Monday, August 16, 2021

কবি অভিজিৎ হালদার -এর একটি কবিতা

 কবিতাই জীবন কবিতাই মরণ




আমার মরণ হবে কবিতার পাতায়
বিরহের কলমে কতই যন্ত্রণা
লিখতে গিয়ে আমার অদ্ভুত চোখ
কিছু যেন একটা খুঁজতে চাই!
আমার যত আশা ভালোবাসা
কবিতাই জীবন কবিতাই মরণ।


আমি মরে যাবো মনের সুখে
আমার যাবতীয় লেখার ভাবনা
কী যেন একটা খুঁজতে চাই!
আমার লেখার অজান্তেই।


আমি সত্যকে আকাশ ছুঁয়ে
দেখতে চায় হৃদয়ের ঘরে।
অসম্ভবকে সম্ভব করে
লিখতে চাই কবিতার মানে।


আমার মরণ হবে বিরহের কলমে
তবুও এ জীবন চলে যাবে
ফাগুনে ফোঁটা নতুন ফুলে,
আমার গোপনীয় রক্ত ক্ষরণে
গোলাপের পাপড়ি কেঁদে ওঠে
গ্রীষ্মের উষ্ণ ভরা দুপুরে।


আমি মরে যাবো বিষ পান করে
তবু মিথ্যা অপমানকে বুকে নিয়ে
ভেসে যাবো নদীর জলে
দিনেদিনে প্রতিদিনে।


আমি প্রকৃতির যন্ত্রণা দেখে
নিয়েছি গলায় ফাঁসির দড়ি,
বেদনার কলমকে সঙ্গী করে
কবিতায় বাঁচবো কবিতায় মরবো।।

কবি সব্যসাচী মজুমদার -এর একটি কবিতা

 ক্রেংকার



ক্লীবে অস্হির হয়ে খুঁজছো

কার জন্মের মতো অন্ধে

দুটো চিল কেঁদে ওঠে...আছড়ায়


তীরে উপগতহীন ঈশ্বর

তটে অস্ট্রাল দেহ উদগ্রীব

আলো জ্বালবো না এই সন্ধ্যায়

 ভীত অংকুরতম ভাসানে 


তুমি অযথাই মনে রাখছো

সংবদলের কিছু সংঘাত

আর ক্রেংকার হয়ে ভাসছো

সোনা বন্দের মতো ঝরোখায়

কবি সুজিত রেজ -এর একটি কবিতা

 অন্তর্লীনা



দ্বিধা করিনি কোনদিন, যা কিছু দেওয়ার ছিল

                                           দিয়েছি তোমাকে।

দু'হাত উজাড় করে অথৈ লাবণ্যপূর্ণ প্রাণ,

সহজ সতেজ জীবনের সরল কমা-কোলন।


কিছুটা প্রাণের গুঁড়ো পারো তো মাখিয়ে দিয়ো।

চোখের কোলের চিকচিক খুশিবালি বিলিয়ে দিয়ো।

রৌদ্রের পালক-বিছানায় আমাকে সঙ্গী কোরো।


কী করে বোঝাব তোমায় 

                                   তুমি অপরিহার্য আমার!

বোঝো না বোঝো আমি কান পেতে রই,

নখের কিনার খুঁড়ে মনের মিনারতলে

                                          কুতুবমিনার গড়ি,

টান করা চিবুক ধরে অগণন নক্ষত্র চুপচুমু খায়।

কবি রানা জামান-এর একটি কবিতা

 মন্দ ভালোর নামে আছে সকল কামে




ভালোর সাথে মন্দ মিশে লাগায় দ্বন্দ্ব কী যে জগাখিচুড়ি

মন্দের বাহাদুরি থাকে না তো জুড়ি বাজায় এলাহি তুড়ি


দোলটা তুলে হিপে ভালোর গলা টিপে বাচ্চা দানে সারমেয়

ধাধা লাগায় চোখে আসতে থাকে লোকে ভেঙ্গে দিয়ে দ্বারকেও


দাপট বেহাল মন্দে দুর্বল কাহিল গন্ধে কাটা পড়ে অক্সিজেন

সবই জানে কর্তা পাতে নিয়ে ভর্তা দাবা খেলার প্রক্সি দ্যান


ভালোর ভাগ্যে ঠেঙ্গা আরো জোরে ভেঙ্গা থাকুক হয়ে কুনোব্যাঙ

রোদে পোড়ে নিত্য গিলে টিলে পিত্ত খেতে পাচ্ছে কুচোচ্যাং


বাড়ছে সংখ্যা মন্দের গলা টিপছে ছন্দের খেলে যাচ্ছে ক্যাসিনো

দিনে কিংবা রাতে দেখছি আছে সাথে রাষ্ট্রের অনেক মেশিনও


আমজনতায় ভালো আছে অগোছালো মুচকি হেসে ধুকছে

বাড়ছে সংখ্যা নিঃস্বের এটাই চিত্র বিশ্বের মন্দে ভালো ঝুকছে

মন্দ ভালোর নামে আছে সকল কামে সবাই চ্যালা শয়তানের

যা খুশি তা করছে জতুর গৃহ গড়ছে মত্ত নষ্ট লয় তালের।

কবি রফিকুল রবি -এর একটি কবিতা

 প্রত্যাক্ষিত গোলাপ



প্রত্যাক্ষিত গোলাপ তখন ফুলনামায় সিদ্ধ খুনি।

ক্ষণ-পল-ক্ষণ দিন পুঞ্জিকা দেখে সময়ের সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা গিলে ক্ষত-বিক্ষত, ছিন্নভিন্ন করে প্রেমিক হৃদয় ততোবার ঠিক যতোবার তার পুনর্জন্ম হয়।


তখন জল শূন্য চোখ, চাতক মুখে যেনো সে নির্বিকার একটা মানুষ মাত্র। খুনি গোলাপের নিচে দেয় আত্মদান ।


নষ্ট মস্তিকের ভ্রষ্ট রাস্তায় বিষাক্ত গোলাপ নির্যাস ঢালে অবলীলায় যেমন সক্রেটিস পান করেছিল হেমলক।

কবি প্রণব দাসের একটি কবিতা

 শেষপাতা

                  

এখনো ভাঙেনি লেখকের ঘুম

শেষের বাকি ক'টি লাইন

আগুনে পোড়ার মতো

ছটফট করে হৃদয়

কি হবে কে জানে?

প্রশ্ন তোমার আমার

গল্পটি শেষ হয়নি,

আরো আছে জীবনের

ম্যানহোল, ধুলো-ময়লা

 নয়তোবা চাঁদের সাথে

আলাপন।

ঘুমের ঘোরে বুক কেঁপে ওঠে

মনে করিয়ে দেয় তুমি অপেক্ষিত।

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 অদৃশ্য



ভারতবর্ষের মানচিত্র আঁকবো বলে উরুর উপর বসিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখিয়েছি।

ঐতিহ্য পরম্পরার নির্বাচিত কাহিনী চিত্রায়িত করবো বলে নগ্ন হয়ে ধ্বংসকালীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে বলেছি।নতুন শতাব্দীতে এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি করবো বলে

হিংস্র পশুর পাশবিকতায় তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে পরিবর্তনের স্রোতস্বিনী ধারাকে দেখাতে সর্বস্ব পণ করেছি।

এখনো তারস্বরে চিৎকার করে বলছো তোমার অনেককিছু দেখা বাকি?

কবি মিঠুন রায় -এর একটি কবিতা

 যাপন কথা 




অর্ধেক আকাশ আজও পথ চেয়ে আছে,

জীবনসঙ্গীনীর অপেক্ষায়।

চোরাবালি-স্রোত গোপনে কেড়ে নিয়ে যায় বহমান প্রেমের ধারা,

এই আকাশও একদিন পরিপূর্ণতা পেয়েছিল উভয়ের মৃদু স্পর্শে।

আমার হাত ধরে কেঁদেছিল সেও ,

ভেবেছি সকল দুঃখে তার পাশে থাকব আমিও,

এক অন্তর্মুখী বারান্দায় 

গভীর রাত পযর্ন্ত হেঁটেছিলাম

ভেবেছি অনাগত ভবিষ্যতের কথকতা, 


কিছুই হল না ছোঁয়া 

ঘুম ভেঙে দেখি-


কালো মেঘের অন্ধকারে ছেয়ে গেছে  

আমার আকাশ,

বসন্তের ঝরা পাতার মতো পড়ে আছে একটি কল্পিত সময়ের যাপন কথা।

কবি আশীষ কুণ্ডু -এর একটি কবিতা

 লাইন অফ কন্ট্রোল



আকাশ একটাই,পৃথিবী একটাই-

হাওয়া এখানেও আর ওখানেও এক!

নদী জানে না দেশের সীমা ,

বয়ে যায় এদিক থেকে ওদিকের মাটি ভিজিয়ে,

একটাই সূর্য ভোরের আকাশ আঁকে,

মা চাঁদকে ডাকে, শিশু হাসে ,এদিকে ওদিকে

জানে না ওই পাখিটা বায়ুসীমায় বাঁধা দেশকে,

সমুদ্রের গর্জন সব পাড়েই এক থাকে

ঢেউ এসে খেলে ভাঙাগড়া ,

জল তার নোনতা স্বাদে এখানেও ওখানেও-

যখন ঝরে রক্ত,তার রং লাল-

এদেশে ওদেশে, চিরকাল , 

অতীত থেকে ভবিষ্যৎ পাতায়,

গাছেরা ছায়া দেয় , এদেশে , ওদেশে-

মেঘেরা বায়ুসীমা উল্লঙ্ঘন করে

বৃষ্টিরও নেই কোনো ভেদাভেদ 

খিদের আগুন জ্বলে , গরীবের এখানে ওখানে

তবুও কেন বিষ মনের কোনে এখানে, ওখানে?

অহং, নাঃ , ক্ষমতার আস্ফালন?

না, ধর্মের বুজরূকি, কোনটা

মানুষ আগে ,না ধর্ম আগে, না দেশ

বড় কোনটা?, গুলিয়ে যায় -

দেশের লাইন অফ কন্ট্রোলে!

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 যন্ত্রণার স্বরলিপি



যন্ত্রণার বারান্দায় শুয়ে থাকি

স্বপ্নেরা আলতো ছোঁয়ায় ঢেলে দেয় ভালোবাসা

কোমর ক্ষয়ে যাওয়া আত্মারা মধ্যযুগের ইতিহাস পড়ে

শস্যহীন গোলায় পড়ে থাকে ইঁদুরের সহবাস

কাতরানি মেখে ইতিহাসের চুড়ি পড়ি

ধর্মের আফিম খেয়ে সংবেদনশীল হই

ঈশ্বর খুঁজে চলেছে নিরুচ্চারীত পদাবলী

গেয়ে চলি নষ্ট প্রেমের কীর্তন

ভ্রান্তির আসকারায় সাজি নিমাই অবাঞ্চিত ঘামে ভিজে যায় উল্লাসিত বারান্দা

ছায়ারা পৌরুষহীন দহনে হয় জর্জরিত

শ্রমিক বিক্ষোভ উড়ে যায় ঔপনিবেশিক ঝড়ে

  ছায়া ঈশ্বর আদিম উত্তরণের ক্রম সাজায়

 

রক্ত পতাকায় সেঁটে দিই পূর্বপুরুষের দীর্ঘশ্বাস

এভাবেই ভাবি প্রজন্মের কাছে রেখে যাবো যন্ত্রণার স্বরলিপি

কবি স্বাগতা দাশগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 মহাপ্রস্থান



চার দেওয়ালের খাঁচা থেকে..

পাশবদ্ধ জীব মায়া মুক্ত হতেই পড়ল বেরিয়ে 

ষাট বছরের সঙ্গিনীকে হাসি মুখে আসি বলে চলে গেল।

অন্ধের যষ্টির মত পৌত্রের কাঁধটা আঁকড়ে ছিল কিছুক্ষণ..

তারপর স্নেহ-শিথিল হয়েছে মুঠি..

এসে গিয়েছে মুক্তির বার্তা।

আর তখনই

বৃন্ত চ্যুত ফুল থেকে মেলে দিল প্রজাপতি ডানা

নোঙর ছেঁড়া নৌকা হয়ে ভেসে গেল মহাকালের স্রোতে

সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো হারিয়ে গেল অনন্ত আকাশে।

মহাপ্রস্থানের পথে ভ্রমণে- 

একাকী চলে নাদির শাহ্ র দলপতি।

কবি শ্রাবণী মুখার্জী -এর একটি কবিতা

  দশভুজা 



আমার চোখে দশভুজা ,করেছো শক্ত করো নি কুঁজা ।

আমার চোখে দশভুজা ,কোমলে মেরুদন্ড সোজা ।

বিশ্ব সংসার আগলে রাখা ,হোক না তার আঁচল ছেঁড়া। 

ধর্ম বায়ু কর্ম জোগায় , করুণাময়ী আসন পাতায় ।

বিচার বিনা ধরণী মাঝে ,দেয় না হানা কোনো কাজে ।

জড়িয়ে ধরলে শান্তি ভাসে ,কোটি দুঃখে নয়ন হাসে ।

 জগত ভরা অপরাধে , সকল ভার তোমার কাঁধে ।

ক্লান্ত শরীর চালাতে জানো ,এই পৃথিবী তোমার মানো। 

আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধবে কখন ,অ-শিক্ষিতাতেও বিচক্ষণ ।

সেই তো গভীর চিন্তাধারা ,তুমি বিনা যে মনিহারা ।

তোমার দীপ্ত ভালোবাসা ,আমার গর্ব আমার আশা ।

বিচার তোমার ছাঁকনি সমান ,তুমি আমার মুশকিল আসান ।

ভুল শুধরে কাছে টানো ,মমতাময়ীর আঁচল আনো ।

কুসুম গরম নরম হাত ,সকল শুভ সকাল রাত ।

তোমার বুকেই পরম পাওয়া, শুধু স্নেহের আসা যাওয়া ।

একই অঙ্গে হাজার রূপ ,দেব আলয়ে সুগন্ধী ধুপ ।

তোমার দু-চোখ স্বপ্নময় , হাসিতে তোমার রাজ্যজয় ।।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 দিনলিপি



কর্মের ফাঁকে ফাঁকে নিই কিছু বিরতি; করি পালন নীরবতা

মনে মনে বলি কিছু কথা; ভাবি হয়তো এরই নাম কবিতা,

সকাল হতে রাত শুধু কাজ আর কাজ

এক-একদিন ঘুম থেকে উঠে কর্মের তালিকা দেখে মাথায় পড়ে বাজ। 


কাজ শুধু করে যাই

কাজের আর শেষ নাই,

চাকর হয়ে জন্মেছি এই ভবে

আছি অপেক্ষায় আমার মৃত্যুটা হবে কবে। 


কর্মের মর্ম ভুলিয়েছে মোর ধর্ম

উদাস পাহাড় দেখে গেলাম আজীবন

পেলাম না এমন কিছু যাহা লয়ে করিলাম আমি গর্ব,

ভুলে ভরা পৃথিবীর কৌশলী জাতাকল

নিয়েছে আমার সব রস নিংড়ে বিনিময়য়ে পাইনি কোনো ফল,

বড়লোক নামের শকুন ওরা

ওদের পদপৃষ্ট হয়ে মরবো আমি;

মরবে আমার মত আরো আছে যারা। 


আমার জীবন বড় সংক্ষিপ্ত, তাই।

এই জীবনের তেমন কোনো ইতিহাস নাই।

আমার জীবনে কোন গল্প নেই

আমার জীবনের গল্প হল ইতিহাস আর বেঁচে থাকার লড়াই,

আমার জীবন একটা জেলখানা; তবে নয় যদিও সশ্রম কারাগার

ইহার নাম আমি রাখিলাম সশ্রম জীবনাগার। 


আর কোন গল্প নেই;

প্রেম নেই;

ভালোবাসা নেই, ভালোবাসার প্রত্যাশাও নেই

এ জীবন একটি অসমাপ্ত হতাশা

এ জীবন হলো বাজারের অচল পয়সার মত একটি পদার্থের নিরাশার বাসা।