Sunday, January 23, 2022

নিবন্ধ || স্মরণে- নবনীতা দেব সেন || শিবাশিস মুখোপাধ্যায়

 স্মরণে


নবনীতা দেব সেন, বিশিষ্ট লেখক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক




আমার বিশেষ পরিচিতা নবনীতা দেব সেন, বিশিষ্ট লেখিকা এবং সকল প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক গুণাবলীর অধিকারী বহুমুখী মহিলা। অভিনেত্রী নন্দনা দেব সেনের মা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী শ্রী অমর্ত্য সেনের প্রাক্তন স্ত্রী। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। 

আমার ভাষাতত্ত্ব পড়ার সময়ে 1984 এ ওনার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং আমার তুলনামূলক সাহিত্যের ওপর উৎসাহ দেখে একদিন বাড়িতে ডাকেন লাঞ্চ এ। তারপর আমাকে উনি বলেন ডেকান কলেজ, পুনা তে যেতে। সেখানে তখনকার দিনে বিশ্ববিখ্যাত পন্ডিতরা ছিলেন যাঁরা ভাষাতত্ত্ব পড়াতেন। তাই আমার পুনাতে পড়তে যাবার অন্যতম কারণ ছিলেন উনি। তারপরেও অনেক বার যোগাযোগ হয়েছিল এবং সময়ে সময়ে আমাকে উৎসাহিত করতেন।

কলকাতায় একটি সাংস্কৃতিক পরিবারে তার জন্ম 13 জানুয়ারী, 1938। তার বাবা-মা দুজনেই ছিলেন কবি।  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক এবং কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডিস্টিনশন সহ উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন। তিনি বার্কলেতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউনহাম কলেজ থেকে তার পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

1988-1989 সালে, তিনি কলোরাডো কলেজে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এবং তুলনামূলক সাহিত্যের চেয়ার পেয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় তুলনামূলক সাহিত্য সমিতির সহ-সভাপতিও হন। বেশ কয়েকবার তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার যেমন জ্ঞানপীঠ, সরস্বতী সম্মান, কবির সম্মান এবং রবীন্দ্র পুরস্কারের জুরি সদস্য ছিলেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ মহিলা লেখক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি পদ্মশ্রী এবং সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন । বিভিন্ন ঘরানার বাংলায় অনেক বই প্রকাশ করেছেন। ভ্রমণকাহিনী লেখার জন্যও তিনি বিখ্যাত। তার ছোট গল্প সবসময় অনন্য। তার প্রথম প্রকাশিত বইটি ছিল কবিতার সংকলন, প্রথম প্রত্যয় 1959 সালে। তার প্রথম উপন্যাস 1976 সালে আনন্দ বাজার পত্রিকার পূজা সংখ্যায় আসে, যার নাম 'আমি অনুপম'। 7 নভেম্বর 2019শে উনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।

অনুগল্প || ওজন || সিদ্ধার্থ সিংহ

 ওজন




বোন খুব চিন্তিত হয়ে বলল, কী ব্যাপার বল তো, সকালে মাপলাম আমার ওজন পঞ্চাশ কিলো। এখন দেখছি আমার ওজন আটান্ন কিলো। মেশিনটা কি খারাপ হয়ে গেছে নাকি?

ভাই বলল, মেশিনটা ঠিকই আছে। তোর ওজন পঞ্চাশ কিলোই। আর তুই এখন যে মেকআপ করেছিস তার ওজনটা ধর, ওটা তো আট কিলো।

কবিতা || অসতর্কতায় || রানা জামান

 অসতর্কতায়





কিছুদিন আগে ঝরা পাতায় পায়ের


শব্দে হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিলো; বিষয়টা


আমলে দেই নি; ভেবেছিলাম বনের


আবাসে এমন পদশব্দ হয়েই থাকে; বিছানা পাল্টে


আবার ঘুমুতে যাই; চারিদিকে মেঘের পালক


কাশবনের মৃদুমন্দ সমীরণ; শিশিরের


শীতল পরশ আর রাতের পোকার


ধীর লয়ে গান; ক্যালেন্ডারে কয়েক পাতা


উল্টালে সবুজ পাতায় কিট


দেখে শঙ্কিত হই; পলক না


ফেলতেই পঙ্গপালেরা আসে ধেয়ে


অসাবধানে বেহুলা লোহার বাসরে


ফুটো খুঁজে পায় নি; পরিণামে


সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য।

কবিতা || বয়স হয় না || আশীষ কুন্ডু

 বয়স হয় না




বাস্তবে আমাদের কোনো বয়স হয় না

এ সব সংখ্যাতত্ত্ব, 

সময় বয়ে চলে নিজ নিয়মে ,

আমরা এই অখন্ড জন্ম-মৃত্যু ধারায়

খুঁজে পেতে চাই আংশিক অবস্থা !

বয়স হয় না অনাদিধারার

খড়কুটো আমরা -ভ্রমে বয়স মায়ায়!

এ পৃথিবী অলীক কল্পনা! 

প্রক্ষেপিত আংশিক আনন্দে 

মিথ্যা মায়ার মরীচিকা লুব্ধক! 

এ প্রাণ রূপান্তরে নব নব কলেবরে

জন্ম ও বয়স নিমিত্ত মহাকাল নিরিখে

আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকবো 

আমি চিরন্তন, আমি সত্য, আমি মৃত্যুহীন

জন্ম-মৃত্যু কালধারার দুই তীরে

অস্তিত্ব বিলীন এক ধ্রুবসত্য। 


কবিতা || অজানা || সৈয়দ শীষমহাম্মদ

 অজানা 

        



মিহির কুন্ড থমকে গেলো

সাগর লবন সব হারালো,

মন মহাজন রয় গুটিয়ে 

ভাবনা গুলো যায় পালিয়ে,

বলার মতো নাইকো কিছু 

নাই কিছু আর উঁচু নিচু,


পৃথিবীতে চেপে শুন্য হাতে 

যাচ্ছি এ কোন অজানাতে l

কবিতা || শান্তির নীড় || বিমান প্রামানিক

 শান্তির নীড়




চল্ ফিরে যায় নীড়ে

দেরি করিস কেন ওড়ে। 

তোর আসন কোথা গেল

চুল কেন এলো মেলো? 

তোর গলায় কিসের আঁচর?

দেখে কন্ঠে উঠে মোচর। 

বাক রুদ্ধ হয়েই থাকা

ওরে আমার চীর সখা। 

আমি ছিলাম তোর অপেক্ষায়

তোর আসার সময় হয় নাই? 

বিধাতাও আজ বিমুখ হয়ে

আমিও সেদিক পানে চেয়ে। 

তোর জন্য আসনখানি পাতা

আমি রয়েছি হয়ে ছাতা। 

আয় তবে আয় এবার

শান্ত করবি তবে সবার। 

মনের ভাবনা যত তাদের

তুই রাখিস শান্তিতে ওদের

আবার বলছি সেকথা তোরে

চল ফিরে যায় নীড়ে।

কবিতা || অস্তমিত নিষ্ঠা || নমিতা বোস

 অস্তমিত নিষ্ঠা 



 


অস্তমিত নিষ্ঠার রংটাই বুঝি এই রকম---

জীবনে জল ঢালে আগুন থেকে জ্বালানি নিয়ে,


যৌবনে রং লাগায় স্বপ্নের পারানি দিয়ে,


উচ্ছ্বাসকে টেনে তোলে উদ্বেগকে জব্দ করে,


বিবেককে ভর্তুকি দেয় বন্ধনকে স্তব্দ করে ,


রাস্তায় নেমে ছোটে ঘট ভরার প্রবণতায়,


আবার অকপটে ফিরে ও তাকায় অস্তিত্ব খোঁজার অস্থিরতায়,


আসন পাতে মন্ত্র পড়ে,আহ্বান করে মান্য করে,


আর অবশেষে ! উত্তেজনার উচ্ছিষ্ট দিয়ে দীপ জ্বালে শূন্য ঘরে 

কবিতা || চাতকের ডানায় মেঘেদের ঘর || আব্দুস সালাম

 চাতকের ডানায় মেঘেদের ঘর




কত দিন বৃষ্টি হয়নি

যন্ত্রনার মাকুতে বোনা হচ্ছে বিষন্ন সুর

চাতকের ডানায় এঁকে দিলাম মেঘেদের ঘর


সাঁঝের লিপস্টিক ভেজা আলোয় দেখি পরিকল্পিত গর্জন

মোহের বারান্দায় খেলা করে সময়ের ধূর্ত শেয়াল

সময়ের ধারাপাতে আঁকা যন্ত্রণার শতকিয়া


ওগো প্রত্যয়ের বাঁশি,বাজলে ডেকে দিও

ঐ দ্যাখো চেয়ে আছে আমার উদাসী বউ--

চোখের কোনে তার নেমে আসছে অন্ধকার

রাস্তার মোড়ে খ্যাপাটা গাইছে

"এ দুনিয়া----

ইয়ে মেহেফিল!

মেরে কাম কি নেহি-"


কবিতা || বিবেকানন্দ || অভিজিৎ দত্ত

 বিবেকানন্দ 




বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ 

জাতিকে দিয়েছিলেন অভয়মন্ত্র 

উঠো,জাগো, লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য 

নিজের উপর বিশ্বাস রাখো।


ভারতবর্ষের অবস্থা চাক্ষুষ করার জন্য 

পদব্রজে ঘুরেছিলেন সারা ভারতবর্ষ 

বুঝেছিলেন অশিক্ষা আর দারিদ্র্যে

ধীরে,ধীরে শেষ করছে ভারতবর্ষ। 


তিনি বুঝেছিলেন 

জড়ের শক্তিতে নয়,চৈতন্যের শক্তিতে

জাগাতে হবে দেশকে।

তাই তো আমেরিকার আমন্ত্রণ পেয়ে

যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বধর্ম সম্মেলনে।

সেখানেই তুলে ধরেছিলেন 

সনাতন হিন্দুধর্মের শ্রেষ্ঠত্বকে।

যার মূল কথা,জীবে প্রেম করে যেইজন 

সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। 


বিবেকানন্দ নিজের সমস্ত জীবন 

উৎসর্গ করেছিলেন দেশ ও দশের জন্য 

তৈরী করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন

সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও সেবার জন্য। 


বিবেকানন্দের বাণী ও রচনার দ্বারা

উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন ভারতের বিপ্লবীরা

এমনকি নেতাজীর চিন্তাধারার

প্রভাবিত হয়েছিল তার দ্বারা।


অথচ আজকে স্বামীজীর সাধের ভারতবর্ষে

মণীষাচর্চা অবহেলিত 

অপসংস্কৃতি,ধর্ম আর জাতপাতের ভেদাভেদে

দেশ আজ দ্বিধাবিভক্ত। 


বহুবৈচিত্র্যময় দেশ ভারতবর্ষ 

আজ নিজেদের মধ্যেই 

হানাহানিতে লিপ্ত। 

ভেবে দুঃখ হয় ,এটাই কী স্বামীজীর 

সাধের ভারতবর্ষ?

কবিতা || টোপ || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

 টোপ




যে যতখানি ঘোলা জলে ছড়াতে পারে সুগন্ধবতী টোপ

সংযম ছিঁড়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে যায় মাছ,বেপরোয়া

হেঁচকা টানে কেউ কেউ ফুটন্ত কড়াইয়ের তেলে

বাকী সব আয়াসে শরীরের ওজন বাড়ায়।

ঠিক এই অঙ্কটা বুঝতে বুঝতে হাত থেকে পিছলে পালায়

সূর্য ওঠার গীত সঙ্গীত।

কবিতা || ভাবনাগুলো || দিলীপ কুমার মধু

 ভাবনাগুলো



ভাবনাগুলো এক জায়গায় জড়ো হয়

গোল পাকায়,

গাছের প্রতিবিম্ব গাছ নিজেই দেখে ।


কতকটা আলো আর কতকটা কালো

মিলেমিশে,

একটা মাঝারি পৃথিবী তৈরি করে ।


ভালোবাসা ভাঙে ঠুনকো হাওয়ায়

ওদের ভাবনায়,

কাল মাঝরাতেও নাকি একাত্মতা ছিল ।


পৃথিবীটা নিচের দিকে গড়াচ্ছে

গড়াতেই থাকুক,

যদি পারো সজোরে একটা ধাক্কা মারো ।


পাতিলেবুর রস নিংড়ে খাওয়া যাদের শখ

তাদের তো,

একটা মাত্র পাত্র পেলেই চলে ।

কবিতা || সৃষ্টিকে ভালোবেসে || সুব্রত মিত্র

 সৃষ্টিকে ভালোবেসে




আবারও আসুক এমন দিন

হয়ে উদ্বেলিত করবে পবন নৃত্য

পৃথকতর মনোকামনা হবে আরও মসৃণ,


হাসবে দেখো ঐ শিশুদের পবিত্র স্বচিত্র অঙ্কন

মুহূর্তেরা নেচে নেচে গাইবে গান মনেরা করবে ভ্রমণ,

দেশ; কাল; সময় উঠবে ভরে উষ্ণতায়

প্রজন্মেরা হাসবে আবার প্রাণ খুলে; আবার কোন নব মুগ্ধতায়,


থাকবো আবার স্মৃতিচারণে হাতটি রেখে দিনটি তোমার অপেক্ষায়

রামধনুর ঐ সাতটি রঙের রংতুলিতে মন রাঙায়,

গুণীজনের মাঝে আমার সৃষ্টি যেন থাকবে ভেসে

এখন না হয় করবো সাধনা আবারও সৃষ্টিকেই ভালোবেসে।


প্রদর্শনগুলো হবে আপন দিনযাপনের মুগ্ধতা

আলোরন মুখরিত প্রজন্ম হবে পরিণত প্রদর্শন হবে যত চর্চার খাতা,

সৃষ্টির মিষ্টি বৃষ্টিতে ভিজে যাক অসচেতনতার অন্ধ বাতাস

কচিকাচার দল আবারও হবে চঞ্চল সময়ই ওদের দিয়ে যাবে আশ্বাস।


হে; গুরুজন যত, সাথে থেকো আজকের মত

তোমরা যে যুগের কান্ডারী, তোমরা যে জ্ঞানের ভান্ডারী

ছোট ছোট হাতে পড়িয়ে দিও এক দীর্ঘতম যাত্রার উচ্চ প্রয়াসের কর্মসূচি,


আমি প্রতিজ্ঞার আশ্বাস গায়ে মেখে তোমাদের গান যাবো গেয়ে

মুক্তকণ্ঠে মুক্ত মুক্তবাণীর ছবি

আবারও যাব আমি লিখে ও বলে,

আমি যে সৃষ্টি কে ভালবাসি।

কবিতা || কথা || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 কথা




আজ তুমি অনেক কথা বলো

আর আমি লুকিয়ে রাখছি কথা

ফুরিয়ে যাওয়ার আগে,তুমি আমি ফুরিয়ে যাব একদিন, কিছু কথা চাপা থাক কান্না জলের দাগে, কৃপণের মতো রেখেছি কথা জমা

এ জগতে শেষ চুমুক দেওয়ার আগে।