Monday, February 27, 2023

সুন্দরের ক্ষমতা - পাভেল রহমান || কবিতা || Poetry || Poems

 সুন্দরের ক্ষমতা

পাভেল রহমান


যাহা সুন্দর, যাহা মার্জিত

সকলেই তাহে আকর্ষিত।

একমাত্র সুন্দরই পারে হরিতে সর্বাকর্ষন

তাই হও সুন্দর তুমি ওহে আমার মন।

যাহা শ্রীময়, তাহার ক্ষমতা

বিস্তৃত যথা তথা

শ্রীর দুই রূপ : দেহশ্রী ও গুনশ্রী।

কমবেশি সমাদৃত হলো উভয় শ্রী।



অতঃপর ধ্রুবতারা - রোকেয়া ইসলাম || কবিতা || Poetry || Poems

 অতঃপর ধ্রুবতারা

রোকেয়া ইসলাম 



আমাদের অর্ধ প্রবাহিত সব নদীর নাম হবে মৃত্যু বালুচর

ইলিশের স্বপ্ন ঝিলিকে অন্ধ হবে প্রতীক্ষায় থাকা ক্ষুধার্ত কৈবত চোখ 

মাতৃভাষা থেকে মুছে যাবে হারানো ধান-বীজ লাবণ্য সুষমার গৌরব

সত্যনিষ্ঠ চাষীদের ক্লান্ত স্মৃতি হাতড়ানো

সোনা গ্রামগুলো জুড়ে আলোকিত জলশূন্য হাহাকার 

ডিজেল বা ইউরেনিয়াম নির্ভর 



শোকে নিরন্তর সন্তাপ করে সোনালি তন্তুর স্মৃতিময় আঙুলগুলোতে 

সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের ফেঁসে যাওয়া জ্ঞান গরিমায়

সূর্য ডোবা রঙ ছুঁয়ে আছে

নিবির হীম স্রোতেব প্রতিটি বাড়ির উঠোনে থমথমে বাকরুদ্ধ 

আমাদের সুপ্রাচীন বৃক্ষ এফিডেফিড করে বনসাই 

শুনতে পাচ্ছ মৃত্তিকা? তোমার বালুনদী ঘেরা হাউজিং কোম্পানির কাছে.... 


প্রাণের শেকড় উপড়ে উতল জোছনায় অপ্রাপ্তি নিয়ে বসে আছে 

মৃত্যু বীর্যধারী শব্দ পুরুষেরা 

সুপ্রসবিনী নারীরাও ক্রমাগত বন্ধাকরণ বিকলাঙ্গ কবিতা জন্ম দিতে দিতে 

আজ ব্যাথামুক্ত এম আর ডি এন্ড সি দিবস 


নদী শস্যবীজ ফুলের সৌরভ মানব সৃষ্টির উল্লাস ঢেকে দেয় অদৃশ্য কালো কায়া 

রাক্ষুসে যাগযজ্ঞের স্বপ্ন বোণা মেধা মনন ছুটি নেওয়া শুদ্ধ বাসনা

দুঃসময় গণনার প্রহর অন্তহীন 

আজ আকাশে অনুপস্থিত শিল্পাশ্রয় ধ্রুবতারা.... 




কবিতার খোলা প্রান্তরে অনির্বাণ প্রতীক্ষায় আছি 

নারী ও পুরুষের প্রেমে জন্ম দেয়া শিশুর 

যে কথা বলবে গণমানুষের কন্ঠে

শহিদমিনার - সোহেল রানা || কবিতা || Poetry || Poems

 শহিদমিনার

  সোহেল রানা 


রক্তে রাঙানো বুক! 

যেনো সূর্যের নির্মলতর রূপ, 

সহস্র প্রাণের উদীপ্ত মুখ। 


প্রতীক্ষার প্রহরে - বাগানের ফুল, 

হৃদপিঞ্জর.. চন্দনকাঠের চিতায় দাউ দাউ জ্বলছে! 


আকাশ গহীন অন্ধকারে!

নক্ষত্র শোকে বিবর্ণ! মোমবাতির ঝড়োকান্না এবড়োখেবড়ো শিখায় জ্বলছে! 


সেই আগুন ঢেলে দেবে!

কখন রাত্রির মধ্যপ্রহর অতিক্রম করবে 


ভোর; 

আকাশে রক্তের গন্ধ! 

ধূসর ডানার চিল এলোমেলো মাতালের মতো! 

বাতাসে করুণ স্পন্দন ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত -

শান্ত সাগরে অশান্ত ঢেউ : রক্তস্রোতে দাঁড়িয়ে মা 

আর পাহাড়-শূন্যতায় খাঁ খাঁ হৃদয়ে - বাবা! 

আর প্রেয়সীর শীতে ভেজা কানাকুয়ার চোখ! 

যেমন বেত ঝোপের শীষে ডুবায় আটকা-পড়া কানাকুয়া! 

আর বোনের চোখে অগ্নিশিখা - ধুলো বাষ্প হয়ে উড়ছে! 

আর ভাইয়ের বুকে বিদ্ধ বুলেটে সহোদরদের হৃদয় খান খান! 

তাই, কপালে কাফনের কাপড় বাঁধা - রক্তাভা! 

বুকে কালো ব্যাচ!



একটু সময় হবে - দেবাশীষ ঘোষ || কবিতা || Poetry || Poems

 একটু সময় হবে.....


      দেবাশীষ ঘোষ


ব্যস্ত রাজপথ ধরে হেঁটে

 চলেছো বন্ধু


 একটু সময় হবে

  চেয়ে দেখার!


 দেখো-

 কতোটা রং

 নিয়ে বসে আছে কৃষ্ণচূড়া


 অসীম আকাশ থেকে 

 নেমে আসছে 

 নীলচে পাপড়ি



 প্রজাপতির ডানার সূক্ষ্ম শব্দে

 দু চোখে সেজে উঠছে

 সুপ্ত স্বপ্ন


  একটু সময় হবে!

 ব্যস্ত রাজপথ থেকে নেমে

 আসার।

বলীদান - মাইসার মন্ডল || কবিতা || Poetry || Poems

 বলীদান

মাইসার মন্ডল



সব শত্রুকে ক্ষমা ক'রে পঞ্চশত্রুকে দাও বলী,

ন‌ইলে ওরা সব‌ই তোমার দেবে গো জলাঞ্জলী!

কাম-ক্রোধ-লোভ-মদ-মোহ- আর মাৎশর্য ,

হারাবে ওরা তোমার সুপথে চলার সকল ধৈর্য!


পূত পুষ্পাঞ্জলী তোমার হাতের করবে ওরা হরণ,

যদি করো তুমি ঐ শত্রুদলের "বন্ধুত্ব " বরণ----

ইহকাল-পরকাল তবে অশুভ‌ হবে রেখো স্মরণ,

,পঞ্চশত্রুকে দিলে বলী বদলে যাবে ধরার ধরণ।


কলহ-বিবাদ ধরণী হতে বিদায় নেবে চিরতরে,

দিবানিশি হর্ষভরা অমিয়ধারা ব‌ইবে ধরা পরে।

বিন্দু পরিমাণ‌ও হবে না কার‌ও শোণিতপাত,

হবে ধরা আলোকভরা আসবে নবীন প্রভাত!


 বিচারের বাণী কাঁদবেনাকো নিভৃতে নীরবে,

 ধুঁকে ধুঁকে মরবেনাকো মানবতা এই ভবে।

ইহলোক ও পরলোকে পেতে হলে স্বর্গসন্ধান জগৎপতির নামে পঞ্চশত্রুকে করো বলী দান।

শিক্ষা - চৈতালী বসাক || কবিতা || Poetry || Poems

 শিক্ষা

চৈতালী বসাক


শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড

এই কথাটি জানি

শিক্ষাকে তাই জীবনের 

মূলমন্ত্ৰ মানি ''


শিক্ষা মানে শুধুই তো নয়

নম্বরের ঘনঘটা

শিক্ষা করে মানব জাতির

আলোকিত মনিকোঠা ৷


শিক্ষা মোদের বাঁচতে শেখায়

পথকে করে সচল

বোধহীন দের বুদ্ধি জোগায়

ভবিষ্যৎ কে করে উজ্জ্বল


আগের দিনে গুরুর কথাই

ছিল যে বেদবাক্য

বর্তমানে নেতানেত্রী 

এই গুরুদেরই করে কটাক্ষ


বেশি বেশি নম্বর দাও

বাড়াও স্বাক্ষরতা

প্রতিযোগীতায় নামবে তারা

এটাই মূল বার্তা' 


বর্তমানে শিক্ষা নিয়ে

চলছে ছিনিবিনি

মানব জাতির মেরুদন্ড

শেষ হবে তা জানি '


যুব সমাজের কি হাল হবে

ভাবছে না কেউ মোটে

শিক্ষাকে করছে জবাই

দুবেলা হাঁড়ি কাঠে '


নম্বরের পাহাড় নিয়ে

ছুটবে দ্বারে দ্বারে

কিছুই তাদের জুটবে নাকো

 ফিরবে না সুখ ঘরে ৷


সমাজ এবার ডুববে দেখো 

অন্ধকারের ক্রোড়ে

আমরা আবার ফিরে যাবো

আদিমের তরে ৷



মেলা - মুনমুন || কবিতা || Poetry || Poems

 মেলা

  মুনমুন


নদীর ওইপারে' বসেছে আজ,

 দাদার ঘাটের মেলা।

 ধুম ধাম পড়ে গেছে তাই চারিদিকে।

 আকাশে, বাতাসে আজ,

 মেলা,মেলা রব উঠেছে।

 বছরের সবচেয়ে বড় মেলা,

 দাদার ঘাটের মেলা।

 রাত্রি বেলা ঘুম হয়নি তাই আনন্দেতে।

 কখন আসবে ভোর,ছিলাম অপেক্ষাতে।

 কিনবো মেলায় সখের হাঁড়ি, 

 কিনবো পুতুল,খেলনা বাটি!

 এই করে রাতটি কেটেছে।

 দোলনায় চড়ার, সখটা ছিল মনে,

 তবু পাছে পড়ে যায় সেই ভয়ে,

 পিছিয়ে যেতাম পরক্ষণে।

 বাবার সঙ্গে হাতটি ধরে,

 যেতাম দুটি ভাইবোনে।

 ভাইয়ের শুধু চায় খেলনা বন্ধুক কিনে।

 হরির দোকানের রসগোল্লা, জিলিপি

 খেতাম দুজন পাল্লা দিয়ে।

 খই, মুড়কি, খুরমা,কদম,আর জিলিপি..

 নিয়ে,খুশি মনে ফিরতাম সেদিন বাড়ি।

 সঙ্গে নিয়ে, প্রিয় সেই সখের হাঁড়ি।

 কি যে মজা হতো ওই মেলার দিনে।

 আজও সেই স্মৃতি ভুলতে পারিনি।

নির্জনতা - সৌমদীপ কর || কবিতা || Poetry || Poems

 নির্জনতা

সৌমদীপ কর


ছোট থেকেই সংগ্ৰামের পথ

ক্রমশ নিভেছে আলো

ভালোটার সঙ্গই সবাই চায়

নিতে চায়না মনের কালো

হতে চাইনা কারোর জীবনে

মাথা গরমের কারণ

না পোষালে সরাসরি বোলো

কথা বলা বারণ

কুড়িয়েছি আমি নানা ধরনের

অপমান বা অভিসম্পাত

ভাঙা মন নিয়েও চুপিসারে করেছি

হাজার আসর মাত

চলবে জীবন জানি এভাবেই

কি জানি আদৌও কি কেউ বোঝে?

তাই হয়তো হারাতে চাই বারবার

 অসীম নির্জনতার খোঁজে

পদ্ম কুঁড়ি - আনন্দ গোপাল গরাই || কবিতা || Poetry || Poems

 পদ্ম কুঁড়ি

আনন্দ গোপাল গরাই


ছোট্ট পদ্ম কুঁড়ি আমি

আলোর সাথে ফুটি

সকাল বেলায় উঠি। 

একটুখানি মুচকি হেসে

আবার আমি থামি। 


ঘুম ঢুলঢুল আঁখি

সবায় চেয়ে দেখি, 

ভ্রমর আসে ছুটে

নেয় মধু মোর লুটে। 

গন্ধে পাগলপারা হয়ে

প্রভাত বায়ুর পরশ পেয়ে

নতুন ভুবন দেখি। 


কেউ রাখে গেঁথে মালায়, 

কেউ রাখে পূজার ঘরে। 

সবাই আমায় আদর করে-- 

যেথায় ফুটি সেথায় থাকি

নেইকো কোনো দায়। 




আমি - সত্যেন্দ্রনাথ পাইন || কবিতা || Poetry || Poems

 আমি

  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন



আমি দুমড়ে মুচড়ে ভক্ষণ করি

      অতীত ইতিহাস

জ্বলন্ত চিতায় পুড়িয়ে মারি

    জীবনের পরিহাস।

    সাগর থেকে শিক্ষা নিই

    কীভাবে আবার বাঁচবো

   ঢেউয়ের কাছে নতজানু হই

       কোথায় কখন নাচবো।

আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি

         মানুষ হতে শেখাও

লিখতে লিখতে জানতে পারি

        শুকতারাটা দেখাও।

চিতার আগুনে ঝলসে মারে

        অক্ষম বন্দনা

মানুষের মতো সহ্য করো

       সকল লাঞ্ছনা ।


পারিনি আজও নিজের করে

          নতুন বিষয় জানতে

    আয়না আমাকে শেখায় কতো

          নতুন পথে হাঁটতে।


আমি যেন পরিযায়ী পাখি

       উড়তে উড়তে ভাসি

চিন্তা গুলো হাতছানি দেয়

       শেখায় নতুন হাসি।

আমি আমার দুঃসহ ব্যথায়

      কাতর যখন ভাবি

মরিচঝাঁপি খুলে দেখি সেথায়

    গোছা গোছা পড়ে চাবি।।


আমি আমার বেডরুমে শুয়ে

       চক্ষু বুঁজে দেখি

কেউ কোনদিন আপন হয়না

      সবটাই শুধু মেকি।

অপমান লাঞ্ছনা সবই তোমার

           একান্ত তারা আপন

বাকি সব ধুলোয় মলিন

          করলে দিনযাপন।।


কী হবে সেটা কিছুতেই মানতে

          যদি না পারি

অক্ষম চালে কিস্তিমাত রাজা মন্ত্রী

          জায়গা ছাড়তে নারি।।


হে প্রভু, তোমার কাছে সবখানে যেন

       এইটুকু শিক্ষা পাই

সকলের কাছে মানুষ হতে  

     হাত পাততে নাই।।


  আজকে যারা আপন ভেবে তোমায়

           দিচ্ছে হাততালি

তারাই নামবে মাঠে ঘাটে পথে

     সব করে দেবে দেদার খালি।।

লম্বা জিভের গল্প - বিকাশ ভট্টাচার্য || কবিতা || Poetry || Poems

 লম্বা জিভের গল্প 

বিকাশ ভট্টাচার্য 


আগাছার মতো উপড়ে ফেললে উঠোন তো নয়

বয়সের রং গাঢ় সবুজ হয়নি তো

আদিগন্ত তৈরি হলো একমাত্রিক গল্পভুবন

নৈরাজ্যে ফসল তোলে ভুবনচষা দোসর

একলা ঘরে বায়বীয় গল্পে ডোবা চোখে

বর্ষা দ্যাখে মিঠাপুকুর বাঁশের সাঁকো থেকে

ওপারেতে তোমার বাড়ি উঠোন ছুঁয়ে জল

দু'পার জুড়ে সজল কথার তীব্র আলোড়ন 


আগাছার মতো উপড়ে ফেললে মুদ্রাদোষে

উঠোন তো নয়। গল্পটা তো লম্বা জিভের 

দূরত্ব - অঙ্কিতা মজুমদার || কবিতা || Poetry || Poems

 দূরত্ব

অঙ্কিতা মজুমদার



অতি দূর ঝাপসা সম্পর্করা -

দূরত্বে শ্বাস ফেলে।

দিন যাপনের গল্পে

কিছু সুখ কুড়িয়ে নেওয়া বিকাল,

আবার - ব্যথা হয়েও ঝরে।

পাড়ের খোঁজে পারাপার বিচ্ছিন্ন।

একই আকাশের নিচে,

একই বাতাসের স্পর্শ গায়ে মেখে,

চিরতরে বিলীন।

অন্তঃপুরের কক্ষে

বেমানান হিসেবে জর্জরিত।

বাঁধ ভাঙা জলোচ্ছ্বাসে

উপচে পড়ে অতি গভীরতা।

ছিন্ন খঞ্জনার মত নৃত্যে অবসান,

রঙ বাহারে বিবর্ণ রঙ ঢালা।।

বিষাদকুয়াশা - ইন্দ্রাণী পাল || কবিতা || Poetry || Poems

 বিষাদকুয়াশা 

 ইন্দ্রাণী পাল 



আকাশে ফুটে ওঠে ধনিষ্ঠা

 টানটান ছিলায় কালপুরুষ ; আমার বাবার মুখ

 এখানে নক্ষত্রে মিশে আছে


 কলঙ্কিনী চাঁদ নেমে যায়

 অতলস্পর্শী কুয়া----হিমশীতল অন্ধকার

 টলটলে মুখ ভাসে----বিষাদ কুয়াশা