আমার শহর
মুমূর্ষু পৃথিবী ঘুরে,
নক্ষত্র রাত্রির
গভীর পাদদেশ ছুঁয়ে,
সাগরের উপকণ্ঠে বসে
ক্ষিদের আর্তনাদ শুনে,
ঐ দূরে প্রাচীন শতাব্দীর
ঝড় থেমে গেলে
এই শহরের বুকে
ঘুরতে একদিন আসবো।
দেখতে আসবো
বুঝতে আসবো
আর জানতে আসবো
ভালোবাসার প্রিয় শহর
কেমন আছো তুমি?
আমার শহর
মুমূর্ষু পৃথিবী ঘুরে,
নক্ষত্র রাত্রির
গভীর পাদদেশ ছুঁয়ে,
সাগরের উপকণ্ঠে বসে
ক্ষিদের আর্তনাদ শুনে,
ঐ দূরে প্রাচীন শতাব্দীর
ঝড় থেমে গেলে
এই শহরের বুকে
ঘুরতে একদিন আসবো।
দেখতে আসবো
বুঝতে আসবো
আর জানতে আসবো
ভালোবাসার প্রিয় শহর
কেমন আছো তুমি?
শিশু
প্রত্যেকটি শিশু হবে
এক,একটা নক্ষত্র
যদি ঠিকমতো পায়
আমাদের সাহায্য
আমরা যদি শিশুদের
ঠিকমতো সাহায্য করতে পারি
তাদেরকে ঠিকমতো যত্ন করি
এই শিশুরাই ভবিষ্যতে নক্ষত্র হবে
খুব তাড়াতাড়ি।
শিশুদের বোঝা, বোঝানো
তাদেরকে সঠিক পথ দেখানো
অভিভাবকদের বড়ো দায়িত্ব
অভিভাবকরা যদি শিশুদের নেই যত্ন
শিশুরা হবে এক,একটি রত্ন।
শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ
এটা মনে রেখো সব
আমরা যদি শিশুদের
মানুষ করতে পারি
আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে
খুব তাড়াতাড়ি।
গীত
আকাশ পানে চেয়ে আমার
কাটছে জীবন,
হায়রে পোড়া কপাল কেন
হয়না মরণ l
হয়না পাওয়া এ জনমে
সময় চলে যায়,
শেষের কালে এসে কেন
বিচ্ছেদ ব্যাথা পায় l
জীবন ভর ডেকেই গেলাম
এসো আমার ঘরে,
মনিকোঠায় রাখবো ধরে
থাকবে হৃদয় জুড়ে l
মন যে আমার ভোলা ভালা
ভেবে ছিলাম পাবো,
হৃদ মাঝারে রেখে তোমায়
এ জনম কাটাবো l
আকুলি বিকুলি মনে
করছি স্বরণ,
তবু কেন পাইনা সাড়া
হয়না দরশন l
বাজী ভীষণ পাজি
দীপাবলীর আলোর মালায় উইঠতো সেইজে শহর-
তুবড়ি, চরকি, রঙ্গমশালের কতই হইত বহর!
গত বছর পুড়ল ছেলে মরল আগুন লেইগে-
বাজি বন্ধোর নিয়মবিধিটো হোতোই যদি আইগে।
ছেইলাটো মুর বেঁইচে যিতো; তুবড়ির খোল ফেটে-
বেঘোরে তার পেরাণটা যেইতো না কো মোইটে।
শুন কেনে সব্বজনে, বন্ধ হোক বাজি-
পেরকৃতি-মানষের শত্তুর এই বাজি বড় পাজি।
অইম্লজানের ঘাটতি ইকেই চলছে পরিবেশে-
গাছ গুলান কাটছে বেকুব, বেইমান অইক্লেশে!
দুর্ঘটনা-দূষণের কাইরণ এই বাজী কভু লয়-
ভবিষ্যতেও থাক বন্ধ, আয়ু হবে না ক্ষয়।
পুত্রের শোইকে মুর জেবন হইন্ছে জেরবার-
এই ভুলটো আর কেউ যেন না কইরে বার বার।
শুনছি মেইলা বাতি পুড়লেও শ্বাসকষ্ট হয়-
মনের পিদীম জ্বাইলিয়েই শ্যামাকে পুজি আয়।
কালি মাইতার অঙ্গ জুইড়ে কালো রূপের বন্যা.....
আঁইধার মাঝে মনের দীপে ফুরাবে সব কান্না।
নারীকে যেন দিতে পারি সম্মান
দমে ফুত্তি লাগছে এ বছরটায় ধান হয়েছে কুদ্যে
লাচছে ফুলমণির মতো আমন ধান বহাল কিবা বাইদ্যে।
দেখে পদে খেতের গতর হুদকে উঠছে আবট পরাণ
মাতায় দিয়েছে উঠান গুলান শিউলি ফুলের সুঘ্রাণ।
বছর বাদে দুগ্গা পূজা কেবা না পাউস মাছের মতন মাতে
ফুলমণি দিয়েছেক বলে রঙিন চুড়ি পরবেক দুহাতে।
এইতো কমাস আগে এখন যায় নাই লতুন বিয়ার গন্ধ
দমে খেয়াল রাখে বউটা যেমন ফুল ভমরার দ্বন্দ্ব।
দেখতে দেখতে আলেক দুগ্গা পুজা সুখ ধরছেক লাই বুকে
আলপনা আঁকে তুলসি তলায় ফুলমণি দিলেক শাকটা ফুঁক্যে।
লাল শাড়িরর বেশ মানায়ছে হাটছেক নাই নজর
গুড়ের মিঠাই করতে করতে আনন্দে করছে বদর বদর।
দুগ্গা থানে দেখাতে যাবেক প্রদীপ যাত্যে হবেক সাথে
সারা রাতটা ঘুরতে হবেক রাখ্যে হাতটি হাতে।
আমি কিসের কমতি যাব ঘুরব টেকের টাকা ভাঙ্যে
পুরাই দিব মন বাঞ্ছা তার পেম সুহাগে রাঙ্যে।
তাইতো বলি পেম সুহাগে
থাকি যেন সারাটা জীবন ধইরে
হৃদয়েতে হৃদয় দিয়ে সুখে যেন যায় মা উঠান ভরে।
হে মা দুগ্গা রাখিস লজর যেন নারীকে দিতে পারি সম্মান
সুখটা আনে ভরাই দিব ফুলমণি আমার পরাণের পরাণ।
কবিতা
কে লিখছে কবিতা!
কে তাকে নিয়ে সহবাস করছে!
কে ভাবছে কবিতা তার প্রাণ
কেউ ভাবছে রোজগারের তকমা
কেউ কি ভাবছে পরবর্তী প্রজন্মের কথা!
শুধু নিজের প্রচারে মাথা দিয়ে বড় বড় কথা--
কবিতা হচ্ছে না। তাই পৃথিবী ভিজছে না।
ভিজতে চায়না। কেননা, যে কবিতা লিখলো,
সে তো কবি নয়, সে পর্যটক মাত্র।
বাংলায় এখন কবি হবার জন্যে শুধু
অসম্ভব মাতলামি! কবিতা হচ্ছে না।
কবিতা বেঁচে নেই। বাঁচানোর চেষ্টাও নেই।
কবি ত্বড়িৎ বন্দোবস্তের পহসনে কবির
গলদ আঁতলামি-- কবিতাকে করছে একলা হবার সাহস। কবিতা খুন হচ্ছে কবিতার সন্তানের হাত ধরেই-- একটাও কবিতা হচ্ছে না।
কোনো বক্তব্য নেই। কোনও ম্যাসেজ নেই।
শিশুদের খাদ্য নেই-- এগুলো শুধু নেশা গ্রস্ত
মানুষের শিৎকার মনে হচ্ছে!
কবিতা পুড়ছে, পুড়বে। চিতায় নাকি শূন্যে!
কে রুখবে এই ধ্বংসের চিহ্ন!
আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব
এত বাতাস! একী প্রশান্তি আজ দেহে মনে...
একঝাঁক পাখি উড়ে চলেছে কোন অজানায়!
আবেগের ঢেউগুলো যেন আছড়ে পড়ছে প্রাণে।
ইচ্ছেরা মুক্ত, নেই কোন শিকল আজ পায়।
আমার ঘরের চৌমুখী বাতাসে রঙের ছোঁয়া
রঙচঙা প্রজাপতিরা উড়ে চলেছে রাশি রাশি।
ফুলের সুবাস নিয়ে চলেছে মধু আহরণে ওরা
দূরে বহুদূরে ওই শোনা যায় রাখালিয়া বাঁশি।
এত আলো! কোথা থেকে এল হৃদয়ের কোনে...
তিরতিরে নদীর বুকে ছোট্ট পানসি তরী বেয়ে
কোন অজানায় অন্তর চলেছে মিলনের টানে
রাতের তারারা দেখে অবাক চোখে চেয়ে চেয়ে।
সব স্বপ্নের রূপকথারা দিয়েছে যেন ধরা
মনকে বলছে, ওরে মেল পাখা উড়ে যাব।
মেঘরাজ্যে যাওয়ার খুশিতে গেয়ে উঠব
আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব।
মরে গেলে আর কি থাকলো
মৃত্যুতে নিয়ে গেল যা
তার হিসাব তো
মৃত্যু পরে জানতে পারি না
কে চড়াবে ফুল কে রাখবে মনে
সেই কথা যদি হয়ও বা সঙ্গোপনে
আমার কি!
যত দিন বাঁচি যেন উন্নত শীর
না হয় নত
ভুলে যেন যাই যত আঘাত ও ক্ষত
ভালো বাসি যেন নিরবধি
জানি চাইলেও পাবো না কিছুই
পাবো শুধু যা লিখেছে বিধি।
অর্থই অনর্থ
এক বিশাল নাট্যমঞ্চ আমাদের পৃথিবী,
নাটক অভিনীত হয়ে চলেছে নিরবধি।
আমরা সকলে এক একটা চরিত্র ,
বোঝা দায় কে অপবিত্র কে পবিত্র।
একফোঁটা থামার সময় নেই কারো,
শুধু চাই, শুধু চাই ,চাই আরো।
চাহিদার নেই সীমা-পরিসীমা ,
ভুলেছে সকলেই নিজের গরিমা।
মন মধ্যে চলছে সর্বক্ষণ অস্থিরতা,
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মানবতা।
সদাই ছুটছে নেই পিছু ফেরার সময়,
কোনো কিছুতেই ভরে না হৃদয়।
ভালো থাকা সুখে থাকার বাসনায়,
দৌড়ে চলেছে নব নব ঠিকানায়।
পথ যতই হোক পিচ্ছিল ও কণ্টকময়,
তবুও কারোর নেই কোন ভয়।
অর্থের বিনিময়ে জীবনকে করে রঙিন,
অর্থ ছাড়া নাকি এ জীবন মূল্যহীন।
আবেগ ,ভালোবাসা আজ সবকিছু হীন,
অর্থের বিনিময়ে শোধ করে প্রীতির ঋণ।
অর্থ দিয়ে বিচার হয় মানুষের মূল্য
মানুষ আজিকে হয়েছে বস্তুর তুল্য।
অর্থ লাভে মূর্খও মানি হয়ে যায় ,
অর্থহীন জ্ঞানী লোক মান নাহি পায়।
অর্থের বিনিময়ে কুতসিৎ সুন্দর হয়,
স্বার্থপর লোভীও উচ্চ আসনে রয়।
জীবনের সব সুখ নাকি দিতে পারে অর্থ,
অর্থ ছাড়া এ জীবন নাকি একেবারে ব্যর্থ।
অর্থ ,অর্থ করে অনর্থ এনেছে ডেকে,
অর্থের পিছু ছুটছে সব,মান ফেলে রেখে।
আতঙ্কেরে মেঘ
সমাজটা কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ,
আতঙ্কের মেঘ হানা দিচ্ছে বারবার,
প্রতিটি মুহুর্ত যেন মৃত্যুর সাথে লড়াই করা ,
হয়তো বা আছি বা এই নেই .....
আর কতদিন এই লড়াই চলবে?
মুক্তি দেবেনা কি করোনা এই জীবনে?
শিরদাঁড়া ভেঙে গেছে...
করোনার ঢেউ বারবার আছড়ে পড়ছে এই পৃথিবীর বুকে ।
এ - কোন জন্মের প্রতিশোধ নিচ্ছে করোনা?
ক্লান্ত শরীরের ক্ষমতা নেই মনকে শক্ত রাখার.......
মৃত্যুকে কি বরণ করে নিতে হবে?
অদৃষ্ট- ই এখন ভরসা....
হয়তো একদিন ঘুম ভেঙে উঠে শুনব
পৃথিবী সুস্থ হয়ে গেছে,
আর কোনো ভয় নেই, করোনা বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে ।
খুশিরা জানান দিচ্ছে তোমরা খুশিতে মেতে ওঠো ,
আর কোনো ভয় নেই ।
কিন্তু কবে সত্যি হবে এই স্বপ্ন?
আতঙ্কের মেঘ কেটে গিয়ে
নতুন দিনের সূর্য উদিত হবে ...
এগরোলের বস্ত্রহরণ
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে
ফাস্ট ফুডেতেই জীবন বাঁচে;
তাইতো এখন হকার মেলে
রাস্তা মোড়ে, গলির পিছে।
যেইনা আমার নিদ্রা ভাঙে,
খুব সকালে দড়াম করে;
দন্ত পাটি বাগিয়ে ঘসে,
ফাস্ট ফুডেতেই পেট যে ভরে।
হঠাৎ করে বাদল দিনে
মনের মধ্যে জাগলো সাধ !
এগরোলেতে পেট ভরাবো,
আর বাকি সব পরবে বাদ।
মুরগি গুলো বলবে জানি,
মানুষ গুলো নিপাত যাক।
হংস ডিমে রোল বানাবে;
মুরগি মহল শান্তি পাক।
হকার দেখি চটাং করে
মোর হাতে এক রোল ধরালো।
যেইনা আমি রোল ধরেছি,
পয়সা চেয়ে হাত বাড়ালো।
হিসাব-নিকাশ সব মিটিয়ে,
যেইনা রোলে কামড় দেবো!
তাকিয়ে দেখি হাতের পানে,
কামড় দিলেই কাগজ খাবো।
খুলতে থাকি কাগজ খানি,
টানতে থাকি জোরে;
বলতে থাকি বিড়বিড়িয়ে,
"দুশাসন আয় ফিরে।
করতে হবে বস্ত্র হরণ,
তবেই পাবো রোলের স্বাদ।
নইলে শুধু মরবো টেনে
করতে হবে আর্তনাদ! "
কৃষ্ণ রূপে হকার রেডি
অঢেল শাড়ির জোগান দিতে,
শীর্ণ দেহে দ্রৌপদী আজ
নগ্ন হবে পেট ভরাতে।
বস্ত্র হরণ সাঙ্গ হলো
দু-দশ মিনিট কাটার পরে।
ক্রেতা মরে ক্ষিধের জ্বালায়
গাঁটের কড়ি খরচ করে।
ফাস্ট ফুডেতে দারুণ মজা,
রোগ জ্বালাতে ভরছে দেহ;
তবুও দেখি লাইন দিয়ে
রোগ কিনে সব যাচ্ছে গৃহ।
নিভন্ত এক কবিকে
কবে থেকে শুরু হয়েছিল শাব্দিক খেলা
তারপর মাঠে ঘাটে নেমে এল বেলা
নদীর বালি করল চিকচিক
বনে বনে জোনাকির ঝিকিমিক
আর ফুলেদের ঢুলঢুল
ঘর ফিরতি চিল শামকুল
ওপারে মেচেতার ভুঁয়ে ঘাস
হৃদয় কলোনিতে দুখ পরবাস
কবি ফিরে এল এপারে
আঁধারের দেবতারা চারধারে
ওপারে বাতাসের প্রতিধ্বনি,
কবি নদী জলে ধুয়ে নিল পা খানি
কাদা মাটি লাগা দুখভোগা,
এই নদী চেনে তাকে।দিনজাগা
সূর্যের মুখে রক্ত;আমিও তোমাকে চিনি
কবিতার হাটে তোমার বিকিকিনি
এখন নেই আর;তবুও মেঠোফুল ছাড়েনি
তোমাকে;হেরে যাওয়া উজ্জ্বল চোখের চাহনি
শান্তিনিকেতনী ব্যাগে ছেঁড়া স্বপ্ন,কালো পেন
কবিতার খাতা,ভাবনার সাথে লেনদেন-
তৃষিত ওরা।দারুন অসময়
পাহারাদার অলীক জ্যোৎস্নার ছায়ায়।
জল খুঁজছে তোমায় কবি...পিছল পিছল
পিছল নদীপথ,পিছল ঘাটে বাসন্তী আঁচল
কোন্ রমনী বসে সেসব তোমার দেখতে নেই।
ক্ষয়াট জুতোর সুকতলার ঘুম নেই;
ঘুম চাও তুমি গভীর ঘুম?
নিরালা এই নদীর ধারে বিক্ষতমনা নিঃঝুম
তবে বয়ে যাও জলঙ্গীর কালো জলে ভেসে
বয়ে যাও সেই খোলা সাগরের দেশে
যেখানে কেবলি ফেনায়িত সাদা ঢেউ
শরীরে মোড়া জলের পোশাক,খোঁজ রাখেনা কেউ।
চিত্র
ঘন ঘন রং পালটাই চিত্রকর মাছরাঙাটার
কখনো সে মাছ ধরে কখনো মনুষ্যত্ব
সুযোগ পেলে কাঁকড়াও ধরে নয়তো সে ফানুস।
চিত্রকর চিত্র আঁকে সৃষ্টি তাঁর বিষ্ময়কর
বিবেক তাঁর তুলির টান আঁকে সময়ের বিবর্তন
সব রং এক হয় কানামাছি আমরা যখন।