Thursday, October 26, 2023

আবোলতাবোল : শতবর্ষ - পরাগ চৌধুরী || Aboltabol : Satabarsya - Parag Chowdhury || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 আবোলতাবোল : শতবর্ষ

                পরাগ চৌধুরী


তোমার জন‍্য দীর্ঘশ্বাস পদ্মপাতায় জলের ফোঁটা

তোমারই জন‍্য হাসি হয়ে ওঠে শরতের রোদ

তোমার জন‍্য আরও কতো কী হতে পারতো'র আক্ষেপ

এক টোপ চন্দন হয়ে উঠলে

তোমারই জন‍্য হাসিও হয়ে ওঠে

আমাদের রবীন্দ্রোত্তর চওড়া কপাল

সোজা কথায়,শতখানেক বছরটছরের হিসেব

কাক্কেশ্বর কুচকুচে যখন সময়ের নিয়মে ফেলে

উধো শেখায় কখন বয়স কমে না গেলে

শেষটায় বুড়ো হয়ে মরতে হয়...

তাই তোমায় মনে পড়লেই

সব চে' সহজে সব চে' কঠিন শাস্তিটা দিয়ে রেখেছো---

কখনও রামগরুড়ের উত্তরাধিকারী হওয়া যাবে না।

রাস্তার ছেলে - সব্যসাচী মন্ডল || Rastar Chele - Sabyasachi Mandal || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 রাস্তার ছেলে 

       সব্যসাচী মন্ডল


দ্যাখো ওরা হাসে , 

ওরা কাঁদে না, 

এ পৃথিবী করেছে অনেক চেষ্টা, 

তবুও ওরা হাসে

সমস্ত দুঃখ ভুলে। 


ওরা রাস্তায় থাকে, 

ছুঁড়ে ফেলা খাবার খোঁজে, 

ডাস্টবিনের পাশে। 

তবুও ওরা হাসে

সমাজের নিষ্ঠুরতাতে। 


ওদের জন্ম হয়েছে

মৃত্যুকে বিদায় জানিয়ে। 

ওদের বেঁচে থাকতে হবে, 

প্রতিদিনের লড়াইকে স্বাগত জানিয়ে। 

এটাই ওদের জীবন, 

হাসতে হাসতে চলে

দুঃখকে বিদায় জানিয়ে। 


মাতৃগর্ভের প্রবল নিরাপত্তা ছাড়িয়ে, 

অনিশ্চয়তার গাঢ় অন্ধকারে, 

ধুলো মাখা জীবনে, 

বেঁচে আছে ওরা। 

ওরা রাস্তার ছেলে, 

সামাজিকতা , বিলাসিতা ফেলে

মাটির সোঁদা গন্ধে

মিশেছে জীবন ওদের। 


ওরা বোঝেনা অর্থনীতি, 

বোঝেনা ওরা ক্ষমতা। 

ওরা বোঝে শুধুই

 বেঁচে থাকার সংগ্রাম, 

ক্ষুধার জ্বালায় পাকস্থলীর আর্তনাদ। 


ওরা সহজেই বয়ে যায়

সমাজের কালো অন্ধকারে। 

কারণ ওদের নেই কোন অভিভাবক, 

নেই কোন আলোর দিশা, 

ওরা শুধুই হাসে, 

কান্না ওদের কাছে বিলাসিতা। 


 

গ্রাম - অন্তরা মন্ডল || Gram - Antara mondal || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 গ্রাম

অন্তরা মন্ডল


কংক্রিট বেষ্টিত বিপর্যস্ত চিত্ত হাত বাড়ায় মুক্ত প্রাঙ্গণে

যেথা অংশুমালির রাজত্ব চলে প্রাতঃকালে,

মুগ্ধকর সুমিষ্ট আবর্তিত অনিলে আকর্ষিত হয় অন্তর-

আলপনার টানে সুসজ্জিত কুটির বড্ড মনোহর।

কর্ষণোপযোগী মৃত্তিকায় সোনার শস্যের হাতছানি

স্তব্ধ বুকের মাঝে বাউল গানের উন্মাতাল ধ্বনি,

মেঠো পথে আনাগোনা রংতুলির চিত্রের ন্যায় মর্মস্পর্শী

পথপার্শ্বস্থ বটগাছ আজ বহু সুখ-দুঃখের সাক্ষী।

লাল-নীল-হলুদ বনফুলের মধ্যে ভ্রমেরের গুঞ্জন

দূর্বা ঘাসের ডগায় ভোরের শিশিরের অপূর্ব সুঘ্রাণ,

প্রবাহিনীর স্বচ্ছ সলিলে ফুটে ওঠে নিজের প্রতিচ্ছবি

বহু আক্ষেপ পিছনে ফেলে এখানেই আসল শান্তি।

দিগন্তরেখা বেয়ে অস্তগামী সূর্যের রঙের খেলা,

ফিরতি রাখালের বাঁশির মধ্যে ফুটে ওঠে ব্যাকুলতা,

ক্ষীণালোকে লালপেড়ে প্রত্ন গরদ পরনে প্রদীপ্ত বর্তিকা

শহুরে কোলাহল পিছনে ফেলে আহ্বান করে নীরবতা।।

ভোলার মহালয়া শোনা - নিখিল মিত্র ঠাকুর || Volar Mahalaya Sona - Nikhil Mitra Thakur || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 ভোলার মহালয়া শোনা

       নিখিল মিত্র ঠাকুর


শিউলি ঝরা ভোরের বেলা,
শুনবে মহালয়া,
রেডিও খুঁজে বেড়ায় ভোলা,
ঘরময় চরকি দিয়া।

গিন্নি   ঘুমায়  নাক  ডাকিয়া,
টেনে তোলে ভোলা,
বলেন   গিন্নি   দাঁত  খিঁচিয়া,
মাচায় আছে তোলা।

নামায়  ভোলা  ধূলা  ঝেড়ে 

সারা বছর পরে,

রেডিও  শুধুই  বলে কে রে?
আমায় হাতে ধরে!

আগুন হও এবার - অঞ্জনা ভট্টাচার্য্য || Agun hou ebar - Anjana Bhattacharya || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 আগুন হও এবার

    অঞ্জনা ভট্টাচার্য্য



নরম হাত অবুঝ মন পূর্ণিমার চাঁদ

লোলুপ দৃষ্টির মারপ্যাচ বুঝে কি!


অমাবস্যার রাত জাগা পাখি দুটো

ডানা ঝাপটায় । শিকার হাতছাড়া


চিল শকুনের রাজ ।

চোখে এক পক্ষকালের হিংস্রতা


হংসবলাকার দলে মিলে যাও ।

ও গো মেয়ে যদি বাঁচতে চাও ।


শেষ হওয়ার আগে দপ করে জ্বলে ওঠা

প্রদীপের শিখা হয়ে ওঠো এবার


মেয়ে এবার আগুন হও , জ্বলে ওঠো

জ্বালিয়ে দাও শয়তানের আস্তানা। 

Saturday, September 30, 2023

কুনিও ইয়ানাগিতা - শংকর ব্রহ্ম || Kunio Yanagita - Sankar Brahma ||Article || প্রবন্ধ || নিবন্ধ

কুনিও ইয়ানাগিতা (Kunio Yanagita)

[জাপানী লেখক, পণ্ডিত এবং লোককাহিনীবিদ্]


শংকর ব্রহ্ম




      'কুনিও ইয়ানগিতা' ছিলেন ফুকুশাকি শহরে, হয়োগো এলাকা বসবাসকারী মাৎসুওকা পরিবারের পঞ্চম সন্তান। কুনিও ইয়ানগিতা, ৩১শে জুলাই , ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।


            তাঁর জন্মনাম ছিল কুনিও মাৎসুওকা (বা মৎসুওকা কুনিও, জাপানি মতে), তাঁর জাপানি নাম 'হিরাগানা ''কিউজিতাই 'শিঞ্জিতাই' .রোমানীকরণ মতে নাম - 'Yanagita Kunio'. 


              তাকে এক নাওহেই ইয়ানগিতা নামক বিচারকের পরিবার আশ্রয় দেয়। একটি ছোট ছেলে বা একটি পুরুষকে নিজের পরিবারে আশ্রয় দেওয়া, উত্তরসূরি হওয়ার কারণে, তখনকার যুগের প্রচলিত প্রথা ছিল। এটা বিবাহের মাধ্যমে হতো, পুরুষটি আশ্রিত পরিবারের মেয়ের সঙ্গে বিবাহ করে মেয়ের পরিবারের অঙ্গ হতো। এই ক্ষেত্রে, নাওহেইর পুত্রী তাকা এবং ভবিষত্বের লোককাহিনীবিদের মধ্যে একটি সম্বন্ধ করা হয়। এই বিবাহ চুক্তিটি ১৯০১ সালে হয় এবং ওনার নাম বদলে কুনিও ইয়ানগিতা হয়।


তাঁর পিতা ইয়াকুসাই মাৎসুওকা (পিতা) নাওহেই ইয়ানগিতা (শ্বশুর)।



               ছোটবেলা থেকে ইয়ানগিতার সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ছিল। কবিতায় ওনার বিশেষ আকর্ষণ বোধ করত। উনি পাশ্চত সাহিত্যের অনুগামীও ছিলেন। যখন তাঁর লোককথার প্রতি কৌতূহল হয়, উনি এডওয়ার্ড বুরনেট টেলরের এবং অন্যান্য পাশ্চত জাতিবিদের (anthropologists) জাতীতত্ব (ethnology) সংক্রান্ত লেখা পড়েন। এই পড়াশুনোর প্রভাব ওনার নিজেস্ব গবেষণায় দেখা যায়।



               মাৎসুওকা ভাইরা, ইয়ানগিতার পরিবার ছাড়ার আগে ইয়ানাগিতা টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পাশ করে, কৃষি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত কৃষি প্রশাসন দপ্তরে আমলার পদে নিযুক্ত হন। তিনি আমলা হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, তবে গ্রামীণ জাপান এবং তার লোকঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ গড়ে উঠে। এটি তাঁর কর্মজীবনে পরিবর্তন ঘটায়। তাঁর এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ, জাপানে লোককাহিনীবিদ্যা (মিনজোকুগাকু) একটি শিক্ষার বিষয় রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইয়ানগিতাকে প্রায়শই আধুনিক জাপানি লোককাহিনী অধ্যয়নের জনক হিসাবে মানা হয়।


          মোট কুড়ি বছর চাকরি করেন ইয়ানাগিতা। আমলা হিসেবে, উনি জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুর গ্রামীণ এলাকায় প্রায় যাতায়াত করতেন। এই যাত্রার দরুন ইয়ানাগিতার মনে গ্রামীণ জীবনশৈলী এবং কৃষি অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ জন্মায়।


           তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯০৪ সালে 'তাকা ইয়ানগিতা'-কে বিয়ে করেছিলেন।



          ইয়ানাগিতা নিজের সহ-আমলাদের স্থানীয় স্বশাসনের প্রতি উদাসীন মনোভাবের নিন্দা করা শুরু করলেন। ইয়ানাগিতা ক্রমে এই স্বশাসনের সমর্থনে আওয়াজ ওঠাতে শুরু করলেন। ওনার মতে কৃষিনীতির, বড়লোক জমিদারের ওপর ভিত্তি না করে ছোট কৃষকদের সমবায়ের ওপর ভিত্তি করা উচিত। এটা বিশ্বাস করা হয় যে সরকারের তরফ থেকে ওনার মতামতের বিরোধিতা করা হয়, যার কারণে উনি আমলার চাকরি ছেড়ে দেন, এবং লোককাহিনীবিদ্যার দিকে অগ্রসর হন।



                 কৃষি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইস্তফা দেয়ার পর ইয়ানাগিতার সুযোগ হয় গ্রামীন জাপানকে আরও ভালভাবে অনুসন্ধান করার। উনি ঘুরে-ঘুরে লোককথা, গল্প, প্রথা, লোকবিস্বাস আদি সংগ্রহ করে তাদের গভীর পর্যালোচনা করা শুরু করলেন। এই সময় ইয়ানাগিতার সাহিত্যিক বন্ধুরা, তার মধ্যে লেখক 'শিমাজাকি টোশন' অন্যতম, তাঁর নিজের লোককথা এবং গ্রামীন প্রথার ওপর গবেষণা প্রকাশিত করার অনুপ্রেরণা দিতে লাগলেন। এই সব লেখা এবং গবেষণার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে ১৯১২ সালে প্রকাশিত বই টোনোর গল্পকথা (টোনো মোনোগাতারি / The Legends of Tono)। এই বইতে ইয়ানাগিতা ইবাতে অঞ্চলের টোনো নামক একটি পাহাড় ঘেরা গ্রামের (এখন শহর) লোককথা, লোকবিস্বাস, প্রথা, গল্প আদি সংগ্রহ করেন। এটি ওনার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ।


                    এরপর, ইয়ানাগিতা লোককথা নিয়ে নৃবিজ্ঞানগামী (anthropological) গবেষণা শুরু করেন, যার জন্য তিনি আজও প্রসিদ্ধ। তিনি নিজের আরও কাজ প্রকাশিত করেন, তার মধ্যে অনেকগুলো লোককাহিনীবিদ 'কিজেন সাসাকি-র সহযোগিতায়।



                স্থানীয় লোককথার ওপর ইয়ানাগিতার একাগ্রতা, জাতীয় ইতিহাসে জন-সাধারণের জীবন তুলে ধরার ওনার বৃহত্তর চেষ্টার স্বরূপ ছিল। তাঁর বক্তব্য ছিল ইতিহাস গবেষণা এবং লেখায় খালি অভিজাতদের সঙ্গে হওয়া ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের ইতিহাস বাদ পড়ে যায় এবং এরকম মনে হয় যে সাধারণ জাপানিরা সব সময় একই রকম ছাঁচে জীবন কাটাতেন। ইয়ানগিতা নানান সাধারণ মানুষের গোষ্ঠীর অনন্য প্রথা তুলে ধরার চেষ্টা করতেন, যেমন পাহাড়ি অঞ্চলের বসবাসকারীর (সাঙ্কা) এবং দ্বীপে বসবাসকারীর প্রথা। উনি লোককথার তিনটি দিক চিহ্নিত করেন - ব্যবহার্য বস্তুসামগ্রী, মৌখিক ভাষা এবং মানসিক বা আবেগপূর্ণ বাহ্যিকমুর্তি। এই তৃতীয় দিকটি শুধু তাদেরই প্রাপ্ত যারা সমান অনুভতি দ্বারা গভীর বোধ্যগম্যতা অর্জন করেছেন। ইয়ানাগিতার মতে এটাই লোককাহিনীবিদ্যার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।



                  সামগ্রিক ভাবে, ইয়ানাগিতার গবেষণা প্রচুরভাবে স্মরণীয় এবং সংজ্ঞা নির্মানী।    


                   ইয়ানাগিতা জাপানের অন্যতম প্রধান লোককাহিনীবিদ যিনি জাপানে লোককাহিনীবিদ্যার (মিনজোকুগাকু) শিক্ষাবিষয় স্থাপিত করেন। জাপানে উনি "আধুনিক জাপানের লোককাহিনীর জনক" উপাধিতে প্রসিদ্ধ।


                    ইয়াকুসাই মাৎসুওকার বাড়ি


টোনো মোনোগাতারি (遠野物語 / টোনোর গল্পকথা) - ইয়ানাগিতার সবথেকে প্রসিদ্ধ বই। বইটি ইবাতে অঞ্চলের টোনো গ্রামের লোককথা, প্রথা, লোকবিশ্বাস প্রভৃতির সংগ্রহ। জনপ্রিয় ইওকাই কাপ্পা এবং যাসিকি-ওরাশির লোককথা এই বইতে লেখা।


                     কাগুইউকো - এই লেখায় ইয়ানাগিতা দেখান কিরকম 'শামুক' শব্দটির লবজ বিতরণ, জাপানি দ্বীপপুঞ্জে একটি সমকেন্দ্রিক বৃত্ত ধারণ করে। (সময়ক্রমে লবজ বিতরণের কেন্দ্র বনাম পরিধি ভাষাবিজ্ঞানিক তত্ব)


                     মোমোতারো নো টাঞ্জ – এই লেখায় ইয়ানাগিতা জাপানি লোককথার এবং সমাজের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। নিবন্ধের নামটি একটি বহুপ্রচলিত জাপানি লোককথা 'মোমোতারো' থেকে নেয়া। নিবন্ধে, লেখক মোমোতারো লোককথাটির ওপর টিপ্পনি করে বলেন যে এইরকম লোককথা জাপানি সমাজকে বোঝার তথ্যসূত্র প্রদান করে। মোমোতারোর কিছু বিষয় আলোচনা করে উনি সেটা সমগ্র জাপানি সমাজের সঙ্গে তুলনা করেন। ইয়ানাগিতার এই কৌশল আজ অনেক মানবজাতি বিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানি এবং লোককাহিনীবিদ মেনে চলেন।


                    কাইজো নো মিচি - এই লেখাটি ইয়ানাগিতার মৃত্যুর এক বছর আগে প্রকাশিত হয়। এই বইতে ইয়ানাগিতা ওকিনাওয়া দ্বীপের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং লোককথার সমগ্র। নিজের ওকিনাওয়ার অধ্যয়নে, ইয়ানাগিতা জাপানি সংস্কৃতির শুরু খুঁজতে চাইছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালের গবেষকেরা ইয়ানাগিতার এই নিয়ে অনেক ভাবনাকে খারিজ করে দেয়। এটা বলা হয় যে এই গবেষণা করার অনুপ্রেরণা ইয়ানাগিতা পায় একটি তালগাছের বীজ থেকে যেটা কুরোশিও স্রোত দ্বারা ভেসে এসেছিল, জখন ইয়ানাগিতা আকেচি অঞ্চলের ইরাগো মাসাকি অন্তরিপের সুমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।


                 Kunio Guide to the Japanese Folk tale (কুনিও গাইড টু জাপানিজ ফল্ক টেল) - এটি কিছু জাপানি লোককথা এবং তথ্যের চয়ন। কুনিও ইয়ানাগিতার নিহন মুকাশি-বানাসি মেই বইটি থেকে অনুবাদ করেছেন ফ্যানি হাগিন মেয়ের।


                   নোচি নো কারি-কোতোবা নো কি - ইয়ানাগিতা এই লেখাটি গোপনে প্রকাশ করেন। উনি এটা লিখেছেন কিউশু দ্বীপপুঞ্জে যাত্রার উপর ভিত্তি করে। এই লেখার কেন্দ্র মিয়াজাকি অঞ্চলের একটি পাহাড়ি সম্প্রদায়কে নিয়ে, তাদের শিকারকার্য এবং শিকার সংক্রান্ত ভাষা সম্বন্ধে। এটি আজকে জাপানের প্রথম লোককথা গবেষণার রূপে দেখা হয়।


                     ৮ই আগস্ট ১৯৬২ সালে ৮৭ বছর বয়সে টোকিও, জাপানে তিনি মারা যান।




                         তাঁর পরিচিতির কারণ প্রধানতঃ -


১). টোনো মোনোগাতারি


২). মোমোতারো নো টাঞ্জ


৩). নিহন মুকাশিবানাশী মেই ("জাপানি লোককথা")।



---------------------------------------------------------------------------------------------


[সংগৃহীত ও সম্পাদিত। তথ্যসূত্র - উইকিপিডিয়া]



সূত্রনির্দেশিকা -



 Mori, Koichi (১৯৮০ সাল)। Yanagita Kunio: An Interpretive Study। Japanese Journal of Religious Studies।



 Mori, Koichi (১৯৮০ সাল). Yanagita Kunio: An Interpretive Study. Nanzan University: Japanese Journal of Religious Studies.



 Oguma, Makoto (২০১৫ সাল). "The Study of Japan through Japanese Folklore Studies". The Japanese Journal of Psychology. 16 (92): 236–237. doi:10.4992/jjpsy1912.16.236. ISSN 1884-1066.



 Yanagita, Kunio; Translated by Ronald A. Morse (২০০৮ সাল). The Legends of Tono. Lexington Books. ISBN 978-0-7391-2767-4.



 Morse, Ronald (১৯৯৫ সাল). "Untitled Review of "The Origins of Ethnography in Japan: Yanagita Kunio and His Times"". Monumenta Nipponica. 50 (3): 411–413. doi:10.2307/2385561. JSTOR 2385561 – via JSTOR.



 Knecht, Peter (১৯৯২ সাল). "Yanagita Kunio and the Folklore Movement: The Search for Japan's National Character and Distinctiveness". Asian Folklore Studies. 51: 353–355. doi:10.2307/1178346. JSTOR 1178346 – via JSTOR.



 Yanagita, Kunio; Translated by Fanny Hagin Meyer (১৯৮৬ সাল). Yanagita Kunio Guide to the Japanese Folk Tale. Indiana University Press. ISBN 0-253-36812-X.




END OF THIS LOVE - Samima yeasmin || English Poem || Poetry || Poem

 END OF THIS LOVE

        Samima yeasmin


A promise binds a relationship.           

 You also gave me a promise   

           but you broke it. 


          I love you so much              

     but you didn't care about                         

                my heart. 

      You hurt me repeatedly. 

  Yet I have endure much of it. 


   How many question I have? 

       But you had no answer. 

     Forgiven all your mistakes

    because I love you so much. 

 

  This relation sounds like a    

               broken heart

    because there is no faith 

        

              at last. 

We don't have own house - Nasir Waden || English Poem || Poetry || Poem

 We don't have own house

                Nasir Waden



We don't have a house to live in

Instead of teeth, cutting a cannel

With a tuber, flowered moonlit-period

Crocodiles enter the cream on the antibodies,

Happyness, emotions, different happyness.

There was a place, there was no place to them


In the fountain of non-mourning,

Be mischel painted the shadow of death in the opposite lane

Of the homestead.

একটু ধৈর্য ধরো - পার্থ প্রতিম দাস || Ektu Dhairya dhoro - Partha protim das || অনুগল্প || Onugolpo || Short story

 একটু ধৈর্য ধরো 

   পার্থ প্রতিম দাস 



     মঞ্জুর বয়স তিরিশ ছুঁই ছুঁই করছে। তবে তার রূপের ঝলক দেখার মতন সুন্দর। একদিন বাটিতে নারকেল তেল নিয়ে পা দুখানি ছড়িয়ে বেশ করে চুল গোছা যত্ন করে বাঁধছিল। এমন সময় তার মা তপতী এসে বলল, "ওই পাড়ায় রিমির বিয়ের কথা ঠিক হয়ে গেলো। আর তুই এখনও বিয়ে না করে বসে আছিস। "

       মঞ্জু বলল, "এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করে করবেটা কি? বাসন মাজতে এদের খুব মজা। "

    তপতী বেশ ব্যঙ্গের সুরে বলল, "তা আপনি কি করবেন? "

     মঞ্জু খুব শান্ত ভাবে বলল, "দেখো মা CTET পাশ করেছি। যদি নিজের পায়ে না দাঁড়াই তাহলে আমার এত পড়াশুনার মূল্য থাকবে না। তাছাড়া প্রতিবেশী কি বললো তাতে মাথা খারাপ করতে নাই। পাড়া গাঁয়ের প্রতিবেশী সব সময় প্রতিবেশীর ভালো দেখে জ্বলে। "

     সে সময়ের মতন মঞ্জু তার মাকে বোঝাতে পেরেছে। অনেক দিন হয়ে গেছে, মঞ্জু এখন স্কুলের শিক্ষিকা। একদিন পূজোর ছুটিতে বাড়ি এসেছে মঞ্জু। বিকেল বেলায় বেড়াতে বেরিয়েছে পাশের বাসার বৌদিদের কাছে। কথা বলতে বলতে একজন বৌদি মঞ্জুকে বলল, "জানো মঞ্জু, রিমি এখন তার বাপের বাড়িতে আছে। "

     মঞ্জু অবাক হয়ে জিগ্যেস করল, "কেনো কি হয়েছে? "

     বৌদি বলল, "রিমির স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি ননদ মিলে খুব মেরেছে। কারন রিমির বাবা নগদ টাকা এখনও দিতে পারেনি। "

     মঞ্জু তখন মনে মনে বলল, "এই জন্য সবাইকে বলি, একটু ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। সহজে কিছু পেলে তা নষ্ট হয়ে যায়। "



শেষ পাতা - সুনির্মল বসু || Ses Pata - Sunirmol basu || Onugolpo || অনুগল্প || Short story

 শেষ পাতা

সুনির্মল বসু



কবে আছি, কবে নেই, এই কথা ভাবতে ভাবতে ভদ্রলোক জীবন কাহিনী লেখা শুরু করলেন,

জীবন কথা লেখা খুব শক্ত কাজ, আসল জীবন থেকে লিখিত জীবন অন্য কথা বলে,

অথচ, নিজের জীবন নিয়ে মিথ্যার বেসাতি করা ভদ্রলোকের মন পছন্দ নয়,

রাত জেগে তিনি স্মৃতির বন্ধ দরোজা খুলে দেন, স্মৃতির সিন্দুকে কত কষ্ট দুঃখের মণিমাণিক্য, কত চোখের জল ভৌতিক অন্ধকারে লুকিয়ে আছে, সুখ খুঁজতে গিয়ে কত অসুখের সালতামামি রয়েছে,

ভাবনার পথে হাঁটতে হাঁটতে তিনি কতদূর দূরান্তরে চলে যান, কত নদী বন্দর কত আরণ্যক পৃথিবী পেরিয়ে আলোকবর্ষ অতিক্রম করে, চালচুলোহীন তিনি দিকশূন্যপুরের দিকে এগিয়ে চলেন,

স্মৃতিগুলো কিছুতেই তাঁর পিছু ছাড়ে না,

সুখের দিনগুলো একদিন স্বপ্ন দেখাতো, দুঃখের

দিনগুলো আজকাল তাঁকে ঠাট্টা করে চলে,

স্মৃতির সরণিতে কত উন্মনা মুখ হেঁটে যায়,

যে প্রাক্তন প্রেমিকা মুখের উপর অতীতে একদিন দরোজা বন্ধ করে দিয়ে অন্য পুরুষের হাত ধরেছিল,

জীবনের প্রান্তসীমায় এসে তাঁর জন্য মনে করুণা জাগে, অথচ একদিন কত স্বপ্ন জেগেছিল জীবনের প্রথমভাগে,

মধ্যরাতে মগ্ন চৈতন্যে জেগে থেকে ভদ্রলোক জীবন লিপির খেরোর খাতা ভরিয়ে তোলেন,

যারা তাঁকে একদিন সত্যিকারের ভালোবাসা দিতে চেয়েছিল, তিনি তাদের অগ্রাহ্য করে যান, তিনি যাদের ভালোবেসে ছিলেন, তাঁরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিতে এসেছিল তাঁর কাছে, কাজ গুছিয়ে পগার পার।

জীবন কাহিনীর শেষ পাতায় ভদ্রলোক লিখলেন,

জীবনটাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না, বহু কষ্ট করে আমি যে জীবন কাহিনী লিখে গেলাম, তার কোন প্রয়োজন ছিল না, আমার নিরর্থক জীবন ভারবাহী জন্তুর মতো, এই জীবন কাহিনী কারো পাঠ যোগ্য হতে পারে না, আমার বাতিল জীবনের মতো, আমার বাতিল জীবন কাহিনী আপনারা কেউ দয়া করে পড়বেন না।

অসহায় - বিকাশ মন্ডল || Asohay - Bikash mondal || kobita || কবিতা || Poetry

 অসহায় 
বিকাশ মন্ডল 


নিঃশব্দে যে ভালোবাসে, দূর থেকে 
তাকে কী নামে যে ডাকি...

যদি বলি দেবী ; অথবা... অথবা...
যদি ডাকি ছায়া! 

বিকেলের মরা রোদে, অজানিতে
সে আমার হাতে রাখে হাত
পাশে পাশে হাঁটে শব্দহীন পায়ে 
ঘাসে বসে বকের বলাকা দ্যাখে
জ্যোৎস্নার ফেনা মেখে ঘরে ফেরে অথচ.... 

যাব তোমায় নিয়ে চিরকাল - অসীম কুমার সমাদ্দার || Jabo Tomay niye chirakal - Asim Kumar Samadar || কবিতা || Kobita || Poetry

যাব তোমায় নিয়ে চিরকাল

অসীম কুমার সমাদ্দার



কল্পনায় এঁকেছিলাম তোমায় বহুদিন আগে 

তারপর প্রতীক্ষায় কেটে গেল অনেক দিন দুর্বিসহ একাকিত্বে

অনিদ্রায় অনাহারে স্বপ্ন হারিয়ে গিয়েছিল বাস্তবের ডাস্টবিনে

হটাৎ ঝড় এসে পুনরুদ্ধার করে সেই হারানো দিনকাল

তুমি চলে এলে খুব কাছে , খুশি ডানা মেলে উড়ে আসে চরাচরে

আমি যাব নদীর কাছে , দুর্গম গিরিপথে তোমায় সাথে নিয়ে চিরকাল ।



সেপ্টেম্বর সংখ্যা ২০২৩ || সেপ্টেম্বর সংখ্যার সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র || September Sonkha 2023


 


শারদীয়া আগমন বাঙালি জাতির উত্তেজনা নিয়ে রিসার্চ করার প্রয়োজন নেই। কারণটা সকলেই জানেন মায়ের আগমনে ঢাকের বাদ্যিতে বাঙালি মন আকুলি বিকুলি করবেই। বিশ্বকর্মা পূজা, গণেশ পূজার পর বাঙালি মন আগমনীর সুরে নেচে ওঠে। মিশ্রিত থাকে সাহিত্য ও সামাজিক মেলবন্ধন। সাধারণের সাথে সাথেই পাঠককুল ও লেখকবর্গদের কাছে এ যেন অন্য এক চেতনার সঞ্চার করে।


পূজো আসছে, পূজো আসছে এই আনন্দে কবি মনে এক বিরাট নবকাশের জন্ম দেয়। তাই চলুন সকলেই মেতে উঠি। সেপ্টেম্বর এর শেষ দিবসের পর অক্টোবর এর সূচনা আমাদের জানান দেয়, জেগে ওঠ সবাই। এই দেখ নতুন সকাল। আশ্বিনের মিঠা রোদ্দুরে জন্ম নিক সাহিত্য সম্ভার। এই সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দিতে আমরা এসেছি আমাদের ওয়ার্ল্ড সাহিত্য আড্ডা ব্লগ ম্যাগাজিনের ডালি নিয়ে।


লিখুন সবাই, পড়ুন সকলে। আনন্দের আর্তনাদে মেতে উঠুন। আমাদের সাথে সাথে ছড়িয়ে দিন আপনিও।



                                   ধন্যবাদান্তে
               ওয়ার্ল্ড সাহিত্য আড্ডা সম্পাদকীয় 

_________________________________________

সেপ্টেম্বর সংখ্যার সূচিপত্র :

কবিতা - 
১) অসীম কুমার সমাদ্দার
২) বিকাশ মন্ডল




গল্প -
১)সুনির্মল বসু
২)পার্থ প্রতিম দাস



English Poem -
১)নাসির ওয়াদেন
২) সামিনা ইয়াসমিন



প্রবন্ধ -
১) শংকর ব্রহ্ম 

________________________________________
বি.দ্র. :- সকল কবি ও লেখক তাদের লেখা এই সংখ্যাতে থাকছে তারা প্রত্যেকে এই হোম পেজে নীচের দিকে যান তারপর 'view web virsion' এ ক্লিক করুন । তারপর ঐ মেন পেজে ডানদিকে সূচিপত্রের লিস্ট পাবেন। সেই লিস্ট নিজের নামে ক্লিক করলেই লেখা গুলো দেখতে পাবেন। সেটাই আপনার লেখার লিংক। এই নিয়ম শুধু মাত্র স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য। যারা কম্পিউটার এ খুলবেন তারা সরাসরি মেন পেজ পাবেন সেখানে সূচিপত্র পাবেন।