াতের পথে সে অনেকবার দেখেছে।

একটু বাদে রাজেশ আগরওয়াল তার এই প্রাইজড পজেশানটি সকলকে ভাল করে দেখাবার জন্য নিয়ে আসলেন প্রতিটি চেয়ারের সামনে। জনে জনে হাত তুলে নমস্কার করছে। উত্তরে মিষ্টি হাসি বিলোচ্ছেন নায়িকাটি।

অতনুর কাছে এসে সে একটু থমকে দাঁড়িয়ে চেয়ে রইল নির্নিমেষে! তারপর অস্ফুট গলায় বলল, তনুদা?

অতনুরও আর চিনতে দেরি হলো না, সেও সঙ্গে সঙ্গে বলল চিনু! তাই না?

নায়িকা জিজ্ঞেস করল, তুমি এখানে কোথা থেকে এলে? তুমি তো হারিয়ে গিয়েছিলে।

অতনু বলল, এসেছি এক জঙ্গলের দেশ থেকে। দৃশ্যটি একটু বেশি নাটকীয়। তাই বেশিক্ষণ টানা যায় না। অভ্যেস মতন অতনুকেও একটু হাসি উপহার দিয়ে এগিয়ে গেল নায়িকা অন্যদের দিকে।

এই সেই দস্যি মেয়ে চিনু, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। সেই যে রূপকথার গল্পে আছে, একটা ব্যাঙ একদিন হঠাৎ রাজপুত্র হয়ে গেল। এ যেন ঠিক তার উল্টো। সেদিনের সেই রোগা প্যাংলা মেয়েটা আজকের এই রূপসী!

মহিলা সাংবাদিকটি জিজ্ঞেস করল, আপনি একে পার্সোনালি চেনেন বুঝি?

অতনু তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, সে অনেক ছেলেবেলায়।

সে বুঝিয়ে দিল যে, এই বিষয়ে সে আলোচনা চালাতে উৎসাহী নয়। সে চুমুক দিল গেলাসে। একটু পরেই এক যুবক এসে অতনুকে বলল, আপনাকে একবার ওদিকে ডাকছে।

আলোর বৃত্ত থেকে একটু বাইরে। আধো-অন্ধকারে একটা চেয়ারে বসে আছে নায়িকা। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন।

অতনুকে দেখে সে অন্যদের বলল, এই এখানে একটা চেয়ার দাও। আর তোমরা একটু যাও, ওঁর সঙ্গে আমার কথা আছে।

অতনু বসবার পর একটু ঝুঁকে এসে তার একটা হাত ধরে নায়িকা সম্পূর্ণ অভিনয়হীন গলায় বলল, তনদুা, তোমাকে কতদিন পর দেখলাম। আগরওয়ালজি বললেন, তুমি এখন আফ্রিকায় থাকো।

অতনু বলল, হ্যাঁ। চিনু, তুই কবে সিনেমার নায়িকা হয়েছিস? শুনলাম তার খুব নাম, এসব আমি কিছুই জানি না। তোর ভালো নামও তো আমি জানতাম না।

চিনু বলল, কেন তোমাদের ওখানে বাংলা ফিল্ম যায় না?

অতনু বলল, কী জানি। হিন্দি ফিল্ম কখনও সখনও প্রাইভেটলি দেখানো হয় শুনেছি। তাও আমার দেখা হয় না। তুই হিন্দিতেও করেছিস।

করেছি দু’একটা। সব বাঙালিরাই আমাকে চেনে, একমাত্র তুমি ছাড়া।

তারপর একটু দুষ্টুমির হাসি দিয়ে সে আবার বলল, কিংবা, একমাত্র তুমি আমাকে যেভাবে চেন, সেভাবে এখন আর কেউ চেনে না।

তুই কী করে নায়িকা হয়ে গেলি রে? চেহারাটাও বদলে গেছে।

ওসব কথা ছাড়ো। হয়ে গেছি কোনো রকমে। তুমি কেমন আছ, বলো। বিয়ে করেছ?

ভালোই আছি রে। না বিয়ে করিনি। তবে একজন বিদেশিনী মেয়ের সঙ্গে ভাব আছে। তুই?

আমার একটা বিয়ে ভেঙে গেছে। আর একটা, নাঃ, এখনও কিছু ঠিক নেই।

তুই আমাকে দেখে চিনলি কী করে? আমি তো তোকে চিনতে পারিনি, শুধু একটু একটু মনে হচ্ছিল, তোর নাকটা শুধু…

হ্যাঁ, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাকে বলে নাকেশ্বরী। তোমার চেহারা তো প্রায় একই রকম আছে। পুরুষরা বিশেষ বদলায় না। আমাদের তো মেক-আপ টেক-আপ দিয়ে…

অতনু একটা সিগারেট ধরালো।

চিনু বলল, তুমি এখনও সিগারেট খাও? অনেকেই তো… আমিও ফিল্ম লাইনে এসে প্রথম প্রথম খুব খেতাম, এখন একদম ছেড়ে দিয়েছি, অন্তত সাত বছর, দাও, তোমার থেকে একটা টান দিই।

সিগারেটটা হাতে নিয়ে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেল চিনু।

অতনু জিজ্ঞেস করল, তুই আর সীতারামপুরে যাস?

চিনু বলল, নাঃ। ওখানে তো ছিল আমার মামাবাড়ি। প্রায়ই যেতাম এক সময়, আমাদের বাড়ি ছিল ব্যারাকপুরে। তারপর বাবা বদলি হয়ে গেলেন নর্থ বেঙ্গলের মালবাজারে।

অতনু বলল, ও হ্যাঁ, মামাবাড়ি। ওঁরা আর কেউ নেই শুনেছি। তোর একটা ফিল্ম কয়েকদিন আগে দেখলাম টিভিতে। নামটা বোধহয় ‘আশালতা’, তাই না?

হ্যাঁ।

তাতে তুই একটা গ্রামের মেয়ে, ডুরে শাড়ি পরা, একটা সিনে আছে, তুই একটা পুকুর থেকে ডুব দিয়ে উঠে এলি… হ্যাঁরে চিনু, তুই ও রকম কোমর দুলিয়ে হাঁটা কোথায় শিখলি রে? গ্রামের মেয়েরা কি ওইভাবে হাঁটে?

তুমি কী যে বল তনুদা? সিনেমা করতে গেলে কত কী শিখতে হয়। গ্রামের মেয়েরা ওইভাবে হাঁটে না, ওসব মেক বিলিভ, অধিকাংশ সিনেমাই তো রূপকথা, তাই না?

তুই নাচ জানিস?

মাঝে মাঝে নাচতে হয়, কিন্তু তাকে নাচ বলে না।

একজন যুবক হন্তদন্ত হয়ে এসে বলল, মিস, আপনাকে ওদিক আসতে বলছেন আগরওয়ালজি। সবাই আপনাকে চাইছে।

চিনু রুক্ষ গলায় বলল, একটু পরে যাচ্ছি, এখন ডিস্টার্ব কোরো না।

ছেলেটি ফিরে যাবার পর চিনু বলল, একটু নিরিবিলিতে যে তোমার সঙ্গে গল্প করব, তার উপায় নেই। তুমি কতদিন আছ?

অতনু বলল, পরশু ফিরে যাব।

চিনু বলল, এই রে, এই দু’দিন আমার টানা শুটিং। আউটডোর। তুমি আসবে, ডায়মন্ডহারবারে? না থাক, শুটিং-এর সময় আমি তোমার সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারব না। তোমারও বোরিং লাগবে।

অতনু বলল, শুটিং দেখা আমার পোষাবে না।

আবার একজন যুবক দৌড়ে এসে বলল, মিস, আপনার নাম অ্যানাউন্স করা হয়ে গেছে, আপনাকে একবার সেন্টার স্টেজে দাঁড়াতে হবে।

চিনু বলল, ঠিক আছে। যাচ্ছি।

উঠে দাঁড়িয়ে সে অনেকটা আপন মনে বলল, নায়িকা টায়িকা হতে গেলে অনেক কিছু মূল্য দিতে হয়, সে তুমি বুঝবে না।

অতনু মনে মনে ভাবল, না বোঝার কী আছে? সব দেশেই তো এক।

চিনু আবার বলল, যে কোনো লাইনেই ওপরে উঠতে গেলে কিছু না কিছু মূল্য দিতে হয়ই, তাই না? আমাদের ফিল্ম লাইনেও… কোনো ইনহিবিশন রাখলে চলে না। যাই। তোমার সঙ্গে আবার কখনও দেখা হবে কিনা জানি না। তবু একটা কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। বলব?

বল!

তনুদা, তোমার সেই দিনটার কথা মনে আছে? সেই ভুতুড়ে বাড়িটায়…

মনে থাকবে না কেন? তোর যে মনে আছে, সেটাই আশ্চর্যের।

তনুদা, জীবনে আমি অনেক অভিজ্ঞতা পার হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সেদিন, আমি যে তীব্র আনন্দ পেয়েছিলাম তার কোনো তুলনা হয় না। তোমাকে দেখে… সে রকম আর কখনও… চলি ওরা আর থাকতে দেবে না।

হঠাৎ কি চিনুর গলায় কান্না এসে গেল? মুখ নিচু করে সে দ্রুত পায়ে চলে গেল আলোর বৃত্তের দিকে।

অতনু আরও কিছুক্ষণ বসে রইল সেখানেই। সেই বট-অশ্বত্থের ফাটল ধরানো পোড়োবাড়ি। গা-ছমছমে দুপুর। সিগারেট খেতে চেয়েছিল চিনু, একদিন অতনুকে ধরে ঝুলোঝুলি, তাই বন্ধুদের বাদ দিয়ে শুধু চিনুকে নিয়ে এক দুপুরে চুপি চুপি সেই বাড়িতে গিয়েছিল অতনু।

সিগারেটে প্রথম টান দিয়েই কাশতে শুরু করেছিল চিনু, তার পিঠে ছোট ছোট চাপড় মেরে দিচ্ছিল অতনু, তারপর কী যেন হল, পর পর পাঁচটা চুমু খেয়েছিল সে। চিনু অবাক হয়নি, প্রথমবারের পর, পাখির বাচ্চা যেমন পাখি-মায়ের সামনে ঠোঁট ফাঁক করে থাকে, সেইভাবে চিনু এগিয়ে দিয়েছিল ঠোঁট।

তাদের দুজনেরই সেই প্রথম অভিজ্ঞতা। তার পর নদী দিয়ে কত জল গড়িয়ে গেছে, সেই বাড়িটা আর নেই, চিনু কত বদলে গেছে। অনেক কিছুই বদলে গেছে, তবু চিনু যে আজ বলল, সে রকম তীব্রতা সে আর জীবনে পায়নি, তার চোখে জল এসে গেল… এই স্মৃতি নিয়েই ফিরে যাবে অতনু।

___________________________




গল্প টি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন --


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/story-haraner-nathjamay-manik.html

Monday, December 27, 2021

দুয়ারে রেশন প্রকল্পে নিয়োগ 2022 || Duare reson prokalpo recruitment 2022 || Duare sarkar recruitment 2022 || government jobs news




 **পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কর্মী নিয়োগ দুয়ারে রেশন প্রকল্পে**



**দুয়ারে রেশন প্রকল্পে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি

 করল  পশ্চিমবঙ্গ এর আরও একটি জেলা । মুখ্যমন্ত্রী

 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় রাজ্যের বিভিন্ন

 জেলা থেকে একে একে দুয়ারে রেশন প্রকল্পে কাজের

 জন্য প্রার্থীদের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করা হচ্ছে।

 বিভিন্ন জেলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হলে তা

 https://worldsahityaadda.blogspot.com/?m=1 


ওয়েবসাইটে একে একে পোস্ট করা হচ্ছে।

একইরকম ভাবে পশ্চিমবঙ্গ এর নতুন একটি জেলা থেকে

 দুয়ারে রেশন প্রকল্পে নিয়োগের আবেদন চলছে। কোন

 জেলায় নিয়োগ করা হচ্ছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা,

 বয়সসীমা  এবং আবেদন পদ্ধতি সহ বিস্তারিত তথ্য নীচে

 দেওয়া হল।



পদের নাম- অ্যাডিশনাল ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

 (Additional Data Entry Operation/ DEO)



বয়স সীমা- এই পদে আবেদনের জন্য আবেদনকারীর

 বয়স হতে হবে সর্বনিম্ন ১৮ বছর। বয়স হিসাব করতে হবে

 ৮ অক্টোবর, ২০২১ তারিখের হিসাবে।


শিক্ষাগত যোগ্যতা- প্রার্থীদের যোগ্যতা হতে হবে

 যেকোনো বিষয়ে স্নাতক পাশ। তাছাড়া কম্পিউটার

 অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে কোর্স পাশ করে থাকতে হবে।



আবেদন পদ্ধতি-  আবেদন পত্রের ফরম্যাট প্রতিটি

 জেলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 আবেদন পত্রটি একটি A4 সাইজ কাগজে প্রিন্ট আউট

 করে যথার্থভাবে পূরণ করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণ

 করা আবেদনপত্র ও আবেদনকারীর নথিপত্রের জেরক্স

 কপি সংযুক্ত করে একটি বন্ধ খামে নির্দিষ্ট ঠিকানায় জমা

 দিতে হবে। 

Sunday, December 26, 2021

মাসিক 40 হাজার টাকা বেতনে ইয়ং প্রফেশনাল পদে চাকরি || PBSSD Young Professional recruitment 2022 || Pbssd recruitment 2022 || government jobs news


 


**মাসিক 40 হাজার টাকা বেতনে ইয়ং প্রফেশনাল পদে চাকরি**



পশ্চিমবঙ্গ সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট (PBSSD)

 ঘোষণা করলো রাজ্যে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি। ইয়ং

 প্রফেশনাল পদে কর্মী নিয়োগ করা হবে।উক্ত পদে

 নিয়োগ করার জন্য দেখা হবে প্রার্থীদের বিশেষ শিক্ষাগত

 যোগ্যতা । নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যাদি নিচে দেওয়া

 হল।



*Recruitment for PBSSD Young Professional* 



 *নোটিশ নং:*  PBSSD-33/2/2021/3596



 *প্রকাশিত তারিখঃ*  10 ডিসেম্বর 2021


 *পদ* :   ইয়ং প্রফেশনাল (Young Professional)



 *বেতনঃ*  40,000 টাকা (মাসিক), সাথে মাসিক ভাতা। 




 *বয়সসীমাঃ*   01.01.2022 তারিখ অনুযায়ী

 আবেদনকারীর বয়স 30 বছরের মধ্যে হতে হবে। 




 *শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ*  সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার ডিগ্রি

 থাকতে হবে অথবা BE/B.Tech এর ডিগ্রি অথবা

 ম্যানেজমেন্ট/ LLB/ প্রসেসিং- এই বিষয়গুলির মধ্যে

 যেকোনো একটিতে দুই বছরের পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন

 ডিপ্লোমা করা থাকতে হবে।  



 *চাকরির ধরনঃ*   দুই বছরের জন্য কন্ট্রাকচুয়াল

 বেসিসে নিয়োগ করা হবে। পরে আরো এক বছর

 কাজের সময়সীমা বাড়ানো হবে। 




 *আবেদন পদ্ধতিঃ*  

পশ্চিমবঙ্গ সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট (PBSSD)


 এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে


 আবেদন করতে হবে। ইতিমধ্যেই আবেদন পদ্ধতি চালু


 হয়ে গেছে।


অফিসিয়াল ওয়েবসাইট --

https://www.pbssd.gov.in/




 *আবেদন ফিঃ* প্রার্থীরা বিনামূল্যে আবেদন করতে

 পারবে। 



 *প্রক্রিয়াঃ* প্রার্থীদের আবেদন গুলিকে স্ক্রুটিনি করার

 পর যোগ্যদের নাম শর্টলিস্ট করা হবে। ঐ লিস্টে নাম

 থাকা প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক দেওয়া হবে।

 ইন্টারভিউ তে সফলতা অর্জন করলেই চাকরিতে

 নিয়োগিত করা হবে।



 *গুরুত্বপূর্ণ তারিখ :* 


আবেদন শুরু : 10.12.2021

আবেদন শেষ : 02.01.2022


________________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/wbsetcl-recruitment-2022-wbsedcl.html


__________________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/bsk-new-recruitment-2022-wb-govt-jobs.html

Friday, December 24, 2021

রাজ্যে বিদ্যুৎ বিভাগে নিয়োগ || Wbsetcl recruitment 2022 || wbsedcl recruitment 2022 || রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থায় ৪১৪ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ || government jobs news 2022


 


*রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থায় ৪১৪ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার*

*(ডিপ্লোমা ও গ্র্যাজুয়েট ছেলেমেয়ের জন্য)*




পশ্চিমবঙ্গ  সরকারের অধীন সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

 বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ কোম্পানি লিমিটেড (WBSETCL)

 'জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (ইলেক্ট্রিক্যাল) গ্রেড-।।' ও 'জুনিয়র

 এক্সিকিউটিভ (স্টোর্স)' পদে ৪১৪ জন লোক নিচ্ছে।




 কারা কোন পদের জন্য যোগ্য :


জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (ইলেক্ট্রিক্যাল) গ্রেড-।।: পশ্চিমবঙ্গ

 রাজ্য কারিগরি শিক্ষা সংসদের অনুমোদিত কোনো

 প্রতিষ্ঠান বা কলেজ থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের

 ও বছরের পুরো সময়ের ডিপ্লোমা কোর্স পাশ হলে

 আবেদন করতে পারেন।



মূল নাইনে:-- ৩৯,৮০০-১,০৮,৭০০ টাকা। 


শূন্যপদ:--  ৪০০টি (জেনাঃ ১১১, জেলাঃ ই.সি. ৬২,

 জেনাঃ প্রাঃসংকঃ ১৬, জেনাঃ মেধাবী খেলোয়াড় ৮.


 জেনাঃ প্রতিবন্ধী (এল.ভি), জেনাঃ বধির প্রতিবন্ধী 3.

 জেনা প্রতিবন্ধী (আইডি) ৪. ও.বি.সি.-এ ক্যাটারি ২৭,

 ৩.বি.সি. ক্যাটেগরি ই.সি. ১২. ও.বি.সি-বি ক্যাটেগরি ২০,

 ৩.বি.সি-বি মেরি ইসি ৯, তাজা, ইসি ২৮. প্রসবের ৮. বর্ষ

 (এল.ডি.)১৭, ভাউলা ইসি. (৮)। পোস্ট কোড নং: 02



জুনিয়র এক্সিকিউটিভ (স্টোর্স) : যে কোনো শাখার

 গ্র্যাজুয়েটরা লজিস্টিক্স, মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট,

 লজিস্টিক্স অ্যান্ড মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেন

 ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড

 লজিস্টিক-এর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা কোর্স

 পাশ হলে যোগ্য। যে কোনো শাখার গ্র্যাজুয়েটরা

 লজিস্টিক্স, মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বা, সাপ্লাই চেন

 ম্যানেজমেন্ট স্পেশালাইজেশন হিসাবে নিয়ে বিজনেস

 ম্যানেজমেন্টের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স পাশ

 হলেও যোগা।


 মূল মাইনে: ৩৭,৪০০-১,০৮,২০০ টাকা ।


 শূন্যপদ : ১৪টি (জেনা: ১. জেনাঃ প্রতিবন্ধী (এল.ভি) ১,

 ও.বি.সি.-এ ক্যাটেগরি ২, ৩.বি.সি এ ক্যাটেগরি ই.সি. ১.

 ও.বি.সি.- বি ক্যাটেগরি ইসি ১, ভজো, তাহাঃ ই.সি. ২.

 ত:উ:জা: ২)। পোস্ট কোড :01.



উপরের সব পদের বেলায় বয়স হতে হবে ১-১-২০২১

 হিসাবে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। তপশিলীরা ৫ বছর,

 ও.বি.সি.'রা ৩ বছর ও প্রতিবন্ধীরা ১০ বছর বয়সে ছাড়

 পাবেন। শুরুতে ১ বছরের প্রবেশন। এই পদের বিজ্ঞপ্তি

 নং: REC/2021/04.



প্রার্থী বাছাই হবে অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে। সফল হলে

 ভাইভা টেস্ট। সব পরীক্ষাই হবে কলকাতায়। ১০০ নম্বরের

 ১০ মিনিটের পরীক্ষায় থাকবে এইসব বিষয় সংশ্লিষ্ট বিষয়

 ৬০ নম্বর, জেনারেল অ্যাপ্টিটিউট ২০ নম্বর, ইংলিশ টেস্ট

 ১৫ নম্বর বাংলা টেস্ট ও নম্বর। নেগেটিভ মার্কিং নেই।

 সফল হলে ২০ নম্বরের ইন্টারভিউ।




দরখাস্ত করবেন অনলাইনে, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।

 এই ওয়েবসাইটে -- www.wbsetcl.in


অনলাইনে দরখাস্ত করার সময় বৈধ ই-মেল আই.ডি.

 থাকতে হবে আর ফটো ও সিগনেচার স্ক্যান করে নিয়ে

 যাবেন। ফটো ও সিগনেচার ৫০ কে.বি.র মধ্যে স্থান করে

 নেবেন। তারপর পরীক্ষা ফী বাবদ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার

 (ইলেক্ট্রিক্যাল) পদের বেলায় ৩০০ টাকার আর জুনিয়র

 এক্সিকিউটিভ পদের বেলার ৪০০ টাকা অনলাইনে

 দেবেন। তপশিল্পী ও প্রতিবন্ধীদের ফী লাগবে না।

 অনলাইনে দরখাস্ত করার পর সিস্টেম জেনারেটেড

 আপ্লিকেশন ফর্ম প্রিন্ট করে দেবেন। আরো বিস্তারিত

 তথ্য পাবেন ওই ওয়েবসাইটে।


________________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/bsk-new-recruitment-2022-wb-govt-jobs.html


____________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/duare-sarkar-new-requirements.html


__________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন----


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/indian-agricultural-research-institute.html



Thursday, December 23, 2021

বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে নতুন নিয়োগ || bsk New Recruitment 2022 || WB govt jobs || www.bsk.wb.gov.in || government jobs news


 


*নতুন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা করলো বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে (BSK) 

 Recruitment in WB BSK for 2021-22* 




##সম্প্রতি কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে

 পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সহায়তা কেন্দ্র-এর (BSK) তরফ

 থেকে। সরাসরি ইন্টারভিউর মাধ্যমে প্রার্থীদের নিয়োগ

 করা হবে। কোনো রকম লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

ইতিমধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, যা চলবে

 *15-01-2022* তারিখ পর্যন্ত।এখানে সরাসরি আবেদন

 করার জন্য আপনাকে হতে হবে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী

 বাসিন্দা । এটি রাজ্য সরকারের একটি চাকরি। এই

 চাকরি সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য (অফিশিয়াল

 নোটিফিকেশন) নিচে বিস্তারিত ভাবে দেওয়া আছে এক

 নজরে দেখে নিন।



 পদ:--  বাংলা সহায়তা কেন্দ্র দপ্তরে বিভিন্ন পদে কর্মী

 নিয়োগ করা হবে। যেসকল পদে কর্মী নিয়োগ করা হবে

 সেগুলি যথাক্রমে হল-


 *Help-Desk Personnel* ,


 *Reconciliation Personnel* ,


 *Senior Software Personnel* ,


 *Chief Finance Officer (CFO)* ,


 *Chief Technology Officer (CTO)* , 


 *Chief Operating Officer (COO)* 




আবেদন পদ্ধতি:--   আপনাকে সরাসরি অনলাইনের

 মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অফিশিয়াল

 নোটিফিকেশন টা ভালো করে পড়লে আবেদন সম্পর্কে

 বিশদে জেনে নিতে পারবেন। এছাড়াও নিচের দেওয়া

 রাজ্য সরকারের সরকারি ওয়েবসাইট বা রাজ্য

 সরকারের অফিশিয়াল সাইট থেকে আবেদন করতে

 পারবেন।



আবেদন করার ওয়েবসাইটটি হল-

 www.parrecruitment.com




 নিয়োগ পদ্ধতি:--   এখানে কোন রকম লিখিত পরীক্ষা

 দিতে হবে না প্রার্থীদের। সরাসরি ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে

 নিয়োগ করা হবে এই পদগুলোতে। এখানে সফলভাবে

 আবেদন করার পর প্রার্থীদের নাম short-listed করা

 হবে। এরপর আপনি BSK অফিশিয়াল পোর্টালে

 আপনার নাম ও আপনার ইন্টারভিউ এর তারিখ, সময় ও

 ইন্টারভিউ এর স্থান দেখে নির্দিষ্ট সময়ে ইন্টারভিউতে

 যোগদান করতে পারবেন। এই ইন্টারভিউ থেকেই

 প্রার্থীদের নাম বেছে নিয়ে ফাইনাল লিস্ট করা হবে এবং

 অতঃপর সেই সকল সিলেক্টেড প্রার্থীদের চাকরি হয়ে

 যাবে।



 শিক্ষাগত যোগ্যতা:---  এই পদের জন্য প্রার্থীদের

 গ্রাজুয়েশন পাশ হতে হবে। তাছাড়া আরো অন্যান্য উচ্চ

 যোগ্যতায় এখানে বিভিন্ন চাকরি পদ আছে। কিন্তু

 আপনাদের অবশ্যই কম্পিউটার সার্টিফিকেট থাকতে

 হবে।



 বয়স সীমা:--- প্রার্থীদের বয়স অবশ্যই 18 থেকে 55

 বছরের বাইরে হওয়া যাবে না।



 আবেদনের অন্তিম দিন:--- 15 ই জানুয়ারি 2022

 তারিখের মধ্যে প্রার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।



চাকরি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে নিছে দেওয়া

  অফিশিয়াল নোটিফিকেশন টি ডাউনলোড করে নিন।


 OFFICIAL WEBSITE:--- 


www.bsk.wb.gov.in


__________________________________________________





সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/duare-sarkar-new-requirements.html


__________________________________________________




সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন--


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/indian-agricultural-research-institute.html


_______________________________________________



সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়তে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন ---


https://worldsahityaadda.blogspot.com/2021/12/asha-karmi-recruitment-2022.html