Monday, August 16, 2021

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 অদৃশ্য



ভারতবর্ষের মানচিত্র আঁকবো বলে উরুর উপর বসিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখিয়েছি।

ঐতিহ্য পরম্পরার নির্বাচিত কাহিনী চিত্রায়িত করবো বলে নগ্ন হয়ে ধ্বংসকালীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে বলেছি।নতুন শতাব্দীতে এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি করবো বলে

হিংস্র পশুর পাশবিকতায় তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে পরিবর্তনের স্রোতস্বিনী ধারাকে দেখাতে সর্বস্ব পণ করেছি।

এখনো তারস্বরে চিৎকার করে বলছো তোমার অনেককিছু দেখা বাকি?

কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

 যাপন কথা 




অর্ধেক আকাশ আজও পথ চেয়ে আছে,

জীবনসঙ্গীনীর অপেক্ষায়।

চোরাবালি-স্রোত গোপনে কেড়ে নিয়ে যায় বহমান প্রেমের ধারা,

এই আকাশও একদিন পরিপূর্ণতা পেয়েছিল উভয়ের মৃদু স্পর্শে।

আমার হাত ধরে কেঁদেছিল সেও ,

ভেবেছি সকল দুঃখে তার পাশে থাকব আমিও,

এক অন্তর্মুখী বারান্দায় 

গভীর রাত পযর্ন্ত হেঁটেছিলাম

ভেবেছি অনাগত ভবিষ্যতের কথকতা, 


কিছুই হল না ছোঁয়া 

ঘুম ভেঙে দেখি-


কালো মেঘের অন্ধকারে ছেয়ে গেছে  

আমার আকাশ,

বসন্তের ঝরা পাতার মতো পড়ে আছে একটি কল্পিত সময়ের যাপন কথা।

কবি আশীষ কুণ্ডু -এর একটি কবিতা

 লাইন অফ কন্ট্রোল



আকাশ একটাই,পৃথিবী একটাই-

হাওয়া এখানেও আর ওখানেও এক!

নদী জানে না দেশের সীমা ,

বয়ে যায় এদিক থেকে ওদিকের মাটি ভিজিয়ে,

একটাই সূর্য ভোরের আকাশ আঁকে,

মা চাঁদকে ডাকে, শিশু হাসে ,এদিকে ওদিকে

জানে না ওই পাখিটা বায়ুসীমায় বাঁধা দেশকে,

সমুদ্রের গর্জন সব পাড়েই এক থাকে

ঢেউ এসে খেলে ভাঙাগড়া ,

জল তার নোনতা স্বাদে এখানেও ওখানেও-

যখন ঝরে রক্ত,তার রং লাল-

এদেশে ওদেশে, চিরকাল , 

অতীত থেকে ভবিষ্যৎ পাতায়,

গাছেরা ছায়া দেয় , এদেশে , ওদেশে-

মেঘেরা বায়ুসীমা উল্লঙ্ঘন করে

বৃষ্টিরও নেই কোনো ভেদাভেদ 

খিদের আগুন জ্বলে , গরীবের এখানে ওখানে

তবুও কেন বিষ মনের কোনে এখানে, ওখানে?

অহং, নাঃ , ক্ষমতার আস্ফালন?

না, ধর্মের বুজরূকি, কোনটা

মানুষ আগে ,না ধর্ম আগে, না দেশ

বড় কোনটা?, গুলিয়ে যায় -

দেশের লাইন অফ কন্ট্রোলে!

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 যন্ত্রণার স্বরলিপি



যন্ত্রণার বারান্দায় শুয়ে থাকি

স্বপ্নেরা আলতো ছোঁয়ায় ঢেলে দেয় ভালোবাসা

কোমর ক্ষয়ে যাওয়া আত্মারা মধ্যযুগের ইতিহাস পড়ে

শস্যহীন গোলায় পড়ে থাকে ইঁদুরের সহবাস

কাতরানি মেখে ইতিহাসের চুড়ি পড়ি

ধর্মের আফিম খেয়ে সংবেদনশীল হই

ঈশ্বর খুঁজে চলেছে নিরুচ্চারীত পদাবলী

গেয়ে চলি নষ্ট প্রেমের কীর্তন

ভ্রান্তির আসকারায় সাজি নিমাই অবাঞ্চিত ঘামে ভিজে যায় উল্লাসিত বারান্দা

ছায়ারা পৌরুষহীন দহনে হয় জর্জরিত

শ্রমিক বিক্ষোভ উড়ে যায় ঔপনিবেশিক ঝড়ে

  ছায়া ঈশ্বর আদিম উত্তরণের ক্রম সাজায়

 

রক্ত পতাকায় সেঁটে দিই পূর্বপুরুষের দীর্ঘশ্বাস

এভাবেই ভাবি প্রজন্মের কাছে রেখে যাবো যন্ত্রণার স্বরলিপি

কবি স্বাগতা দাশগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 মহাপ্রস্থান



চার দেওয়ালের খাঁচা থেকে..

পাশবদ্ধ জীব মায়া মুক্ত হতেই পড়ল বেরিয়ে 

ষাট বছরের সঙ্গিনীকে হাসি মুখে আসি বলে চলে গেল।

অন্ধের যষ্টির মত পৌত্রের কাঁধটা আঁকড়ে ছিল কিছুক্ষণ..

তারপর স্নেহ-শিথিল হয়েছে মুঠি..

এসে গিয়েছে মুক্তির বার্তা।

আর তখনই

বৃন্ত চ্যুত ফুল থেকে মেলে দিল প্রজাপতি ডানা

নোঙর ছেঁড়া নৌকা হয়ে ভেসে গেল মহাকালের স্রোতে

সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো হারিয়ে গেল অনন্ত আকাশে।

মহাপ্রস্থানের পথে ভ্রমণে- 

একাকী চলে নাদির শাহ্ র দলপতি।

কবি শ্রাবণী মুখার্জী -এর একটি কবিতা

  দশভুজা 



আমার চোখে দশভুজা ,করেছো শক্ত করো নি কুঁজা ।

আমার চোখে দশভুজা ,কোমলে মেরুদন্ড সোজা ।

বিশ্ব সংসার আগলে রাখা ,হোক না তার আঁচল ছেঁড়া। 

ধর্ম বায়ু কর্ম জোগায় , করুণাময়ী আসন পাতায় ।

বিচার বিনা ধরণী মাঝে ,দেয় না হানা কোনো কাজে ।

জড়িয়ে ধরলে শান্তি ভাসে ,কোটি দুঃখে নয়ন হাসে ।

 জগত ভরা অপরাধে , সকল ভার তোমার কাঁধে ।

ক্লান্ত শরীর চালাতে জানো ,এই পৃথিবী তোমার মানো। 

আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধবে কখন ,অ-শিক্ষিতাতেও বিচক্ষণ ।

সেই তো গভীর চিন্তাধারা ,তুমি বিনা যে মনিহারা ।

তোমার দীপ্ত ভালোবাসা ,আমার গর্ব আমার আশা ।

বিচার তোমার ছাঁকনি সমান ,তুমি আমার মুশকিল আসান ।

ভুল শুধরে কাছে টানো ,মমতাময়ীর আঁচল আনো ।

কুসুম গরম নরম হাত ,সকল শুভ সকাল রাত ।

তোমার বুকেই পরম পাওয়া, শুধু স্নেহের আসা যাওয়া ।

একই অঙ্গে হাজার রূপ ,দেব আলয়ে সুগন্ধী ধুপ ।

তোমার দু-চোখ স্বপ্নময় , হাসিতে তোমার রাজ্যজয় ।।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 দিনলিপি



কর্মের ফাঁকে ফাঁকে নিই কিছু বিরতি; করি পালন নীরবতা

মনে মনে বলি কিছু কথা; ভাবি হয়তো এরই নাম কবিতা,

সকাল হতে রাত শুধু কাজ আর কাজ

এক-একদিন ঘুম থেকে উঠে কর্মের তালিকা দেখে মাথায় পড়ে বাজ। 


কাজ শুধু করে যাই

কাজের আর শেষ নাই,

চাকর হয়ে জন্মেছি এই ভবে

আছি অপেক্ষায় আমার মৃত্যুটা হবে কবে। 


কর্মের মর্ম ভুলিয়েছে মোর ধর্ম

উদাস পাহাড় দেখে গেলাম আজীবন

পেলাম না এমন কিছু যাহা লয়ে করিলাম আমি গর্ব,

ভুলে ভরা পৃথিবীর কৌশলী জাতাকল

নিয়েছে আমার সব রস নিংড়ে বিনিময়য়ে পাইনি কোনো ফল,

বড়লোক নামের শকুন ওরা

ওদের পদপৃষ্ট হয়ে মরবো আমি;

মরবে আমার মত আরো আছে যারা। 


আমার জীবন বড় সংক্ষিপ্ত, তাই।

এই জীবনের তেমন কোনো ইতিহাস নাই।

আমার জীবনে কোন গল্প নেই

আমার জীবনের গল্প হল ইতিহাস আর বেঁচে থাকার লড়াই,

আমার জীবন একটা জেলখানা; তবে নয় যদিও সশ্রম কারাগার

ইহার নাম আমি রাখিলাম সশ্রম জীবনাগার। 


আর কোন গল্প নেই;

প্রেম নেই;

ভালোবাসা নেই, ভালোবাসার প্রত্যাশাও নেই

এ জীবন একটি অসমাপ্ত হতাশা

এ জীবন হলো বাজারের অচল পয়সার মত একটি পদার্থের নিরাশার বাসা।

কবি শ্যামল রায় -এর একটি কবিতা

 ভাবনাটা একাকার হলে



মেঘের শরীর জুড়ে তোমার ভাবনাটা

আমাকে বৃষ্টির ফোঁটা করে দাও

আমি সংযুক্তিকরণ হবো রাঙাপথের জন্য।

বাতাসের কাছে বলবো আমার জন্য দাও

এক নীল আকাশ স্বপ্নপথ

পাশাপাশি হেঁটে গিয়ে হৃদয়ের সাথে মিলবো

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে সূর্য খুঁজে নেব

শুধুই একটু উষ্ণতার জন্য----।

চঞ্চলতা দিয়ে আমি বলবো কৃষ্ণগহ্বর কে

আমি কখনো বিশ্বাস করি না

শুক্লপক্ষের পথ প্রান্তে, দুচোখ বুজে

শুধু নির্ভেজাল বৃষ্টির ফোটায়

চুম্বন এঁকে দেবো--ভেসে যাব নতুন ভ্রমণে

ওখানে কবিতার বর্ণমালায় অক্ষর গুলো

আমাকে তোমাকে ঠিকানা বানিয়ে দেবে।

চিমনির মতো আগুন জ্বলবে না

খিদে মিটে যাবে, দুহাত তুলে সাহস নিয়ে বলবো

এই ঠিকানা লাল পাহাড়ির দেশ হবে

মাদল বাজবে, ঘুমিয়ে পড়বো চোখ বুজে নিঃশ্বাসে

নিঃশর্তে---সাজবাতি নিয়ে জুঁই ফুলে ফুলে।

Sunday, August 15, 2021

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 বনধে মাতরহম


হ্যঁ গো বুড়হ বাবহু,

অ্যাজখে কি বটেক গো।

সুখাল থ্যাইখেই আমহাকে বলছেক,

তরহণী কাকহা তুমহি ও যাভেক গো।


কি একডা ফ্রিসহাদে পরলুম ব্যাপহু,

আমহী মুনলিশ খেইটে খ্যায় ।

লিজের মতহো কইরে থ্যাখহি,

ক্যার ও কোইনো খেতি করহিল্যায়।


কি যে বুলহে গ্যালোক, ছোঁকরা গুলহান,

     আমহী বুঝতে লারছিক গো।

ডরহেতে আমহার পরহানখানহা

         শুদুই ধুরুক - ফুখ, ধুরুক - ফুখ করছেক গো 


আজকে স্বাধীনতা দিবস পালন

     ঐ পুব গাঁয়ের মাঠের ধারে হবে।

তুই আমার সঙ্গে যাবি বুঝলি,

তোকে ও কিছু কথা বলতে হবে।


অঃ সাদীনতা দিবহস, পতপত করে পতহকা উড়বেক আকহাশে, গান গাইবেক, চ্যাচ্যাঙ - চ্যাচ্যাঙ বুলবোক।

আমহাদের পুরব পুরহুষ সিদহু-কানহু,

মোঙগল প্যারানডে, বীরস্যা মুনড্যার কুথা ও বুলবোক।

অ্যারহো অনহেকে জ্যান দিয়্যাছেক,

গরহেবেতে চোকদুখ্যান জলহে ভরুম,

গলহা বরেধো হয়্যা গেলেক ও বুলবোক

"বনধে মাতরহম ", "বনধে মাতরহম "---

জয় হিন্দ।


                       

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

 সুরের স্বরলিপি 


বাকল-মোচন আছে বলেই, ছাগল-মুড়ি গাছেও

ফোটে নক্ষত্রের মতো স্বপ্নের সোনালি মুকুল।

তা হলে কি দৃষ্টি বিভ্রম?

সেও এক ভালো,

স্মৃতি -লোপ হলে মুছে যেত মনের ভেতরে

জেগে থাকা মানুষটির কথা ।

দেখি গাছের ভেতর থেকে রোজ বেরোয় একটি মানুষ

পাশে বসতেই ছায়া দেয় প্রিয় বৃক্ষ টি ।

জীবন চক্র, সে তো জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানে

তুলে ধরা কিছু সোনালি ফসলের জীবন্ত অক্ষর,

সুখ আর দুঃখ এক-থালায় না-খেলেও খাবার

এক-উঠোনেই পাতে খেলনা-ঘর।

প্রেম,শুধু প্রেমের কাঙালিপনায় তৃষিত ঠোঁট

কষ্টের কাঁটা বাছতে বাছতে, আশার আঙুল

বীণার তারে তারে বাজাতে পারে বাঁচার স্বরলিপি সুর।

পাখিদের কথোপকথন শেষে

ফেলে যাওয়া প্রদীপ্ত সবুজ কনা

দুহাতে কুড়োই মগ্ন অবহাগনে

ছড়িয়ে মুঠো মুঠো বৃক্ষ হয়ে আঁকড়ে ধরি উঠোন-মাটি।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

    ছন্দের বন্ধনে



   ঘটে ঘাটে তরী লইলো সুধারস ভরি

  আঙিনায় দিকভ্রান্ত তাই বঙ্গ সুন্দরী। 


    রূপ রসে ডুবে ছুটিছে প্রলয় বেগে

   দিগন্ত অসংযত উন্মত্ত আবেগে। 


 গগনে গগনে দেখি কী অপরূপ শোভা

  সমতল ছন্দে কত মনোলোভা! 


  অসীম গগন আসে যদি কোনও ক্ষণে

  যতনে রেখো ধরি তারে সেই ক্ষণে। 


 কাঁটাতারে বন্ধ দুয়ার যা হয়েছে তাই হবার

 কটাক্ষে ফেলি দিলে মরিবেও তুমি দু'বার


কাব্য ঘোর অতি কাননে দেখিবে না ফুল ফুটি

লও গো স্মরণ তার চেয়ে খুঁজে বসতি। 


 দৈব্যের শাস্তি পাইবে তুমি সবখানে

  গান থেমে যাবে ধরিবে না কুসুম বনে।। 


 যারা বলিছে মোরে এমন চলিবে না

ঘোমটা খুলে দিয়ে কি হয় সাধনা? 


ফল ফুল মাঠ ঘাট সবই তো ঠাট বাট

ছি ছি কেন করিতেছ মারো দুই হাত। 


বচন যদি ফিরে ফিরে চলে যায়

কী হেতু লেখনীর গূঢ় সমস্যায়? 


অমৃত যা উঠে আসে কর তাই পান

জীবন মরনে যাও করে দান।। 


আর কহিবো না হে কবি ভাই

যেমন চলছে চলুক দেখুক সবাই।।

কবি তীর্থঙ্কর সুমিত -এর একটি কবিতা

 নতুন



তারপরে কেউ

এদিক ওদিক বেঁকে চলেছে রাস্তা

চোখ যতদূর যায়

ততক্ষনই শ্বাস

আবার নতুন

ঘটনার পর ঘটনা

মুখ ঘোরালেই


পাল্টে যায় রাস্তা ।                 

কবি চিত্তরঞ্জন সাহা -এর একটি ছড়া

 শীতটা আসে



  শীতটা আসে

  সূর্য হাসে

  লুকিয়ে মেঘের কোলে,

  শিশির ঝরে

  ঘাসের পড়ে

  যেন হাওয়ায় দোলে।


  খেজুর গাছে

  কলসী আছে

  রস পড়ে টুপ করে,

  পুলি পিঠা

  বড্ড মিঠা

  ধুম পড়ে যায় ঘরে।


  শীতটা মানে

  কষ্ট প্রানে

  শরীরখানা কাঁপে

  সবাই তখন 

  ছোটে তখন

  মিঠেল রোদের তাপে।