Sunday, September 19, 2021

কবি ইমরান শাহ্ -এর একটি কবিতা

 কমলিনী বলছি... 




এই একুশ শতকের আধুনিকায়নের বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দাড়িয়ে 

আমি কমলিনী আপনাদের বলছি...

একটি সাম্প্রদায়িক প্রেমের আখ্যান ;যেখানে হৃদয়ের,

মানবতার কোন মূল্য নেই।


আপনাদের কাছে প্রশ্ন, আধুনিক পৃথিবীতে আজও

কিসের ধর্মান্ধতা, কিসের বিভাজন 

দেশ -মানুষের মাঝে কেন এত বিভেদ? 

আছে এসবের কোন উত্তর! 


ভালোবাসার কোন ধর্ম-বর্ণ হয় না 

শুধু মানুষ হতে হয়।

ভালোবাসলে হতে হয় দুটি সত্ত্বাকে সমুদ্র

অথবা আকাশের মত উদার। 


তেমনি আমি, না ভুল বললাম, আমরা

ভালোবেসেছি মনুষ্য তৈরি দু'টি 

ভিন্ন দেশ, ধর্মে জন্ম নেওয়া মানবতাপ্রেমী

ধর্ম-বর্ণহীন প্রেমীয় অন্তর। 


আপনারা জানেন,

কবিতা আমাদের জীবনের প্রথম প্রেমের নাম

দু'জন দু'জনার পরিচয় কবিতায়,

আর কবিতাকে কণ্ঠে ধারণ করতাম বরাবর 

সংসার যাপনের মত করে।


আমরা কখনো জানতে চাইনি একে অপরের

দেশ-জাতপাত উঁচুনিচুর কথা

কাব্যিকতার মোহনায় কখন যে মিশে গেছি

বিশ্বাস করুন; বুঝতে পারিনি।


আজ যখন জানতে পারলো সমাজ পরিবার

আমাদের স্বর্গীয় প্রেমের কথা

টেনে আনলেন সবাই সমাবেত হয়ে ধর্মকে;

এঁকে দিলেন অনুশাসনের সীমারেখা। 


অথচ এই সমাজ, পরিবার প্রতিদিন লক্ষকোটি 

কন্যার দায়মুক্তির প্রার্থনা করেন

মাথা ঠোকেন ধর্ম নামক পাথুরে দেয়ালে

তোমরা বাহবা পাওয়ার যোগ্য।


মধ্য এশিয়ার সমস্ত চন্দ্র, গ্রহ, তারা

সবাই জানে আমাদের কথা 

কারো আপত্তি না থাকলেও আপত্তি আছে

দুটি দেশের, দুটি ধর্মের।




কথা বলুন,

মানবতা, ধর্মাবতার আপনারা সবাই চুপ কেন? 

কোথায় গেল মুখের বুলি

বলুন, আমরা ভালোবেসে কি দোষ করেছি ?

চুপ থাকবেন না আপনারা। 


আমি মানি না সেই প্রথা, বিশ্বাসকে

যা মানুষকে আলাদা করে

মানুষের কাছ থেকে, দেয়াল তোলে বন্ধনে

ধিক্ এমন হীনমন্য বর্বরতাকে।


আমি কোন বিশেষ শ্রেণি, ধর্ম, প্রথার

বলি হতে চাই না

স্বাধীকার চাই, চাই ভালোবাসার নিশ্চিত অধিকার 

শুধু মানুষ হতে চাই।


আপনাদের বলছি, ধর্ম প্রণেতাগণ অহিংসার 

কথা 

বলে যান অকপটে জনে-জনে

প্রয়োজনে টুটি চাপুন স্বার্থাঘাত হলে; না'হয় আপনাদের লোকে মানবে কেন?


আপনাদের লজ্জা করে না ? আপনারা অকপটে 

সাম্যের নিঃস্বার্থের কথা বলেন! 

অসাম্প্রদায়িক বলেন নিজেদের, কোথায় থাকে তখন 

এসব ধর্ম-জাতকুলের বেষ্টনী?


বিশ্ব মানবাধিকার,

আপনি যে সমান অধিকার দিয়েছেন বিশ্বমানবতায়

তা লঙ্ঘিত হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে

আপনার বসবাস বই-পত্রের ভাঁজে ভাঁজে

সর্বত্র অমানবিক আস্ফালন বিস্তৃত। 



আজ যে মৌলবী, পুরোহিত সমস্বরে বলছেন জাত গেল, জাত গেল;

সেদিন কোথায় ছিল আপনাদের কট্টর মনোভাব 

যেদিন একসাথে গেয়েছিলাম জাতীয়সঙ্গীত।


আজ দোহাই দিচ্ছেন পিতামহের পালনকৃত তথাকথিত 

মনুষ্য সৃষ্ট কিছু নিয়ামবলীর

বার বার বলছেন, এসব চলবে না।

এ পাপ এ অন্যায়।


আমরা সেদিন দক্ষিণেশ্বর সদাজাগ্রৎ চক্ষুযুগলের সামনে 

বিয়ে করেছিলাম স্বকীয়- ইচ্ছায়।

বিশ্বাস করুন, প্রসাদে, ফুলেল অর্ঘ্যে আমরা

কোন ধর্ম খুঁজে পাইনি।


সেদিন একটি চায়েরভাঁড়ে চুমুক দিয়েছিলাম অবলীলায় 

আমার বা তার একবারও 

মনে হয়নি সে অন্য ধর্মের, অন্য দেশের

তারচোখে শুধু প্রেম দেখেছি। 


জানেন আপনারা, 

সে আমায় ঠাকুর কিনে দিয়েছিল সেদিন

শ্যামবাজার এসে কানে কানে

আমায় রুদ্র, হেলাল হাফিজ, নজরুল শুনিয়েছিলো 

বলেছিল তুমি আমার রাজলক্ষ্মী।



আজ আমার ঘর থেকে আমায় বলছে,

কুলোটা, চরিত্রহীনা, আরো কতো_কি

মেয়েটা জাত মেরেছে, মুখে চুনকালি দিয়েছে 

লাজ শরমের মাথা খেয়েছে। 


ধীরে ধীরে বলবে গোটাদেশ। এই ফিসফাস

চলতেই থাকবে দিক-দিগান্তর    

পুজা মন্ডপে, অন্নপ্রাশনে, বিয়েবাড়িতে শুধু আমায়

নিয়েই আলোচনা চলবে বহুকাল।


তারপর একদিন স্বীকৃতি মিলবে আমাদের এই...

নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আলোকরশ্মি বিশ্বচরাচর

না'হয় আরেকটি হিরোশিমা সংঘটিত হবে আরেকবার

তবু এ'বাধন ছিড়বে না।


আপনাদের কাছে অনুরোধ ; আপনারা বিশাল করুন 

আপনাদের গোড়ামীর কঠিন হৃদয়কে

মনুষত্যের পরাজয় সন্নিবেশিত হবে, কড়া নাড়বে 

সম্প্রদায় নামক কট্টর দরজায়।

 


আমি কমলিনী, আমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড 

বিশ্বমোড়ল আপনাদের কাছে নালিশ

আপনারা দেখুন, সবার উপরে 

আজও মানুষ সত্য হয়নি!

কবি নবকুমার -এর একটি কবিতা

 আনন্দ,কোথায় আছিস ? 



বন্ধু,আনন্দ এলো না?

কোথায় গেল আনন্দ ?

সে কী হাসপাতালের শয্যায় 

করোনায় ধুঁকছে ?


প্রকৃতির পরিক্রমায় শিউলি -

কাশ ফুটেছে ,দোলাচ্ছে মাথা

শরত বাতাসে,শিউলি ঝরে পড়েছে

গাছতলা আলো করে

কিন্তু সে সু-ঘ্রাণ কোথায় গেল ?

সে কী আনন্দ নেই বলে !


লোকাল ট্রেনের হকাররা ধূপবাতি বিক্রি করছে দুয়ারে দুয়ারে 

আর বাবুদেরকে জিজ্ঞেস করছে--

বাবু,লোকাল ট্রেন খুলবে কবে ?

বাবু ব্যাজার মুখে উত্তর দিচ্ছেন-

জানিনা ,যত্তসব---


ঢাক বাজছে প্যান্ডেলে -প্যান্ডেলে 

তবু সব যেন ম্লান -বড় ফাঁকা --

আনন্দ,এখনো শোভা পাচ্ছে 

মায়ের বেদিতে তোর আল্পনা আঁকা ।

কবি বন‍্যা গুপ্ত -এর একটি কবিতা

 দেহদান প্রাপ্তির আর এক নাম

 



রাতের তারারা আজ পরীদের

সাথে আলাপচারিতায় ব‍্যস্ত।

মায়াবী পূর্নিমা চকোরির হাতছানি

কস্তুরির ঘ্রাণে দিক্ -শূণ‍্য মৃগ

ছুটে যায় দিগন্তের পথে।


বৈচিত্র্যময় জীবনের

কত কাহিনীর চিত্রনাট্য 

পথের খাঁজে খাঁজে..

নীরবতার আচ্ছাদনে পড়ে

থাকে একান্তে..

প্রত্নতাত্ত্বিকের খননে

তার ভাষা উদ্ধার হয় না।


শৈশবের রঙিন প্রজাপতির দিন ;

কৈশোরে চাঁদের রাজ‍্যে ঘোড়সওয়ার ;

যৌবনে প্রেমের আলোয় ঘরকন‍্যা।

বাস্তব! কংক্রিটের মত নিরস...সম্পর্কের

প্রতি গ্রন্থিতে স্বার্থপরতার ধোঁয়া।


তবু, মায়াময় পৃথিবীর প্রতি 

তৃণ আমাকে দু হাত দিয়ে

জড়িয়ে ধরে.. প্রতিটি মহীরূহ

শিকড় বিছায়ে আকঁড়ে আছে

 স্মৃতির শিকল, ভালোবাসার 

স্নেহের বন্ধন অবিচ্ছেদ‍্য।


অনেক পাওয়ার মাঝে,কোথায়

যেন না পাওয়ার হিসাবের খাতাটা

খালি প'রে থাকল দীর্ঘশ্বাসের ঘরে।

 কর্তব্যের লম্বা মাইলস্টোন পেরিয়ে

 অবশেষে...

জীবনে শেষযাত্রার লগ্ন এলো।

.

মুক্তি ! খোলা আকাশে

বন্ধন ছিঁড়ে এগিয়ে চলা।

কান্নাভেজা পথ পেরিয়ে ...দূরে দূরান্তে

রেখে গেলাম কিছু আত্মীয়তার

সেতু....স্মৃতির কিছু ঝিলিক

কালের নিয়মে মুছে যাবে একদিন।


চোখ দুটৌ রেখে গেলাম 

চোখ দুটো আজও নূতনকে দেখে

তৃপ্ত হয়....কত স্বপ্ন চোখের মধ‍্যে

সাঁতার দেয় নোনা জলে।

নতুন মানুষের দৃষ্টিতে চোখ

আবার স্বপ্ন খুঁজবে অহরহ।


হৃদয়টা রেখে গেলাম..

ব‍্যথায় অভিমানে ভারাক্লান্ত ছিল।

কারোর হৃদয়ে প্রতিস্হাপিত হয়ে

সুখের সাগরে ভেসে মোহনায়

মিলিত হবে খুশির স্রোতে।


 প্রতিটি অঙ্গে আমার স্বপ্ন

বহু মানুষের মাঝে রয়ে গেলাম।

জন্মান্তর বিধাতার লিখন নয়

আমার দানের স্বেচ্ছাপত্র!

 নতুন জীবনের অনুপ্রবেশ।



নতুন প্রভাতের প্রভাতফেরির 

কুচকাওয়াজ বিউগলের ধ্বনি

আবার সেই পাখির কলকাকলি...

কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি?"

কবি মুহাম্মদ বায়েজিদ আলী -এর একটি কবিতা

 ক্ষোভ!



ক্ষোভ!

হস্ত উল্টানো হামার বেলা নেই।

উদাস কেন নিজ?

অন্যের তরে উল্টালাম কতই-বা আর—

পাতিলাম যত।

কবি অমিত পাল -এর একটি কবিতা

 সাধারণ মানুষ

               


বলি, আমি বামপন্থী নই---

নইকো আমি কংগ্রেসী।

আরে, আমি কোনো রাজনীতিবিদ নই

আমি মানুষ। জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া এক নাবিক।


অন্যায় দেখি প্রতিদিন

কিন্তু প্রতিবাদে ভয় পাই,

পা বাড়াই গোপন পথে।

শুধু একার দ্বারা জয় সম্ভব নয়।

আমি চাকুরিহীন সাধারণ মানুষ,

নই কোনো অভিলাষী মন্ত্রী।

কবি উদয়ন চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

 জানি কিন্তু জানিনা 



নিজের কোথায় কোথায় দরজা বন্ধ 

করে রেখেছি কিছুইতে বলি না কাউকে 

সমস্ত শরীর বেয়ে নেবে যায় সরীসৃপ নিশ্বাস

ক্যাকটাসের নিজস্ব প্রতিরোধ দক্ষতায় শরীর 

সঞ্চয় করে নিজের চবুতরায় নিশ্চুপে আড়াল।

হাসি টা ধরে রেখেছি বিচার ব্যাবস্থায় চোখ বেধে 

রাখা দাড়ি পাল্লার মানবীর মতো নিথর নির্বাক

তবুও এখনো প্রজাপ্রতির সাথে সখ্য রেখে চলেছে 

কেউ কেউ তাই সূর্যাস্ত স্বার্থহীন অপেক্ষায় থাকে

এগিয়ে দিতে আর একটা দিনের আনন্দ ঢেউ 

শুকতারা মিটিমিটি হাসে সখ্য হীন সহবাসে 

আছি তাই এত কথা এত হাহুতাশ জ্বলন্ত আক্ষেপ 

জানি কিন্তু জানিনা অনন্তকাল থাকবো না কেউ।

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 একটি কবিতা লিখবো বলে




একটা কবিতা লিখবো বলে নিঝুম রাতে আকাশের বুকে আলপনা আঁকলাম,

লিখতে পারলাম না।

মাটিতে ছড়ানো শিউলিগুলো তুলে

অন্ধকারে ঝর্ণার দিকে ছুঁড়ে দিলাম,

একটি কবিতা লিখবো বলে সংযমী থেকে

না ছুঁয়ে সর্বাঙ্গে জলের ধারা ছিটিয়ে দিয়েছি,কত প্রতিঘাত এসে ধুয়ে দিয়েছে আমায়,শিল্পরূপে কত সন্ধ্যেরা মেঘ এনে দিয়েছে আমার আঁচলে,

সমুদ্রের মত বিস্তারিত হয়ে আমার মন কতবার ছুটে গেছে সেই ভগ্নস্তূপের সামনে

আমার ঠোঁটের উপর থাকা রুদ্ধ শব্দের পাপড়িরা প্রাণপনে গাঁথতে চেয়েছে মালা

তবুও কবিতা লিখতে পারিনি।

সবে লিখতে গেছি, একটি মূর্তির স্বর্গীয় মুখ আমার সাথে বসবাস করতে চাইছে

তখনই ভেবেছি এই-সে, যার অলীক যোজন দূরত্বের জন্যই কবিতা লিখতে পারিনি।

আজ লিখবো।

মুখচ্ছবি ভাঙছে গড়ছে বিপাশা শতদ্রুর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে কিন্তু হৃদপিন্ড জেগে উঠে একটি কবিতা কিছুতেই লিখতে পারছি না।

কে যেন আমায় চিৎকার করে বলছে কি কবিতা লিখতে চাও কবি?

বললাম একটি ভালোবাসার কবিতা।

সমস্ত ব্যর্থতার ধ্বংস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে

সীমাহীন আকাশের দিকে চেয়ে রইলাম

কি কবিতা লিখবো আমি ?

কি কবিতা?

ছোট্ট শিশুগুলি সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠলো

ভালোবাসার কবিতা

কবি একটি ভালোবাসার কবিতা লেখো।

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 শরৎ মানে দুর্গা পুজো



বর্ষা রানী বিদায় নিল

   ভূমি সরস করে ।

শরৎ ঋতু বিরাজ করে

     নীল আকাশ জুড়ে।


পেঁজা-পেঁজা তুলোর মতো

  সাদা মেঘের রাশি।

যেথায় দাঁড়ায় সেথায় ঝরায়

         মুক্ত মনের হাসি।


শরৎ এলে কাশের সারি

  শুধুই মাথা নাড়ে।

শিউলিগুলি সাত সকালে

           গাছের তলে ঝড়ে।


শরৎ আনে জীমূতবাহন , বিশ্বকর্মা

        বোধন আর মহলয়া।

কৈলাস থেকে পাই আভাস

আসছেন মহাদেবের জায়া ।


হিসাব - নিকাশ কড়ায় - গন্ডায়

   দুইটি মাসের নিদান।

শারদা মায়ের ছুটির মেয়াদ

     চারটি দিনের বিধান।


শরৎ ঋতু নেশা জাগায়

    বাঙালির মনে - প্রাণে।

আলোক সজ্জায় সাজেন দশভূজা

        একটি বৎসর গুণে।


শরৎ তুমি মিষ্টি ভারী

   নানান গুণে ভরা।

শুভ্র আকাশ মলয় বাতাস

     ধন্য আজি ধরা।

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 কথা



কথার সুতোয় সেতু বেঁধে 

এগিয়ে যায় গুটিগুটি পায়ে 

ভালবাসা সিক্ততায়-

         সবুজ ঘাসের মাঠে! 

কথার সারণী বেয়ে নেমে আসে 

অনেক প্রাণের ঢল, মধ্যরাতে 

রাত পোহাতে --জাগরণী গানে! 

কথার পিঠোপিঠি রোজ 

নতুন শব্দবন্ধ মিছিলের মতো

স্লোগান তোলে --'জীবন জিন্দাবাদ'। 

তাই কথা শেষ হয় না, 

কিংবা শেষকথা হয় না-

শেষের কথার আগে।

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 স্বাধীনতার জন্মদিনে




স্বাধীনতা মানে প্রতিবাদ প্রতিরোধে পথচলা

স্বাধীনতা মানে অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা

স্বাধীনতা মানে মাথা উঁচু,লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া

স্বাধীনতা মানে খেয়ে পরে পরম তৃপ্তি পাওয়া।


স্বাধীনতা মানে মিটিং মিছিল স্লোগান অঘোষিত

স্বাধীনতা মানে পরাধীনতা থেকে মুক্তি অবারিত,

স্বাধীনতা মানে একুশের ভাষা,একুশের মুক্তিপথ

স্বাধীনতা মানে প্রেমের ওষুধে সারবে হৃদয়-ক্ষত।


স্বাধীনতা আসে স্বাধীনতা যায় হয় মেঘ-বৃষ্টির গান

স্বাধীনতা মানে স্বাধীন কৃষক,জমিতে সোনার ধান...

স্বাধীনতা আসে স্বাধীনতা যায় তবুও ফোটে যে ফুল

স্বাধীনতা মানে ফিরে এসো ঘরে করো না আর ভুল।


স্বাধীনতা মানে নতুন প্রভাতে নীলিমায় লাল সূর্য

স্বাধীনতা মানে সবুজ দিগন্ত শোভে বিজয় রণতূর্য,

স্বাধীনতা এসে ফিরে গেলেও ভালোবাসা বেচেঁ থাকে

শুভ জন্মদিনে সবাই হৃদয়ে সুখ শান্তির ছবি আঁকে। 

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 চেনা শহর



আমার চেনা ছোট্ট সেই শহর

ঝোড়ো হাওয়া যার রক্ত মুছে দেয়

পুরনো গন্ধ লেগে আছে রংধনুতেও

বিধিমতো ভয় দুজনেরই গলার শব্দ কেড়ে নেয়

আজ ও রংধনু ওঠে

চোখে পড়ে যায় ল্যম্পপোস্টের নীচে ছায়া কালো

আমার চেনা ঝোপ আজ জঙ্গল হয়েছে

ঝড়ের হাওয়ারা ঘুরে যায়

কাঁপা কাঁপা শিখা নিয়ে মোমবাতি জ্বলে একটা আরও।

কবি তাপস মাইতি -এর একটি কবিতা

 দীর্ঘ অতিক্রমণের যাত্রা

             


নীলের ভেতরে একটি নিরন্নমুখ 

কম্পিত ভাবে চেয়ে আছে 

সাদা সাদা দুঃখ, মেঘের সমান প্রায় 

সামান্য আহত খেয়ে ওই জীবন 

যাকে স্মরণ করতে চেয়েছে -----  

                                        সে বজ্র । 


পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে 

সেই দিনটির কথা, 

তখন অন্ধকার একা 

জ্যোৎস্না -- গহ্বরের আলো চুরি করে 

রক্তাক্ত করেছে সমস্ত আশা ,

রামধনুসুখ দেখেও বলতে পারে নি 

এই দৃষ্টি কেন চিরন্তন নয় ?


মনে পড়ে কেবল দীর্ঘ অতিক্রমণের যাত্রা ।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 আমি কবি নই



আমি নই কবি;

আমি হই একজন অ-কবি,

আমি নই এ যুগের কবি

আমি হই একজন হুজুকের কবি।


আমার ভেতরে নেই কবিতার ব্যাকরণ

তবুও এই গাধার মতো সাদা মাথায় লিখে চলি অকারণ;

অনেক কারণের কথা লিখতে আছে বারণ,

তবু সেকথা লিখে ফেলি যথা সেথা

মোটা মাথার পাগলা কলম অবাধ পথে করে গমন।


সুরের তালে তারা ছুটে চলে বহুদূর

রাশি রাশি মেঘ মাঠের 'পরে আঁধার ঘনায়ে আনে

মনে ভরা সুর প্রাণ মাঝি ধরে গান সমুদ্র অদূর,

এই সকল প্রকৃতির মায়ার ছবি আমারে বানায় কবি

আছে কবি হওয়ার পিছনে আরও কত কারণ

আছে ঘুমেদের দেশে ভেসে আসা আরও কত কল্পনার সম্ভাষণ।


আমি কবি নই

তবু কবিতায় পাগল হই;

এক লহময় পৃথিবীর কাছে কবিতায় শান্তির বার্তা পৌঁছাই,

কবিতা লিখতে গিয়ে হয়েছে আমার শত্রু অনেক

কবিতা লিখতে গিয়ে করেছি পরখ আছে কার কত বিবেক।


কবিদের মাঝেও দেখেছি কত হিংসা

কবিদের মাঝেও দেখেছি কত ল্যাং মারামারি

কবিরাও বেশ পটু সাজতে বেঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমী।


আমি তাই কবি নই,

আমি কবিতায় মনের দুঃখ আর সুখের বাসর সাজাই।

আমি কবি না হয়েও পেয়েছি অজস্র সম্মান

আমি কবিতায়ই পেয়েছি অনেক অপমান,

কবিতায় দেখেছি আমি প্রাণের সংশয়

আমি কবিতায়ই দেখেছি মানবের সমন্বয়।


ভৈববের সুতোয় নিজেরে কোন পরিচয় দেব?

জঞ্জাল জীবনের কিছু কথা তাই কবিতায় লিখে যাবো।

কবি নই তবু কবিতার ছায়ায় গড়ে ওঠে মায়া

হয়তোবা একদিন কবিতার কোলে মাথা রেখে নেবে না বিদায় এই জীবন কায়া।