Sunday, October 31, 2021

কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

 সত্বা



তোমার হতশ্রী রূপ আমাকে আর আকর্ষণ করে না

মৃত্তিকার লোহিত স্তরের নীচে জমে গেছে সাদা দুধেল স্তর।

মন মাতানো সুগন্ধি এখন আর ভালো লাগে না,

কাক-বকেরা কেড়ে নিয়েছে তোমার ভেতরের সত্বাকে,

পুতুল নাচের ইতিহাসের সাক্ষী তুমি।

শুধু হৃদয়ে স্মৃতিপটে লেখা আছে তোমার কদর্যরূপ।

কবি কমল মন্ডল -এর একটি কবিতা

 আবেগি শব্দরা

       


তোমার চোখের দিকে তাকালে

বুকের আঁচল নামতে থাকে পুরনো স্মৃতিতে

আমি হেরে যায় নীরবে 

তোমার চোখের দিকে তাকালে।

শরৎ তোমায় আমার মুখোমুখি আনায় অঞ্জলি 

দুটো হলুদ রঙের পাখি আসে ফিরে যায় নীরবে 

মরা পুকুরে উঠতে থাকে ঢেউ 

তোমার চোখের দিকে তাকালে।

প্রেম সে কি জানি না,বুঝলেনা তুমিও

সাত রং তোমায় সাজাক ---

আলো দিক ভোরে তোমার স্বপ্নের ধানসিঁড়ি----

আমার আবেগ, সে তো কবিতার পঙক্তি জুড়ে!

কবি সুমন্ত রবিদাস -এর একটি কবিতা

 স্রষ্টা




স্রষ্টার প্রধান সঙ্গী কল্পনা

কল্পনার সাহায্যে স্রষ্টা দেন সার্বজনীন রূপ

সৃষ্টি হয়ে ওঠে সার্থক

হয়ে ওঠে চিরন্তন।

তবে তার মধ্যে থাকে কিছু বাস্তবতা

বাস্তব থেকে অবাস্তবে যাওয়াই সৃষ্টি

অ্যারিস্টটল বলেছেন যাকে বস্তুসত্য আর কাব্যসত্য।

স্রষ্টা মনেই থাকবে কল্পনা,

আর থাকবে মনের ভাবনা শক্তি

মনের ভাবগুলো উঠবে সৃষ্টিতে ফুটিয়ে

যা আসবে বাস্তব জগৎ থেকে মনে

মনের ভাবগুলো ভাষায় ব্যক্ত হবে

সৃষ্টির মধ্য দিয়ে।

কল্পনার আশ্রয়েই স্রষ্টা গড়ে

তার সৃষ্টির কাঠামো,

বাস্তব থেকে অবাস্তবে যাওয়াই সৃষ্টি

সৃষ্টিতেই হয় স্রষ্টার প্রকাশ।

কবি সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক -এর একটি কবিতা

 রমণীয়




ইচ্ছের ওপর ভরসাহীন নড়বড়ে মগজগুলো

সার সার হাঁটে আর হাঁটে কার্ণিস ঘেঁষে,

তাদের মুখে ও চোখে ইন্দ্রিয়ের পাঁচ-পাঁচটি খোপে

তুমুল বিষম বিষমতর সোরগোল-

দ্বিধাহীন চলনবলন স্থির তসবির হয়ে নিয়ত দোলে

সমাজের পথে পথে পরিক্রমণে।

নিভাঁজ নিস্পন্দ দোটানায় একা একা পাখী আমার

খুঁটে খুঁটে খায় শক্ত চরম বায়ু,

কখনো ধুলোয় কখনো আকাশে কখনো সলিলে

স্থিরতা খুঁজি তীব্র তীব্রতম রমণে।

কবি রানা জামান -এর একটি কবিতা

 রণ পা


 


একটা রণ পা থাকলে চাঁদে যাওয়া যেতো

এবং মোক্ষম এন্টিবায়োটিকে রোগমুক্তি

ডিমে তা থাকলেও সবসময় ফুটে না জাতক

রসের হাড়িতে ডুবে পান করে কুচক্রিরা পরিস্রুত জল

ঘুষের টাকায় সেলাই করে টিকটিকির ঠোঁট

ঢোলের তাণ্ডবে গর্ভপাত হলেও আনাড়ি চিকিৎসক

সভাপতি পদে আসীন পদোন্নতির ঢামাঢোলে

ড্রয়িংরুমে তাসের খেলায় বেখেয়ালি

সর্বস্ব হারিয়ে পথের ফকির

দিন যায় কারো হেলাফেলায় কারো বা

সাধনায় সিদ্ধি লাভের আশায়।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 অন‍্য চিত্র

 


প্রতিটি সকাল যেন অন্য সকাল

ভারতের প্রতিটি কোষে জেগে উঠছে হাহাকার

শুনছি নিঃসঙ্গ চেতনার ক্রন্দন ধ্বনি


কান পাতলেই শুনি বিবিবাচ্চাদের সম্মিলিত জিজ্ঞাসা

বাজারে লেগেছে আগুন

অদ্ভুত রহস্যময়তা ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে


লাল, হলুদ, সবুজের কচকচানি

ঝরে পড়ছে অভিভাবকহীন সময়ের বিষন্নতা

বিপ্লবের আঙিনা ধুয়ে দিচ্ছে কীটনাশকে

মুখ থুবড়ে পড়ছে সকালের অস্তিত্ব

জীবাণু মুক্ত করার অঙ্গীকার

অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে নিহত চাঁদ


নিবেদন গুলো ঢেউ তুলছে সভ‍্যতাল নদীতে

পাড়ায় পাড়ায় পাল‌ তুলছে দুর্বিষহ বিষাদ

স্বপ্নের খনি থেকে তুলে আনছি সাদা ভাত সাদা কাফন

মৃত্যু সুবাসে ভরে উঠছে ভারতের মানচিত্র

কবি নবকুমার -এর একটি কবিতা

 নীতিহীন আবেগ 

 


মানসিক কিছু কষ্ট ভোগায় আমাকে 

শূন্য থেকে কে যেন বলে--এ তোমার পূর্বজন্মের কর্মফল ।

পূর্বজন্ম !সে আবার কি !সে কি হয় !

তবে ,আমিই বা জানিনা কেন !

কেন এত দুঃখ-ভোগ্য সময় !


আমি তো কাউকে দু:খ চাইনি দিতে

বিনিময়ে আমিও চাই না দু:খ নিতে

তবুও নীলের ডোবানো স্বচ্ছাকাশে 

কেন ভীড় করে এতো চাপ-চাপ কালো মেঘ !


পূর্বজন্ম আমি বিশ্বাস করি না--

এই জন্মে পেয়েছি শুধু শূন্য পাত্র আর

নীতিহীন আবেগ ।

কবি পৌষালী সেনগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 জয় 



যে কোনো ধর্মযুদ্ধ করবো জয়!

এটাই নিশ্চয়!

যে কোনো শত্রুকে পরাস্ত করতে দৃঢ় নিশ্চ্য়!

যে কোনো রাস্তা নিতে জীবনে নিজের সিদ্ধান্ত!

যে কোনো বিপদে মধ্যে ঘুরে দাঁড়াবার জেদ!

জীবনের চড়াই উৎরাই সহজেই করব জয়!

আছে বুকের মধ্যে জেদ আর অদম্য লড়াই!

জীবনের লড়াই জিতবোই এটাই দৃঢ় নিশ্চয়!

কবি বিধান সাহা -এর একটি কবিতা

 অসহায়তা

 


কেমন যেন হতাশা

ক্রমশঃ এসে

ঘিরে ধরছে আমায়


আবেগ ঘন স্বপ্নের মোহনা

দিচ্ছে না উঁকি


আরও নতুন চেহারায়

আসছে না এগিয়ে

জীবন যাপনের

মধু মুহূর্ত গুলো


মেলে ধরছে না

ভবিষ্যতের আলোছায়া


কেঁদে উঠছি ক্ষণে ক্ষণে

অসহায়তার বেড়াজালে জড়িয়ে...

কবি সেখ নজরুল -এর একটি কবিতা

 নীল পদ্ম




হাজারো স্বপ্ন দেখেছি ওই পদ্ম পাড়ে,

অনেক আশা নিয়ে হাজির তোমার মনের দুয়ারে।

সময়ের সন্ধিক্ষণে তোমার সাথে হল দেখা,

মনের মধ্যে তোমার রঙিন ছবি আঁকা।

জীবনের শেষ লগ্নে দিয়েছি হাত বাড়িয়ে,

দিওনা অঙ্কুরে তার বিনাশ ঘটিয়ে।

চিরদিন থাকবে তোমার দিকে আমার টান,

ভালোবেসে যাবো যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ।

পাগল হয়েছি তোমার কাজল কালো চোখে,

তোমায় পাশে নিয়ে থাকবো সারা জীবন সুখে।

হারিয়ে যাবো দুজনে স্বপ্ন সাগরে,

তোমার আমার দেখা হবে ঘুম ভাঙা ভোরে।

হৃদয় কাঁপিয়ে তোলে তোমার ওই গোলাপি ঠোঁটের হাসি,

তোমার ঐ মিষ্টি চোখের চাওনি বড়ই ভালোবাসি।

হঠাৎ দেখা হবে ওই নীল পদ্ম পাড়ে,

মনের উষ্ণতা নিও সিক্ত করে।

কানে কানে বলবো মনের না বলা কথা,

সোহাগের জোয়ারে ভাসবো তোমার কোলে রেখে মাথা।

কবি অভিজিৎ দত্ত -এর একটি কবিতা

 একটি বর্ষণমুখর দিনের কথা




বর্ষণ মুখর দিনে

বসে ভাবি আনমনে

অতীতের কত স্মৃতি, কত কথা

কিছু দেয় আনন্দ, কিছু দেয় ব‍্যাথা।


বর্ষার জলের ধারার মতো

মনে পড়ে যায় কত কথা

ছোটবেলায় বর্ষার সময় 

কতবার খেয়েছি আর আনন্দ করেছি

খিচুড়ি সঙ্গে ইলিশ ভাজা।


বর্ষার জলে সিক্ত ধরিত্রী 

মনে করায় পুরোনো প্রেমিকার কথা

সেও তো একসময় ছিল 

বর্ষার মতো উচ্ছল,তরতাজা।


বর্ষার দিনে কত কিছু জাগে মনে

হারমোনিয়াম নিয়ে শুরু করি গান

প্রাণে দেয় এক অদ্ভুত আরাম।


বর্ষার দিনে কারো,কারো হয় খুব কষ্ট

যাদের নেই ঠিকমতো অন্ন ও বস্ত্র

যাদের নেই ঠিকমতো রোজগার

তারা হয়ে পড়ে বেকার।


বর্ষার দিনে ভালো-মন্দ মিলে

দিন যায় চলে 

একটি বর্ষণ মুখর দিনে

কারো কাটে কষ্টে, কারো আনন্দে।

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 বেলাশেষের কবিতা 



বেলা শেষে আকাশ কালো 

তুমি এলে আড়াল থেকে মনভোলা 

বৃষ্টি ভেজা বাতাসে সমুদ্রের গন্ধ

বদ্বীপে মাতলা নদীর সুর বাজে 

সফেন তান্ডবে বিদ্ধ বিদ্যাধরী 

বোধহয় দেখছিলে তুমি গাছেদের দীর্ঘশ্বাস 

কিংবা লুপ্তপ্রায় কোনো সভ্যতার লজ্জাটুকু

বিকেলের ছায়া ঘন হয়ে আসে

এমন সময়হীন সময়ে তোমার অবলোকন 

একটি বর্ণালী রচিত আবহে

বেলা শেষের কবিতা মনে পড়ে গেলো।

কবি নীতা কবি মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 মানুষের জন‍্যই ধর্ম

                  



ধর্মের নামে কাটাছেঁড়া করিস, করিস রে হানাহানি

সবার উপরে মানুষ সত‍্য এই কথাটাই মানি

মান, হুঁশ নিয়ে জন্ম নিলাম মাটির ধরনী মাঝে

ভাইয়ের রক্তে বিজয়ী হওয়ার উন্মাদনা কি সাজে?


জগৎ জুড়ে একটাই জাতি, শ্রেষ্ঠ মানুষ জাতি

মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে হিংসার খেলায় মাতি

হিন্দু, মুসলিম, শিখ, ইশাহী, ব্রাহ্মণ, বৌদ্ধ

সব যে তোরা ভাই ভাই, ওরে, কেউ নয় বধ‍্য।


"ঈশ্বর একম্ এব অদ্বিতীয়ম" এই কথাটাই সার

তবে কেন সব ধর্মকে নিয়ে করে শুধু মার মার?

রামকৃষ্ণ মন্ত্র দিলেন সব এক জাত মানি

যত মত তত পথ আছে, তাই কোরোনাকো হানাহানি।


মানবিকতার এই সনাতন ধর্ম প্রাচীন, মহান, মহৎ

বিবেকানন্দ দেখালেন ,তাই দেখলো বিশ্বজগৎ

হজরৎ বলো, নানক বলো, বুদ্ধ-তথাগত

অহিংসার পথ দেখালেন তাঁরা, একই ধর্মমত।


একই রূপের দুই নাম হলো আল্লাহ্ ও ঈশ্বর

মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, মানুষই সর্বেশ্বর

মহান সম্রাট আকবর দিলেন নতুন ধর্মমত

দীন-ইলাহীকে কুর্ণিশ করি, পাই জীবনের পথ।

সব ধর্মের এক সার শোনো,শোনো রে মানুষ ভাই

ধর্মকে ধরে রাখতে হলে আগে তো মানুষ চায়।