Sunday, January 30, 2022

অনুগল্প || নাম শুনেছ || সিদ্ধার্থ সিংহ

  নাম শুনেছ




বউ চা দিতে আসতেই স্বামী বলল, সোনা, তুমি রাজা দশরথের নাম শুনেছ?

বউ বলল, হ্যাঁ, শুনব না কেন?

স্বামী বলল, ওনার তো তিনটে বউ ছিল। তা হলে আমি আরও দুটো বিয়ে করতে পারি?

সঙ্গে সঙ্গে বউ বলল, তুমি দ্রৌপদীর নাম শুনেছ?

Poem || STILL LOVES YOU || Kunal Roy

  STILL LOVES YOU




Once in a wet evening,

They met,

Stifled smile,

Soft vision,

Wove a dream,

Of-

Staying together!!


The autumn set in,

The Goddess arrived,

Delight spread across the sky and breeze,

And "You"-

Faraway,

Or in someone's arm,

Or on the divine zone!


He put up in the top floor,

Window opened,

Held a mug of brewing coffee,

Hedonism spread outside,

Solitude in the inner realm,

Love lives in trust,

Emotion lives in breath,

He and his beloved stay,

Faraway,

Where the earth and sky meet,

Still -

Love is immortal there!

কবিতা || আকাশ || নবকুমার

আকাশ 



খাদানের ভেতরে আকাশ নেই

আকাশের জন্য ব্যাকুল হই -

হয়তো নীলাকাশে ফুটেছে খই

কিংবা মেঘে মেঘে

বৃষ্টি জল

জানি না কিছুই -

শুধুই অতল--অতল--।


যেমন বুঝতে পারি না তোমার আকাশ

কখন রৌদ্র কখন মেঘ

কখন হাওয়া আনে মনের আবেগ

বুঝতে পারিনা বলেই

কবিতাগুলি কব্ তে

হয়ে যায়--


সাধারণ মানুষ ,বলি সোজাসুজি--

দিনমান আকাশ

না দেখলেও

খাদানে নিমীল আকাশ খুঁজি -।


কবিতা || আধুনিক যুগ || অভিজিৎ দত্ত

 আধুনিক যুগ 



আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে

রাজপুত্র সিদ্ধার্থ, রাজকীয় সুখ ছেড়ে

পথে বেরিয়েছিলেন কীসের জন্যে?


নানক, চৈতন্য, কবীর, মীরাবাঈ 

ঈশ্বরের নামগান প্রচার করেছিলেন 

কীসের জন্যে?


বিংশ শতাব্দীতে বিপ্লবী অরবিন্দ 

কারাবাসের পর পরিণত হয়েছিলেন 

যোগীতে, কীসের জন্যে?


বিবেকানন্দ অনেক কষ্ট সহ্য করে

আমেরিকায় গিয়েছিলেন ধর্মপ্রচারে

কীসের জন্যে?


সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম, ভগৎসিং সহ

অসংখ্য বিপ্লবী প্রাণ দিয়েছিলেন 

দেশের জন্য, কীসের জন্যে?


অথচ স্বাধীনত্তোর পরবর্তী ভারতে

বর্তমান সময়ে,কী দেখছি সমাজে?

চুরি,দূর্নীতি,ধাপ্পা, ফাঁকিতে সব লিপ্ত 

ভোগবাদ,অপসংস্কৃতিতে মত্ত

দেশপ্রেম গেছে ঘুচে 

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মন থেকে

ফেলেছে মুছে।

এ কোন ভারতবর্ষ?


আজকের আধুনিক ভারতের প্রজন্ম 

কখনও কী ভেবেছো

অগ্রজদের আত্মত্যাগের কথা?

পড়েছো বা জেনেছো ভারতের 

বিপ্লবীদের ও মহাপুরুষদের কথা?

আজকে কেন দেশে এত হানাহানি

ধর্ম নিয়ে লড়াই, হিংসা ও রাহাযানি?


আসলে আধুনিক যুগে উন্নতি 

হয়েছে উপরে,উপরে,হয়নি ভেতরে

অথচ ভেতরের উন্নতিটাই তো আসল 

যেটার ছিল খুব দরকার 

যার অভাবে দেশ অন্ধকার। 


সমাজ গঠনের মূল কাজটাই 

আজ হচ্ছে অবহেলিত 

শিক্ষারূপ জ্যোর্তিময় সত্তা 

আজ অন্ধকারে পরাভূত। 

তাই উন্নত সমাজ গঠনের আশা

আজ দিবাস্বপ্নের মত।

কবিতা || কালো পুরুষের স্তনে মাংসাশী সংখ্যা ঝুলে আছে || নিমাই জানা

 কালো পুরুষের স্তনে মাংসাশী সংখ্যা ঝুলে আছে




পাগলা গারদ এর ভেতরে থাকা উলম্ব মানুষগুলোর ভেতরে জেগে থাকা স্বাভাবিক সংখ্যার কোনও দেশ থাকে না

কৃমি কীটেরা ইলেকট্রন আর হাওয়ার ভাত পোড়া খেতে খেতে হারিয়ে যাবে প্রাচীন দাহক্ষেত্রের কাছে

আজ জমাট শীতকালে দীর্ঘ রাতের প্রয়োজন বৃহত্তম সংখ্যার মতো, এসো হে মহেশ্বর তরল পানীয় নিয়ে একটি সরাইখানার নীল আলোতে নিচু হয়ে কুড়িয়েনি তরল কিছু কাঁচের টুকরো আর চানা মশলার ভিস্কোসিটি ভ্যাজাইন

আমি একাই তিনজনের পাঞ্জাবি পরে আছি ,

তিনজন আর কেউ নয় আমি, ব্রহ্মা আর আমার বাবার বাবা

আমাদের তিনজনের জিওল ঠোঁট আছে সুনীতির মতো

সব আবৃত ভগ্নাংশ গুলোই ঠিক বারোটার পর জেগে ওঠে সূক্ষ্মকোণী থাকা গোলাপের পাপড়ির দেহে ,

পচন সংক্রান্তঃ সাপ থেকে বের করি জরায়ুজ এসপেরা ফার্ণ আর স্তনবৃন্তের কৃষ্ণাঙ্গ , 

গভীর ক্ষেত্রফলগুলো বিটুমিনাস রঙের গলায় তুলসী কাঠের মালা নিয়ে দাঁড়িয়েছে আম গাছের তলায়

এখানে সকল ব্রাহ্মণের মতো রাত্রিকেই পুজো করে উবু হয়ে বসে আমি ফার্নের তলপেট ভালোবাসি জিঘাংসা তরোয়ালে

ইবন বতুতা কতবার সিরোসিস অফ লিভার ভুগেছে অথচ কোনদিন মদ্যপ কামিনী ফুল আমাকে চাঁপাতলায় নিয়ে যায়নি ব্রাহ্মণ বেশে আমি শুধু কৃষ্ণকায় দেহে যুধিষ্ঠির হয়ে গেছি কালপুরুষের বাম স্তন নিয়ে

কবিতা || এই মানুষ সেই মানুষ || মহীতোষ গায়েন

  এই মানুষ সেই মানুষ



সেই মানুষ এই মানুষ মৃত্যু হলেই শেষ...

সেই মানুষ এই মানুষে তবু হিংসা বিদ্বেষ,

এই মানুষ সেই মানুষ আগে ছিল ভালো

সেই মানুষ এই মানুষ বিনা স্বার্থে কালো।


সেই মানুষ পাল্টে গিয়ে এই মানুষ হয়...

এই মানুষের হিংসা ঈর্ষা চিতাতে অক্ষয়,

তবুও মানুষ শান্তি পায় ঝগড়া বিবাদে...

ভালোবাসা খুন হয় অহংকারে জেদে।


তবুও মানুষ প্রেমে পড়ে আশা নিয়েই বাঁচে

ছাপোষাদের স্বপ্ন পোড়ে বিত্তশালীর আঁচে,

এই মানুষ সেই মানুষ লোভ লালসায় মরে

মহামানব পূজিত হন সারা বিশ্ব ঘরে ঘরে।

কবিতা || বীরশ্বর বিবেকানন্দ || মঞ্জুলা বর

 বীরশ্বর বিবেকানন্দ




হে বীর মহান যোগী আজও সবাই স্মরণ করে 

সদাই মোরা তোমার বাণী রাখি হৃদয় ঘরে,

গর্জে ওঠে সকল যুবক তোমার বাণী শুনে

আসবে কবে মানব চেতন সবাই প্রহর গুনে।


ভারতবর্ষে সকল গ্লানি দূর করিতে গেলে

দেশে দেশে ভাষণ দিলে জ্ঞানের আলো জ্বেলে,

সবার মনে বিবেক জাগাও হাজার কষ্ট সয়ে

ভালোবাসা অর্ঘ্য পেলে সবার পাশে রয়ে।


জ্ঞানের দিশা শুধু ঢেলে বিশ্ব মানব হলে

 ধরাধামে সবাই আজও তোমার কথা বলে,

স্বার্থত‍্যাগী মহান যোগী বিশ্বমানবই তুমি 

তোমার জন‍্য ধন‍্য হলো আমার ভারত ভূমি।


সবার তরে জ্বেলেছিলেন হাজার জ্ঞানের আলো  

মুগ্ধ চিত্তে চেয়ে ছিলেন সদাই সবার ভালো,

 কঠোর শ্রমে মানব সেবা সদাই করেছিলেন 

 যুবক দলের মনের ঘরে সাহস ভরে দিলেন।


তোমার বাণী সদাই শুনে সকল মানব জাগে

অমর হয়ে সদা রবে হৃদে দোলা লাগে ,  

সকল যুবা জাগলে পরে আসবে শান্তি ফিরে

হাসি ফুটবে মধুর ভবে সবুজ আঁচল ঘিরে।

কবিতা || আলাদা পৃথিবী || দিলীপ কুমার মধু

 আলাদা পৃথিবী



পৃথিবীর সব লোক যখন

এক হয়ে ক্যারাম খেলে--

আমি তখন ফ্যান চালিয়ে

লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমোই ।


দেশের লোক যখন বাঁধ ভেঙে

জলের তলে বসে স্বপ্ন দেখতে চায়

আমি তখন গোটা একটা বই লিখে

রাতারাতি সাহিত্যিক হয়ে যাই ।


ঘরের লোক যখন ভালোবাসার বন্ধনে

আগলে রাখে আমাকে

আমি তখন শুকতারা টির দিকে তাকিয়ে

সস্তা দামের একটা টর্চ কিনি ।

কবিতা || নারী ও রজঃস্বলা || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

 নারী ও রজঃস্বলা




প্রিয়জনের হাতে প্রহৃত স্নেহা

ক্ষতদাগকে জেনেছে নিয়তির বিধান

বলে,নিয়ম ভাঙতে পারেনি আধুনিকা।


যে হাত জ্বালায় উনোন শাকে দেয় রসুন ফোড়ন

অশোউচ হলে পায় না ছুঁতে ঈশ্বরের বেদীমূল।


আমি মেলাতে অঙ্ক ভাঙতে বিস্ময় ঘোর

গিন্নিকে বলি,এঁকে দাও একে দাও আলপনা,

দেখি,তেমনি রয়েছে সতেজ সবুজ তুলসী পাতা।


আসলে,গুটির ভেতর পিউপার দশা

সেতো রঙিন প্রজাপতির পূর্বাভাস,

নারী রজঃস্বলা না হলে

হ্যাঁ,পিতৃত্ব কোন আশায় বাঁধতে ঘর?

প্রিয় যাপন সুতোয়।

কবিতা || মহৎ || পাভেল রহমান

 মহৎ



খ্যাতির জন্যে সবাই যেখানে কুপথে করিল গমন

সেখানে তুমি হে মহৎ, সুপথ করিলে চয়ন।

মহৎ, তুমি সর্বক্ষণ

হয়ত শুধুই পাচ্ছ কাঁদন

তবু যেই- ই নেয় তোমার শরণ

সেইই পায় শম, ইহা কি কম!ইহাই তোমার পুরস্কার!

ধরা হতে নভে তবে তবে তবে তোমারই জয়- জয়কার!

কবিতা || অশরীরি প্রেম || নমিতা বসু

 অশরীরি প্রেম 




ঝোড়ো হাওয়া 

হয়তো বিকেল,

কি এসে যায় 

রাস্তা আছেই ।


ঝাপটা বৃষ্টি 

গুমোট ভীষণ ,

থমকে শব্দ,

আলো তো কাছেই ।


পাতারা উড়ছে 

ধুলোর ঘুরছে ,

গাছ কি পড়বে?

মজাটা জমবে ।


একটা তো রাত 

বারোটা ঘন্টা,

নিশ্চিহ্ন শকুন 

ভাবি সূর্য টা ।

কবিতা || আলোকে || আশীষ কুন্ডু

 আলোকে




কেন জানি মনে হচ্ছে আলোকপথে 

আমার মুক্তি লেখা আছে অধরা

তবে তাই হোক, আলোক বিন্দুবৎ

একটু তাপের সঞ্চার হোক না মনে!


দীপ্যমান এ সময় লক্ষিত হোক

আলো সেকেন্ডে চলে যাবে দূর

কিছু অন্ধকার রাত বিভাজিত

সন্দেহ পড়ে থাক মগজের কোষে !


অনুরণিত হোক হৃদয়ের অজস্র স্বপ্ন

ক্ষেতে যে জীবন সৃষ্টির মহালগ্নে 

সম্ভাবনার মঞ্জিল ছিল বীজসুপ্ত

তবে তাই হোক, আলোকপথে বিন্দু।

কবিতা || আমি সুভাষ বলছি || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 আমি সুভাষ বলছি

 


      

   হ্যাঁ হ্যাঁ আমি গো আমি

 তোমাদের ঘরের ছেলে- সুভাষ

শত বিপদেও আমি মাথা নোয়াইনি

ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়েছি

 মায়ের শিকল ভাঙার ছলে

 সে দীর্ঘ ইতিহাস

তোমরা যারা স্বাধীনতা পেয়ে খুশি আছো

    বলো সত্যি করে--

 সত্যিই কি স্বাধীনতা পেয়েছো! 

এই স্বাধীনতা কি আমি চেয়েছিলাম

এর জন্যই কি আমি ছদ্মবেশে পলায়িত ছিলাম! 


আজকের স্বাধীনতা পেয়ে তোমরা দেখছো-- শত শত 

 চোর গুন্ডা মাফিয়া আর বেইমানি করা লুন্ঠনকারী

 বড় বড় নেতাদের

যাদের ছবি বড় বড় আইনসভায়, রাস্তার মোড়ে, অফিসে আদালতে। 

না না ওদের বিশ্বাস কোরোনা

ওরা মুখোশ পরে আছে- ওরা বিশ্বাস ঘাতক

 বড় বড় অভিনেতা ---

শুধু বড় বড় ভাষনের বন্যা

 ওদের ছবি রয়েছে ড্রইং রুমে, রেস্টুরেন্টে

নয়তো কোনও মন্দিরের চূড়ায়-: ওরা চায়না

শিক্ষা, চায়না প্রকৃত মানুষের অন্তর

ওরা ধর্ষক, খুনি, আবার ন্যাকা বিচারক

বিচারের বানী ওদের ভয়ে নিভৃতে কাঁদে। 

     কৈ

  আমার ছবি তো চাইনি। 

         বড় বড়, সভায়

তোমরা যাকে সভাপতি পদে বসিয়েছো--

 দ্যাখো তার কর্মের ইতিবৃত্ত-----


এই স্বাধীনতাই কি আমি চেয়েছিলাম! 

এর জন্যই কি আমি রক্ত চেয়ে বলেছিলাম--

'রক্ত দাও স্বাধীনতা দেব! '

ইংরেজ করেছে দমন পীড়ন লাঠি গুলি লুঠ

আর এখন চলছে-- 

মার দাঙ্গা হয়রানি ধর্মীয় উসকানি ধর্ষণ

লুটেরা মাফিয়া বাহিনীর ধাপ্পাবাজি

বিচারের নামে চলছে প্রহসন-

এই স্বাধীনতাই কি আমি চেয়েছিলাম! 

  আমার জন্মদিন পালনেও ওদের চোখে দ্যাখো কত  

    দুরভিসন্ধি কাজ করছে। ওরা

 স্বার্থপর বেইমান-- একটু দূরত্ব রেখে চলো


       আজ আমি বহু বহু দূরে


কী করে কীভাবে ধরবো তাই আবার চাবুক! 

আবার গড়বো নতুন "আজাদ বাহিনী"!

তোমরা বলো -বীর দর্পে বীর কর্মে 

      আবার আমরা 

   লড়বো একসাথে.... 


আমি মরিনি বিশ্বাস করো

       আমি আছি

     হ্যাঁ, আমি আছি

     আছি গো আছি--


আমি সুভাষ বলছি।