Saturday, January 28, 2023

সংকেত - অঞ্জন ব্যানার্জ্জি || কবিতা || Poetry

 সংকেত

অঞ্জন ব্যানার্জ্জি


আমার মধ্যাহ্নে কোন রোদ নেই

পাহাড়ের নিশ্চলতা,বনের নিস্তব্ধতা

এক বিস্তৃত ছায়া অবসন্ন অবসাদ

সংখ্যাহীন বিজ্ঞাপনে 

ঢাকা নিঃশব্দ আঁধার।

উদভ্রান্ত অনিকেত হাওয়ায় ধ্বংসের গন্ধ

ভিক্ষাবৃত্তি,স্বরহীন ক্ষুধার শব্দ

আনাচে কানাচে নিঃসাড়ে চমকানি

ক্ষত চিহ্ন ভরা নিকষ অন্ধকার।

প্রতিরোধে মানুষের হাঁটা পথ, বিদ্রোহী সম্বোধন

আড্ডার বারান্দা,চায়ের দোকান, সাংস্কৃতিক মন

প্রশ্নবিদ্ধ প্রাত্যহিক;দুর্যোধনের দম্ভ সম্প্রচার

এ কি অদৃষ্ট আভাস সংকেত হারবার!

নক্রচরিত - ঋষিকা মন্ডল || কবিতা || Poetry

 নক্রচরিত

ঋষিকা মন্ডল


পৃথিবীর একটা দিকে পচন ধরছে

পচন ছড়িয়ে দিচ্ছে...

দিনশেষে ব্যর্থ জোকারের প্রতিচ্ছবি।

রং মাখো

খুশি থাকো

সান্তনা পাও যে যার মতন।

হা নক্র!





ওরা পথে - আশীষ পাড়ই || কবিতা || Poetry

 ওরা পথে

আশীষ পাড়ই 


এই সমাজের রীতি বটে

লাথি মারো খালি পেটে

    পুলিশ ছুটায় দিনে রাতে

  কামড় দেয় হাতে

 

মন্ত্রীমশই আছেন জেলে

সদা খাতায় চাকরি মেলে

    বলি!লজ্জাটা কী নাই তাতে?

পুলিশ পাঠাও মধ্য রাতে

      ওরা যে আজ রাজ পথে।

     

    "খেলা হবে"খেলা এখন জমেছে বেশ

  শিক্ষাটাই দেখি হবে শেষ।

      লড়াই এখন দিনে-রাতে

           লড়াইটা যে আজ নিজের সাথে,

      ওরা যে সব রাজ পথে।।

তবু জেহাদ - গৌতম তালুকদার || কবিতা || Poetry

 তবু জেহাদ

গৌতম তালুকদার 



দেবতার গ্ৰাস কেটে যায় প্রাশ্চিত্বে

দু'পেয়েদের কুনজর বংশবিস্তারে

এগিয়ে রাখে থাকে অগ্ৰণী ভুমিকা।


সবে তো কলির ঘোর ,কঠিন বরফ

ঢেকে রেখেছে মৌসুমী সকাল সন্ধ্যা

কালো পাথরেরচাই নৃত্য করে এবেলা।


আমানতের জরাজীর্ণ পৃষ্টায় পচনপাক

সাধুবার্তার বির্বতনে ঢেউয়ের বৃক্রিতি।


তবু জেহাদ, হুঙ্কার দিয়ে ছুটে যায় ট্রেন

বুড়ো চামড়ায় যুবশক্তি জাগ্ৰত থাকবেই। 

নিজের সঙ্গেই তুলনা - গাজী সাইফুল ইসলাম || কবিতা || Poetry

 নিজের সঙ্গেই তুলনা

         গাজী সাইফুল ইসলাম 



জুতো সেলাইয়ে রত একজন মুচিও আমার চেয়ে কত সুখী 

আনমনে কাজ করে- মুখ ভরে ধোঁয়া ছাড়ে

কত না সুখের এ বিড়ির টান।

কিন্তু যখনই সামনের রাস্তা ধরে হাঁটি 

কেমন তৃষ্ণার্ত চোখে সে তাকিয়ে থাকে

আমার জুতোর দিকে

নিজেরই ছেঁড়া জুতো রেখে অন্যের জুতো

পালিশ করার প্রবল আগ্রহ দেখে ভাবি, কিছুতো সমস্যা রয়েছে তার।


সেলুনে নাপিত ব্যাটাও আমার চেয়ে সুখী

বড় মূলধন, লেখাপড়া, প্রযুক্তি বিদ্যা কিচ্ছু লাগে না

ক'টি খুর-ক্যাচি, কিছু ক্রিম প্রসাধন 

আর রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়ি ঘর হলেই চলে।

কাস্টমার লাইন দেয়...

কেনো যে নাপিত হলাম না?

উঁচু ভলিউমে গান চালিয়ে 

একটার পর একটা পান মুখে পুরে 

পিক ফেলে যত্রতত্র 

নিজের কাজের ব্যাপারে কতটা স্বাধীন সে।

কিন্তু যখনই শুনি বাড়ি ফিরে নেশা করে

বউ পেটায়, ভাবি, কুছ তো গড়বড় হ্যায়।


কখনও ভাবি, কৃষকরাই সবচেয়ে সুখী।

দিনমান রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যেমন খাটুনি খাটে-

তেমনই খেতেও পারে প্রচুর, 

ক্ষেতের আইলে বসে চেপাশুটকির ভর্তা দিয়ে খেয়ে নেয় এক গামলা ভাত।

কিন্তু ফসলের মৌসুমে কমদামে সব ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়,

সব চলে যায়-মধ্যসত্বভোগীদের গুদামে।

বছরের শস্যে শোধ হয় না বছরের দেনা।

ফলে ফি বছর তাকে বিক্রি করতে ফসলের জমি।

তখন বুঝি-কৃষকরাও যে ভালো নেই।


মাঝেমধ্যে একজন ফল বিক্রেতার সঙ্গেও নিজের তুলনা করি।

ভাবি, সেও কত সুখী।

কত ধরনের সুমিষ্ট রসালো ফলে ভরা তা ঝুড়ি

ইচ্ছে করলেই যে কোনো একটি মুখে পুরতে পারে

কিন্তু যখনই জানা গেলো, অধিক লাভের আশায় একটি ফলও সে চেখে দেখে না

এর মধ্যে কিছু ফল পোকায় নষ্ট করে

কিছু পঁচে যায়।

কতকসময় লাভতো দূরের কথা আসলই উঠে না। 

তখন তার চে' কে বেশি দুঃখী?

আর তখনই বুঝি আমার ভাবনা কত ভুল।


ফাগুন আসে - মহুয়া হাজরা || কবিতা || Poetry

 ফাগুন আসে

   মহুয়া হাজরা


স্বপ্নের মায়াজাল বুনেছি

শিউলি ঝরা দিনে,

নয়ন মাঝে আছে আঁকা

নেবে তাকে চিনে।

এলো আজি শীতের বেলা

এই ধরণী পরে,

ভোরের আকাশ অরুণ আভা

তোমায় মনে পড়ে।

ফাগুন বাতাস নব প্রভাত

বাসন্তিকা এলো,

বসে আছি যে পথ চেয়ে

সখা আঁখি মেলো। 

নবীন বসন্তে আজ আমার 

 দ্বারে ফাগুন আসে, 

শিমুল, পলাশ লাগায় আগুন 

ফাগুনে ফাগ ভাসে।

মিলন মেলায় আবির রাঙা

চৈতালী সুর শুনি,

আসবে তুমি রঙিন পাখনা

মেলে, দিনটি গুনি।।

আমার প্রেম আমার পূজা - আশিস ভট্টাচার্য্য || কবিতা || Poetry

 আমার প্রেম আমার পূজা

আশিস ভট্টাচার্য্য



তোমাকে সরস্বতীর চোখে দেখি তবুও সে আমার নিরুত্তর প্রেম।


পুরুষ কখনো কোন সুন্দরীর প্রতি বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তার মানস প্রতিমার পায়ের হৃদয় নিবেদন করতে পারে।

যদিও হৃদয় তখন পূজায় নিবেদিত একটি ফুল মাত্র।


পুরুষ কখনো অন্য পুরুষের পূজায় বিশ্বাস করে না

বিশেষ তোমার মত সুন্দরীর বেলায় ।

সন্দেহ, অবিশ্বাস, ঘৃণা এবং অনাস্থার বিষবাণ যখন আমাকে কুরে কুরে খায় তখন তোমার এক মুহূর্তের সুখনিদ্রায় ব্যাঘাত ‌।

আমার নিরব প্রেম থুড়ি অন্তরের পূজায় অন্য পুরুষদের হৃদয় জ্বলে পুড়ে খাঁক হতে থাকে। 


কিন্তু যাই বলো তোমাকে আমি সরস্বতীর চোখে দেখি।

সন্দেশ - মুনমুন মুখার্জ্জী || কবিতা || Poetry

 সন্দেশ

মুনমুন মুখার্জ্জী



বন্ধু তুমি হাত বাড়িয়েছ 

হয়তো কিছু না বুঝে-- 

বুঝবে যেদিন আফসোস হবে 

নিজেকে পাবে না খুঁজে; 

খুঁজে পেয়েছিলে হয়তো তুমি 

বিশেষ কিছু সম্ভাবনা! 

সম্ভব না বুঝবে যে দিন 

জানি ক্ষমা করবে না। 

হয়তো আমাকে অহংকারী ভাবো

সেটা তোমার অধিকার--

অধিকার বলে কোনো বন্ধনে 

বাঁধতে চেও না আবার;

আর বলো না কতটা সহজে 

বলব মনের কথা-- 

কথার মারপ্যাঁচ জানি না বলেই 

ঘিরে ধরে বিষন্নতা। 

বিষন্নতার বুক চিরে তুমি 

তুলতেই পারো ঝড়, 

ঝড় থেমে যায় আঁধার মুছিয়ে

বাঁধতে পারে না ঘর।            

ঝাঁপ - সুশান্ত সেন || কবিতা || Poetry

 ঝাঁপ

সুশান্ত সেন


পুকুরটাকে বুজিয়ে দিলাম অন্ধকারে

চারপাশ আর দেখা গেল না , 

তখন কোথায় বাঁশ ঝাড় 

কোথায় ফণীমনসার বেড়া কে জানে। 

টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে

আর পুকুরটা মাঠ হয়ে গেল।

অন্ধকার ঝাঁপ দিল সেখানে

এবারে ওখানে আকাশ কাঁদিয়ে

চার তলা বাড়ি উঠবে।




অমরত্বের স্বপ্নে শায়িত থেকো - গৌতম ঘোষ-দস্তিদার || কবিতা || Poetry

 অমরত্বের স্বপ্নে শায়িত থেকো 


- গৌতম ঘোষ-দস্তিদার 




ভেবোনা তোমার দিন 


যাবে না, রাত হবে না –


বুক চিতিয়ে বেড়াবে 


চিরকাল, কাৎ হবে না !


উপোষে সেদিন যাবে দিন, 


জেনো – ভাত মিলবে না –


তোমার ঢাকে সমবেত হোতে 


তবু হাত মিলবে না !


বিসর্জনের নির্জনতায় কেউ তো 


তোমায় সাথ দেবে না –


অমরত্বের স্বপ্নে শায়িত থেকো, 


কেউ তোমাকে কাঁধ দেবে না ! 

বহু দিন পরে - তীর্থঙ্কর সুমিত || কবিতা || Poetry

 বহু দিন পরে

তীর্থঙ্কর সুমিত



বহু পথ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে

এখন কেউ কারোর মুখ দর্শন করিনা

ঘড়ির বক্সে আর্কেমেডিসের সূত্র লিখে রাখা

সবুজ দেখা সূর্য গত তিনদিন মেঘাচ্ছন্ন

পদ্মপাতার থালায় মা ভাত বেড়ে রেখেছে

পোষা বিড়াল ও এখন মুখ ফেরায় মাছ না পেলে

আমার একাদশী অনন্তকাল...

পদ্মপাতায় রোজ জল ঢালি আর মুখ শুদ্ধি করি

একবিংশ শতাব্দীর একাকিত্বে

শরতের কাশ শীতেতে মাথা নুইয়ে মাটিতে ঝরে যাচ্ছে


ক্রমশ ঝরে যেতে থাকছে 

প্রিয় প্রাক্তন - দিশা পালনদার || কবিতা || Poetry

 প্রিয় প্রাক্তন

দিশা পালনদার


প্রেম কাহিনী ব্যক্ত করি নীল আকাশের নিচে 

একমুঠো রৌদ্রছায়ার আলপনাতে গোটা শহর যাক ভিজে।


স্মৃতি হাতড়ে পেয়েছি একটা ভাঁজ খাওয়া চিরকুট 

তুমি লিখেছিলে ওতে ভালোবাসার মেট্রোর রং রুট।


শহরের বুক জুড়ে অবিন্যস্তভাবে ছড়িয়ে ট্রামলাইনগুলো, 

পেত্রার্কান সনেটের বই জুড়ে শুধু পড়ে একরাশ ধুলো।


তুমি ভালবাসতে শেক্সপিরিয়ান, আমি পেত্রার্কান 

সনেট নিয়ে দুজনের মধ্যে জমতো অনেক অভিমান।


ঝগড়া শেষের অন্ত্যমিলে মিশে যেত তোমার কাপ্লেট 

আর আমার লেখা টুপটাপ সেস্টেট।


নাকে ভেসে আসে তোমার ব্যবহৃত আতরের গন্ধ তোমার লেখা কাপ্লেটগুলো সবই আজ শুষ্ক প্রবন্ধ।


মন আর কাঁচ সমান্তরাল, ভাঙলে জোড়া লাগে না যেমন এশহরের বুকে আর কৃষ্ণচূড়ার বৃষ্টি নামে না।


শুকনো পাতার খসখস আমার শহরে বারোমাস, আমার চাহনির বেড়াজাল অতিক্রম করেছ আজ ন'টা মাস।


কখনো মনের গহীনে, কখনো দুচোখ জুড়ে শাওন 

ন'টা মাসের শোক কাটাতে পারেনি তোমার প্রিয় প্রাক্তন।।

ছুঁয়ে যাও অন্তঃস্থল - অসীম কুমার সমদ্দার || কবিতা || Poetry

 ছুঁয়ে যাও অন্তঃস্থল 

             অসীম কুমার সমদ্দার 



                       1

হারিয়ে যেও আনন্দে

দুঃখের সাথে হোক শত্রুতা 

মানুষের ভবিতব্য মানুষই জানে 

প্রকাশিত হয় এই বার্তা ।

                       2

যদি জেনে থাকো তোমার ঠিকানা 

ভাসিয়ে দিও কোন নদীর তীরে

স্বর্গের দেবতারা এখানেই নামে 

দেখা যায় মানুষের ভিড়ে ।

                        3

দুঃখ থেকে জন্মে যে আনন্দ 

দুঃখীই বোঝে তার স্বরূপ 

এক ঋত্বিক পুজো করে তাকে 

কোন ভগবান হয়না বিরূপ। 

                      4

দূরে থাকলে ক্রমশ সরে যায় 

যারা বলে এই কথা

পাহাড়ের দিকে তাকালে 

ভুলে যাবে অব্যক্ত ব্যথা।