দর্শক নই
আজান হবে, ভোর হবে না!
চৌপাশ ভিড়ে যাবে।
আমি দর্শক নই—
কাফনে মোড়ানো লাশ।
-----------
শূন্যপাতা
লুকানো খামে চিঠি—
চিঠিওয়ালা হাঁকছে... আমার আঙিনায়!
প্রেরকঃ- অজ্ঞাতনামা
ভাজ ভেঙে দ্যাখি—শূন্যপাতা!
দর্শক নই
আজান হবে, ভোর হবে না!
চৌপাশ ভিড়ে যাবে।
আমি দর্শক নই—
কাফনে মোড়ানো লাশ।
-----------
শূন্যপাতা
লুকানো খামে চিঠি—
চিঠিওয়ালা হাঁকছে... আমার আঙিনায়!
প্রেরকঃ- অজ্ঞাতনামা
ভাজ ভেঙে দ্যাখি—শূন্যপাতা!
গড়ে তোল বিপ্লব
আচ্ছা, তোমরা কত টাকার নপুংসক?
তোমার মা-বাবার মুখের রক্ত ----
এই টাকার কাছে বিক্রিত নাকি?
আচ্ছা, তোমরা প্রেমে বিশ্বাস করো!
নাকি, ওটাও টাকার জোরে বেশ্যা...
তোমাদের বিপ্লবী শক্তি ক্ষীন, আমি জানি
বেকারত্বের আগুনে ওটাকে দগ্ধ করো,
দেখবে কয়লা পুড়ে ছাই হয়৷
আরে ভাই, আর সময় নেই
আমার পাশে দাঁড়াও৷ বিপ্লবী হও৷
গড়ে তোল বেকারত্বের বিরুদ্ধে বিপ্লব৷
মাটির নিচে ঘুমিয়ে
এ এক অদ্ভুত চক্রব্যুহে
জন্ম গ্রহন করলো আজই কেউ এ মুহূর্তে
যেখানে জন্ম অধিকার প্রথম থেকেই বন্ধক
রাখা আছে খিদে আর যৌনতার কাছে
অ্যামিবাও তো যৌনতা উপভোগ করেছিল
তারপর নিরন্তর যৌন যন্ত্রণা আর উপভোগ
চড়কের গাজনের মতো সঙ সেজে চলেছে।
পেন্ডুলাম হয়ে দুলে চলেছে সুখ আর দুঃখ
নিরবিচ্ছিন্ন তৃপ্তিহীন আকাঙ্ক্ষা মন্থন করে চলেছে সময়
নির্বিষ করে দিয়ে যাচ্ছে অস্তিত্বের অহংকার
ধর্ম আর বর্ণ নিয়ে হোলি খেলে চলেছে মোড়লেরা
শত যুদ্ধ পাড় করে এসেও যুদ্ধের ষাঁড় পুষে পাঞ্জা লড়ে চলেছে
অশ্রু আর রক্তের আলপনা আঁকছে আহাম্মক যত
সূর্য তাপে প্রাণ শিশির বাস্প হয়ে চলেছে শূন্যতায়
মাটির নিচে ঘুমিয়ে কত যুদ্ধবাজ আর ধর্ম যাজক।
জুজু আছে চুপ
জানো কি মনে হয়,মনে হয় কিছু কবিতা
ভীষণ জোড়ে পড়তে।
যতটা জোড়ে পড়লে
পৌঁছে যাবে সরকারের কানে।
ঐ অবুঝ রাজনৈতিক দলের কাছে,পৌঁছে যাবে রাষ্ট্র পুঞ্জে,
পৌঁছে যাবে প্রধান মন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মালিকের কাছে।
কিছু কবিতা আরো জোড়ে
পড়তে ইচ্ছে করে,কিন্তু ওই যে-
আমরা জুজু দেখলে ভয় পাই কিনা,
আত্মসম্মান বোধ কে মর্যাদা দিতে শিখেছি কিনা,
মেয়ে মানুষ বলে লজ্জাবোধটুকুন রক্ষা করতে হয় কিনা,
আমরা জন্ম থেকে ধর্ষণ কে ভয় পেয়ে এসেছি
ক্যারাতে জানলেও দুর্বল স্থানগুলো এ শরীরেই আছে !
মাংস পিন্ড আজও নরখাদকদের বড্ড প্রিয় ।
তাই চুপ করে আস্তে আস্তে নির্জনে সেসব কবিতা লিখে যেতে হয়।
যদি ভাবো কোন প্রকাশনা সংস্থা সেগুলো ছাপবে তবে তুমি ভুল ,
জীবন দশা তে কারো হাতে পড়লে
হয় তুমি হবে বিতর্কিত ,
নয়তো তোমাকে তাড়ানো হবে দেশ থেকে,
প্রাণ হাতে নিয়ে তোমাকে বেরোতে হবে রাস্তায়,
হতে পারে তোমাকে মরতে হলো গুলিবিদ্ধ হয়ে,
হতে পারে তোমাকে ধর্ষিত হতে হলো
উচ্চ পদস্থ নামজাদা বুদ্ধিজীবিদের দ্বারা ,
নয়তো বা তোমার চোখে গোলাপ কাঁটা বিঁধে অন্ধ করে রাখা হল।
তাইতো নীরবে লিখে যেতে হয়
সেই সব কবিতা
জোড়ে পড়তে নেই,জোড়ে বলতে নেই
চুপ, চুপ, চুপ করো, আস্তে কথা বলো
ওই যে ওখানে জুজু আছে,চুপ।
তুমি আসবে বলে
একগুচ্ছ গোলাপ এখনও সাজিয়ে রেখেছি,
তোমার দুহাতে বেশ মানাবে।
তুমি আসবে বলেই
নিজেকে সেই পুরোনো সাজেই সাজিয়েছি।
আজ ও মনে পড়ে, তুমি বলতে
"লাল পাড় শাড়িটা পড়তে ভুলো না যেন"
তাই তোমার পছন্দের লাল শাড়িটা পড়েছি।
তুমি বলতে,
তোমার ওই কাজলটানা দুচোখ, কপালে ছোটো একটা টিপ আর খোলা চুলে তোমাকে অপূর্ব লাগে।
নিজেকে সাজিয়ে তুলেছি তোমার মনের মত করে।
তুমি আসবে বলে,
সূর্য ও নিজেকে রক্তিম আমায় তুলেছে
আকাশে নীড়হারা পাখির ঝাঁক,
সবুজের কোলে মেঘের অনাবিল একাত্মতা।
তোমাকে কাছে পাওয়ার এক শৈল্পিক সাজ।
পুরানো সেই রাজপথ
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আহ্বান
শুধুই তুমি আসবে বলে।
রোমন্থনের সাথী
এখন--
উদাসীন হাওয়ায় ---
বৃষ্টি ভাঙছে টুকরোয়,কণায়
আবছা ধোঁয়ার নির্লজ্জ ছায়া
বারান্দার রেলিং ঘেঁষে উচ্ছ্বল অতীত
সদ্য প্রাক্তন কিছু মুহূর্ত !
এখনো --
রেশ রয়ে গেছে সফরের
অতীত টাটকা হয়ে মালতীলতা
তোমার নমনীয় প্রসাধন
আমার বুকের বাতাসে ঘোড়দৌড়
হাঁপ ধরে যাওয়া চারণ!
তখন --
প্রগলভ মুহূর্ত গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে
নদীর পাড় কাঁপছে, --- ভাঙছিলো
দেয়াল খসে পড়লো মনের,
বাঁধভাঙা বন্যার তোড়ে ভেসে যায়,
আমার তোমার আবরণগুলো!
এখন শুধুই বৃষ্টি ভাঙছে রোমন্থনের।
ঘরে ফেরার গান
বছর ঘুরে বছর এলো আবার,
বাতাসে ভাসে নব জীবনের সুর...
বিপন্ন সময়! বিস্ময় ঢেউ খেলে রক্তে;
প্রতিবাদী মানুষ সোচ্চার হয়ে ওঠে।
দিগন্তের রক্তিম সূর্য সুচারু
বিদ্ধ হলো মনোময় সত্তায়,
হৃদয় আকাঙ্ক্ষা-উদ্বেলিত
হলো সংগ্রাম-প্রতিজ্ঞায়।
এবার ঘরে ফেরার ডাক,
সৃজন লিখে যায় জীবনের পদ্য...
দুরের গাছগুলোতে পাখিরা
আবার গাইছে নতুন দিনের গান...
আরেকটা স্বপ্ন,সুখের অসুখ সারিয়ে
মানুষ ফিরছে অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে;
প্রজন্মের বাগানে ফোটে বিপ্লবের ফুল,
ঘরে ফেরার গান গাইছে প্রতিবাদী মানুষ।
আবহাওয়া দপ্তর
ওয়েদার ফোরকাস্টে শুনলাম তোর আসার কথা
বর্ষার মতো এক সম্ভবনার তত্ত্ব
আমার চারপাশে বসন্ত নয়
পায়ের নীচে পুড়তে পুড়তে গলে যাওয়া রাস্তা
জ্বলছে সূর্য, তবু তুই আসলে ওয়েসিস হয়
তোর পায়ের আওয়াজে বর্ষার মতো অনিশ্চয়তা
লুকনো আছে আমার ভেতর ল্যান্ডমাইনেরা
আবার যদি শুরু হয়ে যায় মুক্তি যুদ্ধ
সাবধান! মুশকিল হয়ে যাবে ফেরা।
একটি সরলতম নয়ন
কঠিন করে ভাবি
দেখি , সহজতর দিনগুলি
নদীর কিনারে ঢেউর মতো করে ভাসছে
আকাশের উত্তর কোণে
আমাকে আরও কঠিন হতে হবে ,
একটা নিরন্ন ছবি ফুটে উঠছে
এখানে পথ দূরুহ বটে
কিন্ত আমার বেদনার ভার
নিয়ে এক পশলা বৃষ্টি ধেয়ে আসছে
খুব কঠিন করে বিস্তর
বুকের নিনাদ ফুঁড়ে তখন একটি
সরলতম নয়ন আমাকে ডাকছে
যেওনা চলে
কতদিন পরে তুমি এলে
তুমি তো কথা দিয়েছিলে
চাঁপা যখন গন্ধ ছড়াবে
জুঁই বেলেরা হাসবে যবে।
আসবে তুমি পায়ে পায়ে
বইবে বাতাস পূবালী বায়ে
শাওন ভেজা বৃষ্টি রাতে
রজনী আনবে রাঙ্গা হাতে।
বাজবে বুকে স্মৃতির মাদল
বইবে হাওয়া ঝড় বাদল,
জ্যোৎস্না রাতে নাইবা এলে
কাঁদিয়ে আমায় কিবা পেলে?
কতকাল পরে এলে
এলে যদি যেওনা চলে,
নীল স্বপ্নের ঘুম ঘোরে
স্মৃতির আঙিনা দাও গো ভরে।
কবর
কবরের নীচে মৃতদেহ
সোয়ানো রয়েছে কত না দেহ;
সারি সারি কত না জন
দিন দিন হয়েছে মলিন।
বাঁশ বাগানের সেই না দিন
রয়েছে কত না মিল
শুষ্ক প্রান্ত হয়েছে শান্ত
মরুভূমি কত না ক্লান্ত।
জলহীন কত যে দিন
হঠাৎ কোনো একদিন,
মরুভূমির মতো এসেছে
কোনো এক জন।
সন্ধ্যা রাত্রে বন্যার কান্না
কবরের সারি সারি বন্যা
হারানো কত যে দিন
কবরের নীচে সেই যে দিন।
যা বলার ছিল
আমার চিতার পাশে রেখোনা কোন ফুল
ঐ ফুল তো জ্বালা দেবে ,
তোমার বুকের সঞ্চিত ভালোবাসা
হয়ত আবার কেড়ে নেবে ।
আমি নিষ্প্রাণ স্মৃতি হব , অমানবিক কল্পনা ;
করে যদি স্মৃতির ঘরে বসবাস পাবে কেবল যন্ত্রণা ।
এত খেলাধূলা ; এত মোহ মায়া ; সব ,সব ভুলে যেও
নিজেরে করিও যতন ,
স্বাস্থ্যটা পরে গেলে দেখবে না কেহ ।
আমার ব্যর্থতার ইতিহাস কবে হবে পরিহাস
সেই ভয় আজ পাই ,
তুমি খোলা মনে করনা ব্যক্ত আমার জীবনের বক্তব্য ,
কতবার ব্যর্থ হয়েছি হবে উপহাস
কল্পনার অতীত লিখবে ভবিতব্য ।
এতদিনের যৌথ প্রয়াস , যৌথ আশ্বাস ,
যৌথ স্বপ্ন দেখা , যৌথ আজীবন,,,
হ্যা গো প্রিয়া ,,
ওরা যদি তোমায় কোনদিন করে অপমান
এসো মোর কাছে
ভরসার বিশ্বাসে ধরিও মোর চরণ ।
ডাইরির পাতা
কবে থেকেই ভাবছি খুলি ডাইরির পাতা
সময়টা হয়ে ওঠে না
কত স্মৃতি কত সুখ জেগে আছে শত মুখ
চেনা যেন হয় অচেনা।!
আজ সেটা খুলে দেখি কী যেন আছে একি
মিথ্যে যত লেনাদেনা
কত লেখা কত চিঠি আঁখি তোলে শত গীতি
ছোট বড় নানা যন্ত্রনা ।
ডাইরির পাতাগুলো হয়েছেও বেশ কালো
আছে প'ড়ে মুখ গুঁজে
মোর হাতের পরশে হঠাৎ বেশ হরষে
( বলে)-- কার এত খোঁজে?
কত স্মৃতি কত গন্ধ সুর তাল আর ছন্দ
লেখা আছে সে পাতাতে
দেখে কোথা যে লুকোই মনে হয় সব চুকোই
চলে যাই অজানা কোন্ প্রান্তে!
চলে গেছে প্রেম প্রীতি আত্মীয় সুজন বীথি
কোথা গেলে পাবো দেখা
ডাইরির পাতাগুলো যেন বলে হয়ে নুলো
বেশ তো আছো একা একা!