Monday, October 25, 2021

কবি রোকেয়া ইসলাম -এর একটি কবিতা

 অনন্ত ঘুম 

 


ভাদ্রের উতপ্ত দিনটাকেই বেছে নিলাম

দীর্ঘ শীতল ঘুমের জন্য 

সূর্যের আলো যতই প্রগাঢ় হোক

আজ আমি ঘুমুতে চাই 

টেবিলে প্রাতঃরাশে আড়ি

চেনা প্লেট গ্লাস যতই ডাকুক 

তবুওউঠব না আজ

এলার্মে ধুলো জেগে ওঠার স্পর্শ ছুটিতে

দুচোখের পাতায় অনেক ভার-বাড়াবাড়ি




হুইসেল বেজে যায় নীল অনল

কেতলিতে আটপৌরে জল 

থরে থরে সাজানো কাপ পিরিচ

অদম্য নিবির ঘুমে বিভোর

সুগন্ধি সাথে নিয়ে গোলাপ ফুটুক কি ঝরে পরুক 

তাতে কি আসে যায়

প্রস্ফুটিত মর্নিং গ্লোরী রোদের তাপে

গুটিয়ে নিক লাবণ্য সূধা

বড্ড ঘুম পায়




জল জোছনায় এক ঘর যাপন ষড়ঋতু খতিয়ান

কে যেন একজন ডেকেছিল দূরে সবুজের আহবানে 

সব রইলো পেছনে পড়ে

আজ আমি ঘুমাবো ঘুমাবো শুধুই ঘুমাব

অপার শান্তিতে মাটির বিছানা নিশ্চুপ 

মনে রাখার তাগিদ নিয়ে 

নিপাট ঘর দোর লেখার কাগজ কলম আর ফুলেল ছাদ বাগান



বাজুক সেলফোন কলিং বেল বা হাত ফসকে ভাঙা কাঁচের গ্লাস

ঘুমের কোন বিঘ্ন হবে না তাতে

এমন নিচ্চিত ঘুম বহুদিন আসেনি 

দুচোখের পাতা জুড়ে 

রোদ মেঘ ফুল পাখিদের গল্প মায়াময়

বুক থেকে বেরিয়ে যায় দীর্ঘশ্বাস নিরব নিশ্বাস।

কবি মিতা দাস পুরকায়স্থ -এর একটি কবিতা

 মন



চঞ্চল মন উতলা হয়েও

শতরূপা

চঞ্চল মন আবেশে ডুবেও

ক্ষণজন্মা,

চঞ্চল মন পূর্ণাঙ্গ চাঁদের রাতেও

চাঁদপুর খোঁজে

চঞ্চল মন ঘোর তমসা রাতদুপুরে 

জোছনা চাখে,

চঞ্চল মন বিবেক হাতড়ায় পুব দুয়ারে

মাঝারি তপস্যায়

চঞ্চল চোখ পৃথিবীতেই স্বর্গের দ্বারে,

ঊর্ধ্বগামী হাওয়ায়।

চঞ্চলচোখ তীব্রতম আলো ঝলকানিতেও

আঁধার ডেকে আনে

দীপান্বিতায় দশমি আর পিঠে-পুলি নবান্ন

পাতাঝরার দিনে।

কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

 প্ররোচনা




একটি ঝাপসা প্রতিচ্ছবির সামনে দাঁড়িয়েছি

ওই ছবি ঘিরে জেগে ওঠে সর্পিল ভাবনা মুহূর্তে... 


মেঘহীন আকাশে কেঁদে বেড়ায় ময়নাবতী,

অসম্পূর্ণ মোহ ঘিরে-ঘিরে আসে নিদ্রা জুড়ে,

রাঙা ডালিমের মতো হৃদয় ফেটে হল চৌচির।


জীবন জুড়ে বিস্তৃত মনমাঝি 

থমকে গেছে ফেনিল সাগরে

বৈঠাহীন নৌকো আটকে গেছে 

কোথাও মায়াবী ধূমকেতুর প্ররোচনায় ।

Sunday, October 24, 2021

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

আমি তো রেখেছি কথা 

 


নিজের দিব্যি করে বলছি আমি তো রেখেছি কথা 

ফুসফুস শুকিয়ে করেছি অর্জন শিক্ষাগত যোগ্যতা ।

লম্ফের আলোয় ভরেছি অঙ্কে যতসব সাদা খাতা 

পড়ে পড়ে দিন রাত জ্ঞানে পাঁকিয়েছি সতেজ মাথা ।

মা গয়না বন্ধকে দুধের রোজ করেছিল দুটি বেলা 

আমাকে পড়াবে বলে বাবা ভেঙেছিল মাটির ঢেলা ।

কষ্ট দেব না বলে মা উপোস চিবিয়ে রাখে মুখে হাসি 

কত সুখে আছি জানাতে বাবা বাজায় বাঁশের বাঁশি ।

যে দিন কাঁপিয়ে আকাশ উত্তীর্ণ হলাম ভালো ফলে 

এবার উঠোনে হাসবে ফাগুন মাস ওরা সব গেল বলে ।

মা দেখল স্বপ্নে তার ভাড়ার ঘরে চাঁদ হেসেছে উঠে 

বাবার যত ছিল অভাব সব নাকি গেছে ছুটে।

এখন আমি বেকার যুবক দিন মজুরী রোজ খাটি 

মনের যত স্বপ্নছিল সব গিয়েছে বেদনায় আজ টুটি।

মায়ের গায়ের পুরাতন শাড়ি রঙ অবিকল ফিকে 

শিক্ষিত করতে গিয়ে খুইয়েছে ধানজমি দুই বিঘে।

আমাদের ভাবনা নিয়ে তোমাদের থাকে কি মাথা ব্যাথা 

যুগে যুগে এমই ভাবে মরে ভূত হয় প্রতিশ্রুতির কথা।

আর বাজিও না বাজিও না তোমাদের তেরে না না না

একবার দাঁড়াও আয়নার সামনে দেখ লজ্জা লাগে কি-না? 

কবি জাহির আব্বাস মল্লিক -এর একটি কবিতা

 সময়ের গতিশীলতা

       


সময় আজ থমকে দাঁড়ায় প্রতিটা পদক্ষেপে,

হাঁটতে হাঁটতে পরিশ্রান্ত পথিক দিশেহারা,

শুকনো মুখের পাপড়িগুলি আজ বিবর্ন।

সকালে পুবের রবি দাঁড়িয়ে আজ প্রখর মধ্যাহ্নে,

ধেয়ে আসে প্রতিকূলতার বাধা,সহমর্মী দু-সহোদর।

কখনো বা ছুটে আসে ওড়িশার ভুমিষ্ঠ কন্যা তিতলি,

দাঁড়িয়ে যায় পথ সম্মুখে,ধরে জড়িয়ে আমায়।

আজও অজানা, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সময়ের 

গতিশীল ঘড়ির কাঁটা।

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 মৃত্যু ২



আমার ঈশ্বর কেবল জানে তোমার দুহাতের তীর্থে আমার মৃত্যু রাখা আছে, 

দূরত্ব কেবল জানে কতটা তুমি আছো আমার কাছে কাছে, 

একটার পর একটা বাঁধন ছিঁড়তে ছিঁড়তে বুঝেছি

তোমার হাতের পান্হতীর্থে আমার মৃত্যু আজ

ধুলোয় ধুলোয় ঘাসে ঢাকা আমার না বলা কথা, না করা কাজ

নতুন নতুন মৃত্যু দেখি তোমার দুখানি হাতে

এ মন সরোবরে মুখ ডুবিয়ে তোমায় কাছে ডাকে

তলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে তোমার কাছে ফেরা

ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুম ঝাঁপ দিয়ে পড়ে সত্য মিথ্যে ঘেরা।

কবি সেখ নজরুল -এর একটি কবিতা

 সীমান্তের ওপারে

    

    


ভালবাসলে যদি চরিত্র খারাপ হয়,

তাহলে চরিত্র সেদিনই খারাপ হয়ে গেছে।


যেদিন তোমাকে ওই হলুদ চুড়িদারে এবং কালো চশমা তে দেখেছিলাম,

সেদিন থেকে একটু একটু করে মনের অজান্তেই হৃদয়ের দর্পণে তোমার ছবি এঁকে চলেছি।


কাজল কালো চোখ আর মোনালিসার মত নাকটি তোমার,

গোলাপি ঠোঁটের হাসি যেনো মুক্তো ঝরে।


পাগল করা চোখের চাউনি,

চোখের দিকে একবার তাকালেই বারবার তাকাতে মন চায়।


মায়াবী চলন দেখে ভাবি,

 বিধাতার কি অপরূপ সৃষ্টি।

জানিনা বিধাতা কি দিয়ে সৃষ্টি করেছে তোমায়,

সত্যিই তুমি আমার কাছে মোনালিসা।


তোমার আলতা পড়া চরণ দুখানি যখন শিশির ভেজা দূর্বা ঘাস মাড়িয়ে যায়,

আমার হৃদয় খুবই দোলা দেয়।


ঘুমের ঘোরে যখন তোমার নিঃশ্বাস অনুভব করি,

টিকটিক করতে থাকে মনের এলাম ঘড়ি।


তোমার বুক পকেট খালি জানি কারন ওইখানে আমার বসবাস,

বুক পকেট এ থাকতে থাকতে যেন আমার বেরিয়ে যায় শেষ নিঃশ্বাস।

কবি অভিজিৎ দত্ত -এর একটি কবিতা

 দুর্গা



পৌরাণিক দুর্গা 

দশহাতে অস্ত্র নিয়ে 

অসুরকে বধ করে ।

আর আমাদের জ‍্যান্ত দুর্গা 

কাস্তে হাতে নিয়ে 

জমি চাষ করে।


পুরাকালে দেবী দুর্গা 

রণরঙ্গিনী রূপ ধরে 

অসুরকে করেছে বধ 

অথচ আমাদের জ‍্যান্ত দুর্গা 

অসুরদের হাতে ক্ষত বিক্ষত 

হয়ে হয়েছে শব।


দেবী দুর্গা কে আমরা

কতই না ভক্তি করি 

অথচ জ‍্যান্ত দুর্গার খবর

আমরা কজন রাখি?


জ‍্যান্ত দুর্গারা চিরকাল 

দিয়ে যায় শ্রম 

তাদের কথা সমাজে 

ভাবে কয়জন?

জ‍্যান্ত দুর্গার থেকে মুখ ফিরিয়ে

মাটির দুর্গাকে যারা পূজো করে

তাদের উপর সত‍্যিই কী

মা দুর্গা কৃপা করে ?


তাই মা দুর্গার রূপ ধরে

যে মেয়েরা আছে 

আমাদের ঘরে ঘরে 

তাদের নাও যত্ন ভালো করে।

পূরণ করো তাদের স্বপ্ন 

দেখবে সুযোগ পেলেই

ঐ মেয়েরাও যেমন দুর্গা হতে পারে

অসুরদেরও তেমন জব্দ করতে পারে।

কবি নীতা কবি মুখার্জী -এর একটি

 এসো মা লক্ষ্মী



লক্ষী আমাদের শান্ত শিষ্ট সুন্দর এক মেয়ে

তাঁর প্রসাদেই খাই আমরা ভাতটুকু ঘি দিয়ে

"এসো মা লক্ষী বসো" বলে আহ্বান করি তাঁকে

কোজাগরীতে আলপনা দিয়ে বরণ করি "মা" কে।


ঠাম্মা বলেন লক্ষী নাকি দেখেন ঘুরে ঘুরে

যার বাড়ীতেই প্রদীপ জ্বলে থাকেন যে তার ঘরে

আলো ঝলমল পূর্ণিমা রাত, স্বপ্নের দেশ যেন

মায়ের প্রসাদ বর্ষণ হয় মনে প্রাণে মেনো।


দূর্গা পূজো শেষ হলো যে,লক্ষীর পূজো হবে

এই নিয়েই তো গেরস্থ ঘর ব‍্যস্ত থাকেন সবে

বাদ‍্যি, ঘণ্টা, কাঁসর কিছুই চান না আমার মা

নিষ্ঠা আর ভক্তি দিয়েই সাধন করে যা।


ধনের দেবী, রূপের দেবী, সুখের দেবী যিনি

লক্ষী নামেই শান্তির বাস, মঙ্গলময়ী তিনি

ধনের পিছে ছুটে বেড়ায় মর্ত‍্যবাসী যত

সৎকর্মে অর্জন করো, নাও সৎ জীবনের ব্রত।


লক্ষী আর নারায়ণের যুগল আরাধনায়

ঘটের পূজোয়, পটের পূজোয় ব‍্যস্ত থাকে সবাই

সবার শেষে তোমার কাছে এই প্রার্থনা করি

সবার মুখে অন্ন জোগাও মা গো সুরেশ্বরী।

কবি রাজা দেবরায় -এর একটি কবিতা

 ব্যর্থ প্রেম



কিনেছিলেম গোলাপ,
দেখে টকটকে লাল।
এখন অনেকটাই ফিকে,
দিলে খাবো গাল!

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 মেঘের শহর




মেঘের শহর ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে-

পরিযায়ী মৌসুমী ধারার আশেপাশে ,

অনাহূত শব্দের প্রজাপতি,ডানা মেলেছে !

ফিরে যেতে যেতে মেঘেরা ফিরে চায়

এক পশলা--

এক হাঁটু জল--

মহানগর উত্তর খোঁজে --

তবু প্যান্ডেল সাজে--

তৃতীয়া আজ চতুর্থী-ও--

আলো হয়ে ঝরে পড়ে ভালোলাগা --

দুর্গার মুখ অনাবৃত হয়,

ভিড় জমছে বিন্দু বিন্দু !

প্রতিমার মুখ বিষণ্ন ঘাম! 

আমরা শৈশবের দুর্গাকে হারিয়েছি-

এই ভিড়ের চাপে, কাশফুল থিমে! 

অপু লায়েক হলেও দিদিকে খোঁজে

ভিড়ের মুখগুলো মুখোসে ঢাকা। 


কবি আবদুস সালাম -এর একটি

 সাপ

  



 একটা জীবন নিয়ে কথা হচ্ছিল 


রাতের শরীরে আদর মাখা স্বপ্নীল সাপ

বোতলে ভরে নিয়েছি কল্পনা নিরোধক ওষুধ

আর ঘুম পাড়ানী গানের বড়ী


রাতের সীমানায় বন্দী হয়ে আছে তারা মাছ


বিবর্ণমলিন জীবন খোঁজে তৃষ্ণার্ত শিকড়

 তরল অভ‍্যাসে ভেসে যায় গন্তব্য

তীর্থের কাকের মতো বসে আছি অক্ষরের রেকাবি নিয়ে


কাশবনের মাথার উপর ঝুলছে দুঃখ রঙের কুঁড়েঘর

ভালোবাসার উঠোন জুড়ে বাসা বেঁধেছে আদিসাপ ।

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 ফিরে আসার বর্ণমালা




খিদের রক্তে আগুন ধরালে

বিলাস বাসরে আগুন জ্বলবে

প্রদীপ-আলোয় লেখা কবিতা,

ছাপা হবে সব পাজির শরীরে।


মর্ম দিয়ে হৃদয় বুঝলে,তোমার 

বাসর ফুলে ভরে যাবে,তোমার

আকাশে এত সুর,এত গান,সব

জল হয়ে গেছে,দেখেও দেখনি।


ফিরে এসো গাছ,ফিরে এসো ফুল

সুর ও ছন্দ সুখ শান্তি সব বিলকুল,

খিদের থালায় ফিরুক হাজার তৃপ্তি

জীবন আকাশে ছড়াক পরম দীপ্তি।