Monday, February 21, 2022

গল্প || পটলার কবিতা চর্চা || রঞ্জিত মল্লিক

 পটলার কবিতা চর্চা




                পটলা বেশ কিছুদিন ধরে কাজে বেরোচ্ছে না। আগে সকাল সকাল অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ত। এখন একদম ওর অটো রাস্তাতে দেখা যায় না। পটলার হলটা কি? সৃজাও বেশ কিছুদিন ধরে দেখছে পটা কাকুকে অটো নিয়ে চৌরাস্তার মোরে কম দাঁড়াতে দেখা যায়। একদিন রাস্তাতে দেখা হতেই সৃজা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,"কি ব্যাপার বলত তোমার, অটো নিয়ে আজকাল আর রাস্তা ঘাটে দেখি না তোমাকে?"


        "না না তেমন কিছু নয়।কদিন একটু....."

        "কদিন কি? শরীর খারাপ?

        "না রে। আসলে একটু অন্য কাজে সময় কাটাচ্ছি। তাই আমাকে এই কদিন দেখতে পাসনি।" 

        "বিষয়টা ঠিক পরিষ্কার হল না।"

         "পরে ঠিক বলব।"


             সৃজা কনভেন্ট স্কুলের বারো ক্লাসের ছাত্রী। ভীষণ স্মার্ট আর বুদ্ধিমতী। পটলার অটোতে যাতায়াত করে। পটলার সাথে ভীষণ সখ্যতা। পটলার সব খবরাখবর রাখে। এমনকি পটলার নতুন বান্ধবী হলেও অজানা থাকে না।


              দুদিন পরেই সৃজা রহস্যের সমাধান করল। পটাকাকুকে দেখল পার্কে অটো চালিয়ে এক বৌদিকে নিয়ে ঢুকছে। বৌদি দুদিন হল পটলার পাড়াতে ভাড়া এসেছে। দেখতে ভীষণ সুন্দরী। কবিতা লিখতেও যেমন পারেন। তেমনি ভাল আবৃত্তির গলা। বৌদির কাছে আধুনিক কবির কবিতার বইয়ের ভাল কালেকশান আছে।  


          একদিন সৃজা পটলার অটোতে দু একটা ঐ রকম বই দেখে চমকে ওঠে। অনেক জোরাজুরির পর পটলা ওকে জানায় যে ঐ বৌদি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ভাল আবৃত্তিও করেন। পটলা নিজে আগ বাড়িয়ে বলতে গেছে যে সে একটু আধটু কবিতার চর্চা করে। একটা সময় ভাল আবৃত্তিও নাকি করতে পারত। এখন কাজের মধ্যে ঢুকে আর তেমন সময় দিতে পারেনা। তবে চর্চাটা বজায় আছে। আর তাতেই বৌদি বেশ গদগদ।


         সব শুনে সৃজার মাথা গেছে ঘুরে। এমনিতেই পটলার লোক হাসানোতে জুরি নেই। একবার সখ করে নাটক করতে গিয়ে কেলোর কীর্তি করে বসে। আর একবার কোন এক পার্টির জনসভা হচ্ছিল। জোর করে ওকে মঞ্চে তুলে দেয়। সবাইকে বলে বেড়িয়েছে ও না কি ভাল বক্তৃতা দিতে পারে। তা সে পার্টির মিটিং হলে তো কোন কথায় নেই। সেখানে মঞ্চে ভাষণ দিতে উঠেই আর এক কাণ্ড! এমন ভাঁট বকেছে যে মার খায়নি এই যা ভাগ্য ভাল। 


          যাই হোক আন্তর্জাতিক কবিতা দিবসে পটলার আবৃত্তি শোনার জন্যে ভিড় উপচে পড়েছে। ক্লাবের মাঠে। ঐ বৌদিও ভাল তালিম দিয়েছে। যাতে পটলা সাবলীল ছন্দে স্টেজে উঠেই বাজিমাত করতে পারে। তার আগে বেশ কিছু মহড়াও হয়ে গেছে। তাতে পটলা ভালই পারফরম্যান্স করেছে। যদিও বৌদি ভীষণ টেন্সড্। উনি সব বিষয়ে একটু খুঁতখুঁতে। পটলা পাঞ্জাবী পরে মঞ্চে উঠতেই হাত তালির ঝড়। বয়ে গেল। 


          এত লোকের সামনে পটলা এই প্রথম স্টেজে উঠছে। ওর বুকের ভিতর ছোট্ট "ভিসুভিয়াস"টা মনে হচ্ছে যেন দপদপ করছে। একটু নার্ভাস মনে হল ওকে। চোখে একটা চশমাও লাগিয়েছে। চশমাটা একটু তুলল। তারপর কপালের ঘামটা মুছে, মঞ্চে উপবিষ্ট গুণীজনদের প্রণাম ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে নিজের পরিচয় পর্বটা সারল। 


          কথা শেষ হতেই আবার হাততালির সুনামী আছড়ে পড়ল। পটলা খুশীতে ডগমগ করছে। জীবনে ওকে নিয়ে এত আবেগের ঝলকানি ও আগে কখনো দেখেনি। তাই....



            পটলা অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্তের একটি বিখ্যাত কবিতা চয়ন করেছে পাঠ করবে বলে। প্রথমে ঠিক ছিল "ঘুষ" কবিতাটি পাঠ করবে। পরে ঐ বৌদিই ওটা বাদ দিয়ে অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্তের কবিতাটি বলার জন্যে ওকে অনুরোধ করে। পটলা বেজাই খুশী। পটলার এত ট্যালেন্ট আছে লোকে জানত না।


           একবার দম নিয়েই পটলা বলতে শুরু করল। মাঝে দু একবার থেমেও গিয়েছিল। তারপর আবার সেই চেনা কণ্ঠস্বর মাইক্রোফোনে ঝলসে উঠল। সবাই বলছে পটলা ফাটিয়ে দিয়েছে। এতে ওর ঘ্যাম আরো বেড়ে গেছে। তবে আবৃত্তির মঞ্চে হাসির রোল উঠল। হাততালি প্রথম দিকে হলেও পরে তা থিতিয়ে পড়ে।


            পটলা কিন্তু ঠিক আবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে। গলার উচ্চারণটা বেশ স্পষ্ট। মাঝে মাঝে দর্শক আসন থেকে চিৎকার ভেসে আসছে।


          "সাবাস পটলা! সাবাস!"

          ........... ......... ...........

          "জিও কাকা! চালিয়ে যাও....।

         "........ ফাটিয়ে দিয়েছ গুরু....."

 

            কেউ কেউ আবার একটু অন্য ঢঙে, রঙ চড়িয়ে বলতে শুরু করল......


             "জয়! পটলা বাবাজীবনের জয়!

              "জয় বাবা পটলকুমার! জয়......"

      

          পটলা কিন্তু বিষয়টা স্পোর্টিংলি নিচ্ছে। ও নিজেই জানে না কি হতে চলেছে। ও বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছে দর্শকের উচ্ছ্বাসে। একটা কবিতা আবৃত্তি করার পর আর একটা কবিতা পাঠ করবার জন্যে প্রস্তুতি নিল। সবাই তাতে আরো উল্লাসে ফেটে পড়েছে। পটলা বার বার বিজ্ঞের মতন চশমাটা তুলছে আর কাচটা মুছছে। 


                 এদিকে ঐ বৌদির আর দেখা নেই। পটলার আবৃত্তির শুরুর দিকে কিছুটা সময় থাকলেও পরে উনাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। উনি মোবাইলে প্রথম কিছু সময় ক্যামেরা বন্দি, ভিডিও রেকর্ডিং করার পর আর উনাকে অনুষ্ঠান চত্বরে দেখা যায়নি। পটলাও অনুষ্ঠান শেষে দেখা করার জন্যে ছুটে গেলেও দেখা পায়নি। 


             স্টেজ থেকে নামার পর পটলা দেখল অনুষ্ঠান কমিটির অনেকের মুখ বেশ থমথমে। ও নিজেই জানে না কি ঘটতে চলেছে। অথচ স্টেজে যতক্ষণ ছিল ততক্ষণ তো ঠিকই ছিল। কেউই আর ওর সাথে তেমন কথা বলছে না।পটলা ভাবছে আবৃত্তির পর তার হয়ত পার্সোনালিটি অনেকটাই বেড়ে গেছে।তাই হয়ত কেউ চট করে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। 


           একটু রাত করে বাড়ি ফিরল পটলা। দেখে পাড়াতে অনেকেই ওকে দেখে মুখ টিপে হাসছে। পটলাও একগাল হাসি উপহার দিল। 


                .......... ......... ...........

    

                দু সপ্তাহ অতিক্রান্ত। পটলা এখন বাড়ি থেকে কম বেরোচ্ছে। অটো নিয়েও বেশী রাউণ্ড দিচ্ছে না। সৃজাও পটাকাকুকে কম দেখতে পাচ্ছে রাস্তা ঘাটে। পটলার হোলো টা কি? তাহলে কি সৃজা যা ভাবছে সেটাই ঠিক। 

        

           তবে ঐ বৌদিকে টানা দুই সপ্তাহ দেখা যায়নি। উনি ঘর থেকেই বেরোন নি। শরীর খারাপ হয়নি উনার। আসলে মন ভাল নেই। কোন কারণেই হোক......।


            আসল সত্যটা সৃজা জানল অনেক পরে। জানার পর থেকেই সৃজার হাসি আর থামছে না।এতবড় একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে পটলা যে এইভাবে কিস্তিমাত করবে কে জানত? তবে সবাই একবাক্যে বলছে, পটলার দম আছে।


            পটলার কবিতার আবৃত্তির মোবাইলে তোলা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।আর পটলা তাতেই রীতি মত ফেমাস। সেইজন্যেই ও ঘর থেকে বেরোতে চাইছে না। এটা ঠিক পটলা পার্সোনালিটি মেনটেন করতে জানে।


            ঐ দিন আবৃত্তি করতে গিয়ে জগা খিচুড়ি করেছে। প্রথমে ঠিকই ছিল শুরুতে। পরে অচিন্ত্য সেনগুপ্তের কবিতার মধ্যে জীবনানন্দের "বনলতা সেন" বেলাইন হয়ে ঢুকে পড়েছে। মাঝে আবার জয় গোস্বামীর "নুন" কবিতার দু একলাইনও নিজের অজান্তেই বলে ফেলেছে। জীবনানন্দ দাশ নোবেল পেয়েছেন সেটা কবিতা পাঠের শুরুতে বলতেও ভোলেনি। আর তখনই হাততালির দাপট আরো বেড়ে যায়। ঐ হাততালির শব্দ যে ওকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে সেটা পটলা ধরতে পারেনি।


          যাইহোক পাড়াতে এখন ওর কদর বেড়েছে। ও এখন কবিতা লিখতেও শুরু করেছে। তারজন্যে আজকাল বেশ পড়াশোনাও করছে বলে মনে হল। সপ্তাহন্তে কলেজ স্ট্রীটের ধ্যানবিন্দুতে একবার করে যায়। আর সেখান নামী, গুণী লোকেদের সাথে আড্ডা জমায়। নিজেকে সমৃদ্ধ করে। 


          ভাল প্রকাশনীর খোঁজে আছে ও।বইমেলাতে নিজের একক বই, একটা সংকলন প্রকাশের বহুদিনের ইচ্ছে মনের মধ্যে সুপ্ত ছিল। 


          আজ তা মনে হচ্ছে ডাল পালা ছড়িয়ে বাস্তবের আলো দেখতে চলেছে।

গল্প || বন্ধু || ডঃ রমলা মুখার্জী

  বন্ধু  




  রীতার মেয়ে তানিয়া বিয়ে করে বিদেশ চলে গেল, রীতার স্বামীও গত হয়েছেন বছর দুই হল। রীতার ছেলে তো বউ নিয়ে কলকাতায় আলাদা ফ্ল‍্যাটে থাকে। মেয়েটাই ছিল রীতার একমাত্র সঙ্গী। মেয়ের অভাবে রীতার বুকটা ব্যথায় টনটন করে। একাকীত্বের বোঝায় ক্লান্ত তানিয়ার চোখের জল বাধা মানে না।

      তানিয়ার বিয়ের পাহাড়-প্রমাণ উপহার-সামগ্রী গোছানোর শেষে রীতা দেখে মাত্র পাঁচটা বই তানিয়া উপহার পেয়েছে, অথচ রীতা তার বিয়েতে পেয়েছিল বাষট্টিটা বই। রীতা বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসতো বলে রীতার মা বইগুলো রীতাকে দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সব বই তখন পড়া হয়ে ওঠে নি।

    সংসারের সব কাজকর্ম, দুই ছেলেমেয়েকে ভালোভাবে মানুষ আর স্বামীর ফাইফরমাস খাটতে খাটতে বই পড়ার অভ‍্যেসটাতে রীতার ভাটা পড়তে পড়তে ক্রমশ শূণ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল।

      একাকিত্বের গ্লানি মুছতে রীতা আঁকড়ে ধরল আলমারিতে সযত্নে রাখা তার সেই বিয়েতে পাওয়া বইগুলোকে। বইগুলো পড়তে পড়তে রীতার বুকের ফাঁকাটা কখন যে ভরাট হয়ে যায় রীতা বুঝতেই পারে না। চুঁচুড়ায় রীতার বাড়ি থেকে জেলার গ্রন্হাগারটা খুব দূরে নয়। একদিন গিয়ে রীতা সদস‍্য হয়ে এল। প্রায়ই সে গ্রন্থাগার থেকে নানান বই নিয়ে এসে পড়তে থাকে। রীতা মনে মনে বলে, "বই, তোমার মত বন্ধু আর পৃথিবীতে কেউ নেই। এত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে মানুষ করলাম, কিন্তু কেউই তো আর সেরকম খোঁজখবর নেয় না। বই, আমার সই, তোমার জন্যে আমি সব দুঃখ ভুলে নতুন আলোয় বাঁচার দিশা পেলাম।"

       বি. এ. পড়তে পড়তে রীতার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পর অসুস্হ শাশুড়ির সেবা করতে গিয়ে আর পরীক্ষাটা দেওয়া হয় নি। রীতা মনস্থ করল ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে সে গ্র‍্যাজুয়েশনটা করে নেবে। চুঁচুড়ার একটি কলেজের বিশেষ বৈকালিক বিভাগে ভর্তি হয়ে শনি আর রবিবার ক্লাশ করতে যেতে শুরু করল। তাদেরই প্রতিবেশী তানিয়ার বন্ধু পর্ণা, রীতাকে এ ব‍্যাপারে অনেক খোঁজখবর এনে দিয়েছিল আর সহযোগিতাও করেছিল। অভাবী ঘরের মেয়ে পর্ণাকে পড়া ছেড়ে একটা চাকরিতে যোগ দিতে হয়েছিল বলে সে ওপেন থেকে গ্র‍্যাজুয়েশনটা করে নিচ্ছিল। রীতা পর্ণাকে গরীব বলে কখনও দূরে সরিয়ে রাখে নি বা তানিয়ার সঙ্গে মিশতেও বাধা দেয় নি, উপরন্তু যতটা পেরেছে রীতা মেধাবী পর্ণাকে সাহায্যই করে এসেছে এতকাল। সেই উপকারের প্রতিদান দেবার একটু সুযোগকে পর্ণা হাতছাড়া করলো না। জীবনের পড়ন্ত বেলায় রীতার এতটা উৎসাহ দেখে পর্ণা অবাকও হয়ে যায়! কিন্তু ছেলে সুজয় ভাবল তার মায়ের বোধহয় বুড়ো বয়সে ভীমরতি হল, তানিয়া অবশ‍্য খুবই মাকে অনুপ্রেরণা দিল বিদেশ থেকে। 

          অবশেষে বাষট্টি বছর বয়সে রীতা যখন বি এ পাশ করল প্রতিবেশীরা সবাই ধন‍্য ধন‍্য করতে লাগল। রীতার সাফল‍্যের আনন্দে পর্ণাই মিষ্টিমুখ করালো সবাইকে রীতার দেওয়া সুন্দর দামী শাড়িটা পরে। 


অনুগল্প || প্রপোজ || সিদ্ধার্থ সিংহ

 প্রপোজ




বছর কুড়ির মেয়েটি তার বান্ধবীকে মোবাইলে বলতে বলতে যাচ্ছিল, এত বড় হয়ে গেলাম... আমাকে একটা ছেলেও এখন পর্যন্ত প্রপোজ করল না। ভেবে দ্যাখ... আমি কি এতটাই কুৎসিত?

এই কথা শুনতে পেয়ে বছর চল্লিশের লোকটা ভাবল, এই তো সুযোগ। মেয়েটার কাছে গিয়ে বলল, আই লাভ ইউ।

সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি বলল, এটা কি ধরনের অসভ্যতামি?

লোকটি বলল, অসভ্যতামি মানে? তুমিই তো ফোনে কাকে যেন বলছিলে, এখনও পর্যন্ত তোমাকে নাকি কোনও ছেলে প্রপোজ করেনি। তাই আমি করলাম।

মেয়েটি বলল, আমি ছেলে বলেছি। কাকু বলিনি।


Composition || BLIND DATE || Kunal Roy

 BLIND DATE

               



Love, being one of the finest emotions in the world is manifested through some modern concepts of date, courtship, engagement and often a blind date. In fact we, all are pretty aware of the first three expressions, but the last one carries a special ripple of interest and curiosity as well! " Blind date", the term itself evokes a question:' How can a date be blind?' No, actually here there is nothing to do with the blindness, but yes the date matters to the young hearts which often skip a beat at the sight of the opposite gender! Actually a blind date is being arranged by someone between a boy and a girl, without any prior planning or arrangement as such. Simply the two hearts meet at an affordable zone, accompanied by light humour, soft teasing and a few snacks to tease the taste buds. Blind dates are very interesting by nature. One doesn't know the other, yet the madness rules the heart to meet that person and often with the hope of blossoming this first date and eventually, if possible into a steady current of relationship! Moreover at this very hour, blind date has become very popular among the youngsters and this very factor has encouraged even the media to give it a hype! I simply don't know how long this concept will survive? The reason is obvious. It is not easy to love anyone, to sacrifice everything at the altar of love. Thus mere gratification of the visual lust turns out to be a pointless exercise in the long run!! Any explanation?     

Poem || When Death Comes || Pavel Rahman

 When Death Comes




When there is no any hope for life,

Death comes in that time.

When greed to live is vanished,

Death comes in that moment.

Death is of two kinds: physical and mental.

Sunday, February 20, 2022

কবিতা ||‌‌ সারাদিনে একটু কিছু খুঁটে খেতে পেলেই হল || আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

 সারাদিনে একটু কিছু খুঁটে খেতে পেলেই হল




আমার শরীরে রয়েছে কবেকার পুরনো জামা

হাজার সেলাই মারা


আমাকে দেখলেই চিনে নেয় রাস্তার পাগলেরা

আমি যে তাদেরই দলের একজন লোক


কোনদিন দেখেছ কোন পাগলের গায়ে নতুন পোশাক, চকচকে কোন জিনিস

আসলে পাগলদের কোন শখ থাকেনা


সারাদিনে একটু কিছু খুঁটে খেতে পেলেই হল...

কবিতা || এ যুগের একলব্য || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

 এ যুগের একলব্য



ত্রিনয়ন নাইবা থাকলো কপালের মধ্যখানে

তাতে কিবা যায় আসে শুভক্ষণ কখনো দাঁড়াবে না হেসে জানি বলেই অলক্ষ্মীর ছায়া তলে রাখি উজ্জ্বল উপস্থিতি।

শুনো কৃষ্ণ কান খুলে শোনো

ধনাচার্যের ষড়যন্ত্রে কাটব না কিছুতেই কাটব না বৃদ্ধাঞ্জুলি

আমি এ যুগের একলব্য

সম্মুখে সমরে দেখিয়ে দেব

আমি অর্জুনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর।

কবিতা || জীবনের রূপ || দিলীপ কুমার মধু

 জীবনের রূপ



এ জীবন নাট্যশালা

আমরা তার কুশীলব ।

ঘাত-প্রতিঘাতে ভেঙে যায় মঞ্চ

সাক্ষী মহাকাল ।

আঘাতের ওপর আঘাত সয়েছে

যে বুর্জোয়া জাতি

আজ তারা ইতিহাসের অধ্যায় :

সারাজীবনই আসে আঘাত

আসে বেদনা... নিষ্ঠুর হয়ে ।


যে নক্ষত্ৰটি কয়েক যোজন দূরে রয়েছে

সেও নক্ষত্ৰ----

মনে হয় ভেসে আসা বিন্দু

মনে হয় হারিয়ে যাওয়া বিন্দু ।


কিছু যায় হারিয়ে....

        কিছু পাওয়ার জন্য ।

কবিতা || মন গোঁসাই || বন্দনা বিশ্বাস

 মন গোঁসাই




মন গোঁসাই তরে বসে রই পথ চেয়ে

কাল গণি আর এগোই শুধু দাঁড় টেনে

অকুল দরিয়ায় নাই যে তীরের খোঁজ

মিছে আশায় সাজি রোজ রোজ


জড়িয়ে পথ ছড়িয়ে রয়েছে মধুর মায়া

 নত হয়ে তাই তো রই ধুলার পথতলে

এ হৃদয় ভরাও জুড়াও ওগো দখিন হাওয়া

আগুন পলাশ হৃদয় পোড়ায় ফাগুন মাসে ।


প্রকৃতির জুড়ে রয়েছে নরম জোছনা

আজীবনের স্বপ্ন ছুড়ে দিলাম তোমার বিছানা

জাগবো সবুজ মোড়া হৃদয় অঙ্গনাতে

আসবে নতুন জোছনা চন্দন সুবাসেতে


মন গোঁসাই আবার ফিরবে কিগো

সবুজ ঘেরা আমার ভাঙা আবাস জুড়ে ।

কবিতা || সুরের জলসা ঘর || রানু রায়

 সুরের জলসা ঘর



সকাল থেকেই অবসাদ মন

সুরের আকাশে ইন্দ্র পতন

লতা থেকে সন্ধ্যা

সুরের জগত বন্ধা।

সুরের জগতের যাদুকর

নিজেই তিনি রত্ন আকর

অমৃত ধামে বসেছে আসর

ত্রয়ী দের নিয়ে জলসা ঘর।

কবিতা || ঝড়ের কাছে রেখেছিলাম হৃদয়টারে || শ্যামল চক্রবর্ত্তী

 ঝড়ের কাছে রেখেছিলাম হৃদয়টারে

         


ঝড়ের কাছে রেখেছিলাম হৃদয়টারে!

                    কি পাপ করেছি মোরে।

বেগবতী বাতাস তারে,

                     দিল চুরমার করে।

রঞ্জিনী হলাম কোথায়,

                     বাজে কানে কিঙ্কিণী শব্দ যে।

রেখেছিলাম পিঞ্জরে,

                    তার হৃদয় টারে।

হয়তো পারিনি সুরভী দিতে ,

                   উপনীত হতে ।

এখনও রাতের আকাশ ভাবে ,

                   কখন ভোর হবে।

তবু তো স্বপ্ন দেখে,

                 এখনো বারে বারে।

ঊষার পাখি ডেকে বলে যাবে।

                   নিঝুম রাতের গভীর তন্দ্রা।

কেন স্বপ্ন ও ভাঙবে এবার।

কবিতা || বৃদ্ধ ইজিচেয়ার || উদয়ন চক্রবর্তী

 বৃদ্ধ ইজিচেয়ার




দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে

সেখানে আঁকা হচ্ছে টিকটিকির রমনের

ছায়া চিত্র এক বাধ্য ধারাবাহিকতায়


আমার চিলে কোঠা থেকে উড়ে যাচ্ছে পথহারা চিলের কান্না ধূসর রঙ মেখে

আমি কী খুঁজছি না জেনেই ছিপ ফেলছি 

বারবার যদি ধরা দেয় সুখ


বৃদ্ধ ইজিচেয়ার বসে আছে শূন্যতায় চোখ রেখে নতুন কেউ এহে বসার অপেক্ষায় দহন মেনে নিয়ে 

কবিতা || পরস্পর || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 পরস্পর



দূরের মানুষটার কোনও সুখবর পাই নি বহুকাল হল

খবর নিয়ে আসেনি ডাক পিওন, 

শুকনো মুখে টেবিল ঘিরে বসে আছে ঘরের মানুষ

দূরের মানুষটা হয়তো হাঘরের মতন রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, একটা চিঠি পাওয়ার আশায়

বহুকাল আমার উঠোনের বকুলের ডালে রোমাঞ্চ নেই, অনেক দিন দাওয়াত শুয়ে থাকা বেড়াল ঘর ছাড়া, কেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন বছরের পর বছর

কেটে যাচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে

তেতে উঠেছে গরমে শরীর, আবার কুঁকড়ে যাচ্ছে ঠান্ডায়, এই ভাবে বদলে যাচ্ছে সময়

হয়তো ভালো আছে দূরের মানুষ

যেমন এখানে ভালো আছি আমি

ভালো আছে আমার ঘরের মানুষ।