Sunday, December 19, 2021

কবিতা || মনের অবচেতনে || নার্গিস পারভিন

 মনের অবচেতনে




মনের অবচেতনে কোনো একদিন 

যে প্রেম এসেছিল,

নদীর স্রোতে যার বহমানতায়

মোহনার অভিমুখী,

কতো অভিমান ক্লেদ পঙ্কিল এ মিশে

পরিণত শতদল।


রমণীর কঙ্কনে চমকায় প্রেমময় রশ্মি,

আগুনের অনিয়ন্ত্রিত শিখায়

দগ্ধ মন হয়ে ওঠে আরো খাঁটি!


অপরাজিত হৃদয় অঙ্গনে

পাতা ফুলেল গালিচা

লাল নীল সাদার সমাহারে--

থোকা থোকা সংশয়ের ফুল ফোটে।


অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ হাসে,

বসন্ত বিরাজিত প্রতিক্ষণে

মুঠো মুঠো আলো ছোঁড়াছুঁড়ি করে আকাশ মাটি!

কবিতা || বীর-শহীদ স্মরণে || নীতা কবি মুখার্জী

 বীর-শহীদ স্মরণে




দেশ আমার, মা আমার, আমার সব ভাই-বোন

স্বাধীন ভাবে বাঁচবে সবাই,মাথা উঁচু রবে সর্বক্ষণ।


আমাদের প্রিয় শেখ মুজিবর, তোমারে করি সেলাম

তোমারই নামের জয়গানে গাই তোমারই শুভনাম

মুক্তিযোদ্ধা নামে তুমি খ‍্যাত বিশ্বভুবন মাঝে

জাতির পিতা তোমারেই বলি, এই নামেতেই সাজে।


জীবনের ব‍্যথা, লড়াইয়ের কথা আজ ইতিহাস কথা

স্বাধীন বাংলার সাথে জুড়ে আছে তোমার জীবনগাথা

শত শত বীর শহীদ হলো তোমার বীর আহ্বানে

মহান দেশের মহান নেতা, তাই তো সবাই জানে।


পাকিস্তানের অত‍্যাচারের যোগ্য জবাব দিলে

সকল ঝঞ্ঝা, সকল বাধা মাথায় তুলে নিলে

তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, সফল বলিদান

আমার বাংলা বিশ্ব মাঝে পেয়েছে নিজ স্থান।


কত মায়ের কোল খালি হয়ে গেছে, কত যে শিশু অনাথ

দেশমাতৃকার মান রেখেছো এক করে দিনরাত

আবালবৃদ্ধবনিতা হয়েছে মুক্তির সংগ্ৰামী

 বীরের মতো আগুয়ান হয়ে থেকেছো অগ্ৰগামী।


জয় বাংলা,জয় মুজিবর, আজো ওঠে শ্লোগান

বাংলা আমার প্রাণের অধিক, একই ঐক‍্যতান

বীর-শহীদদের জয় হোক আর জয় হোক বাংলার

তোমার নামটি অক্ষয় হোক মুখে মুখে সবাকার।


তোমার মতন বিরল নেতা জন্মাক ঘরে ঘরে

অবহেলা করে জীবনকে, দেখালে দেশই সবার উপরে

বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আজও তোমারই পূজা হয়

তোমার মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে তোমারই শপথ নেয়।

কবিতা || স্মৃতির ভেলায় বন্ধু || বিমান প্রামানিক

 স্মৃতির ভেলায় বন্ধু




পুরনো সেই দিনের কথা মনে পড়ে যখন

চোখের জলে ভেসে যায় আমার দুটি নয়ন। 

সুখ দুঃখের সাথী হয়ে ছিলিস তুই পাশে

এখন তবে তোর বাসা হয়েছে কোন দেশে?

সেই ছোট্ট থেকেই তুই আমি কত মেলামেশা!

এখন সে সবই স্মৃতির ঘরে ভেসে ওঠা। 

একলা হয়েই গেছি যখন, একলা ভাবি মনে

সেই দিনের কথা নাড়া দিয়ে যায় হৃদয়ের কোণে। 

ব্যস্ত জীবন কাটাই, তবে শত ব্যস্ততার মাঝে 

ক্ষণেক দুঃখ দিয়ে যায় স্মৃতি গুলো ফিরে আসে। 

উৎসব আনন্দে একসাথে হেসে খেলে কাটে 

আজও সেই সব দিন এলে তোর ছবিই জেগে উঠে।

তোর মতো বন্ধু নিয়েই যাদের জীবন গড়া

একলা হয়ে পড়ে আছি, বেঁচে থেকেও মরা। 

পুকুরের জলে স্নান করার আনন্দ নয় ভোলার

আরও স্মৃতি ভেসে ওঠে, কাদা পথে স্কুল হতে ফেরার। 

তুই এখন অনেক দূরে, কোনো এক শহরবাসী

আমি তবুও গ্রামে সেই স্মৃতি জড়িয়ে আনন্দেই আছি।

শত কাজের চাপে তুই কি মনে রেখেছিস আমায়?

আমি যেন এক নাবিক হয়ে ঘুরছি চড়ে স্মৃতির ভেলায়। 

কবিতা || হুঁশ || সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

হুঁশ




মানুষের হুঁশ এক কর্পূরের নাম।

মাঝে মাঝে ইন্দ্রজাল হয়ে হঠাৎ উবে গিয়ে

গরিলার ঘরে দিব্যি হা-ডু-ডু-ডু খেলে।

        তখুনি আশনাইয়ের অন্তর জুড়ে

স্পষ্ট স্পষ্টতর বুলেটের ক্ষতচিহ্ণ দেখি,

মায়া-দয়া-মমতা সবকিছুই আভিধানিক

উল্টেপাল্টে দেখতে সাগর ছুঁয়ে ফেলে।



ব্যাপক ভেঙে চুরমার মহার্ঘ হুঁশ জুড়তে জুড়তে

আরো আরো দামী আঠা এখনো পাই নি খুঁজে।

কবিতা || হবে হবে হবে || সোনালী মীর

 হবে হবে হবে




হবে হবে হবে সব হবে

কাস্তে ঘাসে পদ্ম ফুলে

প্রেম ও প্রীতির খেলা হবে

বামে রামের হাতে হাতে

জোট বিজোটের পাতে পাতে

মিষ্টি হবে কৃষ্টি হবে

রঙে রঙে রং মিশিয়ে

হিন্দি সিন্ধি বং মিশিয়ে

পায়ের উপর পা টি তুলে

মাছ ভাত চাপাটি ঝোলে

ফিষ্টি হবে তুষ্টি হবে

গুষ্টিশুদ্ধ ফূর্তি মেরে

শাড়ি ধুতি কুর্তি ঘিরে

জন্মদিনের পার্টি হবে

পার্টি পার্টি ডার্টি খেলায়

হরেক টুপির গুপ্ত মেলায়

খাওয়াখাওয়ির খিস্তি শেষে

নিপাট নিরেট ছদ্মবেশে

একটেবিলেই আড্ডা হবে

পথের মাঝে গাড্ডা খুঁড়ে

সেবার নামে ডান্ডা হবে...

কনফিউশন ঝান্ডা ধরে

পাবলিকরা মাতবে সুরে

সুর অসুরের আঁতাত কলে

জন ও গন মরবে পিষে

তবুও তারা ভোজের শেষে

হাঁটবে রণফৌজের আগে

ধানের ক্ষেতে ওরাই জাগে

রণে বনে জল স্থলে

ওরাই আগে ওরাই জাগে

সুবোধ ওরা নির্বোধ ও বটে

কাঁচকলা তাই ভাগ্যে জোটে


বোকা কুমির চালাক শেয়াল

বছর বছর কথার খেলায়

নির্বাচনের উদোম মেলায়

উপড়ে ঘুঁটে সাজছে দেয়াল

কে যে কখন কোন ওয়ালে

কার গরু যে কার গোয়ালে

হাসছে নেতা অভিনেতা

কেমন হাসি বুঝবে কে তা

ঘাড়খানি কার ,কার বন্দুক

কার ঘামে কে ভরে সিন্দুক

কার ঝুপড়িতে ছেলে কেঁদে মরে

চড়েনাকো হাঁড়ি

বোঝে কোনো ব্যাটা,যত বাটপারি

তবুও ওরা সম্বৎসরে বাজি ধরে 

কিসের জোরে কাদের জোরে

পাবলিক শুধু পতাকা হাতে

খালি পায়ে হাঁটে

রোদে ঘেমে হাঁটে

ভুখা পেটে হাঁটে

কেন হাঁটে

বোকা তাই হাঁটে


নেতার চোখে রোদ চশমা

মুখে মধু হাসি গায়ে খাদি জামা

জামায় ঢাকা মিথ্যে চামড়া

জানি কি আমরা

আমরা তো সিঁড়ি স্বর্গে ওঠার

আমাদের কাঁধে যত বোঝা ভার


গনতন্ত্রের মুন্ডুটা কেটে

পান্ডারা বেঁচে পচা আন্ডা

জাত তুলে মারে

ভাত মেরে মারে

দলাদলি করে লেলিয়ে মারে

লাভের গুড় কে খায় আখেরে


এ মহানাটক কবে শেষ হবে


হবে হবে হবে সব হবে

শিরদাঁড়াটা ঝুঁকে ঝুঁকে ঝুঁকে ক্লান্ত হয়ে

একদিন ঠিক সোজা হবে

মানুষে মানুষে হাতে হাত বেঁধে

যেদিন মোড়ে রুখে দাঁড়াবে

চালাক শেয়াল ধরা পড়ে গিয়ে

লেজখানি তুলে ছেড়ে দে মা কেঁদে

ঠিক পালাবে

ঘুমন্ত ও অন্ধ যত পাড়াপড়শি

চোখ খোলা রেখে নির্ভয়ে বলো 'ভালোবাসি'।


কুরান গ্রন্থ জেন্দ বেদ ও বাইবেলে

দিনের শেষে লাল সূর্যের গোল টেবিলে

গল্প বলে

অহিংসতার ধৈর্য্য ক্ষমার গল্প বলে

যত পশু পাখি আকাশ মাটি

 ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় গল্পসুরের জিয়নকাঠি।


আমাদের কথা পাতায় লেখা

আমাদের মন জড়তায় ঢাকা

আমরাই লিখি আমরাই মুছি

অন্ধকারে ঘুরে ঘুরে মরে

পড়ে থাকি এঁটো আস্তাকুঁড়ে

তবুও ভুলের পা ধরে নাচি

 মিথ্যে একটা জীবন বাঁচি।


আমাদের বোধ কবে হবে

আমাদের বোধ কবে হবে।

কবিতা || শীতের আলপনা || হরিহর বৈদ্য

 শীতের আলপনা 



হেমন্তের ই মধুর পরশ 

  ছোঁয়ায় এল শীত,

খুশির মেলায় মতলো ভুবন 

     দেখি চারিদিক।

পৌষ মেলা পিঠে পোলার

     আনন্দে মশগুল,

ধান কৃষিতে ভরল গোলা

     ফুটছে নানান ফুল।

নলেন গুড়ের মিষ্টি সুবাস

      ভরিয়ে দিল মন,

চাষির মনে খুশির আমেজ

      আনন্দে প্লাবন।

ম্যাজিক খেলা বইয়ের মেলা

      বসলো গড়ের মাঠে,

বাচ্চা বড় সবাই ছোটে--

     শীতের সুপ্রভাতে।

শীত এলে তাই সবাই খুশি 

     নতুন গরম জামা,

এমন দিনে সবার আপন 

    মোদের সূর্যমামা।

মাতলো সবাই মোয়ার মজায়

    কিংবা খেজুর গুড়ে,

সবুজ মাঠে ঘুমায় শহর 

   শীতের কাঁথা মুড়ে।

কবিতা || সে কে || নবকুমার

 সে কে ?




স্বপ্নে কে যেন বলে যায় -বেরিয়ে পড়ো -

চলো আমি আছি সাথে ।


সে যে কে আমি বুঝতে পারিনা ।

একা একাই তো কেটে গেল এতটা বছর 

যাকে বন্ধু ভেবেছি সে-ই

আমার পথে ছড়িয়েছে কাঁটা

যে গাছটির তলে অসহ্য দহনে বসেছি 

সে ছড়িয়ে দিয়েছে ছায়া

সে ছিল একান্ত দরদি বন্ধু ।

একদিন কালবৈশাখী ঝড়ে

সে-ও উৎপাটিত ভূমিতলে ধূলিশয্যায় ।


আজ এত এতদিন পর

সে-কে ,যে হতে চায় আমার দোসর ?

কবিতা || কোন এক নিশুতি রাতে || বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র

 কোন এক নিশুতি রাতে



কোন এক নিশুতি রাতে,

আমার প্রভু এলেন নয়ন পাতে৷


বললেন হেঁকে নামটি মোর,

খোকা,নিরুদ্দেশের পথে যাবি?

তুই আর আমি জীবন ভোর৷


আমি হতবাক তার সে বানী শুনে—

চিমটি কাটি আপন দেহের পরে,

সত্যি না'কি স্বপ্ন দেখা ঘুমের ঘোরে৷


আমি দেখি আমার প্রভু স্বর্ণকমল রথে,

নিচ্ছে তুলে আমায় মায়াজালে

মহাশূণ্যের নিরুদ্দেশের পথে৷৷


আমি অপারগ ছিন্ন করতে সে জাল খানি,

তবুও আমার প্রভুর মিষ্ট ভাষে

নয়ন ভরে দেখছি পথের পাশে

অনাদি অনন্তকালের নিরুদ্দেশের পথে-র লাবনি৷


তবুও শুনি সেই সুমধুর ভাষ 

আমার প্রভুর কন্ঠ হতে,

ভয় কি ব্যাটা;আমিতো আছি

তোর এই নিরুদ্দেশের পথে৷

কবিতা || এমন কি কেউ আছো || সুব্রত মিত্র

 এমন কি কেউ আছো?




এমন কি কেউ আছো যে আমার ব্যথাগুলো নিতে চাও?

এমন কি কেউ আছো যে আমার ভুলগুলোকে ফুল করে ফোটাতে চাও?

এমন কি কেউ আছো?

যারা আমার মা বোনের লুট হয়ে যাওয়া সম্ভ্রমকে ফিরিয়ে আনার জন্য এক বুক জলে নেমে এই অশুভ রাজনীতির বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করবে?

এমন কি কেউ আছো-----

যে আমার সকল অভ্যাস;সকল কান্না;সকল ব্যথা; সকল ব্যর্থতাকে নিয়েও আমায় সমানভাবে আজও ভালোবেসে যাবে?

এমন কি কেউ আছো----

যে আমার সকল গোপনীয়তাকে জানতে পেরেও আমায় একটি বারও অপমান করবে না?

একটিবারও দুঃখ দেবে না।

আমি সারারাত ধরে জোনাকির সাথে কথা কই,

আমি সারারাত ধরে আকাশের পানে তাকাই,

আমি সারাজীবন ধরে চেনাচেনা পথগুলোকে কেবলই হারাই,

আমি খুঁজে পাবো না জেনেও ধূসর বালুতটে মরচে পড়া স্মৃতির কানায় কানায় ফেলে আসা বাল্য জীবনের মুক্ত কে হাতরাই,

এক ঝাঁক তরুণ ডানা মেলেছিল আমাকে দেখে,

এমন কি কেউ আছো----

যারা বড় ভালোবেসে আমাকে নেবে ডেকে। 

কবিতা || পাপ || আবদুস সালাম

 পাপ




বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে শূন্যতায়


ঢেউ বইছে জলহীন উপত্যকায়

বাতাসের নৌকা কুয়াশায় মুখ ঢাকে


আবেগ মেখে পর্বত ঘুমিয়ে যায়

পাহাড়ের গায়ে নিলাম হয় অক্সিজেন

টুপটাপ করে গড়িয়ে পড়ে জল

পায়ে পায়ে ঠিক চলে যাবো দন্ডকারণ্যে


বিষন্ন বিশ্বাস আত্মমগ্ন হয়

অভিমানী জীবন খুঁজতে থাকে জীবনের চিহ্ন

পাথর দিয়ে সেলাই করি জীবন

রক্ত বিশ্বাস নিয়ে হামাগুড়ি দেয় নীল ভবিষ্যত


ধ্বনিহীন প্রতিধ্বনিরা ছুটে চলেছে ঐক্য ভাঙার গ্রামে

গন্তব্যহীন মেঘেরাও ভয় পাই পাপি পাড়ায় যেতে

আমরা উৎফুল্ল হই

কবিতা || বিশ্বাস || চাতক পাখি

 বিশ্বাস



তোমার পথ 

পানে চেয়ে

একা আমি রই বসে।


তুমি আসবে তুমি আসবে

গন্ধ পাই 

আমার প্রশ্বাসে নিশ্বাসে।


তোমার পায়ের শব্দ

শুনতে যে 

ব্যাকুল কর্ন কূহর।


তুমি আসবে তুমি আসবে ,

তাই বুঝি মাঝি 

ভাসিয়েছে তরী সাগরেতে ফেলে নোঙ্গর।


আমি জানি ,

তুমি আসবে তুমি আসবে 

প্রভাতের রাঙা ফুল হয়ে।


আর ছড়িয়ে যাবে তা 

 সুগন্ধ হয়ে প্রভাতের আলোয়

আর বইয়ে যাবে তা সুখের আঁচড় দিয়ে।

কবিতা || শীত || আশীষ কুন্ডু

 শীত




শীত- উত্তর দাও- হিম পাহাড়ের 

তুষার ছৌ নাচছে যে শৃঙ্গ 

ভৈরবের পায়ের তলায় 

পরিযায়ী হাওয়ায় উড়ছে মিহি তুহিন 

ধ্যানমগ্ন মহাকাল আবছায়া আলোবনে! 

ভেসে আসে শীতল বাতাস ,

ধারাস্রোতে -সভ্যতার জনপদে!


শীত- উত্তর দাও- ঝরাপাতায় 

বৃক্ষেরা অবগুণ্ঠন খোঁজে 

একটু রোদের আশিয়ানায়!

রাতের আকাশ বেয়ে নামে কুয়াশা ,

মাটির বুকে শুয়ে থাকা শব্দেরা ঘুমোয়

ঘাসের গালিচায় জেগে থাকে-- 

তবু জীবনের স্পন্দন ।

কবিতা || মধুচন্দ্রিমা || অরবিন্দ সরকার

 মধুচন্দ্রিমা

        


অমাবস্যাপূর্ণিমা মুক্ত যাত্রাপথ

          এ স্বপ্নের উড়ান,

ভ্রমর ভ্রমরী চকিতে মধু চয়নে,

       ছোটাছুটি অবিরাম।

বিধবার বিচ্ছিন্নের পুনর্বিবাহ,

         মধুচন্দ্রিমা আবার,

জন্মদিন বর্ষ পালন একবার ,

        এটা হোক বারম্বার।

নক্ষত্রের আজন্ম নক্ষত্র পতন

     অর্থের সঙ্গে মোলাকাৎ,

বৈরাগী বোষ্টুমীর দ্বারে ভিক্ষা,

      মধুচন্দ্রিমা কুপোকাত।

ময়দানে ক্রিকেটে হাঁকে ছক্কা,

     বোষ্টুমীর ছক্কা লুডোয়,

গরীবের প্রতিদিনই একাদশী,

     উপোষে প্রাণ জুড়োয়।

গরীব মেয়ের তার পুনর্বিবাহে,

      চারিত্রিক বদনাম নষ্টা,

ধনীর রাণী আমদানি রপ্তানি

       উচ্ছিষ্ট মধুপানে ভ্রষ্টা।

টাকায় ঢাকা যায় মানসম্মান

       পাওয়া যায় আদর,

নির্ধন গরীবের স্বপ্ন মধুচন্দ্রিমা,

     আছে ইজ্জতের কদর।