Monday, August 23, 2021

কবি রানা জামান -এর একটি কবিতা

 ভালোবাসার অন্তর্নিহিত উত্তাপ

 


ভালোবাসায় অন্তর্নিহিত একটা উত্তাপ আছে

সেই অমোঘ উত্তাপে আবালবৃদ্ধবণিতা

হতে চায় উত্তপ্ত; নিষিদ্ধ গন্ধমের চেয়েও অপ্রতিরোধ্য

আকর্ষণ তাতে; আভাষ পেলেই শত শত লালপরী

নীলপরী চোখের পাতায়; রংধনুর সকল রং

তুলিতে কলমে রাবিন্দ্রিক জীবনানন্দীয় ছন্দ

আর কল্পনায় বৃন্দাবন

আপন গায়ের রক্তে লিখে ফেলা যায় অনায়াসে

শত শত প্রেমপত্র; ভেবে ভেবে মজনু, বা অষ্টম

এডওয়ার্ড হওয়া মামুলি ব্যাপার; তুড়িতে পাহাড়

কেটে রাজপ্রাসাদে দুধের গঙ্গা বইয়ে

দেয়া যায়; কয়েনের এপিট ওপিট পার্থক্যটা

বুঝে না কাব্যিক মন; ভালোমন্দের ব্যালান্সসিট

মগজে পায় না ঠাঁই; একমাত্র ইচ্ছে

বুনো ষাঁড়ের মতন ধায় সামনে; মরা গাছে

পুস্প ফুটলে মধুরেণ সমাপায়েত এবং শান্ত জলে

কোনো ঢেউ এলে ইতিহাসের সেলিম।

কবি রফিকুল রবি -এর একটি কবিতা

 দাঁড় কাক 



হঠাৎ যদি চলে যাই তোমার খোলা চোখের সীমানার বাহিরে, যদি আর না এসে হাটি তোমার শহরে ; তবে কি অদেখা শহরে আমার বিচরণে কাঁপবে তোমার শহর? লণ্ডভণ্ড হবে শহরের স্থাপনা ?


তখন, যদি একটা দাঁড় কাক পাখা ঝাপটে এক পাক ঘুরে যায় তোমাকে ঘিরে.... 

তুমি কি বুঝবে- এটা আমি!

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 বিশ্বাস



ছন্দপতন হবে না কখনো

এমন কি আর সবসময় তে হয়?

শোকের ছায়া পড়বে না জীবনে

এমনটা সুখ কজনার বা সয়?


জীবনটা যে ভাঙা গড়ার খেলা

ভালো মন্দ সবটা মিলে মিশে,

খারাপ যদি কেউ বলে কখনো

ভোরের আলো অন্ধকারের শেষে।


বহু ক্ষত অন্তরেতে জমে

জোয়ার ভাটার মত ছন্দমিলে

রাত্রিবেলা হয়তো ধূসর লাগে

স্পষ্ট হয় ভোরের শুকনো বিলে।


দুঃখ পোষা মুখ কি লাগে ভালো?

একটুখানি সুখের ছোঁয়া নাও

রঙিন হবে রুক্ষ্ম মধুর জীবন

ক্ষত মুছে শিশিরে পা দাও।


ছন্দপতন হবে না কখনো

শুন্য তুমি পুণ্য হবে গুনে

সম্পর্কে বেঁধে আছি দুজন

শুনতে পাচ্ছ শব্দ করছে ভ্রূণে।


কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

 তটভূমি 




জো‍ৎস্নায় জেগে ওঠে

উন্মুক্ত বধ্য তটভূমি, 

হৃদয়-বিভূতি জুড়ে লেগে আছে

অমৃতের অম্লান ঘ্রাণ।


প্রাণহীন দেহ থেকে নেমে আসে

স্তব্দতার তরঙ্গরাশি,

সেই সকল অনুপম ঐশ্বর্যের সাক্ষী হয়ে থাকুক এই উপল ভূমিখন্ড। 


বিদায় মুহূর্তের শুকনো পাতার মতো খসখসে শব্দের বাতাবরণ নিয়ে,

অপেক্ষার শব্দ ঘনিয়ে আসে কালপুরুষের মায়াবী বীণা থেকে।


জীবন দ্রুত অতীত হয়ে থাকে 

মায়াবী স্বপ্নের মতো,

শ্মশানের পোঁড়াকাঠে লেগে থাকে বৈরাগ‍্যের অনুভূতি।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 সংবিধান ও আমরা



সভ্যতার প্রতি রাতে ক্ষরণ হয় রক্ত

অস্তিত্ব ক্ষয়ের পতাকা ওড়ে

মিথ্যে পরিচয় দিয়ে ধার্মিক সাজি

নামাবলী দিয়ে ঢেঁকে নিই সংবিধানের পাতা

রাত গভীর হলে মানুষ পোড়া গন্ধে বাতাস ভারী হয়

মরা মাঠে জেগে ওঠে ধার্মিক ভূগোল আর নষ্ট সময়ের কলঙ্কিত দলিল


কবি স্বাগতা দাশগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 ওগো মাছ



ইলিশের আঁচলেতে সর্ষে ফেলেছে ছায়া

তেলে আর পাতুড়িতে জড়ানো সে কত মায়া।


মুখ ভার কাতলার;তার নাকি নেই দম..

দই দিয়ে রাঁধলে সে যে স্বাদে হয় উত্তম।


ডিম ভরা ট্যাংরা-ভীষণ গুমোর তার

ঝাল ঝোল যাই করো, তাইই হবে চমৎকার।


বাঙালী কাঙালী আজ,

পারে না সে কিনতে-

গলদার হেঁড়ে মাথা চিতলের চিলতে।


তোপসে ফ্যাকাসে পড়ে,

পাবদার জুলুসে ..

পাতেতে আসে না সেতো 

দাম যে আকাশে!


পাতে-তে ভাতে-তে মেখে

নাও যদি পারি খেতে-

ওগো মাছ এসো তবু বাঙালীর স্বপ্নেতে।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 অহরহ দর্শন



পৃথিবীর বুক চিরে যখন কোন নদী এগিয়ে যায়

তার ভাঙ্গা কান্না কেউ শুনতে নাহি পায়,

পৃথিবীর জনকৌশল মাখা রৌদ্র দ্বারে;

মানবের কুল রাখিয়াছে তারে,

তার ভাঙ্গা সেতারের বিহঙ্গী সুর-মায়া ভুলাইবে তাহারে। 


পরশের মায়া খেলার স্বাদ হইবে বাদ

আজি অগ্রজ পথিক হইয়া মিলিবে অবসাদ

অপছন্দের কারুকার্যে কেন আজ এত সাজ

ভুল পথে ধাবিছে প্রজন্ম পথ ভাঙ্গা পথে হেঁটে চলে নতুন সমাজ

দখলদারির মনোভাব ভারী,

আগ্রাসী ভূমিকায় তেজিয়া আসিতেছে ঐ কান্ডারী। 


কার হাত ধরিয়া জাগিবে পৃথিবী?

তেজ আর লোভে মোড়া ঐ কান্ডারীর মুখে--

কলম ছুঁড়িয়া মারিবে কোন কবি? 


বিদ্বেষী মনোভাব নিবে কাড়ি সংযম

বিনোদনের হাটে যাবে ভাসি আমার মা-বোনের শাশ্বত সম্ভ্রম।

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 শুভ রাখী পূর্ণিমা



সবারে করি আহ্বান,

এসো,

           আজ শ্রাবণী পূর্ণিমাতে এসো

              সবার হাতে, পরাই রাখী ।

            বোন বাঁধবে ভাইয়ের হাতে

              যতন করে মঙ্গল রাখী ।


জাতি - ধর্ম - বর্ণ নির্বিশেষে

  রাখী বাঁধেন কবিগুরু ।

রাখী বাঁধে আজ ও মিলেমিশে

রাম, শ্যাম, যদু, রহিম, নুরু ।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

 দান করো যত খুশি

প্রতিদান আশা কোরোনা



তুমি তো বিখ্যাত

তুমি তো মানবিক

মানবিকতা তোমার উজ্জ্বল

যারা যা বলছে বলুক--


স্রষ্টা আগেই এরকম ফরম্যাট তৈরি রেখেছিলেন

এটা ঘটেছে স্রষ্টার নির্দেশে নয়

এটা নাটকের একটা অঙ্গ


প্রত্যাশা, প্রতিদান চাইলেই

দুঃখ বাড়বে--

স্রষ্টা যেন বলছেন স্ব আছে

অধীনতা নেই! 

মানুষ আছে মানুষের জবাবি মানবিকতায় । 


না না--

জল আলো বাতাস সবই তো

 গ্রহন করেছো তুমি। 

প্রতি দানে ফেরত দিতে পারোনি কিছুই


তাতে কী? 

সবকিছুই মেনে নিতে শেখো। 


এটা ঘটছে স্রষ্টার নির্দেশেই। 

তুমি কর্মী মাত্র। 

কাজে করো--

 প্রতি দান আশা কোরোনা। 


দিনও তোমার জন্য আলাদা

কিছু ভেবে রেখেছে। 


তাকে সময় দাও। 

যত পারো দান করো

প্রতিদান আশা কোরোনা।।


কবি তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি কবিতা

 ঘর দখল



ভুলিয়ে দেয় সব

চোখের জল বিন্দু হতে হতে

আবার,

নতুন ভালোবাসার জন্ম হয়

মুখ ঘোরালেই

অপেক্ষা করে ...

এক দুইয়ের নামতা

ভালোবাসার লড়াইয়ে

তুমি জয়ী

দীর্ঘপথ ----

পথিক ঘরে ফেরে

আমরা অবাক

ঘুড়ি উড়ছে

সুতোরা যে যার লাঠাইয়ে

কেউ জানেনা কার ঘুড়ি

কার ঘর দখল করবে

তবুও উচ্চস্বরে

ভোকাট্টা ____





কবি তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

 মা


 সারারাত সেলাই করছে কাঁথা

 টুকরো-টুকরো ছেঁড়ামেঘ জুড়ে

 একটি আকাশ শুধু মমতার সুতো দিয়ে গাঁথা

 আমাদের আকাশটুকু জ্যোৎস্না ভরে থাক

 নক্ষত্রফুল ফোটাক আমাদের সর্বংসহা মা ।

Sunday, August 22, 2021

ষষ্ঠ সংখ্যার সম্পাদকীয়

 








                    সম্পাদকীয়


শুভক্ষণ রাখি পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে প্রকাশিত হয়েছে আমাদের সকলের প্রিয় পত্রিকা World Sahitya Adda। নিন্দুকেরা নিন্দা করবেন। ভাবুকেরা আরও ভাববে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে। সমালোচনা হবে, পর্যালোচনা হবে। কিন্তু লেখা নেওয়া, লেখা ছাপা এবং লেখা পড়া তথা সাহিত্য চর্চার মধ্যে একটা অটুট বন্ধন চিরকাল থাকবে। লেখার প্রতি যদি ভালোবাসা সঠিক হয় তবেই পাঠকের মন জয় করা যায়। তাই শুধু ভালো লিখলেই হবে না সেই প্রকাশিত লেখা গুলি পৌঁছে দিতে হবে সমস্ত পাঠক বন্ধুদের কাছে। পত্রিকা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পত্রিকা নিজস্ব লেখার লিংক সমস্ত পাঠক বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন। লিখুন। পড়ুন। এগিয়ে চলুক আমাদের সকলের যাত্রা।


  


  

                                           ধন্যবাদান্তে

            ‌‌ World Sahitya Adda Team

Saturday, August 21, 2021

ষষ্ঠ সংখ্যার সূচিপত্র(২৬ জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র



বাংলা কবিতা ও ছড়া---


তৈমুর খান, তীর্থঙ্কর সুমিত, সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, মায়া বিদ, সুব্রত মিত্র, স্বাগতা দাশগুপ্ত, আবদুস সালাম, মিঠুন রায়, মিলি দাস, রফিকুল রবি, রানা জামান, সুজিত রেজ, সব্যসাচী মজুমদার, সুমিতা ঘোষ, অভিজিৎ হালদার,  সুনন্দ মন্ডল

স্বপ্না বনিক, সম্রাট দে।


বাংলা গল্প--


স্বপ্না বনিক, অমিত পাল, ডঃ রমলা মুখার্জী


বাংলা গদ্য-


সুমন সাহা




বাংলা প্রবন্ধ---


রামপ্রসাদ সরকার।


বাংলা উপন্যাস---


 সুদীপ ঘোষাল।



ইংরেজি কবিতা---


Soumendra Dutta Bhowmick, Sunanda mondal.




Photography----


 Amit Pal, ARISHNA  SARKAR.