Monday, October 25, 2021

কবি নবকুমার -এর একটি কবিতা

 শ্যামল আত্মীয়তার সুর



সান্ধ্যকালীন আজানের সুর ভেসে আসে 

ছড়িয়ে যায় বাতাসে বাতাসে---


চারদিকে এক শীতল নিস্তব্ধতা---

একটু আগে পাখিরা ফিরেছে নীড়ে

উদ্বিগ্ন শাবকেরা মা'কে পেয়েছে ফিরে 

বাসায় খেলা করে শান্ত নীরবতা ।


শান্ত দিঘিজলে ছোট ছোট ঢেউগুলি

ভেঙে পড়ে শান বাঁধা ঘাটের চত্বরে

অতীব সত্বরে ।


নতমুখ গাছেদের পাতাগুলি

বসন্তের শিমুল-পলাশ

চারদিকে নির্জন আভাস ।


ওপারে বেজে ওঠে মন্দিরের কাঁসর

ঘন্টার সাথে যেন দোলায় চামর ।


মানুষেরা ব্যস্ত কাজে 

চলে যায় নিপুণ পা ফেলে রাস্তাতেই

কবি এই শ্যামল আত্মীয়তার সুর

লিখে রাখে কবিতার খাতাতেই ।

কবি উত্তম ধীবর -এর একটি কবিতা

 পক্ষ



কোন বড়শিতে টোপ গিলেছ বন্ধু,

কোন বড়শিতে টোপ?

মোবাইলে স্ট্যাটাস কোথায়?

বোধ বুদ্ধি সকলি কি পেয়েছে লোপ্?


তোমার কাব্যে চাঁদের কিরণ ঝরে প্রত্যহ,

এসেছে সময় ,দাও তার প্রমান,

বয়ে যায় রক্ত নদীর স্রোত---_

তুমিও কি তাতে করতে চাও স্নান?


উত্তাল দেশ ! আতঙ্কে রাতের প্রহর গোনে সংখ্যালঘু

হও তুমি হিন্দু কিংবা মুসলমান,

তোমার কাব্যে তো শুনেছি আর্তের বিলাপ

এসেছে সময় আজ দাও তার প্রমান।


বিবেক-বুদ্ধি সত্বা যদি রাখো বন্ধক

মৌলবাদের কাছে,

এই বধ্য ভূমে তুমিও তবে এক জল্লাদ

তোমারও চোখে রক্তের নেশা অহরহ নাচে।

কবি পৌষালী সেনগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 শিক্ষা



জীবন যেন জীর্ণ পাতায় জড়ানো সেই মোড়কখানি,

যার ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে অনেক স্মৃতি;

যার মধ্যে কিছু ভালো,

কিছু খারাপ!

কিছু কথা মন ছুঁয়ে যায়,

তো কিছু কথা মনের ভিতরে রয়ে যায়!

কখনো কখনো একটা মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা ভিতরটা নাড়া দিয়ে যায়!

কখনো আনন্দের অশ্রু তো কখনো দুঃখে চোখের জল!

দুটোই নিজের রয়ে যায়!

বয়ে যায় শুধু সময়!

জীবনটা দেখতে দেখতে ফুরিয়ে যায়!

কিন্তু শিক্ষা কোনো দিনও ফুরায় না,

এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম ,

জীবনের যে কোনো খাতে বইবার সময় শিক্ষা মানুষ পায়,

সেই শিক্ষা জীবনের শেষ দিন অব্দি সঙ্গে রয়ে যায়!

কবি পম্পা ভট্টাচার্য -এর একটি কবিতা

 তোমার চোখে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ



দূর হতে হতে চলে যাব একদিন দূর বহু দূরে                  

ছায়াটুকুও পড়বে না যা ছিল তোমার স্মৃতির পাতা জুড়ে।

নীরব কান্নায় পড়বে না ,আমার একফোঁটা চোখের জল

হৃদয় হবে বিদীর্ণ ,শুধু গহন মনে জ্বলবে দাবানল।

প্রকাশ হবে না কোনকিছুই ,আমার নিঃশব্দ অভিমান

হয়তো তুমি ভাসবে সুখের সাগরে,

আমার জীবনে পড়ে রবে জোয়ার ভাটার টান।

সময়ের ব্যবধানে ভাঙে যে অন্ধবিশ্বাস

বেদনাময় জীবনে সান্ত্বনা দেয় শুধুই দীর্ঘশ্বাস।

মরণ হয়তো পারবে কেড়ে নিতে ,হতাশা করবে গ্রাস

কারণ আমি যে তোমার চোখে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ।

কবি সুমিত্রা পাল -এর একটি কবিতা

 ব্যর্থ হলো কবির বাণী




ওরে মৌলবাদীর দল,

দেখিয়ে দিলি আসল রূপ ।

দেখিয়ে দিলি আজও 

মন তোদের অন্ধকূপ।

 মানবতা ভুলে গিয়ে 

ভাঙলি মায়ের মুখ ।

রক্তে রাঙালি তোরা

 বাংলা মায়ের বুক ।

কেমন শিক্ষা তোদের 

মানুষ করলি খুন !

বিশ্ব মাঝে নিজেদের 

মুখ করলি চুন।

যে যার ধর্ম পালন করবে

 এটাই মানব অধিকার ।

কোন সাহসে কেরে নিস

সেই অধিকার সবার ।

একই বৃন্তে দুটি কুসুম 

হিন্দু-মুসলমান ,

বলে গেছেন বিদ্রোহী কবি 

কাজী নজরুল ইসলাম।

 ধর্মের নামে অধর্ম করে,

কবির বুক করলি খান খান।

কবির বাণী ব্যর্থ হলো,

 থাকলো না কবির মান ।

.আমরা সাধারণ মানুষ, মনুষ্যত্ব বুঝি

চাই না দাঙ্গা বিবাদ,

পাশাপাশি বাস করবো হিন্দু মুসলমান,

মিলাব কাঁধে কাঁধ।

এসো সকল দেশের মৌলবাদের 

বিরুদ্ধে গর্জে উঠি,

সকলে মিলে একসাথে ওদের

টিপে ধরি টুটি।

সে মৌলবাদ হোক হিন্দু

অথবা মুসলমান,

মানুষকে ভালবেসে আমরা সবাই

দিতে পারি প্রাণ।

দেশে দেশে ফিরে আসুক শান্তি

হোক মানবতার জয়,

সবার জীবন হতে, কেটে যাক,

সকল প্রকার ভয়।

কবি মায়া বিদ -এর একটি কবিতা

 পরিপূরক



ভাঙাগড়ার খেলা রে ভাই

   ভাঙা গড়ার খেলা।

একূল ভেঙে ওকূল গড়ো

        কাটাও সারা বেলা ।

সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তোমার

           মাতন যখন ধরে ।

রঙিন রঙিন স্বপ্ন দিয়ে

         সাজাও তুমি তারে।

সৃষ্টি - ধ্বংসের পথখানি "দ্যাখো"

               সমান্তরাল রেখায় চলে।

একে অন্যের পরিপূরক হয়ে

         বিপরীত ধর্মী খেলা খেলে।

প্রবল বেগে খরস্রোতা নদী

    সামনে এগিয়ে চলে।

নতুন পথ চলার নেশায়

        পুরানোকে যায় ভুলে।

বিধাতা পুরুষের এই দরবারে

        সৃষ্টি - ধ্বংস চক্রাকারে।

চরৈবতি, চরৈবতি, নেইকো বিরাম

            চলছে মেপে সময়টারে।

কবি তুলসীদাস বিদ -এর একটি কবিতা

 শেষ



শেষ ব 'লে কিছু নেই

    লেখা অভিধানে।

ভ'রে রাখো দেহ মন

     নিজ গানে গানে।


আঁধার ঘনিয়ে আসে

            বেলা অবসানে।

ধ'রে রাখো ভ'রে রাখো

             বিণা অভিমানে।


শত ঘৃণা - অপমান

           শেষ কথা বলে?

ধূ ধূ বালি মরা গাঙ

         ঢেউ নাহি তুলে?


আপ্ত - আমিত্ব বোধ

     মিথ্যা সংলাপ।

শেষ করো শেষ করো

         ভেক অপলাপ।


শেষ করো শেষ করো

            হিংসা ব্যাভিচার।

দুঃস্বভাব ভন্ডভাব

     আত্ম অহংকার ।



সৃষ্টি না করিও শেষ

         ধ্বংস অপচয়।

ঝড় - ঝঞঝা শত ক্লেশ

          নিজে করো জয়।


শেষ হলে শুরু হোক

       পথের সন্ধান।

কেটে যাবে ঘুর পাক

      অসৎ বন্ধন।


শেষ বলে কিছু নাই

         যাঁদের জীবন।

ত্যাগ - নিষ্ঠা সততায়

           বাঁচে কীর্তিমান।

কবি ঋদেনদিক মিত্রো -এর একটি কবিতা

 শরৎ  



বর্ষা গেছে থেমে,  

   শরৎ এলো নেমে,   

  হালকা শীতের হাওয়া এসে  

     শারদীয়ার সুখটা দিলো এনে! 


কাশফুলতে ছেয়েছে মাঠ,  

    শুকনো হচ্ছে সব পথ ঘাট,   

    চলতে গিয়ে জলা কাদায় 

       আর যাবে না থেমে,  


ঘাসের ওপর পড়ছে শিশির,  

    ফুলে, ফলে ভেজা,  

রাত্রিকালে কুয়াশাতে  

       চলবে পথে কে বা?  


ভোর হচ্ছে চুপিচুপি ---

   রাত্রি কাটে, জেগে উঠি,  

     খানিক পরে কুয়াশাময় 

       রোদ আসলো ঘরে,  


এমন দেখার কত কী সুখ,  

     শরৎকালে 

    রোদ আসলে পরে! 

কবি জয়তী দেওঘরিয়া -এর একটি কবিতা

 হতাশার মেঘ



আরও একটু প্রস্তুতি

ভাল থাকার।

চাপা থাকা দুঃখেরে এবার 

দিতে হবে ছাই চাপা।

 

সেই মত গুছিয়ে নেওয়ার 

চলছিল পালা।

সেই কবে থেকে পথ হাঁটা,

এবার বুঝি নামবে শ্রান্তি!

অনেকটা পথ হয়েছি অতিক্রান্ত 

এবার কয়েক দণ্ডের বিশ্রাম। 


কিন্তু না!

অকস্মাৎ এক কালবৈশাখীর বেগ

এক লহমায় করল সব চুরমার। 

তীরে এসেও ভিড়লো না তরী,

একবুক হাহাকার 

গ্রাস করলো চারিদিক। 

হতাশার মেঘ নিয়ে

আবারও শুরু হোল

যাপনের দিনগোনা।

কবি মৌসুমী চন্দ্র -এর একটি কবিতা

 প্রণাম মাগো



মা গো ঘরে ঘরে আলপনা দেয়

কত না ঘরের মা বোন।

ফুল ও মালায় চন্দন ধূপে

কি অপরূপ আজ প্রাঙ্গন।


প্রার্থনা করি সব বিষাদ,কালো

যেন দূরে দূরে যায় সরে।

এস মা লক্ষ্মী বোস ঘরে

আমাদের ঘরে থাক আলো করে।

কবি রানা জামান -এর একটি কবিতা

 অশ্রুর নিস্ফল প্রতিবাদ




শরীর নেতিয়ে গেলো কী কারণে

চোখে আবছা পর্দা পড়ে যাচ্ছে যেনো

শুয়ে আছি হাসপাতালে

কী কারণে কবে এসেছি এখানে বোধে নেই

উঠতে ব্যর্থ হয়ে এখন উঠার চেষ্টা পরিত্যাক্ত

ডাক্তার জবাব দিয়েছেন কবে ভুলে গেছি

ভুলে গেছি আমি কে আমার পরিচয়

কতক মানুষ কেনো কাঁদে বুঝি না!

শুধু দেহ জুড়ে ব্যথাটা পারিনা ভুলতে কিছুতেই


চোখ বুজে থাকে নাকি খোলা সমান ফিলিং

কিম্ভূত আকৃতি নাচে অবিরাম নাচে

অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বোধ না থাকায় তাড়াতে চাই ইশারায়

নড়ে না কিছুই! একদম না

তেতোর মতোই সয়ে যাচ্ছি নাচের ভাঙ্গা রেকর্ড

অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসছে পল হতে পলে

পৃথিবীর এতো আলো শেষ পুরো আমার বেলায়


কান্নার ঘনত্ব বাড়ছে বুঝতে পারছি

নিঃশ্বাসে কে যেনো দড়ি বেঁধে টানছে ক্রমান্বয়ে

শরীরের কোনো অংশে প্রতিবাদ নেই কোনো

চক্ষুকোণ বেয়ে চলছে অশ্রুর নিস্ফল প্রতিবাদ।

কবি বিধান সাহা -এর একটি কবিতা

 সার্থকতা 




কিছুটা লাভের আশায়

জিনিস পত্র নিয়ে

সামান্য ফেরি করা

অনন্ত ঐশ্বর্য নয়


কোনও আশ্চর্য আলাদিনের

প্রদীপ ধরাও নয়


সারাদিন হাড়ভাঙা

পরিশ্রমের শেষে

কিছুটা রসদ

সন্তানের মুখে তুলে দেবার মত

সামান্য আয়োজন


তাদের হাসি মুখের উজ্জ্বলতা

শত পরিশ্রমেও

সার্থক বলে মনে হয়.....

কবি উদয়ন চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

 জেব্রা লাইন ধরে হেঁটে যায় 




অখণ্ড নীরবতা খন্ডিত নীরবতার ভ্রুনের হাত ধরে

বারবার সামনে এসে দাঁড়ায়

হাইফেনের মতো,নিশ্চুপ বধির ল্যাম্পপোষ্টের

স্থবিরতা নিঃশব্দে রাস্তা খোঁজে--

ওদিকে দিন-দিনান্ত শেষে কিছু আকুতি

অতীত শারদীয়ার একাকিত্ব বুকে হলুদ রঙ মেখে

সিঁড়ির কোনায় এক বুক কথকতা নিয়ে

শীত ঘুমে থাকে অবহেলায়,

তারপর আর কী প্রাত্যহিক রোজনামচায়

জেব্রা লাইন ধরে হেঁটে চলে জীবন

ব্যথাহত যারা একটু থেমে যায়

ওদিকে দৌড়ে পাড় হয় আর কেউ অদৃশ্য প্ররোচনায় কানাগলি থেকে চৌরাস্তা

সে জানে না জানতেই পারে না অলক্ষ্যে কেউ

খড়ির গন্ডি এঁকে রেখেছে জেব্রা লাইনের মতো।