Sunday, October 17, 2021

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 পথ



এক পথ পেরিয়ে যাই তোমায় ঘুমন্ত পায়ে

যে পথ নৌকা পেরোয়ে নি আগে

তুমি দাঁড়িয়ে থাকো আমার শরীরে পালকের গায়ে

সমস্ত পথ থেমেছে এসে গাছের তলায়

যেখানে রাত্রি থামে তোমার বাড়ি

সিঁড়ি দিয়ে তোমার চোখে মুখে আলো উঠে যায়

আকাশ ভাঙে মাঝে মাঝে

মন মেঘেই আত্মহারা, তোমার আকাশে

নৌকা খোলা থাকে, আমার আকাশ ভরা তারা

আমার শরীর জুড়ে এক দিঘি জল

তুমি আমার গ্রাম তুমি আমার শহর, জল ছলোচ্ছল।। 

কবি সেখ নজরুল -এর একটি কবিতা

 ফুলের রানী



তোমার সুগন্ধে মাতোয়ারা আমার মনের আকাশ,

তুমি ঘটিয়েছো মোর ভালোবাসার বিকাশ।

 ফুলের রানী হয়ে আসব সবার মাঝে,

সুগন্ধে ভরিয়ে তোলো সকাল সন্ধ্যা সাঁঝে।

তোমার ওই ফুলের পাপড়ি ছোঁয়ায় জন্য,

মন যে আমার খুবই ব্যকুল।

তোমার ওই সাদা পাপড়ির মাঝে পোলেনকিট আহরনে আমি নিজেকে ব্যস্ত রাখি,

সত্যি তোমার ওই সুগন্ধ পৃথিবীর সবকিছুই হার মানায়।

হলুদ কুড়ির মধ্যে পৃথিবীর সর্ব সুখ লুকিয়ে থাকে,

তাই বারবার ছুটে আসি তোমার কাছে।

সারাদিন ব্যস্ততার মাঝেও কেন তোমাকে ছোঁয়ার জন্য মন কেঁদে উঠে আজও অজানা,

হয়তো তোমারই ভালোবাসার টানে।

রাত্রি যত গভীর হয় তোমার সুবাস শরীরের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়,

তোমার পাপড়ির স্পর্শে শরীর সিক্ত হয়ে উঠে।

তা না হলে হঠাৎই আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম!

জানিনা আমার স্পর্শে তুমি জাগরিত হবে কিনা?

তবে তোমার অনুপস্থিতি আমি সর্বক্ষণ অনুভব করি।

কবি অভিজিৎ দত্ত -এর একটি কবিতা

 মহালয়া




কতদিন পরে মা আসছে

মর্ত্যে বাপের ঘরে 

অধীর আগ্রহে মর্ত্যের মানুষ

সবাই এরজন্য অপেক্ষা করে।


মায়ের আগমনে চারিদিকে 

বাজছে খুশির সুর 

প্রকৃতি সেজে উঠেছে 

অপরূপ সাজে কী সুন্দর।

আগমনীর আগমনে , দেবীপক্ষের 

সূচনা হয় এইদিনে।


মহালয়ার এই বিশেষ দিনে

পিতৃপুরুষের সন্তুষ্টি বিধানে

মানুষ ,পুরোহিতের কাছে

বিধিসম্মত তর্পণ করে নিয়ম মেনে।


অশুভ শক্তির বিনাশ

শুভশক্তির জয় এই হল

মহালয়ার আসল বিষয়।

মহালয়ার এই বিশেষ দিনে

বধ হয়েছিল মহিষাসুর

দেবী দুর্গার পরাক্রমে ।

তাই মহালয়ার এই বিশেষ দিনে

দেবী দুর্গা প্রেরণা হয়ে উঠুক

সমস্ত নারীদের মনে।

কবি নীতা কবি মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 বিসর্জন




আগমন-কালে দিকে দিকে ছিলো আগমনী গানে ভরা

উমা এসেছিলো বাপের বাড়ীতে পড়েছিলো তারই সাড়া

শিউলি চুমেছে চরণদুখানি,শিশির ধুয়েছে পা

কাশফুল তাই সোহাগ-ভরে দুলিয়েছে তার গা।


জগজ্জননী মা আমাদের দনুজদলন করে

অশুভশক্তি হার মেনে তাই মায়ের চরণ ধরে

সন্তানেরা সব মেতে উঠেছিলো, আনন্দে মাতোয়ারা

আজ বিদায়ের সুর বাজে ঐ,সবাই আকুলপারা।


সপ্তমীতে এলো মা জননী চতুর্দোলায় চড়ে

মহা-অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে সব পূজার মন্ত্র পড়ে

নবমী তিথিতে কতো কিছু 'বলি' অর্ঘ‍্য দিলাম তাঁরে

দশমী তিথিতে মিষ্টিমুখ আর বিদায় অশ্রু ঝরে।


আর দুটো দিন থেকে যাও মাগো ,ওগো আনন্দময়ী

তোমার প্রসাদে মর্ত‍্যবাসী যেন হতে পারে জয়ী

বাবা-ভোলানাথ বড়ো অভিমানী ,কৈলাস আছে ফাঁকা

পার্বতী বিনা শিব কি সেখানে থাকতে পারেন একা?


নন্দী-ভৃঙ্গী যতো অনুচর সবাই যে খোঁজে মা-কে

শিব-ঘরণী বিনা শিবের আলয়?যেতেই হবে তাঁকে

বিসর্জনের বাদ‍্যে বাজলো অতীব করুণসুর

আকাশে বাতাসে সেই সুর ভেসে চলে যায় বহুদূর।


আনন্দময়ীর আগমনে ছিল এ ধরণী মাতোয়ারা

মা চলে গেছেন, সন্তানেরা সব হয়েছে মাতৃহারা


আবার এসো মা-আনন্দময়ী অসুরনাশিনী তুমি

আসছে বছরে চরণপরশে ধন‍্য হবে এ ভূমি।

কবি রাজা দেবরায় -এর একটি কবিতা

 পুজোতে কয়টা জামা হলো?

 



"পুজোতে কয়টা জামা হলো?"

জিজ্ঞেস করেন বড়রা।

"এটা একটা প্রশ্ন হলো?"

বললে বলবেন মুখরা!

মা-বাবা'র আর্থিক অবস্থা

না জেনেই প্রশ্ন করেন।

আপনি হয়তোবা জানেন,

আর্থিক কষ্টে অনেকে মরেন!

জিজ্ঞেস করার আগে ভাবুন,

আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝুন।

তবেই সচেতন নাগরিক হবেন,

বাস্তববোধ হৃদয়ে খুঁজুন!

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 গান শুনি 




গান শুনি এখনো অতীতের 

বৃষ্টির ছাট দেখি জানলায়

ভেজা হয় না, 

মাঠের গন্ধমাখা হয় না

কাশফুল দেখি ফোনে সুপ্রভাতে

বাতাবিলেবু আর শিউলফুল বাজারের ভিড়ে

গন্ধ পাই না নীল আকাশের 

ঝাঁক বাঁধা পায়রারা আসে না ফিরে 

আমার বিষণ্ন ছাতে ছুটির বিকেল

রোদ্দুরে ভরা দুপুর একলা পড়ে থাকে।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 চর্চা

    



কার্পেটের তলায় লুকিয়ে রাখি ক্ষত

 

বেভুল ভাসানে উচ্ছ্বাস ভেসে যায় সংলাপের তাঁবুতে চর্চিত হয় অবিশ্বাস্


উলঙ্গ ময়ুর নাচে বিশ্বাসহীন প্রান্তরে

নগ্ন অন্ধকার আহ্বান করে অসফলতা


পায়ের নীচের মাটি সরে যায়

নাট‍্যমঞ্চে অসহায় আস্ফলনে ডানা মেলে স্বপ্ন সুন্দরী

সমুদ্রসভ্যতা আছড়ে পড়ে, 

     ভেঙে ভেঙে যায় ঢেউ


 রাতের বাসরে জমে ওঠে মানব জন্মের রসায়ন

ভ্রষ্টমনিষীরা প্রেমের উৎসব এ মাতে

 

শরীর জুড়ে আঁকা হয় গোত্রহীন উল্লাস 

অলীক ঈশ্বর মুখ থুবড়ে পড়ে

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 একটি প্রেমের উপাখ্যান



একটা প্রেম মরে গেলে হাজার 

প্রেমের জন্ম হবেই,

হাজার প্রেমের মৃত্যু হলেও 

একটি প্রেম শাশ্বত কাল

অমরত্ব পাবে একথা জেনে

গেছে মহাকাল।


একথা জানার জন‍্য তোমাকে

প্রেমিক হতে হবে,তোমাকে

প্রেমিকা হতে হবে,ভালোবাসতে হবে

আকাশ,বাতাস,পাখি,গাছ,ফুল ও নদীকে

তাদের বন্ধু হতে হবে,মিশতে হবে অসহায় 

নিরন্ন মানুষের সাথে,তোমাকে আগুন হতে হবে,

মেঘ ও বৃষ্টি হতে হবে,আগে তোমাকে নত হতে

হবে,হতে হবে মানবিক, উদার ও সহনশীল।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 আমরণ প্রত্যাশা




সেই ভোরের সূর্যটা ডোবেনি এখনো

চেয়ে আছে দেখ এক

সুন্দর মধুক্ষণের অপেক্ষায়

গ্রীষ্মের গরমে পুড়েছি কত

বর্ষার জলে বিরহের বেদনারা

ভিজেছে অবিরত।


শরতের বিকেলে ধান ক্ষেতের ধারে

নীল ডোবা জলে

সোনালী রোদের মধুময় কম্পন

মিশ্রিত আবহাওয়ায় হেমন্তের আগমন

নবান্ন আসিছে দ্বারের দাওয়ায়

আজও কি সে মনে রাখিছে আমায় ?


শীতের হিমেল হাওয়ায়

হেঁটেহেঁটে পাথর ভেঙ্গেছি ঘাসের ডগায়

পরে আছি এতকাল তোর অপেক্ষায়


আজ আমি ক্লান্ত,

অবশেষ প্রান্তে ফুলগন্ধে নাচে বসন্ত ।

হারতে হারতে জীবনের

দোরগোড়ায় এসে ঠেকলাম

কখনো জেতার আশা রাখিনি

তবু প্রত্যাশা ছাড়িনি আজও।


              হে সূর্য ,

আরও উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর

হয়ে জেগে থাক ভালোবাসা ফিরবেই ।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন -এর একটি কবিতা

 ভালোবাসা তুমি কোথায়



ভালোবাসা না ভালো বাসা

  কোনটা চাইছে মানুষ? 

       কোনটা! 


শিউলি ঝরানো সকাল নাকি

  রোদঝলমলে আকাশে

     মেঘেদের দাপাদাপি! 

 

এ যেন শারদীয়ার উন্মুক্ত

    আবেদন -- ফি বছর। 

বন্যার ভ্রুকুটি, রাস্তার ধারে

   জমা জলের নিচে

মৃত্যুর বিভীষিকা। 

      মরণ ফাঁদ, 

 হাতছানি দেয় অহমিকার

     নাভিশ্বাস থেকে

বিদ্যুতের সহযোগে। 


ভালোবাসা নাছোড় তবু প্রেমে

মাতৃবন্দনায়, মাতৃ আরাধনায়

 নয়তো ভাইফোঁটর আদরে

 দিদি বোনের একান্ত

    আশীর্বাদে, শুভেচ্ছায়। 


ভালো বাসা না হলেও

   ভালোবাসা হয় নিবিড়

       প্রেমের নিগূঢ় 

     মানসিকতায়। 


শিউলি ঝরুক বা না ঝরুক---

১৩ তম সংখ্যার সম্পাদকীয়

       

                                  অঙ্কন শিল্পী- তন্ময় পাল





 সম্পাদকীয়:


নদী তো চির গতিশীল, বহমান। কিন্তু জীবনের সুখ-দুঃখ আবহমান ধরে বয়ে আসছে। এই সময়ে সাহিত্য চর্চা করা প্রকৃত মুক্তি লাভের স্বাদ পাওয়া একমাত্র উপায়। এই সাহিত্য চর্চায় পারে ক্ষুধার্ত পেটকে শান্ত রাখতে। মৃত্যুতে অমরত্ব লাভ। তাই ভাবতে থাকুন। লিখতে থাকুন। সৃজনশীল করে তুলুন বিশ্ব সাহিত্য কে। ভালো লাগা কবিতা পাঠ, গল্প পাঠ অনেক দিশা খুঁজে দিতে পারে আপনাদের। আমাদের ওয়েবসাইট ম্যাগাজিন এই World Sahitya Adda পত্রিকাটি সুন্দর সাহিত্য চর্চার এক অসামান্য প্রয়াস। খুঁজে পাবেন সমগ্র বিশ্বকে শুধু একটি লিংক এ হাত দিয়ে। তাই পড়ুন। লিখুন ‌‌। সাথে থাকুন আমাদের পত্রিকার সাথে।




                                          ধন্যবাদান্তে
                                  world sahitya adda পত্রিকা



___________________________________________________


##Advertisement (বিজ্ঞাপন):




** বইটি পেতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে---- 8016962754


** বইটির মূল্য মাত্র ২৫ টাকা।

_______________________________________________

Saturday, October 16, 2021

১৩ তম সংখ্যার সূচিপত্র (৪২জন)

 সম্পূর্ণ সূচিপত্র



বাংলা কবিতা ও ছড়া---



সত্যেন্দ্রনাথ পাইন, সুব্রত মিত্র, মহীতোষ গায়েন, আবদুস সালাম, আশীষ কুন্ডু, রাজা দেবরায়, নীতা কবি মুখার্জী, অভিজিৎ দত্ত, সেখ নজরুল,  জয়িতা চট্টোপাধ্যায় , মায়া বিদ,  তাপস মাইতি , ইউসুফ মোল্লা, শ্রাবণী মুখার্জী, মিতা দাসপুরকায়স্থ, পম্পা ভট্টাচার্য, সুমিত্রা পাল, চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী, জয়তী দেওঘরিয়া, কাজী রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, মিঠুন রায়, ঋদেনদিক মিত্রো, শ্যামল চক্রবর্ত্তী, উদয়ন চক্রবর্তী, সৌমেন কর্মকার, ক্ষুদিরাম নস্কর, ইব্রাহিম সেখ, কমল মন্ডল।



বাংলা গল্প---


 রোকেয়া ইসলাম, হর্ষময় মন্ডল, যতীশগোবিন্দ জানা।



প্রবন্ধ---


তৈমুর খান, অমিত পাল, ইমরান শাহ্।




বাংলা গদ্য তথা রম্য রচনা---


সামসুজ জামান, মৌসুমী চন্দ্র, 

তীর্থঙ্কর সুমিত।




ইংরেজি কবিতা--


Soumendra Dutta Bhowmick.




Photography----


Moushumi chandra, Tanmoy pal, 

Sohini Shabnam.