Monday, March 7, 2022

রম্যরচনা || অন্ধকারের উৎস হতে || সামসুজ জামান

 অন্ধকারের উৎস হতে

                  


 “ অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো...” এই আলোর গুরুত্ব আমাদের জীবনের জন্য নেহাত কিছু কম নয়। বরং বলা ভালো সময়ে সময়ে সেই আলো স্বর্গীয় দীপ্তিতে আমাদের জীবন যৌবনের প্রতিটা প্রতিটা মুহূর্ত কে আরো অনেক বেশি উদ্ভাসিত করে দেয়।

                       আমার আন্দামানের শিক্ষকতা জীবনের সামান্য একটা ঘটনা। এমনিতে সম্পূর্ণ শিক্ষকতা জীবনে হাতেগোনা দু-একদিন মারধর করেছি। কিন্তু সেদিন দয়াল নামের অত্যন্ত দুরন্ত একটি ছাত্রকে মারার ফল খুব বিপদজনক হবে সেই চ্যালেঞ্জের মুখে এক সহকর্মী খানিকটা বাজেভাবে আমায় ঠেলে দিয়েছিল। ক্লাসে পড়াচ্ছিলাম জীবনানন্দের কবিতা। ঠিক সেসময় খুব ঔদ্ধ্যত্যের সঙ্গে ক্লাসের বাইরে থেকে দুলালের আগমন। দুম করে বিঘ্ন ঘটানোয় অসহ্য হয়ে বেধড়ক মার দিয়েছিলাম দয়ালকে। দুলাল নাকি খুব বাজে ছেলে? কিন্তু মাথা নত করে আমার মার আশ্চর্যভাবে নীরবে সহ্য ক’রে আমার মনের অন্ধকারে দুলাল আলো উৎসারিত করেছিল সেদিন। কোন ঔদ্ধত্যের প্রকাশ' নয় বিনয়ের সঙ্গে দুলাল মাথানত করে বলেছিল "স্যার, আর কোনদিন এরকম ভুল করবোনা স্যার!"

  সঙ্গে সঙ্গে আমার উপলব্ধিতে নিজেকে ঠিক সেই মুহূর্তে একটা পশুর মত মনে হয়েছিল। ছি: ছি: ছি:! লজ্জায় কেঁদে ফেলেছিলাম আর ভেবেছিলাম এত বড় ভুল করলাম ছেলেটাকে ওভাব মেরে? কত কিছু শিখতে আমাদের বাকি আছে এখনো আমাদের। মন থেকে কেউ যেন দেখিয়ে দিয়েছিল 'অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো' সত্যিই কখন কিভাবে যে আমাদের মনে সাড়া জাগায় তা অকল্পনীয়।

                     জীবনে উপলব্ধি করেছি আসলে খুঁজে নিতে জানলে তবেই কালো মায়ের পায়ের তলায় আলোর নাচন দেখা যায়। মন বিক্ষিপ্ত থাকলে শান্ত সংযত না হলে সেই আলো দেখা যায় না, দেখা যায় শুধু অন্ধকার। সেইজন্যেই কবি বলেছেন "কেউ নয়ন মুদে দেখে আলো, কেউ দেখে আঁধার"। আসলে অন্ধকারের উৎসেই লুকিয়ে থাকে বিদ্যুতের ঝলক। কালো অন্ধকারময় রূপের আড়াল থেকে ভুবনমোহিনী হাসি নিয়ে আলোয় আলোকিত হয়ে আবির্ভূত হন ভালবাসাময় পরম সিদ্ধপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ। তাই সন্তান বিয়োগব্যথার পাথার বুকে করেও নজরুল চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া পৃথিবীর রূপে নিজেকে হারিয়ে ফেলে সেই মুহূর্তে পৃথিবীর রূপ সুধা আকন্ঠ পান করতে পারেন। অগনিত স্বজনবিয়োগ অগ্রাহ্য করেও কবিগুরু তাই অন্ধকার নয়, আলোর হাতছানি উপলব্ধি করেন। আর শান্ত মনে পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণ করেন– "আনন্দধারা বহিছে ভুবনে....।”

        

রম্যরচনা || গল্প লিখতে হবে || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 গল্প লিখতে হবে 


 


 নাটক, গল্প আমার দ্বারা সম্ভব নয় জেনেই কি এই আব্দার! যেমন শিশু জেনে বা না জেনেই বোধহয় তার বুড়ো দাদুর কাছে আব্দার করে ঘাড়ে ক'রে বেড়াতে নিয়ে যাবার। বায়না ধরে। দাদু তখন নিজের শরীরের বিভিন্ন ধরনের অসুখে জেরবার! তাতে কী! শিশুর আব্দারের মূল্য কি নেই! তবু দাদু ছুটি পায় না। আমারও বোধহয় সেই অবস্থা। কিন্তু অগত্যা--

   কলম ধরেছি।হয়তো কিছু একটা দাঁড়াবে শেষমেশ। সেটা গল্প কিনা বলতে পারবো না। প্রত্যাশা বেশি হলে সেখানে ত্রুটি থাকবেই। সেই ত্রুটিমুক্ত কিছু লেখা বাংলা সাহিত্যের পক্ষে বর্তমানে প্রচুর গল্পকারের কাছে নিন্দনীয় হতে পারে।কিংবা মঙ্গল বা অমঙ্গলও হতে পারে। যদিও সেটার বিচার করার ভার অবশ্যই আপনার। 

  একদিন এক অল্পবয়সী ছেলে বাবার কথায় সাড়া দিয়ে সব ফেলে নামলো জীবন নদীর তীরে নৌকো না পেয়ে। লাভ হয়েছে। 

    অনেকেই পেরিয়ে গেছে কিন্তু সে পেরোতে পারেনি। 

     পৃথিবীর মাঝে সে একা বিবর্ণপ্রায় দিন কাটায় আজও। তার কথা ভুলেও কেউ মনে রাখে না আর। তার নাম কী দেব বলোতো! সেতু নাকি তক্তা হীন কাঠের পোল।! বিধাতা পুরুষ নাকি নারী সে দ্বিধা দ্বন্দ্ব যেমন থাকবে বা আছেও। তবুও আমি যে কথা চলে আসছে বহু বছর ধরে সেটাই লিখছি-- "বিধাতা পুরুষ"! 

 হ্যাঁ বিধাতা পুরুষ আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে সেতুর মতো শুইয়ে সকলের পারাপারের ব্যবস্থা করেছে। আমি কিন্তু সেই আগের মতোই রয়ে গেছি আজও এখনও। ওপারে যাবার উপযুক্ত হতে পারিনি। 

     সেতুর ওপর দিয়ে যারা পেরিয়ে ওপারে গেল তারা আর খোঁজ রাখেনি আমার। আমি তাহলে সেতু নাকি অন্য কিছু!? এ ক্ষুদ্র পৃথিবীর অতি পুরোনো এক মাধ্যম যেমন! 

     বাঁশঝাড়ে যেমন অনেকরকম শব্দই হয় একটুখানি হাওয়া দিলেই। সেতুও পুরোনো বলেই হয়তো নানান উদভৎ শব্দ করে।। কখনো চিৎকার করে আবার মড়মড় শব্দে ভেঙে যাচ্ছি বলতে চেয়ে সাবধান করে সকলকে। যাই হোক্ যারা পারাপারের যাত্রী তারা কিন্তু কেউ কি খেয়াল করে এটা! 

 বোধহয় না।

এই গল্প তো একটা শিশুও লিখিতে পারে। তাই না! । আর আমি কি আর নতুন লিখলাম! বিড়ম্বনা লাঞ্ছনা বিদ্রুপ নাজেহাল ক'রে কয়েকটা বানী উচ্চারণ করেছি মাত্র। আমি তো এখন পড়ে আছি সেই আগে যেমন ছিলাম এখনও সেই পারাপারের মাধ্যম সেতুর মতোই। আমার ব্যথা আমার পাপ ঐ বাল্মীকি বা দস্যু রত্নাকর এর মতোই। কেউই কষ্টের ভাগ নিতে চায় না। 

     নদী বড় বা ছোট যাই হোক সেতুর কাজ রোদ্দুর দেখিয়ে বা পেয়ে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পথ দেখিয়ে দেয়া। আমি সেই কাজটা হয়তো ভালোই করেছি মনে হয়। 

    তোমরা ও শেষে শিশুর মতোই শুনে বলবে হয়তো ধুর এটা কী গল্প হলো! যত্ত সব আবোল তাবোল! তবুও এই গল্প টার মধ্যে সহজ সরল কিছু বক্রোক্তি আছে। নেই উপাদান। তাই এটা গল্প নয়। এটা শেষের শুরু বলা যেতে পারে। মাথা মুন্ডু কিচ্ছু নেই। সূখ দুঃখ হাসি কান্নার লেশমাত্র নেই। অতএব আমি ডাহা ফেল। 

    তার চেয়ে যাই দেখি ওদিকে রোদ্দুর উঠেছে কিনা। 

বর্ষা শেষ। বসন্ত ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে চাইছে, কিন্তু কেউ যেন বাধা দিচ্ছে নিম্নচাপের ভঙ্গিতে। 

   হয়তোবা পুষ্টি উপাদানের সাথে ভেজাল নেই এতে-- তাই এটা গল্প হয়নি। হয়েছে কিছু অনাবশ্যক কঠিন বাক্য বিন্যাস মাত্র। 

   এটা না পড়াই বোধহয় ভালো।। 

   আমি এখন একটু নিস্তার চাইছি। আবার পরে বলবো যদি কিছু পারি।।

গল্প|| অবিকল || আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস


                         অবিকল


              


   আমার এক বন্ধুর নাম মজিবুর। একটা সেকেন্ডারি স্কুলে সে শিক্ষকতা করে। বিরাট এক বড়লোকের মেয়ের সাথে তার বিয়ে হচ্ছে। অনেক টাকা পয়সা এবং সোনা দানা তাকে উপহার দিচ্ছে। বিয়েতে সে আমাকে বরযাত্রী বলেছে। আমি তার বিয়ের বরযাত্রী এসেছি। বউ দেখতে খুব সুন্দরী। নাম নার্গিস। খেতে খুব ভালো দিয়েছে। খাওয়াদাওয়া সেরে সবাই একটু ঘুরতে বেরিয়েছে। কিন্তু আমি না বেরিয়ে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমার সাথে কেউ নেই। আমি আর আমি ছাড়া। দাঁড়িয়ে আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছি। সিগারেট, বিড়িতে যদিও আমার সেরকম কোন নেশা নেই। তবু বন্ধু দিয়েছে বলে।

   আর এইসময় হঠাৎই একটা টোকা পড়ে আমার পিঠে---আমি ওদিকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হচ্ছি, আর তুমি এখানে---

   কণ্ঠটা একটা নারীর। ফলে আমি চমকে উঠে তাড়াতাড়ি তার সোজা হয়ে দাঁড়ালাম।

   নারীটির ঠোঁট লাল আর পরনে লাল শাড়ি। যাকে বলে ঝলমলে পোশাকে সে সুসজ্জিতা।

   অমনি সে ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল---সরি! আপনাকে দূর থেকে আমার স্বামী ভেবেছিলাম। আপনি অবিকল আমার স্বামীর মতো দেখতে।

   ---তাই?

   ---হ‍্যাঁ।

   নারীটি এরপর চলে গেলে আমি মুগ্ধ হয়ে তার চলে যাওয়াটা তাকিয়ে দেখলাম।

                        

অনুগল্প || সম্ভব না || সিদ্ধার্থ সিংহ

 সম্ভব না




---- শোনো না, জরুরি দরকারে তোমাকে ফোন করলাম। আমার পক্ষে তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব না।
প্রেমিকা হতবাক। সে বলল, কেন? আমি কী করলাম?
প্রেমিক বলল, আমি তোমাদের বাড়ি গিয়েছিলাম।
--- বাবা কিছু বলেছে?
প্রেমিক বলল, না না, তোমার বোনকে দেখলাম।

কবিতা || দূষণ || অভিজিৎ দত্ত

 দূষণ 






ঘরে,বাইরে দূষণ আজ 


ছড়িয়েছে সর্বত্র 


দূষণের প্রভাবে মানুষ আজ জেরবার 


বেঁচে থাকাটাই অনেকের কাছেই 


মুশকিল হয়ে পড়েছে আজ। 




দূষণকে যদি নিয়ন্ত্রণ 


করতে না পারো 


সভ‍্যতার সেরা জীব মানুষ 


নিজেদের নিয়ে তোমরা 


গর্ব করতে কী পারো?




মনের দূষণ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর 


একে আগে করতে হবে পরিষ্কার 


মহাপুরুষদের জীবনি এক্ষেত্রে


সাহায্য করতে পারে অনেকখানি 


মনকে যদি আলোকিত করতে পারো


দূষণ পরাজিত হবে এবারও ।

কবিতা || আজ ফাগুনে || বদ্রীনাথ পাল

 আজ ফাগুনে




আজ ফাগুনের রঙ্ লেগেছে পলাশ বনে বনে-


মলয় বাতাস দোল দিয়েছে সবুজ সবুজ মনে।


আয় ওরে আয় , আয় রে সবাই আজকে নতুন প্রাতে-


রঙে রঙিন করবো ভুবন হাত মিলিয়ে হাতে।




রঙ লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়, রঙ শিমুলের ডালে,


ডাকছে কোকিল মধুর সুরে ঘোর লাগা সকালে।


মৌমাছিরা গুনগুনিয়ে বলছে রসাল-কানে,


"বিশ্ব ভুবন মাতিয়ে দেবো উতল প্রাণের গানে"।




শিরিষ নাচে নূপুর পায়ে ঝুমুর ঝুমুর সুরে-


মঞ্জরীদের কাছে ভ্রমর বেড়ায় উড়ে উড়ে !


এলো ফাগুন রঙ্ ছড়িয়ে বসন্ত হিল্লোলে-


নতুন পাতায়, নতুন সাজে, নতুন প্রাণের দোলে।

কবিতা || তবে একটা কথা || নবকুমার

 তবে একটা কথা 




আমি তোমাকে এক তাল মাটি দিচ্ছি 


তুমি তা দিয়ে যা খুশি বানাতে পারো ।




তবে, একটা কথা -


ভুলেও যেন মানুষ বানিও না -।


একটু বড় হলে সে ফন্দি খুঁজবে 


তোমাকে বের করার


হয়তো হত্যাও করতে পারে 


বেশির ভাগ মানুষই বেইমান


ইতিহাস তার প্রমাণ ।




তার চেয়ে একটা কুকুর গড়ো-


কুকুররা বড় বিশ্বাসী 


শেষ জীবন পর্যন্ত তোমাকে ছেড়ে যাবে না 


তোমাকে ভালোবাসবে -।




মানুষেরা ভালোবাসা জানে না 


মুখে শুধু বুলি আওড়ে যায় 


একেকটি কৃতঘ্ন ।

কবিতা || তমসার পারে জ্যোতির্ময় || চাঁদ রায়

 তমসার পারে জ্যোতির্ময়





আলোয় কালোয় মেশানো পথের


অনেক টা আজ পেরিয়ে এসে


পেলাম তোমার আশিস্ প্রভু


পথ হারানোর পথের শেষে। 


আমার মধ্যে ছিলাম আমি


ভাঙালে ঘুম তুমিই এসে


জেগেই হলাম তোমার আমি


তোমাকেই আজ ভালোবেসে। 


আলোর পথে দৃষ্টি আমার


যেখানেই আজ যাচ্ছে মিশে


সেই সীমানার পারেও তুমি


আমার 'আমি' তোমার পাশে। 


যে গানে আজ যে সুর শুনি


মিলছে তোমার সুরে এসে


সব সুরই যে বাঁধা দেখি


সেই সুরের আদি মধ্য শেষে। 


মন্দ ভালো আঁধার আলোর


পেরিয়ে সবের প্রান্তে এসে 


তুমিই দেখি আমার জ্যোতি


 তমসার পারে আলোর দেশে।

কবিতা || নিভন্ত প্রতিবাদী || রাজীব দত্ত

 নিভন্ত প্রতিবাদী




আমারও কিছু চাওয়ার আছে,


আমি হতে চাই অন্ধ,


আমি হতে চাই বোবা,


আমি হতে চাই কালা,


এই ছলনাময় সমাজের,


আমিও একটা জড় পদার্থ।


শিরদাঁড়া গুলো কবে যে ভেঙ্গে গেছে


কবে যে হারিয়ে গেছে মনুষত্ব।


চারিদিকে শুধু মিথ্যে আর বঞ্চনা


চারিদিকে শুধু অসহায়ের কান্না।


প্রতিটা রাতে প্রতারিত হয়,


মানুষ নামক জন্তুর বিবেক আর চেতনা।


হ্যাঁ আমি চাই বোবা কালা অন্ধ হতে,


যাতে শুনতে না পাই সব অন্যায়,


যাতে শুনতে পাই খুনখারাপি আর ধর্ষণ,


সবকিছুতেই অর্থের প্রলোভন।


প্রতিবাদীরাও মরে যায়,


অর্থের ক্ষমতায়।


আমি তো কেবল চুনোপুটি


হারিয়েছি শিরদাঁড়া আর দাঁত কপাটি।


তাই আমি আবারও চাই,


বোবা কালা আর অন্ধ হতে,


যাতে আবার না সামিল হই ঐ রক্তমাখা প্রতিবাদে।



কবিতা || দরজা বন্ধ || আশীষ কুন্ডু

 দরজা বন্ধ 




আজ শুধু ভাবনারা ভালবেসে বলে-


দেখো চেয়ে-



দরজাটা বন্ধ, ওপারে ভিড়


কথার, শব্দের প্রজাপতির 


ব্যঞ্জনাময় ,এ বেপথু মনের 


আলো ফাঁক চুঁয়ে আবেগের !




দরজা বন্ধ, এপারে অভ্যাস 


সময় থমকে , মনের দাস


তমসায় হয়ে গেছি নিমগ্ন


বাদী করাঘাতে,মনটা বিপন্ন !




ওপারে অনড় অতীত পড়ে 


বন্ধ মন রেখে বিকল করে


শব্দের খাঁচায়, নেই জানলা


বিবর্ণ চিঠি রয়েছে খোলা! 




এখন পৃথিবী হয়নি শীতল


গভীরতা অসীম,মনের তল


ভেঙ্গে যাক এই মনদুয়ার, 


জীবন, যৌবন সব অসার।

কবিতা || ছলছল অমর পাথর || সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

 ছলছল অমর পাথর 




আততায়ী চাঁদ বিছানার ওপর লুটোপুটি খায় 

অসংযমী ভদ্রতায়


 অসুখের ছায়া আরো গভীর,গভীরতর 


বিরল প্রতারকের এমন 


অপার মধুর হাসির বন্যায়। 

সুন্দর প্রাকৃতিক দান তাই বিবর্ণ, 

মৃত্যুখাদে জীবন্ত প্রতিছব্বি প্রতিদিন 


ঘোলাটে হৃদয়ের অস্পষ্ট কর্নিয়ায়। 

ছলছল ভাষা অবিরাম কথায় কথায় 

বিষন্ন পামরের ভূমিকায়। 

কবিতা || নাগপাশ ফেলে || বলাই দাস

 নাগপাশ ফেলে  


 




বাঁকাচোরা পথ জোয়ারের ঢেউয়ে নিঃস্ব হলেও স্বাগত 


তুমিতো একাই মাতিয়ে রাখো ধরিত্রীর হৃদয়, আবার কাঁদাতেও---


প্রেমের মাঝে লুটোপুটি-- তখন খিল্ খিল্ হেসে ওঠে বাতাস কৃষ্ণচূড়ায়। 


চৈত্রের পোড়ামাঠ, মরুস্থলি, থরেরও থাকে একটা সৌন্দর্য-- মাধুর্য---


এতকিছুর পরেও হৃদয়তো পেতে চায় একটি প্রস্ফুটিত গোলাপ


প্রিয় ভালোবাসার কাছে সবকিছুই হারমানে বসন্তের ছোঁয়ায়। 




ওই সরমিন্দা চাঁদও মেঘের কোলে ডুবতে ডুবতে বেঁচে ওঠে 


সত্য--সুন্দরকে ভালোবেসে--    


যে দিয়েছে হাজার আঘাত তবুও তার জন্য প্রার্থনা, বৃষ্টির একফোঁটা স্বচ্ছ ফটিকজল, অথবা সঙ্গতিপূর্ণ বাষ্পীভূত শিশির পড়ুক ঝরে...

কবিতা || মুখ বদলায় না || উদয়ন চক্রবর্তী

 মুখ বদলায় না 





মিথ্যে কথার ফুলঝুড়ি


আর প্রতিশ্রুতির সুনামিতে


ভেসে যাচ্ছে ইতিহাস -



মৃত্যু সেতো একটা ভাগশেষ


মেমরিতে সংখ্যা হয়ে শুয়ে থাকে


সেখানে খুঁজে দেখা সত্যটা ধূসর


ক্ষমতার জীবাষ্মের বালুচরে




বর্তমান সমুদ্রের আস্ফালন বারংবার


বলে চলে অতীত চিত্রনাট্য রামধনু এঁকে আকাশ রূপ বদলায় বারবার


রাজা বদলায়-মুখ বদলায়


রাজনীতি তার মুখ বদলায় না


রাজার পোষা সরীসৃপ শ্বাপদেরা


পাল্টে নেয় শিবিরের ছাউনি।