Friday, May 3, 2024
আস্থা যখন ভাঙে - পার্থ প্রতিম দাস || Aastha jokhon Vange - Partha pratim das || Story || Short Story || Bengali Story || Bengali Short Story || গল্প || ছোট গল্প || অনুগল্প
সেই রাত - প্রদীপ সেনগুপ্ত || Sei Rat - Pradip Sengupta || Story || Short Story || Bengali Story || Bengali Short Story || গল্প || ছোট গল্প || অনুগল্প
সেই রাত
প্রদীপ সেনগুপ্ত
বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল বীতশোক, কিছুতেই ঘুম আসছিল না। সকাল থেকেই একটা অস্বস্তি ওকে চেপে ধরেছে -- কিছুতেই ভুলতে পারছে না লোকটার কথা।
সকালে বীতশোক বাড়ির পিছনের পুকুর পাড়ের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, উদ্দেশ্য তাড়াতাড়ি বাজারে পৌঁছানো। আজ বহুদিন পর ওর বড় শালা বিক্রম আসছে সপরিবারে, দুপুরে খাওয়া দাওয়া করবে। বাজারে যেতে বেশ দেরি হয়ে গেছে বলেই ওই রাস্তায় যাওয়া। ওই রাস্তা পারতপক্ষে সবাই এড়িয়ে যায়, কারন - রাস্তাটা আদপেই চলার যোগ্য নয়। ফলে, চারিদিকে পরিত্যক্ত জঞ্জাল। তবে দিনের বেলায় তবু স্থানীয় দু'একজন যাতায়াত করে।
বীতশোক রাস্তায় যেতে যেতে টের পেল
পিছনে কেউ যেন আসছে। পিছনে তাকিয়ে দেখল, একটা রোগা লোক কেমন হন হন করে এগিয়ে আসছে। লোকটাকে আগে কখনো দেখে নি বীতশোক।
লোকটা কাছে এসে বিশ্রী রকম হেসে বলল,
' বাড়িতে অতিথি আসছে বুঝি? '
এ' রকম গায়ে পরা লোক ও দেখে নি কখনো। বীতশোক বেশ ঝাঁঝিয়ে উত্তর দিল,
' আপনি কে বলুন তো? আগে কখনো দেখিনি তো! আর, আপনার দরকার কি জানার আমার বাড়িতে কে আসছে বা না আসছে? '
লোকটা আবার দেঁতো হাসি হেসে বলল,
' আমাকে আগে দেখেছেন, বিলক্ষণ দেখেছেন -- মনে করতে পারছেন না। আমি বলছিলাম, সব মানুষই তো একবার না একবার চলতে চলতে পিছন ফিরে তাকায়। আজকে কিন্তু আপনার সামনে বিরাট সুযোগ আসবে, আপনার ভিতরের কুঁকড়ে থাকা মানুষটাকে মুক্তি দিন। '
বীতশোক এবার সত্যিই রেগে গেল,
' কি যা তা বলছেন বলুন তো? '
লোকটা বীতশোককে অতিক্রম করে এগিয়ে গেল, জোরে নিশ্বাস ছেড়ে বলল,
' ভালোর জন্যই বলেছিলাম, আপনার শ্বশুরমশায়ের গচ্ছিত জিনিস আসল লোককে ফিরিয়ে দিন। উপর থেকে কিন্তু একজন সব দেখে রাখেন, প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পেয়েও যদি আপনি তার সঠিক ব্যবহার না করেন তবে... '
' তবে কি? '
লোকটা আকাশের দিকে আঙুল তুলে বলল,
' সে'টা তো তিনিই জানেন! আর একটা কথা, আজই কিন্তু শেষ সুযোগ, না হলে কালকের সকাল দেখবেন কি না কে জানে! '
এই বলেই লোকটা অসম্ভব দ্রুত বেগে রাস্তার মুখে পৌঁছে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।
বীতশোকের গলা কেমন শুকিয়ে এল। লোকটা এত গোপন একটা কথা কি করে জানল? ওর শ্বশুর মশায়ের সাথে বিক্রমের যোগাযোগ ছিল না বহুকাল, বলা যায় মুখ দেখাদেখি বন্ধই ছিল। বিক্রম বাবার উপর অভিমান করেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু বাবা ছেলের বিরোধ কি নিয়ে তৃতীয় ব্যক্তি কেউ কখনো জানতে পারে নি। বীতশোকের বৌ জয়া বাবার বিশাল সম্পত্তির মালিকানা পাবে, এ'কথা সবাই জানতো। কিন্তু জয়ার বাবা ব্রজলাল বাবু একদিন বীতশোককে বাড়িতে ডেকে পাঠালেন। তিনি বললেন,
' দেখো বাবাজীবন, বিক্রম আমার বংশের প্রদীপ। ও যদি অভিমান ভুলে কখনো ফিরে আসে তবে এই উইলটা ওকে দেখিও, ভাইবোনকে সব সমান ভাগ করে দিয়েছি '।
এরপর বেশি দিন বাঁচেন নি ব্রজবাবু। বীতশোক সেই কাগজটা রাতারাতি নষ্ট করে ফেলে।
এরপর বিক্রম আর ফিরে আসে নি। আজ দীর্ঘ কাল পর ও আসছে।
বিক্রম বিকেলেই চলে গেল। জয়ার বেশ খুশি খুশি ভাব। ওরা যতক্ষণ ছিল - বীতশোকের সেই লোকটার কথা মনে হয় নি। কিন্তু বাড়ি খালি হতেই ওর মনে পরে গেলো সেই লোকটার কথা। একটা অজানা ভয় ওকে কেমন ঘিরে ধরল। রাতটা বীতশোকের কাছে একটা অভিশাপ মনে হতে লাগল। আর ভাবতে পারছে না ও। বুকের ভিতরটা ভারি হয়ে আসছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে।
ডাক্তার মুখার্জী সব দেখে বললেন,
' একটা ম্যাসিভ এট্যাক হয়েছিল, নিতে পারেন নি বীতশোক বাবু। ভোরের দিকেই মারা গেছেন। '
মার - দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায় || Mar - Darpana Gangapadhyay || Story || Short Story || Bengali Story || Bengali Short Story || গল্প || ছোট গল্প || অনুগল্প
মার
দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়
আধুনিক যুগে সবাই সবাইকে এত মারতে ব্যস্ত হাতে,--- ভাতে, --
বলার কথা নয়। একদিন পাঁচু ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে ,---
দেখে অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থাকে ! পাঁচু একজন খেতাবি ব্যারিস্টার। তাঁর বাবা একজন গরুর গাড়ির কোচোয়ান ছিলেন। তিনি গরুকে জোর জোর পেটাতেন, গরু যন্ত্রণায় ছটফট করে ছুটে পালাতে চাইত, গরুর গাড়ি তত দ্রুত ছুটত।
এভাবেই তিনি মাইলের পর মাইল ভারী জিনিসপত্র আনা নেওয়া করে টাকা রোজগার করতেন। ঘরে ফিরে গরুদের খাবার দিতেন, আদর করতেন, ফাঁকা মাঠে ছেড়ে আসতেন, সন্ধ্যেবেলা সময় মতো ঘরে তুলতেন ,স্নান করাাতেন ,পরিচ্ছন্ন জায়গায় থাকতে দিতেন ,----কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় মানুষটা এমন আচরণ করতেন।
আমি ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে চাইতাম না। পড়া মুখস্ত হতো না। উনি সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে পড়া ধরতেন না পারলে প্রচুর মার পিঠে পড়তো। খাওয়া বন্ধ, অবশেষে পড়া দিয়ে তবেই মুক্তি। এভাবেই উনি আমার লেখাপড়ার নেগেটিভিটি কাটিয়ে পজিটিভিটি এনে মানুষ তৈরি করে গেছেন।
আমি ভয়ের চোটে ওই গরুটার মতন পালাতে চেয়ে ব্যারিস্টার হয়েছি এবং গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরে বিশাল একখানা বাড়ি হাঁকিয়ে ঝি চাকর ছেলে বউ নিয়ে বসবাস করি।
আজ হঠাৎ আমার নাতি যখন কিছুতেই লেখাপড়া করতে রাজি নয় ওর মা মানে বৌমা চিৎকারে বাড়ির মাথায় করে তুলছে তখন হালটা ধরতে আমি অগ্রসর হলাম। অপরপক্ষে মারার পর সেই মার সহ্য করার ক্ষমতা তার আছে কিনা , সে অন্য পথ অবলম্বন করবে কিনা ,---তা নিয়ে আমার স্ত্রী বেশ চিন্তিত কিন্তু আমি নাছোড়।
আদরের নাতি গোপালকে সকালে নিজেই পড়াতে বসলাম আর শাস্তি দিয়ে একই কথা বলতে বললাম ,-----কেঁদে কেঁদে বলে যেতেই লাগলো তারপর ঘুম আসছে দেখে ,---এক ঘা কষিয়ে দিলাম! তারপর খাতা পেন্সিল দিয়ে বললাম লিখে যাও ,
থামবে না ---থামলেই আবার ----
প্রথমবারেই গোপাল না দেখে লিখে ফেলল। যা দেখে বৌমা অবাক হয়ে গেল!
হায়রে পোড়া কপাল !এসব মিথ্যে স্বপ্ন! বাস্তবে এমনটা কিছুই হলো না, যৎপরনাস্তি সকালে উঠেই টিফিন খেয়ে কাঁধে ব্যাগ তুলে স্কুলের দিকে হাঁটা দেবে গোপাল, এমন সময় বললাম ব্যাগটাই ভারি। লেখাপড়া টা বড় হালকা হয়ে গেছে। গোপাল উত্তরে বলল তুমি আমার বয়সে কত কি পারতে ? হাউ টু ডেল ইউ ! স্পিক অ্যাবাউট মি ! বউমা নিরুত্তর ,ছেলেও নিরুত্তর, গিন্নি বললে আজকালকার ছেলে, কেন ওদের সঙ্গে মুখ লাগাতে যাও,---
আমি গুটিয়ে কাঁচুমাচু হয়ে লজ্জিত অপমানিত হয়ে নীরব হলাম। তারপর ঘরে চলে গেলাম! এইটাই কি শিক্ষা !
এ
টাই কি সংস্কৃতি---।।
সাগরবেলায় - সমর আচার্য্য || Sagorbelai - Samar Acharya || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
সাগরবেলায়
যাযাবরি কথায় আশাবরী সুর - গৌতম ঘোষ-দস্তিদার || Jajabari kothay Asabori surr - Goutam Ghosh dastidar || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
যাযাবরি কথায় আশাবরী সুর
গৌতম ঘোষ-দস্তিদার
নদির বুকে ভিজবো ভেবে গেলাম,
নদিতো আমায় সিক্ত করেনি
পাহাড়ের কাছে মাথা নিচু করেছিলাম,
কই সে-ও তো আমায় রিক্ত করেনি
অরণ্য যেদিন ডেকে নিয়ে গ্যালো
মুখ জুড়ে টোল এঁকে দিয়ে গ্যালো
সিক্ত শরীর ঢেকে দিয়ে গ্যালো
চুমুতে দুগাল মেখে দিয়ে গ্যালো…
কথা তো কতো না বলার ছিলো
যাযাবর আমি কইতে পারিনি
ভাঙা ফ্রেম জুড়ে প্রেম পড়েছিলো,
আশাবরী তবু গাইতে পারিনি...
হাইফেন - গোবিন্দ মোদক || Hifen - Gobinda modak || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
হাইফেন!
গোবিন্দ মোদক
প্রেম ও ভালোবাসার মধ্যে কতোটুকু দূরত্ব থাকলে
সম্পর্কের রসায়নে বালি চিকচিক করে,
তার কোনও সর্বজনগ্রাহ্য হিসাব হয় না।
তবুও যখন ফুলদানির বাসিফুল পরিবর্তনের অছিলায়
ঘরে নিয়ে আসা হয় কৃত্রিম ফুলসম্ভার,
তখন কাঁটার আঁচড়ের গায়েও অভিমান জাগে,
আর তাজা ফুল শুকিয়ে যাবার অবকাশে
তৈরি হয় যোজন-দূরত্ব ....!
তখন নৈঃশব্দের প্রহর শুধু মালা জপে যায় —
এক .... দুই .... তিন .... চার ….
শত .... সহস্র .... অযুত .... নিযুত বার ....;
সম্পর্কের ফাটল ক্রমশ: বলশালী হতে থাকে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
অথচ হে প্রেমের ঈশ্বর!
তুমি রচনা করেছো সমূহ সম্ভাবনা
যেখানে প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে
চিরকাল অবস্থান করে অনিবার্য একটি হাইফেন!
অনন্ত - পূর্বিতা পুরকায়স্থ || Ononta - Purbita Purakaystha || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
অনন্ত
পূর্বিতা পুরকায়স্থ
পূর্ণিমার চাঁদ দেখে
জীবনের ঢেউ । আমি দেখি,
ঢেউ মেশে সাগরের জলে ।
এক একটা ঢেউ যেন এক একটা জীবন।
হর্ষ বিষাদ, সুখ দুঃখের নুন ছড়িয়ে
পাড়ি দেয় অনন্তের দিকে।
জল শেখায় কি করে
ব্যক্তি থেকে নৈর্ব্যক্তিক হতে হয়। কি করে
মাটী থেকে আকাশ।
জীবন চলে মহাজীবনের দিকে।
নববর্ষের সূর্য - তপন মাইতি || Noboborser Surya - Tapan maiti || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
নববর্ষের সূর্য
তপন মাইতি
জীর্ণ পাতা ঝরিয়ে উঁকি দেবে কিশলয়
নিশুতি রাতের পর যেমন আসে কাঙ্খিত ভোর
হাত পাখায় সামলাচ্ছে না লোডশেডিংএর অস্বস্তি...
দরদর ঘামে ডুবে যাচ্ছে চোখ মুখে গাল চুল শরীর।
কতরকম ব্যঞ্জন রেঁধেছে মা, বাবার ছুটি...
নীম-হলুদ-তেল গায়ে জেল্লা বাড়ায় ভীষণ
পুদিনা মেহেন্দি সজীব হচ্ছে নতুন ভাবে
স্বপ্নের বিনুনি বাঁধছে লক্ষ্যবস্তুর আখরে।
রীতিমত ঈশান কোণে আগুন জ্বালালো কে...
লাল সাদা শাড়িতে আলতা পায়ে আঁকছে
পুজোর স্বস্তিক চিহ্ন হালখাতা আমপাতার দড়ি
মুছে দিচ্ছে জীবনের দুঃখ হতাশা গ্লানি।
অরুণালোক মুছিয়ে দেয় রাতের সব ব্যর্থতা
পয়লা বৈশাখ বুঁদ হয় ভালোবাসাযর গীতবিতানে
বাংলার ঘরে ঘরে বেজে ওঠে শঙ্খ উলু
জগৎ মুখে হাসি ফোটার নববর্ষের সূর্য।
কবিতার চুপিসার - অমিত কুমার সাহা || Kobitar chupisar - Amit Kumar Saha || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
কবিতার চুপিসার
অমিত কুমার সাহা
একলা ঘরের কোণ
যে সব কবিতার জন্ম দেয়
তাদের এক একটি শব্দে
মিশে থাকে, সময়ের নোনা জল!
প্রতিটি লাইনের মধ্যবর্তী
ব্যবধান জুড়ে ভেসে বেড়ায়
চুপপাখিরা,দুডানায় ছুঁয়ে আসে
দুটি লাইনের আপাত সীমারেখা।
কবিতার শেষে যে শব্দটি টিকে থাকে,
তার সাথেই হয়ত গোটা একটা কবিতা
গায়ে মাখতে চায় রোদ্দুর;
বোবা দেওয়াল পেরিয়ে,
কোনো এক অন্ধকার ছাপাখানায়!
কে জানে - নীলমাধব প্রামাণিক || ke jane - Nilmadhab pramanik || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
কে জানে
নীলমাধব প্রামাণিক
কথারা নির্দ্বিধায় হেঁটে যায় কানে
কারণ জানিনা
বলতে পারিনা, ঠিক তা কে জানে ।
হয়তো বলতে পারে
জানলে জানতে পারে কথার মালিক ।
সেই তো ভাসায় কথা
সেই তো সাজায় কথা রাঙিয়ে খানিক ।
তারপর সেই কথা
খুঁজে নেয় কান, কান থেকে কান এ
হাঁটবার কায়দাটা সে দারুণ জানে ।
এরপর সেই কথা কানের মালিক
না পেরে বইতে তাকে ছড়াবেই ঠিক ।
ছড়াতে ছড়াতে কথা ছাড়ালে সীমানা
গজায় তখনই তার আজগুবি ডানা ।
ডানা মেলে উড়ে যায় এ কানে ও কানে
বলতে পারি
না ভাই কে জানে কে জানে!
এদেশ - মুহা আকমাল হোসেন || Edesh - Muha akmal hossain || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
এদেশ
মুহা আকমাল হোসেন
এদেশে গরুর গন্ধ আছে
শুয়োরের গন্ধ আছে
কেবল মানুষের গন্ধ নেই
মানুষ পুড়ল! মানুষের শহর গ্রাম পুড়ল
মানুষের পেট থেকে বার করে নেওয়া হল মানুষের ভ্রুন
কেবল মানুষের গন্ধ নেই!
Thursday, May 2, 2024
শোণিত-শোষণ - অনুপম বিশ্বাস || Sonito soson - Anupam biswas || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
শোণিত-শোষণ
অনুপম বিশ্বাস
সাইরেনের তীব্র ধ্বনি বেজে উঠতেই
সাধারনেরা ক্রন্দনে নিজেকে লুকিয়ে রাখে,
বোম-গুলির আঘাতে একজনের পর একজন
অনেক সুখের জীবন হারাতে থাকে।
ধ্বংস লীলায় বাসভূমি
রক্ত মাখা শশানে পরিনত হয়,
মানুষের মনে গনগনে চিতার আগুন
তাজা রক্তের গঙ্গা বয়।
হিংসা-ক্ষোভ-লালসার
বশে মানুষ আজ পাথর,
গঙ্গায় হারিয়ে যায় শঙ্খ ধ্বনি
কৃপা লাভের আশায় কাতর।
জল হীন সমুদ্র ভরে ওঠে চোখের জলে
মাথাধরা,আবছা স্মৃতিপটে লেগে থাকা ১৯৯৩ সাল,
যুদ্ধ!যুদ্ধ!যুদ্ধ!ফুটন্ত রক্ত ছিটকে ওঠে,
জীবনের সংকেত আজও লাল।
পথের পাঁচালি - নাসির ওয়াদেন || Pather Panchali - Nasir Oyaden || Pather Panchali || Bengali poem || Kobita || বাংলা কবিতা || কবিতা || poetry || Bengali poetry
পথের পাঁচালি
না সি র ও য়া দে ন
আজ যদি হেঁটে যাই দূরে, বহুদূরে
সবকিছু ছেড়ে, সুস্পষ্ট অন্ধকারে
সরলরেখার উপর ধুলো চিহ্নপথ
ধুলিমাখা পূর্বপুরুষের পায়ের ছাপ
ভালবাসা মিশে আছে, ঝড়ের প্রগতি
যাই আসি চিহ্ন রেখে পথেরই বসতি
সত্য থাকে নিত্য বেঁচে মিথ্যে হয়ে শব
বিশ্বাসই মিলায় পথ, বাকি সব রব
যে ছবি ছেয়ে আছে এখানে ওখানে
লম্পটের ছায়ামূর্তি কবরে শশ্মানে
সত্য কেন বজ্রকঠিন, মিথ্যে লঘু বোঝা
ঝেড়ে ফেলে কলঙ্ক দাগ পথ চলা সোজা
যে দায় তোমার নেই, আমার তা আছে
কুকর্মের দুর্গন্ধ ছড়ায় সংসার সমাজে
পরম উল্লাসে নাচো, সম্মতিতে উঠো
রক্তের বিষম স্বাদে হও কঠিন, কঠোর
পথের মেঠো সুরে বাজে না-মরার কাহিনি
বাঁচামরা পথ ধরে কণ্ঠস্বরে উঠে তীব্র ধ্বনি
সেই তিরে বিদ্ধ হও বিস্ফোরিত আঁখি,কলি
কি করে বোঝাই বলো,এ-সব পথের পাঁচালি ।